Logo
শিরোনাম
মেঘনা নদীতে গোসল করার সময় নিখোঁজ ছাত্রের মরদেহ উদ্ধার রাজবাড়ীতে ট্রাকের সাথে সংঘর্ষে মোটর সাইকেল আরোহীর মৃত্যু রাজবাড়ীতে আবৃত্তি ও কথামালায় প্রকাশনা উৎসব নওগাঁয় মোটরসাইকেলের ধাক্কায় স্কুল ছাত্র নিহত-মা ও ছোট বোন আহত মোরেলগঞ্জে শ্রমীকদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করলেন এমপি মিলন লালমনিরহাটে বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে মারাগেছে স্কুলছাত্র নওগাঁয় বোরো ধান চাষের শুরুতেই বিদ্যুতের লোড শেডিং, দুঃশ্চিন্তায় কৃষকরা নওগাঁয় ৩৫ কোটি টাকা মূল্যের কষ্টিপাথরের মূর্তি উদ্ধার করেছে পুলিশ কুড়িগ্রামের শীতকাতর অসহায় মানুষের পাশে কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেত্রকোনায় বিশ্ব জলাভূমি দিবস উপলক্ষে মানববন্ধন

নওগাঁয় বেগুন গাছে টমেটো চাষে সফল কৃষক বাদল

প্রকাশিত:Thursday ০১ December ২০২২ | হালনাগাদ:Friday ০৩ February ২০২৩ |
Image

শহিদুল ইসলাম জি এম মিঠন, স্টাফ রিপোর্টারঃ


ব্যতিক্রমী উৎপাদন-নওগাঁয় বেগুন গাছে টমেটো চাষ।

জংলি বেগুন গাছের সাথে গ্র্যাফটিং পদ্ধতিতে হাইব্রিড জাতের গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষ করে সফল হয়েছেন কৃষক জহুরুল ইসলাম বাদল। কৃষক জহুরুল ইসলাম বাদলের বাড়ি নওগাঁর রানীনগর উপজেলার শিয়ালা গ্রামে। তিনি নিজস্ব জমিতে ফসল উৎপাদন করে জীবিকা নির্বাহ করেন। জমিতে নতুন নতুন জাতের এবং অধিক উৎপাদনশীল ফসল উৎপাদন তার নেশা। সাধারণ যে কোন ফসলকে ব্যতিক্রমী উপায়ে উৎপাদন করে অধিক  লাভবান হওয়ার উপায় খুজে বের করেন কৃষক জহুরুল ইসলাম বাদল।

এ বছর তিনি জংলি বেগুন গাছের সাথে গ্র্যাফটিং পদ্ধতিতে হাইব্রিড জাতের গ্রীষ্মকালীন টমেটো চাষ করে সফল হয়েছেন। জহুরুল ইসলাম বাদলের এসফলতা নিয়ে এলাকার কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া পরেছে। তার এ সফলতা দেখে অনেক কৃষক গ্র্যাফটিং পদ্ধতিতে টমেটো চাষে আগ্রহী হয়ে ওঠেছেন।

কৃষক জহুরুল ইসলাম বাদল মোবাইল ফোনে ইউটিউব দেখা  ধারনা অনুযায়ী তার নিজস্ব ১৩ কাঠা জমিতে জংলি বা ঘুটি বেগুন গাছের চারা তৈরী করে সেই জংলি বেগুন গাছে গ্র্যাফটিংয়ের মাধ্যমে হাইব্রডি জাতের টমেটোর গাছ সংযোগ করার মাধ্যমেই কৃষক জহুরুল ইসলাম বাদল এখন সফল। বেগুন গাছে টমেটো চাষ করতে গিয়ে ১৩ কাঠা জমিতে সব মিলিয়ে তার খরচ হয়েছে ৩০ হাজার টাকা।


রোপণ এর মাত্র দু' মাস পর থেকেই গাছে ফল আসতে শুরু করে এমনকি স্বাভাবিক টমেটোর গাছ থেকে বিশেষ প্রক্রিয়ায় তৈরী গাছে অনেক বেশী টমেটো ধরেছে। ইতি মধ্যেই কৃষক জহুরুল ইসলাম বাদল জমি থেকে প্রতিদিন ৬০ বা ৭০ কেজি করে টমেটো উত্তোলন করে বিক্রি করছেন। আগাম তোলা টমেটো বাজারে প্রতি কেজি প্রথম দিকে ১১০ টাকা করে বিক্রি করছেন এবং এখনও কিছুটা দর কমলেও তুলনা মূলক ভালো মূল্য পাচ্ছেন তিনি। ইতি মধ্যেই তিনি সেই হিসাবে মত বিগত দু’মাসে প্রায় ৪ লাখ টাকার টমেটো বিক্রি করেছেন। এগাছগুলো থেকে আরো এক মাস তিনি টমেটো বিক্রি করবেন বলে প্রত্যাশা করছেন। উৎপাদনের হার থাকবে একই রকম। খরচ বাদ দিয়ে নীট মুনাফা আসবে ৪ লাখ টাকার উপর বলেই তার আশা।  

নতুন প্রক্রিয়ায় টমেটো চাষের সফলতা দেখে এলাকার অনেক কৃষক-ই এখন এ পদ্ধদিতে টমেটো চাষ করতে অগ্রহী হয়ে উঠেছেন। জহুরুল ইসলাম বাদলের সহায়তায় তারা চাষ করতে চান।

নওগাঁর রানীনগর উপজেলার কৃষি অফিসার মোঃ শহিদুল ইসলাম জানিয়েছেন, সময়ের প্রয়োজনে কৃষকদের নতুন নতুন অধিক উৎপাদনশীল ফসল চাষে আগ্রহী করে তুলতে কৃষি বিভাগ কাজ করছে। তারই ধারাবাহিকতায় চাষী জহুরুল ইসলাম বাদল সহ অনেকেই গ্র্যাফটিং পদ্ধতিতে টমেটো চাষ করে সাফল্য অর্জন করেছেন। এ ব্যপারে কৃষি বিভাগ সর্বাত্মক পরামর্শ ও সহযোগিতা প্রদান অব্যাহত রাখবে বলে জানান কৃষি তিনি।


আরও খবর



হতদরিদ্রদের পাশে দাঁড়াতে বিত্তবানদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান

প্রকাশিত:Sunday ১৫ January ২০২৩ | হালনাগাদ:Friday ০৩ February ২০২৩ |
Image

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা হতদরিদ্র, নিঃস্ব ও সহায়সম্বলহীনদের পাশে দাঁড়তে সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, তার সরকার প্রতিটি ভূমিহীন ও গৃহহীন মানুষের বাসস্থান নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে।

আজ বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ব্যাংকস (বিএবি)’র একটি প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে তার কার্যালয়ে সাক্ষাৎ করতে এলে তিনি একথা বলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশে একজন মানুষও ভূমিহীন বা ঠিকানা-বিহীন থাকবে না। এটাই আমাদের লক্ষ্য।’বৈঠকের পর প্রধানমন্ত্রীর ডেপুটি প্রেস সচিব কে এম শাখাওয়াত মুন সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন।

তিনি জানান, আশ্রায়ন প্রকল্পের আওতায় গৃহহীন ও ভূমিহীন মানুষের জন্য বাড়ি নির্মাণে ৩৬টি ব্যাংক মোট ১১৩ দশমিক ২৫ কোটি টাকা অনুদান দিয়েছে।

দেশের গৃহহীন ও ভূমিহীনদের জন্য বাড়ি নির্মাণ করে দেয়ায় এগিয়ে আসার জন্য সমাজের ধনীক শ্রেণীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, ‘শুধু সরকারই নয়, বরং আমরা সবাই মিলে দেশকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিয়ে যাবো।’

তিনি আরো বলেন, জমি ও ঘর পাওয়ার পর অনেক গৃহহীন ও ভূমিহীন মানুষের জীবনযাত্রার মান পরিবর্তন হয়েছে। এদের অধিকাংশকেই ইতোমধ্যে জমি ও ঘর দেয়া হয়েছে। এখন অল্প কয়েকজন বাকী আছে। তাদের জন্যও বাসস্থান নির্মাণ করা হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই আশ্রায়ন প্রকল্প থেকে যারা ঘর পেয়েছেন-তাদের মুখের হাসি ও মনের সন্তুষ্টি থেকে বড় আর কোন প্রাপ্তি হতে পারে না।’

তিনি আরো বলেন, অনেকেই যারা আশ্রায়ন প্রকল্পে দুই ডেসিমেল জমি পেয়েছেন- তারা সেখানে শাকসজবি চাষ, হাঁস--মুরগি পালন, কুটির শিল্প ও দোকান গড়ে তুলেছেন। তারা এভাবে ভালোভাবে বেঁচে থাকার পথ খুঁজে পেয়েছেন। এই জমি ও ঘর পাওয়ার ফলে তাদের জীবনযাত্রার পরিবর্তন (উন্নতি) হচ্ছে।’

অনুদানের অর্থ প্রদান করায় বিএবি ও ব্যাংকারদের ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী  বলেন, ‘আপনাদেরকে আমার (অনুদান প্রদানের কথা) বলার প্রয়োজন হয় না। আপনারা যে কোন দুর্যোগ ও সংকটকালে স্বতস্ফূর্তভাবেই এগিয়ে আসেন।’

বেসরকারি খাতে ব্যাংক খুলতে তার সরকারের পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বেসরকারি ব্যাংকগুলোতে বর্তমানে ৩ লাখ কাজ করছে, এটা একটি অনেক বড় ব্যাপার।’

প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব মো. তোফাজ্জল হোসেন মিয়ার সঞ্চলনায় সভায় অন্যান্যের মাঝে বক্তব্য রাখেন বিএবি চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার।


আরও খবর



আফগানিস্তানে তুষারপাতে মৃত্যু বেড়ে ১২৪

প্রকাশিত:Wednesday ২৫ January ২০২৩ | হালনাগাদ:Friday ০৩ February ২০২৩ |
Image

গত ১৫ দিনে আফগানিস্তানে ভয়াবহ শীতকালীন তুষারপাত ও তীব্র ঠান্ডায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক'শ ২৪ জনে।

টানা ১৫ দিনের তীব্র ঠান্ডায় আরো প্রায় ৭০ হাজার গাবাদিপশু মারা গেছে। চলমান পরিস্থিতিতেও সরকারি নির্দেশে কোনো পরিবর্তন আসবে না বলে জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রী মোল্লা মোহাম্মদ আব্বাস আখুন্দ। তিনি বলেন, ভারি তুষারপাতের কারণে আফগানিস্তানের অনেক এলাকা সম্পূর্ণরূপে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। দুর্গতদের উদ্ধারে ওইসব অঞ্চলে সামরিক হেলিকপ্টার পাঠানো হলেও বেশিরভাগ পাহাড়ি এলাকায় হেলিকপ্টার অবতরণ করতে পারছে না। আগামী ১০ দিনে আবহাওয়ার উন্নতি অর্থাৎ তাপমাত্রা বাড়বে বলে আশা করছে দেশটির আবহাওয়া বিভাগ।


আরও খবর



জমে উঠেছে লোককারুশিল্প মেলা ও লোকজ উৎসব

প্রকাশিত:Monday ২৩ January 20২৩ | হালনাগাদ:Friday ০৩ February ২০২৩ |
Image

বুলবুল আহমেদ সোহেল :

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁওয়ে চলছে বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনে চলছে মাসব্যাপী লোককারুশিল্প মেলা ও লোকজ উৎসব। দেশের ঐহিত্যবাহী লোককারু শিল্পের নিদর্শন সংগ্রহ সংরক্ষন, প্রদর্শন ও পুনরুজ্জীবিত করে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার জন্যই প্রতি বছর এ মেলার আয়োজন। দর্শনার্থীদের কাছে সব আয়োজন ঠিকঠাক থাকলেও অভিযোগ উঠেছে মূল ভিষণ থেকে সরে যাচ্ছে ফাউন্ডেশন, চারুকারু শিল্পীদের দেয়া হয়নি পর্যাপ্ত স্টল, কনস্ট্রাকশন কাজ বিনষ্ট হচ্ছে প্রাকৃতিক রূপ।

বাংলাদেশ লোক ও কারুশিল্প ফাউন্ডেশনের ভেতরে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন কারুশিল্প যাদুঘর এবং লোক ও কারুশিল্প যাদুঘর।  গ্রাম বাংলার ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক এ দুটি যাদুঘরে স্থান পেয়েছে প্রাচীন লোক ও কারুশিল্প।  মাসব্যাপী এ উৎসবেকে কেন্দ্র করে পুরো ফাউন্ডেশন চত্বরকে সাজানো হয়েছে বর্নিল সাজে।  প্রতিদিনই বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা প্রদর্শন করছে লোক জীবন প্রদর্শনী,গ্রাম্য নালিশ,কনে দেখা, বিয়ে,জামাইকেও পিঠা আপ্যায়নের দৃশ্য, গ্রামীন খেলা হা-ডু-ডু ও কানামাছি। 

দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা কারুশিল্পীদের প্রদর্শনী,  পুতুল নাচ, বায়স্কোপ, নাগর দোলা, মুন্সিগঞ্জ ও মৌলভী বাজারের শীতল পাটি, মাগুরা ও ঝিনাইদহের শোলা শিল্প, রাজশাহীর শখের হাড়ি ও মুখোশ, চট্টগ্রামের তালপাতার হাতপাখা, রংপুরের শতরঞ্জি, সোনারগাঁওয়ের জামদানী নিয়ে অংশ গ্রহন করেছেন চারু কারু শিল্পিরা। 

এদিকে দর্শনার্থীদের বিনোদনকে আরো প্রানবন্ত করতে ফাউন্ডেশনের ভেতরের লেকে নৌকায় চড়ে ঘুরে বেড়ানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। প্রতিদিন সন্ধ্যায় লোকজ এই উৎসবে থাকছে পালাগান, বাউল ও জারিসারি গানের।করোনা ভাইরাসের কারনে গত কয়েক বছর মেলা বন্ধ থাকায় এবার অন্তত একলাখ দর্শনার্থী লোকজ এ উৎসবে অংশ নেবেন বলে আশাবাদী আয়োজকরা।

মেলায় দর্শনার্থীরা গ্রামীন এসব ঐতিহ্যে দেখে ও ছেলে মেয়েদের পরিচয় করিয়ে দিতে পেরে অনেকটাই আবেগ আপ্লুত। 

এদিকে বিভিন্ন জেলা থেকে আগত শিল্পিরা জানালেন প্রতিবছরই এ মেলায় অংশ গ্রহণ করেন তারা। তবে প্লাস্টিক ও বিদেশী পণ্যের দাপটে আজ বিপন্ন হওয়ার পথে এসব গ্রামীন ঐতিহ্য। বংশ পরম্পরায় অংশ গ্রহন কারী এসব শিল্পীরা বললেন সরকারী ভাবে পিষ্ট পোষকতা ছাড়া এ শিল্প ধরে রাখা যাবেনা। তারা বললেন যাদের জন্য এ মেলার আয়োজন তাদেরকেই অবমূল্যায়ন করা হয়েছে এবার। কয়েকটি স্টলেই দুজন করে শিল্পকে দেয়া হয়েছে। 

মেলা পরিদর্শনে আসা কবি শাহেদ কায়েস বলেন, ফাউন্ডেশনের মূল  উদ্দেশ্য থেকে সরে যাচ্ছে। চারু কারুশিল্পীদের প্রমোট করা,আর্থিকভাবে স্বচ্ছল করা ও গবেষণা কেন্দ্র গড়ে তোলার লক্ষেই জয়নুল আবেদিন প্রতিষ্ঠা করেছিল এ ফাউন্ডেশন। প্রতিবছর মেলার আয়োজন ছাড়া তেমন কোন কার্যক্রমই চোখে পড়েনা। আবার যাদের জন্য এ মেলার আয়োজন তাদেরকেও অবহেলা করা হচ্ছে। ১শটি স্টলের মধ্যে ৩২ স্টল বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে শিল্পীদের। কোন কোন স্টলে দুজন শিল্পীকে বরাদ্ধ দেয়া হচ্ছে। এখানেতো অন্তত ৬৪ জেলার জন্য ৬৪টি স্টল বরাদ্ধ দিয়ে দেশের সব প্রান্ত থেকে অন্তত একজন করে শিল্পীকে জড়োকরা সম্ভব। তা না করে বেশীরভাগ স্টল দেয়া হচ্ছে বিভিন্ন ব্যাবসায়ীদের। যারা এখানে প্লাস্টিক ও চায়না প্রডাক্ট বিক্রি করে লাভবান হচ্ছে।  কোটি টাকার বাজেটে বিভিন্ন ভবন তৈরী হচ্ছে। যা এখানকার প্রাকৃতিক পরিবেশ বিনিষ্ট করা হচ্ছে।

এসব ব্যাপারে ফাউন্ডেশনের পরিচালক এস এম রেজাউল করিম বলেন,তিনি মাত্র একমাস হয়েছে দায়িত্বে বসেছেন। অভিযোগ গুলো তদন্ত করে ব্যাবস্থা নেবেন। এ বছর কর্মরত কারুশিল্পীদের প্রদর্শনীর জন্য ৩২টি স্টল সহ ১০০টি স্টল বরাদ্ধ দেয়া হয়েছে। মেলা চলবে আগামী ১৪ ফেব্রুয়ারী পর্যন্ত।


আরও খবর



রেস্তোরাঁ ব্যবসায় ফিরছে সুদিন

প্রকাশিত:Sunday ১৫ January ২০২৩ | হালনাগাদ:Friday ০৩ February ২০২৩ |
Image

রোকসানা মনোয়ার :বড় পরিবর্তন এসেছে দেশের রেস্তোরাঁ শিল্পে। মানুষের খাদ্যাভ্যাস ও রুচির পরিবর্তন হয়েছে। সারা দেশের ছোট-বড় শহরে গড়ে উঠেছে উন্নতমানের রেস্তোরাঁ। জিডিপির পাশাপাশি প্রতি বছর বাড়ছে কর্মসংস্থান। পৃথিবীজুড়ে এখন এ শিল্প সম্ভাবনাময়। বাংলাদেশেও সেটা হবে। আগামীতে পাশ্চাত্যের দেশগুলোর মতো মানুষ রেস্তোরাঁনির্ভর জীবনযাপন করবে। সেভাবে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ও অভ্যাস গড়ে উঠছে। এদিকে, সম্প্রতি সরকারিভাবে রেস্তোরাঁকে শিল্পের মর্যাদা দেওয়া হয়েছে। এ ঘোষণায় উচ্ছ্বসিত ব্যবসায়ীরা। উন্নত বিশ্বের মতো দেশের রেস্তোরাঁ ব্যবসাকেও মানসম্পন্ন জায়গায় নিতে স্বপ্ন বুনছেন তারা।

শিল্প সংশ্লিষ্টরা বলছেন, রেস্তোরাঁর প্রসারে এ শিল্পে এখন পর্যন্ত বিপুল কর্মসংস্থানও হয়েছে। দেশের প্রায় দুই কোটি মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এ শিল্পের সঙ্গে জড়িত। পাশাপাশি এ শিল্প কৃষি, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ও পর্যটনসহ অন্যান্য অর্থনীতিতেও বড় ভূমিকা রাখছে। সরকার শিল্প ঘোষণা করায় আগামী এক দশকে এ শিল্প আরো তিন গুণ প্রসার হবে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হোটেল ও রেস্টুরেন্ট সার্ভে-২০২১ এর তথ্য বলছে, গত ১১ বছরে দেশে হোটেল ও রেস্তোরাঁর সংখ্যা বেড়েছে প্রায় ১ লাখ ৬১ হাজার। ২০০৯-১০ সালে যেখানে দেশে রেস্তোরাঁর সংখ্যা ছিল ২ লাখ ৭৫ হাজার, তা গত বছর বেড়ে ৪ লাখ ৩৬ হাজার হয়েছে। এ সময়ে কর্মরত মানুষের সংখ্যাও হয়েছে দ্বিগুণ। ২০০৯-১০ অর্থবছরে হোটেল ও রেস্তোরাঁয় কর্মরত ছিলেন ৯ লাখ ৪ হাজার মানুষ, যা গত বছর বেড়ে ২০ লাখ ৭২ হাজার হয়েছে। ফলে এক দশকে মোট দেশজ উৎপাদন বা জিডিপিতে মূল্য সংযোজন বেড়েছে আট গুণ। এক দশক আগে ২০০৯-১০ অর্থবছরে হোটেল-রেস্তোরাঁ থেকে মূল্য সংযোজন হয়েছিল মাত্র ১১ হাজার ৯৮৬ কোটি টাকা। আর সবশেষ ২০১৯-২০ অর্থবছরে হয়েছে ৮৭ হাজার ৯২৬ কোটি টাকা।

আগামী ১০ বছরে এ শিল্প আরো তিন গুণ এগিয়ে যাবে বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করে বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির মহাসচিব ইমরান হাসান বলেন, সরকারের উদ্যোগে রেস্তোরাঁকে শিল্প ঘোষণা করা হয়েছে। এতে আমাদের খাতের বিদ্যমান অনেক সমস্যা সমাধান হবে। বর্তমানে এ শিল্প যে অবস্থায় রয়েছে, আগামী ১০ বছরে তা আরো তিন গুণ বাড়বে।

ইমরান হাসান আরো বলেন,  আগামীতে এ শিল্প থেকে প্রচুর প্রশিক্ষিত কর্মী রপ্তানি সম্ভব হবে। সেটি অর্থনীতিতে বড় অবদান রাখবে। আবার বিভিন্ন দেশ থেকে ফেরত প্রবাসীরাও এ খাতে জড়িয়ে পড়ছে ব্যাক টু ব্যাক শিল্পের মতো। সরকারের সদিচ্ছা থাকলে বিশ্বব্যাপী হসপিটালিটি খাতে দুই কোটি কর্মী রপ্তানি সম্ভব।

এসব বিষয়ে কথা হয় আল-কাদেরিয়া লি: এর চেয়ারম্যান, রেস্তোরাঁ মালিক ফিরোজ আলম সুমনের সাথে । তিনি জানান, অপেক্ষাকৃত কম পুঁজিতে বাংলাদেশে হোটেল-রেস্তোরাঁ ব্যবসা লাভজনক। এছাড়া মানুষের খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তন ও ক্রয়ক্ষমতা বৃদ্ধি এ শিল্প জনপ্রিয় হওয়ার মূল কারণ। সে কারণেই ঢাকা নয়, জেলা ও উপজেলায়ও প্রতিনিয়ত নতুন নতুন হোটেল-রেস্তোরাঁ গড়ে উঠছে। আবার প্রতিনিয়ত নতুন নতুন খাদ্যের প্রসার এ শিল্পকে সমৃদ্ধ করছে। যে কারণে দেশের অর্থনীতিতে অবদান বাড়ছে এ শিল্পের।

সুমন আরো বলেন, এতদিন রেস্তোরাঁ ব্যবসা শিল্পের মর্যাদা না পাওয়ার কারণে বেশ সমস্যা হয়েছে। বিশেষ করে ব্যবসায়ীদের সরকারি সেবা নেওয়ার ক্ষেত্রে চড়া মূল্য দিতে হতো। ফলে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়েছে অনেকে। তা ছাড়া ব্যাংকঋণের উচ্চ সুদহারের কারণে যেসব প্রতিষ্ঠান ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে তাদের ব্যবসার প্রসার করেছেন, তারা প্রতিনিয়ত চড়া সুদ গুনেছে।

ঋণ পরিশোধ সব সময়ই আর্থিক চাপ, এমনকি অনেক প্রতিষ্ঠান টিকতে পারেনি। শিল্প না হওয়ার কারণে এতদিন রেস্তোরাঁ ব্যবসা দেশের পুঁজিবাজার, বিশেষ করে সম্ভাবনাময় বন্ড মার্কেট গড়ে ওঠার ক্ষেত্রেও কোনো ভূমিকা নেয়নি।

আল-কাদেরিয়া রেস্টুরেন্টের কর্ণধার ফিরোজ আলম সুমন আরো বলেন, রেস্তোরাঁ ব্যবসা নির্ঞ্ঝাট নয়। বড় বড় রেস্তোরাঁয় এখন বিনিয়োগও প্রচুর। তারপরও এ ব্যবসার কোনো স্বীকৃতি ছিল না। কোনো মন্ত্রণালয়ের অধীনে সহায়তা মেলেনি। সেজন্য এ ব্যবসার সঙ্গে জড়িত উদ্যোক্তাদের প্রায়ই নানা ধরনের সংকটের মুখোমুখি হতে হয়েছে। টিকতে না পেরে মুখ থুবড়ে পড়েছে অনেক তরুণের উদ্যোগ। এ খাত শিল্প হওয়ায় এখন অনেক সমস্যা কেটে যাবে। বড় বিনিয়োগ আসবে। কয়েক বছরের মধ্যে এ খাত পাল্টে যাবে। যেসব তরুণ উদ্যোক্তা রেস্তোরাঁগুলোতে আধুনিকতার ছোঁয়া লাগিয়ে যাচ্ছেন তারা আরো উদ্যমী হবেন। ব্যাংকগুলো সব ব্যবসায় ঋণ দিলেও রেস্তোরাঁ ব্যবসায় ঋণ দিতে চাইতো না। সহজ শর্তে ঋণ পেলে তরুণরা আরো ভালো করবেন।

শিল্প মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শেখ ফয়েজুল আমীন বলেন, মোটাদাগে এখন অন্য শিল্পের মতো সব সুবিধাপ্রাপ্ত হবে রেস্তোরাঁগুলো। তাতে এ ব্যবসায় সরকারের সহায়তা বাড়বে। বড় বড় বিনিয়োগ আসবে। ব্যাংকগুলোও বিনিয়োগকারীদের সহায়তা দেবে। এমনকি এ খাতে বিদেশি বিনিয়োগও বাড়বে।


আরও খবর



৯৩ হাজার টাকা ছাড়াল স্বর্ণের দাম

প্রকাশিত:Wednesday ১৮ January ২০২৩ | হালনাগাদ:Friday ০৩ February ২০২৩ |
Image

এক সপ্তাহের ব্যবধানে দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম ভরিতে দুই হাজার টাকার বেশি বেড়েছে। নতুন দর অনুযায়ী প্রতি ভরি ভালো মানের স্বর্ণ কিনতে গ্রাহককে গুনতে হবে ৯৩ হাজার টাকার বেশি।

বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন-বাজুস দাম বাড়ানোর এই সিদ্ধান্ত নেয়। এর আগে গত ৭ জানুয়ারি স্বর্ণের দাম বাড়ায় বাজুস, যা ৮ জানুয়ারি থেকে কার্যকর হয়েছে। তখন প্রথমবারের মতো দেশের বাজারে প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ৯০ হাজার টাকা ছাড়ায়।

বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ স্থায়ী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান এনামুল হক ভূঁইয়া লিটন স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, 

বাজুস ভালো মানের স্বর্ণ ভরিতে দুই হাজার ৬৮৩ টাকা বাড়িয়েছে। এতে প্রতি ভরি সোনার দাম বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯৩ হাজার ৪২৯ টাকা। আগে এই দাম ছিল ৯০ হাজার ৭৪৬ টাকা।


আরও খবর