Logo
শিরোনাম
বেঞ্চ ভাড়া ৪০, ফটোগ্রাফারদের দৌরত্বে অতিষ্ট পর্যকটরা

কুয়াকাটা সৈকতে হয়রানি

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ০২ জুন 2০২2 | হালনাগাদ:বুধবার ১০ আগস্ট ২০২২ |
Image

 পটুয়াখালী জেলা প্রতিনিধি:

প্রিয়জনদের নিয়ে পটুয়াখালীর কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে আনন্দে ভ্রমনে আসেন পর্যটকরা। কিন্তু সৈকতে নামার পর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে পর্যটকরা অনেকটা বিমোহিত হলেও ফটোগ্রাফারদের দৌরত্বে অতিষ্ঠ হয়ে পরেন আগতরা। এছাড়া সৈকতে পাতা বেঞ্চেও ভাড়া রাখা হয় দ্বিগুন। 

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিনিয়ন সকাল থেকে কুয়াকাটা চৌরাস্তায় একদল ফটোগ্রাফার, ট্যুরিষ্ট পুলিশ বক্সের সামনে একদল ফটোগ্রাফার এবং সৈকতের বেশ কয়েকটি পয়েন্টে বেশ কয়েকটি ফটোগ্রাফার দল দাড়ানো থাকে। একজন পর্যটক কুয়াকাটা চৌরাস্তায় নামার সঙ্গে সঙ্গে তাকে চার পাশ দিয়ে ঘিরে ফেলেন ফটোগ্রাফারররা। সেখানে তারা ছবি তুলবেনা বলে পর্যটকরা চলে আসলে দ্বিতীয় দফায় ট্যুরিষ্ট পুলিশ বক্সের সামনে ফের তাদের ধরা হয়। তৃতীয় দফায় সৈকতে গোসলে নামার সঙ্গে সঙ্গে ৩/৪ জন ফটোগ্রাফার পর্যটকের পিছনে পিছনে ছুটে চলেন। এতে অনেকটা বিরক্ত হয়ে পরেন পর্যটকরা। এছাড়া সৈকতে পাতা বেঞ্চে বসলেই ঘন্টা প্রতি দিতে হয় দ্বিগুন ভাড়া ৪০ টাকা। প্রশাসনের সঠিক তদারকি না থাকায় এ কান্ড ঘটছে বলে দাবি পর্যটন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের। সৈকতে বেঞ্চ ব্যবসায়ী এবং ফটোগ্রাফারদের নিয়ন্ত্রনের আনার দাবি পর্যটকদের।

ঢাকার মিরপুর থেকে কুয়াকাটা সৈকতে ঘুরতে আসা পর্যটক ইশরাফ জাহান লিমা বলেন, তিন দফায় আমাদের ছবি তোলার জন্য টোগ্রাফাররা ধরেছেন। এতে অনকেটা বিরক্ত হয়ে হোটেলে ফিরে এসেছি। আজ আর সমুদ্রে নামিনি। কামরাঙ্গির চর থেকে আসা পর্যটক রাহেলা-মিজান দম্পত্তি জানান, ফটোগ্রাফরদের কর্মকান্ড অনেকটা হেনস্তা করার মতো। আর বেঞ্চ ভাড়া আমাদের কাছ থেকে রাখা হয়েছে ঘন্টায় ৪০ টাকা, এটা দ্বিগুন রাখা হয়েছে। অন্যান্য পর্যটন কেন্দ্রে এরকমের নেই। 

কুয়াকাটা ফটোগ্রাফার মালিক সমিতির সভাপতি আলআমিন জানান, আমাদের ২ শত সদস্য রয়েছে। নিয়ম হচ্ছে চৌরাস্তায় নয়, সৈকতের আশে পাসে ফটোগ্রাফাররা দাড়িয়ে থাকবেন,পর্যটকরা পছন্দমতো ফটোগ্রাফারদের নিয়ে ছবি তুলবেন। এর বাইরে কেউ পর্যটকদের বিরক্ত করলে তার বিরুদ্ধে সাংগাঠনিক ব্যবস্থা গ্রহন করা হইবে।

সৈকতের বেঞ্চ ব্যবসায়ী আব্বাস কাজী জানান, ৪০ টাকা করেই ঘন্টা ভাড়া দেই। এই ভাড়া কে ঠিক করে দিয়েছে সেটা জানতে চাইলে তিনি এর সঠিক উত্তর দিতে পাারেননি।

কুয়াকাটা ট্যুরিষ্ট পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার আবদুল খালেক জানান, ফটোগ্রাফারদের জন্য বেশকিছু নিয়ম করে দেয়া হয়েছে, এর বাইরে ফটোগ্রাফররা কিছু করলে বা পর্যটকদের কাছ থেকে কোন অভাযোগ পেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। আর অন্যান্য পর্যটন কেন্দ্রে যে হারে বেঞ্চ ভাড়া দেয় এখানেও সে হারে বেঞ্চ ভাড়া ঠিক করে দেয়া হবে।


আরও খবর

নতুন রূপে সেজেছে সাগরকন্যা

মঙ্গলবার ০২ আগস্ট 2০২2




সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপ শিরোপা কার ?

প্রকাশিত:শুক্রবার ০৫ আগস্ট ২০২২ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ০৯ আগস্ট ২০২২ |
Image

ইয়াশফি রহমান :  টুর্নামেন্ট শুরুর আগেই কোচ-ফুটবলারদের কণ্ঠে ছিল অভিন্ন সুর, আমরা ফাইনালে খেলব এবং চ্যাম্পিয়ন হব।’ সেই দুই লক্ষ্যের প্রথমটি পূরণ হয়েছে। এবার বাকি দ্বিতীয়টি পূরণ হওয়া। আর এই লক্ষ্য পূরণের দিন আজ। আজ লক্ষ্য পূরণের স্থান ভারতের ভুবনেশ্বরের কলিঙ্গ স্টেডিয়াম। বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় অনুষ্ঠিত হবে ম্যাচটি। আর লক্ষ্য পূরণের মঞ্চ সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপ। এতক্ষণে নিশ্চয়ই আন্দাজ করতে পারছেন এই লক্ষ্য পূরণ করতে চায় যারা, তার হচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয় অনূর্ধ্ব-২০ ফুটবল দল।

আগের তিন আসরের শেষ দুটিতেও ফাইনাল খেলেছিল লাল-সবুজ বাহিনী। কিন্তু কোনোবারই শিরোপা জেতার উল্লাসে করতে পারেনি। বরং ২০১৭ এবং ২০১৯ সালের ফাইনালে যথাক্রমে নেপাল ও ভারতের কাছে হেরে রানার্সআপ হয়েই সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছিল যুবাদের। এ নিয়ে টানা তৃতীয়বারের মতো ফাইনালে উঠেছে বাংলাদেশ।

তবে আগের দুবারের মতো ব্যর্থতার সাগরে নিমজ্জিত হতে নয় বরং চ্যাম্পিয়ন হওয়ার চিত্তসুখ পেতে মরিয়া বেঙ্গল টাইগার্সরা। এজন্য সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে তারা। কিন্তু বাংলাদেশ দলের জন্য দুঃসংবাদ হলো শেষ লীগ-ম্যাচে নেপালের বিরুদ্ধে খেলতে গিয়ে লালকার্ড পেয়েছেন তাদের খেলোয়াড় শহীদুল ইসলাম। ফলে ফাইনালে তার সার্ভিস পাবে না দল।

তাছাড়া ফাইনালে বাংলাদেশ দলের জন্য আরেকটি সমস্যা হতে পারে দলের গোলরক্ষক মো. আসিফের ‘পজিশন সেন্স’ সমস্যা। টুর্নামেন্টে যে ৩টি গোল তিনি হজম করেছেন, প্রতিটি গোলের দায় তারই। কেননা প্রতিটি গোলের সময়ই তার পজিশন সেন্স ঠিক ছিল না। এখন ফাইনালেও যদি এমনটা অব্যাহত থাকে তাহলে দলের জন্য নিশ্চয়ই তা উদ্বেগের বিষয়!

বাংলাদেশ দলের কোচ পল স্মলি বলেন, ‘ফাইনালে উঠতে পারাটা আমাদের জন্য অনেক আবেগের। আমরা কোচিং স্টাফ সবাই ভীষণ খুশি। নেপাল অনেক কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে আমাদের সঙ্গে। লীগের শেষ ম্যাচটা খেলে ছেলেরা অনেক ক্লান্ত। তাদের বিশ্রাম দরকার। ফাইনালের আগে তারা দুই দিন বিশ্রাম পাচ্ছে, যা যথেষ্ট। আসরে আমরা ধাপে ধাপে এগিয়েছি।

এখন মনোযোগ দিচ্ছি ভারতের সঙ্গে ফাইনাল ম্যাচটি নিয়ে। লীগ পর্বে তাদের সঙ্গে কেমন খেলেছি বা তাদের কত গোলে হারিয়েছি, সেগুলো এখন একেবারেই অর্থহীন। ভারতের সঙ্গে ফাইনাল ম্যাচটা এখন সম্পূর্ণ নতুন এক লড়াই। দেখা যাক কি হয়। কোনো সন্দেহ নেই, ভারত অনেক শক্তিশালী দল। তবে আমরা তাদের মোকাবিলা করতে প্রস্তুত।


আরও খবর

এশিয়া কাপের দল ঘোষণা ভারতের

মঙ্গলবার ০৯ আগস্ট ২০২২




নতুন রূপে সেজেছে সাগরকন্যা

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ০২ আগস্ট 2০২2 | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ০৯ আগস্ট ২০২২ |
Image

মইনুল ইসলাম মিতুল :  পর্যটনের অপার সম্ভাবনা সত্বেও যোগাযোগ অবকাঠামোর অভাবে পিছিয়ে ছিল । কিন্তু পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর এই ‘সাগরকন্যা’ সেজেছে নতুন রূপে। বেড়েছে পর্যটকও। তবে অপরিকল্পিত ব্যবস্থাপনায় পর্যাটকদের ভোগান্তি রয়ে গেছে।

পদ্মা সেতু চালুর পর কুয়াকাটার প্রতি পর্যটকদের কাছে আগ্রহ বেড়েছে জানিয়ে রুম্মান ইমতিয়াজ বলেন, এবার চট্টগাম, মানিকগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, গাজীপুর, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইল, জামালপুর থেকেও পর্যটকর আসছেন। তার যুক্তির বাস্তবতাও পাওয়া গেল। নেত্রকোনা থেকে যাওয়া পর্যটক সোহেল, নাদিম, বিনয় ও বিপ্লব বলেন, ১১ ঘণ্টায় আমরা নেত্রকোনা থেকে এখানে এসেছি। নাদিয়া জানালেন, প্রাইভেটকারে ১০ ঘণ্টার কম সময়ে তারা পরিবারের সদস্যদের নিয়ে এখানে পৌঁছান।

কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোতালেব শরীফ বলেন, কুয়াকাটায় অ্যাসোসিয়েশনভুক্ত হোটেল-মোটেল আছে ৭৪টি। এর বাইরে আছে ৫৬টি হোটেল-মোটেল। প্রথম শ্রেণির হোটেল রয়েছে ১৫টি। এসব হোটেল-মোটেলে সর্বোচ্চ ১৫ হাজারের মতো পর্যটক রাত যাপন করতে পারেন।

মোতালেব শরীফ আরো বলেন, আগে শুধু শীতকালে কুয়াকাটায় বেশি পর্যটক বেড়াতে আসতেন, এখন পদ্মা সেতু চালু হওয়ায় সারা বছরই কুয়াকাটায় পর্যটকেরা আসতে পারবেন। সেভাবেই আমরা সবকিছু ঢেলে সাজাচ্ছি।

এদিকে কুয়াকাটাসহ আশপাশের এলাকা ঘুরে বেড়ানোর জন্য ৩০০-৩৫০ ভাড়ায় চালিত মোটরসাইকেল রয়েছে। এসব মোটরসাইকেলচালক সমিতির সভাপতি আব্বাস কাজী। তিনি বলেন, পর্যটক বেড়ে যাওয়ায় একেকজন মোটরসাইকেলচালক এখন দিনে ১ হাজার ২০০ থেকে দেড় হাজার টাকা পর্যন্ত আয় করছেন। তাতে হিসাব করলে দেখা যায়, ৩৫০ মোটরসাইকেল থেকে দিনে গড়ে ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা আয় হচ্ছে।

কুয়াকাটা পর্যটন পুলিশের পরিদর্শক হাসনাইন পারভেজ বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তায় পর্যটন পুলিশের বেশ কয়েকটি দল এ কাজ করছে। সৈকতে যাতে কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে, সে জন্যও তৎপর রয়েছে পর্যটন পুলিশ।

সৈকতের পাশেই দেড় শতাধিক একর জমিতে অবস্থিত নারিকেল বাগান যা ‘নারিকেল কুঞ্জ’ নামেই পরিচিত। ১৯৬০ সালে ১৬৭ একর খাস জমি লীজ নিয়ে জনাব ফয়েজ মিয়া ‘ফার্মস এন্ড ফার্মস’ নামে এ বাগান করেন। সৈকতের পূর্ব দিকে রয়েছে মনোরম ঝাউ বাগান। ১৯৯৭/৯৮ অর্থ বছরে বন বিভাগ ১৫ হেক্টর জমিতে সি বিচ সংলগ্ন ঝাউ বাগান গড়ে তোলে। এর পরেই রয়েছে আর এক বিশাল বনাঞ্চল চরগঙ্গামতি। বনের মধ্যে রয়েছে ছৈলা, কেওড়া ও কড়াই বাগান ও একটি নয়নাভিরাম লেক। কুয়াকাটা সমূদ্র সৈকত থেকে ৫ কিলোমিটার পশ্চিমে লেম্বুর চরে বন বিভাগের একটি বাগান আছে। বনে রয়েছে কড়াই, গেওয়া, ছৈলা ও কেওড়া গাছ। বেড়াতে আসা পর্যটকরা এখানে যায়। আন্ধারমানিক নদীর মোহনার পূর্ব দিকে লেম্বুর চর আর পশ্চিম দিকে রয়েছে ফাতরার চরের বিশাল বনাঞ্চল।

ভৌগোলিক ভাবে বরগুনা জেলায় বাগানটির অবস্থান থাকলেও কুয়াকাটায় আগত পর্যটকরা বিনোদনের জন্য সেখানে ট্রলার যোগে যাতায়াত করেন। কুয়াকাটা সৈকতের ৭ কিলোমিটার পশ্চিমে রয়েছে শুটকি পল্লী। সেখানে পর্যটকরা তাজা মাছ কেটে শুটকিজাত করার দৃশ্য দেখতে ভিড় জমান। সরকারিভাবে গঙ্গামতিতে ইকোপার্ক ও বিমানবন্দর করার পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। এ ছাড়াও কুয়াকাটা উন্নয়নের জন্য মাস্টার প্লানের কাজ চলমান।

পর্যটকরা জানিয়েছেন, ভোরে ঢাকা থেকে যাত্রা করে দুপুরের আগেই কুয়াকাটা পৌঁছে দিনভর ঘোরাঘুরি শেষে বিকেলে সূর্যোদয় দেখে রাতে আবার ঢাকায় ফিরতে পেরেছেন তারা। এক সময় ঢাকা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত ১২ থেকে ১৪টি ফেরি সার্ভিস ছিল। সে কারণে কুয়াকাটায় পৌছাতে ২৪ থেকে ২৪ ঘণ্টা সময় লাগতো। সর্বশেষ ভোগান্তি ছিল মাওয়া-জাজিরা পয়েন্টের ফেরি। পদ্মা সেতু নির্মিত হওয়ায় মাত্র ৫ ঘণ্টায় কুয়াকাটা পৌছতে পেরে আনন্দিত পর্যটকরা।

পদ্মা সেতুর সুফলে এবার চট্টগ্রাম, জামালপুর, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, গাজীপুর, মুন্সীগঞ্জ, মানিকগঞ্জ সহ বিভিন্ন জেলার পর্যটকরা আসছেন সাগরকন্যা কুয়াকাটার সৌন্দর্য উপভোগ করতে। ১৩টি দর্শনীয় স্পট দেখতে হাজার হাজার দর্শনার্থীদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। সমুদ্রে ঢেউয়ের তালে তালে দাবড়িয়ে বেড়াচ্ছে তরুণ তরুণীসহ নানান পেশার মানুষ। সমুদ্রে গোসল, ফুটবল খেলাসহ নানা আনন্দ উল্লাসে মেতে আছে পর্যটকরা।

একাধিক পর্যটকরা জানান, আগে কেবল মাত্র ভোগান্তির জন্যই সাগরকন্যায় আসার আনন্দ ধুলোয় মিশে যেতো। সূর্যোদয় কিংবা সূর্যাস্ত কোনোটাই দেখা সম্ভব হতো না। পরিবার-পরিজন নিয়ে কুয়াকাটায় বেড়াতে আসা একাধিক ব্যক্তি জানান, এবার ছুটির মধ্যেই পরিবার নিয়ে সাগরকন্যার সৌন্দর্য উপভোগ করতে পেরেছেন। ঈদ উল আযহার দিন বিকেল থেকেই কুয়াকাটার একাধিক পর্যটন স্পট পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে। দীর্ঘ ১৮ কিলোমিটারের সমুদ্র সৈকতে রাখাইনদের ইতিহাস-ঐতিহ্যের সঙ্গে সম্পৃক্ত বিভিন্ন প্রাগৈতিহাসিক স্থাপনা নিদর্শন দেখতে গভীর রাত পর্যন্ত ভিড় পরিলক্ষিত হচ্ছে। পর্যটকদের চাপে এবার শতভাগ হোটেল-মোটেল বুকিং হয়ে যাওয়ায় অনেকেই ৪/৫ কিলোমিটার দূরবর্তী হোটেলে কক্ষ ভাড়া নিচ্ছেন।

বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) আবু তাহের মুহাম্মদ জাবের প্রতিদিনের সংবাদকে বলেন, আমরা সারা দেশে ১ হাজার ১০০ ট্যুরিস্ট অ্যাট্রাকশন পয়েন্ট আইডেন্টিফাই করেছি। এর মধ্যে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অ্যাট্রাকশন পয়েন্টের আর্কিটেকচারাল ডিজাইন আমরা করব। আমরা ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যানও করব।

মুহাম্মদ জাবের আরো বলেন, দক্ষিণাঞ্চলকে আমরা প্রায়োরিটি দেব, কারণ ওখানে যাওয়াটা আগে কষ্টসাধ্য ছিল। এখন সেটা সহজ হয়েছে। কুয়াকাটা, পিরোজপুরসহ বরিশালের বিভিন্ন অঞ্চলকে আমরা অগ্রাধিকার দেব। এখানে কিছু নতুন ট্যুরিস্ট অ্যাট্রাকশন তৈরির জন্য কাজ করছি। এর মধ্যে আছে সোনাদ্বীপ, আরেকটা সোনারচর। ১০-১৫ দিন আগে আমরা দেখে এসেছি। কীভাবে এগুলো ডেভেলপ করা যায়, সেটা নিয়ে কাজ করছি।

তবে পর্যটন ব্যবসায়ী ও প্যাসিফিক এশিয়া ট্রাভেল অ্যাসোসিয়েশন (পাটা) বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের মহাসচিব মো. তৌফিক রহমান মনে করছেন, দক্ষিণাঞ্চলে পর্যটনকেন্দ্রিক সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনাই এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। তিনি বলেন, এতদিন মূল সমস্যাটা ছিল যাতায়াত। আরেকটা বড় সমস্যা থাকার ভালো ব্যবস্থাপনা নেই। এটা নিয়ে ভাবতে হবে। ভালো খাবারের জায়গাও নেই। ট্যুরিস্ট অ্যাট্রাকশনের জন্য এসব ক্ষেত্রেই সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনা থাকতে হবে।


আরও খবর



সোনারগাঁয়ে বিয়ের দাবিতে অনশন করা এক নারীকে পিটিয়ে হত্যা

প্রকাশিত:সোমবার ১৮ জুলাই ২০২২ | হালনাগাদ:বুধবার ১০ আগস্ট ২০২২ |
Image

সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ)  প্রতিনিধিঃ

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে বিয়ের দাবিতে বাড়িতে অবস্থান নেওয়া স্বামী পরিত্যক্তা এক নারীকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে পরকীয়া প্রেমিক ও তার স্বজনদের বিরুদ্ধে। গতকাল সোমবার দুপুরে উপজেলার সাদিপুর ইউনিয়নের হিনানপুর দেওয়ান বাড়ি গ্রামের মনিরের বাড়িতে ওই নারীকে পিটিয়ে মারাক্তকভাবে আহত করার পর ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পথে সে মারা যায়। নিহতের নাম রোকসানা আক্তার (৩৮)। পরে লাশ ঢামেকে রেখেই পরকীয়া প্রেমিক মনির হোসেন, তার স্ত্রী ও ছেলে রানা মোবাইল ফোন বন্ধ করে আত্মগোপনে চলে যায়। নিহত ওই নারীর লাশ ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে রাখা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফাঁড়ি ইনচার্জ বাচ্চু মিয়া। এ ঘটনায় সোনারগাঁ থানায় হত্যা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে। এর আগে পিটিয়ে আহত করার ঘটনায় নিহতের মা শাফিয়া বেগম বাদি হয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।

তালতলা ফাঁড়ি পুলিশের উপ-পরিদর্শক(এসআই) মো. রাজু আহম্মেদ জানান, উপজেলার সাদিপুর ইউনিয়নের হিনানপুর দেওয়ান বাড়ি গ্রামের মৃত রাজু মিয়ার ছেলে মনির হোসেনের সঙ্গে বাইশটেকি গ্রামে মৃত মনু মিয়ার মেয়ে স্বামী পরিত্যক্তা রোকসানা আক্তারের পরকিয়া প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। দীর্ঘদিন ধরে এ পরকিয়া সম্পর্কে বিয়ের প্রলোভনে একাধিকবার উভয়ের মধ্যে শারিরিক সম্পর্ক গড়ে উঠে। এবিষয়টি উভয়ের পরিবারসহ এলাকার লোকজন অবগত রয়েছেন। গতকাল সোমবার ভোরে প্রেমিক মনিরের বাড়িতে বিয়ের দাবিতে অবস্থান নেয় রোকসানা । এসময় মনিরের বাড়ির লোকজন তাকে একাধিকবার বাড়ির বাইরে টেনে হেচড়ে বের করে দেয়। রোকসানার তার অবস্থানে অনড় থাকায় দুপরে মনির হোসেন, তার ভাই গোলজার, খোকন ওরফে খোকা, ছেলে রানা, মনিরের স্ত্রীসহ ৭-৮জনের একটি দল লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে মারাক্তকভাবে রক্তাক্ত করে আহত করে। মূমূর্ষ অবস্থায় রোকসানাকে মনির হোসেন, তার ছেলে রানা ও মনিরের স্ত্রী ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে নিয়ে যায়। পথে রোকসানার মৃত্যু হয়। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পর জরুরি বিভাগের চিকিৎসক রোকসানাকে মৃত ঘোষনা করে। এ খবর পেয়ে মনির হোসেন ও তার পরিবারের লোকজন লাশ রেখেই মোবাইল বন্ধ করে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দক্ষিণ বাইশটেকি গ্রামের একাধিক নারী পুরুষ জানিয়েছেন, মনির হোসেনের বাড়ির লোকজনের একাধিক বিয়ের রেওয়াজ রয়েছে। সকাল থেকে অবস্থান নেওয়া ওই নারীকে মনির হোসেন ও তার বাড়ির লোকজন একাধিকবার পিটিয়েছে। মূমূর্ষ অবস্থায় ঢাকা নিয়ে গেছে। পরে জানতে পারলাম সে মারা গেছে।

ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফাঁড়ি ইনচার্জ বাচ্চু মিয়া জানান, রোকসানা নামের এক নারীর লাশ মর্গে রাখা হয়েছে। যারা এ নারীকে হাসাপাতালে নিয়ে এসেছে তারা মৃত্যুর সংবাদ পাওয়ার পর হাসপাতাল থেকে পালিয়ে গেছে।

সোনারগাঁও থানার ওসি মোহাম্মদ হাফিজুর রহমান  জানান, এক নারীকে পিটিয়ে আহত করার ঘটনায় একটি অভিযোগ গ্রহন করা হয়েছে। ওই নারীর মৃত্যু হওয়ার কারনে মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তর হবে। হত্যার খবর শুনেছি। ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে।


আরও খবর



মিয়ানমারে আবারও জান্তার তাণ্ডব

প্রকাশিত:শুক্রবার ২৯ জুলাই ২০২২ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ০৯ আগস্ট ২০২২ |
Image

মিয়ানমারের উত্তর সালিঙ্গি টাউনশিপ ও সাগাইং অঞ্চলে নতুন করে আবার তাণ্ডব চালিয়েছে দেশটির সামরিক জান্তা।এছাড়া এসব এলাকার অসংখ্য গ্রামে অগ্নিসংযোগ করে সেনাবাহিনী। এতে আতঙ্কে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে গেছে প্রায় সহস্রাধিক মানুষ।

বৃহস্পতিবার (২৮ জুলাই) এ ঘটনা ঘটে বলে খবর প্রকাশ করে মিয়ানমারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইরাবতী।

খবরে বলা হয়, ইয়ে খার এবং শ্বে হতাউক গ্রামের বাড়ি-ঘরে অগ্নিসংযোগ করেছে প্রায় ১৫০ জন সেনা সদস্য। সালিঙ্গির এক বাসিন্দা বলেন, গত মাসে জান্তা বাহিনী এখানে ব্যাপক অভিযান চালিয়েছিল। যারা প্রাণ নিয়ে পালাতে পেরেছিলেন তারা ক'দিন আগেই ফিরেছেন। এরমধ্যে আবারও হামলা চালালো সেনারা।

খবরে বলা আরো হয়েছে, ইয়ে খার এবং শ্বে হতাউকে সব মিলিয়ে আড়াই শতাধিক ঘর আছে। সেনা সদস্যদের লাগানো আগুনে কতগুলো ঘরে পুড়ে গেছে, তাৎক্ষণিকভাবে বের করতে পারেনি গ্রামবাসী। তবে এলাক ১০টি গ্রাম পরিত্যাক্ত হয়েছে। সেখানকার ক্ষতিগ্রস্ত বাসিন্দাদের জন্য দ্রুত খাদ্য সহযোগিতা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন অনেকে।

গত জুনেও সালিঙ্গির গ্রামে সামরিক অভিযানে কয়েক হাজার বেসামরিক লোক নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে যায়। যাদের অনেকে এখনও নিজ বাড়িতে ফিরতে পারেনি।

সালিঙ্গিকে মিয়ানমারের প্রতিরোধ যোদ্ধাদের শক্ত ঘাঁটি বলে ধারণা করা হচ্ছে। সু চি’র সরকার ক্ষমতাচ্যুতের পর থেকেই দেশটির সামরিক সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলেছে ছোট বড় বিভিন্ন গোষ্ঠী। সাবেক সেনা, পুলিশ ও শিক্ষার্থীদের নিয়ে গঠন হওয়া এসব গোষ্ঠীগুলো প্রায় সময় সেনা বহরে হামলা চালিয়ে আসছে।

জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার (ইউএনএইচ) তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালের অভ্যুত্থানের পর সাগাইং অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি মানুষ বাস্তচ্যুত হয়েছেন। অভ্যুত্থানের আগে মিয়ানমারে অনেক বাস্তুচ্যুত জনসংখ্যা ছিল এবং জাতিসংঘের সংস্থা ধারণা করছে দেশটির ১২ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

উল্লেখ্য, সু চি’র সরকার পতনের আগে ২০১৭ সালে রাখাইনে সামরিক বাহিনীর দমন-পীড়নে সাড়ে ৭ লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। সব মিলিয়ে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশের কক্সবাজার, উখিয়াসহ সীমান্তবর্তী এলাকায় শরণার্থী শিবিরে অবস্থান করছে। সূত্র: ইরাবতী


আরও খবর



ডলারের দাম ১০৩ টাকা

প্রকাশিত:সোমবার ২৫ জুলাই ২০২২ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ০৯ আগস্ট ২০২২ |
Image

খোলাবাজারে ডলার এখন ১০৩ টাকার বেশি। ঢাকার মানি চেঞ্জার ও খোলাবাজারে মার্কিন ডলার ১০৩ টাকা ৫০ পয়সা থেকে ১০৪ টাকার মধ্যে কেনাবেচা হয়েছে। খোলাবাজারে হঠাৎ করে ডলার চড়া হয়ে যাওয়ার কারণ বলতে পারছেন না ব্যবসায়ীরা। সাধারণত কেউ বড় অঙ্কের ডলার সংগ্রহ করলে সংকট হয়, এ জন্য দাম বেড়ে যায়।

মানি চেঞ্জার প্রতিষ্ঠানগুলো জানিয়েছে, ঈদের আগে ও পরে ১০০ থেকে ১০২ টাকার মধ্যে ডলার কেনাবেচা হয়েছে। আজ তা ১০৩ টাকা ছাড়িয়ে যায়। ঈদের আগে ও পরে বাজারে ডলারের সরবরাহ ও চাহিদা ভালো ছিল। কারণ, এ সময় অনেকেই বিদেশ থেকে ঈদ করতে দেশে এসেছিলেন। ফলে সরবরাহ বৃদ্ধি পায়। আবার অনেকে ঈদের ছুটিতে বিদেশে গেছেন। ফলে ডলারের চাহিদা ছিল।

খোলাবাজার ও মানি চেঞ্জারগুলো সাধারণত বিদেশফেরত ও সংগ্রহে থাকা ডলার ক্রয় করে। ব্যাংকের রপ্তানি ও প্রবাসী আয়ের সঙ্গে এই বাজারের সম্পর্ক নেই।

এদিকে, আমদানি পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় ব্যাংকিং চ্যানেলেও ডলারের দাম বেড়ে গেছে। কারণ, রপ্তানি বাড়লেও প্রবাসী আয় কমেছে, আশানুরূপ বাড়ছে না। ডলারের দাম সরকারি রেটে ৯৪ টাকা ৪৫ পয়সা হলেও তা খোলাবাজারে ১০০ টাকা ছাড়িয়ে গেছে।


আরও খবর

আকাশ ছুঁলো কাঁচা মরিচের দাম

শনিবার ০৬ আগস্ট ২০২২