Logo
শিরোনাম

মেলবোর্নে জুনে হবে মুখোমুখি আর্জেন্টিনা-ব্রাজিল

প্রকাশিত:বুধবার ২০ এপ্রিল ২০22 | হালনাগাদ:রবিবার ০৩ জুলাই ২০২২ |
Image

মেলবোর্ন ক্রিকেট গ্রাউন্ডে মুখোমুখি হচ্ছে দক্ষিণ আমেরিকান ফুটবল পরাশক্তি আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল। এই বছরের বিশ্বকাপ সামনে রেখে আগামী ১১ জুন প্রাক-প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে তারা।

বুধবার ভিক্টোরিয়ান সরকার নিশ্চিত করেছে, ম্যাচটি হতে যাচ্ছে আইকনিক মেলবোর্ন স্টেডিয়ামে। ৫ বছর আগে এক প্রীতি ম্যাচ খেলতে এই মাঠে নেমেছিল দুই দল। ওই ম্যাচে ৯৫ হাজারের বেশি দর্শক হাজির ছিল।

ট্যুরিজম, স্পোর্ট অ্যান্ড মেজর ইভেন্টস মন্ত্রী মার্টিন পাকুলা বলেছেন, ‘দীর্ঘদিনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা অব্যাহত রাখতে বিশ্বের সবচেয়ে সফল দুটি ফুটবল দলের এমসিজিতে ফেরা বিশ্বের অন্যতম সেরা ক্রীড়া শহর ও অস্ট্রেলিয়ার ইভেন্ট রাজধানী হিসেবে আমাদের অবস্থানকে আরো শক্ত করে। ফুটবল পরিচিত বিশ্ব খেলা হিসেবে এবং এমন উত্তেজনাকর ম্যাচের কারণে মেলবোর্নের দিকে লাখ লাখ চোখ থাকবে ও ভিক্টোরিয়ার প্রতি হাজার হাজার অতিথি আকৃষ্ট হবে।’


আরও খবর



বিয়ের প্রশ্নে যে উত্তর দিলেন কিয়ারা

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ২৩ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 |
Image

বর্তমানে নতুন ছবি ‘যুগ যুগ জিও’ এর প্রচারাণায় ব্যস্ত বলিউড অভিনেতা বরুণ ধাওয়ান ও কিয়ারা আদভানি। প্রচারণার কাজে সম্প্রতি পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় হাজির হয়েছিলেন এই জুটি। শত ব্যস্ততার মাঝেই গণমাধ্যমের মুখোমুখি কিয়ারা-বরুণ। এ সময় বিয়ের প্রশ্ন করতেই কৌশলী উত্তর দিলেন কিয়ারা। গণমাধ্যমের সঙ্গে কিয়ারা-বরুণের সাক্ষাতকারের কিছু অংশ তুলে ধরা হল:-

প্রশ্ন: মঞ্চে তো দারুণ গান গাইলেন। তাহলে কি এবার গায়িকা হিসেবেও পাওয়া যাবে?

কিয়ারা: আমি ভাবছি না। কিন্তু আমি নিশ্চিত বরুণ আমার জন্য এমন কিছু পরিকল্পনা করছে। বরুণ: হ্যাঁ, আমি পরিকল্পনা করছি। ও ভাল গান করে। তো এমন কিছু ভাবা যেতেই পারে।

প্রশ্ন: ‘ভুলভুলাইয়ার’ সময় বলেছিলেন কার্তিকের ভক্তদের আপনি চুরি করে নেবেন। বরুণের ক্ষেত্রেও কি তাই?

কিয়ারা: (কিছুটা হেসে) এ বাবা, এমনটা না। অন্যের ভ্ক্তদের নিয়ে নেওয়া কি এত সহজ! বরুণ: না না। ও আমার সব ভক্তদের নিজের করে নেবে। আমি নিশ্চিত।

প্রশ্ন: এখন সবাই বাস্তবধর্মী ছবির দিকে ঝুঁকছে। সেখানে ‘যুগ যুগ জিও’ কেন দেখবে দর্শক?

কিয়ারা: এই ছবিটাও ভীষণ বে বাস্তবধর্মী। পরিবার, সম্পর্ক, বিচ্ছেদের এমন গল্প এর আগে কেউ বলেনি। বিনোদনের মোড়কে এই ছবি খুবই বাস্তবধর্মী। বরুণ: আমি কিয়ারার সঙ্গে সহমত।

প্রশ্ন: বরুণ তো অনেক বিয়ের টিপস দিলেন আপনাকে। কিয়ারা তাহলে বিয়েটা কবে করছেন? বরুণ: এই তো, এটাই তো আসল প্রশ্ন। উত্তর দাও তোমার বিয়েটা কবে!

কিয়ারা: (একগাল হাসি) আমি আশা করছি এই জীবনে একবার বিয়েটা করেই ফেলব।


আরও খবর

শিশুদের সিনেমায় মিথিলা

শুক্রবার ০১ জুলাই ২০২২




নির্ঘুম রাত কাটছে তিস্তাপাড়ের বাসিন্দাদের

প্রকাশিত:শুক্রবার ১৭ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 |
Image

মইনুল ইসলাম মিতুল: হু হু করে বাড়ছে তিস্তা নদীর পানি। ঘর-বাড়িতে পানি উঠায় নদী-তীরবর্তী মানুষগুলো বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ স্থানে ছুটে যাচ্ছে। এতে নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন তিস্তাপাড়ের বাসিন্দারা।

বৃহস্পতিবার রাত ৯টার দিকে জেলার হাতিবান্ধার দোয়ানীতে অবস্থিত তিস্তা ব্যারাজ পয়েন্টে (৫২.৭০ সেন্টিমিটার) বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে। (স্বাভাবিক ৫২.৬০ সেন্টিমিটার)।

লালমনিরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, উজানে ঢল ও ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে তিস্তা নদীর পানি হু হু করে বৃদ্ধি পাচ্ছে।

স্থানীয়রা জানান, ইতোমধ্যে নদী-তীরবর্তী নিম্নাঞ্চল ও চরাঞ্চলের কয়েক হাজার মানুষ পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। আজ সকাল ৯টায় পানি বিপৎসীমার কাছাকাছি এবং বিকেল ৩টায় বিপৎসীমা দিয়ে প্রবাহিত হতে শুরু করে। তবে রাত ৯টায় ডালিয়া পয়েন্টের পানি বিপৎসীমার ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। রাতে পানি আরও বাড়তে পারে বলে আশংকা করা হচ্ছে।

উজানের ঢল ও টানা বৃষ্টিপাতে তিস্তা ও ধরলা নদীর পাশাপাশি জেলার অন্যান্য নদী ও ঢোবায় পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে ক্রমেই বাড়ছে দুর্ভোগ।

লালমনিরহাট সদর উপজেলার কালমাটির ওবাইদুল ইসলাম জানান, নদীর পানি বিকেল থেকে হু হু করে বাড়ছে। নদীর তীরবর্তী হওয়ায় কয়েকদিন থেকে রাতে ঘুম আসছে না চোখে। কখন কি হয় সে চিন্তাই এখন মূল ভয়। এর আগে তিস্তার গ্রাসে ৮ বার বাড়ি সরিয়ে নিয়েছে বলেও জানান তিনি।

নির্ঘুম রাত কাটানোর অভিজ্ঞতা শুধু ওবাইদুলের নয়, ওই এলাকার শামসুল, আমজাদসহ অনেকেই জানান, পানি বৃদ্ধি পেলে আমরা যেখানে আশ্রয় নিই ইতোমধ্যে সেই স্কুলের মাঠেও পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে।

এদিকে বন্যাসহ যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সব রকম প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন লালমনিরহাটের জেলা প্রশাসক আবু জাফর।


আরও খবর



বজ্রসহ বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১৬ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 |
Image

ঢাকাসহ দেশের কোথাও কোথাও হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরণের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুন) সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত আবহাওয়ায় পূর্বাভাসে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, লঘুচাপের বর্ধিতাংশ বিহার থেকে গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমি বায়ু বাংলাদেশের উত্তরাঞ্চলের ওপর সক্রিয় এবং দেশের অন্যত্র মোটামুটি সক্রিয়। মৌসুমি বায়ু উত্তর বঙ্গোপসাগরে মাঝারি অবস্থায় রয়েছে।

এ অবস্থায় শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সিলেট, রংপুর ও ময়মনসিংহ বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় ঢাকা, রাজশাহী ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় এবং খুলনা ও বরিশাল বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেইসঙ্গে রংপুর, ময়মনসিংহ, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি ধরনের ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে।



আরও খবর



বাংলাদেশের সাহস-গৌরব ও সততার প্রতীক

প্রকাশিত:রবিবার ১২ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 |
Image

পদ্মা সেতু বাংলাদেশের সাহস-গৌরব ও সততার প্রতীক। পদ্মা সেতু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রত্যয়, দৃঢ় মনোবল ও আস্থার প্রতীক। ২৫ জুন নতুন সম্ভাবনা, নতুন দিগন্ত নিয়ে যাত্রা করছে পদ্মা সেতু। শুধু বাংলাদেশের জন্য নয়, পুরো বিশ্বের জন্যই এক বিস্ময়। প্রবল স্রোতের এই পদ্মায় সেতুটি তৈরি করতে আধুনিক মানের সব উপকরণ ব্যবহার করা হয়েছে। পাঁচটি বিশ্বরেকর্ডও গড়েছে এই সেতু। সর্বাধুনিক সব প্রযুক্তি ব্যবহৃত হয়েছে এটির নির্মাণে। খরস্রোতা পদ্মায় পানিপ্রবাহ বিবেচনায় বিশ্বে আমাজন (ব্রাজিল) নদীর পরেই এর অবস্থান।

এ সেতুর প্রথম বিশ্বরেকর্ডটি হলো- মাটির ১২০ থেকে ১২২ মিটার গভীরে গিয়ে পাইল বসানো (প্রায় ৪০ তলা) পৃথিবীর অন্য কোথাও কোনো সেতুতে পাইল এত গভীরে প্রবেশ করাতে হয়নি। এসব পাইল তিন মিটার ব্যাসার্ধের। বিশ্বে এখন পর্যন্ত কোনো সেতুর জন্য এত গভীরে পাইলিং প্রয়োজন হয়নি এবং মোটা পাইল বসানো হয়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা। দ্বিতীয় রেকর্ড হলো, ভূমিকম্পের বিয়ারিং সংক্রান্ত। এই সেতুতে ‘ফ্রিকশন পেন্ডুলাম বিয়ারিংয়ের’ সক্ষমতা হচ্ছে ১০ হাজার টন। এখন পর্যন্ত কোনো সেতুতে এমন সক্ষমতার বিয়ারিং লাগানো হয়নি। রিখটার স্কেলে ৯ মাত্রার ভূমিকম্পে টিকে থাকার মতো করে পদ্মা সেতু নির্মাণ করা হয়েছে। এর পরের বিশ্বরেকর্ড হলো, পিলার এবং স্প্যানের মাঝে যে বিয়ারিং থাকে সেটি। এখানে ১০ হাজার ৫০০ টন ওজনের একেকটি বিয়ারিং ব্যবহৃত হয়েছে। পৃথিবীতে এর আগে এমন বড় বিয়ারিং ব্যবহার করা হয়নি কোনো সেতুতে।

অন্য রেকর্ডটি হলো, নদী শাসন-সংক্রান্ত। ১৪ কিলোমিটার (১.৬ মাওয়া, ১২.৪ জাজিরা) এলাকা নদী শাসনের আওতায় আনা হয়েছে। এই নদী শাসনে খরচ হয়েছে ৯ হাজার ৪০০ কোটি টাকারও বেশি। পরের রেকর্ডটি ব্রিজে ব্যবহৃত ক্রেন। পিলারের ওপর স্প্যান বসাতে যে ক্রেনটি ব্যবহৃত হয়েছে, সেটি আনা হয়েছে চীন থেকে। প্রতি মাসে এর ভাড়া বাবদ গুনতে হয়েছে ৩০ লাখ টাকা। সাড়ে তিন বছরে মোট খরচ হয়েছে ১২ কোটি ৬০ লাখ টাকা। বিশে^ প্রথম এই ব্রিজ বানাতেই এত দীর্ঘদিন ক্রেনটি ভাড়ায় থেকেছে। এই ক্রেনটির বাজারদর ২ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। আরেকটি রেকর্ড পদ্মা সেতুই বিশে^ প্রথম যেটি কংক্রিট আর স্টিল দিয়ে নির্মিত হচ্ছে।

ব্রাজিলের আমাজন নদীর পর প্রমত্তা পদ্মা বিশ্বে খরস্রোতা নদীর তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। নিজস্ব অর্থায়নে দেশের সবচেয়ে দীর্ঘতম এই পদ্মা সেতু উদ্বোধনের সঙ্গে সঙ্গে দক্ষিণবঙ্গের মানুষের পারাপারের জন্য উন্মোচিত হবে নবদিগন্তের দুয়ার। দ্বিতল পদ্মা সেতু দিয়ে বিভিন্ন এলাকার মানুষ রাজধানী ঢাকায় প্রবেশ করতে পারবে সহজেই। পুরো সেতুতে পিলারের সংখ্যা ৪২টি। প্রতিটি পিলারের রাখা হয়েছে ছয়টি পাইল। একটি থেকে আরেকটি পিলারের দূরত্ব ১৫০ মিটার। এই দূরত্বের লম্বা ইস্পাতের কাঠামো বা স্প্যান জোড়া দিয়েই সেতু নির্মিত হয়েছে। ৪২টি পিলারের ওপর ৪১টি স্প্যান বসানো দেশের দীর্ঘতম এ সেতুটির আয়তন ৬.১৫ কিলোমিটার।

বিশ্বব্যাংক পদ্মা সেতু থেকে সরে গেলে, ২০১২ সালের জুলাই মাসে মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী সিদ্ধান্ত নেন যে, সরকারের নিজস্ব তহবিল দিয়ে পদ্মা সেতু নির্মাণ করবেন। ২০১৬ সালে কানাডিয়ান সুপ্রিম কোর্র্টও পদ্মা সেতুর দুর্নীতির অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন’ বলে মামলাটি খারিজ করে দেয়। বাংলাদেশ কলঙ্কমুক্ত হয়। প্রধানমন্ত্রীর ‘চ্যালেঞ্জ’ জয়লাভ করে।

আমাদের যোগাযোগ ছিল একসময় নদীনির্ভর। এ ক্ষেত্রেও বাধা ছিল অসংখ্য নদণ্ডনদী। যেকোনো সড়ক তৈরি করতে গেলেই ছোট-বড় নদী অতিক্রম করতে হতো। একসময় উত্তরাঞ্চলের মানুষ কখনো ভাবতেই পারেনি সকালে রওনা দিয়ে দুপুরে ঢাকা পৌঁছে যাবে। আবার কাজ শেষ করে সেদিনই ফিরে আসা সম্ভব হবে। ১৯৯৮ সালের ২৩ জুন যমুনায় বঙ্গবন্ধু সেতুর উদ্বোধন করা হয়। সে সময়েই বহুপ্রতীক্ষিত দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের যোগাযোগের সুবিধার জন্য স্বপ্নের পদ্মা সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

পদ্মা বহুমুখী সেতু শুধু দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের নয়, পুরো বাংলাদেশের অর্থনীতিই বদলে দেবে। আরো বিশদভাবে বলতে গেলে এই সেতু দক্ষিণ এশিয়া ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার যোগাযোগ, বাণিজ্য, পর্যটনসহ অনেক ক্ষেত্রেই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সব মিলিয়ে এই সেতু আসলেই দেশের মানুষের স্বপ্নের সেতু হয়ে উঠেছে।

এ ছাড়া এই সেতুটি ভবিষ্যতে ট্রান্স-এশীয় রেলপথের অংশ হবে। তখন যাত্রীবাহী ট্রেন যত চলবে, তার চেয়ে অনেক অনেক বেশি চলবে মালবোঝাই ট্রেন। ডাবল কনটেইনার নিয়ে ছুটে চলবে ট্রেন। ঢাকা ও চট্টগ্রামের সঙ্গে যুক্ত হবে মোংলা ও পায়রা বন্দর। অর্থনীতিতে যুক্ত হবে নতুন সোনালি স্বপ্ন এবং দেশের প্রবৃদ্ধিতে এ সেতু ব্যাপক ভূমিকা পালন করবে।

পদ্মা সেতুর কারণে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনীতির চাকা ঘুরে যাবে দ্রুত। বাড়বে জীবনযাত্রার মান ও কর্মসংস্থান। উত্তরবঙ্গের সঙ্গে রাজধানী ঢাকা এবং দেশের অন্যান্য জেলার অধিবাসীদের প্রাত্যহিক কর্মকাণ্ডে প্রতিবন্ধক ছিল যমুনা নদী। এ নদীর ওপর যখন বঙ্গবন্ধু সেতু নির্মিত হলো, পাল্টে যায় অর্থনীতির গতিপথ।

পদ্মা সেতু কৃষি, শিল্প, অর্থনীতি, শিক্ষা, বাণিজ্য- সব ক্ষেত্রেই এই সেতুর বিশাল ভূমিকা থাকবে। দক্ষিণাঞ্চলের কুয়াকাটা ও সুন্দরবনসংলগ্ন ছোট ছোট বিভিন্ন দ্বীপ পর্যটন উপযোগী করা যাবে। কুয়াকাটা সমুদ্রসৈকত, সুন্দরবন ও পায়রা বন্দর ঘিরে দেখা দেবে পর্যটনের বিপুল সম্ভাবনা।

পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর সড়ক ও রেল- দুই পথেই দক্ষিণ বাংলার মানুষ অল্প সময়ে ঢাকায় যাতায়াত করতে পারবে। সেতুটির কারণেই প্রথমবারের মতো পুরো দেশ একটি সমন্বিত যোগাযোগ কাঠামোতে চলে আসবে। দক্ষিণ বাংলার গ্রামেও পরিবর্তনের হাওয়া লাগবে। এ অঞ্চলের কৃষক, মৎস্যজীবী, তাঁতি, ছোট ও মাঝারি ব্যবসায়ী বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ভোক্তার সমাবেশ যে রাজধানী ঢাকা, তার সঙ্গে অনায়াসে সংযুক্ত হতে পারবেন। অন্যদিকে তারা রাজধানী থেকে কাঁচামাল সংগ্রহ করে নিয়ে যেতে পারবেন তাদের গ্রামের ও আশপাশের এসএমই উদ্যোগগুলোর জন্য। এরই মধ্যে পদ্মা সেতু হবে শুনেই ব্যবসা-বাণিজ্যের পরিবেশ উন্নত হতে শুরু করেছে। পদ্মা সেতুর দুই পাড়েই এক্সপ্রেসওয়ের পাশের জমির দাম তিন-চারগুণ বেড়ে গেছে।

নতুন নতুন ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্প-কারখানা, আবাসন প্রকল্প, রিসোর্ট, বিশ্ববিদ্যালয়, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল, হাইটেক পার্ক, মানবসম্পদ প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, রেস্টুরেন্ট ও নানা ধরনের এসএমই উদ্যোগ স্থাপনের হিড়িক পড়ে গেছে। খুলনা ও বরিশালে জাহাজ নির্মাণশিল্পের প্রসার ঘটতে শুরু করেছে। কুয়াকাটায় পর্যটনশিল্পের বিকাশ ঘটছে দ্রুতগতিতে। আগামী দিনে বিকাশের এ ধারা আরো বেগবান হবে। পদ্মা সেতুর ওপর দিয়ে রেলের পাশাপাশি গ্যাস, বিদ্যুৎ এবং ইন্টারনেট অবকাঠামোও স্থাপিত হবে। এর ফলে কলকাতার সঙ্গে ঢাকার যোগাযোগের সময় প্রায় অর্ধেকে নেমে আসবে। এর প্রভাব বাংলাদেশ, ভারত, ভুটান ও নেপালের মধ্যে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে। পায়রা ও মোংলা সমুদ্রবন্দরের পণ্যসেবার পরিমাণ বাড়বে। নতুন নতুন জাহাজ ভিড়বে। ইন্টারনেট সেবা সহজেই পেলে দক্ষিণাঞ্চলে ডিজিটাল ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে। ফ্রিল্যান্সারদের সংখ্যা বাড়বে। আর গ্যাস ও বিদ্যুৎ সহজলভ্য হলে এ অঞ্চলে ব্যবসা-বাণিজ্যের বিকাশও ঘটবে। কৃষিসহ দক্ষিণাঞ্চলের সামগ্রিক উৎপাদন, সেবা, পর্যটন, শিল্প-বাণিজ্যেও বিনিয়োগ বাড়বে। বাড়বে কর্মসংস্থান। আর সেটা হলে এখন যে জলবায়ু চ্যালেঞ্জের শিকার অসংখ্য শ্রমজীবী মানুষ গ্রাম ছেড়ে ঢাকায় এসে ঝুঁকিপূর্ণ অনানুষ্ঠানিক কাজকর্ম করতে বাধ্য হচ্ছে, তাদের সংখ্যা কমে আসবে। দক্ষিণ বাংলায় নতুন নতুন শিল্প-কারখানা গড়ে উঠবে। নতুন নতুন শহরও গড়ে উঠবে।

পদ্মা সেতু ঘিরে পদ্মার দুই পাড়ে সিঙ্গাপুর ও চীনের সাংহাই নগরের আদলে শহর গড়ে তোলার চিন্তাভাবনা রয়েছে। নদীর দুই তীরে আসলেই আধুনিক নগর গড়ে তোলা সম্ভব। তবে সেজন্য দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিতে হবে। জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে যাবে। আর প্রতি বছর দারিদ্র্য নিরসন হবে শূন্য দশমিক ৮৪ ভাগ। এর মাধ্যমে আর্থসামাজিক উন্নয়নে দক্ষিণাঞ্চলের ২১ জেলার প্রায় ৬ কোটি মানুষের ভাগ্যে পরিবর্তন আনবে পদ্মা সেতু। একসময় দেশের উত্তরাঞ্চলে মঙ্গা দেখা দিত। এখন মঙ্গার কথা আর তেমন একটা শোনা যায় না। বঙ্গবন্ধু সেতু উত্তরাঞ্চলের এই মঙ্গা দূর করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে চলেছে। ঠিক একইভাবে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের জেলাগুলো এখনো শিল্পের দিক দিয়ে বেশ পিছিয়ে রয়েছে। এ এলাকার বেশ কয়েকটি জেলার মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে। পদ্মা সেতু নির্মাণকাজ শেষ হলে সবার আগে উপকার হবে এই পিছিয়ে পড়া মানুষগুলোর। কারণ পদ্মা সেতুর কল্যাণে ওইসব এলাকায় ব্যাপক আকারে শিল্পায়ন হবে, লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান হবে। মানুষের আয় বাড়বে এবং জীবন-জীবিকায় পরিবর্তন আসবে।

২০৩৫-৪০ সালে বাংলাদেশ যে উন্নত দেশ হবে, সেক্ষেত্রে এই সেতু নিঃসন্দেহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সব মিলিয়ে বলা যায়, স্বপ্নের এই সেতুকে কেন্দ্র করেই সেতু অর্থনীতির সেতুবন্ধন ও নতুন দিগন্ত উন্মোচিত করবে। বাংলাদেশ আজ উন্নয়নশীল দেশের পথে। তাছাড়া পদ্মা সেতু শুধু একটি সেতুই নয়, এটি আমাদের উন্নয়ন, অহংকার, অহংকারের প্রতীক। আত্মমর্যাদা, আত্মপরিচয়, যোগ্যতা সর্বোপরি বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার প্রত্যয়ের ফসল। বিশ্বের অন্যতম সুখী দেশের পথে বাংলাদেশও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে।


লেখক : প্রাবন্ধিক ও গবেষক


আরও খবর



চা বাগানে ঘেরা হ্রদের শহর মিরিক

প্রকাশিত:সোমবার ২০ জুন ২০22 | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 |
Image

দার্জিলিং জেলার পাহাড়ে অবস্থিত একটি অপূর্ব সুন্দর প্রাকৃতিক দৃশ্য শোভিত স্থান মিরিক। মিরিক শব্দটি এসেছে লেপচা শব্দ 'মির-ইয়ক' থেকে। এর অর্থ 'আগুনে পুড়ে যাওয়া স্থান' মিরিক শহরটির অবস্থানের অক্ষাংশ দ্রাঘিমাংশ হল ২৬.° উত্তর ৮৮.১৭° পূর্ব। সমূদ্র সমতল থেকে মিরিকের গড় উচ্চতা ১৪৯৫ মিটার (৪৯০৫ ফুট) এখানকার উচ্চতম স্থান বোকার গোম্ফার উচ্চতা প্রায় ১৭৬৮ মিটার (৫৮০১ ফুট) নিম্নতম স্থান মিরিক লেক ১৪৯৪ মিটার (৪৯০২ ফুট) উচ্চতায় অবস্থিত।

কলকাতা থেকে ট্রেন, বাসে পৌঁছতে হবে শিলিগুড়ি। বিমানে বাগডোগরা পৌঁছতে বেশি সময় লাগে না। শিলিগুড়ি থেকে ৫২ এবং বাগডোগরা থেকে ৫৫ কিলোমিটার দূরত্ব অবস্থিত মিরিকে পৌঁছনো যায় সড়ক পথে। সঙ্গী হয় বাস কিংবা প্রাইভেট বা ভাড়া করা গাড়ি। পথিমধ্যে পার্বত্য শোভা পর্যটকদের মুগ্ধ করে।

মনোরম আবহাওয়া, প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সুগম হওয়ার কারণে মিরিক একটি পর্যটন কেন্দ্র হয়ে উঠেছে। এখানকার মূল আকর্ষণ সুমেন্দু হ্রদ। হ্রদের একদিকে বাগান, অন্য দিকে পাইন গাছের সারি।

কয়েক বছর আগে পর্যটকরা কেবল দার্জিলিং যাওয়ার পথেই ঢুঁ মারতেন হ্রদের শহর মিরিকে। মায়াবী প্রকৃতি, সুমেন্দু হ্রদে নৌকোবিহার, সুস্বাদু খাবারদাবার সবই উপভোগ করার মতো। কিন্তু রাতে থাকতেন না। এখন অবশ্য পরিস্থিতি বদলেছে।

চারদিকে ঘিরে আছে বিখ্যাত সব চা বাগান সৌরিনী, থুর্বো, গোপালধারা, ফুগুরি। মনের প্রশান্তি চাইলে কিছুক্ষণ বসতে পারেন তিব্বতি বৌদ্ধ মঠ বোকার গুম্ফায়। পাইনের ঘন অরণ্যে গেলে ইচ্ছে করবে রহস্যময়ী প্রকৃতির মধ্যে হারিয়ে যেতে। রামিতে দারা ভিউ পয়েন্ট থেকে চোখে পড়বে রাজকীয় কাঞ্চনজঙ্ঘা। আরও বেশ কিছু ভিউ পয়েন্ট রয়েছে, যেগুলো থেকে সূর্যোদয় এবং সূর্যাস্তের অপরূপ শোভা চাক্ষুষ করতে পারবেন।

তবে প্রধান আকর্ষণ সুমেন্দু হ্রদ। তাকে ঘিরে সাবিত্রী পুষ্পোদ্যান নামের বাগান। নেতাজি সুভাষচন্দ্রের আজাদ হিন্দ ফৌজে অংশ নিয়ে যুদ্ধে শহিদ হন সাবিত্রী থাপা।তাঁকে শ্রদ্ধা জানিয়ে এই নাম রাখা হয়েছে। হ্রদের দুধারে পাইন গাছের জঙ্গল। ইন্দ্রেনি পুল নামের একটি বাঁকানো সেতু দিয়ে জুড়ে আছে দুই পাড়। আজাদ হিন্দ ফৌজের আরেক শহিদ ইন্দ্রেনি থাপার স্মরণে এই সেতু। প্রায় সাড়ে কিলোমিটার লম্বা রাস্তা ঘিরে আছে হ্রদকে। একা বা কোনও সঙ্গীকে নিয়ে হাঁটলে বেশ মজা পাবেন। আকাশ পরিষ্কার থাকলে দিগন্তে কাঞ্চনজঙ্ঘা দেখা যায়।

মিরিকে পর্যটনকেন্দ্র গড়ে তোলার কাজ শুরু হয় ১৯৬৯ সালে। থুর্বো চা বাগান থেকে ৩৩৫ একর জমি কিনে নেয় পশ্চিমবঙ্গ পর্যটন দপ্তর। কয়েক বছর আগে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রশাসন উপলব্ধি করতে পারে, বিশ্বমানের ট্যুরিস্ট স্পট হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে মিরিকে। পর্যটকদের কাছে ছোট্ট এই শহরকে আরও লোভনীয় করে তোলার কাজ চলছে।

 


আরও খবর

কুয়াকাটা সৈকতে হয়রানি

বৃহস্পতিবার ০২ জুন 2০২2