Logo
শিরোনাম
রাজধানীর সেতু ভবনে আগুন কমপ্লিট শাটডাউন : ঢাকাসহ সারা দেশে বিজিবি মোতায়েন জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ইট বোঝায় ট্রাক খাদে কুষ্টিয়ায় আন্দোলনকারী ও ছাত্রলীগের মধ্যে সংঘর্ষ -কয়েকটি মোটর সাইকেলে আগুন পুঠিয়ায় আ’লীগের বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা লালমনিরহাটে অনুষ্ঠিত হয়েছে তিস্তা সমাবেশ বেনাপোল স্থল বন্দর দিয়ে মিথ্যা ঘোষণায় আমদানি করা হয়েছে ১৮ কোটি টাকার সালফিউরিক এসিড কুমারখালীতে মহাসড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, আহত-২ শরণখোলায় নার্সের চিকিৎসার অবহেলায় এক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ শেরপুরে কোটাবিরোধী শিক্ষার্থী-ছাত্রলীগের সংঘর্ষ, সাংবাদিকসহ আহত-২০

নওগাঁয় রাস্তার ধারে প্রায় দেড় লাখ টাকা মূল্যের ১৯টি গাছ কর্তন! জনমনে নানা প্রশ্ন

প্রকাশিত:বুধবার ১৮ অক্টোবর ২০২৩ | হালনাগাদ:শনিবার ২০ জুলাই ২০24 |

Image

শহিদুল ইসলাম জি এম মিঠন :

নওগাঁয় গ্রামীন পাকা রাস্তার দু' ধারে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের রোপন কৃত আনুমানিক দের লাখ টাকা মূল্যের মোট ১৯টি গাছ কাটার নিয়ে জনমনে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। গাছগুলো কাটার সময় স্থানিয়রা ঘটনাটি পুলিশ প্রশাসন সহ সংবাদকর্মীদের জানায়। স্থানিয়দের মাধ্যমে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ ও সংবাদকর্মীরা পৌছালে এসময় ঘটনাস্থলে থাকা কাঠও গাছ ব্যাপারী নজরুল ও তার ব্যবসায়িক আরেক পাটর্নার জানান, আমরা বৈধ্যভাবে ৬০ হাজার টাকা দিয়ে রাস্তার ধারের মরা ১৯ টি গাছ ক্রয় করেছি। এসময় গাছ ক্রেতা নজরুল আরো বলেন, গত ১৫ অক্টোবর স্থানিয় ইউনিয়ন পরিষদে বরেন্দ্র বহুমূখী কর্তৃপক্ষের কাছে থেকে টেন্ডার (ডাকের) মাধ্যমে গাছগুলো ক্রয় করা হয়। 

কথা বলার এক পর্যায়ে বরেন্দ্র বহুমূখী কর্তৃপক্ষের কাছে থেকে টেন্ডার এর মাধ্যমে গাছগুলো ক্রয় করার কাগজ বের করে পুলিশ কে দেখালে ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ চলে যায়। তবে

এসময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানিয়রা প্রতিবেদক কে জানান, রাস্তার ধারের যে ১৯ টি মরা আম ও শিশু গাছগুলো কাটা হচ্ছে এগুলো গাছের মূল্য প্রায় দের লাখ টাকা মতো। এছাড়া ইতি পূর্বে স্থানিয় ঈদগাহ মাঠের উন্নয়ন কাজ করার জন্য সরকারী নিয়ম-নীতি মেনে চৌমাশিয়া রাস্তার ধারে থাকা ৬-৭টি মরা গাছ ক্রয় করার জন্য   আমরা স্থানিয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান, বরেন্দ্র অফিস সহ বন বিভাগ অফিসে একাধীকবার ধর্না দিয়েছি কিন্তু ইউপি চেয়ারম্যান, বরেন্দ্র কর্তৃপক্ষ ও বন বিভাগ কর্তৃপক্ষ কোন ভাবেই এসব গাছ বিক্রি করা সম্ভব নয় বলে আমাদের জানিয়ে দেয় বলে জানিয়ে তারা বলেন, আমাদের সন্দেহ হচ্ছে আসলে কর্তৃপক্ষ গাছগুলো টেন্ডারে বিক্রি করেছেন কিনা সেটা খতিয়ে দেখার জন্যও প্রতিবেদক এর কাছে দাবি জানান স্থানিয়রা। এমন দাবির পেক্ষিতে ঘটনাস্থলে থাকা কাঠ ব্যবসায়ী ও গাছগুলোর ক্রেতা দাবিদার নজরুল এর কাছে টেন্ডার এর কাগজ দেখতে চাইলে তিনি  বরেন্দ্র বহুমূখী কর্তৃপক্ষের টেন্ডার এর কাগজ এনে প্রতিবেদকে দেখান যাতে ১৯ টি মরা গাছের মোট মূল্য উল্লেখ করা হয়েছে মাত্র ১৯ হাজার ২ শত টাকা। এসময় গাছের ক্রেতা নজরুল কে আবারো জিজ্ঞাসা করা হয় আপনি কত টাকা মূল্যে গাছগুলো ক্রয় করেছেন সে আবারো জানায় ৬০ হাজার টাকায় তিনি ১৯ টি গাছ ক্রয় করেছেন। এসময় টেন্ডার কাগজে বরেন্দ্র কর্তৃপক্ষ এর পক্ষে ১৬ অক্টোবর ১৯ হাজার ২ শত টাকা গ্রহনের কোষাধ্যক্ষ এর স্বাক্ষর থাকলেও সেখানে কোন সিল মারা হয়নি, এছাড়া অপর কোন কর্মকর্তার স্বাক্ষর বা সিল না থাকায় গাছ বিক্রির সত্যতা জানতে প্রতিবেদক বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ নওগাঁর মহাদেবপুর জোন এর সহকারী প্রকৌশলী মোঃ ইমদাদুল হকের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি ১৯ টি মরা গাছ ১৯ হাজার ২শ' টাকায় বিক্রির বিষয় প্রতিবেদক কে নিশ্চিত করেন। তবে এসময় গাছের ক্রেতা জানাচ্ছেন ৬০ হাজার টাকায় ১৯টি গাছ ক্রয় করেছেন এমন প্রশ্নের উক্তর তিনি এড়িয়ে যান।

এব্যাপারে স্থানিয় ইউপি চেয়ারম্যান শিবনাথ মিশ্র বলেন, গাছগুলো বরেন্দ্র কর্তৃপক্ষ টেন্ডারের মাধ্যমে বিক্রি করেছেন। যে ১৯ টি গাছ বিক্রি করা হয়েছে সেই গাছের ক্রেতা জানাচ্ছেন তিনি ৬০ হাজার টাকায় গাছগুলো কিনেছেন এমন প্রশ্ন এড়িয়ে ইউপি চেয়ারম্যান বলেন, আমাদের এখানে হরি বাসর অনুষ্ঠানের জন্য খড়ি প্রয়োজন, যাদের গাছ দেওয়া হয়েছে তারা গাছগুলোর ডাল-পালা আমাদের অনুষ্ঠানে খড়ি হিসেবে দিবে, এ ঘটনায় নিউজ প্রকাশ না করলে কি নয় এমন কথা বলে ইউপি চেয়ারম্যান আরো বলেন, গাছগুলোর পিছনে খরচ হয়েছে প্রায় ৩২ হাজার টাকা, এক পর্যায়ে তিনি ফোন কেটে দেন।

এব্যাপারে হাসেম রেজা, এনামুল ওরফে আলী ও মাসুদ রানা সহ স্থানিয়রা অভিযোগ করে ভিডিওতে প্রতিবেদককে, আমাদের ঈদগাহ মাঠের উন্নয়ন কাজের জন্য ইতি পূর্বে দফায় দফায় আমরা ইউপি চেয়ারম্যান শিবনাথ মিশ্র'র কাছে গিয়েছি এবং বলেছি যে আমাদের এলাকায় থাকা ৬-৭ টি গাছ নিলামের ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য তিনি আমাদের বরেন্দ্র অফিসে পাঠিয়ে দেন, বরেন্দ্র অফিসে যাওয়ার পর বরেন্দ্র কর্তৃপক্ষ বন বিভাগ অফিসে পাঠান। এভাবেই বহুদিন ধর্ণা দিয়েছি জানিয়ে তারা আরো বলেন, আমরা ত ১৯টি গাছ নিতে চাইনি, আমরা বৈধ্য টেন্ডারের মাধ্যমে ৬-৭ টি মরা গাছ নিতে ৪০ হাজার টাকা দিতাম বলেই ইউপি চেয়ারম্যান, বরেন্দ্র কর্তৃপক্ষ ও বন বিভাগ সব জাঁয়গায় ধর্ণা দিয়েছি। কিন্তু মঙ্গলবার গাছগুলো কাটার সময় জানতে পারছি যে মাত্র ১৯ হাজার ২শ' টাকায় রাস্তার ১৯ টি গাছ টেন্ডারে বিক্রি করা হয় জানিয়ে তারা আরো বলেন, ৬-৭ টি গাছ ঈদগাহ মাঠের উন্নয়ন কাজের জন্য ৪০ হাজার টাকায় দেওয়া হয়নি। সেখানে মাত্র ১৯ হাজার ২শ' টাকায় ১৯ টি গাছ বিক্রি টেন্ডার কাগজে দেখানো হয়েছে যা খুবই রহস্যময় দাবি করে স্থানিয়রা ঘটনাটি তদন্ত পূর্বক সত্য উদর্ঘাটনের দাবি জানান। একই সাথে গাছ কাটার ঘটনাস্থলে ক্রেতা নিজেই (গাছের ব্যাপারী) যেখানে ৬০ হাজার টাকায় ১৯ টি মরা গাছ ক্রয় করেছেন বলে জানাচ্ছেন আর কর্তৃপক্ষের টেন্ডার কাগজে  মাত্র ১৯ হাজার ২ শ' টাকা দেখানো হয়েছে তাহলে ৬০ হাজার এর বাঁকি টাকা গেলো কোথায় এমন প্রশ্ন ও দেখা দিয়েছে জনমনে।


আরও খবর



খালেদা জিয়ার হৃদযন্ত্রে বসানো হলো ‘পেসমেকার’

প্রকাশিত:রবিবার ২৩ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ১৯ জুলাই ২০২৪ |

Image



সদরুল আইন:


বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার হৃদযন্ত্রে ‘পেসমেকার’ বসানোর কাজ সম্পন্ন হয়েছে।


 এভারকেয়ার হাসপাতালের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল মেডিকেল বোর্ডের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রোববার (২৩ জুন) রাতে এই কার্যক্রম সম্পন্ন করেছেন বলে জানিয়েছেন খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন।


এর আগে খালেদা জিয়াকে হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটের (সিসিইউ) কেবিন নং-৪২১৯ থেকে পাশের ক্যাথ ল্যাবে নিয়ে যাওয়া হয়।


ডা. জাহিদ বলেন, ম্যাডামের হৃদরোগের সমস্যা পূর্ব থেকেই ছিল। সেজন্য হার্টে ব্লক ছিল, একটা স্টেনটিংও করা ছিল। সব কিছু পর্যালোচনা করে এখন মেডিকেলে বোর্ড ম্যাডামের হার্টে পেসমেকার লাগানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। হাসপাতালে এই পেসমেকার ট্যাম্পোরারি ও পার্মান্টেট লাগানোর প্রক্রিয়া ডাক্তারা সম্পন্ন করেছেন।




চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, হৃৎপিন্ডের ডান অ্যাট্রিয়াম প্রাচীরের উপর দিকে অবস্থিত বিশেষায়িত কার্ডিয়াক পেশিগুচ্ছে গঠিত ও স্বয়ংক্রিয় স্নায়ুতন্ত্রে নিয়ন্ত্রিত একটি ছোট অংশ যা বৈদ্যুতিক তরঙ্গ প্রবাহ ছড়িয়ে দিয়ে হৃৎস্পন্দন সৃষ্টি করে এবং স্পন্দনের ছন্দময়তা বজায় রাখে এই পেসমেকার।


উল্লেখ্য, শ্বাসকষ্ট বৃদ্ধিজনিত কারণে হঠাৎ অসুস্থতার কারণে গত শুক্রবার গভীর রাতে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে অ্যাম্বুলেন্সে করে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। 



হাসপাতালের সিসিইউ ইউনিটে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিসাধীন আছেন। শনিবার (২২ জুন) থেকে এই পর্যন্ত কয়েক দফা মেডিকেল বোর্ড বৈঠকে বসে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর হৃদপিন্ডে পেসমেকার লাগানোর সিদ্ধান্ত দেন।


হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ডা. শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়ে গঠিত মেডিকেল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে বেগম জিয়া চিকিৎসাধীন আছেন। আর অধ্যাপক শাহাবুদ্দিন তালুকদারের নেতৃত্বে অধ্যাপক এফএম সিদ্দিকী, অধ্যাপক শামসুল আরেফিন, অধ্যাপক একিউএম মহসিনসহ মেডিকেল বোর্ডের সদস্যরা কয়েক দফা বৈঠকে বসে সাবেক প্রধানমন্ত্রীর সর্বশেষ অবস্থা পর্যালোচনা করেছেন।



 মেডিকেল বোর্ডের এসব সভায় লন্ডন থেকে ডা. জুবাইদা রহমানসহ যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়ার কয়েকজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ভার্চুয়ালি যুক্ত থাকেন।


৭৯ বছর বয়সী খালেদা জিয়া ডায়াবেটিস, আর্থারাইটিস ছাড়াও হৃদরোগ, ফুসফুস, লিভার, কিডনিসহ বিভিন্ন জটিল রোগে ভুগছেন।


আরও খবর

রাজধানীর সেতু ভবনে আগুন

বৃহস্পতিবার ১৮ জুলাই ২০২৪




থমথমে পরিস্থিতি জাবি ক্যাম্পাসে

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১৬ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ২০ জুলাই ২০24 |

Image

নিজস্ব প্রতিবেদক::


কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছাত্রলীগের দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষে উত্তাল হয়ে ওঠা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ক্যাম্পাসে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) সকালে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা ঘুরে এমন পরিস্থিতি দেখা যায়। এর আগে সোমবার সন্ধ্যায় বটতলায় কোটা আন্দোলনকারী ও ছাত্রলীগের মধ্যে সংঘষ হয়। এরপর রাত ৯টার দিকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক মো. নূরুল আলমের বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এর ঘণ্টা দেড়েক পর উপাচার্য তার বাসা থেকে বেরিয়ে এসে হামলার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করে বিচারের আশ্বাস দেন। কিন্তু তাতে আশ্বস্ত হতে না পেরে আন্দোলনকারীরা উপাচার্যের বাসভবনের সামনেই অবস্থান করেন।



জানা যায়, মধ্যরাতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ভিসি ভবনের সামনে কোটাসংস্কার আন্দোলনকারীরা অবস্থান নেন। পরে সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সঙ্গে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে।

পরে, রাত আড়াইটার দিকে বিভিন্ন হল থেকে কয়েক’শ শিক্ষার্থী মিছিল নিয়ে এসে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ধাওয়া দিয়ে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।


শিক্ষার্থীরা জানান, আমাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে অতর্কিতভাবে হামলা করা হয়। হামলাকারীরা হেলমেট পড়ে ছিল ও হাতে ধারালো অস্ত্র ছিল। তারা পেট্রলবোমা ছুড়ে। আমরা উপাচার্যের বাসভবনের ভেতরে আশ্রয় নিলে আমাদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়া হয়।


এ দিকে সোমবার (১৫ জুলাই) রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোটা সংস্কার ও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার বিচারের দাবিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন মঙ্গলবার বিকেলে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের ডাক দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এ ঘোষণা দেন।


তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদ এবং কোটা সংস্কারের এক দফা দাবিতে মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় সারা দেশের ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল এবং সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। 


বিক্ষোভ মিছিলে গণজমায়েত তৈরির জন্য দেশের সাধারণ মানুষকেও অংশ নেয়ার আহ্বান জানান তিনি।


নাহিদ বলেন, ‘বৃহত্তর গণআন্দোলনের দিকে আমাদের যেতে হবে। কারণ, এই আন্দোলন এখন শুধু আর ছাত্রদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নাই। এতে যখন সরকারের সর্বোচ্চ জায়গা থেকে পরিকল্পিতভাবে উসকানি দিয়ে দমনের চেষ্টা করা হয়েছে; সাধারণ মানুষকে এই আন্দোলনে নেমে আসতে হবে।’




আরও খবর



প্রধানমন্ত্রী নয়াদিল্লি যাচ্ছেন আজ : ভারতের সঙ্গে সই হতে পারে ১০টির বেশি চুক্তি ও এমওইউ

প্রকাশিত:শুক্রবার ২১ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১৮ জুলাই ২০২৪ |

Image



বিডি টুডে রিপোর্ট:


প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে দুই দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে আজ শুক্রবার নয়াদিল্লি যাচ্ছেন। 


টানা চতুর্থ মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এটি প্রথম দ্বিপক্ষীয় সফর। আগামীকাল শনিবার শেখ হাসিনা ও নরেন্দ্র মোদি নয়াদিল্লিতে শীর্ষ বৈঠকে বসবেন। 


তারা দুই ঘনিষ্ঠ প্রতিবেশী দেশের সম্পর্ক ভবিষ্যতে কোথায় নিয়ে যেতে চান, তার দিক-নির্দেশনা থাকবে ঐ বৈঠকে। 


প্রধানমন্ত্রীর সফরে দুই দেশের মধ্যে সংযোগ, জ্বালানি, বাণিজ্যসহ সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্রে ১০টির বেশি চুক্তি ও এমওইউ সই হতে পারে বলে জানা গেছে। ১৫ দিনেরও কম সময়ের মধ্যে ভারতের রাজধানীতে এটি শেখ হাসিনার দ্বিতীয় সফর হবে। 



তিনি গত ৯ জুন নরেন্দ্র মোদির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দেন। সফরসূচি অনুযায়ী, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট আজ দুপুর ২টার দিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সফরসঙ্গীদের নিয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করবে। 


ফ্লাইটটি স্থানীয় সময় বিকাল ৪টায় নয়াদিল্লির পালাম বিমানবন্দরে অবতরণ করবে। সন্ধ্যায় ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার বাসভবনে সাক্ষাৎ করবেন।



প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে আগামীকাল শনিবার সকালে রাষ্ট্রপতি ভবনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে অভ্যর্থনা জানাবেন। পরে তিনি রাজঘাটে ভারতের জাতির পিতা মহাত্মা গান্ধীর সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানাবেন।



 এরপর দিল্লির হায়দরাবাদ হাউজে শেখ হাসিনার সঙ্গে নরেন্দ্র মোদির আনুষ্ঠানিক বৈঠকের পাশাপাশি একান্তে বৈঠক হবে। সূত্র জানায়, ঐ বৈঠকে ভবিষ্যতে দুই দেশের এই সম্পর্ক নিয়ে এক ধরনের রূপকল্পের কথা উঠে আসবে তাদের আলোচনায়। এবারের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র নিয়ে আলোচনার পাশাপাশি অভিন্ন নদী তিস্তার পানিবণ্টন চুক্তি, সীমান্ত হত্যা পুরোপুরি বন্ধের মতো বিষয়গুলো আলোচনায় তুলবে ঢাকা। 



ভারত তিস্তার প্রকল্পে অর্থায়নে আগ্রহী বলে গত মে মাসে ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিনয় কোয়াত্রার সফরে জানা গিয়েছিল। এবার শীর্ষ বৈঠকে ভারতের পক্ষ থেকে তিস্তার ব্যাপারে নতুন একটি প্রস্তাব দেওয়া হতে পারে।


সূত্র আরও জানায়, ভারতে বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়লেও দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য অনেকটাই ঝুঁকে আছে ভারতের দিকে। এবারের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে সেপা (সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি) আলোচনা শুরুর ঘোষণা দেওয়ার কথা রয়েছে। এটি সই হলে দুই দেশের বাণিজ্যে ভারসাম্য আসার পথ সুগম হতে পারে। 


এছাড়া দুই দেশের মধ্যে সড়ক, রেল, নৌসহ কানেকটিভিটির বিষয়গুলো ২০১০ সাল থেকে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। এবার যে প্রকল্পগুলোর বিষয়ে ঘোষণা আসতে পারে তার মধ্যে অন্যতম হচ্ছে, বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী সেতু। 


বাংলাদেশের খাগড়াছড়ির রামগড়ের সঙ্গে ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সাবরুমের মধ্যে এই সেতু সংযোগ স্থাপন করবে।



দুই প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের পর জ্বালানি, সংযুক্তি, অর্থনীতিসহ সহযোগিতার নানা ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে ১০ থেকে ১৩টি চুক্তি ও এমওইউ সই হতে পারে। এসব চুক্তি ও এমওইউর মধ্যে অন্তত চারটির মেয়াদ শেষে নবায়ন হওয়ার কথা। এরপর তারা হায়দরাবাদ হাউজে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী আয়োজিত ভোজসভায় যোগ দেবেন।



 বিকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সচিবালয়ে ভারতের উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনকড়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। সন্ধ্যায় শেখ হাসিনা রাষ্ট্রপতি ভবনে ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন।


আরও খবর

রাজধানীর সেতু ভবনে আগুন

বৃহস্পতিবার ১৮ জুলাই ২০২৪




সরকারের সাথে আলোচনায় ৩ শর্ত ইমরান খানের

প্রকাশিত:রবিবার ১৪ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ২০ জুলাই ২০24 |

Image

কারাবন্দী পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খান সরকারের সাথে আলোচনার জন্য তিনটি শর্ত পেশ করেছেন।

রোববার পাকিস্তানভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্যা নিউজ ইন্টারন্যাশনালের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, শনিবার পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা আনতে সরকারের সাথে আলোচনার জন্য তিনটি শর্ত পেশ করেছেন।

ইমরান খানের প্রথম শর্ত হলো- আমার মামলাগুলো খারিজ করা উচিত, দ্বিতীয়টি হলো- আমাদের দলের সদস্যদের মুক্তি দেয়া এবং তৃতীয়টি- আমাদের ম্যান্ডেট ফিরিয়ে দেয়া।

এদিকে পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও তার স্ত্রীর সাত বছরের কারাদণ্ড শনিবার (১৩ জুলাই) বাতিল করেছে দেশটির একটি আদালত।

রায়ের বিষয়ে খানের আইনজীবী বলেন, কথিত বেআইনিভাবে বিবাহের অভিযোগে ২০১৮ সালে দায়ের করা এক মামলায় পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান ও তার স্ত্রীকে সাত বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিলেন আদালত। তাকে কারাগারে পাঠানোর প্রায় এক বছর পর মুক্তির সর্বশেষ বাধাটি দূর হলো।

ইমরান খানের অন্যতম আইনজীবী নাঈম পাঞ্জুথা বলেন, আদালত রাওয়ালপিন্ডির গ্যারিসন শহরে এই রায় ঘোষণা করেন। আর এখানেই সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে আটক রাখা হয়েছে।

গত ৫ ফেব্রুয়ারি অন্য একটি আপিল আদালত ইমরান খান ও তার স্ত্রী বুশরা বিবির দোষী সাব্যস্ত হওয়া ও সাজা বহাল রাখার আদেশের দুই সপ্তাহ পর খালাস পেলেন তারা।

আদালত তার সংক্ষিপ্ত আদেশে বলেছে, যদি এই দম্পতিকে অন্য কোনো মামলায় অভিযুক্ত না করা হয় তবে তাদের মুক্তি দিতে হবে।

বুশরা বিবি হলেন ইমরান খানের তৃতীয় স্ত্রী এবং একজন আধ্যাত্মিক গুরু। ইমরান খানের সাথে বিয়ে হওয়ার মাত্র তিন মাসেরও কম সময় আগে ২০১৭ সালের নভেম্বরে পূর্বের স্বামীর সাথে বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছিল বুশরা বিবির। পাকিস্তানের ইসলামী আইন অনুযায়ী, বিবাহবিচ্ছেদ হওয়া নারীদের ক্ষেত্রে নতুন বিয়ের আগে তিন মাস অপেক্ষা করতে হয়।

বুশরা বিবি বলেছেন, ২০১৭ সালের আগস্টে তাদের বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছিল। এই দম্পতি বিচারের সময় জোর দিয়েছিলেন তারা অপেক্ষার সময়সীমা লঙ্ঘন করেননি।

আদালতের আদেশে সরকার কিভাবে প্রতিক্রিয়া দেখাবে তা স্পষ্ট নয়। ২০২২ সালে পার্লামেন্টে অনাস্থা ভোটে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর থেকে ইমরান খানের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের করেছে কর্তৃপক্ষ।

ইমরান খানের দলকে অন্যায়ভাবে সংসদে কমপক্ষে ২০টি আসন থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে বলে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয়ার এক দিন পর এই আদেশটি আসলো। এটি দেশটির দুর্বল শাসক জোটের জন্য একটি উল্লেখযোগ্য ধাক্কা।

ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ পার্টিকে এর আগে জাতীয় পরিষদ বা সংসদের নিম্নকক্ষে নারী ও সংখ্যালঘুদের জন্য সংরক্ষিত অতিরিক্ত আসন দেওয়ার ব্যবস্থা থেকে বাদ দেয়া হয়েছিল। যদিও এই রায় ইমরান খানের জন্য একটি বড় রাজনৈতিক বিজয় ছিল। তবে এটি তার দলকে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফের সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার মতো অবস্থানে রাখতে পারবে না। শাহবাজ গত ৮ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পরে ক্ষমতায় আসেন। তবে ভোটে কারচুপি হয়েছে বলে দাবি করে আসছেন খান মিত্ররা।

২০২৩ সালের মে মাসে গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে সহিংসতায় উস্কানিসহ দেড় শতাধিক মামলায় জড়ানো হয় ইমরান খানকে। এরপরে সারা দেশে দাঙ্গার সময় খানের সমর্থকরা সামরিক ও সরকারি ভবনগুলোতে আক্রমণ করে। উত্তর-পশ্চিমে রাষ্ট্রায়ত্ব রেডিও পাকিস্তান এর আবাসিক একটি ভবনে আগুন ধরিয়ে দেয় বিক্ষুব্ধরা।

সুপ্রিম কোর্ট ইমরান খানকে মুক্তি দেয়ার পরেই সহিংসতা কমেছিল। দুর্নীতির দায়ে আদালত তাকে তিন বছরের কারাদণ্ড দেয়ার পরে ২০২৩ সালের আগস্টের শুরুতে খানকে আবারো গ্রেফতার করা হয়।

এরপর থেকে যেসব মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন সেসব মামলায় বিভিন্ন আদালত থেকে জামিন পেয়েছেন তিনি।
সূত্র : দ্যা নিউজ ইন্টারন্যাশনাল


আরও খবর



দেশে রিজার্ভ ২৭ বিলিয়ন ছাড়িয়েছে

প্রকাশিত:শুক্রবার ২৮ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১৮ জুলাই ২০২৪ |

Image

বিডি টুডেস রিপোর্ট: বাংলাদেশ ব্যাংক জানিয়েছে, দেশে বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ বাড়ায় গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ ২৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে।

 আজ শুক্রবার (২৮ জুন) সকালে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক বার্তায় এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।

এতে বলা হয়, শুক্রবার চূড়ান্ত হিসাব শেষে দেশের গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ ২৭ দশমিক ১৫ বিলিয়ন ডলার পাওয়া গেছে।

রিজার্ভ নিয়ে অবশ্য এরআগেই সুখবর দিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক। বৃহস্পতিবার রাতে এক বার্তায় বলা হয়, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও অন্যান্য খাত থেকে বৈদেশিক মুদ্রার সরবরাহ বাড়ায় গ্রস রিজার্ভ ২৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়েছে।

ওই বার্তায় বলা হয়, আইএমএফ থেকে ১ দশমিক ১৫ বিলিয়ন ডলার এসেছে। এছাড়াও কোরিয়া, আইবিআরডি, আইডিবি প্রভৃতি থেকে আরও ৯০০ মিলিয়ন ডলার এসেছে। 

এতে গ্রস রিজার্ভের পরিমাণ ২৬ বিলিয়ন ডলারের বেশি হতে পারে। শেষ কর্মদিবসের আগের দিন হওয়ায় এখনও চূড়ান্ত হিসাব করা হয়নি। বৃহস্পতিবার পূর্ণ হিসাব করা হবে। তবে প্রাক্কলিত রিজার্ভের পরিমাণ হতে পারে প্রায় ২৬ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার।

গত সোমবার বাংলাদেশের জন্য ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণচুক্তির আওতায় তৃতীয় কিস্তি ছাড়ের অনুমোদন দেয় আইএমএফ। এর আগে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে আইএমএফের ঋণের প্রথম কিস্তির ৪৭ কোটি ৬৩ লাখ ডলার পেয়েছিল বাংলাদেশ। আর গত ডিসেম্বরে পাওয়া যায় দ্বিতীয় কিস্তির ৬৮ কোটি ১০ লাখ ডলার।

এখন তৃতীয় কিস্তির অর্থছাড়ের ফলে বাংলাদেশ সব মিলিয়ে তিন কিস্তিতে আইএমএফের কাছ থেকে ২৩১ কোটি ডলার পেয়েছে। ঋণের বাকি প্রায় ২৩৯ কোটি ডলার আরও চার কিস্তিতে পাওয়া যাবে।

করোনার পর থেকেই বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ নিয়ে চাপে রয়েছে বাংলাদেশ। রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি ও অন্যান্য ভোগ্য পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় দ্রুতই কমতে শুরু করে রিজার্ভ।

গত মে মাসে এশিয়ান ক্লিয়ারিং ইউনিয়ন- আকু’র ১৬৩ কোটি ডলার পরিশোধের পর রিজার্ভ দাঁড়ায় ১৮ দশমিক ২৬ বিলিয়ন ডলার। যা ছিল গত এক দশকের মধ্যে সবচেয়ে কম। সে সময় আইএমএফের হিসাব পদ্ধতি বিপিএম ৬ অনুযায়ী, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে হয় ১৩ দশমিক ৭৬ বিলিয়ন ডলারে।

এর আগে, ২০১৪ সালের শুরুর দিকে রিজার্ভ ১৮ বিলিয়ন ডলারের ঘর ছাড়ানোর পর আর নিচে নামেনি।

গত ১ জুন বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী আহসানুল ইসলাম টিটু জানিয়েছিলেন, দেশে সাড়ে ৪ মাসের ডলার রিজার্ভ রয়েছে। তিনি বলেন, ‘বর্তমানে অর্থনীতির চাপের মধ্যে রয়েছে দেশ। এক সময় আমাদের রিজার্ভ ৪৮ বিলিয়ন পর্যন্ত গিয়েছিল। সেখান থেকে আমাদের রিজার্ভ কমে এসেছে। 

যেকোনো দেশে ৩ মাসের রিজার্ভ থাকলেই কোনো সমস্যা হয় না। সেখানে আমাদের প্রায় সাড়ে ৪ মাসের রিজার্ভ রয়েছে। যদি বিদেশ থেকে রেমিট্যান্স আসে ও বিদেশে রপ্তানি বিনিয়োগ বাড়ানো যায় তাহলে সুবিধা হবে।’

এদিকে, বাংলাদেশ ২০২২ সালের জুলাইয়ে আইএমএফের কাছে ঋণের আবেদন করে। ওই আবেদনের ছয় মাস পর গত বছরের ৩০ জানুয়ারি ৩৮টি শর্তে ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণ অনুমোদন করে আইএমএফ।

বর্ধিত ঋণসহায়তা (ইসিএফ), বর্ধিত তহবিল সহায়তা (ইএফএফ) ও রেজিলিয়েন্স অ্যান্ড সাসটেইনেবিলিটি ফ্যাসিলিটি (আরএসএফ)—এই তিন আলাদা কর্মসূচির আওতায় ৪৭০ কোটি ডলারের ঋণ অনুমোদন করে আইএমএফ।

ঋণ অনুমোদনের সময় আইএমএফ জানায়, শর্তপূরণ সাপেক্ষে ২০২৬ সাল পর্যন্ত মোট সাত কিস্তিতে ঋণের এ অর্থ দেয়া হবে।

এরই মধ্যে গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে আইএমএফের ঋণের প্রথম কিস্তির ৪৭ কোটি ৬৩ লাখ ডলার পেয়েছিল বাংলাদেশ। আর গত ডিসেম্বরে পেয়েছিল দ্বিতীয় কিস্তির ৬৮ কোটি ১০ লাখ ডলার।

 এখন তৃতীয় কিস্তির অর্থছাড়ের ফলে বাংলাদেশ সব মিলিয়ে তিন কিস্তিতে আইএমএফের কাছ থেকে প্রায় ২৩১ কোটি ডলার পেয়েছে। ঋণের বাকি প্রায় ২৩৯ কোটি ডলার আর চার কিস্তিতে পাওয়া যাবে।


আরও খবর