Logo
শিরোনাম
রাজধানীর সেতু ভবনে আগুন কমপ্লিট শাটডাউন : ঢাকাসহ সারা দেশে বিজিবি মোতায়েন জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ইট বোঝায় ট্রাক খাদে কুষ্টিয়ায় আন্দোলনকারী ও ছাত্রলীগের মধ্যে সংঘর্ষ -কয়েকটি মোটর সাইকেলে আগুন পুঠিয়ায় আ’লীগের বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা লালমনিরহাটে অনুষ্ঠিত হয়েছে তিস্তা সমাবেশ বেনাপোল স্থল বন্দর দিয়ে মিথ্যা ঘোষণায় আমদানি করা হয়েছে ১৮ কোটি টাকার সালফিউরিক এসিড কুমারখালীতে মহাসড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, আহত-২ শরণখোলায় নার্সের চিকিৎসার অবহেলায় এক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ শেরপুরে কোটাবিরোধী শিক্ষার্থী-ছাত্রলীগের সংঘর্ষ, সাংবাদিকসহ আহত-২০

ওষুধের দামে নৈরাজ্য

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১৩ জুন ২০২৩ | হালনাগাদ:রবিবার ২১ জুলাই ২০২৪ |

Image

রোকসানা মনোয়ার : দফায় দফায় ওষুধের দাম বৃদ্ধিতে কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ছে মানুষের। ওষুধের বাড়তি দামের কারণে সংসার খরচের হিসাব নতুন করে করতে হচ্ছে। 

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, আন্তর্জাতিক ও দেশীয় বাজারে ডলারের মূল্য বৃদ্ধির দোহাই দিয়ে ওষুধ কোম্পানিগুলো জোর করেই ওষুধের মূল্য বৃদ্ধি করছে এবং ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরও অনেকটা বাধ্য হয়ে বর্ধিত দাম অনুমোদন করছে। 

খুচরা পর্যায়ে ওষুধের দাম দেখতে রাজধানীর একাধিক ফার্মেসি ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় ৭০ শতাংশ ওষুধই বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা বলছেন, পাইকারি বাজার থেকে তাদের বাড়তি দামে কিনে আনতে হচ্ছে। ফলে সেই ওষুধ কম দামে বিক্রির কোনো সুযোগ তাদের নেই। 


ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দেশের শীর্ষ ছয়টি প্রতিষ্ঠান সম্প্রতি তাদের উৎপাদিত ২৩৪টি ওষুধের দাম বাড়িয়েছে। ১০ শতাংশ থেকে শুরু করে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে ওষুধগুলোর দাম। আরও ১০টি প্রতিষ্ঠান তাদের ওষুধের দাম বাড়াতে অধিদপ্তরে আবেদন করেছে।

দাম বৃদ্ধির তালিকায় সবার শীর্ষে রয়েছে অপসোনিন ফার্মা লিমিটেড, প্রতিষ্ঠানটি গত কয়েকমাসে ৫২টি ওষুধের দাম বাড়িয়েছে। ইনসেপটা ফার্মাসিউটিক্যাস লিমিটেড ৪৭টি ওষুধের দাম বাড়িয়েছে। এসকেএফ ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড ৪৬টি ওষুধের দাম বাড়িয়েছে। স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড বাড়িয়েছে ৩৯টি ওষুধের দাম।

এছাড়াও হেলথকেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস লিমিটেড ৩৬টি ওষুধের এবং বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস ১৪টি ওষুধের দাম বাড়িয়েছে।

একমাস আগেও ভিটামিনজাতীয় এক পাতা বেক্সট্রাম সিলভার এবং বেক্সট্রাম গোল্ড ট্যাবলেটের দাম ছিল ২৭০ টাকা, যা বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৩৬০ টাকা করে। অর্থাৎ এক পাতা ওষুধেই মাস ব্যবধানে দাম বেড়েছে ৯০ টাকা। একমাস আগেও একটি প্রোজেস্ট ট্যাবলেটের দাম ছিল ৩০ টাকা করে, বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা করে। অ্যান্টিবায়োটিক সেফ-থ্রি (২৫০ মি.গ্রা.) ট্যাবলেটের দাম ছিল প্রতিটি ৩৫ টাকা করে, যা এখন হয়েছে ৪৫ টাকা, ৪০০ মি.গ্রা. সেফ-থ্রি ট্যাবলেটের দাম ছিল প্রতিটি ৪৫ টাকা, যা এখন হয়েছে ৫৫ টাকা, জক্স (১০০ মি.গ্রা.) সিরাপ আগে ছিল ৩৫ টাকা, এখন বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়। 

বিক্রেতাদের দেওয়া তথ্য মতে, লরিক্স ক্রিম আগে ছিল ৫৫ টাকা, বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকায়, অ্যান্টাসিড প্লাস ট্যাবলেট প্রতিপিস দুই টাকা থেকে এখন হয়েছে আড়াই টাকা, জিম্যাক্স (৫০০ মি.গ্রা.) ছিল ৩৫ টাকা পিস, বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকা করে। এজিসিন (৫০০ মি.গ্রা) আগে বিক্রি হতো ৩৫ টাকা করে, এখন বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়, ক্যালসিয়ামের ওষুধ অস্টোক্যাল ডি একমাস আগেও বিক্রি হয়েছে ২১০ টাকা করে, এখন বিক্রি হচ্ছে ২৪০ টাকা করে। ভিটামিন ওষুধ নিউরো-বি ট্যাবলেট ২৪০ টাকা ছিল, এর বর্তমান দাম ৩০০ টাকা।


মধ্যবাড্ডা ডিআইটি প্রজেক্ট এলাকার একটি ফার্মেসিতে গিয়ে দেখা গেছে, দোকানের ভেতরে সারি সারি করে ওষুধের বক্স সাজিয়ে রাখা হয়েছে। জানতে চাইলে ওষুধ বিক্রেতা রফিকুল ইসলাম বলেন, বেশি দামে বিক্রির আশায় বড় ব্যবসায়ীরা ওষুধের কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন। যে কারণে বাধ্য হয়েই আমাকে কিছু ওষুধ কিনে এনে রেখে দিতে হয়েছে। নয়তো দু
চারদিন পর আমার ফার্মেসিতেই ওষুধগুলো পাওয়া যাবে না।

দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গত দুইমাসে ইবনে সিনাসহ হাতেগোনা কয়েকটি কোম্পানি ছাড়া অন্যান্য কোম্পানির প্রায় ৭০ শতাংশ ওষুধেরই দাম বেড়েছে। নিত্যপ্রয়োজনীয় যে ওষুধগুলো আছে, সেগুলোরই দাম বেড়েছে। শুনেছি কিছুদিনের মধ্যে আরও কিছু ওষুধের দাম বাড়বে।

বাড্ডা এলাকার মেডিসিন কর্নার নামক একটি ফার্মেসির মালিকের সঙ্গে কথা হলে ঢাকা পোস্টকে তিনি বলেন, ওষুধের দাম বৃদ্ধি একটি চলমান প্রক্রিয়া। এমন কোনো মাস নেই, যে মাসে ওষুধের দাম বাড়ে না। গত দুই মাসে প্রায় প্রতিটি ওষুধেরই দাম বেড়েছে। শোনা যাচ্ছে আবারও দাম বাড়তে পারে।

তিনি বলেন, ওষুধের দাম বাড়া-কমায় কারও কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। যখন যার যত খুশি দাম বাড়িয়ে ফেলেছে। সরকার যদি একবার বলে যে দাম বাড়বে, এইটুকু বললেই হয়ে যায়। রাতারাতি সব কিছুর দাম বেড়ে যায়, এমনকি অটোমেটিক বর্ধিত দাম কার্যকরও হয়ে যায়। কারণ দাম মনিটর করার আসলে কেউ নেই।

দাম বাড়ার কারণ জানতে চাইলে এই বিক্রেতা বলেন, ঠিক কী কারণে বেড়েছে এটা আসলে আমরা বলতে পারছি না। এটা তো বলা যাবে না যে তেলের দাম বাড়ায় ওষুধের দাম বেড়েছে, কারণ তেলের সাথে ওষুধের কোনো সম্পর্ক নেই। ওষুধের দাম বাড়ার বিষয়টি তো তেলের দাম বাড়ার আগেই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। তবে বাড়তি দামে ওষুধগুলো বাজারে এসেছে গত কয়েকদিনে।

বাচ্চু মিয়া নামে আরেকজন ওষুধ বিক্রেতা বলেন, আমাদের ছোট দোকান। স্টক তো করে বড় বড় দোকানগুলো। কোম্পানিগুলোও স্টক করে। সিপ্রোসিন ওষুধ পাচ্ছি না। টোফেন সিরাপও কম। খুঁজেও পাচ্ছি না। তার মানে শিগগিরই এগুলোর দামও বেড়ে যাবে। 


ওষুধের দাম বৃদ্ধি প্রসঙ্গে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক সৈয়দ আব্দুল হামিদ বলেন, বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসহ প্রায় সব কিছুরই দাম বেড়েছে। এখন আবার ওষুধের দাম বেড়েছে, এটি আসলে সাধারণ মানুষের জন্য মরার ওপর খাঁড়ার ঘা। মানুষ আসলে কোথায় যাবে, কী করবে? মধ্যবিত্ত-নিম্নবিত্ত মানুষের সংসার চালাতেই তো এখন হাঁসফাঁস অবস্থা। এই অবস্থায় ওষুধের দাম বাড়ালে তো সাধারণ মানুষকে রোগে ভুগে মারা যেতে হবে।

তিনি বলেন, যাদের সক্ষমতা আছে, ব্যাংকে টাকা আছে, তাদের জন্য খুব বেশি সমস্যা হবে না। কিন্তু যাদের নেই, যারা দিন আনে দিন খায়, তাদের ওষুধের পেছনে বাড়তি খরচ করার উপায় নেই। তাহলে তাদের হয় অন্য জিনিস স্যাক্রিফাইস করতে হবে, চাল-ডাল খাওয়া বন্ধ করতে হবে, বাচ্চাদের স্কুলে যাওয়া বন্ধ করতে হবে, আর নয় তো চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হতে হবে।

সৈয়দ আব্দুল হামিদ বলেন, একজন চাকরিজীবী হিসেবে আমাদের হয়তো নাভিশ্বাস হচ্ছে, তাহলে এই যে গরিব মানুষ, যাদের নুন আনতেই পান্তা ফুরায়, তাদের অবস্থা কেমন হচ্ছে? মানুষ তো তিনবেলার জায়গায় দুইবেলা খেয়েও কোনোরকম বাঁচতে পারে। কিন্তু কেউ যদি অসুস্থ হয়, আর যদি চিকিৎসা না করা যায় তাহলে তো মরা ছাড়া আর কোনো পথ নেই।


ওষুধের দাম বৃদ্ধির বিষয়টিকে যৌক্তিক মনে করছেন ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক আইয়ুব হোসেন। তিনি বলেন, ওষুধের দাম ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের অনুমোদন ছাড়া কেউই বাড়াতে পারবে না। ফার্মেসিতেও ওষুধের অতিরিক্ত দাম নেওয়া সম্ভব নয়, আবার ওষুধ কোম্পানিও নিজেদের ইচ্ছা মতো দাম নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে না। এমআরপি হোক বা ইনডিকেটিভ প্রাইস হোক, আমাদের কাছ থেকে অনুমোদন নিয়েই কার্টন বা প্যাকেটে নতুন দাম বসাতে হবে। এর বেশি দামে যদি কেউ বিক্রি করে, তাহলে সে অপরাধ করছে। এক্ষেত্রে সাধারণ মানুষকেই সতর্ক হতে হবে। প্রয়োজনে কার্টনের গায়ে দেওয়া মূল্য দেখতে হবে, এমনকি ওষুধের দোকান থেকে প্রয়োজনে ক্যাশ মেমো নিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, দাম বাড়াটা আমি মনে করি এখন স্বাভাবিক। দাম কেনই বা বাড়বে না? বর্তমানে বিশ্ব বাজারে সব জিনিসের মূল্য বৃদ্ধি পেয়েছে। এদিকে ডলারের মূল্য বৃদ্ধি ও সংকট তৈরি হয়েছে। এদিকে ওষুধ কোম্পানিগুলোর কর্মীদের বেতন বৃদ্ধির একটি বিষয় আছে। সবগুলো বিষয় মিলিয়েই তো ওষুধের দাম নির্ধারণ করা হয়। আমার মতে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর ওষুধগুলোর যে পরিমাণ দাম বাড়িয়েছে তা খুবই যৌক্তিক।

ওষুধের দাম বৃদ্ধি নিয়ে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর কোম্পানিগুলোর চাপের মুখে থাকে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা তো ওষুধ কোম্পানিগুলোর জন্যই কাজ করি। তাদের সুযোগ-সুবিধা, সমস্যা দেখাই আমাদের মূল দায়িত্ব। এর বাইরেও ওষুধপত্রের দাম নিয়ে রীতিমতো আমরা খবরদারি করি। সুতরাং আমাদের তাদের চাপের মুখে থাকার কোনো প্রশ্নই আসে না।

তবে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ ইউসুফ বলেন, প্রতিনিয়তই ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরে কোম্পানিগুলো দাম বৃদ্ধির ব্যাপারে আবেদন করে। দাম বৃদ্ধি না হলে কেউ কেউ উৎপাদন বন্ধের হুঁশিয়ারিও দেয়। আমরা আমাদের পলিসিগতভাবে বিষয়গুলো দেখি। এসব আবেদনের প্রেক্ষিতে সম্প্রতি আমরা বিশ্ববাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ দাম বাড়িয়েছি। তবে আমাদের এই নির্ধারিত দামের বাইরেও যদি কেউ স্বপ্রণোদিত হয়ে দাম বাড়ায়, তাহলে আমরা তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব।


দুই মাস আগেও পাঁচ থেকে ছয় হাজার টাকার ওষুধে মাস যেত মো. সিরাজুল ইসলামের। এখন ৭ হাজার টাকাতেও যায় না। ওষুধের দাম বাড়ায় প্রতিমাসে এইখাতে খরচ হয় সাত হাজার টাকারও বেশি। এদিকে ডায়াবেটিস, প্রেশারের সাথে সিরাজুল ইসলামের যোগ হয়েছে হার্টের ওষুধ। এর বাইরে প্রতিমাসে একজন চিকিৎসকের পরামর্শ ও পরীক্ষা-নিরীক্ষায় খরচ হয় আরও দুই থেকে তিন হাজার টাকা। সব মিলিয়ে বর্তমানে চিকিৎসায় তার মাসে খরচ ১০ হাজার টাকা। সিরাজুল ইসলামকে চিকিৎসক জানিয়েছেন, যতদিন বেঁচে থাকবেন, ততদিনই নিয়মিত চলবে এসব ওষুধ।

বর্তমানে একটি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকলেও, খুব শিগগিরই চাকরিজীবন শেষ হচ্ছে সিরাজুল ইসলামের। তিনি বলেন, প্রেশারের ওষুধ বন্ধ করলেই প্রেশার বেড়ে যায়, ডায়াবেটিসের ওষুধ বন্ধ হলেই ডায়াবেটিস বেড়ে যায়। ডাক্তার বলেছে আজীবন ওষুধ খেয়ে যেতে হবে। এখন না হয় কোনোরকম যোজন-বিয়োজন করে সংসার ও চিকিৎসা চালিয়ে নিচ্ছি, কিন্তু চাকরি শেষ হয়ে গেলে প্রতিমাসে এই টাকা কীভাবে ম্যানেজ করব ?

দফায় দফায় ওষুধের দাম বৃদ্ধিতে শুধু সিরাজুল ইসলামেরই নয়, নিয়মিত ওষুধে নির্ভরশীল এমন অসংখ্য মানুষের কপালে চিন্তার ভাঁজ। তাদের অনেককেই এখন ওষুধ অথবা খাওয়া-পরায় কাটছাঁটও করতে হচ্ছে।   


ওষুধের সাথে পাল্লা দিয়ে স্বামী-স্ত্রীর পরিবার পরিকল্পনা পদ্ধতি গ্রহণের পণ্যেরও দাম বেড়েছে। বাজারে অতিপরিচিত গর্ভনিরোধক পিল ফেমিকন একমাস আগেও বিক্রি হয়েছে ৩৫ টাকায়। এখন সেটি বিক্রি হচ্ছে ৪০ টাকায়। 

এছাড়াও প্রায় প্রতিটি কোম্পানির কনডমের দাম বেড়েছে। হিরো কনডম আগে বিক্রি হতো ১২ টাকা প্রতি পিস, বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ২০ টাকা করে। এছাড়াও প্যানথার কনডেমের পূর্বে মূল্য ছিলো ১৫ টাকা, বর্তমানে বিক্রি হচ্ছে ২৫ টাকা করে।



আরও খবর



'নাটোরে বাচ্চুর ওপর আক্রমণ হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে’ : রিজভী

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ০৪ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ২০ জুলাই ২০24 |

Image



বিডি টুডেস ডেস্ক:



নাটোর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শহীদুল ইসলাম বাচ্চুর ওপর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে আক্রমণ করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন দলটির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।



 তিনি বলেন, আমি মনেক করি, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই বাচ্চুর ওপর আক্রমণ করা হয়েছে। কারণ, বিএনপি নেতাদের রক্ত দেখলে প্রধানমন্ত্রী খুব আনন্দিত হন, তিনি খুব খুশি হন।




বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) গুরুতর আহত বাচ্চুকে দেখতে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে যান রিজভীসহ দলটির নেতা-কর্মীরা। সেখানেই তিনি সাংবাদিকদের কাছে এ অভিযোগ করেন।



রিজভী বলেন, শহীদুল ইসলাম বাচ্চু বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ। গোটা উত্তরাঞ্চলে তাকে এক নামেই সবাই চেনেন। জেলার একজন প্রধান নেতা, তার গায়ে এমন আদিম বন্য হিংস্রতায় আক্রমণ করা হয়েছে। তার হাত-পা, মুখ ক্ষতবিক্ষত করে, তাকে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়েছে আওয়ামী লীগের নেতা এবং সেখানকার এমপি শিমুল সাহেব (শফিকুল ইসলাম শিমুল)।


তিনি আরও বলেন, খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে একটি শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বর্বর হামলা করা হয়েছে। এই হামলা শুধু কাপুরুষোচিতই নয়, এটি আওয়ামী লীগের দুঃশাসনের আরও একটি রক্তাক্ত উদাহরণ।


প্রসঙ্গত, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবিতে গতকাল বুধবার সকালে নাটোর জেলা বিএনপির কার্যালয়ে সমাবেশ ছিল। সমাবেশে যোগ দিতে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম বাচ্চু কার্যালয় যাচ্ছিলেন। 



এ সময় শহরের সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে কয়েকজন লোক তাকে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে পালিয়ে যায়। এতে তার পা-হাতসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর রক্তাক্ত জখম হয়।


পরে বাচ্চুকে উদ্ধার করে নাটোর আধুনিক সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন চিকিৎসক। এরপর তাকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে আনা হয়।


আরও খবর



অন্তঃসত্ত্বার গুঞ্জনে যা বললেন সোনাক্ষী

প্রকাশিত:শনিবার ০৬ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ২১ জুলাই ২০২৪ |

Image


বিডি টুডেস বিনোদন ডেস্ক:


বলিউড অভিনেত্রী সোনাক্ষী সিনহাকে বিয়ের এক সপ্তাহের মধ্যেই হাসপাতালে দেখা যায় তাকে। এরপর থেকেই তার অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার গুঞ্জন উঠেছে। সম্প্রতি বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন অভিনেত্রী।



হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোনাক্ষী সিনহা-জাহির ইকবাল বিয়ের কয়েকদিন পরেই হাসপাতালে গিয়েছিলেন। সে ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হলে সোনাক্ষীকে নিয়ে জল্পনা শুরু হয়েছে যে তিনি অন্তঃসত্ত্বা। এমন গুঞ্জনে বেশ চটেছেন অভিনেত্রী


 

সোনাক্ষীর নতুন সিনেমা ‘কাকুদা’-এর প্রচারে হাজির হয়ে তিনি বলেন, বিয়ের পর একমাত্র পরিবর্তন হলো আমি এখন হাসপাতালে যেতে পারি না। কারণ, আমি হাসপাতালের বাইরে পা রাখলেই লোকেরা মনে করে আমি অন্তঃসত্ত্বা।


 

সোনাক্ষী ও জাহিরের হাসপাতালে যাওয়ার সময় অনেকেই জানতেন না শত্রুঘ্ন সিনহা জ্বরের জন্য হাসপাতালে ভর্তি ছিলেন। অভিনেত্রীর ভাই লব সিনহা সংবাদমাধ্যম পিটিআইকে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আমার বাবার প্রচণ্ড জ্বর ছিল



তাই বাবাকে হাসপাতালে নিয়ে যাই। আপনাদেরকে আমি বলতে পারি কোনো অস্ত্রোপচার হয়নি।



দীর্ঘ ৭ বছর প্রেম করার পর গত ২৩ জুন বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন সোনাক্ষী সিনহা ও জাহির ইকবাল। মুসলিম পাত্রকে বিয়ে করায় কম কটাক্ষ শুনতে হয়নি শক্রঘ্ন কন্যাকে। এই বিয়েকে ‘লাভ জিহাদ’-এর তকমাও দিয়েছেন অনেকে


 তবে নিন্দকদের পাত্তা দেননি সোনাক্ষী-জাহির। 


আরও খবর



অবসর নিয়ে মুখ খুললেন সাকিব

প্রকাশিত:রবিবার ২৩ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ১৯ জুলাই ২০২৪ |

Image



বিডি টুডেস রিপোর্ট:


ক্রিকেটের সীমিত ওভারের ফরম্যাট থেকে কবে অবসর নিচ্ছেন সাকিব আল হাসান? বিশ্বকাপ শুরুর আগে সবচেয়ে উচ্চারিত হয়েছে এই প্রশ্ন! 


টুর্নামেন্টেও সাকিবের পারফর্ম চূড়ান্ত হতাশাজনক। ব্যাটে রান নেই, বলেও নির্বিষ। সেই সঙ্গে বাংলাদেশ দলের ব্যর্থতা তো আছেই। পরিস্থিতি যখন এই তখন ঘুরেফিরে আবারও প্রশ্ন, কখন থামছেন সাকিব? 



ভারতের বিপক্ষে গতকাল শনিবার বাজেভাবে হেরেছে বাংলাদেশ। ম্যাচটির পর ৩৭ বছর বয়সী অলরাউন্ডারের কাছে জানতে চাওয়া হয় তার অবসর ভাবনা নিয়ে। 



সংবাদ সম্মেলনে সাকিব বলেছেন, 'এটি শেষ (টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ)কি না, জানি না। পৃথিবীতে যে কোনো সময় যে কোনো কিছু হওয়া সম্ভব। এটা তো সিদ্ধান্ত নেবে আসলে ক্রিকেট বোর্ড। আমার নিজেরও ব্যক্তিগত কিছু সিদ্ধান্ত থাকতে পারে।


 তবে এগুলো আসলে এখনই এখানে আলোচনা করার বিষয় নয়। এগুলো সময়ের সঙ্গে হয়তো আলোচনা হতে পারে।' 


২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপের আগে এক সাক্ষাৎকারে সাকিব অবশ্য চলমান বিশ্বকাপ ও ২০২৫ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি দিয়ে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর কথা জানিয়েছিলেন। তবে, এবার জানালেন এই ভাবনা থেকে নাকি সরে এসেছেন তিনি। 


সাবেক এই অধিনায়ক বলছেন,'বলেছিলাম যে, তখনও পর্যন্ত চিন্তা এরকম… চিন্তা তো বদলাতেই পারে। এগুলা নিয়ে আসলে আমি অনেক বেশি চিন্তিত নই। অনেক বড় বিরতি আছে সামনে। 



নিজের ওপর রিফ্লেক্ট করা যাবে, দলের প্রয়োজনীয়তা ভেবে দেখা যাবে, যদি দল মনে করে যে, আমাকে দরকার আছে, যদি আমি মনে করি যে দলে আমার দরকার আছে ও আমি ওভাবে তাড়না অনুভব করছি, সবকিছু যদি ঠিকঠাক তাহলে, তাহলে এটা খেলার বিষয় দেখা যাবে।'



আরও খবর



শিক্ষার্থীদের কোটা বাতিল আন্দোলনের যৌক্তিকতা আছে: চুন্নু

প্রকাশিত:সোমবার ১৫ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ২০ জুলাই ২০24 |

Image

স্টাফ রিপোর্টার::

জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু বলেছেন, শিক্ষার্থীদের কোটা বাতিল আন্দোলনের যৌক্তিকতা আছে। কোটা যেভাবে আছে তা চলতে পারে না। সংসদে বিল আনা হলে জাতীয় পার্টি ভূমিকা রাখবে। রোববার (১৪ জুলাই) রাজধানীতে এক অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন তিনি। এ সময় বর্তমান সরকারের সমালোচনা করে চুন্নু বলেন, সরকারের ব্যর্থতায় দুর্নীতির বিস্তার হয়েছে দেশে।

 

তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের কোটা বাতিল আন্দোলনের যৌক্তিকতা আছে। কোটা যেভাবে আছে তা চলতে পারে না। সংসদে বিল আনা হলে জাতীয় পার্টি ভূমিকা রাখবে।


এদিকে সরকারি চাকরিতে সব গ্রেডে সর্বোচ্চ ৫ শতাংশ কোটা রেখে, বাকি কোটা বাতিল করে সংসদে আইন পাসের এক দফা দাবিতে ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে’ শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছেন।

 

উল্লেখ্য, গত ১ জুলাই থেকে কোটা সংস্কারের দাবিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে আন্দোলন করছেন শিক্ষার্থীরা। গত ৫ জুন সরকারি চাকরিতে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির মুক্তিযোদ্ধা কোটা পদ্ধতি বাতিলের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করেন হাইকোর্ট। এরপর ৯ জুন হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। ওইদিন এই আবেদন শুনানির জন্য আপিল বিভাগে পাঠিয়ে দেন চেম্বার আদালত।


 

গত ৪ জুলাই প্রধান বিচারপতি ওবায়দুল হাসানের নেতৃত্বে ছয় বিচারপতির আপিল বেঞ্চ সরকারি চাকরির প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে মুক্তিযোদ্ধা কোটা পদ্ধতি বাতিলের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেয়া রায় আপাতত বহাল রাখার নির্দেশ দেন। পরে ১০ জুলাই হাইকোর্টের দেয়া রায়ে চার সপ্তাহের জন্য স্থিতাবস্থা দেন আপিল বিভাগ।

 

এর আগে ২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর সরকারি চাকরিতে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণির পদে সরাসরি নিয়োগে বিদ্যমান কোটা পদ্ধতি তুলে দিয়ে পরিপত্র জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।



আরও খবর

রাজধানীর সেতু ভবনে আগুন

বৃহস্পতিবার ১৮ জুলাই ২০২৪




প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১৬ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ২০ জুলাই ২০24 |

Image

সংবাদ সম্মেলনে কোটা সংস্কার আন্দোলন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

মঙ্গলবার দুপুরে আওয়ামী লীগ সভাপতির ধানমন্ডিস্থ রাজনৈতিক কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি করেন তিনি।

ওবায়দুল কাদের বলেন, নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করার জন্য দেশে-বিদেশে নানা ষড়যন্ত্র চলছে। প্রধানমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন, সেটাকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে। আদালতের রায় বল প্রয়োগের মাধ্যমে পরিবর্তনের চেষ্টা চলছে। এর পেছনে একটি মতলবি মহল আছে।

বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেয়নি, আন্দোলনেও ব্যর্থ উল্লেখ করে সেতুমন্ত্রী বলেন, আমরা আগেও দেখেছি, ২০১৮ সালে যে সড়ক আন্দোলন হয়েছিল, তারা ফসল বিএনপি কুড়াতে চেয়েছিল। তারা অগ্নিসন্ত্রাস করেছে, কত মানুষ যে মারা গেছে! টার্গেট করে নিরীহ মানুষ তারা হত্যা করেছে।

আমরা এখনো বলছি যে, আজকে যে কোটা সংস্কার আন্দোলন বাংলাদেশে চলছে, এই আন্দোলনেরও নেতৃত্ব নিয়েছেন সেই লন্ডনের দণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি। তার দল সমর্থন দিয়েছে প্রকাশ্যে। তারেক রহমান প্রতিনিয়ত ২০১৫, ১৬, ১৮ সালের মতো এই আন্দোলনকে রাজনৈতিক আন্দোলনে পরিণত করার জন্য বিভিন্ন অপশক্তিকে লেলিয়ে দিয়েছে। তাদের সমমনা কিছু দলও এর সঙ্গে জড়িত রয়েছে।


আরও খবর