Logo
শিরোনাম

কুমিল্লায় শিশু অপহরণ মামলায় একজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

প্রকাশিত:বুধবার ০৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৩ | হালনাগাদ:শনিবার ১৩ এপ্রিল ২০২৪ |

Image

কুমিল্লা ব্যুরো :

কুমিল্লা সদর দক্ষিণে এডভোকেট মোঃ খোরশেদ আলমের শিশু সন্তান আনাস ইসলাম নুহিনকে অপহরণসহ মুক্তিপণ আদায়ের দায়ে একজনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেন আদালত।

বুধবার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে  কুমিল্লা নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-০১ এর বিচারক মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন এ রায় দেন। রায় প্রদানকালে এ মামলার আসামি আবু ইউসুফ আদাল‌তের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন।

মামলার বিবরণে জানা যায়- ২০২১ সালের ৮ এপ্রিল বৃহস্পতিবার বিকেল ৪ টায় সময় কুমিল্লা সদর দক্ষিণ উপজেলা হালে লালমাই উপজেলাধীন রাইপুর গ্রামের মনিরুজ্জামানের ছেলে কুমিল্লা জেলা আইনজীবী সমিতির নিয়মিত সদস্য এডভোকেট খোরশেদ আমলের শিশু সন্তান ভিকটিম আনাস ইসলাম নাহিদ (১০) আইসক্রিম খাওয়ার জন্য দশ টাকা নিয়ে সদর দক্ষিণ মডেল থানাধীন নতুন পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড ভাড়া বাসা হতে বের হয়ে পাশের দোকানে গেলে ভিকটিম নিদিষ্ট সময়ের মধ্যে বাসায় ফিরে না আসায় অনেক খোঁজাখুজি না পেয়ে পরদিন সদর দক্ষিণ মডেল থানায় সাধারণ ডায়রী করে (যাহার নং ৪১৬)। পরবর্তীতে ঐদিন সকাল ৯টায় অজ্ঞাত ব্যক্তির মোবাইল হতে ভিকটিমের পিতার ব্যবহৃত মোবাইলে ফোন করে জানায় যে, ভিকটিম আনাস ইসলাম নাহিদ আসামির হেফাজতে রহিয়াছে, ভিকটিমকে সুস্থ ফেরত পেতে হলে ৪০,হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবী করিলে নচেৎ ভিকটিমকে প্রাণনাশ করিয়া ফেলিবে। ভিকটিমের পিতা নিরুপায় হয়ে তিনধাপে ৩৫হাজার টাকা নগদে পাঠালে কুমিল্লা মডেল থানাধীন আলেখারচর বিশ্বরোড এলাকায় মুক্তিযোদ্ধা চত্বরের উত্তর পাশে ছেড়ে দেয়। ভিকটিমের পিতা সংবাদ পেয়ে সন্ধ্যা ৬টায় ভিকটিমকে উদ্ধার করেন। সেই সূত্রধরে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই খালেকুজ্জামান ভিকটিমের অপহৃতের ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহপূর্বক আসামি আবু ইউসুফকে গ্রেফতার করিলে আসামি স্বীকারোক্তিমুলক জবানবন্দী দেন।তৎপর মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই খালেকুজ্জামান তদন্তপূর্বক ২০২১ সালের ২৫ জুলাই নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ (সং/০৩) এর ৭/৮ ধারার বিধানমতে বিজ্ঞ আদালতে চার্জশীট দাখিল করিলে আসামির বিরুদ্ধে চার্জগঠন করেন। তৎপর ৮ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে যুক্তিতর্ক শুনানী অন্তে আসামির বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ার আসামি আবু ইউসুফকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০ এর ৭ ধারায় দোষী সাব্যস্তক্রমে ১৪ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ও বিশ হাজার টাকা অর্থদণ্ড এবং ৮ ধারায় দোষী সাব্যস্তক্রমে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও বিশ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন। রায়ে আরও উল্লেখ্য করেন যে, উভয় সাজার মেয়াদ একত্রে কার্যকর হবে এবং দণ্ডপ্রাপ্ত আসামির হাজতকালীন সময় তার সাজার মেয়াদ হতে কর্তন হবে। 

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামি আবু ইউসুফ হলেন নোয়াখালী জেলার সেনবাগ থানার  ঠনারপাড় ( আবুল খায়ের মেম্বারের বাড়ী) নিবাসী মোঃ ইসমাইলের ছেলে।  

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজী‌বি এডভোকেট প্রদীপ কুমা দত্ত বলেন- এ রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ খুশি।

ভিকটিমের পিতা এডভোকেট খোরশেদ আমল বলেন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-০১ এর বিচারক আজকে যে যুগান্তকারী রায় দিয়েছে আমি সন্তুষ্ট। এরফলে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বলে আমি মনে করি।


আরও খবর

সংশোধনী আসছে কাবিননামায়

বৃহস্পতিবার ১১ এপ্রিল ২০২৪




জলদস্যুর কবলে লক্ষ্মীপুরের ক্যাডেট ইঞ্জিনিয়ার আইয়ুবের বাড়ীতে শোকের মাতম

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১৪ মার্চ ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১১ এপ্রিল ২০২৪ |

Image

লক্ষ্মীপুর প্রতিনিধি : ভারত মহাসাগরে সোমালিয়ান জলদস্যুরে কবলে পড়া জাহাজে থাকা বাংলাদেশী ২৩ নাবিকদের মধ্যে ইঞ্জিনিয়ার ক্যাডেট আইয়ুব খান লক্ষ্মীপুরের বাসিন্দা। তার বাড়ি লক্ষ্মীপুরের রায়পুরের রাখালিয়া গ্রামে। প্রায় ১ মাস আগে তার বাবা আজহার মিয়া মারা যান। এখনো গৃহকর্তা হারানোর শোক কাটিয়ে উঠতে পারেনি পরিবারটি। এরমধ্যেই পরিবারের ছোট ছেলে সাগরে ডাকাতদের কবলে রয়েছে। এ শোকে আইয়ুবের মা হোমায়রা বেগম কান্নায় ভেঙে পড়েছেন। কিছুক্ষণ পর পরই ছেলেকে বুকে চেয়ে চিৎকার করে উঠেন। আইয়ুব বাবা তুমি কই বাবারে, কথা বলতে বলতে মূর্ছা যাচ্ছেন  ৬০ বছর বয়সী মা হুমায়ারা বেগম। হাতে তার মোবাইল ফোন। ফোনে রয়েছে ছেলের ছবি, আর চোখের কোণে অশ্রু। ইঞ্জিনিয়ার ক্যাডেট আইয়ুব খান এমভি আবদুল্লাহ জাহাজে গত মঙ্গলবার সোমালিয়ান জলদস্যুদের হাতে জিম্মি সেসহ আরো ২২ নাবিক। তার উদ্বিগ্ন মা ছুটে চলেছেন আর কোন মানুষ দেখলে বলতে থাকেন আমার বাবা কি হয়েছে। বাবা আইয়ুব খান এসেছে? কাঁদছেন আর বলছেন, ‘আমার মানিক কোথায়? তারে আমার সামনে আনেন। আমি আমার মানিকরে বুকে নেব।

মঙ্গলবার (১২ মার্চ) রোজার ইফতারের পর থেকে খবর পেয়ে মূর্ছা যান ইঞ্জিনিয়ার ক্যাডেট আইয়ুব খানের মা হুমায়ারা বেগম (৬০)। আইয়ুব খানের মা  হুমায়ারা বেগম বলেন, ‘আমরা যখন ইফতার করছিলাম, এর মাঝেই আমার ছেলে তার ভাই রাব্বীর সাথে ফোনে কথা হয় জাহাজটি সোমালিয়া নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।’‘টাকা না দিলে মেরে ফেলবে’, শুনে বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন আইয়ুব খান এর মাসহ পরিবারের সদস্যরা। মুক্ত করতে মালিকপক্ষের সঙ্গে দ্রুত যোগাযোগ করে চলেছেন তারা।

আইয়ুব লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের রাখালিয়া গ্রামের বিরন বেপারী বাড়ির মৃত আজহার মিয়ার ছোট ছেলে। তিনি রাখালিয়া উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি ও রামগঞ্জের ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়া একাডেমি থেকে এইচএসসি পাস করেন। তিনি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেরিটাইম ইউনিভার্সিটি থেকে মেরিন ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করেন। প্রায় ১ বছর ধরে ইন্টার্নি করছে আইয়ুব ।


লক্ষ্মীপুরের রায়পুর রাখালিয়া গ্রামের ইঞ্জিন ক্যাডেট আইয়ুব খানের বাড়ী উপস্থিত সংবাদকর্মীদের কথা শুনে ঢাকা থেকে টেলিফোনে কথা বলেন ইঞ্জিন ক্যাডেট আইয়ুব খানের  মেজো ভাই রাব্বী। বলছেন, মিডিয়া বেশি কিছু বলতে পারবো না। তবে বিপদে আছেন তারা। টাকা না দিলে মেরে ফেলবে, জিম্মি ২৩ নাবিক পরিবারের মতো চরম উৎকন্ঠায় জিম্মি লক্ষ্মীপুরের ইঞ্জিন ক্যাডেট আইয়ুব খানের পরিবার। মুক্তিপণ না পেলে জলদস্যুরা তার ভাইসহ অন্যদের মেরে ফেলবে। মঙ্গলবার বাংলাদেশী সময় সন্ধ্যায় মেজো ভাই রাব্বীর সাথে সর্বশেষ কথা ইঞ্জিন ক্যাডেট আইয়ুব খানের সাথে। তখন আইয়ুব খান ফোনে বলছেন জলদস্যুরা তাদের কাছ থেকে মোবাইল নিয়ে নিচ্ছে। ফাইনাল কথা হচ্ছে, এখানে যদি টাকা না দেয়, আমাদের মেরে ফেলবে।

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার (১২ মার্চ) বাংলাশে সময় দুপুরে ভারত মহাসাগরে জলদস্যুর কবলে পড়ে বাংলাশের পতাকাবাহী জাহাজ এমভি আবদুল্লাহ। এ সময় শিল্পগ্রুপ কেএসআরএমের মালিকানাধীন এসআর শিপিংয়ের জাহাজটি জিম্মি করে নেয় সোমালিয়ান দস্যুরা। এদিন বিকেলে জাহাজটি সোমালিয়ার দিকে নিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া যায়। জাহাজে লক্ষ্মীপুরের আইয়ুব খানসহ মোট ২৩ জন নাবিক জিম্মি। এর মধ্যে জিম্মি লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলার রাখালিয়া গ্রামের ইঞ্জিন ক্যাডেট আইয়ুব খানও রয়েছে।  তিনি বিয়ে না করলে ও তাদের সংসারে রয়েছেন দুই ভাই এক বোন।



আরও খবর



দেশে ৪.৫ কোটি মানুষ নিরাপদ পানি পায় না

প্রকাশিত:শুক্রবার ২২ মার্চ ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ১২ এপ্রিল ২০২৪ |

Image

দেশের প্রায় সাড়ে চার কোটি মানুষ এখনও নিরাপদ পানি থেকে বঞ্চিত পানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নদী দূষণের কারণে দেশে পানির সঙ্কট আরও বাড়ছে নদীর পানি ব্যবহৃত না হওয়ায় প্রতি বছর মাটির নিচ থেকে ৮৬ ভাগ পানি তুলতে হচ্ছে তারা জানান, উন্নত দেশ হতে হলে ভূগর্ভস্থ পানির উপর চাপও কমাতে হবে আবার শতভাগ মানুষের পানির সুষ্ঠু ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে

জীবন ধারণের জন্য যে পানি প্রয়োজন, তা ক্রমেই সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। পানি আমাদের জীবনের একটি বিশেষ উপাদান। পানির অপর নাম জীবন। জন্মের পর থেকে পৃথিবীতে টিকে থাকার জন্য আমরা নানাভাবেই পানির ওপর নির্ভরশীল। বর্তমানে আমাদের দেশে সুপেয় পানি পাওয়া অনেকটা চ্যালেঞ্জ হয়ে গেছে। সুপেয় পানি ছাড়া জীবন রক্ষা নয়, তাই পানিই মৃত্যু ঝুঁকির কারণ হয়ে উঠছে।


পৃথিবীর তিন-চতুর্থাংশই পানি। তবুও বিশুদ্ধ ও নিরাপদ পানির জন্য আমাদের অনেক বেগ পেতে হয় তা সকলের জানা। ভূপৃষ্ঠের ৭০.৯% অংশ জুড়ে পানির অস্তিত্ব রয়েছে। পৃথিবীতে প্রাপ্ত পানির ৯৬.৫% পাওয়া যায় মহাসাগরে। তবে পৃথিবীর পানির মাত্র ৩ ভাগ মিস্টি পানি আর ৯৭ ভাগ লবনাক্ত পানি। পানির প্রাচুর্যের কারণে অধিকাংশ মানুষই সচেতন কিংবা অসচেতনভাবেই পানি অপচয় করে থাকে। যদি পানির একটি ট্যাপ থেকে প্রতি সেকেণ্ডে এক ফোটা করে পানি পড়ে তবে বছরে তিন হাজার গ্যালন পানি অপচয় হবে। এক গ্যালন পানির ওজন ৮.৩৪ পাউণ্ড। মাত্র ৫ মিনিটে একটি শাওয়ার থেকে ১০ থেকে ২৫ গ্যালন পানি ব্যবহার করা যায়। আর গোসল করতে প্রায় ৭০ গ্যালন পানির প্রয়োজন হয়।


বিশ্বজুড়েই নিরাপদ পানির সমস্যা রয়েছে। বিশ্বে প্রতি ৪ জন মানুষের একজন নিরাপদ পানির অভাবে ভুগছে। দেশের ৪১ শতাংশ মানুষ এখনো নিরাপদ পানি সুবিধা থেকে বঞ্চিত। বাড়িতে নিরাপদ স্যানিটেশন সুবিধা পায় না ৬১ শতাংশ মানুষ। সারাবিশ্বের ২ বিলিয়ন মানুষ এখনো নিরাপদ পানীয় জলের অভাবে রয়েছেন। ৩ দশমিক ৬ বিলিয়ন মানুষ নিরাপদ স্যানিটেশনের অভাবে আছেন এবং ২ দশমিক ৩ বিলিয়ন মানুষ মৌলিক স্বাস্থ্যবিধি থেকে বঞ্চিত রয়েছেন। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের তথ্যমতে, বিশ্বে প্রায় ৭৭ কোটিরও বেশি মানুষ তাদের বাড়ির আশপাশে নিরাপদ পানির সুবিধা থেকে বঞ্চিত। আর প্রতিবছর অনিরাপদ পানি ও দুর্বল পয়োনিষ্কাশনের জন্য প্রায় ১০ লাখেরও বেশি মানুষ মারা যায়।


পানি একটি অত্যন্ত মূল্যবান সম্পদ। পৃথিবীর মধ্যে যে প্রাকৃতিক সম্পদ আছে তার মধ্যে ভূগর্ভস্থ পানি অন্যতম। ভূগর্ভস্থ পানি দৃশ্যমান নয়, কিন্তু এর প্রভাব সর্বত্র বিদ্যমান। ভূগর্ভস্থ পানি আমাদের সুপেয় পানির সবচেয়ে বড় উৎস। ভূগর্ভস্থ পানি পানীয় জল সরবরাহ, স্যানিটেশন ব্যবস্থা, কৃষিকাজ, শিল্প ও বাস্তুতন্ত্র বজায় রাখে। এদিকে, মানুষের পানির চাহিদা প্রতিনিয়ত বাড়ায় ভূগর্ভস্থ পানির অতিরিক্ত ব্যবহার হচ্ছে। পৃথিবীর পানির মাত্র ৩ ভাগ স্বাদু পানি। আর বিশ্বব্যাপী স্বাদু পানির ৭২ শতাংশই ব্যবহৃত হয় কৃষি কাজে।

বাস্তুতন্ত্রের অবক্ষয়, জলবায়ু পরিবর্তন ও অন্যান্য কাজে ব্যাপকভাবে পানি ব্যবহারের কারণে কৃষিকাজে পানির প্রাপ্যতা হুমকির সম্মুখীন হচ্ছে।বাংলাদেশে কৃষি, শিল্প ও গৃহস্থালি কাজগুলো মূলত ভূগর্ভস্থ পানির ওপর অনেকটা নির্ভরশীল। পানির স্তর নিচে নেমে গেলে নিরাপদ পানীয় জল নাগালের বাইরে চলে যাবে। দেশে ভূগর্ভস্থ পানির অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নদী ভাঙন রোধ, ভূমি পুনরুদ্ধার, জলাবদ্ধতা দূরীকরণে আওয়ামী লীগ সরকার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ করেছে, যা দেশের জনসাধারণের জীবনমান উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।


দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে সুপেয় পানির সংকট দীর্ঘদিনের। ঘূর্ণিঝড় সিডর ও আইলা প্রলয়ের পর এই সংকট আরো তীব্র হয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে পানির উৎসগুলো নষ্ট হয়ে গেছে। এখনো পুরোপুরি আগের অবস্থায় ফিরতে পারেনি। দেশের উপকূলীয় এলাকায় টেকসই বেড়িবাঁধের অভাবে লবণাক্ত পানিতে সয়লাব হচ্ছে জনপদ। এতে পরিবেশ ও বসতি ধ্বংসের পাশাপাশি সুপেয় পানির সংকট তীব্র হয়ে উঠছে। উপকূলের মাটি ও পানিতে লবণাক্ততা বেড়ে যাওয়ায় ক্রমে সংকুচিত হচ্ছে বিশুদ্ধ পানির উৎস। লবণাক্ততার এই আগ্রাসন শুধু ভূ-উপরিস্থ পানি নয়, ভূগর্ভস্থ উৎসেও ছড়িয়ে পড়েছে। ফলে নানা রোগ-ব্যাধি এ অঞ্চলের জনস্বাস্থ্যকে হুমকিতে ফেলছে। উপকূলে বিশুদ্ধ পানির কষ্ট প্রকট হচ্ছে প্রতিনিয়ত। এলাকার নলকূপের পানি লবণাক্ত ও আর্সেনিক। নিত্যব্যবহার্য কাজে লবণাক্ত পানি ব্যবহারের কারণে ছড়িয়ে পড়ছে রোগব্যাধি। পেটের পীড়া, অ্যালার্জিসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে নারী, শিশু থেকে বৃদ্ধসহ সব বয়সের মানুষ। বিশুদ্ধ পানির জন্য গ্রামের বাসিন্দাদের ছুটতে হচ্ছে দূরদূরান্তে।


বিশ্বের জলবায়ু পরিবর্তন হচ্ছে, দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। এর প্রভাবে বিশুদ্ধ পানির উৎসগুলো দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। বনজঙ্গল ধ্বংস করার ফলে প্রকৃতি ও পরিবেশ মারাত্মকভাবে বিপর্যস্ত হচ্ছে। গত অর্ধ শতাব্দী জুড়ে পৃথিবী থেকে কার্বনের উৎক্ষেপন বেড়ে গেছে কয়েকগুণ, বেড়েছে উষ্ণতা। সেই সাথে শিল্প ও রাসায়নিক বর্জ্য দূষণ সৃষ্টি করছে নদী এবং সাগরে। বিশ্বের সকল দেশেই বিশুদ্ধ পানি সংকট ভয়াবহ আকার ধারণ করছে। ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, বেড়িবাঁধ ভাঙন, অধিক বৃষ্টি ও অনিয়মিত বৃষ্টি, খরা ও লবণাক্ততা বৃদ্ধির ফলে দেশের দক্ষিণ উপকূল খাদ্য ও কৃষি উৎপাদনে চরম সংকটে পড়েছে। তাছাড়া অপরিকল্পিত চিংড়ি চাষের কারণে লবণাক্ততার মাত্রা আরও বাড়ছে। অনাবৃষ্টি আর খরায় দেশের প্রাণীকুল, ফসলের ক্ষেতে পড়ছে বিরুপ প্রভাব।


জীবজগতে পানির প্রভাব অপরিসীম। পানি ছাড়া পৃথিবীতে প্রাণের অস্তিত্ব থাকতো না। একজন মানুষ পানি ছাড়া গড়ে মাত্র তিন দিন বেচে থাকতে পারে। মানুষের অপরিহার্য প্রয়োজনীয় পদার্থ হল পানি। তাই পানির আরেক নাম জীবন। তবে পানি হলেই হবে না, সেটা হতে হবে বিশুদ্ধ পানি। বিশুদ্ধ পানির প্রধান উৎস ভূগর্ভস্থ নলকূপের পানিতে  আর্সেনিকের উপস্থিতি বাড়ছে। দেশের ৬১ জেলার নলকূপের পানিতে রয়েছে আর্সেনিক। আর্সেনিক আক্রান্ত পানি ব্যবহার করলে মানবদেহে মারাত্মক রোগ হতে পারে।


ভুগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় বিশুদ্ধ পানির সংকট তীব্র হচ্ছে দিন দিন। ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ার এই ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকলে ভবিষ্যতে মারাত্মক বিপর্যয় সৃষ্টি হবে নিঃসন্দেহে। শুধু তাই নয়, ভূগর্ভস্থ পানির উৎসও দিন দিন সংকোচিত হচ্ছে। এছাড়া, শুষ্ক মওসুমে দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূগর্ভস্থ পানির স্তর নিচে নেমে যাওয়ায় নলকূপে পানি ওঠে না। বিশুদ্ধ পানীয় জলের অভাব দেখা দেয়। নদ-নদী, পুকুর-ডোবা, জলাশয়, হাওর-বাওর, খাল-বিল শুকিয়ে যায়।

 গত চার দশকে দেশের জলাভূমি কমেছে কমপক্ষে ৬৫ লাখ হেক্টর। স্বাধীনতার পর এ পর্যন্ত দেশের ৭০ ভাগ জলাভূমি কমেছে। শুকিয়ে যাচ্ছে নদ নদীও। সারাদেশে কমপক্ষে আট হাজার কিলোমিটার নদীপথ ইতোমধ্যেই হারিয়ে গেছে। এককালের খরস্রোত নদী এখন অস্তিত্ব সংকটে রয়েছে ।


বাংলাদেশ নদীমাতৃক ও কৃষি নির্ভর। দেশের খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন ও সামগ্রিক উন্নয়নে সঠিক ও পরিকল্পিত পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনার ভূমিকা অপরিসীম। আমাদের জীবন রক্ষায় সকলের জন্য অঙ্গীকার হওয়া উচিত বিশুদ্ধ পানির নিশ্চয়তায় নদ নদী, হাওর,খাল, বিল, জলাশয়, পুকুর-ডোবা  ভরাট হওয়ার হাত থেকে রক্ষা করতে হবে। পানি যাতে দূষিত না হয় সেই উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি পানিকে আর্সেনিকমুক্ত করার জন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা রাখতে হবে।

ভূ-গর্ভস্থ পানির উত্তোলন কমিয়ে ভূ-পৃষ্ঠের পানি গৃহস্থালীসহ অন্যান্য কাজে যাতে সর্বাধিক ব্যবহার করা যায়, সেদিকে নজর দিতে হবে। সমুদ্র ও নদ-নদীকেও দূষণের কবল থেকে মুক্ত করতে হবে। শিল্প ও রাসায়নিক বর্জ্য যাতে নদী এবং সাগরে না ফেলা হয়, তার ব্যবস্থা করতে হবে।পানির অপচয় রোধ করতে হবে। এ ব্যাপারে সচেতনতা সৃষ্টি করা প্রয়োজন। যেন সবার জন্য বিশুদ্ধ পানির প্রাপ্তি সহজলভ্য হয়।


আরও খবর



সবজির কমলেও মাছ মাংসের দাম বাড়তি

প্রকাশিত:শুক্রবার ২২ মার্চ ২০২৪ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ০৯ এপ্রিল ২০২৪ |

Image

কৃষি বিপণন অধিদপ্তর মাছ, মাংস, খেজুর এবং বিভিন্ন সবজিসহ মোট ২৯টি নিত্যপণ্যের যৌক্তিক মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছিল গত শুক্রবার। এরপর এক সপ্তাহ পেরোলেও নতুন এ দাম বাস্তবায়ন হয়নি এখনো। রাজধানীর বিভিন্ন বাজার ঘুরে গতকাল দেখা গেছে, সবজি, ডিমসহ কয়েকটি পণ্যের দাম আগের চেয়ে কিছুটা কমলেও বেড়েছে আলুসহ কয়েকটি পণ্যের। আবার মাছ ও মাংস বিক্রি হয়েছে নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে প্রায় ১০-২৫ শতাংশ বেশিতে।

বাজারে গতকাল প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হয়েছে ২০০-২১০ টাকায়। এছাড়া প্রতি কেজি গরুর মাংস গড়ে ৭৫০-৭৮০ টাকায়, খাসির মাংস প্রতি কেজি ১ হাজার থেকে ১ হাজার ১০০ ও সোনালি মুরগি ৩২০-৩৩০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এছাড়া প্রতি কেজি চাষের পাঙাশ ২০০-২২০ টাকায় ও কাতলা আকারভেদে ৩০০-৪৫০ টাকায় বিক্রি হতে দেখা গেছে। যদিও গত শুক্রবার এসব পণ্যের উৎপাদক, পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে সর্বোচ্চ দাম নির্ধারণ করে দিয়েছিল কৃষি বিপণন অধিদপ্তর। সংস্থাটির হিসাবে প্রতি কেজি ব্রয়লারের উৎপাদন খরচ ধরা হয় ১৪৬ টাকা। আর খুচরা পর্যায়ে মূল্য নির্ধারণ করা হয় কেজিপ্রতি ১৭৫ টাকা।

 এছাড়া খুচরায় প্রতি কেজি গরুর মাংসের দাম ৬৬৪ টাকা, ছাগলের মাংসের (খাসি) কেজি ১ হাজার ৩ ও সোনালি মুরগির মূল্য ২৬২ টাকা নির্ধারণ করা হয়। প্রতি কেজি চাষের পাঙাশের উৎপাদন খরচ ধরা হয় ১১৫ টাকা। এছাড়া খুচরা পর্যায়ে পাঙাশের যৌক্তিক মূল্য ১৮১ টাকা এবং কাতলা মাছের যৌক্তিক মূল্য সর্বোচ্চ ৩৫৪ টাকা নির্ধারণ করে দেয়া হয়। সে অনুযায়ী বাজারে মাছ ও মাংস নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে প্রায় ১০-২৫ শতাংশ বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে।

রাজধানীর শাহজাদপুরের ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘‌মুরগির মাংসের দাম গত সপ্তাহের চেয়ে কিছুটা কমেছে। কিন্তু এর চেয়ে কমবে বলে মনে হচ্ছে না। কারণ খামারিরা বলছেন তাদের উৎপাদন খরচ বেশি। আমরা কম দামে আনতে পারলে কম দামে বিক্রি করতে পারব।

এদিকে এক সপ্তাহের ব্যবধানে সবজি ও ডিমের দাম কিছুটা কমেছে। বর্তমানে রাজধানীর খুচরা বাজারে প্রতি কেজি বেগুন ৫০-৭০ টাকা, টমেটো ৫০, শিম ৫০-৬০, ফুলকপি ও বাঁধাকপি ৪০-৫০, মিষ্টি কুমড়া ৪০-৫০ ও কাঁচামরিচ প্রতি কেজি ৮০-১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া প্রতি কেজি শুকনা মরিচ ৩৮০-৪৫০ টাকা, পেঁয়াজ ৬০-৭০ ও দেশী রসুন ১২০-১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। 

গত সপ্তাহে প্রতি কেজি বেগুন ৮০-১২০ টাকা, টমেটো ৭০-৮০, ফুলকপি ও বাঁধাকপি ৬০-৭০, মিষ্টি কুমড়া ৫০-৬০ ও কাঁচামরিচ ১২০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। আর প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৮০-৯০ টাকা ও দেশী রসুন ১৩০-১৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। যদিও কৃষি বিপণন অধিদপ্তর প্রতি কেজি কাঁচা ও শুকনা মরিচের সর্বোচ্চ দাম যথাক্রমে ৬০ টাকা ও ৩২৭ টাকা নির্ধারণ করেছে। অন্যদিকে সবজির মধ্যে খুচরা পর্যায়ে বাঁধাকপি প্রতি কেজি ২৮ টাকা, ফুলকপি ৩০, বেগুন ৪৮, শিম ৫০, টমেটো ৪০ ও মিষ্টি কুমড়া ২৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। 

কারওয়ান বাজারে সবজি বিক্রেতারা জানান, বাজারে সবজির সরবরাহ আগের চেয়ে বেশি। তার তুলনায় চাহিদা কমেছে। এ কারণে দামও কম। বেশকিছু সবজির দাম অর্ধেকে নামলেও সবজি পুরোপুরি বিক্রি করতে পারছেন না ব্যবসায়ীরা। কারওয়ান বাজারের পেঁয়াজ ব্যবসায়ী মো. বাবুল হোসেন বলেন, ‘‌পেঁয়াজের দাম এখন কমতির দিকে। গত এক সপ্তাহে ২০-৩০ টাকা কমেছে। কৃষকরা পেঁয়াজ তুলে ফেলছেন। অনেকে আমদানির খবর শুনে পেঁয়াজ ছেড়ে দিচ্ছেন। এ কারণে সরবরাহ বেশি। দামও অনেকটা কমেছে।

আলুর দাম গত সপ্তাহের তুলনায় বেড়েছে কেজিতে ৫ টাকা। বর্তমানে প্রতি কেজি আলু বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়। যদিও সরকার নির্ধারিত মূল্য সাড়ে ২৮ টাকা। গত সপ্তাহে প্রতি কেজি আলুর দাম ছিল ৩০-৩৫ টাকা। আমদানীকৃত আদার দাম ১৮০ টাকা নির্ধারণ করা হলেও বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকায়। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বাজারে বিভিন্ন সময় দাম নির্ধারণ করে দেয়া হলেও বাস্তবায়নকারী বা তদারকি সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের অভাবে তা আর বাস্তবায়ন হয় না। এক সংস্থা আরেক সংস্থার ওপর দায় চাপিয়ে দেয়। এক্ষেত্রে বাজারসংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে একই ছাতার নিচে এনে মূল্য নিয়ন্ত্রণে সরকারকে উদ্যোগী হতে হবে।

এ বিষয়ে কনজিউমারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ক্যাব) সহসভাপতি এসএম নাজের হোসেন বলেন, বাজার নিয়ন্ত্রণে দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থাগুলোর একটির সঙ্গে আরেকটির সমন্বয় নেই। অতীতেও বিভিন্ন সময় দাম নির্ধারণ করে পরবর্তী সময়ে আর বাস্তবায়ন হতে দেখা যায়নি। এবারো আমরা তা দেখছি না। প্রতিষ্ঠানগুলো বিচ্ছিন্নভাবে কাজ করছে। সবগুলো প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করে কাজ করতে হবে। তা না হলে এসব মূল্য নির্ধারণ করে সুফল আসবে না।

কৃষি বিপণন অধিদপ্তর সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সংশ্লিষ্ট সবগুলো সংস্থা একযোগে সমন্বিতভাবে কাজ করলে নির্ধারিত মূল্য দ্রুত বাস্তবায়ন সম্ভব। এ বিষয়ে জানতে চাইলে কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. মাসুদ করিম বলেন, আমরা আইনের ভিত্তিতে দাম নির্ধারণ করে দিতে পারি। এটা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সব এজেন্সিরই দায়িত্ব রয়েছে। আমাদেরও দায়িত্ব রয়েছে। আমাদের অংশের বিষয়ে আমরা যথেষ্ট সচেতন রয়েছি। এ মূল্য বাস্তবায়নে কিছুটা সময় লাগতে পারে।


আরও খবর



ভাঙ্গা থেকে ১২০ কি.মি বেগে ছুটলো ট্রায়াল ট্রেন

প্রকাশিত:শনিবার ৩০ মার্চ ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১১ এপ্রিল ২০২৪ |

Image

ফরিদপুরের ভাঙ্গা জংশন থেকে যশোরের রূপদিয়ার উদ্দেশে ছেড়ে গেছে একটি পরীক্ষামূলক ট্রায়াল ট্রেন। এটিই প্রথম এই রুটে যাত্রীবাহী ট্রেনের গতির ট্রায়াল। এ সময় ট্রেনে কয়েকজন স্থানীয় ও প্রকল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা যাত্রী হিসেবে ছিলেন।

শনিবার (৩০ মার্চ) সকাল সোয়া ৮টার দিকে ভাঙ্গা জংশন থেকে ট্রেনটি ছেড়ে যায়। ট্রেনটির চালক হিসেবে ছিলেন মো. সাখাওয়াত হোসেন। ভাঙ্গা থেকে ৯৩.৬ কিলোমিটার দূরের যশোরের রূপদিয়া রেলস্টেশনের উদ্দেশে ট্রায়াল শুরু করে ট্রেনটি।

এর সত্যতা নিশ্চিত করে ভাঙ্গার রেলস্টেশন মাস্টার মো. জিল্লুর রহমান জানান, শনিবার সকাল সোয়া আটটার দিকে উচ্চ গতিসম্পন্ন পরীক্ষামূলক ট্রেনটি যশোরের রূপদিয়ার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। ট্রেনটির গতি ছিল ১২০ কিলোমিটার।

এর আগে, পদ্মা সেতুর রেল সংযোগ প্রকল্প কর্তৃপক্ষের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ৩০ ও ৩১ মার্চ ফরিদপুরের ভাঙ্গা রেলওয়ে স্টেশন থেকে যশোরের রূপদিয়া রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত পরীক্ষামূলক ট্রেন উচ্চগতিতে চলাচল করবে। এ সময় ট্রেনের গতি থাকবে ঘণ্টায় ১২০ কিলোমিটার। ট্রেন চলাচলের সময় রেললাইনের ওপর জনসাধারণের চলাচল সম্পূর্ণ নিষেধ করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, পরীক্ষামূলক এ ট্রেন চলাচলের সময় কোনো ধরনের দুর্ঘটনা বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়ানোর জন্য পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্প সংলগ্ন এলাকাবাসী ও এলাকায় চলাচলকারী সর্বসাধারণ পরিবারের শিশু, বৃদ্ধ, মানসিক প্রতিবন্ধী (যদি থাকে) এবং গৃহপালিত প্রাণীগুলোকে নিজ নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, পদ্মা সেতু রেল সংযোগ প্রকল্পের মাধ্যমে দেশের দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলকে রেলওয়ে নেটওয়ার্কের আওতায় আনতে এই রেলপথ নির্মাণ করা হচ্ছে। বাংলাদেশ ও চীনের যৌথ অর্থায়নে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না রেলওয়ে গ্রুপ (সিআরইসি) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। ভাঙ্গা থেকে যশোর পর্যন্ত ব্রডগেজ ওই রেলপথে ভাঙ্গা, কাশিয়ানী এবং যশোরের পদ্মবিলা ও সিঙ্গিয়াতে রেলওয়ে জংশন থাকছে। এ ছাড়া নগরকান্দা, মুকসুদপুর, মহেশপুর, লোহাগড়া, নড়াইল এবং যশোরের জামদিয়া ও রূপদিয়াতে রেলস্টেশন হচ্ছে। 


আরও খবর



রাণীনগরে ডাকাতির প্রস্ততিকালে অস্ত্রসহ আটক-৪

প্রকাশিত:বুধবার ০৩ এপ্রিল ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১১ এপ্রিল ২০২৪ |

Image

কাজী আনিছুর রহমান,রাণীনগর (নওগাঁ)  :

নওগাঁর রাণীনগরে পুলিশ ডাকাতির প্রস্ততিকালে দেশীয় অস্ত্রসহ চার জনকে আটক করেছে । এসময় একটি মিনিট্রাক জব্দ করা হয়।মঙ্গলবার গভীর রাতে নওগাঁ-নাটোর আঞ্চলিক মহাসড়কের গোনা এলাকা থেকে আটক করা হয়। এঘটনায় থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। 

বুধবার দুপুরে রাণীনগর থানায় নওগাঁ জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) গাজিউর রহমান পিপিএম,এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, আসন্ন ঈদ উপলক্ষে উপজেলা জুরে পথচারী ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা জোরদারে অতিরিক্ত পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে। মঙ্গলবার গভীর রাতে থানাপুলিশ টহল দেয়ার সময় নওগাঁ-নাটোর আঞ্চলিক মহাসড়কের গোনা এলাকায় পৌছলে সড়কের উপর একটি মিনি ট্রাক সন্দেহভাজনক অবস্থায় দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে। এসময় পুলিশ ট্রাকের কাছে যেতেই ট্রাক নিয়ে পালানোর চেষ্টা করে।এসময় পুলিশ এবং স্থানীয়দের সহযোগিতায় চারজনকে আটক করে। আটককৃতরা হলো বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার নিমাইকোলা গ্রামের সোনা মিয়ার ছেলে শাকিল প্রাং(২৪) ও লিটনের ছেলে মুন্না মন্ডল (১৯) এবং নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার হরিশপুর গ্রামের জামাল উদ্দীনের ছেলে আজাদুল ইসলাম (২৮) ও একই উপজেলার আতাইকুলা গ্রামের রফিকুল ইসলামের ছেলে লিটন হোসেন (২৪)।

আটককালে তাদের নিকট থেকে লোহার শাবল,রড,হাসুয়া,চাকু,কসটেপ,রশি উদ্ধার করা হয়। এসময় একটি মিনিট্রাকও জব্দ করা হয়। পুলিশের এই কর্মকর্তা আরো জানান, মিনিট্রাকে এই দলে ১০/১২জন ছিল। এদের মধ্যে অনেকেই রয়েছে যারা নওগাঁর মহাদেবপুরে গত বছরে সংঘটিত ডাকাতির সঙ্গে জড়িত। এরা কোন বাড়ী বা রাস্তায় পথচারীর পথরোধ করে ডাকাতি সংঘটিত করতো বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছে। সংবাদ সম্মেলনে রাণীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু ওবায়েদ,ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মেহেদি মাসুদসহ অন্যান্য পুলিশ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। আটককৃতদের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন করে আদালতে সোপর্দ করা হবে বলে জানিয়েছেন পুলিশের এই কর্মকর্তা।


আরও খবর