Logo
শিরোনাম

নাকে পলিপের চিকিৎসায় কী করবেন ?

প্রকাশিত:সোমবার ২০ জুন ২০22 | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 |
Image

নাকে পলিপ একটি পরিচিত রোগ। শিশু থেকে সব বয়সি মানুষের এই সমস্যা দেখা দিতে পারে। পলিপ বড় হয়ে গেলে অস্ত্রোপচার করা লাগে। সঠিক চিকিৎসা নিলে সুস্থ জীবনযাপন করা হয়।

নাকের আশপাশে কিছু প্রকোষ্ঠ (সাইনাস) আছে। চোখের ঠিক নিচে যে উঁচু হাড়টি আছে তার ভেতরে থাকে ম্যাক্সিলারি সাইনাস, নাক আর চোখের মাঝখানে যে ক্ষুদ্র স্থান সেখানে থাকে বেশ কয়েকটি ইথময়েড সাইনাস। কপালের সম্মুখভাগে থাকে ফ্রন্টাল সাইনাস। চোখের পেছন দিকে থাকে স্ফেনয়েড সাইনাস। সাইনাসগুলোর আবরণী অনেক সময় ফুলতে ফুলতে আঙ্গুরের থোকার মতো আকার ধারণ করে। একেই আমরা ডাক্তারি পরিভাষায় পলিপ বলে থাকি।

বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন ইমপালস হাসপাতালের নাক কান গলা রোগ বিশেষজ্ঞ সার্জন অধ্যাপক ডা. জাহীর আল-আমিন।

সাধারণত ইথময়েড সাইনাস থেকে পলিপ তৈরি হয়। কখনও কখনও ম্যাক্সিলারি সাইনাস থেকেও পলিপ তৈরি হতে পারে। নাকের মধ্যে ফাংগাস ইনফেকশন আমরা অনেক সময় দেখে থাকি। নাকের ফাংগাল (ছত্রাক) ইনফেকশন থেকে নাকের উভয় দিকে এবং ক্ষেত্রে একাধিক সাইনাস পলিপ দ্বারা আক্রান্ত হতে পারে। পলিপগুলো প্রাথমিক পর্যায়ে সাইনাসের ভেতর থাকে।

এক সময় এটা বাড়তে বাড়তে সাইনাস থেকে নাকের ভেতরে চলে আসে এবং তখন আমরা খালি চোখে নাকের ভেতরে পলিপ দেখতে পাই। এগুলো দেখতে অনেক সময় সাদা আঙ্গুরের থোকার মতো থাকে। অনেক সময় পলিপে ইনফেকশন হলে বা আঘাতজনিত কারণে এর ত্বকের স্তর মিউকোসা ক্ষতিগ্রস্ত হলে অনেক সময় এটা লালচে রঙ ধারণ করতে পারে। রোগীরা সাধারণত যাকে পলিপ বলে থাকেন সেটা আসলে নাকের মধ্যে মাংস ফুলে যাওয়াকে তারা বুঝিয়ে থাকেন। মেডিকেলের ভাষায় একে হাইপারট্রপিড ইনফেরিয়র টারবিনেট বলা হয়। নাকের ভেতরে, পার্শ্ব দেয়ালে দুই দিকে দুইটি তাকের মতো মাংসপিণ্ড থাকে।

একে আমরা ইনফেরিয়র টারবিনেট বলি। এই ইনফেরিয়র টারবিনেটের প্রদাহ হলে এর আকৃতি বড় হয়ে যায়। যাকে হাইপারট্রপিড ইনফেরিয়র টারবিনেট বলা হয়। এটা সাইনাস থেকে আসে না। নাকের ভেতর থেকে এর উৎপত্তি। মেডিকেল ভাষায় এটা পলিপ নয়। অনেক ক্ষেত্রেই পলিপ এবং হাইপারট্রপিড ইনফেরিয়র টারবিনেটের কারণ একই এবং দুটো একসঙ্গে বিদ্যমান থাকে।

উপসর্গ

* প্রাথমিক পর্যায়ে রোগীরা সাধারণত নাক দিয়ে সর্দি ঝরা, নাক বন্ধ ভাব ধরনের সমস্যায় ভোগেন। নাকের সর্দি সামনের দিকে আসতে পারে। অনেক সময় এটা সামনের দিকে না এসে পেছন দিকে চলে যায় এবং ঢোক গিলা বা গলা পরিষ্কার করার মতো প্রবণতা দেখা যায়। নাক বন্ধ থাকাটা প্রাথমিক পর্যায়ে একদিকে থাকে এবং কিছুক্ষণ পরপর এটা দিক পরিবর্তন করে নাকের দুই দিকে হয়। কিছু সময় এক নাক বন্ধ থাকে আবার কিছু সময় আরেক নাক বন্ধ থাকে। অসুখ যত বাড়তে থাকে ততই দেখা যায় ধীরে ধীরে দুটো নাকই বন্ধ হয়ে যায়, প্রথমে আংশিকভাবে এবং পরে সম্পূর্ণভাবে।

* হাঁচি থাকতে পারে এবং অল্প ধুলাবালি বা ধোঁয়াতে গেলেই প্রচণ্ড হাঁচি হতে থাকে। সিগারেটের বা রান্নার ধোঁয়া সহ্য হয় না। দম বন্ধ ভাব চলে আসে।

* নাকের ঘ্রাণশক্তি কমে যায় এবং অনেক সময় নাকে দুর্গন্ধ পাওয়া যায়।

* মাথাব্যথা সাধারণত প্রাথমিক পর্যায়ে থাকে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, পলিপ যখন বেশ বড় আকার ধারণ করে তখন মাথাব্যথা চলে যায়। এর কারণ যে অবস্থাতে আমরা পলিপ দেখতে পাই সে অবস্থাতে মাথাব্যথার সমস্যা সাধারণত থাকে না। মাথা এবং কপালের সম্মুখ বা নাক এবং এর আশপাশে একটা বন্ধ ভাব থাকতে পারে। সময় রোগীর ইতিহাস নিলে অবশ্যই দেখা যাবে, কয়েক মাস বা কয়েক বছর আগে যখন রোগ শুরু হয়েছিল তখন তাদের মাথাব্যথার সমস্যা ছিল। পলিপ যখন বেশি বড় হয়ে যায় তখন মাথাব্যথার সমস্যাটা এতটা প্রকট থাকে না।

* দেখা যায় কিছু কিছু রোগীর গলায় খুসখুস ভাব থাকে। অনেকের আবার কাশিও থাকতে পারে। গলায় নিয়মিত প্রদাহ বা মুখ দিয়ে নিয়মিত শ্বাস নেয়ার ফলে অনেক সময় গলার স্বর বসে যায় বা গলা বসা বা স্বরভঙ্গ থাকতে পারে।

* নাকের পেছনে ইউস্টেশিয়ান টিউব আক্রান্ত হওয়ার কারণে অনেক সময় মধ্য কর্ণে সমস্যা হয়ে থাকে। কান বন্ধ বন্ধ ভাব বা কানের ভেতর পানি যাওয়ার কারণে কান বন্ধ হয়ে যেতে পারে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে মাথা ঘুরানোর সমস্যাও থাকতে পারে। মধ্যকর্ণের সমস্যা থেকে অল্প-স্বল্প মাথা ঘুরানোভাব থেকে শুরু করে মারাত্মক রকমের মাথা ঘুরানোর সমস্যা থাকতে পারে। ছাড়াও কানের ভেতরে শোঁ শোঁ আওয়াজের সমস্যাও হতে পারে। কানের ভেতরে অনেক দিন পানি জমে থাকলে কানের পর্দা নষ্ট হয়ে যাওয়া থেকে শুরু করে ক্রনিক বা দীর্ঘমেয়াদে কান পাকা রোগের সৃষ্টি হতে পারে।

কারণ : নাকের পলিপের কারণ নিয়ে এখনও গবেষণা চলছে। সাধারণভাবে বলা যায় নাকের এলার্জি এর অন্যতম কারণ। এলার্জি নাকের ভেতরে ধুলাবালি বা ধোঁয়ার এলার্জি থেকে হতে পারে। অনেকে মনে করেন, নাকের ভেতরে ক্রনিক ইনফেকশনও এলার্জির কারণ হতে পারে। নাকের ভেতরে ফাংগাল ইনফেকশনের এলার্জি থেকে কিছু কিছু রোগীর উভয় নাকে এবং অনেক সাইনাসজুড়ে পলিপ তৈরি হয়। নাকের ভেতরে রক্তনালির অসাঞ্জস্যতা বা অস্থিরতা থেকেও অনেক সময় পলিপ তৈরি হয় বলে অনেকে মনে করেন। নাকের এলার্জি যেটাকে আমরা এলার্জিক রাইনাইটিস বলি, গলার এলার্জি যেটাকে আমরা এলার্জিক ফ্যারিনজাইটিস এবং ফুসফুসের এলার্জি যেটাকে আমরা অ্যাজমা বা হাঁপানি বলে থাকি- এর একটা আরেকটার সঙ্গে সম্পৃক্ত। যাদের নাকের এলার্জি আছে তাদের শতকরা ১৭ থেকে ১৯ ভাগ রোগীর ক্ষেত্রে হাঁপানিও আছে। যাদের হাঁপানি আছে তাদের ৫৫ থেকে ৭০ ভাগ রোগীর ক্ষেত্রে নাকের এলার্জিও থাকে। বিশেষভাবে বলা উচিত, নাকের এলার্জি ফুসফুসের এলার্জির (হাঁপানি) একটির প্রভাব আরেকটির ওপর পড়ে। নাকের এলার্জি ঠিকমতো কন্ট্রোল না করলে অনেক সময় হাঁপানি বেড়ে যেতে পারে বা হাঁপানির চিকিৎসা করা দুরূহ হতে পারে। সে রকম ফুসফুসের এলার্জি বা হাঁপানি ঠিকমতো চিকিৎসা করা না হলে এর বিরূপ প্রতিক্রিয়া নাকের ওপর পড়ে।

চিকিৎসা : প্রাথমিক চিকিৎসা হল ধুলাবালি, ধোঁয়া ঠাণ্ডা এড়িয়ে চলা। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ ধরা পড়লে নাকে স্টেরয়েড জাতীয় স্প্রে ব্যবহার করলে এটা চলে যেতে পারে। পলিপ যদি নাককে সম্পূর্ণ অথবা আংশিকরূপে বন্ধ করে দেয় তাহলে সাধারণত ওষুধে কাজ হতে চায় না। এরকম ক্ষেত্রে অপারেশনের মাধ্যমে পলিপ ফেলে দেয়া ছাড়া বিকল্প কোনো পথ নেই। নাকের পলিপের কয়েক ধরনের অপারেশন হতে পারে। আমরা অবশ করে পলিপ বের করে নিয়ে আসতে পারি। এতে নাকের ভেতরের অংশটুকু সাধারণত কিছুটা দূর করা সম্ভব। অজ্ঞান করে আরও ভালোভাবে আমরা পলিপগুলো ফেলতে পারি। এতেও সাইনাসের ভেতরে যে ঝিল্লি থেকে পলিপগুলো তৈরি হয় সেটা সম্পূর্ণভাবে দূর করা সম্ভব নয়। আধুনিক যুগে পলিপের সর্বশেষ এবং সর্বাধুনিক চিকিৎসা হল এন্ডোস্কোপের মাধ্যমে পলিপগুলো শিকড় থেকে অর্থাৎ সাইনাসের যে ঝিল্লি থেকে পলিপ উৎপত্তি হয় সেখান থেকে সম্পূর্ণরূপে ফেলে দেয়া। এন্ডোস্কোপ ব্যবহার করে আমরা অতি সূক্ষ্মভাবে পলিপের উৎপত্তিস্থল থেকে পলিপকে ফেলে দিতে পারি এবং যে কোনো সাইনাস নাক থেকে যত দূরেই হোক না কেন তার ভেতরে সূক্ষ্মভাবে প্রবেশ করে পলিপটাকে সম্পূর্ণভাবে বের করে ফেলা সম্ভব। আধুনিক চিকিৎসা ব্যবস্থায় এন্ডোস্কোপের সাহায্যে পলিপ ফেলে দেয়া ছাড়া বিকল্প কোনো অপারেশন নেই। পলিপগুলো তাদের উৎপত্তিস্থল থেকে সম্পূর্ণভাবে ফেলে দিলে সাধারণত নতুন করে পলিপ হয় না। পুরনো পদ্ধতিতে পলিপের অপারেশন করা হলে পলিপের কিছুটা অংশ সাইনাসের ভেতরে থেকে যেত এবং তা থেকে পলিপ আবার নতুন করে খুব তাড়াতাড়ি গজিয়ে যেত। যেহেতু পলিপ সম্পূর্ণরূপে দূরীভূত হয় না, সেহেতু পলিপ উদ্ভূত সমস্যাগুলো বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই খুব একটা দূরীভূত হতো না। বলে রাখা দরকার, সাধারণত পলিপ ছাড়াও নাকের ভেতর কিছু মারাত্মক ইনফেকশন, টিউমার, ক্যান্সার এবং অন্যান্য কিছু জটিল সমস্যা আপাতদৃষ্টিতে পলিপ আকারে প্রকাশ পেতে পারে। যদি মেডিকেল চিকিৎসাতে পলিপ বা পলিপের উপসর্গ সম্পূর্ণরূপে দূর না হয় তবে পলিপ থেকে বায়োপসি নিয়ে দেখা উচিত, সেটা আসলে পলিপ নাকি অন্য কোনো সমস্যা। যা অনেক সময় মারাত্মক জটিলও হতে পারে। অপারেশনের মাধ্যমে পলিপ চিকিৎসা করাতে কিছুটা দেরি করা যেতে পারে। তবে বায়োপসি করা থেকে অবশ্যই লম্বা সময় বিরত থাকা উচিত নয়।

 


আরও খবর

বাড়ছে মৃত্যু, কমেছে শনাক্ত

শনিবার ০২ জুলাই 2০২2




সর্বকালের রেকর্ড খেলাপি ঋণে

প্রকাশিত:সোমবার ০৬ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 |
Image

কেবল টাকার অঙ্কে নয়, খেলাপি বেড়েছে শতকরা হিসেবেও। সব মিলিয়ে গত মার্চ শেষে বিতরণ করা ঋণের ৮.৫৩ শতাংশ খেলাপি হয়েছে। গত ডিসেম্বর শেষে বিতরণ করা ঋণের ৭.৯৩ ছিল খেলাপি। অর্থাৎ ০.৬০ শতাংশ খেলাপি ঋণ বেড়েছে তিন মাসে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০২২ সালের মার্চ মাস শেষে ব্যাংকিং খাতের মোট বিতরণ করা ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৩ লাখ ২৯ হাজার ৭৩৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপিতে পরিণত হয়েছে ১ লাখ ১৩ হাজার ৪৪০ কোটি টাকা, যা মোট বিতরণ করা ঋণের ৮ দশমিক ৫৩ শতাংশ।

তিন মাস আগেও ২০২১ সালের ডিসেম্বর প্রান্তিকে খেলাপি ঋণ ছিল ১ লাখ ৩ হাজার ২৭৩ কোটি টাকা। এই হিসাবে গত তিন মাসে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ বেড়েছে ১০ হাজার ১৬৭ কোটি টাকা। আর গত বছরের মার্চের তুলনায় খেলাপি বেড়েছে ১৮ হাজার ৩৫৫ কোটি টাকা। অর্থাৎ ২০২১ সালের মার্চে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ছিল ৯৫ হাজার ৮৫ কোটি টাকা।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক উপদেষ্টা ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম। তিনি এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘নানা রকম ছাড় পাওয়ার কারণে খেলাপিরা ঋণ পরিশোধ করতে আগ্রহী হচ্ছে না। তিনি বলেন, খেলাপিরা মনে করেন, খেলাপি হলেও সমস্যা নেই। বরং সুবিধা পাওয়া যায়। এ কারণে খেলাপি ঋণ বাড়ছে।’

এদিকে ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে ক্ষতির মুখে পড়ার কথা বলে এরই মধ্যে চলতি বছরের ডিসেম্বর পর্যন্ত কেউ ঋণ পরিশোধ না করলেও খেলাপি না করার দাবি জানিয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২০২০ ও ২০২১ সালজুড়ে কয়েক দফায় করোনার কারণে ব্যবসায়ীদের দাবির মুখে কোনো ঋণ পরিশোধ না করে কিংবা সামান্য পরিশোধ করে খেলাপিমুক্ত থাকার সুযোগ ছিল। এ ধরনের বিভিন্ন সুবিধার বেশিরভাগই শেষ হয়েছে গত ডিসেম্বরে। এর পরপরই খেলাপি ঋণ বেড়েছে ব্যাপকভাবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, ২০২২ সালের মার্চ শেষে রাষ্ট্রীয় বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো মোট ঋণ বিতরণ করেছে ২ লাখ ৪৩ হাজার ৫৭৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে ২০ দশমিক ০১ শতাংশ খেলাপি হয়েছে। অর্থাৎ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৪৮ হাজার ৭৩৭ কোটি টাকা খেলাপি।

বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে আলোচিত সময়ে ঋণ বিতরণ হয়েছে ৯ লাখ ৮৮ হাজার ৯৯৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে খেলাপি হয়েছে ৫৭ হাজার ৮০৩ কোটি টাকা বা ৫ দশমিক ৮৪ শতাংশ। বিদেশি ব্যাংকগুলোর ৬৩ হাজার ৭২৩ কোটি টাকা বিতরণ করা ঋণের মধ্যে ২ হাজার ৮৮৪ কোটি টাকা খেলাপি, যা মোট ঋণের ৪ দশমিক ৫৩ শতাংশ। আলোচিত সময়ে বিশেষায়িত তিনটি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ হয়েছে ৪ হাজার ১৫ কোটি টাকা। এ অঙ্ক তাদের বিতরণ করা ঋণের ১২ দশমিক ০১ শতাংশ। এই ব্যাংকগুলো বিতরণ করেছে মোট ৩৩ হাজার ৪৩৯ কোটি টাকা।

বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দীন আহমেদ। তিনি খেলাপি বৃদ্ধি এবং সরকার ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের করণীয় নিয়ে বলেন, ‘কোভিডের পর কিছুটা মন্থর হয়েছে সবকিছু। এখন আবার ইউক্রেন সংকট আসায় একটা টালমাটাল অবস্থা তৈরি হয়েছে। এতে এক্সপোর্ট কমে যাচ্ছে, রেমিট্যান্স কমে যাচ্ছে, ইমপোর্ট বাড়ছে। ইমপোর্ট পেমেন্ট পরিশোধে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন সবাই। কিন্তু ঋণ আদায় করার ব্যাপারে রিলাক্স ভাব, এতে মূল স্তম্ভইতো দুর্বল হচ্ছে, খেলাপি বাড়ছে


আরও খবর

ছোট ও মাঝারি গরুর দাম বেশি

শুক্রবার ০১ জুলাই ২০২২




ফের বাড়ছে করোনা, সতর্ক থাকতে বললেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী

প্রকাশিত:সোমবার ১৩ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 |
Image

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, দেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ফের বাড়ছে। সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। সোমবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশে কোভিড কিছুটা বেড়েছে। কয়েক মাস আমরা দেখেছি দৈনিক ৩১ থেকে ৩৫ জন সংক্রমিত হচ্ছেন। রবিবার ১০৯ জন সংক্রমিত হয়েছেন, সেই তুলনায় বেশ বেড়েছে। আমাদের সতর্ক হতে হবে, মাস্ক ব্যবহার করতে হবে, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। বিষয়টি ভুলে গেলে চলবে না। মাস্ক পরা ভুলে গেলে চলবে না, আমরা নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাই।

জাহিদ মালেক বলেন, কোভিড এখনো নির্মূল হয়নি, আছে। আমরা একটা স্বাভাবিক অবস্থায় আছি, আমরা যদি অস্বাভাবিক অবস্থায় না যাই, সেই বিষয়ে সবার প্রচেষ্টা দরকার।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে মন্ত্রীরা আক্রান্ত হচ্ছেন, বিশিষ্ট ব্যক্তিরা আক্রান্ত হচ্ছেন, হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। তাই সবাইকে অনুরোধ করছি, মাস্ক পড়বেন, হাত স‌্যানিটাইজ করবেন, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখবেন, টিকা না নিয়ে থাকলে টিকা নেবেন।


আরও খবর

বাড়ছে মৃত্যু, কমেছে শনাক্ত

শনিবার ০২ জুলাই 2০২2




ই‌ভিএম ভো‌টিং মে‌শি‌নে ১০৫টি ভোট কেন্দ্রের ৬৪০টি কক্ষে ভোট গ্রহণ

রাত পোহালেই কু‌মিল্লা সি‌টিক‌র্পো‌রেশ‌নের ভোট

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১৪ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 |
Image

নিজস্ব প্রতি‌বেদক ,কুমিল্লা 

পাচঁ বছর পর রাত পোহালেই কু‌মিল্লা সি‌টিক‌র্পো‌রেশ‌নের ভোট। এ নির্বাচনে প্রার্থী‌দের একজন অপরজ‌নের বিরু‌দ্ধে অ‌ভি‌যোগ । ত‌বে নির্বাচনকে ঘি‌রে ভোটার‌দের মা‌ঝে প্রার্থী‌দের প্রচারণায় আনন্দ ছড়িয়ে পড়েছে পু‌রো নগরজু‌ড়ে।   ব‌্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে  বুধবার সকাল থেকে  অনুষ্ঠিত হতে চলেছে ভোট গ্রহন।  

প্রথম বারের মত ইলেকট্রনিক্স ভোটিং মেশিন(ইভিএম)  ভোট গ্রহন হবে৷  

এ নির্বাচনে মেয়র পদে মেয়র পদে পাচঁ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এরা হলেন- আওয়ামী লীগ মনোনীত আরফানুল হক রিফাত, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মো. রাশেদুল ইসলাম, স্বতন্ত্র হিসেবে কামরুল আহসান বাবুল, মো. মনিরুল হক সাক্কু (বিএনপির ব‌হিস্কৃত নেতা ও দুই বারের মেয়র), মোহাম্মদ নিজাম উদ্দিন (কায়সার)।

এ ছাড়া সাধারণ কাউন্সিলর ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর মিলে ১৪০ জনের মতো প্রার্থী আছে ভোটের মাঠে। এ নির্বাচনে ৫ নং ওয়া‌র্ডে সৈয়দ রায়হান আহ‌মেদ ও ১০ নং ওয়ার্ডে  মোঃ মঞ্জুরুল কা‌দের ম‌নিসহ দু'জন কাউন্সিলর প্রার্থী বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।

কুমিল্লা সিটিতে ভোটগ্রহণ হবে সম্পূর্ণ ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে। ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১০৫টি ভোটকেন্দ্রের ৬৪০টি ভোটকক্ষে।

কুমিল্লা পুলিশ সুপার মোঃ ফারুক আহমদ জানান, কু‌মিল্লা সি‌টিক‌র্পো‌রেশ‌নের ভোটের মাঠে  ৩হাজার ৬০৮ জন পু‌লিশ সদস‌্যসহ সা‌ড়ে ৬হাজার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য  মোতায়ন করা হয়েছে৷  ৭৫ টি চেকপোষ্ট, ১০৫ টি মোবাইল টিম, ১২ প্লাটুন বিজিবি সহ ৯ জন জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্যাট সহ অর্থশতাধিক ম্যাজিষ্ট্যাট নিয়োজিত থাকবে ভো‌টের প‌রি‌বেশ রক্ষায়।


আরও খবর



৭৩ তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ২৩ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 |
Image

আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানিয়েছেন দলটির সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বৃহস্পতিবার সকালে ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বঙ্গবন্ধু ভবনের সামনে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানান তিনি। এসময় দলের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, ১৯৪৯ সালের ২৩ ও ২৪ জুন ঢাকার কেএম দাস লেনে অবস্থিত ঐতিহাসিক ‘রোজ গার্ডেন’ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ’ নামে পাকিস্তানের প্রথম বিরোধী দলের আত্মপ্রকাশ ঘটে। সংগঠনটির প্রথম কমিটিতে মওলানা ভাসানী সভাপতি ও শামসুল হক সাধারণ সম্পাদক এবং জেলে থাকা অবস্থায় যুগ্ম-সম্পাদক নির্বাচিত হন শেখ মুজিবুর রহমান।

১৯৫৫ সালের কাউন্সিলে অসাম্প্রদায়িক নীতি গ্রহণের মাধ্যমে সংগঠনটির নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ’। স্বাধীন দেশে সংগঠনটির নাম বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।


আরও খবর



বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনা আওয়ামীলীগের না- শামীম ওসমান

প্রকাশিত:শুক্রবার ২৪ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 |
Image

 বুলবুল আহমেদ সোহেল ; নারায়ণগঞ্জঃ 

নারায়ণগঞ্জ ৪ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান বলেছেন আমরা বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনাকে আওয়ামী লীগ করন করে ফেলছি। বঙ্গবন্ধু আওয়ামী লীগের না,বঙ্গবন্ধু সারা জাতির ছিলেন। শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের সম্পদ ছিলেন, কিন্তু এখন আর আওয়ামী লীগের সম্পদ না। শেখ হাসিনা হচ্ছেন এখন বাংলাদেশের সম্পদ। শেখ হাসিনা হচ্ছেন ছোট ছোট বাচ্চাদের আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। স্বপ্ন পুরোনের জায়গা, যে স্বপ্ন দেখে সে স্বপ্ন পূরণ করে। শেখ হাসিনা আজ প্রমান করেছেন সারাবিশ্বের কাছে,যে বাংলাদেশ কারো উপরে ভরসা করে নেই। বাংলাদেশ নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে আছে,করো উপর ভরসা করে দাড়িয়ে নেই।

তিনি বলেন আগামী ২৫ জুন পদ্মা সেতু উদ্বোধন হবে। পদ্মা সেতু উদ্বোধন নিয়ে অনেকেই সমালোচনা করছেন, অনেকেই বলছেন বণ্যা পরিস্থিতি যোগ করছেন। বন্ধ্যাতে শেখ হাসিনা বসে নাই। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী,পুলিশ,র‌্যাব,বিজিবি,কোষ্টগার্ড,আওয়ামীলীগ,সাধারণ মানুষ বণ্যা কবোলিত মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে গিয়েছে। ঐটাও চলছে এইটাও চলবে। পদ্মা সেতুর কারণে অর্থনৈতিক ভিত্তিতে টু পয়েন্ট ফাইভ পারসেন্ট জিডিপি বেড়ে যাবে।

শামীম ওসমান বলেন, বাংলাদেশ যে মাথা উঁচু করে দাঁড়াচ্ছে কিছু মানুষের কাছে ভালো লাগে না। সামনের সময় অনেক কঠিন কিন্তু স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি সফল হতে পারবে না। একাত্তরের পরাজিত হয়েছে, আগামীতেও পরাজিত হবে। 

বৃহস্পতিবার (২৪ জুন) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ শিল্পকলা একাডেমির অডিটোরিয়ামে পাঁচগুণি ব্যাক্তিকে সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানের আলোচনা সভায় প্রদান অতিথীর বক্তৃতায় এসব কথা বলেন। পাঁচ গুণীজন ব্যক্তিকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে শিল্পকলা একাডেমি সম্মাননা ২০২১ প্রদান করা হয়। অ্যাক্রোবেটিক প্রদর্শনী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে একাডেমির এ কর্মসূচি শেষ হয়। 

জেলা প্রশাসক মঞ্জুরুল হাফিজের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আমির খসরু, জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুস সালাম, প্রেসক্লাবের সভাপতি খন্দকার শাহ আলম সহ সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ব ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।


আরও খবর