Logo
শিরোনাম

লাইফস্টাইল কী ?

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ০৭ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 |
Image

বর্তমানে মানুষের জীবনকেন্দ্রিক যে শব্দটি ব্যাপকভাবে উচ্চারিত হচ্ছে তা হচ্ছে ‘লাইফস্টাইল’। লাইফ বলতে আমরা জীবনকে বুঝি। আর স্টাইল বলতে ধরন, প্রকার, ধাঁচ, রকম, পদ্ধতি ইত্যাদি বুঝি। তাই লাইফস্টাইলের সাধারণ বাংলা অর্থ হতে পারে জীবন যাপনের ধরন বা পদ্ধতি। এটাকে আরো সহজ করে বললে বলা যায় জীবনধারা।

এখন এই জীবনধারা তো অনেক ব্যাপক অর্থবোধক একটি শব্দ। এর বহুমাত্রিক অর্থ রয়েছে। জীবনের সার্বিক দিককেই কভার করে এ শব্দটি। এর মধ্যে রয়েছে মানুষের জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত যেভাবে জীবন চালানো হচ্ছে তার পুরোটাই। এর মধ্যে যেমন জীবনকে বাঁচিয়ে রাখতে খাদ্যগ্রহণ ও আনুষঙ্গিক প্রয়োজনগুলো পূরণের বিষয়গুলো রয়েছে, তেমনি রয়েছে মানুষের মনোজগতে বদ্ধমূল হয়ো বিশ্বাস ও সেই বিশ্বাসের আলোকে কর্মের ধরনটিও।

জীবন ধারণের জন্য মানুষের কিছু মৌলিক প্রয়োজন রয়েছে। এই দেহকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য জন্মের শুরুতেই তার প্রয়োজন হয় খাবারের। প্রয়োজন হয় পরিচ্ছন্নতার। প্রয়োজন হয় সুন্দর একটি পরিবেশের যেখানে থাকবে কলুষমুক্ত বাতাস। আরো দরকার পরিবেশের বিরূপতা থেকে সুরক্ষার জন্য নিরাপদ স্থান বা গৃহ। একই কারণে প্রয়োজন হয় পরিধেয় বস্ত্র। আলো, তাপ ও শীতের নিয়ন্ত্রিত ব্যবহার। তার ভেতর স্বাভাবিকতা বা সুস্থতার ব্যত্যয় ঘটালে প্রয়োজন হয় চিকিৎসার বা নিরাময়ের।

পৃথিবীতে বেঁচে থাকার অনিবার্য প্রয়োজন বাতাস। শ্বাস-প্রশ্বাস চালু না থাকলে কয়েক মুহূর্তেই জীবন নিভে যায়। মহান স্রষ্টা আল্লাহ প্রকৃতিতে দিয়েছেন অনাবিল বাতাস। সেই বাতাস দেহে টেনে নেয়ার জন্য শরীরের ভেতর দিয়েছেন একটি অতুলনীয় যন্ত্র যার নাম হৃদযন্ত্র। এ বাতাস টেনে নেয়ার শক্তি না থাকলে পৃথিবীর জীবন আর থাকে না।

জীবনকে সতেজ সজীব রাখতে, পরিচ্ছন্ন রাখতে পানির প্রয়োজনও অনিবার্য। বাতাস পানি আর সূর্যের আলোর সমন্বয়ে গয়ে উঠেছে অসাধরণ এক প্রকৃতিজগত। যার মধ্যে জীবন স্বাভাবিক ও সুন্দর।

সার্বিকভাবে জীবনের পরিপার্শ্ব স্বাস্থ্যসম্মত রাখতে প্রয়োজন এই প্রকৃতির উপস্থিতি। উদ্ভিদ, গাছ-পালা, বনবনানী, তরুলতা, পশু-পাখি সমৃদ্ধ; পাহাড়-নদী-সাগর ঝর্ণাধারা বেষ্টিত প্রকৃতির মাঝে মানুষের জীবন থাকলেই সে জীবন স্বাভাবিকভাবে বাঁচে। এই প্রকৃতি বিনষ্ট হলে বা এর সুযোগগুলোর ঘাটতি হলে জীবন বিপন্ন হয়।

তারপর বেঁচে থাকার জন্য মানুষের প্রয়োজন হয় অপর মানুষের সহযোগিতা। এজন্য মানুষ গড়ে তুলেছে সমাজ। গড়েছে সংস্কৃতি, কালচার। এসব গড়তে জ্ঞানের প্রয়োজন হয়েছে। সেই জ্ঞানও মানুষকে চেষ্টা করে অর্জন করতে হয়। সেই অর্জনই হলো শিক্ষা বা জ্ঞান অর্জন। অর্জিত জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে মানুষ দুনিয়ার জীবনকে সুন্দর, নিরাপদ ও উন্নত করতে পারে। তাই শিক্ষাও মানুষের জীবনের একটি অপরিহার্য প্রয়োজন।

এবার জীবিকার প্রয়োজন পূরণের জন্য শিক্ষাগ্রহণে সমৃদ্ধ হয়ে মানুষকে করতে হচ্ছে নানা ধরনের কাজ। প্রয়োজন বা চাহিদাই এর চালিকা শক্তি। এর পেছনে সবাইকে দৌড়াতে হচ্ছে। ঘর বাঁধতে হচ্ছে নারী-পুরুষকে। তাদের মিলিত প্রচেষ্টায় জন্ম নিচ্ছে মানবশিশু। তাদেরকে লালনপালন করে আবার বড় করতে হচ্ছে, গড়ে তুলতে হচ্ছে আরেকটি পূর্ণ মানুষ হিসেবে জীবনের সবরকম দায়িত্ব পালনের উপযোগী করে। এভাবে রূপ লাভ করছে সমাজ-সংস্কৃতি।

মানুষকে তার অর্জিত জ্ঞান ও বুদ্ধি দিয়ে জীবনের সব প্রয়োজনীয় কাজ সমাধা যেমন করতে হচ্ছে, তেমনি যেকোনো ধরনের বাধা, প্রতিবন্ধকতা বিরূপতা দূর করে, বা সমস্যা সংকটের সমাধান করে জীবনকে টেনে নিয়ে যেতে হচ্ছে শেষ প্রান্ত পর্যন্ত।

এভাবে প্রকৃতি ও সমাজ-সংস্কৃতির ভেতর মানুষ যে জীবন যাপন করছে সেটাই তার লাইফস্টাইল বা জীবনধারা।

বর্তমানে মানুষের জীবনের সুস্থতার জন্য সঠিক লাইফস্টাইল তথা জীবনধারার কথা জোরেশোরে উচ্চারিত হচ্ছে। কারণ একটাই, আজ মানুষের স্বাভাবিক জীবনধারা ব্যাহত। প্রকৃতি কলুষিত। জীবন কঠিভাবে সংকটাপন্ন। প্রকৃতিবিরুদ্ধ কাজ ও ভুল জীবন পদ্ধতির কারণে কঠিন কঠিন রোগে আক্রান্ত হচ্ছে মানুষ। দেখা দিচ্ছে শারীরিক-মানসিক বিপর্যয়।

এজন্যই লাইফস্টাইল সঠিক করার জন্য, সংশোধন করার জন্য এতো উচ্চাবাচ্য শুরু হয়েছে। কিন্তু আধুনিক বিজ্ঞানের বদৌলতে জীবনের সাথে এমনসব অনুষঙ্গ যোগ হয়েছে যে, মানুষ সেসব থেকে রেহাই পাচ্ছে না। সেগুলো পরিহার করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে যে জীবনকে মানুষের ভালোবাসার কথা তার প্রতি সুবিচার করতে পারছে না।

ইংলিশ অভিধানে lifestyle তথা জীবনধারার একটি সংজ্ঞা হলো এমন - একটি নির্দিষ্ট ব্যক্তি বা সমষ্টির মনোভাব, অভ্যাস বা সম্পদের মিলনে গড়ে ওঠা একটি সংস্কৃতি।

ইংলিশ অভিধানে লাইফস্টাইল শব্দটির প্রতিশব্দগুলো হচ্ছে - behaviour ব্যবহার বা আচরণ, civilization সভ্যতা-সংস্কৃতি, condition অবস্থা, শর্ত, conduct আচরণ, পরিচালনা, customs রীতি, প্রথা, life · mores রীতিনীতি, চালচলন, position অবস্থান, situation পরিস্থিতি, way of life জীবনপথ বা জীবনপদ্ধতি।

এ থেকেই বোঝা যায়, লাইফস্টাইল বিষয়টি কতো ব্যাপকভাবে জীবনকে সংজ্ঞায়িত করে। জীবনের কতো দিক ও বিভাগকে এটি ধারণ করে। কাজেই সুস্থ-সুন্দর জীবন যাপনের জন্য জীবনের সাথে যুক্ত সব বিষয়েরই সুস্থতা ও সঠিক ব্যবস্থাপনা প্রয়োজন। প্রয়োজন জীবনকে ভালোবাসা। এর মূল্য বোঝা।





আরও খবর



মিরসরাই নাপিত্তাছড়ায় পর্যটকের মৃত্যু, নিখোঁজ আরও দুজন

প্রকাশিত:সোমবার ২০ জুন ২০22 | হালনাগাদ:শুক্রবার ০১ জুলাই ২০২২ |
Image

চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহর এলাকা থেকে এক সঙ্গে দুই সহোদর তাদের এক বন্ধুকে নিয়ে ঘুরতে যান মিরসরাইয়ের নাপিত্তা ছড়া ঝর্ণায়।

রবিবার (১৯ জুন) বিকালে তারা তিনজনই নিখোঁজ হন। রাতে ঝর্ণা থেকে একজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। দুই সহোদরের খোঁজ এখনো মেলেনি।

পুলিশ প্রত্যক্ষদর্শী ও ফায়ার সার্ভিস সিভিল ডিফেন্সের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রবিবার সকালে তারেক, তানভীর ও ইশতিয়াক চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহর এলাকা থেকে নাপিত্তা ছড়া ঝর্ণা দেখার উদ্দেশে বের হন। এরপর তারা ঝর্ণা এলাকার একটি চায়ের দোকানে নিজেদের ব্যাগ রেখে ঝর্ণাটির চূড়ায় আরোহণ করেন। পরে আর তাদের খোঁজ পাওয়া যায়নি।

ঝর্ণার দায়িত্বে থাকা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মিরসরাই থানা পুলিশকে খবর দেয়। পরে ফায়ার সার্ভিসের উদ্ধার কর্মীরা রাত ৮টার দিকে নিখোঁজ ইশতিয়াকের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।

পুলিশ তার মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। নিহত ইশতিয়াক চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহর বি ব্লকের মোহাম্মদ জাকারিয়ার ছেলে। তার বয়স ২০ বছর।

মিরসরাই থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রাজিব পোদ্দার জানান, নিহত ইশতিয়াকের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য চমেক হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। নিখোঁজ তানভীর ও তারেক দুইজন আপন ভাই। তারা চট্টগ্রাম নগরীর হালিশহর বি ব্লকের বাসিন্দা। তবে তাদের গ্রামের বাড়ি মিরসরাই উপজেলার করেরহাট ইউনিয়নের হাবিলদার বাসা এলাকায়। তাদের উদ্ধারে ফায়ার সার্ভিস কাজ করছে।

নিখোঁজ তানভীর ও তারেকের মামা মো. তৌহিদুল ইসলাম সুমন জানান, নিখোঁজ তানভীর চট্টগ্রাম নগরীর ইউএসটিসি’র ছাত্র এবং তারেক চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল অ্যান্ড কলেজের ছাত্র। নিহত ইশতিয়াক তাদের ঘনিষ্ঠ বন্ধু।


আরও খবর



চলন্ত গাড়িতে মা ও শিশুকে গণধর্ষণ

প্রকাশিত:সোমবার ২৭ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 |
Image

রাতে বাড়ি ফেরার পথে চলন্ত গাড়িতে মা ও মেয়েকে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠল ভারতের হরিদ্বার জেলার রুরকিতে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, একটি ধর্মীয় স্থান থেকে রবিবার রাতে বাড়ি ফিরছিলেন এক নারী ও তার ছয় বছরের শিশুকন্যা। রাস্তায় সোনু নামের এক ব্যক্তি গাড়িতে করে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তাব দেন ওই নারীকে। সেই সময় গাড়িতে ছিলেন সোনুর আরও কয়েকজন বন্ধু।

এরপরই চলন্ত গাড়িতে ওই নারী ও তার মেয়েকে গণধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ। ঘটনার পর একটি খালের পাড়ে তাদের ফেলে দেন অভিযুক্তরা।

কোনোভাবে ওই অবস্থায় থানায় পৌঁছেন নির্যাতিতা নারী। তারপরই অভিযোগ দায়ের করেন। তবে গাড়িতে ঠিক কতজন ছিলেন, তা স্পষ্ট করে বলতে পারেননি তিনি। শুধু সোনুর নাম উল্লেখ করেন নারী। ভুক্তভোগীর দাবি, গাড়ি চালাচ্ছিলেন সোনু।

রুরকির সিভিক হাসপাতালে ওই নারী ও তার মেয়েকে ভর্তি করা হয়েছে। অভিযুক্তদের খোঁজে তল্লাশি চালাচ্ছে পুলিশ। সূত্র : আনন্দবাজার।


আরও খবর



কনটেইনারে বিস্ফোরণ : নিহত বেড়ে ৪৩

প্রকাশিত:রবিবার ০৫ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 |
Image

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএম কনটেইনারে ভয়াবহ আগুনে ফায়ার সার্ভিসের আট কর্মীসহ নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪৩ জন হয়েছে। রবিবার (৫ জুন) এ তথ্য নিশ্চিত করেন সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহাদাত হোসেন। বিস্ফোরণে ২৫০ ব্যক্তি আহত হয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের ২৯টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে। কেমিক্যাল কন্টেইনার থেকে আগুনের সূত্রপাত হতে পারে বলে ফায়ার সার্ভিসের ধারণা।


আরও খবর



আসুন আমরা বানভাসিদের পাশে দাঁড়াই

প্রকাশিত:সোমবার ২০ জুন ২০22 | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 |
Image

আমাদের এই দেশটা টিকে আছে মূলত মানুষের প্রতি মানুষের ভালোবাসার ওপর। শুভচিন্তা ওপর। আকস্মিক এই ভয়াবহ বন্যায় হতদরিদ্র পরিবারগুলোর কাছে যখন দ্রুত ত্রাণ পৌঁছানো ভীষণ জরুরী হয়ে উঠেছিল তখনও বরাবরের মতই এই আমাদের মত সাধারণ মানুষেরাই ছুটে গিয়েছি নিজের সবটুকু দিয়ে। 

সুনামগঞ্জ জেলার তাহিরপুর উপজেলার বেশ কিছু গ্রাম একেবারেই তলিয়ে গেছে। এই এলাকাগুলোতে কিছুটা প্রাথমিক সহায়তার বন্দোবস্ত হলেও যেসব পরিবার নিজেদের চলার সবটুকু হারিয়ে ফেলেছে। তাদের সামনের দিনগুলোর কথাও ভাবতে হবে এই আমাদেরই। বন্যা চলে গেলেই বিপদ চলে যায় না। বন্যা নিয়ে আসছে নানান পানিবাহিত রোগ। চিকিৎসার কথা ভাবতে হবে। ভেসে গেছে ঘর, বাড়ি। ফসলের মাঠ তলিয়ে গেছে পানিতে। গেরস্তের গরু হারিয়ে গেছে। 

গত বন্যায় আমরা দেখলাম কৃষক তার সোনার ফসল পানিতে ডুবে ডুবে কাটছে। সেই শস্যের একটি দানাও বাঁচাতে পারা গেলো না এবারে। বানের জলে ভেসে গেছে শেষ সম্বলটুকুও।

প্রাথমিকভাবে আমরা সবাই মিলে হয়তো এই মানুষগুলোকে প্রাণে বাঁচাতে পারলাম কিন্তু এই মানুষগুলোকে জীবন সংগ্রামে ফিরিয়ে আনতে পাশে দরকার মানুষদের সহায়তা। 

আমরা কি করতে পারি?

আমরা কাজ করতে চাই দুর্যোগটার প্রাইমারি ইমপালসটা কেটে যাবার পর। আমি হাওরের মানুষ। আমার পরম পরিচিত ছোটবেলা মত প্রিয় গ্রামগুলোই মর্মান্তিকরকম ক্ষতিগ্রস্থ। আশেপাশের গ্রামের মানুষগুলোও কোন না কোনভাবে আমার রক্তেরই আত্মীয়। এই গ্রামগুলোতে যারা সবকিছু হারিয়েছেন তাদের আমরা অল্প অল্প করে নিজের পায়ে দাঁড় করিয়ে দেয়ার চেষ্টা করতে চাই। 

কারো আয়ের একমাত্র পথ ছোট মুদি দোকান ভেসে গেছে, তাকে সামান্য পুঁজি তুলে দিতে চাই। কারো গোয়ালের তিনটা গরু ভেসে গেছে, তাদের কিনে দিতে চাই একটা গরু। যেই দরিদ্র মানুষটার বেড়ার ঘরটা ভেঙে গেছে তাদের একটা ছোট ঘর তুলে দিতে চাই আমরা। 

সহমর্মী সুহৃদ ডাক্তারদের একটা দল নিয়ে আমরা পানিবাহিত রোগাক্রান্তদের চিকিৎসার ব্যাবস্থা করে দিতে চাই। বন্দোবস্ত করে দিতে চাই ওষুধের।

বন্যায় শিশুদের শারীরিক আর মানসিক ক্ষতিটা হয় সবচেয়ে বেশি। স্কুল ঘর তো ভেসে গেছেই, চলে গেছে বই, খাতা, কলম, শিক্ষার সব অনুষঙ্গ। দরিদ্র পরিবারের শিশু সন্তানটির প্রিয় খেলনাটা হারিয়ে যাওয়ার কষ্ট কোন অংশে কি কম?  নিজ চোখে এই বন্যা দেখে শিশুদের মানসিক ক্ষতিটা হয়েছে অনেক বেশি। তাদের আবারও পড়াশোনা আর খেলাধূলায় ফিরিয়ে নিতে হবে। আমরা তাদের জন্যও কিছু করতে চাই দীর্ঘ মেয়াদের কথা মাথায় রেখে।  

এসবকিছুই জন্যই আপনাদের কাছে সাহায্য চাইছি। আসুন আমরা সবাই সাধ্যমত সহায়তা করি। আমরা ঠিক কতজনকে পুনঃবাসন করে দিতে পারবো, কতজনকে আবার আগের জীবনটাতে ফিরিয়ে নিতে পারবো সেটা নির্ভর করছে আমরা ঠিক কি পরিমাণ অর্থ সংগ্রহ করতে পারছি তার ওপর। যদি কম টাকা হয় তাহলে হতোয় একটা পরিবারকেই আবার আমরা মূলস্রোতে নিয়ে আসতে পারবো। টাকা বেশি উঠলে হয়তো একশ বা এক হাজার মানুষকে পুরনো জীবনটা ফিরিয়ে দিতে চেষ্টা করতে পারবো আমরা।

আসুন আমরা সবাই মিলে সবার শক্তিটা নিয়ে পাশে দাড়াই। সুনামগঞ্জের তাহিরপুরের সবচেয়ে দুর্গম গ্রামে সবকিছু হারিয়ে ফেলা মানুষটা আর এই লেখাটা এই মুহূর্তে যিনি পড়ছেন সে আমরা সবাই মিলেই যে 'আমরা সবাই' সেটা প্রতিষ্ঠিত হোক!  

সহায়তা করতে: 

আতিক রহমান 

বিকাশ (পার্সোনাল): 01913925026

নগদ (পার্সোনাল): 01913925026


আরও খবর



সর্বকালের রেকর্ড খেলাপি ঋণে

প্রকাশিত:সোমবার ০৬ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 |
Image

কেবল টাকার অঙ্কে নয়, খেলাপি বেড়েছে শতকরা হিসেবেও। সব মিলিয়ে গত মার্চ শেষে বিতরণ করা ঋণের ৮.৫৩ শতাংশ খেলাপি হয়েছে। গত ডিসেম্বর শেষে বিতরণ করা ঋণের ৭.৯৩ ছিল খেলাপি। অর্থাৎ ০.৬০ শতাংশ খেলাপি ঋণ বেড়েছে তিন মাসে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের মার্চ মাস শেষে ব্যাংকিং খাতের মোট বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৩ লাখ ২৯ হাজার ৭৩৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপিতে পরিণত হয়েছে ১ লাখ ১৩ হাজার ৪৪০ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণ করা ঋণের ৮ দশমিক ৫৩ শতাংশ।

তিন মাস আগেও ২০২১ সালের ডিসেম্বর প্রান্তিকে খেলাপি ঋণ ছিল ১ লাখ ৩ হাজার ২৭৩ কোটি টাকা। এই হিসাবে গত তিন মাসে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১০ হাজার ১৬৭ কোটি টাকা। আর গত বছরের মার্চের তুলনায় খেলাপি বেড়েছে ১৮ হাজার ৩৫৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ ২০২১ সালের মার্চে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৯৫ হাজার ৮৫ কোটি টাকা।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম। তিনি এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘নানা রকম ছাড় পাওয়ার কারণে খেলাপিরা ঋণ পরিশোধ করতে আগ্রহী হচ্ছে না। তিনি বলেন, খেলাপিরা মনে করেন, খেলাপি হলেও সমস্যা নেই। বরং সুবিধা পাওয়া যায়। এ কারণে খেলাপি ঋণ বাড়ছে।’

এদিকে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে ক্ষতির মুখে পড়ার কথা বলে এরই মধ্যে চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত কেউ ঋণ পরিশোধ না করলেও খেলাপি না করার দাবি জানিয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০২০ ও ২০২১ সালজুড়ে কয়েক দফায় করোনার কারণে ব্যবসায়ীদের দাবির মুখে কোনো ঋণ পরিশোধ না করে কিংবা সামান্য পরিশোধ করে খেলাপিমুক্ত থাকার সুযোগ ছিল। এ ধরনের বিভিন্ন সুবিধার বেশিরভাগই শেষ হয়েছে গত ডিসেম্বরে। এর পরপরই খেলাপি ঋণ বেড়েছে ব্যাপকভাবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, ২০২২ সালের মার্চ শেষে রাষ্ট্রীয় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো মোট ঋণ বিতরণ করেছে ২ লাখ ৪৩ হাজার ৫৭৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে ২০ দশমিক ০১ শতাংশ খেলাপি হয়েছে। অর্থাৎ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৪৮ হাজার ৭৩৭ কোটি টাকা খেলাপি।

বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে আলোচিত সময়ে ঋণ বিতরণ হয়েছে ৯ লাখ ৮৮ হাজার ৯৯৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি হয়েছে ৫৭ হাজার ৮০৩ কোটি টাকা বা ৫ দশমিক ৮৪ শতাংশ। বিদেশি ব্যাংকগুলোর ৬৩ হাজার ৭২৩ কোটি টাকা বিতরণ করা ঋণের মধ্যে ২ হাজার ৮৮৪ কোটি টাকা খেলাপি, যা মোট ঋণের ৪ দশমিক ৫৩ শতাংশ। আলোচিত সময়ে বিশেষায়িত তিনটি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ হয়েছে ৪ হাজার ১৫ কোটি টাকা। এ অঙ্ক তাদের বিতরণ করা ঋণের ১২ দশমিক ০১ শতাংশ। এই ব্যাংকগুলো বিতরণ করেছে মোট ৩৩ হাজার ৪৩৯ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দীন আহমেদ। তিনি খেলাপি বৃদ্ধি এবং সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের করণীয় নিয়ে বলেন, ‘কোভিডের পর কিছুটা মন্থর হয়েছে সবকিছু। এখন আবার ইউক্রেন সংকট আসায় একটা টালমাটাল অবস্থা তৈরি হয়েছে। এতে এক্সপোর্ট কমে যাচ্ছে, রেমিট্যান্স কমে যাচ্ছে, ইমপোর্ট বাড়ছে। ইমপোর্ট পেমেন্ট পরিশোধে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন সবাই। কিন্তু ঋণ আদায় করার ব্যাপারে রিলাক্স ভাব, এতে মূল স্তম্ভইতো দুর্বল হচ্ছে, খেলাপি বাড়ছে


আরও খবর

ছোট ও মাঝারি গরুর দাম বেশি

শুক্রবার ০১ জুলাই ২০২২