Logo
শিরোনাম
নেত্রকোনায় পৃথক স্থানে শিশু ও দুই নারীসহ চারজনপর মরদেহ উদ্ধার সমবায়ের মাধ্যমে চাষাবাদ করার আহ্বান পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রীর জয়পুরহাট সরকারি কলেজে কর্তৃপক্ষের শর্ত মেনে ক্যাম্পাসে প্রবেশের নির্দেশনা রাজবাড়ীতে সড়ক দূর্ঘটনায় পুলিশ সদস্যের মৃত্যু কিশোরগঞ্জের ভৈরবে ২০ কেজি গাঁজাসহ প্রাইভেটকার জব্দ সাত পৃষ্ঠার চিরকুট লিখে কলেজ ছাত্রীর আত্মহতা লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে প্রণোদনার সার-বীজ নিয়ে কর্মকর্তাদের নয়-ছয় নেত্রকোনায় হাওড়ে নৌকা ডুবে দুই নারীর মৃত্যু নেত্রকোনায় ইমাম হত্যার বিচার দাবিতে মানববন্ধন নেত্রকোনায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পদযাত্রা ও স্মারক লিপি প্রদান

মোদির সামনে চ্যালেঞ্জ

প্রকাশিত:শুক্রবার ০৭ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ১৪ জুলাই ২০২৪ |

Image

এবার ভাটা পড়ল নরেন্দ্র মোদির একক আধিপত্যে। লোকসভা নির্বাচনে জিতেও তিনি নিজের মতো করে দেশ শাসন করতে পারবেন না। পরপর দুবার দেশ শাসনে যে দাপট দেখিয়েছিলেন এবার আর সেটা সম্ভব হবে না। উঁচু গলা কিছুটা হলেও নিচু করতে হবে তাকে। 

কেননা এবার জোট সরকার গঠন করতে হবে মোদিকে। মোদির দল ভারতীয় জনতা পার্টি নিজেদেরকে নতুন ভারতের প্রতিনিধি হিসেবে দাবি করে আসছে। এমনকি কংগ্রেসকে ইঙ্গিত করে তারা বলছে তাদের হাতে বর্তমান ভারত নাকি স্বজনপ্রীতি ও দুর্নীতিমুক্ত। যদিও মোদী শাসনের বিপরীতে আছে ফ্যাসিবাদ, বেকারত্ব সমস্যা, হিন্দুত্ববাদী নীতি ও মুসলিমবিদ্বেষী মনোভাব সহ আরো অনেক অনেক অভিযোগ।

এবার নির্বাচনে বুথফেরত জরিপেও আশাহত হয়েছিলেন বিজেপি। কেননা ফলাফলে মোদির হ্যাটট্রিক জয়ের কথা থাকলেও তিনি পেয়েছেন মাত্র ২৪০ টি আসন। যদিও এবারের নির্বাচনে এটি সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন কিন্তু এককভাবে সরকার গঠনের জন্য দরকার ছিল ২৭২ টি আসন। যেটি কোন দলই পায়নি। আর এ কারণেই জোট শরীকদের কাঁধে ভর করা ছাড়া এখন বিজেপির হাতে আর কোন উপায় নেই। 

বিজেপির নেতৃত্বাধীন নরেন্দ্র মোদির সাথে জোট সরকারের গুরুত্বপূর্ণ শরিক হিসেবে থাকবে অন্ধ্রপ্রদেশের চন্দ্রবাবু নাইডুর দল টিডিপি এবং বিহারের নীতিশ কুমারের দল জেডিইউ। এছাড়াও, লোক জনশক্তি পার্টি (রামবিলাস) ও একনাথে শিন্ধের শিবসেনাসহ এমডিএ দলের ছোট ছোট দশটি শরিক দল রয়েছে।

ফলাফল প্রকাশের পর শরীকদের সাথে সরকার গঠনের জন্য মোদি সবরকম তোরজোর চালাচ্ছে। অন্যদিকে, রাজনৈতিক মহলগুলোতে আলোচনা চলছে- এককভাবে দেশ শাসন করা মোদি এখন শরিকদের কাঁধে ভর করে দেশ শাসন করতে পারবেন কিনা!

কারন, শরিকদের সাথে জোট সরকার গঠন করলে মোদীর সামনে থাকবে বহুমুখী চ্যালেঞ্জ। এর আগে, পরপর দুবার বিজেপির নেতৃত্বাধীন মোদি তার শাসনামলে নিজের সাম্প্রদায়িক উগ্র হিন্দুত্ববাদী চিন্তাধারা সাধারণ মানুষের উপর চাপিয়ে দিয়েছে। যা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়তে হয় তাকে। আর এখন সেই মোদিকেই কোন সিদ্ধান্তের জন্য নির্ভর করতে হবে জোট সরকারের ওপর। যা মোদির জন্য একটি চ্যালেঞ্জ হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।


আরও খবর



হাজির হননি বেনজীর, লিখিত বক্তব্য দিলেন দুদকে

প্রকাশিত:রবিবার ২৩ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ১৪ জুলাই ২০২৪ |

Image

বিডি টুডেস রিপোর্ট:


অতিরিক্ত সময় দেওয়ার পরেও দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) হাজির হননি পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ। তবে আইনজীবীর মাধ্যমে লিখিত বক্তব্য পাঠিয়েছেন তিনি।


রোববার (২৩ জুন) দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে দুদক সচিব খোরশেদা ইয়াসমীন সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।


তিনি বলেন, বেনজীর আহমেদের মাধ্যমে গত ২১ জুন দুদক চেয়ারম্যান বরাবর লিখিত বক্তব্য দিয়েছেন। সেখানে তিনিসহ তার স্ত্রী ও দুই মেয়ের সম্পদ সম্পর্কে ব্যাখ্যা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তবে, চিঠিতে নতুন করে সময়ের আবেদন করেননি।


খোরশেদা ইয়াসমীন বলেন, বেনজীরের অনুরোধে তাকে আরও ১৬ দিন অতিরিক্ত সময় দেওয়া হয়েছিল। তারপরেও তিনি আজ (রোববার) দুদকে আসেননি। তাকে আর সময় দেওয়া হবে না, আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


র‌্যাবকে যেসব নির্দেশনা দিলেন নতুন ডিজি

তিনি আরও বলেন, সোমবার (২৪ জুন) বেনজীরের স্ত্রী ও কন্যাদের দুদকে উপস্থিত হতে বলা হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তারা উপস্থিত না হলে তাদের বিরুদ্ধেও আইন অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


এর আগে, গত ২৮ মে বেনজীর ও তার স্ত্রী-সন্তানদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নোটিশ পাঠানো হয়। এতে বেনজীরকে ৬ জুন এবং তার স্ত্রী- সন্তানদের ৯ জুন দুদকে হাজির হতে বলা হয়। পরে গত পাঁচ জুন আইনজীবীর মাধ্যমে দুদকে হাজির হতে আরও সময় চান বেনজীর। সেই হিসেবে বেনজীরকে ২৩ জুন এবং তার স্ত্রী ও দুই কন্যাকে ২৪ জুন দুদকে হাজির হতে বলা হয়।


বেনজীর আহমেদ ২০২০ সালের এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আইজিপি এবং ২০১৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২০ সালের এপ্রিল পর্যন্ত র‌্যাবের মহাপরিচালক ছিলেন বেনজীর। তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।


বেনজীর পরিবারের সম্পদের অনুসন্ধান অব্যাহত রেখেছে দুদক। এখন পর্যন্ত যেসব সম্পদ পাওয়া গেছে, তা জব্দের আদেশ দিয়েছেন আদালত।


সর্বশেষ বেনজীর ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে ঢাকায় আরও আটটি ফ্ল্যাটের খোঁজ পাওয়ার কথা জানায় দুদক। এর মধ্যে ছয়টি ফ্ল্যাট ঢাকার আদাবরের একটি ভবনে। দুটি বাড্ডায়। রূপায়ন লিমিটেড স্কয়ার নামের ১৪ তলা ভবনে অবস্থিত বাড্ডার ফ্ল্যাট দুটি বাণিজ্যিক বা অফিস স্পেস।


বেনজীর পরিবারের নামে ঢাকায় মোট ১২টি ফ্ল্যাটের খোঁজ পাওয়া গেছে। এর আগে গুলশানে চারটি ফ্ল্যাটের খোঁজ পাওয়া গিয়েছিল।


দুদকের আবেদনের প্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগরের জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেন সম্প্রতি বেনজীর পরিবারের আটটি ফ্ল্যাট জব্দের আদেশ দেন। পাশাপাশি বেনজীর পরিবারের প্রায় ৭৬ বিঘা (২৫ একর) জমি জব্দ এবং বেসরকারি সিটিজেন টেলিভিশন ও টাইগার ক্রাফট অ্যাপারেলস লিমিটেডের শেয়ার অবরুদ্ধ করার আদেশ দিয়েছেন আদালত।


এর আগে দুই দফায় বেনজীর ও তার পরিবারের নামে গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর, কক্সবাজার ও ঢাকার সাভারে থাকা ৬২১ বিঘা জমি, ১৯টি কোম্পানির শেয়ার এবং গুলশানের ৪টি ফ্ল্যাট জব্দের আদেশ দিয়েছিলেন আদালত। 



তখন ৩০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র, ৩৩টি ব্যাংক হিসাব ও ৩টি বিও হিসাবও (শেয়ার ব্যবসার বেনিফিশিয়ারি ওনার্স অ্যাকাউন্ট) অবরুদ্ধের আদেশ দেওয়া হয়েছিল। সব মিলিয়ে বেনজীর পরিবারের নামে ৬৯৭ বিঘা জমি পাওয়া গেছে।


আরও খবর



আড়াই’শ শিশু শিক্ষার্থী পেলো একটি করে সিদ্ধ ডিম

প্রকাশিত:বুধবার ১০ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ১৪ জুলাই ২০২৪ |

Image

 চাঁদপুর প্রতিনিধি::

বিদ্যালেয়ে আড়াই"শ শিশু শিক্ষার্থী পেলো একটি করে সিদ্ধ ডিম। শিশুদের প্রোটিনের চাহিদা পূরণে এই আযোজন করেছে উপজেলা  সম্পদ কার্যালয়। ১০ জুলাই (বুধবার) প্রাণিসম্পদ সেবা সপ্তাহ উপলক্ষ্যে চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ পৌর এলকার টোরাগড় স্বর্ণকলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশু শিক্ষার্থীদের ডিম এই খাওয়ানো হয়।

এ উপলক্ষে এদিন বেলা ১২টার দিকে বিদ্যালয়ের হলরুমে আয়োজিত উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্য দিয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ শাহিন মিয়া বিদ্যালয়ের শিশু শ্রেণি থেকে ৫ম শ্রেণির মোট ২৫০ জন শিশু শিক্ষার্থীর হাতে একটি করে সিদ্ধ ডিম তুলে দেন।

 বিদ্যালয়ের সভাপতি মোহাম্মদ হাবীব উল্যাহ্’র সভাপ্রধানে ও প্রধান শিক্ষক মো. মোস্তফা কামালের সঞ্চালনে উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ শাহিন মিয়া বলেন, প্রাণিসম্পদ দিবস উপলক্ষে ২৫০ শিক্ষার্থীকে ডিম খাওয়ানো হয়েছে। ডিমে সুলভ মূল্যে উচ্চমাত্রার প্রোটিন পাওয়া যায়।  শিশুর মেধা বিকাশে সুপার ফুড হিসেবে কাজ করে ডিম। ডিমের পুষ্টিগুণ শিশু শুধু মেধাই বিকাশ করে না চোখেরও সুরক্ষা নিশ্চিত করে। তাই, প্রতিনিয়ত শিশুকে ডিম খাওয়ানোর জন্য অভিভাবকদের পরামর্শ দেন তিনি।

 অনুষ্ঠানে উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা ও সদর ক্লাস্টারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. মনিরুল ইসলাম পাটওয়ারী, উপজেলা সহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. মিজানুর রহমান, বিদ্যালয়ের বিদ্যোৎসাহী সদস্য মো. আবুল হাসেম ভুইয়া, সিনিয়র শিক্ষক রওশন আরা খানম, রুপালী রানী ঘোষ, জাহানারা বেগম, ফাতেমা আক্তার, ফাহমিদা আক্তার, সহকারী শিক্ষকসহ অভিভাবক ও শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।


আরও খবর



দক্ষিণ এশিয়ার দ্বিতীয় ব্যয়বহুল শহর ঢাকা

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১৮ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ১৪ জুলাই ২০২৪ |

Image

দক্ষিণ এশিয়ার শীর্ষ ব্যয়বহুল শহরের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে জায়গা করে নিয়েছে ঢাকা আর প্রথম অবস্থানটি নিয়েছে ভারতের মুম্বাই সম্প্রতি প্রকাশিত যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কভিত্তিক অর্থনৈতিক সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান মার্সারেরমার্সার কস্ট অব লিভিং সার্ভে-২০২৪শীর্ষক প্রতিবেদন থেকে তথ্য জানা গেছে 

প্রতিবছর বিদেশিদের জন্য বিশ্বের কোন শহরগুলো কতটা ব্যয়বহুল, সেই তালিকা প্রকাশ করে মার্সার চলতি বছরের তালিকায় দেখা গেছে, বিশ্বে ব্যয়বহুল শহর হিসেবে শীর্ষে জায়গা করে নিয়েছে হংকং এই শহর ছাড়া বিশ্বের বাকি শীর্ষ ব্যয়বহুল শহরগুলো হলোসিঙ্গাপুর, সুইজারল্যান্ডের জুরিখ, জেনেভা, বাসেল, বার্ন, যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক, যুক্তরাজ্যের লন্ডন, বাহামা দ্বীপপুঞ্জের নাসাউ এবং যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেস

তালিকায় ১৪০তম অবস্থানে আছে ঢাকা, যা দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় শীর্ষ অবস্থান। গত বছর এই তালিকায় ঢাকার অবস্থান ছিল ১৫৪ নম্বরে। সেই হিোবে এবার ঢাকা ১৪ ধাপ এগিয়েছে। তালিকার ১৩৬ নম্বরে জায়গা করে নিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে প্রথম হয়েছে মুম্বাই। বছরের তালিকায় ভারতের আরও বেশ কয়েকটি শহর স্থান পেয়েছে। দিল্লির অবস্থান ১৬৫তম, চেন্নাই ১৮৯তম, বেঙ্গালুরু ১৯৫তম, হায়দরাবাদ ২০২তম, পুনে ২০৫তম, কলকাতা ২০৭তম 

ছাড়া দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের শহরের মধ্যে শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বো ১৯০তম পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদের অবস্থান ২২৪তম তবে বিশ্বের ২২৬টি শহর নিয়ে করা এই তালিকায় নেই এশিয়ার আফগানিস্তান, ভুটান, মালদ্বীপ নেপালের কোনো শহরের নাম তালিকায় শীর্ষে রয়েছে হংকং শহরটি গত বছর এবং তার আগের বছরেও শীর্ষে ছিল আর দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে সিঙ্গাপুর 

মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানিয়েছে, বিশ্বের ২২৬টি শহরের অন্তত ২০০ বিষয়কে বিবেচনায় নিয়ে এই তালিকা প্রস্তুত করেছে মার্কিন ফিন্যান্সিয়াল সার্ভে কোম্পানি মার্সার। বিবেচনার বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছেপরিবহন, খাদ্য, পোশাক, গৃহস্থালি সামগ্রী বিনোদনের পেছনে ব্যয়


আরও খবর



পুলিশকে নিয়ে সংবাদ প্রকাশে সতর্কতার অনুরোধ

প্রকাশিত:শুক্রবার ২১ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ১৩ জুলাই ২০২৪ |

Image

বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন (বিপিএসএ) জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে গণমাধ্যম (প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া) ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক ও বর্তমান সদস্যদের নিয়ে ধারাবাহিকভাবে আংশিক, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও ঢালাও প্রতিবেদন প্রকাশ করা হচ্ছে। এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে সংগঠনটি।

পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন আজ শুক্রবার এক বিজ্ঞপ্তিতে ভবিষ্যতে পুলিশ বাহিনী সম্পর্কে কোনো ধরনের প্রতিবেদন প্রকাশের ক্ষেত্রে অধিকতর সতর্কতা অবলম্বন ও সাংবাদিকতার নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণের অনুরোধ জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ পুলিশ শত বছরের পুরনো একটি ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান। মুক্তিযুদ্ধকালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের কালজয়ী আহ্বানে সাড়া দিয়ে তৎকালীন পুলিশের বাঙালি সদস্যরা আধুনিক সমরাস্ত্রে সজ্জিত পাকিস্তান হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন। সেই থেকে শুরু। অদ্যাবধি বাংলাদেশ পুলিশের পেশাদার সদস্যরা যে কোনো সংকট ও প্রয়োজনে দেশ এবং জনগণের কল্যাণে নিজেদের জীবন বিসর্জন দিতেও কখনো কুন্ঠাবোধ করেননি।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়েছে, দেশে এক সময় উগ্র সাম্প্রদায়িকতা, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসবাদের নগ্ন থাবায় দেশবাসী চরম উৎকণ্ঠিত ছিলেন। দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ছিল চরমপন্থী সন্ত্রাসের জনপদ। বাংলাদেশ পুলিশ এই জনপদকে সন্ত্রাসমুক্ত করতে সাহসী ভূমিকা পালন করেছে। একইভাবে, বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদের প্রভাবে বাংলাদেশে গড়ে উঠা উগ্রবাদী সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে বাংলাদেশ পুলিশ দেশবাসীর সহযোগিতায় নিয়ন্ত্রণে রাখতে সফল হয়েছে। উগ্র সন্ত্রাসবাদ দমনে বাংলাদেশ পুলিশের সাফল্য বিশ্বব্যাপী ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় বাংলাদেশের ভূমিকা বিশ্বে রোল মডেল হিসেবে স্বীকৃত।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ পুলিশ শুধু দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নয়; যে কোনো মানবসৃষ্ট কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগেও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে সেবার হাত বাড়িয়ে দিতে কখনো পিছপা হয়নি। করোনা অতিমারিকালে বাংলাদেশ পুলিশের অকুতোভয় বীর সদস্যরা নিজেদের জীবন বিপন্ন করে, জীবনের মায়া তুচ্ছ করে জনগণের প্রতি গভীর মমত্ববোধ ও দায়িত্ববোধে উজ্জীবিত হয়ে সেবার মানসিকতা নিয়ে মানবিক পুলিশ হিসেবে জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে। পুলিশ কোয়ারেন্টাইন, লকডাউন বাস্তবায়নের পাশাপাশি করোনা আক্রান্ত মানুষকে হাসপাতালে পৌঁছে দিয়েছে, শুধু তাই নয়, মানুষের বাসায় ওষুধ ও খাবার পৌঁছে দিয়েছে। মানবতার চরম বিপর্যয়ের সময় করোনা আক্রান্ত হয়ে কেউ মারা গেলে যখন লাশ ফেলে প্রিয়জনরা চলে গেছে, তখন লাশের দাফন বা সৎকারের ব্যবস্থা করেছে। করোনাকালে জনগণের সেবায় ১০৯ জন পুলিশ সদস্য সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ করেছেন। তবুও পুলিশ সদস্যরা জনগণকে সেবা দেওয়া থেকে পিছপা হননি, তারা নিজের দায়িত্ববোধে ছিলেন অবিচল। করোনাকালে বাংলাদেশ পুলিশ সেবার যে উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে তা অত্যন্ত বিরল।

স্বাধীনতাবিরোধী সাম্প্রদায়িক শক্তি এবং গণতন্ত্র ও দেশবিরোধী চক্র কর্তৃক নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড যেমন ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ, বোমাবাজি ও পেট্রোল বোমাবাজদের প্রতিহত করার ক্ষেত্রে পুলিশের সফলতার কারণে উক্ত গোষ্ঠী বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনীকে প্রতিপক্ষ বিবেচনায় প্রতিনিয়তই পুলিশের বিরুদ্ধে নেতিবাচক সমালোচনায় লিপ্ত। স্বাধীনতা ও দেশবিরোধী চক্র তাদের দোসর বিদেশে পলাতক সাইবার সন্ত্রাসী কর্তৃক ধারাবাহিকভাবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিথ্যা ও অতিরঞ্জিত তথ্য প্রকাশ করে পুলিশ কর্মকর্তাদের চরিত্র হননে ব্যস্ত। তাদেরই অনুকরণে ইদানিং কোন কোন গণমাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশের বর্তমান ও প্রাক্তন সদস্য সম্পর্কে উদ্দেশ্য প্রণোদিত মানহানিকর নেতিবাচক সংবাদ প্রকাশ করছে, যা বাংলাদেশ পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ করার হীন উদ্দেশ্য বলে প্রতীয়মান হচ্ছে।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত এ ধরনের রিপোর্টের অধিকাংশ ক্ষেত্রেই কোন তথ্যসূত্রের উল্লেখ নেই। তথ্যসূত্রবিহীন বাস্তবতা বিবর্জিত অতি কথিত এ ধরনের রিপোর্টে বাংলাদেশ পুলিশের পেশাদার সদস্যদের মনোবল ক্ষুন্নের পাশাপাশি পুলিশের ভাবমূর্তি নষ্ট করার যথেষ্ট অবকাশ রয়েছে। পলাতক সাইবার সন্ত্রাসীদের অনুপ্রেরণায় বাংলাদেশ পুলিশের পেশাদার ভূমিকাকে জনসমক্ষে প্রশ্নবিদ্ধ করে পুলিশকে আসামির কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর জন্য কতিপয় মিডিয়া অত্যন্ত সচেতনভাবে ফুলিয়ে-ফাঁপিয়ে পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে এক ধরনের কুৎসিত প্রচার যজ্ঞে শামিল হয়েছে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। এছাড়াও কোনো কোনো মিডিয়া হাউজ ব্যক্তিগত আক্রোশ ও নিজস্ব স্বার্থ রক্ষায় কোনো কোনো পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে অবমাননাকর নেতিবাচক সংবাদ প্রকাশ ও প্রচার করছেন, যা সাংবাদিকতার নীতিমালা বিরোধী।

এমতাবস্থায়, কি কারণে, কার উদ্দেশ্য হাসিল এবং কার ম্যানডেট বাস্তবায়নের জন্য কতিপয় মিডিয়া বাংলাদেশ পুলিশের বিরুদ্ধে এ ধরনের কুৎসা রটনায় লিপ্ত- সেই প্রশ্ন উত্থাপন করা অযৌক্তিক নয়।

পুলিশ দুর্নীতির বিরুদ্ধে সর্বদা জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করে আসছে। কোন পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হয় না। তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থার পাশাপাশি আইনি ব্যবস্থাও গ্রহণ করা হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, আমরা বিশ্বাস করি, গণমাধ্যম সমাজের দর্পণ। গণমাধ্যম কর্তৃক গঠনমূলক সমালোচনাকে আমরা বরাবরই স্বাগত জানাই। কিন্তু গণমাধ্যমে কোন খন্ডিত বা আংশিক সংবাদ প্রকাশের প্রতিবাদ করতে চাই। গণমাধ্যমে কোনো ঘটনার সামগ্রিক চিত্র উঠে আসুক, সত্য উন্মোচিত হোক। গণমাধ্যমের রিপোর্ট হোক সত্যাশ্রয়ী ও বস্তুনিষ্ঠ। নিরপেক্ষ সংবাদ প্রকাশে পাঠকের কাছে গণমাধ্যমের দায়বদ্ধতা রয়েছে বলে মনে করি। অথচ কোনো এক রহস্যময় কারণে এক শ্রেণির মিডিয়া অতি সুকৌশলে বাংলাদেশ পুলিশকে বিতর্কিত করে আসামির কাঠগড়ায় দাঁড় করানোর অপচেষ্টায় মেতেছে, যা সৎ সাংবাদিকতার কণ্ঠরোধকারী অপসাংবাদিকতারই নামান্তর বলে পরিগণিত।

গণমাধ্যমের এ ধরনের একপেশে আচরণ সাধারণ পাঠকের সঙ্গে প্রতারণারই শামিল। এ ধরনের অপসাংবাদিকতা বাংলাদেশ পুলিশের সৎ, নিষ্ঠাবান, পেশাদার ও দেশপ্রেমিক সদস্যদের মনোবল ধ্বংসের অপপ্রয়াস বলে প্রতীয়মান হয়, যা তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বিরূপ প্রতিক্রিয়া ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা রয়েছে। এ ধরনের অপপ্রচার সন্ত্রাসীদের উৎসাহিত করা এবং দেশবিরোধী চক্রান্তের অপকৌশল কিনা তা বিবেচনার দাবি রাখে। ফলে, পুলিশি সেবাপ্রত্যাশী মানুষ তথা দেশ ও জাতি সামগ্রিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না । বাংলাদেশ পুলিশ কখনোই গণমাধ্যমের কাছে এ ধরনের অপেশাদারী সাংবাদিকতা প্রত্যাশা করেনা।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আমরা চাই, সমাজের সবার ন্যায়সংগত অধিকার সুনিশ্চিত হোক, সমাজ থেকে বঞ্চনা দূর হোক, মানুষের ন্যায়বিচার প্রাপ্তি নিশ্চিত হোক। আমাদের প্রাণপ্রিয় স্বদেশ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে মর্যাদায় আলোকিত প্রাঙ্গণে উপনীত হোক।

বাংলাদেশ পুলিশ কখনোই গণমাধ্যমের কাছে এ ধরনের অপেশাদারী সাংবাদিকতা প্রত্যাশা করেনা। আমরা চাই, সমাজের সকলের ন্যায়সংগত অধিকার সুনিশ্চিত হোক, সমাজ থেকে বঞ্চনা দূর হোক, মানুষের ন্যায়বিচার প্রাপ্তি নিশ্চিত হোক। আমাদের প্রাণপ্রিয় স্বদেশ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে মর্যাদায় আলোকিত প্রাঙ্গণে উপনীত হোক।

জননিরাপত্তা ও জনশৃঙ্খলা রক্ষার ক্ষেত্রে এ ধরনের বিভ্রান্তিকর রিপোর্ট প্রকাশ করা থেকে বিরত থাকার জন্য অনুরোধ জানানো হচ্ছে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশ পুলিশ বাহিনী সম্পর্কে কোনো ধরনের রিপোর্ট প্রকাশের ক্ষেত্রে অধিকতর সর্তকতা অবলম্বন ও সাংবাদিকতার নীতিমালা যথাযথভাবে অনুসরণের জন্যও আমরা সনির্বন্ধ অনুরোধ জানাচ্ছি। উপরের বক্তব্যটি যথাযথভাবে প্রকাশ বা প্রচারের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানানো হয় সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে।

 


আরও খবর



বশেমুরবিপ্রবির আবাসিক হলগুলো যেন ময়লার ভাগাড়

প্রকাশিত:রবিবার ১৪ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ১৪ জুলাই ২০২৪ |

Image

ছিপু মোল্লা - বশেমুরবিপ্রবি প্রতিনিধি::

বৈষম্যমূলক সর্বজনীন পেনশন প্রতাহারের দাবিতে গোপালগঞ্জের বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের(বশেমুরবিপ্রবি) কর্মচারীরা অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি পালন করছে। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলের শৌচাগার গুলোতে ময়লার ভাগাড় জমে আছে। শিক্ষার্থীরা ব্যবহার করতে পারছেনা শৌচাগারগুলো। একাধিকবার অভিযোগ জানিয়েও সমাধান করেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। পর্যাপ্ত পরিমান লোকবলের অভাবে এমন হচ্ছে বলে জানা যায়।


বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, বৈষম্যমূলক সর্বজনীন পেনশন প্রতাহারের দাবিতে সারাদেশের ন্যায় অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতিতে যায় বশেমুরবিপ্রবি কর্মচারী সমিতি। এতে নিয়মিত দায়িত্ব পালন করছেনা কর্মচারীরা। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলের শৌচাগারগুলোতে ময়লার ভাগাড় জমে আছে। শিক্ষার্থীরা জরুরি মুহূর্ত্যে শৌচাগারগুলো ব্যবহার করতে পারছেনা। এমনকি শৌচাগারগুলো নিয়মিত পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করা হয়না বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। শিক্ষার্থীরা জানান, ১০-১৫দিন পর পর শৌচাগারগুলো পরিষ্কার করা হয়। এতে দীর্ঘদিন জমে থাকা ময়লা থেকে কটা গন্ধ বের হয়। পাঠদানে মনযোগ দিতে পারছেনা আবাসিক শিক্ষার্থীরা।


আবাসিক হলগুলো ঘুরে দেখা যায়, ছেলেদের জন্য তিনটি এবং মেয়েদের জন্য দুইটি আবাসিক হলে সংস্কার করা হয়েছে। সংস্কারের অংশ হিসেবে শৌচাগারগুলোতে টাইলস, সাবান রাখার পাত্র এবং পানির নতুন ট্যাব লাগানো হয়েছে। কিন্তু শৌচাগারে সাবান অথবা লিকুইড হ্যান্ডওয়াশ ও টিস্যুর ব্যবস্থা নেই। এছাড়া ব্যবহৃত টিস্যু যত্রতত্র পড়ে আছে। যার উপর পোকা নড়াচড়া করছে। বেশিরভাগ শৌচাগারেই সাবান ও  টিস্যুর ব্যবস্থা নেই। নেই টিস্যু ফেলার পর্যাপ্ত ঝুঁড়ি। নষ্ট হওয়ার খাবার ফেলানোর ড্রামগুলো যেন পঁচাগলা ডাস্টবিন। এগুলো থেকে ছড়াচ্ছে পঁচাগলা দূর্গন্ধ। গণরুমের পাশে শৌচাগারগুলো থাকায় ডাস্টবিনের পঁচাগলা গন্ধে অনেক শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে যাচ্ছেন। দীর্ঘদিন পরিষ্কারের অভাবে ভিতর থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছে। প্রশ্রাবখানার অবস্থা আরো ভয়াবহ। কটা গন্ধে অব্যবহৃত হয়ে পড়েছে এগুলো। হলগুলোর প্রায় সব কয়টিতে একই রকম অবস্থা দেখা গিয়েছে।


একাডেমিক ভবন এবং প্রশাসনিক ভবনের চিত্রও একই। শিক্ষক এবং শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা কোনো শৌচাগারের ব্যবস্থা নেই। ফলে শিক্ষকরা বাধ্য হয়ে কমন শৌচাগার ব্যবহার করে থাকেন। কিছু শৌচাগারে পানি আছে কিন্তু বদনা নেই। আবার কয়েকটিতে বদনা আছে তো পানি নেই। এমনকি বেশিরভাগ শৌচাগারে পানি এবং বদনা কোনোটাই নেই। নেই স্যানিটাইজেশনের ব্যবস্থা। পাশাপাশি মেয়েদের জন্য আলাদা কোনো শৌচাগারের ব্যবস্থা করেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।


বিজয় দিবস হলের আবাসিক শিক্ষার্থী টনি বলেন, ঈদের আগে শৌচাগারগুলো একবার পরিষ্কার করা হয়েছে। প্রায় ১মাস হতে চললো এখনো পরিষ্কার করার কোনো নামগন্ধ নেই। আমরা এগুলো ব্যবহার করতে পারছিনা। আমাদের জন্য বিকল্প কোনো ব্যবস্থাও নেই। মামাদেরকে কয়েকবার জানানো হয়েছে কিন্তু তারা কর্মবিরতির অযুহাত দিয়ে কাজ করছেনা। রিতিমত আমরা অসুস্থ হয়ে যাচ্ছি। এভাবে চলতে থাকলে আমরা বেশিদিন টিকতে পারবনা। 


স্বাধীনতা দিবস হলের গণরুমের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক শিক্ষার্থী বলেন, আমার মনে হচ্ছেনা আমি একটি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করি। শৌচাগারের দুর্গন্ধে রিতিমত আমি অসুস্থ হয়ে যাচ্ছি। এভাবে আর কতদিন থাকতে হবে জানিনা। একাডেমিক ভবনের শৌচাগারগুলো ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। কিন্তু প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছেনা।


একাডেমিক ভবনের শৌচাগার নিয়ে শিক্ষার্থীদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ থাকলেও পর্যাপ্ত পরিমানে ব্যবস্থা নেয়নি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এবিষয়ে যোগাযোগ করা হয় পরিষ্কারকদের সুপারভাইজার মিলন সমাদ্দারের সাথে। মিলন বলেন, প্রতিটি আবাসিক হলের শৌচাগার অনেকগুলো। কিন্তু প্রতি হলের জন্য আমার লোকবল মাত্র ২জন। একজন সরকারি আরেকজন মজুরি ভিত্তিক। এই দুইজন দিয়ে প্রতিদিন শৌচাগারগুলো পরিষ্কার করা সম্ভব হচ্ছেনা। তিনি বলেন, আমার লোকবল প্রয়োজন। প্রশাসনকে এবিষয়ে অনেকবার অবগত করেছি। কিন্তু তারা কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। আমি কি করবো বলেন! শিক্ষার্থীরা আমাদেরকে কথা শোনায়। কিন্তু আমরাতো চেষ্টা করতেছি।


কর্মবিরতি নিয়ে মিলন বলেন, কর্মবিরতির সময় কর্মবিরতি চলবে। একজন কর্মবিরতি পালন করলে আরেকজন কাজ করবে। এভাবেই চালিয়ে নিতে হবে। না'হয় শিক্ষার্থীরা শৌচাগারগুলো ব্যবহার করতে পারবেনা। আগামীকাল থেকে আমি লোকজন পাঠিয়ে শৌচাগারগুলো পরিষ্কার করিয়ে দিব।


আরও খবর