Logo
শিরোনাম
মেঘনা নদীতে গোসল করার সময় নিখোঁজ ছাত্রের মরদেহ উদ্ধার রাজবাড়ীতে ট্রাকের সাথে সংঘর্ষে মোটর সাইকেল আরোহীর মৃত্যু রাজবাড়ীতে আবৃত্তি ও কথামালায় প্রকাশনা উৎসব নওগাঁয় মোটরসাইকেলের ধাক্কায় স্কুল ছাত্র নিহত-মা ও ছোট বোন আহত মোরেলগঞ্জে শ্রমীকদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করলেন এমপি মিলন লালমনিরহাটে বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে মারাগেছে স্কুলছাত্র নওগাঁয় বোরো ধান চাষের শুরুতেই বিদ্যুতের লোড শেডিং, দুঃশ্চিন্তায় কৃষকরা নওগাঁয় ৩৫ কোটি টাকা মূল্যের কষ্টিপাথরের মূর্তি উদ্ধার করেছে পুলিশ কুড়িগ্রামের শীতকাতর অসহায় মানুষের পাশে কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেত্রকোনায় বিশ্ব জলাভূমি দিবস উপলক্ষে মানববন্ধন

নওগাঁর আত্রাই নদী পরিযায়ী পাখিকে ঘিরে হতে পারে পর্যটন কেন্দ্র

প্রকাশিত:Monday ২৩ January 20২৩ | হালনাগাদ:Friday ০৩ February ২০২৩ |
Image

শহিদুল ইসলাম জি এম মিঠন :

শীত এলেই ওরা চলে আসে। আসে একেবারে দলবেঁধে। সকাল এর স্নিগ্ধ কুয়াশা আর মৃদু রোদের ফাঁক দিয়ে যেন ভেসে আসে কিচিরমিচির শব্দ। নদীর স্বচ্ছ পানিতে পরিযায়ী পাখির জলকেলি সেই সাথে কলকাকলিতে মুখরিত হয়ে থাকে নদীর দুই পাড়। তাদের আগমনে প্রকৃতি যেন নতুন করে প্রাণ ফিরে পায়। পাখিকে ঘিরে এলাকাটি পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার দাবী জানিয়েছেন স্থানিয় সচেতন মহল সহ পর্যটকরা।

গত কয়েক বছর ধরে শীতের শুরুতে দল বেঁধে আসতে শুরু করে পরিযায়ী পাখি। আবাস গড়ে তোলে নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার আত্রাই নদীর তীরের পুরো কুঞ্জবন এলাকাজুড়ে। নদীর স্বচ্ছ পানিতে চোখ পড়লেই দেখা মিলবে হাজারো পরিযায়ী পাখির। চলতি শীত মৌসুমে বালিহাঁস, সরালি হাঁস, পানকৌড়ি, রাতচোরাসহ বিভিন্ন প্রজাতির পরিযায়ী পাখির বিচরণ ঘটেছে এখানে। এছাড়া পিয়াং হাঁস, পাতি সরালি, লেঙজাহাঁস, বালিহাঁস, পাতিকুট, শামুকখোল, পানকৌড়ি, ছন্নি হাঁস সহ প্রায় ১২জাতের দেশি পাখির দেখা মিলবে। এসব পরিযায়ী পাখি প্রতিদিন ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত নদীর স্বচ্ছ পানিতে করছে জলকেলি। কখনও জলে ভাসতে ভাসতে আবার কখনও দল বেঁধে উড়ছে নদীর চারপাশে। একসঙ্গে ওঠানামা করতে গিয়ে পা আর পাখার ঝাপটায় চারদিকে ছিটকে পড়া পানিতে সৃষ্টি হচ্ছে এক অপরূপ দৃশ্য। সারাদিন নদীতে থাকলেও রাতে পাখিগুলো ফিরে যায় পাশের রামচন্দ্রপুর ও মধুবন সহ এলাকার বিভিন্ন গাছে। ভোরে আবারও ফিরে আসে আত্রাই নদীতে। মনোমুগ্ধকর এই দৃশ্য দেখতে দুর দূরান্ত থেকে আসছেন পাখি প্রেমিরা। নিরাপদে পাখিগুলোর বসবাসের জন্য আবাস করে দিতে উদ্যোগ নিয়েছে স্থানীয় সামাজিক সংগঠন।

পাখি দেখতে আসা দর্শনার্থী আব্দুল হাকিম, খবির উদ্দিন সাজ্জাদ হোসেন মন্ডল সহ অনেকেই বলেন, এখানে এসে অতিথি পাখি দেখে মনটা ভরে যায়। খুব সুন্দর পরিবেশ ও মনোমুগ্ধকর এই জায়গা। অতিথি পাখির অবাধ বিচরণ। এলাকাটিতে যদি পাখির অভয়ারণ্য গড়ে তোলা যায় সেক্ষেত্রে প্রতি বছর এখানে পরিযায়ী পাখি আরো বেশি করে আসতো। এসব পাখিকে ঘিরে এলাকাটি পর্যটন কেন্দ্র গড়ে উঠতে পারে। ঝাঁকে ঝাঁকে পাখি উড়ে এসে পানিতে পড়ছে। আবার কেউ বাঁশের ওপর বসে আরাম করছে। এখানে যাতে কোনক্রমেই ভীতিকর অবস্থা সৃষ্টি না হয় সেদিকে প্রশাসন ও স্থানীয়দের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

সামাজিক সংগঠন নিরাপদ নওগাঁর চেয়ারম্যান ও গনমাধ্যম কর্মী এম সাখাওয়াত হোসেন বলেন, এখানে আগত অতিথি পাখিদের নিরাপত্তা প্রদানে আমরা কাজ করে আসছি। পাখিদের বিচরন স্থান গুলোকে অভয়ারন্য হিসেবে ঘোষনা করতে প্রশাসনের সঙ্গে একাত্ত হয়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছি। শুধু অতিথি পাখিই নয় পুরো দেশের পরিবেশে ও জীব বৈচিত্র্য রক্ষায় আমরা বদ্ধ পরিকর। মহাদেবপুর উপজেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ মাকসুদুর রহমান বলেন, আত্রাই নদীতে যেসব স্থান পাখিদের অবাধ বিচরণ আছে সেই সব স্থানে যাতে কেউ নৌকা দিয়ে মাছ শিকার করার কারণে পাখিদের অবাধ বিচরণে বাধাগ্রস্থ না হয় এবং কেউ যেন পাখি শিকার করতে না পারে সে বিষয়ে মৎস্য অফিসের পক্ষ থেকে নজরদারি রয়েছে। এছাড়া কেউ যদি পাখি শিকার করে, আমরা জানতে পারলে বনবিভাগের সাথে সমন্বয় করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। মহাদেবপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আবু হাসান বলেন, আত্রাই নদীতে যেসব স্থান পাখিদের অবাধ বিচরণ আছে সেই সব স্থানে যাতে কেউ নৌকা দিয়ে মাছ শিকার করার কারণে পাখিদের অবাধ বিচরণে বাধাগ্রস্ত না হয় এবং কেউ যেন পাখি শিকার করতে না পারে সেই বিষয়ে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। অতিথি পাখিদের আবাসস্থলকে নিরাপদ করে অভয়ারন্যে পরিণত করে পর্যটকমুখি করতে গৃহিত পদক্ষেপগুলো দ্রুতই বাস্তবায়ন করা হবে।


আরও খবর



নওগাঁয় ৪০ গ্রামের হাজারো মানুষের ভরসা খেয়াঘাটের নৌকা

প্রকাশিত:Monday ২৩ January 20২৩ | হালনাগাদ:Friday ০৩ February ২০২৩ |
Image

শহিদুল ইসলাম জি এম মিঠন :

নওগাঁর রাণীনগর ও বগুড়ার আদমদীঘি এ দুই উপজেলার সীমানায় অবস্থিত শত বছরের ঐতিহাসিক রক্তদহ বিল। এ বিলের আশেপাশে ৪০টি গ্রামে মানুষের বসবাস। এ ৪০ টি গ্রামের মানুষদের চলাচলের একমাত্র ভরসা মেঠোপথের শেষে খেয়াঘাট এর নৌকা। বিলে পানি যতদিন থাকে ততদিন নৌকায় পারাপার আর যখন পানি থাকে না তখন প্রয়োজনীয় কর্ম সমাধান করতে ৪০/ ৫০কিমি রাস্তা ঘুরে নওগাঁ, বগুড়া, রাণীনগর, আদমদীঘিতে যেতে হয়। এতে করে বছরের পর বছর চরম দুর্ভোগের শিকারের মধ্যদিয়ে জীবন-যাপন করে আসছে ঐ এলাকার লক্ষাধিক মানুষ। কৃষকরা নায্যমূল্য পাওয়া থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে যুগের পর যুগ। খেয়াঘাটে একটি ব্রিজ জোটেনি যার ফলে আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থার সুফল থেকেও বঞ্চিত এই কৃষি প্রধান অঞ্চলটি।

এলাকার বোদলা গ্রামের বাসিন্দা সাইদুর রহমান মুহরী জানান, কথিত আছে ব্রিটিশ বাহিনীর সঙ্গে এই অঞ্চলে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ হয় ফকির মজনু শাহর বাহিনীর সঙ্গে। এই বিলের মধ্যদিয়ে যুদ্ধে নিহত উভয় বাহিনীর সৈন্যের রক্ত একদিয়ে আরেক দিকদিয়ে পানি বয়ে যায় তখন থেকে এই বিলটি রক্তদহ বিল হিসেবে পরিচিত হয়ে ওঠে মানুষের কাছে। মাধ্যমিক পর্যায়ের একাধিক পাঠ্যবইয়েও এই বিলের ইতিহাস লিপিবদ্ধ আছে। কয়েক হাজার বিঘা জমি নিয়ে এই বিল অবস্থিত। বিলের পূর্বপাশে নওগাঁর রাণীনগর উপজেলার কৃষি প্রধান অঞ্চল বোদলা, পালশা, কৃষ্ণপুর, তেবাড়িয়াসহ ৪০টি গ্রাম অবস্থিত। এই মানুষদের সহজেই নওগাঁ, বগুড়া, রাণীনগর, আদমদীঘি, সান্তাহারে চলাচলের সহজ পথ হচ্ছে বিলের মধ্যদিয়ে রাস্তা। বিলের মধ্য একটি ব্রিজ না হওয়ার কারণে মেঠোপথ দিয়েই খেয়াঘাটে পারাপার হতে হয় এলাকার মানুষদের। পারাপারের জন্য খেয়াঘাটে এসে ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করতে হয় নৌকার জন্য।

এই অঞ্চলের মানুষ কোথাও যেতে চাইলে বাড়ি বা বাসা থেকে নির্ধারিত সময়ের থেকে দুই থেকে তিন ঘন্টা সময় হাতে বেশি নিয়ে বের হতে হয়। একটি ব্রিজের অভাবে এখনোও এই অঞ্চলের মানুষদের প্রাচীন যুগে বসবাস করতে হচ্ছে। দিনের বেলায় ঘাটে এসে নৌকা পাওয়া গেলেও রাতের বেলায় ৪০/ ৫০কিমি রাস্তা ঘুরে এই অঞ্চলের মানুষদের নিজের বাড়িতে ফিরতে হয়। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হয় শিক্ষার্থী ও জরুরী রোগীদের। অনেক প্রসুতিদের হাসপাতালে নেয়ার পথে এই খেয়াঘাটে এসেই প্রসব হয়ে যায়। অনেক জটিলতা শেষে ২০১৯ ইং সালে এই ঘাটে একটি ব্রিজ নির্মাণের প্রস্তাব একনেকে অনুমোদন পেলেও পরবর্তিতে সেই কার্যক্রম রহস্যজনক কারণে আর আলোর মুখ দেখেনি। সহজেই নিজেদের উৎপাদিত ফসল বাজারজাত করতে না পারার কারণে নায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হয়ে আসছে এই অঞ্চলের হাজারো কৃষক। দ্রুত এই ঘাটে একটি ব্রিজ নির্মাণ বর্তমানে সময়ের দাবী হয়ে দাঁড়িয়েছে।

নওগাঁ এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী তোফায়েল আহমেদ বলেন, আমার জানা মতে ব্রিজ নির্মাণের সকল প্রক্রিয়া প্রায় শেষের দিকে। সকল বিভাগীয় প্রক্রিয়া শেষে অর্থ বরাদ্দ পেলেই ব্রিজ নির্মাণের কাজ শুরু করা হবে। আমি আশাবাদি অতিদ্রুতই এই অঞ্চলের মানুষদের শত বছরের স্বপ্নের ব্রিজ নির্মাণের সুখবর দ্রুতই পাওয়া যাবে।

নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রাণীনগর) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মোঃ আনোয়ার হোসেন হেলাল বলেন, চীনের হুয়াংহু নদীর মতো এই রক্তদহ বিলও এই অঞ্চলের মানুষের জন্য একটি দুঃখ। এই ঘাটে একটি ব্রিজ এই অঞ্চলটিকে আমুল বদলে দিতে পারে। আমিও সংশ্লিষ্ট বিভাগকে একাধিকবার ব্রিজ নির্মাণের জন্য যাবতীয় পদক্ষেপ গ্রহনের জন্য তাগাদা দিয়েছি। আমি আশাবাদি জননেত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের ছোঁয়া হিসেবে এই ঘাটে দ্রুত একটি আধুনিকমানের ব্রিজ নির্মাণের সুখবর পাওয়া যাবে।


আরও খবর



ধামরাইয়ে প্রায় দুই একর খাস জমি উদ্ধার করে খেলার মাঠ নির্মান

প্রকাশিত:Wednesday ০১ February ২০২৩ | হালনাগাদ:Friday ০৩ February ২০২৩ |
Image

মাহবুবুল আলম রিপন(স্টাফ রিপোর্টার)

ঢাকার ধামরাইয়ে অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে প্রায় দুই একর খাস জমি উদ্ধার করে খেলার মাঠ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার হোসাইন মোহাম্মদ হাই জকী।


সোমবার (৩০ জানুয়ারি) সকাল ৯টার দিকে উপজেলার যাদবপুর ইউনিয়নের আমছিমুর গ্রামে দুই একর খাস জমি উদ্ধার করা হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়- দীর্ঘদিন ধরে আমছিমুর এলাকার প্রভাবশালী দুটি পরিবার প্রায় দুই একর খাস জমি অবৈধভাবে ভোগ দখল করে আসছে। পরে খাস জমি উদ্ধারের জন্য আমছিমুর বনলতা স্পোর্টিং ক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ মাহফুযুল হক শাহীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একটি আবেদন করেন। পরে ইউএনও এই অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে খাস জমি উদ্ধার করে খেলার মাঠ নির্মাণের জন্য উদ্যোগ নেন। বনলতা স্পোর্টিং ক্লাবের সভাপতি মোহাম্মদ মাহফুযুল হক শাহীন বলেন- আমাদের স্কুলের পিছনে প্রায় দুই একর সরকারি খাস জমি রয়েছে। তা অবৈধ ভোগ দখল করে আসছে এলাকার কিছু লোকজন। আমাদের এলাকার বীর মুক্তিযোদ্ধা ও যুবকরা বিষয়টি আমাকে জানায়। মুক্তিযোদ্ধারা বলেন আমাদের এখানে স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় প্রথম ফায়ারিং হয়। আমরা চাই এই জায়গাটাতে যেন মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভ, মুক্তিযোদ্ধা জাদুঘর ও মুক্তিযোদ্ধা মাঠ নির্মাণ হয়। পরে মুক্তিযোদ্ধাদের দাবি অনুযায়ী আমি স্থানীয় সংসদ সদস্য ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর আবেদন করি এই খাস জমি উদ্ধার করে মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভ, মুক্তিযোদ্ধা জাদুঘর ও মুক্তিযোদ্ধা মাঠ নির্মাণের জন্য। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে উপজেলা ভূমি অফিস থেকে সরজমিনে তদন্ত করে দখলদারদের উক্ত জমির মালিকানার কাগজপত্র দাখিল করতে বলা হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কোন কাগজপত্র দাখিল করতে পারেনি দখলদাররা। যার ফলে আজ অবৈধ দখলের কবল থেকে প্রায় দুই একর খাস জমি উদ্ধার করে খেলার মাঠ নির্মাণের উদ্যোগ নেন ইউএনও।


বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল লতিফ বলেন- আমরা দেশ ও দেশের মানুষের অধিকার আদায়ের জন্য লড়াই করেছি। পরাধীনতার চাদর থেকে স্বাধীনতা লাভ করার জন্য প্রাণপণ যুদ্ধ করেছি। আমরা নিজেদের স্বার্থ কখনো দেখিনি। তাই আমরা আমাদের গ্রামে একটা মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভ, মুক্তিযোদ্ধা জাদুঘর ও মুক্তিযোদ্ধা পার্ক চাই। এজন্য উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একটি আবেদন করেছি। তাছাড়া আমাদের অভিভাবক ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ঢাকা-২০ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা বেনজির আহমদকে বিষয়টি জানালে সম্মতি দেন। আজ অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে খাস জমি উদ্ধার করে মাঠ নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়ায় ইউএনও সাহেবকে অনেক ধন্যবাদ।


ধামরাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার হোসাইন মোহাম্মদ হাই জকী বলেন- অবৈধভাবে কেউ খাস জমি ভোগ দখল করতে পারবে না। আজ যে জমিটি উদ্ধার করা হয়েছে এটি খাস জমি। দীর্ঘদিন অবৈধ ভোগ দখল করে আসছিলো। এখানে প্রায় দুই একর খাস জমি উদ্ধার করা হয়েছে। জমিটিতে আমরা একটি খেলার মাঠ তৈরির উদ্যোগ নিয়েছি। আগামী এক মাসের মধ্যে এটিকে খেলার উপযোগী মাঠে রুপান্তর করা হবে।


আরও খবর



দিনে কমতে পারে শীত, বাড়তে পারে রাতে

প্রকাশিত:Monday ০৯ January ২০২৩ | হালনাগাদ:Friday ০৩ February ২০২৩ |
Image

রোকসানা মনোয়ার :দেশের আকাশ থেকে কুয়াশার চাদর সরে যাচ্ছে। আকাশে সূর্যের দেখা মিলেছে, রোদ উঠতে শুরু করেছে। ফলে ছয় দিন ধরে চলা শীতের কষ্ট কেটে যাওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। 

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, এরই মধ্যে রবিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত টানা রোদের দেখা পাওয়া গেছে। এতে দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য বেড়ে যেতে পারে। আজ রোদ আরো সকাল সকাল উঠে বেশি সময় স্থায়ী হতে পারে। এতে দিনের বেলা শীতের অনুভূতি কমে আসতে পারে। তবে সন্ধ্যার পর থেকে আবারও শীত বাড়তে পারে। এমনকি দেশের কোথাও কোথাও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা আরো কমতে পারে। শৈত্যপ্রবাহের এলাকাও বাড়তে পারে।

এ ব্যাপারে আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ বজলুর রশীদ বলেন, দেশে সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ তাপমাত্রার পার্থক্য কমে আসায় শীতের অনুভূতি বেশি ছিল। রবিবার থেকে রোদ ওঠায় এবং তা বেশি সময় স্থায়ী হওয়ায় দিনের তাপমাত্রা বাড়তে থাকবে। আগামী দুই থেকে তিন দিন দেশের উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে শৈত্যপ্রবাহ থাকবে। তবে দিনের তাপ বাড়বে।

রবিবার টাঙ্গাইল, মানিকগঞ্জ, ফরিদপুর, যশোর, চুয়াডাঙ্গা, সাতক্ষীরা ও কুষ্টিয়া জেলা এবং রংপুর ও রাজশাহী বিভাগের ওপর দিয়ে মৃদু থেকে মাঝারি শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। আজও এ অবস্থা অব্যাহত থাকতে পারে। এসব এলাকাসহ সারা দেশে দিনের তাপমাত্রা কিছুটা বাড়তে পারে। তবে রাত থেকে ভোর পর্যন্ত তাপমাত্রা আগের মতোই কম থাকতে পারে। এদিন দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল চুয়াডাঙ্গা ও যশোরে সাত দশমিক আট ডিগ্রি সেলসিয়াস। রাজধানীর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১২ দশমিক তিন ডিগ্রি সেলসিয়াস। এদিকে, ঘনকুয়াশার কারণে রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ও মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া নৌরুটে ১০ ঘণ্টা পর ফেরি চলাচল শুরু হয়েছে।


আরও খবর



লোকালয়ে বাঘের গর্জন, এলাকাবাসী ও বন বিভাগ রাতভর পাহারা

প্রকাশিত:Tuesday ৩১ January ২০২৩ | হালনাগাদ:Thursday ০২ February 2০২3 |
Image

এম.পলাশ শরীফ, বাগেরহাট : 

 সুন্দরবনে বাঘের আক্রমনে জেলে আহতের ঘটনার দুই দিন পরে আবারও লোকালয়ে বাঘের গর্জন শোনা গেছে। গত রবিবার রাতে বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জ উপজেলার পশ্চিম আমুরবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দারা এই বাঘের গর্জন শুনতে পান। ধারণা করা হচ্ছে সুন্দরবন পূর্ববন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জের সুধীরের সিলা ও মিস্ত্রির সিলা এলাকায় এই বাঘ ডাকাডাকি করেছে।

এদিকে বাঘের গর্জনের খবর পেয়ে রাতভর বন বিভাগ ও স্থানীয়রা এলাকায় মাইকিং ও সংর্ঘবদ্ধ হয়ে পাহাড়া দিয়েছেন। সোমবার সকালে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের মোরেলগঞ্জের জিউধরা স্টেশন কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, স্থানীয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে আমরা রাতভর পাহাড়া দিয়েছি। এলাকায় মাইকিং করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে বাঘটি লোকালয়ের পাশাপাশি রয়েছে।

মোহাম্মদ শাহজাহান আরও বলেন, সুন্দরবন ও পশ্চিম আমুরবুনিয়া গ্রামের মাঝের ভোলা নদী অনেক ছোট। নদীটির নাব্যতা হারিয়েছে শুকিয়ে গেছে, যার কারণে যেকোন সময় বাঘ আসতে পারে। এই কারণে এলাকার লোকজন আতঙ্কে রয়েছে। বনবিভাগ খুব সতর্ক অবস্থায় আছে। আশাকরি কোন সমস্যা হবে না। এর আগে গেল শুক্রবার সুন্দরবন থেকে খালের পাড়ে আসা একটি বাঘ হঠাৎ আক্রমন করে অনুকুলকে। তার সাথে থাকা মাহবুবের ডাক চিৎকারে নিকটস্থ আমরবুনিয়া গ্রামের ১৫/২০ জন লোক বনে গিয়ে অনুকুলকে উদ্ধার করে। বেলা সাড়ে ১২টার দিকে তাকে মোরেলগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আহত অনুকুল অবিবাহিত তার পরিবারে শুধুমাত্র বৃদ্ধ মাতা কুমুদিনী গাইন (৯০) রয়েছেন।  বর্তমানে অনুকুল ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।  


আরও খবর



গজারিয়ায় বাউশিয়া ইউনিয়নে শীর্তাতদের মাঝে কম্বল বিতরন

প্রকাশিত:Sunday ০৮ January ২০২৩ | হালনাগাদ:Friday ০৩ February ২০২৩ |
Image

মুন্সিগন্জ প্রতিনিধি: মুন্সিগঞ্জর গজারিয়া উপজেলা কনকনে ঠান্ডায় গরম কাপড়ের অভাবে শীত নিবারন করতে পারছে না ছিন্নমূল, গরীব, অসহায় ও খেটে খাওয়া মানুষরা। ঠিক সেই সময়ে গজারিয়া উপজেলার বাউশিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান ব্যক্তি উদ্যোগে শীতবস্ত্র (কম্বল) বিতরনের উদ্যোগ নেয়। 

প্রতি বছরের ন্যায় এবারেও সরকারি শীতবস্ত্র বিতরণ পাশাপাশি নিজ অর্থায়নে ব্যক্তি উদ্যোগে চরবাউশিয়া বড়কান্দি গ্রামে অসহায় ছিন্নমূল মানুষদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করেন তিনি। 

রোববার ঘন কুয়াশার মধ্যে বাউশিয়া ইউনিয়নে চরবাউশিয়া বড়কান্দি গ্রামে বিভিন্ন বাড়িতে ঘুরে ঘুরে প্রায় দুই শতাধিক মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরন করা হয়।

শীতবস্ত্র বিতরণ কালে বাউশিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান প্রধান বলেন, সারা দেশের মতো গজারিয়া উপজেলার বাউশিয়া ইউনিয়নে তীব্র শীতে অসহায় অনেক মানুষ কষ্ট করছে। শীতার্তদের শীতের হাত থেকে রক্ষা করতে আজ দুই শতাধিক মানুষের মাঝে শীতের কম্বল বিতরণ করেছি। জাতির পিতার সোনার বাংলা ও জননেত্রী শেখ হাসিনার দারিদ্র ও ক্ষুদামুক্ত বাংলাদেশ গড়তে হলে জন প্রতিনিধিদের যার যার অবস্থান থেকে অসহায়দের পাশে দাড়াতে হবে। তাই সফল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জনকল্যাণমূলক কাজের অগ্রযাত্রাকে এগিয়ে নিতে স্থানীয় সরকারের অধীনস্থ বাউশিয়া ইউনিয়ন পরিষদ  জনগণের পাশে রয়েছে। 

তিনি আরও বলেন, শীতার্তদের শীত বস্ত্র বিতরণ অব্যাহত থাকবে। বাউশিয়া বিভিন্ন স্থানে পর্যায়ক্রমে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হবে। এসময় বাউশিয়া ইউনিয়নের সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য গন উপস্থিত ছিলেন।

শীত বস্ত্র গ্রহণকারীদের মধ্যে ষাটোর্ধ্ব নারী আনোয়ার বেগম বলেন, গত কয়েকদিনের তীব্র শীতে রাতে ঘুমাতে খুব কষ্ট হয়েছে। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের দেয়া কম্বল পেয়ে সেই কষ্ট লাঘব হবে।



আরও খবর