Logo
শিরোনাম

নোয়াখালী জেলা ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা

প্রকাশিত:রবিবার ১৫ মে ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ০৩ জুলাই ২০২২ |
Image

অনুপ সিংহ,নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ

মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় নোয়াখালী জেলা ছাত্রলীগরে কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় কমিটি।  

শনিবার ১৪ মে  রাতে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্রাচার্য স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কমিটি বিলুপ্ত করা হয়। এ ছাড়া নতুন কমিটির জন্য জীবনবৃত্তান্ত আহ্বান করা হয়েছে ওই বিজ্ঞপ্তিতে।  

একই সাথে জেলা ছাত্রলীগ ঘোষিত সদর উপজেলা, নোয়াখালী পৌরসভা ও নোয়াখালী সরকারি কলেজ  ও সোনাপুর ডিগ্রি কলেজ ,সেনবাগ উপজেলা, সেনবাগ পৌরসভা ও সেনবাগ কলেজ ছাত্রলীগের কমিটির বিলুপ্ত ঘোষণা করে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।  

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নোয়াখালী জেলা শাখার সভাপতি-সাধারণ সম্পাদক পদ প্রত্যাশীদের আগামী ৭ কর্মদিবসের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ জীবনবৃত্তান্ত জেলায় দায়িত্ব প্রাপ্ত নেতৃবৃন্দের কাছে জমা দিতে বলা হয়। দায়িত্ব প্রাপ্ত কেন্দ্রীয় নেতারা স্বশরীরে নোয়াখালী গিয়ে জীবনবৃত্তান্ত সংগ্রহ করবেন।  

এর আগে, গত ১মে ঘোষিত সেনবাগ উপজেলা কমিটি,পৌর শাখা কমিটি,কলেজ শাখা কমিটি এবং ১১মে নোয়াখালী সদর উপজেলা কমিটি,নোয়াখালী পৌর শাখা কমিটি,নোয়াখালী সরকারি কলেজ ও সোনাপুর ডিগ্রি কলেজ শাখা কমিটি ঘোষণা করে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সম্পাদক।  

ছাত্রলীগের নেতাকর্মিরা অভিযোগ করেন, গত ১ মে ও ১১ মে জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক তৃণমূলের নেতাকর্মিদের বাদ দিয়ে পকেট কমিটি ঘোষণা করে। এ নিয়ে বিদায়ী সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে জুতা মিছিল ও বিক্ষোভ সমাবেশ করে পদ বঞ্চিত একাংশের নেতাকর্মিরা।

জেলা ছাত্রলীগের বিদায়ী কমিটির সভাপতি আসাদুজ্জামান আরমান ও সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসনাত আদনান নোয়াখালী-৪ (সদর-সুবর্ণচর) আসনের সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ অনুসারী হিসেবে পরিচিত। এ বিষয়ে জানতে জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি  আসাদুজ্জামান আরমান ও সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসনাত আদনানের মুঠোফোনে কল করা হলেও তাদের ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তাই তাদের বক্তব্য যায় নি।

 নোয়াখালী জেলা ছাত্রলীগের কমিটি বিলুপ্ত করার বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক এডভোকেট শিহাব উদ্দিন শাহীন বলেন,অচিরেই ছাত্রলীগের গঠনতন্ত্র মেনে জেলা ছাত্রলীগের কমিটি ঘোষণা করবে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ।


আরও খবর



যেসব কর্মকর্তারা নির্বাচনকে বিতর্ক করার মিশন নিয়ে নেমেছিল তাদের তদন্ত করতে হবে

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১৬ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ০৩ জুলাই ২০২২ |
Image

কু‌মিল্লা জেলা প্রতিনিধি ঃ

কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার এমপি বলেছেন,নতুন নির্বাচন কমিশনের অধীনে প্রথম নির্বাচন ‘কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন’ সফল-সার্থক ভাবে করতে সক্ষম হয়েছে। আমরা এ নির্বাচনকে অত্যন্ত ধৈর্য্যরে সাথে মোকাবেলা করেছি। এতে আপনাদের সন্তান কুমিল্লার বাহার আরেকটি ইতিহাস সৃষ্টি করল বাংলাদেশে। এ সূষ্ঠ নির্বাচনকে বিতর্কিত করতে কিছু অসাধু কর্মকর্তা বিশেষ মিশন নিয়ে নেমেছিল। তারা শুধু নির্বাচন কমিশনকে বিতর্কিত করার পাশাপাশি আন্তরজাতিক ভাবে প্রমাণ করাতে চেয়েছেলি বাংলাদেশে সূষ্ঠু নির্বাচন হয় না। যারা এ কাজ করেছে  তারা হয় স্বাধীনতা বিরোধী লোক নতুবা বিশাল টাকার বিনিময়ে এ কাজ করেছে। এসব অসাধু কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করতে হবে।

 বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে নবাগত মেয়র-কাউন্সিলরদের পরিচিতি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে একথা বলেন। এসময় নবনির্বাচিত মেয়র মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারন সম্পাদক আরফানুল হক রিফাত, এমপি বাহারের সহধর্মেনী নারী নেত্রী মেহেরুন্নেসা বাহার, নবনির্বাচিত মেয়র পতœী অধ্যাপিকা ফারহানা হক শিল্পী ,মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আতিকুল্লাহ খোকন, জেলা পরিষদের সাবেক প্যানেল চেয়ারম্যান আবদুল¬াহ আল মাহমুদ সহিদ, আদর্শ সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম টুটুল, জাগ্রত মানবিকতার চেয়ারম্যান তাহসিন বাহার সূচনা ও বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে নব নির্বাচিত কাউন্সিলরগণ, আওয়ামী লীগ ও অঙ্গ সংগঠনের নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

 হাজী বাহার এমপি আরও বলেন, কুমিল্লা সিটি নির্বাচনে সাড়ে তিন হাজার পুলিশ সদস্য কাজ করেছেন। দূর্নীতিগ্রস্থ ৭/৮ জন কর্মকর্তা নির্বাচন নসাৎ করার চেষ্টা করেছে। সব কর্মকর্তা এক রকম না। কুমিল্লা পুলিশ সুপার একজন সৎ মানুষ। তাকে নিয়ে কারো কোন অভিযোগ নেই। আমি ব্যক্তিগতভাবেও তাকে পছন্দ করি। কিন্তু বাতির নিচের অন্ধকার থাকে। এমনই একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সোহান সরকার। সে যেখানে নৌকার ব্যাজ পড়া লোক পেয়েছে সেখানে অকারণে নৌকা কর্মীদের পিটিয়েছে। নৌকার ব্যাজ ধরে টানাটানি করেছেন। নৌকার কর্মীদের গালিগালাজ করেছে। আমাদের কর্মীদের পিটিয়ে বেহুশ করে দিয়েছেন। সে একজন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার সন্তান।  এক সময়  তার বিরুদ্ধে তদন্ত হয়েছিল। তখন সে আমার  সরাপন্ন হয়েছিল। এ নির্বাচনে তার কর্মকান্ডে দেখে বুঝলাম সে ভূয়া মুক্তিযুদ্ধার সন্তান। মুুক্তিযুদ্ধের চেতনার মানুষ বিনা কারণে নৌকার ব্যাজ ছিড়তে পারে না। নৌকার কর্মীদের পিটাতে পারেনা। নৌকার কর্মীদের গালাগালি করতে পারে না। তার আবারো তদন্ত হওয়া দরকার। নির্বাচনে কয়েকজন জুডিশিয়াল ম্যাজিষ্ট্যাট এমন আচরণ করেছে আল্লাহর পরে সবচেয়ে বেশি ক্ষমতা প্রয়োগ করেছে আমাদের সাথে। একজন ম্যাজিস্ট্যাট বিনা কারণে নৌকার চিফ এজেন্ট আতিকুল্লাহ খোকনের সাথে সাথে বাাজে আচরণ করেছে। ভোটারদের হয়রানী করেছেন। নির্বাচনে আচরন বিধি লংঘনের দায়ে ১২ জন লোককে জেল দেওয়া হয়েছে।  সবাই নৌকার লোক। নৌকা ছাড়া একজন লোকও নেই। ৪৫ জন ম্যাজিস্ট্যাট এ কাজ করে নাই। যারা নির্বাচনকে বিতর্কিত করতে চেয়েছিল তাদের তদন্ত করতে হবে। সাক্কু সাব অহেতুক অভিযোগে তিন টা চিঠি দিয়েছিল নির্বাচন কমিশন। চক্রান্ত করে আমার নামে একটা আশালীল ছিঠি ইস্যু করা হয়েছিল নির্বাচন কমিশন থেকে। তারা চক্রান্ত করে কুমিল্লা থেকে ত্যাগ করাতে চেয়েছিল। যেন কুমিল্লায় নির্বাচেেনর পরিবেশ নষ্ট হয়। নির্বাচনে লাশ পড়ে। আমি যদি কুমিল্লায় না থাকতাম তাহলে লাশ পড়ত। আমি সকল কর্মীদের বলেছিলাম তারা ধৈর্য্য ধরে নির্বাচনে কাজ করে। আমরা ধৈর্য্য ধরার কারণে কোন অঘটন ঘটেনি।

এর আগে নবনির্বাচিত মেয়র আরফানুল হক রিফাত মহানগর আওয়ামী লীগের সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার ও দলীয় নব-নির্বাচিত কাউন্সিলরদের নিয়ে দলীয় কার্যলয়ের সামনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। বিকেলে নগর উদ্যানে বঙ্গবন্ধুর মূর‌্যালেও শ্রদ্ধা নিবেদন করেন আরফানুল হক রিফাত।


আরও খবর



ফুলবাড়ীতে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার রোধকল্পে

সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার লক্ষ্যে কর্মশালা

প্রকাশিত:বুধবার ২৯ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 |
Image

উত্তম কুমার মোহন্ত, ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) 

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ীতে মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার রোধকল্পে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার লক্ষ্যে এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। 

২৮(জুন) মঙ্গলবার ফুলবাড়ী উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে সকাল১১থেকে দিনব্যাপী ফুলবাড়ী উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির হলরুমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সুরক্ষা সেবা বিভাগের উদ্যোগে ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জেলা কার্যালয়ের আয়োজনে,এক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন,কুড়িগ্রাম জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আবু জাফর,উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমন দাস, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, বীর মুক্তিযোদ্ধা গোলাম রব্বানী সরকার,উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা সুমন কান্তি সাহা,উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা রায়হানুল ইসলামসহ উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ওয়ার্ড সদস্য বৃন্দ,বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দ জনপ্রতিনিধি সুধি সমাজ,উপজেলার প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সংবাদ কর্মী বৃন্দ।এসময় গ্রুপ ওয়ার্ক এর মাধ্যমে মাদক দ্রব্য অপব্যবহার রোধে বিভিন্ন প্রকার পরামর্শ নেয়া হয়। ফুলবাড়ী উপজেলা কে মাদকমুক্ত করার লক্ষ্যে সকলকে দূর্বার আন্দোলন গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয় ‌। 


আরও খবর



লজ্জার বিশ্বরেকর্ড বাংলাদেশের

প্রকাশিত:শুক্রবার ১৭ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 |
Image

ইয়াশফি রহমান :  মিরপুরে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এক ইনিংসেই বাংলাদেশের ৬ ব্যাটার শূন্য রান করেছিলেন। তিন সপ্তাহ পেরোতেই আরও ৬ শূন্যের বিশ্বরেকর্ডে নাম লেখালো বাংলাদেশ টেস্ট ক্রিকেট দল।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুন) অ্যান্টিগায় ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম টেস্টে বাংলাদেশের ৬ ব্যাটার শূন্য রানে সাজঘরের পথ ধরেছেন। তারা হলেন-মাহমুদুল হাসান জয়, নাজমুল হোসেন শান্ত, সদ্য পদত্যাগী অধিনায়ক মুমিনুল হক, নুরুল হাসান সোহান, মোস্তাফিজুর রহমান ও খালিদ আহমেদ।

ব্যাটারদের এই ব্যর্থতায় অ্যান্টিগা টেস্টে মাত্র ১০৩ রানে গুটিয়ে গেছে বাংলাদেশ। অধিনায়ক সাকিব আল হাসান লড়াকু ফিফটি (৫১) না হাঁকালে লজ্জাটা আরও বড় হতে পারতো। ম্যাচে একমাত্র এবাদত হোসেন ৩ রান নিয়ে অপরাজিত ছিলেন।

সাকিব-তামিমে একশর নিচে আউট হওয়ার লজ্জা কোনও মতে এড়িয়েছে বাংলাদেশ। কিন্তু এড়াতে পারেনি শূন্যরানে আউট হওয়ার লজ্জার বিশ্বরেকর্ড। ইতিহাসের প্রথম দল হিসেবে এ নিয়ে তৃতীয়বারের মতো বাংলাদেশের ৬ ব্যাটার শূন্য রানে আউট হয়েছেন।

এই ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষেই ঢাকায় ২০০২ সালে প্রথমবার বাংলাদেশের ৬ ব্যাটার শূন্য করেছিলেন। সেই ইনিংসে ৮৭ রানে অলআউট হয়েছিল টাইগাররা। এর ২০ বছর পর চলতি মৌসুমে লঙ্কানদের বিপক্ষে ছয় ব্যাটার শূন্য করলেও মুশফিকুর রহীম ও লিটন দাসের মহাকাব্যিক জুটিতে ৩৬৫ রান তুলেছিল বাংলাদেশ।

টেস্ট ইতিহাসে ৬ ব্যাটার শূন্য রানে আউট হওয়ার ঘটনা মাত্র সাতবার। এর মধ্যে তিনবারই বাংলাদেশের নাম। একবার করে এই লজ্জার রেকর্ডে নাম তুলেছে পাকিস্তান, দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারত ও নিউজিল্যান্ড।


আরও খবর



পদ্মা সেতুতে বসবে সিসি ক্যামেরা ও স্পিডগান মেশিন

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২৮ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 |
Image

নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, পদ্মা সেতুতে মোটরসাইকেল চলাচল বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত সাময়িক। সেতুতে স্পিডগান মেশিন ও সিসি ক্যামেরা বসানোর পরই মোটরসাইকেল চলাচলের অনুমতি দেওয়া হবে।

কবে থেকে মোটরসাইকেল চলবে, তা বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ সিদ্ধান্ত নেবে বলেও জানান তিনি।

মঙ্গলবার (২৮ জুন) সচিবালয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, শিমুলিয়ার মাঝিকান্দি রুটে ফেরি চলাচল বন্ধের কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই। যানবাহনের চাহিদা যদি থাকে ফেরি চলাচল অব্যাহত থাকবে। শিমুলিয়া ঘাটে এখন ছয়টি ফেরি আছে। যদি চাহিদা না থাকে কোনো ফেরি থাকবে না।

পদ্মা সেতুতে নাট খুলে নেওয়ার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অসচেতন ও দেশবিরোধী নেতৃত্বের কারণে খালেদা জিয়া পদ্মা সেতু নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, এ সেতু ভেঙে পড়বে। ওই বক্তব্যের ফলে তার কিছু অনুসারী এ নাট খুলে ফেলেন।


আরও খবর



বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা সম্মেলন

গুরুত্ব পাবে খাদ্য সংকট

প্রকাশিত:শনিবার ১১ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 |
Image

রোকসানা মনোয়ার: বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা (ডব্লিউটিও) চলতি মাসের ১৩ থেকে ১৫ তারিখ ১২তম মন্ত্রীপর্যায়ের সম্মেলনের আয়োজন করতে যাচ্ছে। এতে বিশ্ব খাদ্য সংকট বিশেষ গুরুত্ব পাবে। এদিকে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে জি-৭ নেতারা ও বিশ্বের ধনী দেশগুলো আরো মুক্ত বাণিজ্যের দিকে ঝুঁকছে। তবে অনেকে শঙ্কা প্রকাশ করে বলেছেন, তাদের এ সিদ্ধান্ত যথাযথ নয়।

কয়েক দশকের বাধাহীন বিশ্বায়ন ও মুক্ত বাণিজ্য সম্প্রসারণের কারণে স্থানীয় অর্থনীতি ধ্বংস হয়েছে, গ্রাম অঞ্চলে বেড়েছে দরিদ্রতা, তীব্র হয়েছে কৃষি সম্পর্কিত দ্বন্দ্ব-সংঘাত, প্রকট হয়েছে অভিবাসী সংকট, ত্বরান্বিত হয়েছে ক্ষুধা। তাই সব দেশে খাদ্য সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করার জন্য একটি আমূল পরিবর্তনের সময় এখনই। জলবায়ুর ব্যাপক পরিবর্তন, করোনা মহামারি ও সবশেষ রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে যুদ্ধ আন্তর্জাতিক কৃষি বাজার ও খাদ্য ব্যবস্থায় ব্যাপক নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। কৃষি উৎপাদনে ব্যয় বেড়ে গেছে। এতে কৃষি পণ্যের দাম বেড়ে আকাশচুম্বী হয়েছে। বিশ্বব্যাপী উচ্চ মূল্যস্ফীতিতে ক্ষুধার্ত মানুষের সংখ্যা বেড়েছে। কিছু আমদানিনির্ভর দেশ অভ্যন্তরীণ খাদ্য চাহিদা মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে। ট্রান্সন্যাশনাল এগ্রিবিজনেস করপোরেশনগুলো অভ্যন্তরীণ চাহিদা পূরণের চেয়ে মজুদ করে রপ্তানি করতে পছন্দ করছে। কখনো কখনো ক্রমবর্ধমান অভ্যন্তরীণ মূল্য নিয়ন্ত্রণে জাতীয় সরকারগুলোকে রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে বাধ্য করে।

বৈশ্বিক খাদ্য ব্যবস্থা মুক্ত বাণিজ্য ও দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তির ফলে টিকে রয়েছে। কিন্তু সরবরাহ সংকটে এটি এখন গভীর সংকটে পড়েছে। তারপরও বিশ্বের ধনী দেশগুলো অধিকতর মুক্ত বাণিজ্যে জোর দিচ্ছে। কিন্তু বাস্তব সমাধান সবসময় উপেক্ষা করা হয়েছে।

খাদ্য সার্বভৌমত্ব নীতিরভিত্তিতে জাতীয় পাবলিক নীতিতে সমর্থন করে আসছে বিশ্বব্যাপী কৃষক আন্দোলন। স্থানীয় উদ্যোগের মাধ্যমেই সংকট মোকাবিলা করা যায়, যেটা এখন দেখা যাচ্ছে। মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির মাধ্যমে খাদ্য বাণিজ্যের বিশ্বায়নের পরিবর্তে দেশগুলোর স্থানীয় খাদ্য উৎপাদন রক্ষা, প্রচার, কৃষি বাজার নিয়ন্ত্রণ ও মজুদে অধিকার থাকা উচিত।

২০১৩ সালে বালিতে মন্ত্রীপর্যায়ের সম্মেলন হয়। তখন থেকেই বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থাটি একটি স্থায়ী সমাধানের চেষ্টা করে আসছে। এ সম্পর্কিত একটি প্রস্তাব এখনো ঝুলে আছে। অধিকাংশ উন্নয়নশীল দেশ স্থায়ী সমাধানের পক্ষে।

আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নিয়ম অনুযায়ী, খাদ্য আমদানির ক্ষেত্রে মধ্যম ও নিম্ন আয়ের দেশগুলোকে মুক্ত বাজার বাণিজ্য ব্যবস্থায় থাকতে বাধ্য করে। এমনকি অনেক সময় তাদের জাতীয় আইন পরিবর্তনেও বাধ্য করে।

ডব্লিউটিওর মতো, আন্তর্জাতিক সংস্থা শুধু উন্নত ও ক্ষমতাধর দেশের পাশে থাকে তার প্রয়োজনীয়তা কি? এখনই বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থাটির সংস্কার করা দরকার। গত ১০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে বেশি খাদ্য সংকটে পড়েছে পশ্চিম আফ্রিকার দেশগুলো। ক্ষুধায় ভুগছে দুই কোটি ৭০ লাখ মানুষ। ল্যাটিন আমেরিকা ও ক্যারিবিয়ানেও ক্ষুধার প্রকোপ বেড়ে ৯ দশমিক ১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে, যা গত ১৫ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। সামাজিক অস্থিরতা দেখা দিয়েছে শ্রীলঙ্কা, লেবানন, মিসরসহ বিভিন্ন দেশে।

খাদ্য সার্বভৌমত্বের পথ তৈরি করতে পারে এমন দৃঢ় পদক্ষেপ রয়েছে। ডব্লিউটিওর যেসব নিয়ম দেশগুলোকে পাবলিক ফুড স্টকহোল্ডিং সিস্টেমের বিকাশ করতে ও তাদের স্থানীয় কৃষকদের সমর্থন করতে বাধা দেয় তা অবিলম্বে স্থগিত করা উচিত। ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতে আমদানি ও রপ্তানিকারকদের মধ্যে স্বচ্ছ আলোচনা হতে হবে।

দীর্ঘমেয়াদে বিশ্ব খাদ্য নিরাপত্তায় স্থিতিশীলতা আনতে চাইলে খাদ্য শাসন ও রাজনীতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। ক্ষুদ্র আকারের খাদ্য উৎপাদকদের বিশ্বব্যাপী খাদ্য শাসনের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা উচিত। কৃষকদের অধিকার সংক্রান্ত জাতিসংঘের ঘোষণাপত্রে বর্ণিত অধিকারগুলোকে আইনত বাধ্যতামূলক উপকরণ হিসেবে প্রয়োগ করা উচিত। পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কৃষিবিদ্যা ও কৃষি সংস্কার অবশ্যই টেকসই খাদ্য উৎপাদনের অপরিহার্য মাধ্যম হয়ে উঠতে হবে। বিশ্ব খাদ্য সংস্থা মানুষের আস্থা হারিয়েছে। সব দেশের সরকারের উচিত কৃষি বিষয়কে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির বাইরে রাখা। খাদ্য সার্বভৌমত্বকে সামনে রেখে বিকল্প বাণিজ্য ব্যবস্থা ও কৃষি নীতি গড়ে তোলা উচিত।


আরও খবর