Logo
শিরোনাম

মেট্রোরেল চলবে পাঁচ মিনিট পরপর

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১৪ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১৩ জুন ২০২৪ |

Image

যাত্রীদের চাহিদার কথা ভেবে চলতি মাস থেকেই পাঁচ মিনিট পরপর চলবে মেট্রোরেল। ভবিষ্যতে এটি সাড়ে তিন মিনিটে নামিয়ে আনার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রকল্পের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ এন ছিদ্দিক। এদিকে, মেট্রোরেল নির্মাণে নেওয়া ঋণের ৭৫ কোটি টাকা এরই মধ্যে পরিশোধ করেছে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ।

বর্তমানে অফিসের সময় বা পিক আওয়ারে ৮ মিনিট এবং অফিস সময়ের পর যেকোনো স্টেশন থেকে ১০ থেকে ১২ মিনিট অন্তর মিলছে মেট্রোরেল। কিন্তু দেখা গেছে অফিস সময় ছাড়াও বিকেল কিংবা সন্ধ্যায়ও যাত্রীতে ঠাসা থাকে মেট্রোরেল। অনেক সময় ব্যর্থ হয়ে পরের ট্রেনের অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে যাত্রীদের। এসব দিক বিবেচনা করে মেট্রো চলাচলের সময় আরো কমিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

মেট্রোরেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম এ এন ছিদ্দিক জানান, চূড়ান্ত লক্ষ্য দুই ট্রেনের মাঝে বিরতি সাড়ে তিন মিনিটে নামিয়ে আনা। তবে এখন পিক আওয়ারে কর্মক্ষেত্রে যাতায়াতের সুবিধার জন্য ৫ মিনিট অন্তর ট্রেন চলাচলের সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি চার ঘণ্টার পিক আওয়ারও বাড়ানো হতে পারে।

মেট্রোরেল নির্মাণে ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। যার প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা জাইকা আর বাকি টাকার যোগান দিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। এবার সেই ঋণের কিস্তি শোধ করতে শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ।

মেট্রোরেলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক জানান, এরই মধ্যে তিন কিস্তির ৭৫ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। ৪০ বছর ধরে ঋণের পুরো টাকা শোধ করবে মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষ।


আরও খবর



জামায়াতের রাজনীতি সমর্থন করি না: ফখরুল

প্রকাশিত:রবিবার ০২ জুন 2০২4 | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ১১ জুন ২০২৪ |

Image

নিজস্ব প্রতিবেদক:

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমি জামায়াতের রাজনীতি সমর্থন করি না। কিন্তু তাদের যে সাংগঠনিক কাঠামো তা অত্যন্ত বিজ্ঞানসম্মত। 


নিজেরা নিজেরা পড়ালেখা করে ও পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়। রোববার (২ জুন) দুপুরে ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবের এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।



বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের ৪৩ তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে এই আলোচনা সভার আয়োজন করে জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশন (জেডআরএফ)।


ফখরুল বলেন, ক্ষমতাসীন সরকার দেশপ্রেমিক নয়, ওরা বর্গী। সেজন্যই দেশের টাকা লুটে বিদেশে নিয়ে যাচ্ছে। ক্ষমতাসীনরা আজ দুর্নীতিতে আকণ্ঠ নিমজ্জিত। জাতি এখন দ্বিধা বিভক্ত। জিয়াউর রহমান তো নিজে রাজনীতিতে আসেননি। 



তাকে নিয়ে আসা হয়েছিল। ৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তার নেতৃত্ব দেখে ৭৫ সালে সৈনিকেরা তাকে ফের দায়িত্ব দিয়েছিলেন।


তিনি বলেন, আজকে পত্রিকা খুললে শুধু লুট আর লুটের খবর। কারা লুট করছে? যারা বড় বড় কর্তা। সেই আর্মির প্রধান, পুলিশের সাবেক আইজি তারা কী করেছে? সংসদে ভদ্রলোক কয়জন খুঁজে পাবেন? বাংলাদেশ ব্যাংক লুট করছে। রিজার্ভের ডলার লুট করে নিয়ে যাচ্ছে। 


শেয়ার বাজারে রথি মহারথিরা লুট করছে। তারা এতো বড় মানুষ তাদের পাশে যাওয়া যায় না। কেউ দরবেশ, কেউ মাফিয়া, কেউ হুজুর। আজকে চট্টগ্রামে ইসলামী ব্যাংক থেকে ১৫০ ভরি স্বর্ণ গায়েব হয়ে গেছে। কোথাও কোনো জবাবদিহিতা নেই।


বিএনপির মহাসচিব বলেন, জিয়াউর রহমানের পররাষ্ট্রনীতি জানলে আশ্চর্য হতে হবে। তিনি দেশকে একটি তলাবিহীন ঝুড়ি থেকে সমৃদ্ধ বাংলাদেশে পরিণত করেছিলেন। ক্ষমতায় আসার পর দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে সুসংহত করতে উদ্যোগ নেন। 


সকল রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করেছিলেন। তিনি ছিলেন দেশপ্রেমিক। সেজন্যই সকল রাজনৈতিক দল তার ওপর আস্থা রেখেছিল। কমিউনিস্ট পার্টি ও মোজাফফর সাহেবের ন্যাপ জিয়াউর রহমানের ১৯ দফাকে সমর্থন দিয়েছিলেন।


সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনারের সভাপতিত্বে ও শাহাদাত বার্ষিকী উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী মাহবুব আলমের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য দেন  ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সাবেক শিক্ষক অধ্যাপক ড. নূরুল আমিন বেপারী, সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের সদস্য সচিব কাদের গণি চৌধুরী প্রমুখ। 


আরও খবর



১৭ জুন ঈদুল আজহা, জানাল আবহাওয়া অধিদপ্তর

প্রকাশিত:বুধবার ০৫ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১৩ জুন ২০২৪ |

Image

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, এবার ১৭ জুন ঈদুল আজহা উদযাপিত হতে পারে। মুসলমানদের দ্বিতীয় বড় ধর্মীয় উৎসব ঈদুল আজহা।

জিলহজ মাসের ১০ তারিখে ঈদুল আজহা উদযাপিত হয়। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে এ তারিখ জানায় জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি। তবে এর আগে চাঁদের স্থানাঙ্ক জানালো বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর।

সরকারি সংস্থাটির হিসাব অনুযায়ী, শুক্রবার বাংলাদেশের আকাশে জিলহজ মাসের চাঁদ দেখা যাওয়ার কথা। সেক্ষেত্রে দেশে আগামী ১৭ জুন ঈদুল আজহা উদযাপিত হতে পারে।

আবহাওয়াবিদ নাইমা বাতেন স্বাক্ষরিত জিলহজ মাসের চাঁদের স্থানাঙ্ক বিবরণীতে বলা হয়েছে, আগামী ৬ জুন (বৃহস্পতিবার) বাংলাদেশ মান সময় সন্ধ্যা ৬টা ৩৮ মিনিটে অমাবস্যা শেষ হয়ে ১৪৪৫ হিজরি সনের জিলহজ মাসের নতুন চাঁদের জন্ম হবে। ওই দিন ৬টা ৪৪.১ মিনিটে সূর্যাস্তের সময় চাঁদের বয়স হবে ০.০০৪২ দিন এবং সান্ধ্যকালীন গোধূলি শেষ হওয়ার ২২ মিনিট আগে চন্দ্রাস্ত হবে।

পরের দিন শুক্রবার (৭ জুন) ৬টা ৪৪.৫ মিনিট সূর্যাস্তের সময় চাঁদের বয়স হবে ১.০০৪৫ দিন এবং সান্ধ্যকালীন গোধূলি শেষ হওয়ার ৪১.৯ মিনিট পর চন্দ্রাস্ত হবে। ওই দিন বিকেল ৪টা ১৫.৬ মিনিটে প্রতিপদ শেষ হয়ে দ্বিতীয়া শুরু হবে।

পরের দিনে শনিবার (৮ জুন) ৬টা ৪৪.৮ মিনিটে সূর্যাস্তের সময় চাঁদের বয়স হবে ২.০০৪৮ দিন এবং সান্ধ্যকালীন গোধূলি শেষ হওয়ার এক ঘণ্টা ৩৮.১ মিনিট পর চন্দ্রাস্ত হবে বলেও জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদফতর।

ইসলামিক ফাউন্ডেশন থেকে জানা গেছে, ঈদুল আজহা উদযাপনের তারিখ নির্ধারণে আগামী শুক্রবার মাগরিবের নামাজের পর রাজধানীর বায়তুল মোকাররমে ফাউন্ডেশনের সভাকক্ষে সভায় বসবে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটি। ধর্মমন্ত্রী মো. ফরিদুল হক খানের সভায় সভাপতিত্ব করার কথা রয়েছে। সেখানে চাঁদ দেখার সংবাদ পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। তবে ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী, চান্দ্র মাস শুরু হাওয়ার ক্ষেত্রে খালি চোখে চাঁদ দেখার শর্ত রয়েছে।

শুক্রবার চাঁদ দেখা গেলে শনিবার (৮ জুন) জিলহজ মাস শুরু হবে। এক্ষেত্রে আগামী ১৭ জুন (১০ জিলকদ, সোমবার) দেশে ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে। এক্ষেত্রে জিলকদ মাস ২৯ দিনেই শেষ হবে। শুক্রবার চাঁদ দেখা না গেলে শনিবার জিলকদ মাসের ৩০ দিন পূর্ণ হবে। তখন জিলহজ মাস শুরু হবে রোববার (৯ জুন)। সেক্ষেত্রে ১৮ জুন (মঙ্গলবার) দেশে ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে।


আরও খবর



ঈদের পর থেকে সরকারি অফিসের নতুন সময়ূচি : মন্ত্রীসভায় অনুমোদন

প্রকাশিত:সোমবার ০৩ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১৩ জুন ২০২৪ |

Image



নিজস্ব প্রতিবেদক:


দেশের সব সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও আধাস্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের জন্য অফিসের নতুন সময়সূচি নির্ধারণ করেছে সরকার। 


আজ সোমবার (৩ জুন) প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভা বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়। 


নতুন সময়সূচি অনুযায়ী, এখন থেকে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলবে অফিস সূচি। দুপুর ১টা থেকে ১টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত থাকবে নামাজের বিরতি। 


বৈঠক শেষে সচিবালয়ে ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেন এতথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ঈদুল আজহার ছুটির পর প্রথম রোববার থেকে এই নতুন সময়সূচি কার্যকর হবে।



আরও খবর



মালয়েশিয়ায় পুলিশ স্টেশনে হামলা, নিহত ৩

প্রকাশিত:শুক্রবার ১৭ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ১০ জুন ২০২৪ |

Image

ডিজিটাল ডেস্ক:

মালয়েশিয়ার জোহর রাজ্যের একটি পুলিশ স্টেশনে শুক্রবার সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। ঘটনায় সন্দেহভাজন হামলাকারী এবং দুই কনস্টেবল নিহত হয়েছেন। এছাড়াও অন্য একজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।

সূত্রের বরাতে স্ট্রেইটস টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সন্দেহভাজন হামলাকারী রাত আড়াইটার দিকে জোহর রাজ্যের উলু তিরাম থানায় আসেন। এ সময় দায়িত্বরত এক কনস্টেবলকে গুলি করা হলে তিনি ঘটনাস্থলেই মারা যান।


গুলির শব্দ শুনে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন আরেক কনস্টেবল। এরপর প্রথমে গুলিবিদ্ধ কনস্টেবলের বন্দুক দিয়ে তাকেও গুলি করে হত্যা করা হয়।

জোহরের পুলিশ প্রধান এম কুমার বলেন, সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে ঘটনাস্থলেই গুলি করে হত্যা করা হয়েছে।


ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন জোহরের পুলিশ প্রধান এম কুমার। ছবি: বের্নামা নিউজ এজেন্সি
পুলিশের মহাপরিদর্শক রাজারুদ্দিন হোসেন বলেন, ওই ব্যক্তিকে জেমা ইসলামিয়া (জেআই) চরমপন্থী গোষ্ঠীর সদস্য বলে ধারণা করা হচ্ছে।

জেআই সদস্য সন্দেহে দুই ছাত্র ও ৬২ বছর বয়সী একজনসহ মোট সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে পাঁচজন সন্দেহভাজন ব্যক্তির পরিবারের সদস্য। ৬২ বছর বয়সী লোকটি তার বাবা।

জেমা ইসলামিয়া মূলত ইন্দোনেশিয়া ভিত্তিক একটি জঙ্গী গোষ্ঠী। তারা দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ায় ইসলামিক স্টেট প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করে যাচ্ছে।

রাজারুদিন আরও বলেন, ‘আমি আমাদের স্পেশাল ব্রাঞ্চকে নির্দেশ দিয়েছি জোহরের সকল জেআই সদস্যকে গ্রেপ্তার করে তদন্ত করতে। জোহরে জেআইয়ের প্রায় ২০ জন চিহ্নিত সদস্য রয়েছে।

মালয়েশিয়ার পুলিশ জানিয়েছে, হামলায় নিহত পুলিশরা দুই বছরের কম সময় ধরে চাকরি করছেন। তারা উলু তিরাম স্টেশনের অপরাধ প্রতিরোধ টহল ইউনিটে দায়িত্বরত ছিল।

মালয়েশিয়ার রাজা সুলতান ইব্রাহিম ইস্কান্দার নিহত পুলিশদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।


আরও খবর



বিশ্বে বায়ু দূষণে অকাল মৃত্যুতে সর্বোচ্চ এশিয়া

প্রকাশিত:সোমবার ১০ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ১২ জুন ২০২৪ |

Image

মানবসৃষ্ট নির্গমন ও দাবানলের মতো অন্যান্য উৎস থেকে ছড়িয়ে পড়া দূষণে বিশ্বজুড়ে ১৯৮০ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে প্রায় সাড়ে ১৩ কোটি মানুষের অকাল মৃত্যু ঘটেছে। সিঙ্গাপুরের নানিয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটির (এনটিইউ) এক গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে। সোমবার প্রকাশিত এই গবেষণায় বলা হয়েছে, এল নিনো এবং ভারত মহাসাগরের ডাইপোলের মতো আবহাওয়ার ঘটনাগুলো বাতাসে দূষণের ঘনত্বকে তীব্র করে তুলছে। এর ফলে দূষণকারী অন্যান্য উপাদানের ওপর এর ভয়াবহ প্রভাব পড়ছে।

গবেষকরা বলেছেন, বস্তুকণা পিএম-২.৫ এর ক্ষুদ্র কণাগুলো শ্বাসের সাথে মানবদেহে প্রবেশ করছে। এই বস্তুকণা রক্ত ​​​​প্রবাহে প্রবেশ করার মতো যথেষ্ট ছোট হওয়ায় তা স্বাস্থ্যের জন্য ভয়াবহ বিপদ ডেকে আনছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বস্তুকণা পিএম-২.৫ হলো বাতাসে থাকা সব ধরনের কঠিন এবং তরল কণার সমষ্টি, যার বেশিরভাগই বিপজ্জনক। মানব স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকারক বিভিন্ন ধরনের রোগ যেমন প্রাণঘাতী ক্যানসার ও হৃদযন্ত্রের সমস্যা তৈরি করে পিএম-২.৫। এছাড়া বায়ু দূষণকারী আরেক পদার্থ এনও২ প্রধানত পুরোনো যানবাহন, বিদ্যুৎ কেন্দ্র, শিল্প স্থাপনা, আবাসিক এলাকায় রান্না, তাপদাহ এবং জ্বালানি পোড়ানোর কারণে তৈরি হয়।

ডব্লিউএইচও বায়ুমান নির্দেশক গাইডলাইন বলছে, পিএম২.৫ নামে পরিচিত ছোট এবং বিপজ্জনক বায়ুকণার গড় বার্ষিক ঘনত্ব প্রতি ঘনমিটারে ৫ মাইক্রোগ্রামের বেশি হওয়া উচিত নয়। তবে এরচেয়েও কম ঘনত্ব উল্লেখযোগ্য স্বাস্থ্য ঝুঁকির কারণ হতে পারে। কিন্তু বর্তমানে বিশ্বের অনেক শহরের বাতাসে এসব কণার মারাত্মক উপস্থিতি রয়েছে।

এনভায়রনমেন্ট ইন্টারন্যাশনাল সাময়িকীতে প্রকাশিত সমীক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয়টি বলেছে, ১৯৮০ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত বিশ্বজুড়ে প্রায় ১৩ কোটি ৫০ লাখ মানুষের অকাল মৃত্যুর সঙ্গে ওই সূক্ষ্ম কণার সম্পর্ক রয়েছে।

গবেষণায় দেখা গেছে, হার্ট, ফুসফুসের সমস্যা, স্ট্রোক ও ক্যানসারসহ যেসব রোগের বা অবস্থার চিকিৎসা আছে কিংবা প্রতিরোধ করা যেতে পারে, সেসব রোগে আক্রান্তরা মানুষের গড় আয়ুর চেয়ে কম বয়সে মারা যাচ্ছেন। আবহাওয়ার এসব বৈরী ধরন ১৪ শতাংশ মৃত্যু বাড়িয়েছে বলে গবেষণায় উঠে এসেছে।

এনটিইউ বলেছে, দূষণ সংশ্লিষ্ট ঘটনায় ওই সময়ের মধ্যে বিশ্বে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক মানুষের মৃত্যু ঘটেছে এশিয়ায়। ১৯৮০ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে এশিয়ায় এসব ঘটনায় ৯ কোটি ৮০ লাখেরও বেশি মানুষের অকাল মৃত্যুতে ভূমিকা রেখেছে পিএম-২.৫ দূষণ; যাদের বেশিরভাগই মারা গেছেন চীন এবং ভারতে। এছাড়া বাংলাদেশ, পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়া এবং জাপানেও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষের অকাল মৃত্যু হয়েছে। এই চার দেশে একই সময়ে অকালে প্রাণ হারিয়েছেন ২০ থেকে ৫০ লাখ মানুষ।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, শুধুমাত্র বায়ু দূষণের কারণে প্রত্যেক বছর বিশ্বজুড়ে প্রায় ৬৭ লাখ মানুষের প্রাণহানি ঘটে।

সিঙ্গাপুরের বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়টির বায়ুর গুণমান ও জলবায়ুর ওপর চালানো এই গবেষণাকে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বিস্তৃত ও বৃহৎ পরিসরের বলে উল্লেখ করা হয়েছে। কারণ এই গবেষণায় এনটিইউয়ের গবেষকরা স্বাস্থ্যের ওপর বস্তুকণা-২.৫ এর বিশাল প্রভাবের চিত্র হাজির করতে প্রায় ৪০ বছরের ডেটা ব্যবহার করেছেন।

এনটিইউয়ের এশিয়ান স্কুল অব দ্য এনভায়রনমেন্টের সহযোগী অধ্যাপক স্টিভ ইম এই গবেষণার নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, জলবায়ুর বৈশিষ্ট্যের পরিবর্তন যে, বায়ু দূষণকে আরও খারাপ করে তুলতে পারে আমাদের গবেষণার ফলাফলে সেই চিত্র উঠে এসেছে।

স্টিভ ইম বলেন, এল নিনোর মতো জলবায়ুর নির্দিষ্ট কিছু ঘটনায় দূষণের মাত্রা বেড়ে যেতে পারে। যার অর্থ পিএম-২.৫ দূষণের কারণে মানুষের অকাল মৃত্যু ঘটতে পারে। বিশ্বজুড়ে জনস্বাস্থ্যের সুরক্ষায় বায়ু দূষণ মোকাবিলা করার সময় জলবায়ুর এসব বৈশিষ্ট্য বোঝার ও এই বিষয়ে হিসেব-নিকেশ করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে আমাদের এই গবেষণা।

সিঙ্গাপুরের নানিয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটির এই গবেষণায় হংকং, যুক্তরাজ্য ও চীনের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরাও অংশ নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন তিনি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, শুধুমাত্র বায়ু দূষণের কারণে প্রত্যেক বছর বিশ্বজুড়ে প্রায় ৬৭ লাখ মানুষের প্রাণহানি ঘটে।


আরও খবর