Logo
শিরোনাম

নারীর যে স্বভাব পুরুষের অপছন্দ

প্রকাশিত:সোমবার ১৭ এপ্রিল ২০২৩ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ২৫ জুন ২০২৪ |

Image

সম্পর্কে থাকা মানে একে অপরের অনেক বিষয়ে ছাড় দেওয়া, মানিয়ে চলা। দুজনের মধ্যে মনের মিল থাকলে অনেক বিষয়ই সহজ হয়ে যায়। প্রেমের আগে পছন্দ হওয়াটা জরুরি। যাকে ভালো লাগে, ধীরে ধীরে মানুষ তাকে ভালোবাসতে শুরু করে হয়তো, কিন্তু যাকে ভালোই লাগে না, তাকে ভালোবাসা তো সম্ভব নয় !

নারীর যেমন পুরুষের বিভিন্ন দিক ভালো বা খারাপ লাগে, পুরুষের ক্ষেত্রেও থাকে এরকম কিছু বিষয়। নারীর কিছু স্বভাব আছে যা কোনো পুরুষেরই পছন্দের নয়। এ ধরনের স্বভাব থাকলে সেই নারীকে কোনো পুরুষ পছন্দ করে না, সম্পর্কে জড়ানো তো অনেক পরের কথা। এমন কিছু ভুল হয়তো নিজের অজান্তেই থেকে যায়। এ ধরনের ভুল থাকলে নিজেকে শুধরে নেওয়াই উত্তম। তাতে শুধু পুরুষ কিংবা নারীর কাছে নয়, পছন্দের একজন হতে পারবেন সবার কাছেই-

প্রয়োজনের চেয়ে বেশি কথা বলার স্বভাব রয়েছে অনেকেরই। তারা অহেতুক নানা ধরনের কথা বলেই যান। অপরদিকে তাদের বকবকানিতে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েন আশেপাশের সবাই। একবার কথা শুরু করলে থামতেই চান না যেন। নারীর ভেতরে এমন স্বভাব থাকলে পুরুষেরা তাকে এড়িয়ে চলেন। কারণ সারাক্ষণ কানের কাছে বকবকানি কে আর শুনতে চাইবে!

অহংকারী বা দাম্ভিক স্বভাবের নারী আপনার আশেপাশেই দেখতে পাবেন। আসলে এ ধরনের মানুষকে কেউ পছন্দ করে না। এ ধরনের নারীরা অহংকারের বশে এমন কিছু কথা বলে ফেলেন যেগুলো কারও কারও মন ভেঙে দেওয়ার জন্য যথেষ্ট। তাই কারও ভেতরে এ ধরনের স্বভাব দেখলে সতর্ক হোন। দাম্ভিকতা মোটেই ভালো কোনো অভ্যাস নয়।

পরচর্চা কিংবা পরনিন্দায় বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নারীরাই এগিয়ে থাকে! এদিকে আপনি বিশ্বাস করেন বা না করেন, অধিকাংশ পুরুষ এই বিষয়টিকে ভীষণ অপছন্দ করেন। মুখ ফসকে কিছু বলে ফেলা আর ইচ্ছাকৃতভাবে নিন্দা করায় পার্থক্য আছে। এই পার্থক্য খুব সহজেই চোখে পড়ে। যেসব নারী পরচর্চায় ব্যস্ত থাকেন, পুরুষের অপছন্দের তালিকার শুরুতেই তারা থাকেন।

কেউ কেউ থাকেন, যারা বড় ধরনের কোনো কারণ ছাড়াই এই স্বভাবটি একবার কারও কাছে ধরা পড়লে তিনি কি আর সেই মিথ্যাবাদীকে পছন্দ করেন! কথায় কথায় এভাবে মিথ্যা বলা নারীকে পুরুষেরা এড়িয়ে চলতে চান। তাদের মিথ্যার জালে জড়াতে চান না। আপনার ভেতরেও যদি এ ধরনের স্বভাব থাকে তবে তা বাদ দিন। কারণ এই স্বভাব দিনশেষে অনেক বড় ক্ষতির কারণ হতে পারে।

অনেক নারী থাকেন, যারা কাউকেই পাত্তা দিতে চান না। তারা নিজেকে বড় কিছু ভেবে থাকেন। এরকম স্বভাবের মানুষকে কেউই পছন্দ করেন না। নিজেকে বড় এবং অন্যকে ছোট ভাবার অভ্যাস আছে যে নারীর, তাকে পুরুষেরা অপছন্দ করেন। এ ধরনের স্বভাবের কারণে কাউকে আপন করা সম্ভব হয় না।

 


আরও খবর

তীব্র তাপপ্রবাহে সুস্থ থাকার উপায়

মঙ্গলবার ২৩ এপ্রিল ২০২৪

ঈদে বালুচর এর পাঞ্জাবি

রবিবার ৩১ মার্চ ২০২৪




হাসিনা-মোদি বৈঠকে সই হলো ১০ সমঝোতা স্মারক

প্রকাশিত:শনিবার ২২ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ২৪ জুন 20২৪ |

Image

বিডি টুডে ডিজিটাল ডেস্ক:


বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর স্বাক্ষরিত হয়েছে ১০টি সমঝোতা স্মারক। যার মধ্যে ৩টি সমঝোতা নবায়ন করা হয়েছে।


শনিবার (২২ জুন) স্থানীয় সময় সাড়ে ১২টার পর ভারত সফররত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকে বসেন। দিল্লির হায়দরাবাদ হাউসে অনুষ্ঠিত দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এসব সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়।



সমঝোতার বিষয়গুলো হলো:


১. বাংলাদেশ-ভারত ডিজিটাল পার্টনারশিপ

২. ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ গ্রিন পার্টনারশিপ

৩. সমুদ্র সহযোগিতা ও সুনীল অর্থনীতি

৪. স্বাস্থ্য ও ওষুধ সংক্রান্ত পুরনো সমঝোতা নবায়ন

৫. ভারতের ইন-স্পেস এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের সমঝোতা

৬. দুই দেশের রেল মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সংযোগ সংক্রান্ত সমঝোতা

৭. সমুদ্র বিষয়ক গবেষণায় দুই দেশের সমঝোতা

৮. দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও প্রশমনে ভারতের ন্যাশনাল ডিজাস্টার ম্যানেজমেন্ট অথরিটি ও বাংলাদেশ ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের বিদ্যমান সমঝোতা নবায়ন

৯. মৎসম্পদের উন্নয়নে বিদ্যমান সমঝোতা নবায়ন

১০. কৌশলগত ও অপারেশনাল খাতে সামরিক শিক্ষা সহযোগিতায় ডিফেন্স সার্ভিসেস স্টাফ কলেজ, ওয়েলিংটন-ইন্ডিয়া এবং মিরপুর ডিফেন্স সার্ভিসেস কমান্ড অ্যান্ড স্টাফ কলেজের মধ্যে সমঝোতা


নয়াদিল্লির হায়দ্রাবাদ হাউসে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে বসেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি।সকাল ১০টার দিকে দিল্লির রাজঘাটে মহাত্মা গান্ধীর সমাধিতে শ্রদ্ধা জানান শেখ হাসিনা। 

 

এর আগে দিল্লির স্থানীয় সময় ৯টার দিকে ভারতের রাষ্ট্রপতি ভবনে যান শেখ হাসিনা। সেখানে তাকে রাজকীয় সংবর্ধনা ও গার্ড অব অনার দেয়া হয়। এরপর শেখ হাসিনা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ দেশটির মন্ত্রী ও পদস্থ কর্মকর্তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। 


এ সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিও সেখানে উপস্থিত বাংলাদেশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন।

 

এরপর সকাল ১০টার দিকে দিল্লির রাজঘাটে মহাত্মা গান্ধীর সমাধিতে শ্রদ্ধা জানান শেখ হাসিনা। এরপর সেখানে থাকা পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করেন।


আরও খবর



বাংলাদেশকে ২৫ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে এডিবি

প্রকাশিত:সোমবার ১০ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ২৪ জুন 20২৪ |

Image

বাংলাদেশকে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। দেশের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে ২৫ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ দিচ্ছে সংস্থাটি। বাংলাদেশি মুদ্রায় এ অর্থের পরিমাণ ২ হাজার ৯৩৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা (প্রতি ডলার ১১৭.৪২ টাকা ধরে)।

সোমবার (১০ জুন) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানা যায়। সোমবার রাজধানীর অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও এডিবির পক্ষে যথাক্রমে ইআরডির সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী এবং এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর এডিমন গিনটিং এ ঋণ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

এই চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার প্রতিরক্ষা এবং প্রতিরোধমূলক ক্ষমতা জোরদার হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে উভয়পক্ষ। সেকেন্ড স্ট্রেংথেনিং সোশ্যাল রেজিলিয়েন্স প্রোগ্রাম শীর্ষক প্রোগ্রামের মাধ্যমে এডিবির এই অর্থ দেশের মানুষের দক্ষতা বৃদ্ধি, সুবিধাবঞ্চিত মানুষের আর্থিক উন্নয়ন এবং বৈচিত্রপূর্ণ সুরক্ষা চাহিদা নিশ্চিতের লক্ষ্যে কাজ করা হবে। দেশের দারিদ্রতা কমাতে সাহায্য করবে এই নতুন প্রোগ্রামটি।

এ ব্যাপারে এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর এডিমন গিনটিং বলেন, সেকেন্ড স্ট্রেংথেনিং সোশ্যাল রেজিলিয়েন্স প্রোগ্রাম কর্মসূচির লক্ষ্য হলো সুরক্ষা এবং দক্ষতা বৃদ্ধি, সুবিধাবঞ্চিত মানুষের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি উন্নত করা এবং বৈচিত্র্যপূর্ণ সুরক্ষা চাহিদার প্রতিক্রিয়া জোরদার করার ক্ষেত্রে সংস্কারমূলক কাজের গতি বাড়ানো। এ কর্মসূচির প্রথম ধাপ ২০২২ সালের জুনে শেষ হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এ ছাড়া এই প্রোগ্রামের সাহায্যে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগের ঝুঁকিতে থাকা মানুষের জন্য সহায়তা দেওয়া হবে। তা ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে সামাজিক সুরক্ষায় এ অর্থ কাজে লাগানো হবে বলে জানা যায়। এ ছাড়া বিধবা ভাতা কর্মসূচির আওতায় সুবিধাভোগীর সংখ্যা আরও বৃদ্ধি করা হবে এডিবির এই নতুন প্রোগ্রামের মাধ্যমে। পাশাপাশি ট্রান্সজেন্ডারদের জন্য জীবিকা সহায়তা কর্মসূচির প্রসার ঘটিয়ে দুর্বল নারী ও ট্রান্সজেন্ডারদের সুরক্ষা নিশ্চিতে কাজ করা হবে বলে জানানো হয় বিজ্ঞপ্তিতে।

কর্মসূচির আরেকটি লক্ষ্য হলো তৈরি পোশাক খাতকে আরও শক্তিশালী করে তোলা। দেশের শ্রম ও কর্মসংস্থানে আরও উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের পোশাক খাতের কর্মীদের পাশাপাশি অন্যান্য কর্মীদের কাজের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানা যায়। এ ছাড়া দেশের প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও নীতি বিশ্লেষণে সহায়তা করে সরকারি সংস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য অনুদান দিচ্ছে এডিবি।


আরও খবর

বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বাড়ল

শুক্রবার ২১ জুন ২০২৪




রোববার সন্ধ্যায় তৃতীয় মেয়াদের জন্য শপথ নেবেন নরেন্দ্র মোদি

প্রকাশিত:শনিবার ০৮ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ২৪ জুন 20২৪ |

Image

বিডি টু ডে রিপোর্ট:


নরেন্দ্র মোদি আগামীকাল রবিবার সন্ধ্যায় টানা তৃতীয় মেয়াদে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিবেন নরেন্দ মোদি।


 মোদির দল বিজেপি নেতৃত্বাধীন ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স (এনডিএ) গতকাল শুক্রবার আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে প্রধানমন্ত্রী পদে সমর্থন দেয়। এরপরই রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু নতুন জোট সরকার গঠনের জন্য নরেন্দ্র মোদিকে আহ্বান জানিয়েছেন।


 মোদির শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আজ দিল্লি যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।


এছাড়া শপথ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারেন শ্রীলঙ্কার প্রেসিডেন্ট রনিল বিক্রমাসিংহে, নেপালের প্রধানমন্ত্রী পুষ্পকমল দহল, ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগিয়াল ওয়াংচুক।


টানা দুই মেয়াদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়েই ক্ষমতায় ছিল মোদির বিজেপি। তবে এবারের নির্বাচনে তারা একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছে। যদিও সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট। 


সরকার গঠনের জন্য লোকসভায় ২৭৩ আসনের প্রয়োজন। বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট পেয়েছে ২৯৩ আসন। তাই জোটের শরিকদের ওপর ভর করেই তৃতীয় বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন মোদি।


 পার্লামেন্টের সেন্ট্রাল হলে আয়োজিত বৈঠকে আনুষ্ঠানিকভাবে এনডিএ জোটের সংসদীয় নেতা নির্বাচিত হন নরেন্দ্র মোদি। সেখানে মোদি বলেন, আমাদের গত ১০ বছর ছিল শুধু ‘ট্রেলার’। আমাদের আরও কঠোর পরিশ্রম করতে হবে। 


দেশের উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত করতে হবে। এ সময় কংগ্রেসের সমালোচনা করে মোদি বলেন, এবারের নির্বাচনেও কংগ্রেস ১০০ আসন জিততে পারেনি। বিজেপি এবার ২৪০ আসনে জিতেছে। 


গত তিন নির্বাচন মিলেও এত আসনে জিততে পারেনি কংগ্রেস। ইন্ডি জোটের লোকেরা আস্তে আস্তে ডুবছিল, এবার আরও দ্রুত গতিতে ডুবে যাবে।


নতুন জোট সরকার টিকিয়ে রাখতে নরেন্দ্র মোদিকে যাদের ওপর নির্ভর করতে হবে তাদের একজন হলেন বিহারের মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার। বৈঠকে তিনি বলেন, আমরা আত্মবিশ্বাসী যে, নরেন্দ্র মোদি ভারতের উন্নয়ন করবেন এবং আমরা তাকে আন্তরিকভাবে সমর্থন করব। 


আমরা সবাই আপনার নেতৃত্বে কাজ করব। আরেক গুরুত্বপূর্ণ নেতা চন্দ্রবাবু নাইডু বলেন, ভারত সঠিক সময়ে সঠিক নেতার নেতৃত্বে রয়েছে। আমরা আত্মবিশ্বাসী যে, নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ভারত আগামী পাঁচ বছরে প্রথম অথবা দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির দেশ।



এরপর মোদি প্রবীণ বিজেপি নেতা লালকৃষ্ণ আদভানী, মুরলী মনোহর জোশী এবং সাবেক রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দের সঙ্গে সাক্ষাত করেন। তাদের সঙ্গে সাক্ষাত শেষে রাইসিনা হিলে রাষ্ট্রপতি ভবনে যান মোদি। সেখানে তৃতীয় বারের মতো এনডিএ জোট সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক আহ্বান জানাতে রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর কাছে আবেদন জানান তিনি। 



রাষ্ট্রপতি ভবন থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের সামনে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে মোদি বলেন, এটুকু আশ্বাস দিতে পারি, গত দুই মেয়াদের উন্নয়নের যে গতি বজায় ছিল, তৃতীয় দফার পাঁচ বছরেও তা থাকবে। এরপরে তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি আমাকে ডেকেছিলেন। সরকার গড়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। 


আমি তাকে জানিয়েছি, ৯ জুন রবিবার সন্ধ্যায় শপথগ্রহণ হলে ভালো হয়। তার মধ্যেই মন্ত্রীদের তালিকা আমি রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠিয়ে দেব। সূত্রের বরাত দিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, নরেন্দ্র মোদি স্থানীয় সময় রবিবার সন্ধ্যায় শপথ নেবেন। 


লোকসভায় কংগ্রেসের আসন বেড়ে ১০১

সংসদীয় রীতি অনুযায়ী না হলেও ভারতের লোকসভায় কংগ্রেসের আসন ১০০ পার হয়েছে। মহারাষ্ট্রের সাংলি লোকসভা আসন ও বিহারের পূর্ণিয়া আসন থেকে নির্বাচিত স্বতন্ত্র দুই প্রার্থী কংগ্রেসের সঙ্গে থাকার কথা জানিয়ে দিয়েছেন। 


মহারাষ্ট্রের সাংলি থেকে জয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থী বিশাল পাটিল বৃহস্পতিবার দিল্লি এসে কংগ্রেসের সঙ্গে থাকার কথা জানিয়ে দেন। বিহারের পূর্ণিয়া থেকে জয়ী স্বতন্ত্র প্রার্থী রাজেশ রঞ্জন ওরফে পাপ্পু যাদবও একই কথা জানিয়েছেন। খবর: এনডিটিভি ও হিন্দুস্তান টাইমস।


আরও খবর



নওগাঁয় ট্রাকের চাপায় পিষ্ট হয়ে মোটরসাইকেল আরোহী নিহত

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২৮ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ২৪ জুন 20২৪ |

Image

শহিদুল ইসলাম জি এম মিঠন, সিনিয়র রিপোর্টার :

নওগাঁয় গুড়ি গুড়ি বৃষ্টি আর দমকা বাতাসের মধ‍্যে মোটরসাইকেল যোগে বাড়ি ফেরার পথে ট্রাকের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী চন্দনা রানী (৫৪) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে।  

সোমবার ২৭ মে বিকেল সারে ৪ টারদিকে নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার মিঠাপুর নতুন বাজার এলাকায় দুর্ঘটনাটি ঘটে। নিহত চন্দনা রানী নওগাঁ জেলার পত্নীতলা উপজেলার নান্দাস গ্রামের বিজয় চন্দ্রের স্ত্রী বলে জানাযায়। 

স্থানীয় ও থানা সূত্রে জানা যায়, জয়পুরহাট জেলার আক্কেলপুর আত্মীয়ের বাসা থেকে জামাইয়ের সাথে মোটরসাইকেল যোগে বাড়ি ফেরার পথে বদলগাছীর গোবরচাঁপা টু আক্কেলপুর সড়কের মিঠাপুর নতুন বাজার এলাকায় ধান বোঝাই ট্রাক (ঢাকা মেট্রো-ট-১৬-৭০৭৮ এর সাথে মুখোমুখি সংঘর্ষে মোটরসাইকেল আরোহী চন্দনা রানী ট্রাকের চাকায় পৃষ্ঠ হয়ে ঘটনাস্থলে মারা যায়। ঘটনাটি দেখে স্থানীয় জনতা ট্রাক চালক এবং ট্রাক আটক করেন।খবর পেয়ে থানা পুলিশের এস আই নীহার চন্দ্র সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। বদলগাছী থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ  মাহবুবুর রহমান (পিপিএ) বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনাস্থল থেকে ট্রাক ও চালককে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। লাশ উদ্ধার করে বদলগাছী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রাখা হয়েছে। এ ব‍্যপারে আইনগত ব‍্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।


আরও খবর



জিয়ার স্বাধীনতার ঘোষণা: এবার তারিখটাও বদলে দিলো বিএনপি!

প্রকাশিত:শুক্রবার ৩১ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ২৪ জুন 20২৪ |

Image


 

আসাদ জামান:


রাজনীতিতে মিথ্যার চর্চা একেবারেই স্বাভাবিক ঘটনা। মিথ্যা না বললে রাজনীতি হয় না। কিন্তু যে মিথ্যা জাতির ইতিহাসকে বদলে দেয়, সে মিথ্যা যে পক্ষ থেকেই হোক, তার প্রতিবাদ হওয়া দরকার। 


এই প্রতিবাদ করার জন্য কোনো দল বা সংগঠনের সক্রিয়া সদস্য বা কর্মী হওয়ার প্রয়োজন নেই। প্রয়োজন কেবল ইতিহাসারে প্রতি দায়বদ্ধতা, সত্যের সারথি হওয়া।



বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৩তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বুধবার (২৯ মে) গণমাধ্যমে দলটির মহাসচিবের নামে যে ‘বাণী’ পাঠানো হয়েছে, সেখানে বলা হয়েছে, ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের শুরুতে রাজনৈতিক নেতৃত্বের অনুপস্থিতিতে দেশের মানুষ যখন দিশেহারা ঠিক সেই মুহূর্তে ২৬ মার্চ কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রে মেজর জিয়ার স্বাধীনতার ঘোষণা পুরো জাতিকে স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে উজ্জীবিত করেছে।’


এতদিন শুধু জিয়াকে স্বাধীনতার ঘোষক দাবি করে আসছিল বিএনপি। কিন্তু তারা কোনোদিন বলেনি, জিয়া এই ঘোষণাটা ২৬ মার্চ দিয়েছিলেন। জন্ম-মৃত্যুবার্ষিকীতে দেওয়া বাণীতে জিয়াকে স্বাধীনতার ঘোষক দাবি করলেও ঘোষণার তারিখটা সব সময় ২৭ মার্চ হিসেবেই উল্লেখ করেছে বিএনপি।


 কখনো কখনো কৌশলে এড়িয়ে গেছে। তবে তাদের নিজেদের লেখা বই-পুস্তক দলিল-দস্তাবেজে জিয়ার স্বাধীনতার ঘোষণার তারিখ ২৭ মার্চ-ই উল্লেখ আছে।


প্রয়াত সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহর লেখা ‘প্রেসিডেন্ট জিয়া: রাজনৈতিক জীবনী’ বইয়ের ২৬ নম্বর পৃষ্ঠায় লেখা হয়েছে— ‘‘সম্প্রতি একাত্তর সালের ২৫ মার্চের ঘটনাবলি নিয়ে যে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল সে ব্যাপারে শমসের মুবিন চৌধুরী বীর বিক্রম জানান: সত্যি বলতে কী, ২৭ মার্চ কালুরঘাট বেতরকেন্দ্র থেকে দেওয়া মেজর জিয়ার সেই বিখ্যাত স্বাধীনতার ঘোষণা সম্পর্কে নিজের ভাষ্য দিতে গিয়ে প্রত্যেকেই আসল সত্য থেকে দূরে সরে গেছেন। 


এই সাহসী লোকটির অধীনে চট্টগ্রামে লড়াই করাকালে আমার স্বকর্ণে তা (স্বাধীনতার ঘোষণা) শোনার সৌভাগ্য হয়েছিল। একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো— মেজর জিয়ার নির্দেশে ২৮ মার্চ সারাদিন ধরে সেই কেন্দ্র থেকেই আমাকে তার ঐতিহাসিক ঘোষণাটি বার বার প্রচার করতে হয়েছিল। আমার সঙ্গে ছিলেন সুবেদ আলী ভূঁইয়া।


আওয়ামী লীগ নেতা হান্নানের সুনির্দিষ্ট অনুরোধে মেজর জিয়া তার ৩০ মার্চ দেওয়া দ্বিতীয় ভাষণে শেখ মুজিবের নাম অন্তর্ভুক্ত করেন।… মেজর জিয়ার ২৭ মার্চ ঘোষণাটা শেষ হয়েছিল এই কথাটি দিয়ে— ‘Under the circumstances I declare myself provisional head of the government of Bangladesh. Joy Bangla.’ (বর্তমান পরিস্থিতিতে আমি নিজেকে বাংলাদেশ সরকারের অস্থায়ী প্রধান হিসেবে ঘোষণা করছি, জয়বাংলা।)’’



রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর জিয়ার যে সরকারি জীবনবৃত্তান্ত প্রকাশিত হয়, সেখানে লেখা ছিল— ‘১৯৭০ সালের অক্টোবরে চট্টগ্রামে নবগঠিত অষ্টম ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টে জিয়াকে বদলি করা হয়। এই রেজিমেন্টে নিয়োজিত থাকাকালেই তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন এবং ১৯৭১ সালের ২৭ মার্চ সাড়ে সাত কোটি স্বাধীনতাকামী বাঙালির পক্ষে ঐতিহাসিক স্বাধীনতার ঘোষণা দেন।’ (সূত্র: দ্য বাংলাদেশ অবজার্ভার, ২২ এপ্রিল ১৯৭৭)


এ ছাড়া স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের স্থপতি বেলাল মোহাম্মদ ২০১০ সালের ২১ মার্চ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সিনিয়র রিপোর্টার প্রদীপ চৌধুরীকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জিয়ার স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেন। সাক্ষাৎকারটি প্রকাশ হয় ২০১০ সালের ২৮ মার্চ।



ওই সাক্ষাৎকারে বেলাল মোহাম্মদ বলেন, “২৬ মার্চ এদিক-সেদিক টেলিফোন করছি। টেলিফোন দেওয়ার পর চন্দনপুরের তাহের সোবাহান নামে আমার এক বন্ধু ছিল, তিনি বললেন, ‘একজন উচ্চ পদের মেজরের সন্ধান আমি জানি, তবে নাম জানি না। তিনি পটিয়াতে আছেন। তিনি হেডকোয়ার্টারের বাইরে এসেছিলেন বাবর ও সোয়াত জাহাজের অস্ত্র খালাসের জন্য। তিনি আজ রাতে, মানে ২৬ শে মার্চ দিবাগত রাতে সিচুয়েশন অবজার্ভ করার জন্য পটিয়াতে আছেন।”


‘আমাকে উনি অ্যাডভাইজ করলেন, ২৭ তারিখ যদি পটিয়াতে যেতে পারেন নিশ্চয়ই ওনাকে ওখানে পাবেন। বললেন, যেহেতু বাইরে আছেন, নিশ্চয়ই উনি বঙ্গবন্ধুর সাপোর্টার হবেন। আমার আরেক বন্ধুর সাহায্যে আমরা একটা গাড়ির ব্যবস্থা করে পরদিন সকালে রওনা হয়েছি পটিয়ায়। আর আমার সহকর্মীদের বলে দিয়েছি, কালুরঘাটের দিকে আস্তে আস্তে যাবে। আমি পটিয়া থেকে আসার পর প্রোগ্রাম শুরু হবে।’


“পটিয়ায় পৌঁছেই দেখা গেল আর্মি গিজ গিজ করছে।… এখানে যে আর্মি অফিসার আছেন, তার নাম মেজর জিয়াউর রহমান। তার সঙ্গে দেখা হলো। তাকে বললাম, ‘আপনি তো এখানে ব্রডকাস্ট শুনেছেন।’ তিনি বললেন, ‘আপনারা যে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা প্রচার করেছেন, তা শুনেছি এবং খুশি হয়েছি।’”


‘আমি বললাম, আপনি যদি দয়া করে আপনার এই ছাউনিটা এখান থেকে সরিয়ে কালুরঘাটে নিয়ে যেতেন, তাহলে বাড়িটা প্রটেক্ট হবে। আমরাও ওখানে স্থায়ীভাবে থাকতে পারব। স্থায়ীভাবে না থাকতে পারলে কোনো কমিটমেন্ট করা যাবে না। ঠিক টাইমে রেডিওতে প্রোগ্রাম দেওয়া অ্যাডভেঞ্চার নয়। বেশ কিছু লোক লাগে। সব রকমের পয়েন্টে লোক বসে থাকা লাগে।’



“তারপর উনি আর দেরি করেন নাই। সৈন্যদের রওনা করিয়ে দিলেন। নিজেও একটা জিপে করে রওনা হলেন। আমাদের গাড়িটা ওনার গাড়ির পেছনে পেছনে চলল। পথে যেখানেই উনি বেশি মানুষের জটলা দেখলেন, যারা কর্মস্থল ছেড়ে পোটলা-পুটলি নিয়ে চলে যাচ্ছে, সেখানে তিনি দাঁড়িয়ে একটা বক্তৃতা দিলেন।


 ‘আপনারা যার যার কাজের জায়গায় চলে যান। ইনশাল্লাহ দুয়েক দিনের মধ্যে আমরা পাঞ্জাবিদের খতম করে দেবো। আর উর্দু ভাষায় যারা কথা বলে তারা সব আমাদের দুশমন। তাদেরকে শেষ করে দেন।’”


“এটাই ছিল ওনার বক্তব্য। এই দশ জায়গায় থেমে থেমে যাওয়ার কারণে আমাদের কালুরঘাটে পৌঁছতে সন্ধ্যা হয়ে গেল।… আমার সহকর্মী যারা উপস্থিত ছিল, তারা প্রোগ্রাম শুরু করল। একসময় জিয়াউর রহমান ও আমি একটা রুমে বসেছি। 


আমার এক সহকর্মী আমাকে কিছু কাগজপত্র দেখাচ্ছে। আমি কী মনে করে বললাম, ‘আচ্ছা মেজর সাহেব, এখানে তো আমরা সবাই মাইনর, আপনিই একমাত্র মেজর। আপনি কি নিজের কণ্ঠে কিছু বলবেন? উনি বললেন, ‘হ্যাঁ। সত্যিই তো, কী বলা যায়?’”


‘সঙ্গে সঙ্গে একটা কাগজ এগিয়ে দেওয়া হলো। তার প্রতিটি শব্দ তিনিও উচ্চারণ করেছেন এবং আমিও উচ্চারণ করেছি। এভাবে লেখা শুরু হলো— ‘আই, মেজর জিয়া অন বিহাফ অব আওয়ার গ্রেট ন্যাশনাল লিডার বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান ডু হেয়ার বাই ডিক্লেয়ার ইন্ডিপেনডেন্স অব বাংলাদেশ।… খোদা হাফেজ জয় বাংলা।’”


‘এই ঘোষণাটির খসড়াও তৈরি হলো আমার সঙ্গে আলাপ করে।… আর আমার সহকর্মীদের বলে দিলাম, কিছুক্ষণের মধ্যে মেজর জিয়া একটা জরুরি ভাষণ দেবেন। এভাবে দুই-তিনবার অ্যাডভান্স অ্যানাউন্সমেন্ট করা হলো। তারপর তিনি নিজের কণ্ঠে ইংরেজিটা পড়েছেন। বাংলাটা আমার সহকর্মী আব্দুল্লাহ আল ফারুকের কণ্ঠস্বর ভালো, তাকে দিয়ে শুনিয়েছি। এভাবেই হলো। 


কোনো রকম পূর্বপ্রস্তুতি ছিল না, পরিকল্পনা ছিল না এবং এটা স্বাধীনতা ঘোষণা না। এটা হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর পক্ষ থেকে একই কথার পুনরুক্তি করা।’


‘রাষ্ট্রপতি জিয়া কোনোদিন নিজেকে স্বাধীনতার ঘোষক বলেননি। ২৬ তারিখও বলেননি, উনি সবসময় ২৭ তারিখই (২৭ মার্চ) বলেছেন।… পরবর্তী সময় যে ঘোষক-টোষক বলা হয়েছে, এগুলো তৈরি করা। রাষ্ট্রপতি জিয়া এগুলো ক্লেইম করেননি।’


প্রকৃত অর্থে জিয়াউর রহমান জীবিত অবস্থায় কোনোদিন নিজেকে স্বাধীনতার ঘোষক দাবিই করেননি। তার মৃত্যুর পর বিএনপির রাজনীতি খালেদা জিয়ার হাতে পড়লে এ বিতর্ক প্রথম শুরু হয়। খালেদা জিয়ার হাত থেকে বিএনপির রাজনীতি যখন তারেক রহমানের হাতে পড়ে, তখন এটা ‘পূর্ণতা’ লাভ করে। তারপরও জিয়ার ‘স্বাধীনতার ঘোষণা’ সংক্রান্ত তারিখ বিএনপি এতদিন ২৭ মার্চ-ই বলে আসছিল। হঠাৎ কেন ২৬ মার্চে নিয়ে এলো?


এর পেছনে কারণটা হলো— জিয়ার ২৭ মার্চের ‘বেতার ঘোষণা’কে স্বাধীনতার ঘোষণা দাবি করলেও ক্ষমতায় থেকে এবং ক্ষমতার বাইরে থেকে ২৬ মার্চকেই ‘মহান স্বাধীনতা দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছে বিএনপি। এ নিয়ে প্রধান প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগ তো বটেই সুধী এবং সাধারণ মহল থেকেও প্রশ্ন উঠছে— জিয়ার ঘোষণা যদি স্বাধীনতার ঘোষণা হয়, তাহলে স্বাধীনতা দিবস ২৭ মার্চ নয় কেন? 


যে ২৬ মার্চ বিএনপি স্বাধীনতা দিবস পালন করে, সেদিন তো জিয়া ‘স্বাধীনতার ঘোষণা’ দেননি। তার জীবদ্দশায় কোনো দিন দাবিও করেননি যে তিনি ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন। সুতরাং এ ধরনের প্রশ্ন থেকে বাঁচতে বিএনপি হয়তো জিয়ার ঘোষণার তারিখটাই বদলে দিতে চাচ্ছে!


জিয়ার ‘স্বাধীনতার ঘোষণার’ তারিখটা ছাড়াও মির্জা ফখরুলের ওই ‘বাণী’-তে আরেকটি স্পর্শকাতর ভুল বা কৌশলে স্বাধীনতার প্রকৃত ইতিহাস অস্বীকারের ইঙ্গিত রয়েছে। বাণীর চতুর্থ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের শেষে জাতি বিদেশি শাসন থেকে মুক্তি লাভ করে।’


১৯৭১ সালের বাঙালির যুদ্ধটা ছিল দখলদার পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে। বিজয়টাও ছিল পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে। কী এক অজানা কারণে জিয়ার মৃত্যুবার্ষিকীতে দেওয়া বাণীতে ‘পাকিস্তান’ শব্দটার উল্লেখ না করে ‘বিদেশি’ শব্দটা ব্যবহার করল বিএনপি— সেটাও গভীর কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে বৈকি! এভাবে ইতিহাসকে অস্বীকার করে বা ভুল ইতিহাস লিখে বিএনপি কী অর্জন করতে চায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। 


অবশ্য বড় দলগুলোর চেয়ারম্যান-মহাসচিব বা সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের নামে পাঠানো বিবৃতি/বাণীর খসড়া সাধারণত অফিস স্টাফরা লিখে থাকেন। দফতর সম্পাদক চোখ বুলিয়ে দেন এবং যার নামে পাঠানো হয়, তিনি সচারাচার এসব বিবৃতি/বাণী পড়ে দেখেন না। ফলে এসব বিবৃতি/বাণীতে থাকা ভুলগুলোকে খুব একটা বেশি গুরুত্ব দেওয়ার সুযোগ থাকে না। তবুও কথা থেকে যায়…।



আরও খবর