Logo
শিরোনাম

লালমনিরহাটে উদ্বোধন হলো দেশের প্রথম বাংলাদেশ পুলিশ জাদুঘর

প্রকাশিত:বুধবার ২২ জুন 20২২ | হালনাগাদ:রবিবার ০৩ জুলাই ২০২২ |
Image

দেশের সর্ব উত্তরের জেলার লালমনিরহাট। তিস্তা ও ধর্মসহ ছোট-বড় নদ নদী দ্বারা বেষ্টিত এ জেলাটি। এই জেলার ঠিক উত্তরে ভারতের সীমান্ত। সেই লালমনিরহাট জেলাতেই উদ্বোধন হলো দেশের প্রথম বাংলাদেশ পুলিশ জাদুঘর। 

বুধবার লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা থানা চত্বরেই জাদুঘরটির উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ পুলিশের আইজিপি বেনজির আহমেদ।

১৯১৬ সালে নির্মিত একটি পাকা পরিত্যক্ত প্রাচীন এই ভবনের ঐতিহ্য রক্ষার্থে এই ভবনে জাদুঘরটি হচ্ছে। ১০০ বছরের পুরনো ঐতিহাসিক এ ভবনকে জাদুঘরে রূপান্তর করার উদ্যোগ গ্রহণ করেন লালমনিরহাটের এসপি আবিদা সুলতানা।

২০২০ সালের ১৫ জানুয়ারি জেলার এসপি হিসেবে যোগ দেন আবিদা সুলতানা। জাদুঘর নির্মাণে পূর্বের কিছু অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এসপি আবিদা সুলতানার হাতীবান্ধা থানার পরিত্যক্ত  ভবনে বাংলাদেশ পুলিশ জাদুঘর স্থাপনের কাজ হাতে নেন ।

দীর্ঘ এক বছর ১৬/১৭ জন কর্মীকে কাজে লাগিয়ে জাদুঘরের ফার্নিচার সহ ডিজাইন তৈরি করেন।  তবে এই জাদুঘর উদ্বোধন পর্যন্ত কি পরিমাণ অর্থ ব্যয় হয়েছে তা নিশ্চিত করে জানা যায়নি।  বঙ্গবন্ধুর পারিবারিক গ্যালারি সহ বাংলাদেশ পুলিশ জাদুঘর মোট ৭টি গ্যালারি আছে। প্রতিটি গ্যালারিতে রাখা নিদর্শনগুলো দর্শক ও গবেষকদের সামনে তুলে ধরতে কাচের আবরণ ও আলোর ব্যবস্থা রয়েছে। 

এই জাদুঘরে বিভিন্ন সময়ে পুলিশ বাহিনী নানা স্মারক ও তথ্য সবার জন্য উপস্থাপন করা হয়।গ্যালারিগুলোতে সুলতানি আমল ও মোগল আমল, ব্রিটিশ আমল, ভারতীয় উপমহাদেশে পুলিশের উদ্ভব ও বিকাশ নিঁখুতভাবে তুলে ধরার  চেষ্টা করেছেন । গ্যালারি দুইয়ে থাকছে ব্রিটিশ আমল, আধুনিক পুলিশের যাত্রা। তিন নম্বর গ্যালারিতে রয়েছে স্বাধীনতাযুদ্ধ, ভারতীয় উপমহাদেশ ও বাংলাদেশ স্বাধীনতাযুদ্ধে পুলিশ।

গ্যালারি চারে রয়েছে ডার্করুম, গ্যালারি। পাঁচে রয়েছে মুক্তাঞ্চলে মুক্তি পুলিশ। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধকালে ৬ নম্বর সেক্টরের হেডকোয়ার্টার ছিল জেলার পাটগ্রাম উপজেলার বুড়িমারীতে। সে সময় গঠন করা হয়েছিল মুক্তাঞ্চলের মুক্তি পুলিশ। তাদের সে সময়ের কর্মকাণ্ড তুলে ধরাসহ কিছু নিদর্শন থাকছে এই গ্যালারিতে।

গ্যালারি ছয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ, প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী। গ্যালারি সাতে বাংলাদেশ পুলিশ গ্যালারি, আধুনিক সময়কাল।

জেলার এসপি আবিদা সুলতানা  সহ বেশ কয়েকজন পুলিশ কর্মকর্তা ও সদস্যের পরিশ্রমের ফসল বাংলাদেশ পুলিশ জাদুঘর। 

এসপি আবিদা সুলাতানা জানান, দুই বছরের অক্লান্ত পরিশ্রম, আমার পুলিশ সদস্য ও জেলাবাসীর সহযোগীতায় দেশের প্রথম পুলিশ জাদুঘর তৈরির কাজ সম্পন্ন। জাদুঘরটি উদ্বোধন করেন।

তবে উক্ত অনুষ্ঠানে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হাতীবান্ধা উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতৃত্ব স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ কে উপস্থিত দেখা যায়নি।

এছাড়াও উক্ত অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন লালমনিরহাট জেলার অন্যতম বীর মুক্তিযুদ্ধা বাবু শৈলেন্দ্র কুমার রায় সহ বেশ কয়েকজন বীর মুক্তিযোদ্ধা।

এদিকে এই জাদুঘরটি উদ্বোধন হওয়ায় বিশিষ্ট ব্যক্তি প্রাপ্ত উত্তরবঙ্গ জাদুঘরের প্রতিষ্ঠাতা আব্রাহাম লিংকন জানান একটা জাদুঘর জাতির দর্পন।


আরও খবর



নাকে পলিপের চিকিৎসায় কী করবেন ?

প্রকাশিত:সোমবার ২০ জুন ২০22 | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 |
Image

নাকে পলিপ একটি পরিচিত রোগ। শিশু থেকে সব বয়সি মানুষের এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। পলিপ বড় হয়ে গেলে অস্ত্রোপচার করা লাগে। সঠিক চিকিৎসা নিলে সুস্থ জীবনযাপন করা হয়।

নাকের আশপাশে কিছু প্রকোষ্ঠ (সাইনাস) আছে। চোখের ঠিক নিচে যে উঁচু হাড়টি আছে তার ভেতরে থাকে ম্যাক্সিলারি সাইনাস, নাক আর চোখের মাঝখানে যে ক্ষুদ্র স্থান সেখানে থাকে বেশ কয়েকটি ইথময়েড সাইনাস। কপালের সম্মুখভাগে থাকে ফ্রন্টাল সাইনাস। চোখের পেছন দিকে থাকে স্ফেনয়েড সাইনাস। সাইনাসগুলোর আবরণী অনেক সময় ফুলতে ফুলতে আঙ্গুরের থোকার মতো আকার ধারণ করে। একেই আমরা ডাক্তারি পরিভাষায় পলিপ বলে থাকি।

বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন ইমপালস হাসপাতালের নাক কান গলা রোগ বিশেষজ্ঞ সার্জন অধ্যাপক ডা. জাহীর আল-আমিন।

সাধারণত ইথময়েড সাইনাস থেকে পলিপ তৈরি হয়। কখনও কখনও ম্যাক্সিলারি সাইনাস থেকেও পলিপ তৈরি হতে পারে। নাকের মধ্যে ফাংগাস ইনফেকশন আমরা অনেক সময় দেখে থাকি। নাকের ফাংগাল (ছত্রাক) ইনফেকশন থেকে নাকের উভয় দিকে এবং ক্ষেত্রে একাধিক সাইনাস পলিপ দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে। পলিপগুলো প্রাথমিক পর্যায়ে সাইনাসের ভেতর থাকে।

এক সময় এটা বাড়তে বাড়তে সাইনাস থেকে নাকের ভেতরে চলে আসে এবং তখন আমরা খালি চোখে নাকের ভেতরে পলিপ দেখতে পাই। এগুলো দেখতে অনেক সময় সাদা আঙ্গুরের থোকার মতো থাকে। অনেক সময় পলিপে ইনফেকশন হলে বা আঘাতজনিত কারণে এর ত্বকের স্তর মিউকোসা ক্ষতিগ্রস্ত হলে অনেক সময় এটা লালচে রঙ ধারণ করতে পারে। রোগীরা সাধারণত যাকে পলিপ বলে থাকেন সেটা আসলে নাকের মধ্যে মাংস ফুলে যাওয়াকে তারা বুঝিয়ে থাকেন। মেডিকেলের ভাষায় একে হাইপারট্রপিড ইনফেরিয়র টারবিনেট বলা হয়। নাকের ভেতরে, পার্শ্ব দেয়ালে দুই দিকে দুইটি তাকের মতো মাংসপিণ্ড থাকে।

একে আমরা ইনফেরিয়র টারবিনেট বলি। এই ইনফেরিয়র টারবিনেটের প্রদাহ হলে এর আকৃতি বড় হয়ে যায়। যাকে হাইপারট্রপিড ইনফেরিয়র টারবিনেট বলা হয়। এটা সাইনাস থেকে আসে না। নাকের ভেতর থেকে এর উৎপত্তি। মেডিকেল ভাষায় এটা পলিপ নয়। অনেক ক্ষেত্রেই পলিপ এবং হাইপারট্রপিড ইনফেরিয়র টারবিনেটের কারণ একই এবং দুটো একসঙ্গে বিদ্যমান থাকে।

উপসর্গ

* প্রাথমিক পর্যায়ে রোগীরা সাধারণত নাক দিয়ে সর্দি ঝরা, নাক বন্ধ ভাব ধরনের সমস্যায় ভোগেন। নাকের সর্দি সামনের দিকে আসতে পারে। অনেক সময় এটা সামনের দিকে না এসে পেছন দিকে চলে যায় এবং ঢোক গিলা বা গলা পরিষ্কার করার মতো প্রবণতা দেখা যায়। নাক বন্ধ থাকাটা প্রাথমিক পর্যায়ে একদিকে থাকে এবং কিছুক্ষণ পরপর এটা দিক পরিবর্তন করে নাকের দুই দিকে হয়। কিছু সময় এক নাক বন্ধ থাকে আবার কিছু সময় আরেক নাক বন্ধ থাকে। অসুখ যত বাড়তে থাকে ততই দেখা যায় ধীরে ধীরে দুটো নাকই বন্ধ হয়ে যায়, প্রথমে আংশিকভাবে এবং পরে সম্পূর্ণভাবে।

* হাঁচি থাকতে পারে এবং অল্প ধুলাবালি বা ধোঁয়াতে গেলেই প্রচণ্ড হাঁচি হতে থাকে। সিগারেটের বা রান্নার ধোঁয়া সহ্য হয় না। দম বন্ধ ভাব চলে আসে।

* নাকের ঘ্রাণশক্তি কমে যায় এবং অনেক সময় নাকে দুর্গন্ধ পাওয়া যায়।

* মাথাব্যথা সাধারণত প্রাথমিক পর্যায়ে থাকে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, পলিপ যখন বেশ বড় আকার ধারণ করে তখন মাথাব্যথা চলে যায়। এর কারণ যে অবস্থাতে আমরা পলিপ দেখতে পাই সে অবস্থাতে মাথাব্যথার সমস্যা সাধারণত থাকে না। মাথা এবং কপালের সম্মুখ বা নাক এবং এর আশপাশে একটা বন্ধ ভাব থাকতে পারে। সময় রোগীর ইতিহাস নিলে অবশ্যই দেখা যাবে, কয়েক মাস বা কয়েক বছর আগে যখন রোগ শুরু হয়েছিল তখন তাদের মাথাব্যথার সমস্যা ছিল। পলিপ যখন বেশি বড় হয়ে যায় তখন মাথাব্যথার সমস্যাটা এতটা প্রকট থাকে না।

* দেখা যায় কিছু কিছু রোগীর গলায় খুসখুস ভাব থাকে। অনেকের আবার কাশিও থাকতে পারে। গলায় নিয়মিত প্রদাহ বা মুখ দিয়ে নিয়মিত শ্বাস নেয়ার ফলে অনেক সময় গলার স্বর বসে যায় বা গলা বসা বা স্বরভঙ্গ থাকতে পারে।

* নাকের পেছনে ইউস্টেশিয়ান টিউব আক্রান্ত হওয়ার কারণে অনেক সময় মধ্য কর্ণে সমস্যা হয়ে থাকে। কান বন্ধ বন্ধ ভাব বা কানের ভেতর পানি যাওয়ার কারণে কান বন্ধ হয়ে যেতে পারে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে মাথা ঘুরানোর সমস্যাও থাকতে পারে। মধ্যকর্ণের সমস্যা থেকে অল্প-স্বল্প মাথা ঘুরানোভাব থেকে শুরু করে মারাত্মক রকমের মাথা ঘুরানোর সমস্যা থাকতে পারে। ছাড়াও কানের ভেতরে শোঁ শোঁ আওয়াজের সমস্যাও হতে পারে। কানের ভেতরে অনেক দিন পানি জমে থাকলে কানের পর্দা নষ্ট হয়ে যাওয়া থেকে শুরু করে ক্রনিক বা দীর্ঘমেয়াদে কান পাকা রোগের সৃষ্টি হতে পারে।

কারণ : নাকের পলিপের কারণ নিয়ে এখনও গবেষণা চলছে। সাধারণভাবে বলা যায় নাকের এলার্জি এর অন্যতম কারণ। এলার্জি নাকের ভেতরে ধুলাবালি বা ধোঁয়ার এলার্জি থেকে হতে পারে। অনেকে মনে করেন, নাকের ভেতরে ক্রনিক ইনফেকশনও এলার্জির কারণ হতে পারে। নাকের ভেতরে ফাংগাল ইনফেকশনের এলার্জি থেকে কিছু কিছু রোগীর উভয় নাকে এবং অনেক সাইনাসজুড়ে পলিপ তৈরি হয়। নাকের ভেতরে রক্তনালির অসাঞ্জস্যতা বা অস্থিরতা থেকেও অনেক সময় পলিপ তৈরি হয় বলে অনেকে মনে করেন। নাকের এলার্জি যেটাকে আমরা এলার্জিক রাইনাইটিস বলি, গলার এলার্জি যেটাকে আমরা এলার্জিক ফ্যারিনজাইটিস এবং ফুসফুসের এলার্জি যেটাকে আমরা অ্যাজমা বা হাঁপানি বলে থাকি- এর একটা আরেকটার সঙ্গে সম্পৃক্ত। যাদের নাকের এলার্জি আছে তাদের শতকরা ১৭ থেকে ১৯ ভাগ রোগীর ক্ষেত্রে হাঁপানিও আছে। যাদের হাঁপানি আছে তাদের ৫৫ থেকে ৭০ ভাগ রোগীর ক্ষেত্রে নাকের এলার্জিও থাকে। বিশেষভাবে বলা উচিত, নাকের এলার্জি ফুসফুসের এলার্জির (হাঁপানি) একটির প্রভাব আরেকটির ওপর পড়ে। নাকের এলার্জি ঠিকমতো কন্ট্রোল না করলে অনেক সময় হাঁপানি বেড়ে যেতে পারে বা হাঁপানির চিকিৎসা করা দুরূহ হতে পারে। সে রকম ফুসফুসের এলার্জি বা হাঁপানি ঠিকমতো চিকিৎসা করা না হলে এর বিরূপ প্রতিক্রিয়া নাকের ওপর পড়ে।

চিকিৎসা : প্রাথমিক চিকিৎসা হল ধুলাবালি, ধোঁয়া ঠাণ্ডা এড়িয়ে চলা। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ ধরা পড়লে নাকে স্টেরয়েড জাতীয় স্প্রে ব্যবহার করলে এটা চলে যেতে পারে। পলিপ যদি নাককে সম্পূর্ণ অথবা আংশিকরূপে বন্ধ করে দেয় তাহলে সাধারণত ওষুধে কাজ হতে চায় না। এরকম ক্ষেত্রে অপারেশনের মাধ্যমে পলিপ ফেলে দেয়া ছাড়া বিকল্প কোনো পথ নেই। নাকের পলিপের কয়েক ধরনের অপারেশন হতে পারে। আমরা অবশ করে পলিপ বের করে নিয়ে আসতে পারি। এতে নাকের ভেতরের অংশটুকু সাধারণত কিছুটা দূর করা সম্ভব। অজ্ঞান করে আরও ভালোভাবে আমরা পলিপগুলো ফেলতে পারি। এতেও সাইনাসের ভেতরে যে ঝিল্লি থেকে পলিপগুলো তৈরি হয় সেটা সম্পূর্ণভাবে দূর করা সম্ভব নয়। আধুনিক যুগে পলিপের সর্বশেষ এবং সর্বাধুনিক চিকিৎসা হল এন্ডোস্কোপের মাধ্যমে পলিপগুলো শিকড় থেকে অর্থাৎ সাইনাসের যে ঝিল্লি থেকে পলিপ উৎপত্তি হয় সেখান থেকে সম্পূর্ণরূপে ফেলে দেয়া। এন্ডোস্কোপ ব্যবহার করে আমরা অতি সূক্ষ্মভাবে পলিপের উৎপত্তিস্থল থেকে পলিপকে ফেলে দিতে পারি এবং যে কোনো সাইনাস নাক থেকে যত দূরেই হোক না কেন তার ভেতরে সূক্ষ্মভাবে প্রবেশ করে পলিপটাকে সম্পূর্ণভাবে বের করে ফেলা সম্ভব। আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থায় এন্ডোস্কোপের সাহায্যে পলিপ ফেলে দেয়া ছাড়া বিকল্প কোনো অপারেশন নেই। পলিপগুলো তাদের উৎপত্তিস্থল থেকে সম্পূর্ণভাবে ফেলে দিলে সাধারণত নতুন করে পলিপ হয় না। পুরনো পদ্ধতিতে পলিপের অপারেশন করা হলে পলিপের কিছুটা অংশ সাইনাসের ভেতরে থেকে যেত এবং তা থেকে পলিপ আবার নতুন করে খুব তাড়াতাড়ি গজিয়ে যেত। যেহেতু পলিপ সম্পূর্ণরূপে দূরীভূত হয় না, সেহেতু পলিপ উদ্ভূত সমস্যাগুলো বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই খুব একটা দূরীভূত হতো না। বলে রাখা দরকার, সাধারণত পলিপ ছাড়াও নাকের ভেতর কিছু মারাত্মক ইনফেকশন, টিউমার, ক্যান্সার এবং অন্যান্য কিছু জটিল সমস্যা আপাতদৃষ্টিতে পলিপ আকারে প্রকাশ পেতে পারে। যদি মেডিকেল চিকিৎসাতে পলিপ বা পলিপের উপসর্গ সম্পূর্ণরূপে দূর না হয় তবে পলিপ থেকে বায়োপসি নিয়ে দেখা উচিত, সেটা আসলে পলিপ নাকি অন্য কোনো সমস্যা। যা অনেক সময় মারাত্মক জটিলও হতে পারে। অপারেশনের মাধ্যমে পলিপ চিকিৎসা করাতে কিছুটা দেরি করা যেতে পারে। তবে বায়োপসি করা থেকে অবশ্যই লম্বা সময় বিরত থাকা উচিত নয়।

 


আরও খবর

বাড়ছে মৃত্যু, কমেছে শনাক্ত

শনিবার ০২ জুলাই 2০২2




বন্যাকবলিত এলাকায় ডায়রিয়ার প্রকোপ

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২৮ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 |
Image

কিছুটা উন্নতি হয়েছে বন্যা পরিস্থিতির। তবে বিভিন্ন উপজেলায় দেখা দিয়েছে পানিবাহিত রোগ। সিলেট জেলার ১১টি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গত এক সপ্তাহে ২১৯ জন ডায়ারিয়া রোগী চিকিৎসা নিয়েছেন। আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে বেশির ভাগই শিশু। তবে আক্রান্তের সংখ্যা আরও বেশি বলে ধারণা স্বাস্থ্য বিভাগের।

সিলেট সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ডায়রিয়ার পাশাপাশি অনেকেই চর্মরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। চর্মরোগের জন্য কেউ হাসপাতালে ভর্তি না হলেও রোগীরা সেবা নিতে আসছেন। জেলায় চিকিৎসা সেবার জন্য বর্তমানে ১৪০টি চিকিৎসা দল কাজ করছে।

সূত্র জানায়, মঙ্গলবার (২৮ জুন) বেলা দুইটা পর্যন্ত জেলার বিভিন্ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন ৪৮ জন। সবচেয়ে বেশি আক্রান্ত আছেন কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায়। উপজেলার ১৮ জন রোগী চিকিৎসাধীন ছিলেন। এর মধ্যে ১৫ জনই শিশু। এর বাইরে জেলার গোয়াইনঘাট, বিশ্বনাথ ও দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডায়রিয়া আক্রান্তের সংখ্যা বেশি।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতির পর ডায়রিয়া ও চর্মরোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের সংখ্যা বাড়তে থাকে। ২২ জুন থেকে ডায়ারিয়া আক্রান্ত রোগীরা হাসপাতালে ভর্তি হতে শুরু করেন। এছাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোর বহির্বিভাগে প্রতিদিন শতাধিক ব্যক্তি চর্মরোগের জন্য চিকিৎসা নিতে ভিড় করছেন।

বন্যায় জেলার সাতটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আক্রান্ত হয়েছিল। এর মধ্যে পানিতে তলিয়ে গিয়েছিল কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট ও বিশ্বনাথ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। অন্য চারটি পানিতে তলিয়ে না গেলেও বৃষ্টির পানিতে ক্ষয়ক্ষতি হয়। হাসপাতালগুলো পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করা হয়েছে। যাতে কেউ হাসপাতালে গিয়ে নতুন করে আক্রান্ত না হন। জেলার ২৬৩টি কমিউনিটি ক্লিনিকের মধ্যে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ১৩৯টি।

হাসপাতালগুলোতে পর্যাপ্ত পরিমাণে খাবার স্যালাইন সরবরাহ করা হচ্ছে। এছাড়া স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোকে প্রয়োজনে নিজেদের স্যালাইন কেনারও অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আজ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে সিলেটে বিভিন্ন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স দুই লাখ খাওয়ার স্যালাইন সরবরাহ করা হয়েছে। এ ছাড়া সিভিল সার্জন কার্যালয়ে আরও দুই লাখ খাবার স্যালাইন সরবরাহ করা হয়। জেলায় ১৪০টি চিকিৎসা দল পানি বিশুদ্ধকরণ বড়ি, খাবার স্যালাইনসহ বন্যায় আক্রান্ত এলাকাগুলোতে সরেজমিনে সেবা দিচ্ছে।

সিলেট স্বাস্থ্য বিভাগ জানায়, যে পরিমাণ মানুষ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছেন, এর চেয়ে বেশি মানুষ আক্রান্ত হতে পারেন। তবে হাসপাতালে ভর্তি না হওয়ায় সেটির হিসাব জানা যাচ্ছে না। বন্যায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোও আক্রান্ত ছিল।


আরও খবর



আরফানুল হক রিফাত, বিজয়ী মেয়র কুমিল্লা সিটিপকর্পোরেশন

কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনে বিগত ১০ বছরের দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশ করব

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১৬ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ০৩ জুলাই ২০২২ |
Image

 কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি ঃ

প্রথমবারের মতো কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে মেয়র পদে দাঁড়িয়ে বাজিমাত করলেন আওয়ামী লীগ প্রার্থী রিফাত। প্রতিদ্বন্ধী স্বতন্ত্র প্রার্থী দুই বারের মেয়র মনিরুল হক সাক্কুকে ৩৪৩ ভোটের ব্যবধানে পরাজিত করে মেয়র নির্বাচিত হলেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আরফানুল হক রিফাত। বিজয়ের অনুভূতিতে রিফাত বলেন- এবিজয় নৌকার বিজয়, এবিজয় নৌকার, এবিজয় শেখহাসিনার ,এবিজয় আমার নেতা বাহার ভাইয়ের বিজয়, বিগত দিনে সিটিকর্পেপারেশনে যারা দূনীর্তি করেছে তাদের শ্বেতপত্র প্রকাশ করব। আওয়ামী লীগ মনোনীত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আরফানুল হক রিফাত বলেছেন, কুমিল্লাবাসীকে দেওয়া কথা আমি রাখবো। আমি কুমিল্লার মানুষকে কথা দিয়েছি। কথা রাখবো।

কুমিল্লাবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আরফানুল হক রিফাত বলেন, নগরীর যানজট ও জলাবদ্ধতা সমস্যা সমাধানের জন্য আপনাদের কাছে এক বছর সময় চাইলাম। ইনশাল্লাহ্ একবছরের মধ্যে আপনারা এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পাবেন।

তিনি বলেন, সিটি কর্পোরেশনকে আমি দলীয় কার্যালয় বানাবো না। নগর ভবনের দরজা সবার জন্য সবসময় খোলা থাকবে। আমার বাসার দরজাও খোলা থাকবে।

প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেন,সিটি কর্পোরেশনে বিগত ১০ বছরের দুর্নীতির শ্বেতপত্র প্রকাশ করব। এটা আমার প্রথম দায়িত্ব। কুমিল্লার মানুষকে আমি কথা দিয়েছি।’

এর আগে, রাত ৯টা ৪৫ মিনিটের দিকে বিজয়ী প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেন রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. শাহেদুন্নবী।

নির্বাচনে ৩৪৩ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন আরফানুল হক রিফাত। তিনি পেয়েছেন ৫০ হাজার ৩১০ ভোট। আর তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী মনিরুল হক সাককু পেয়েছেন ৪৯ হাজার ৯৬৭ ভোট।

কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের ১০৫ কেন্দ্রের ৬৪০ কক্ষে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনে কাউন্সিলর পদে ১০৮ জন ও সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে ৩৬ জন প্রার্থী অংশ নেন।

১০৫ কেন্দ্রে রিফাত পেয়েছেন ৫০ হাজার ৩১০ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্ধী সাক্কু ভোট পেয়েছেন ৪৯ হাজার ৯৬৭ভোট। টানটান উত্তেজনার মধ্যে দিয়ে রাত ৯টা ৪৫মিনিটে  কুমিল্লা সিটি নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা শাহেদুন্নবী চৌধুরী বেসরকারিভাবে ফলাফল ঘোষণা করেন। মোট ভোটের সংখ্যা ছিল ২ লাখ ২৯ হাজার ৯২০। এরমধ্যে ভোট পড়েছে এক লাখ ৩৪ হাজার ৬৪। ভোট পড়েছে ৫৮ দশমিক ৭৪ শতাংশ। বাতিল ভোটের পরিমাণ ৩১৯টি।

এবারই প্রথম কুমিল্লা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে সবকটি কেন্দ্রে ও ভোট কক্ষে ছিল সিসি তবে বৃষ্টি উপেক্ষা করে কোনোরকম ঝামেলা ছাড়াই শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সকাল আটটা থেকে বিকাল চারটা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে ভোট গ্রহণ সম্পন্ন হয়। কোনো প্রার্থীর পক্ষ থেকে ছিল না কোনোরকম অভিযোগ-অনুযোগ। শতভাগ ইভিএম-এ সম্পন্ন হওয়া কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের তৃতীয় নির্বাচনে ভোটর উপস্থিতি ছিল বেশ আশাব্যঞ্জক। নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে বড় কোনো প্রশ্ন উঠেনি কোনো পক্ষ থেকে।কুমিল্লা সিটিপকর্পোরেশনের প্রথম নির্বাচনে ভোট পড়েছে ৫৮দশমিক ৭৪ শতাংশ। 


আরও খবর



বিয়ারের নামে বিক্রি হচ্ছে মূত্র-নর্দমার পানি

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ০৭ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 |
Image

সিঙ্গাপুরে পানির অপচয় রোধে নর্দমার পানি পরিশুদ্ধ করে সেটা দিয়েই নিউব্রিউ (NewBrew) নামে বিয়ার তৈরি করছে একটি প্রতিষ্ঠান।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সিঙ্গাপুরের ওয়াটার এজেন্সি ব্রুয়ার্কজ এই বিয়ার চালু করেছে যা দেশের বিভিন্ন দোকান ও বারগুলোতে পাওয়া যায়। পরিবেশবান্ধব বিয়ার হিসেবে পানীয়টির বেশ প্রচারণাও চালাচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি।

নিউব্রিউ বিয়ারটি তৈরি করতে জার্মান বার্লি ও নরওয়েজিয়ান ঈস্ট ব্যবহৃত হয়। অন্য সব বিয়ারের মতো এ বিয়ারেরও মূল উপাদান পানি। এ বিয়ারটির ৯৫%-ই পানি। তবে অন্য বিয়ারে ব্যবহৃত পানির সঙ্গে এ বিয়ারের মূল পার্থক্য হলো পানির ধরনে। এ বিয়ারের মূল পানি হলো নুওয়াটার। মূলত মূত্র ও নর্দমার পানির পরিশোধিত রূপই হচ্ছে নুওয়াটার। তবে এই নুওয়াটার শুধুমাত্র নিরাপদ পানীয় হিসেবে আন্তর্জাতিক মান মেনে চলে না বরং বিয়ার তৈরির জন্য যথেষ্ট পরিচ্ছন্ন হিসেবে পরীক্ষা করে জানা যায়।

ব্রুয়ার্কজের কর্মকর্তারা জানান, নুওয়াটার দিয়ে বিয়ার তৈরির আগে বিভিন্ন ধরনের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। কয়েক ধরনের ফিল্টারও করা হয়েছে। আর এ “নিউব্রিউ” বিয়ারটি পান উপযোগী এবং নিরাপদ।

ব্যতিক্রমী এ বিয়ার পান করা কয়েকজন গ্রাহকের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তারা বেশ ইতিবাচক এ পানীয় নিয়ে। এমনকি নুওয়াটার দিয়ে তৈরি হওয়া সত্ত্বেও পুনরায় এ বিয়ার পান করতেও তাদের কোনো আপত্তি নেই।


আরও খবর



প্রধানমন্ত্রীর সাক্ষাৎ পেতে দৃষ্টি প্রতিবন্ধী অঞ্জনার সংবাদ সম্মেলন

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২৮ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 |
Image

কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধিঃ পৃথিবীর আলো দেখার সুযোগ হয়নি অঞ্জনা রানীর। জন্মের পর থেকেই সে অন্ধ। তবুও জীবন-যুদ্ধে থেমে থাকেননি তিনি। অঞ্জনার সামনে কোনো সংকটই বাঁধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। জন্মান্ধ হয়েও জীবন-সংগ্রামে দমে যাননি এই নারী। দৃষ্টিহীনতা আর দারিদ্রের সাথে একাই লড়াই করে ইতিহাস বিভাগ থেকে এমএ ডিগ্রি অর্জন করেছেন। এরপরও কোনো চাকরি না পেয়ে গান গেয়ে ও টিউশনি করে সংসার চালান অঞ্জনা।

মঙ্গলবার বেলা ১২টার দিকে এ সংবাদ সম্মেলন করেন তিনি। এসময় তার সঙ্গে তার পরিবারের লোকজনও উপস্থিত ছিলেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি তার অভাব-অনটন আর নানা সংকটের মাঝে নিজের উদ্যম আর ইচ্ছা শক্তি দিয়ে লেখাপড়া শেষ করার কথা জানান। নানা-প্রতিবন্ধকতার পরও লেখাপড়ায় সফল হয়ে সমাজে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চান। প্রবল ইচ্ছা শক্তি থাকলে মানুষ পৃথিবীকে জয় করতে পারে। সেটিই করে দেখিয়েছেন অঞ্জনা রানী।

অঞ্জনা রানী অদ্যম মনোবল নিয়ে এখন চালিয়ে যাচ্ছেন জীবন যুদ্ধ। শুধু তাই নয়,বর্তমানে তিনি চাকরির পড়াশোনা, সংসারের কাজ, টিউশনি, গানের অনুষ্ঠানসহ নানান কাজে সময় পার করছেন। অঞ্জনা রানীর জন্ম ১৯৮৮ সালের ১ জানুয়ারি। তিনি কুষ্টিয়া শহরের প্রাণকেন্দ্র আমলাপাড়া এলাকার বিবি নন্দি রোডের পুরাতন আনসার অফিসের সরকারি জায়গায় বসবাস করেন। হতদরিদ্র ফুটপাতে চা বিক্রেতার পরিবারে তার জন্ম। পরিবারে তিন ভাই ও এক বোনের মধ্যে অঞ্জনা সবার বড়। তার স্বপ্ন ছিল লেখাপড়া শেষ করে সরকারি চাকুরিজীবী হিসাবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে দেশ ও দেশের মানুষকে সেবা করা। কিন্তু মাস্টার্স পাস করেও প্রতিবন্ধী হওয়ায় সরকারি চাকরি জোটেনি অদম্য মেধাবী অঞ্জনা রানীর কপালে। তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে একটি চাকরি চান। একই সাথে শেখ হাসিনার সাথে সাক্ষাতের সুযোগ চান অঞ্জনা।

২০০৬ সালে কুষ্টিয়া হাই স্কুল থেকে এসএসসিতে ভাল ফলাফল করে ভর্তি হন ইসলামিয়া কলেজে। সেখান থেকে ২০০৮ সালে এইচএসসি পাস করেন। পরবর্তীতে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজে ইতিহাস বিভাগে ২০১৩ সালে অনার্স ও ২০১৪ সালে মাস্টার্স পাস করে সবাইকে চমকে দেন তিনি।

অঞ্জনা রানী সংবাদ সম্মেলনে আরও বলেন, অভাব আর দৃষ্টিহীনতার মাঝে অনেক দুঃখ-কষ্টে বেড়ে উঠতে হয়েছে জীবন যুদ্ধ করে। প্রতিনিয়ত পদে পদে সংকট আর সমস্যায় পড়তে হয়েছে। কিন্তু আমি কোনোদিন থেমে যায়নি। মনোবল নিয়ে বাস্তবতার সাথে জীবনের যুদ্ধে সফলতা ছিনিয়ে আনার চেষ্টা করেছি, এখনও করছি। জীবনে প্রচুর পরিশ্রম করেছি। বাবা-মায়ের সহযোগিতা ও আমার নিরলস কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে এতো দূর পৌঁছেছি। আমার মেধা আছে, তবুও চাকরি হচ্ছেনা। প্রতিবন্ধী হওয়ায় মাস্টার্স পাশ করেও চাকরি পাচ্ছি না। এখন একটা সরকারি চাকরি চাই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে। আমি তার সাথে সাক্ষাতের সুযোগ চাই। তাকে জীবন যুদ্ধের গল্প শুনিয়ে একটি সরকারি চাকরি ভিক্ষা চাইবো। চাকরি পেলে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর পাশাপাশি পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে চাই।


আরও খবর