Logo
শিরোনাম

কুসিক নির্বাচনে নৌকার মাঝি আরফানুল হক রিফাত

প্রকাশিত:শুক্রবার ১৩ মে ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ১৬ মে ২০২২ | ৩৭জন দেখেছেন
Image

নিজস্ব প্রতিবেদক, কুমিল্লা। 

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের (কুসিক) নির্বাচনে নৌকার মাঝি হলেন কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরফানুল হক রিফাত। 

শুক্রবার সন্ধ্যায় আওয়ামী লীগের স্থানীয় সরকার মনোনয়ন বোর্ডের সভায় আওয়ামী লীগ সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে ওই বোর্ড সভায় আরফানুল হক রিফাতকে মনোনয়ন দেওয়া হয়।মনোনয়ন বোর্ডের সদস্য ও আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য এড,জাহাঙ্গীর কবির নানক নিশ্চিত করেছেন। 

এর আগে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ‘স্থানীয় সরকার জনপ্রতিনিধি মনোনয়ন বোর্ডের সভা শুরু হয় বিকাল সাড়ে চারটায়।

কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন পেতে ১১ মে বিকালে শেষ সময় পর্যন্ত মনোনয়ন আবেদন সংগ্রহ ও জমার দিয়েছেন কুমিল্লার ১৪ জন নেতা। মনোনয়নের আবেদন জমা দেওয়াদের মধ্যে ছিলেন প্রয়াত বর্ষীয়ান আওয়ামী লীগ নেতা অধ্যক্ষ আফজল খানের কন্যা মহানগর আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি, সংরক্ষিত মহিলা সংসদ সদস্য আঞ্জুম সুলতানা সীমা,কুমিল্লা মহানগর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আরফানুল হক রিফাত, কুমিল্লা জেলা পরিষদের সাবেক প্রশাসক আলহাজ্ব ওমর ফারুক, জেলা আওয়ামীলীগের সাবেক যুগ্ন আহবায়ক কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের সাবেক ভিপি সফিকুর  ইসলাম শিকদার, মহানগর আওয়ামী লীগের সদস্য জাকির হোসেন, ,কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের ত্রান ও সমাজকল্যান বিষয়ক সম্পাদক নূর উর রহমান মাহমুদ তানিম, প্রয়াত বর্ষীয়ান আওয়ামী লীগ নেতা অধ্যক্ষ আফজল খানের পুত্র ও এফবিসিসিআইয়ের পরিচালক মাসুদ পারভেজ খান ইমরান, কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের শিক্ষা ও মানবসম্পদ বিষয়ক সম্পাদক কবিরুল ইসলাম শিকদার, কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক আনিসুর রহমান মিঠু, পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক শ্যামল চন্দ্র ভট্টাচার্য্য ,আওয়ামী লীগের দপ্তর উপকমিটির সদস্য মোহাম্মদ শাহজাহান বিপ্লব, ছাত্রলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মাহাবুবুর রহমান রুবেল,জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য শফিউর রহমান, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা কাজী ফারুক আহমেদ।

 এদিকে সদর আসনের সংসদ সদস্য ও কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি আলহাজ¦ আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারের সভাপতিত্বে মহানগর আওয়ামী লীগের বর্ধিত সভায় উপস্থিত সদস্যদের সমর্থনে একক প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন আরফানুল হক রিফাত । 

আরফানুল হক রিফাত আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাওয়ায় খুশি দলটির নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। এ খবর সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে  আরফানুল হক রিফাতের ছবি সম্বলিত অভিনন্দনের জোয়াড়ে ভরপুর সামাজিক মাধ্যম। নগরের আনন্দ-উল্লাসে মেতে উঠেছে  মহানগর আওয়ামীলীগ অঙ্গসংগঠনের নেতা-কর্মীরা। আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা আশা প্রকাশ করছেন দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের হাতছাড়া কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র পদটি ফিরিয়ে আনবেন আরফানুল হক রিফাত।

এদিকে নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন ফরম নিয়েছেন জেলা বিএনপির যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক বর্তমান মেয়র মনিরুল হক সাক্কু ও বিএনপির অঙ্গসহযোগী সংগঠন কুমিল্লা মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবকদলের সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন কায়সার, নাগরিক ফোরামে কামরুল আহসান বাবুল ,জাতীয় পার্টির মোঃ মামুনুর রশিদ, ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলনের মোঃ রাশেদুল ইসলাম  মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। 

এ নিয়ে মোট ০৫ জন মেয়র পদে, সাধারন কাউন্সিলর পদে ১৪৬ জন এবং সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৩৭ জনসহ মোট ১৮৮জন মনোয়নপত্র সংগ্রহ করেছেন। মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন মেয়র পদে একজন, সাধারন কাউন্সিলর পদে ৫ জন এবং সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ৩জনসহ মোট ৬জন ।

কুমিল্লা সিটি নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় তথ্য জানায় আগামী ১৭ মে পর্যন্ত সম্ভাব্য প্রার্থীরা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ এবং জমা দিতে পারবেন। ১৯ মে জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে মনোনয়ন পত্র যাচাই বাছাই এবং ২৭ মে একই স্থানে প্রতীক বরাদ্দ করা হবে। আগামী ১৫ই জুন কুমিল্লা সিটি নির্বাচনের ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হবে। 

এদিকে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সব কেন্দ্রে-কক্ষে সিসি ক্যামেরা থাকবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার মো. আলমগীর। কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের বাইরে একটি এবং প্রতিটি ভোটকক্ষে (ভোটাররা যেখানে ভোট দেন সেই গোপন স্থান ছাড়া) একটি করে সিসি টিভি থাকবে। যাতে সেখানে কোনও অনিয়ম হলে পরে পর্যালোচনা করে ব্যবস্থা নেওয়া যায়।


আরও খবর



চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি থেকে ডিপজলের পদত্যাগ

প্রকাশিত:বুধবার ২০ এপ্রিল ২০22 | হালনাগাদ:রবিবার ১৫ মে ২০২২ | ৯৩জন দেখেছেন
Image

জনপ্রিয় খল-অভিনেতা মনোয়ার হোসেন ডিপজল বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির সহ-সভাপতি পদ থেকে পদত্যাগ করছেন। জানা গেছে, মূলত প্রযোজক সমিতির নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য নিয়ম মেনে তিনি বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি থেকে পদত্যাগ করেছেন। আগামী ২১ মে প্রযোজক সমিতির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া কথা রয়েছে। এর আগে, শিল্পী সমিতি থেকে মিশা-জায়েদ খান প্যানেলের রোজিনাও পদত্যাগ করেন।

চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির গঠনতন্ত্রের ৯ নম্বর অনুচ্ছেদের (ত)-এ বলা আছে, ‘শিল্পী সমিতির কোনো পূর্ণ সদস্য চলচ্চিত্রসংশ্লিষ্ট অন্য কোনো সমিতির কার্যকরী পরিষদের সদস্য থাকিলে অত্র সমিতির কার্যকরী পরিষদের কোনো পদের জন্যই তিনি যোগ্য বলিয়া বিবেচিত হইবেন না।’

এ ব্যাপারে কিছুদিন আগেই ডিপজল বলেছিলেন, ‘আমি এই নিয়ম জানতাম না। জানলে প্রযোজক পরিবেশক সমিতির নির্বাচনে মনোনয়ন জমা দেওয়ার আগেই শিল্পী সমিতিতে পদত্যাগপত্র জমা দিতাম। এখন যখন জানলাম, যত তাড়াতাড়ি পদত্যাগপত্র জমা দেওয়া যায়, দিয়ে দিচ্ছি।’

এদিকে এরই মধ্যে প্রযোজক সমিতির নির্বাচনে অংশ নিতে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন ডিপজল। কিন্তু শিল্পী সমিতির গঠনতন্ত্রের বিষয়টি এতদিন তার জানা ছিল না বলে জানিয়েছেন। না হলে প্রযোজক পরিবেশক সমিতির নির্বাচনে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার আগেই শিল্পী সমিতিতে পদত্যাগপত্র জমা দিতেন বলে জানান তিনি।


আরও খবর

এবার চলচ্চিত্রে ধোনী

শুক্রবার ১৩ মে ২০২২




কুমিল্লায় আগ্নেয়াস্ত্রসহ বোমা হাসিব গ্রেপ্তার

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১২ মে ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ১৬ মে ২০২২ | ৫২জন দেখেছেন
Image

নিজস্ব প্রতিবেদক ,কু‌মিল্লা 

কুমিল্লায় জেলা পু‌লি‌শের তা‌লিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী বোমা হা‌সিব‌কে আগ্নেয়াস্ত্রসহ গ্রেপ্তার ক‌রেছে পু‌লিশ। বৃহস্পতিবার (১২ মে) রাত পৌন ৩টায় কু‌মিল্লা সদ‌রের চাঁনপুর স্টিল ব্রিজের দক্ষিণ পাশ থেকে পু‌লি‌শের হা‌তে হ্রেপ্তার হন বোমা হা‌সিব‌। এসময় হা‌সি‌বের কাছ থেকে একটি পাইপগান উদ্ধার ক‌রে পু‌লিশ।

কুমিল্লার কোতোয়ালি মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) কমল কৃষ্ণ ধর জানান, সে এলাকায় বোমা হাসিব নামেই পরিচিত। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র, বিষ্ফোরক ও হত্যাসহ ৬টি মামলা রয়েছে। আসন্ন কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নিবার্চনে সহিংসতা সৃষ্টির জন্যই সে এই অস্র এনেছে।


আরও খবর



কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচন

এক মাস আগেই নামছে বিজিবি

প্রকাশিত:বুধবার ১১ মে ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ১৫ মে ২০২২ | ৪১জন দেখেছেন
Image

কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি : আগামী ১৫ জুনে হতে যাওয়া কুমিল্লা সিটি করপোরেশন (কুসিক) নির্বাচন শান্তিপূর্ণ করতে কঠোর অবস্থানে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ লক্ষ্যে এক মাস আগে থেকেই মাঠে নামানো হচ্ছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশকে (বিজিবি)। এছাড়া আগামীকাল থেকে নির্বাচনী এলাকায় থাকছেন তিনজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। প্রয়োজনে এই সংখ্যা আরও বাড়ানো হতে পারে।

গতকাল মঙ্গলবার এ সিটি নিয়ে কমিশন সভা করে এ সিদ্ধান্ত নেন। পরে নির্বাচন কমিশনের যুগ্ম সচিব এস এম আসাদুজ্জামান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

এস এম আসাদুজ্জামান বলেন, কুমিল্লা সিটি নির্বাচন উপলক্ষে নির্বাচনী এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি ১৫ মে থেকে এক প্লাটুন বিজিবি মোতায়েন করা হচ্ছে। এছাড়া বৃহস্পতিবার থেকে তিনজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোতায়েন করা হবে।

ইসির যুগ্ম সচিব বলেন, কুমিল্লা সিটি নির্বাচনী এলাকার শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা ও সব ধরনের শোডাউন বন্ধ করার জন্য স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ইসির নির্দেশনা অনুযায়ী এরই মধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গত ৯ মে থেকে ২০৯টি মোটরসাইকেল আটকপূর্বক মামলা করেও ৫ লাখ ৭৬ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে।

এর আগে ২৫ এপ্রিল কুমিল্লা সিটি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন। ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, কুমিল্লা সিটি নির্বাচনে মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ তারিখ ১৭ মে, বাছাই ১৯ মে, মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিন ২৬ মে, প্রতীক বরাদ্দ ২৭ মে এবং ভোটগ্রহণ হবে ১৫ জুন।

উল্লেখ্য, দুটি পৌরসভাকে একীভূত করে ২০১১ সালে কুমিল্লা সিটি করপোরেশন গঠন করা হয়। ওই বছরই প্রথম নির্বাচন হয়। এরপর ২০১৭ সালে পাশের বেশ কয়েকটি ইউপিকে অন্তর্ভুক্ত করে আয়তন বাড়ানো হয়। বর্তমানে এই সিটিতে ২৭টি সাধারণ ওয়ার্ড রয়েছে। সিটি করপোরেশন গঠনের পর থেকে মেয়র পদে রয়েছেন মনিরুল হক সাক্কু। গত নির্বাচনে এই সিটিতে ১০৩টি কেন্দ্রে ছিল আর ভোটার ছিল ২ লাখ ৭ হাজার ৫৬৬ জন।


আরও খবর



বাঁধ নির্মাণে অনিয়মের তদন্ত প্রতিবেদন জমা চলতি সপ্তাহে

হাওরের টাকা কার পকেটে ?

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১৯ এপ্রিল ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ১৫ মে ২০২২ | ৯৭জন দেখেছেন
Image

হাওরের বাঁধ নির্মাণ, সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণে শত শত কোটি টাকা ব্যয় করেও বাঁধ উজানের পানি আটকে রাখতে পারেনি। ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে ব্যাপক দুর্নীতি হওয়ায় পানির নিচে চলে গেছে হাওরের হাজারো কৃষকের স্বপ্ন।

অভিযোগ বাঁধ নির্মাণের নামে কোটি কোটি টাকা প্রশাসনের উচ্চ পর্যায়ের আমলা থেকে শুরু করে উপজেলা পর্যায়ের কর্মকর্তা, এমপি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, পানি উন্নয়নের ঠিকাদারেরা সিন্ডিকেট করে ভাগ-বাটোয়ারা করে নিয়েছেন। এ নিয়ে গঠিত এক তদন্তে এ চিত্র উঠে এসেছে। অথচ এখন ওই সরকারি কর্মকর্তা, এমপি এবং জনপ্রতিনিধিরাই হাওরে বাঁধ নির্মাণে দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার বক্তব্য দিচ্ছেন। দুর্নীতিবাজদের মুখোশ খুলে দেয়ার দাবিতে মিডিয়ায় কথা বলছেন। জানা গেছে হওরে বাঁধ নির্মাণে ব্যাপক অনিয়মের চিত্র পেয়েছে এ সংক্রান্ত তদন্ত কমিটি। তদন্ত প্রতিবেদন চলতি সপ্তাহে মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়া হবে।

সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, কিশোরগঞ্জের লাখো কৃষকের স্বপ্ন পানিতে ভেসে গেছে। গত ১৫ দিন ধরে হাওরের ফসল রক্ষায় পানি ঠেকানোর চেষ্টা করেছে প্রশাসন, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা, পিআইসি ও হাওরপাড়ের কৃষকরা। কিন্তু বাঁধের শেষ রক্ষা হয়নি। হাওর অঞ্চলের ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ এখন লাভজনক ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা এবং স্থানীয় রাজনৈতিক-অরাজনৈতিক প্রভাবশালীরা মিলে হাওরে বাঁধ সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন।

আবার মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা পর্যন্ত এ টাকার ভাগ পাচ্ছেন। এ কারণে কাজে দুর্নীতি, অনিয়ম হচ্ছে। বাঁধের সংস্কারের নামে কোটি কোটি টাকার অপচয় ও লুটপাট হচ্ছে। এতে কপাল পুড়ছে কৃষকের। হাওরে ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম ও দুর্নীতির তদন্তে পানি মন্ত্রণায়ের গঠিত কমিটি এক সপ্তাহ থেকে মাঠে কাজ করলেও সে প্রতিবেদন এখনো জমা হয়নি। চলতি সপ্তাহে তদন্ত প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

গতকাল মন্ত্রিসভা বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের সব হাওরসহ নিচু অঞ্চলসমূহে সাধারণ সড়কের পরিবর্তে উড়াল সড়ক নির্মাণের নির্দেশ দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম এ তথ্য জানান। প্রধানমন্ত্রীর বরাদ দিয়ে তিনি জানান, হাওর পরিস্থিতি নিয়ে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী, মৎস্যমন্ত্রী, কৃষিমন্ত্রী এবং পরিকল্পনামন্ত্রী কথা বলেছেন। অতঃপর সুস্পষ্ট নির্দেশনা (ক্লিয়ার ইন্সট্রাকশন) দিয়ে দেয়া হয়েছে যে, হাওর এলাকায় কোনো রকমের সাধারণ রাস্তাঘাট এখন থেকে আর করা যাবে না। এখন থেকে হাওরে কোনো সড়ক হলে সেটি এলিভেটেড (উড়াল) হতে হবে।

গত রোববার সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার বর্ধিত গুরমার হাওরের ২৭ নম্বর ফসলরক্ষা বাঁধ ভেঙে প্রায় দুই হাজার হেক্টর জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। তাহিরপুরের টাঙ্গুয়ার হাওর সংলগ্ন কান্দা উপচে পানি হাওরে প্রবেশ করেছে। হাওরের একটি বাঁধ ভেঙে তলিয়ে যায় ছোট-বড় কয়েকটি হাওরের পাকা ও আধা পাকা ধান। এ ছাড়া হুমকির মুখে রয়েছে আরো কয়েকটি হাওরের বাঁধ।
জানা গেছে, সুনামগঞ্জের ১২ উপজেলায় ৪২টি হাওরে এবার দুই লাখ ২২ হাজার ৮০৫ হেক্টর জমি চাষাবাদ হয়েছে। এসব জমির ফসলরক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ড ১২১ কোটি টাকা ব্যয়ে ৫৩৫ কিলোমিটার বাঁধ নির্মাণ ও মেরামত করেছে। নিয়ম অনুযায়ী ২৮ ফেব্রুয়ারি বাঁধ নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও ১০ দিন সময় বৃদ্ধি করেও কাজ শেষ হয়নি। কৃষকদের অভিযোগ, বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম-দুর্নীতি হয়েছে। গত ২ এপ্রিল সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের টাঙ্গুয়ার হাওরের নজরখালী বাঁধটি প্রথম ভেঙে যায়।

এরপর ধর্মপাশার চন্দ্রসোনার তাল, দিরাইয়ের চাপতির হাওরসহ জেলার ছয়টি উপজেলার অন্তত ১৫টি হাওরের ৭ হাজার হেক্টর জমির ধান তলিয়ে গেছে। যদিও প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের দাবি তলিয়ে যাওয়া জমির পরিমাণ ৫ হাজার হেক্টর। টাঙ্গুয়ার হাওরের নজরখালী বাঁধ ভাঙার পর পাশের গুরমার হাওরের বাঁধ ঠেকাতে দিনরাত কাজ করেছেন সবাই। কৃষক, প্রশাসনের কর্মকর্তা, পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা ও পিআইসির লোকজন দিন-রাত বাঁধে কাটিয়েছেন। পানি ঠেকাতে যুদ্ধ করেছেন হাওরের একমাত্র বোরো ফসলরক্ষায়। কিন্তু গত কয়েক দিনের ভারি বর্ষণ ও সঙ্গে উজান থেকে নেমে আসা ঢলের পানির চাপে রোববার সকাল থেকে তাহিরপুরের টাঙ্গুয়ার হাওর সংলগ্ন কান্দা উপচে পানি হাওরে প্রবেশ করে।

গলগলিয়া হাওরের কৃষক শফিক নুর বলেন, গলগলিয়া একটি ছোট হাওর, এখানে প্রায় ৫০-৬০টি কৃষক পরিবার জমি চাষাবাদ করেছিলেন। কিন্তু গুরমার হাওরের একটি ফসল রক্ষা বাঁধ ভেঙে আমাদের সর্বনাশ হয়ে গেছে।
দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য শিমুল আহমেদ বলেন, পাটলাই নদীতে অস্বাভাবিকভাবে পানি বৃদ্ধির ফলে রোববার বিকেলে হঠাৎ গুরমার হাওরের বাঁধ ভেঙে যায়। এতে আট-দশটি গ্রামের কৃষকের শতশত বিঘা জমির ধান পানিতে ডুবে যায়।

তাহিরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হাসান উদ দৌলা বলেন, দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের গুরমার হাওরের বর্ধিতাংশ উপ-প্রকল্প ২৭ নম্বর বাঁধটি ভেঙে যাওয়ায় গলগলিয়া ও পানার হাওরের প্রায় ৩০৯ বিঘা জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। ইতোমধ্যে কৃষকরা কিছু ধান কেটে ফেলেছেন। হাওরের পাকা ধান কেটে ফেলায় ক্ষতির পরিমাণ কম হয়েছে। দুটি হাওরেই ধান কাটা মাড়াইয়ের কাজ শুরু হয়েছিল।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তাহিরপুর উপজেলার উপসহকারী প্রকৌশলী মো. আসাদুজ্জামান সেলিম ইনকিলাবকে বলেন, গুরমার হাওরের ২৭ নম্বর বাঁধটি কেন ভেঙে গেছে এবং প্রকল্পের কাজে কোনো অনিয়ম হয়েছে কি না, তা আমরা খোঁজ নিয়ে দেখছি। তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রায়হান কবির ইনকিলাবকে বলেন, আমরা সর্বশক্তি প্রয়োগ করে ঝড়-বৃষ্টি উপক্ষো করে দিন-রাত বাঁধ রক্ষায় কাজ করেছি। কিন্তু বর্ধিত গুরমার হাওরের পানি উন্নয়ন বোর্ডের ২৭ নম্বর প্রকল্পের বাঁধটি হঠাৎ করে ভেঙে গেছে।

গুরমার হাওরের বোরো ফসলের বাঁধ রক্ষায় কাজ করেছেন সুনামগঞ্জ জেলা স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক মো. জাকির হোসেন। তিনি বলেন, আমরা গত দুই সপ্তাহ ধরে সবাই মিলে অনেক চেষ্টা করেছি। কিন্তু হটাৎ করে পানির চাপে গুরমার হাওরের বাঁধের এই অংশ ভেঙে গেছে।

সুনামগঞ্জে এবার হাওরের ফসল রক্ষায় ৭২৭টি প্রকল্পে ১২২ কোটি টাকার বাঁধের কাজ হয়েছে। তবে এবারও কাজ সময়মতো শেষ হয়নি। প্রতিটি কাজে স্থানীয় এমপি তার পছন্দের লোকজন দিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) গঠন করেছে। ইতোমধ্যে সরকারে বড় বড় মন্ত্রী হাওর এলাকা পরিদর্শন করেছেন। হাওরে বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম হয়েছে সে বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীকে অবগত করবেন জানিয়েছেন। কৃষিমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক গত শনিবার পরিদর্শন করেছেন এর আগে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম পরির্দশন করেছেন। তার সামনে এলাকাবাসী দুর্নীতি চিত্র তুলে ধরেছেন। তিনি ব্যবস্থা নিবেন জানিয়েছেন হাওর এলাকার কৃষকদের।

এদিকে স্থানীয় এমপি ও উপজেলার ইউনিয়ন চেয়াম্যান এবং রাজনৈতিক প্রভাবশালীরা মিলে হাওরে বাঁধ নির্মাণ কাজে জড়িত রয়েছে বলে জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তদন্ত কমিটির এক সদস্য। তিনি বলেন, বাঁধ নির্মাণে পিআইসি পদ্ধতি রাখতে হবে। তবে অনিয়ম ও দুর্নীতিমুক্ত করতে পিআইসির সংস্কার দরকার। কাজে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত রাখতে হবে। যারা বাঁধের অনিয়মের সঙ্গে যুক্ত, তদন্ত করে তাঁদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। সরকারের কিছু দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা ও দলের নেতারা সিন্ডিকেটের কারণে সময়মতো বাঁধ নির্মাণ না হওয়ায় হাওরের কৃষকদের ধান খেয়েছে উজানের ভারত থেকে নেমে আসা পানি। ভুক্তভোগী এবং স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, হাওরের মানুষের এই চরম পরিণতির জন্য দায়ী তারাই। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, সাধারণ মানুষ এমনকি এমপিও এমন অভিযোগ করেছেন। স্থানীয়রা বলছেন, হাওর রক্ষা বাঁধের টাকা খেয়েছেন সুনামগঞ্জ-১ আসনের এমপি ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন এবং কিছু পাতি নেতা।

তবে এসব দুর্নীতি আর লুটপাটকারীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন সুনামগঞ্জ-১ আসনের এমপি ইঞ্জিনিয়ার মোয়াজ্জেম হোসেন রতন। তিনি বলেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড ও প্রভাবশালী ঠিকাদারেরা, কিছু উপজেলার চেয়ারম্যান, কিছু ইউপি চেয়ারম্যানসহ একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট বাঁধ নির্মাণ ও মেরামতে টাকা লুটে খেয়েছে।
পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক সৈয়দা সালমা জাফরীন ফোনে ইনকিলাবকে বলেন, হাওরের বাঁধ নির্মাণে অনিয়ম ও দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত যারা, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। হাওরে ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন বাঁধ আমরা পরিদর্শন করেছি। যত দ্রুত সম্ভব তদন্ত প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে জমা দেব।
এ বিষয়ে পানি সম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম ইনকিলাবকে বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পরই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। হাওরের বাঁধ রক্ষায় স্থায়ী সমাধানের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে।

সূত্র জানায়, হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ এখন লাভজনক ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। কৃষকদের স্বার্থে বাঁধ রক্ষায় সরকার প্রতিবছর কোটি কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়, কিন্তু যারা কাজ বাস্তবায়নের সঙ্গে যুক্ত, তারা কৃষকের নয়, নিজেদের স্বার্থ বড় করে দেখেন। পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা, স্থানীয় রাজনৈতিক-অরাজনৈতিক প্রভাবশালীর মিলে হাওরে বাঁধ সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন। বাঁধের সংস্কারের নামে টাকার অপচয় ও লুটপাট করে নেন।

হাওর অ্যাডভোকেসি প্ল্যাটফর্ম (হ্যাপ) নামের একটি সংগঠন এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ তুলে ধরে। সংগঠনটির প্রতিনিধিরা দুদিন জেলার ক্ষতিগ্রস্ত বিভিন্ন হাওর ও বাঁধ ঘুরে সুনামগঞ্জ পৌর শহরের শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পাবলিক লাইব্রেরিতে এই সংবাদ সম্মেলন করেন। এতে মূল বক্তব্য তুলে ধরেন সংগঠনের যুগ্ম আহ্বায়ক শরিফুজ্জামান। হাওরের নানা সঙ্কট নিয়ে কথা বলেন সুনামগঞ্জে হাওরের কৃষি ও কৃষক রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সদস্যসচিব অধ্যাপক চিত্তরঞ্জন তালুকদার, হ্যাপের সদস্য ইয়াহিয়া সাজ্জাদ, সুনামগঞ্জ হাওর বাঁচাও আন্দোলনের নেতা নির্মল ভট্টাচার্য। দুদিন সুনামগঞ্জ জেলার তিনটি উপজেলার পাঁচটি হাওর ঘুরে দেখেন সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, একসময় হাওরে ঠিকাদারদের মাধ্যমে ফসল রক্ষা বাঁধের কাজ হতো। কিন্তু ২০১৭ যে ফসলডুবির পর ঠিকাদারি প্রথা বাদ দিয়ে স্থানীয় কৃষক ও সুবিধাভোগীদের নিয়ে গঠিত প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির (পিআইসি) মাধ্যমে কাজ হচ্ছে। এই কমিটিতে নামে-বেনামে স্থানীয় রাজনৈতিক, অরাজনৈতিক প্রভাবশালীরা ঢুকে পড়েন। তারা পিআইসি নিজেদের কবজায় নিয়ে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করছেন। সরকারি টাকা লুটপাট হচ্ছে। এতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যোগসাজশ আছে। এ কারণেই বাঁধের কাজ হয় দায়সারাভাবে, সময়মতো কাজ শুরু ও শেষ করা যায় না। এবারও দেখা গেছে, বাঁধ নির্মাণ যেমন যথাযথভাবে হয়নি, তেমনি রক্ষণাবেক্ষণ ও তদারকির দায়িত্বটিও ঠিকমতো হয়নি। এখন পাহাড়ি ঢল আসায় দৌড়ঝাঁপ শুরু হয়েছে। এক পক্ষ আরেক পক্ষকে দোষারোপ করছে।


আরও খবর



সড়কের গর্তে উল্টে গেল বাস, আহত ১৫

প্রকাশিত:শুক্রবার ২২ এপ্রিল 20২২ | হালনাগাদ:সোমবার ১৬ মে ২০২২ | ৬০জন দেখেছেন
Image

ঢাকার ধামরাইয়ে একটি যাত্রীবাহী বাস উল্টে অন্তত ১৫ জন যাত্রী আহত হয়েছেন। তাদের উদ্ধার করে স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

শুক্রবার (২২ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের ধামরাইয়ের জয়পুরা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

প্রাথমিকভাবে আহত ব্যক্তিদের নাম-পরিচয় পাওয়া যায়নি। তবে তাদের বেশির ভাগই বাসের যাত্রী বলে জানা গেছে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ধামরাই ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা মোহাম্মদ সোহেল রানা।

ফায়ার সার্ভিস জানায়, সকালে হানিফ পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাস মানিকগঞ্জের দিকে যাচ্ছিল। বাসটি ধামরাইয়ের জয়পুরা এলাকায় পৌঁছালে নির্মাণাধীন সড়কের একটি ছোট গর্তে পড়লে নিয়ন্ত্রণ হরিয়ে আইল্যান্ডের সঙ্গে ধাক্কা খায়। পরে ঢাকাগামী একটি প্রাইভেট কারকে ধাক্কা দিয়ে বাসটি উল্টে যায়।

এ সময় প্রাইভেট কারটি দুমড়ে-মুচড়ে গেলে চালকসহ বাসের প্রায় ১৫ জন যাত্রী আহত হয়। বাসটি সড়কের মাঝে উল্টে গেলে যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে। তখন যানজটের সৃষ্টি হয়।

এ ঘটনায় ধামরাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হোসাইন মোহাম্মদ হাই জকি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সওজের কর্মকর্তাদের খবর আসার জন্য খবর দেন।

তিনি বলেন, দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে এসেছি। সওজের কর্মকর্তাদের খবর দেওয়া হয়েছে। বিস্তারিত পরে জানানো হবে।

ধামরাই ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তা মোহাম্মদ সোহেল রানা বলেন, বাসটি সড়ক থেকে অপসারণ করা হচ্ছে। প্রধান লেন দিয়ে কিছুক্ষণের মধ্যেই যান চলাচল স্বাভাবিক হবে।

তবে সাভার হাইওয়ে থানার পরিদর্শক আতিকুর রহমান বলেন, এ ঘটনায় নিহতের ঘটনা ঘটেনি। তবে আহত হয়েছেন ৩ জন। তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।


আরও খবর