Logo
শিরোনাম

অ্যান্টিবায়োটিকের অপ ব্যবহারে স্বাস্থ্যখাতে বিপর্যয়

প্রকাশিত:রবিবার ১২ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 |
Image

দেশের সব জরুরি ও বহুল ব্যবহৃত অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ ৫০ শতাংশেরও বেশি কার্যকারিতা হারিয়েছে। এতে দেশের পুরো জনগোষ্ঠী যে কোনো ধরনের মহামারির বিরুদ্ধে অরক্ষিত থেকে যেতে পারে।

সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তালিকাভুক্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ৫টি ওষুধ ক্রমশ অকার্যকর হয়ে পড়ছে বলে ২০১৭ থেকে ২০২১ এর মধ্যে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইন্সটিটিউট (আইইডিসিআর) পরিচালিত এই সারভেইলেন্স গবেষণা থেকে জানা গেছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক মীরজাদি সাবরিনা ফ্লোরা গতকাল একটি অনুষ্ঠানে বলেন, 'এই গবেষণা থেকে যে বার্তা পাওয়া গেছে, তা হচ্ছে পরিস্থিতি বেশ উদ্বেগজনক। এই অনুষ্ঠানে ১০টি প্রাধান্য পাওয়া প্যাথোজেনের বিরুদ্ধে ২১টি অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধের কার্যকারিতার ব্যাপারে আলোচনা করা হয়।

ওষুধগুলো মূত্রনালীর সংক্রমণ, সেপ্টিসেমিয়া, ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া এবং ক্ষত সংক্রমণের মতো রোগের জন্য দায়ী ব্যাকটেরিয়াগুলোর বিরুদ্ধে পরীক্ষা করা হয়েছিল।

৯টি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরিচালিত এই সমীক্ষায় দেখা গেছে, ব্যাকটেরিয়াগুলোর ৯ শতাংশ পরীক্ষায় অন্তর্ভুক্ত সব অ্যান্টিবায়োটিকের বিরুদ্ধে সহনীয়।

ব্যাকটেরিয়া, ভাইরাস এবং পরজীবীর মতো অণুজীবকে ধ্বংস করার জন্য অ্যান্টিবায়োটিকের অকার্যকারিতাকে অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স (এএমআর) বলা হয়।

ফ্লোরা বলেন, 'এএমআর অন্য এক ধরনের মহামারি। আমাদের এমন হওয়া উচিত নয় যে—রোগ নির্ণয় হলো, সেই রোগের ওষুধও আছে কিন্তু সেটা রোগ সারাতে পারছে না।'

ওয়ান হেলথ বাংলাদেশের জাতীয় সমন্বয়কারী নীতিশ চন্দ্র দেবনাথ জানান, ডেটা দেখে মনে হচ্ছে অ্যান্টিবায়োটিকের ব্যবহার প্র্যাকটিশনারদের দ্বারা পরিচালিত হয়।

'আমাদের এই বিষয়টি নিয়ে কাজ করতে হবে। পেশাদারদের শক্তিশালী উদ্যোগ নিতে হবে। এএমআর জনস্বাস্থ্য এবং অর্থনীতি উভয়ের জন্যই একটি চ্যালেঞ্জ,' তিনি যোগ করেন।

অ্যান্টিবায়োটিকগুলোকে মূলত তিনটি সেটে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়। এগুলো হচ্ছে, প্রাথমিক পর্যায়ের সংক্রমণের জন্য 'অ্যাক্সেস গ্রুপ', উচ্চ সহনশীল ব্যাকটেরিয়ার জন্য 'ওয়াচ গ্রুপ' এবং পরিশেষে সব বিকল্প ব্যর্থ হলে 'রিজার্ভ গ্রুপ।'

২১টি অ্যান্টিবায়োটিকের মধ্যে ৭টি অ্যাক্সেস গ্রুপ, ৯টি ওয়াচ গ্রুপ এবং ২টি রিজার্ভ গ্রুপের অন্তর্ভুক্ত। এদের মধ্যে ১৫টি ক্রমশ অকার্যকর হয়ে পড়ছে বলে পরীক্ষায় উন্মোচিত হয়েছে।

২০২১ সালে ওয়াচ গ্রুপের ওষুধ সেফটাজিডিম ৭০ শতাংশ ক্ষেত্রে ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস করার ক্ষেত্রে অকার্যকর হয়ে পড়েছে। ২০১৭ সালে এর অকার্যকারিতার হার ছিল ৬২ শতাংশ।

একই সময়সীমার মধ্যে ওয়াচ গ্রুপের বিভিন্ন অ্যান্টিবায়োটিকের অকার্যকারিতা বেড়েছে, যেমন সেফিক্সিম (৫২ থেকে ৫৮ শতাংশ), সেফেপিম (৫৭ থেকে ৬১ শতাংশ), সেট্রিয়াক্সোন ৫২ থেকে ৬৫ শতাংশ), সিপ্রোফ্লোক্সাসিন (২০ থেকে ৪০ শতাংশ) ও কার্বাপেনেম (২০ থেকে ৪০ শতাংশ)।

একই সময়ে অ্যাক্সেস গ্রুপের ওষুধ ডক্সিসাইক্লিন ও টেট্রাসাইক্লিনের উপযোগিতা বেড়েছে। তাদের অকার্যকারিতার হার কমে যথাক্রমে ৪৭ থেকে ৩৯ শতাংশ এবং ৫৮ থেকে ৫৪ শতাংশ হয়েছে।

আইইডিসিআরের লিড ইনভেস্টিগেটর ও মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের প্রধান জাকির হোসেন হাবীব বলেন, 'এর পেছনে কারণ হতে পারে এই ওষুধগুলোর কম ব্যবহার। চিকিৎসকরা মূলত ওয়াচ ও রিজার্ভ গ্রুপের ওষুধ ব্যবহার করে থাকেন।'

অ্যাক্সেস গ্রুপের ওষুধের মধ্যে উপযোগিতা হারিয়েছে এ রকম ওষুধ হচ্ছে নাইট্রোফিউরানটয়েন, সালফামেথোক্সাজোল-ট্রাইমেথোপ্রিম, অ্যাম্পিসিলিন, অ্যামোক্সিসিলিন-ক্লাভুলানেট ও জেন্টামাইসিন। তবে পেনিসিলিনের উপযোগিতা সামান্য বেড়েছে।

রিজার্ভ গ্রুপের ওষুধ অ্যাজট্রিওনামের অকার্যকারিতা ৫৯ শতাংশ থেকে বেড়ে ৬১ শতাংশ হয়েছে এবং লিনেজোলিডের ক্ষেত্রে তা ৩৭ শতাংশে অপরিবর্তিত রয়েছে।

বাংলাদেশে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এসেনশিয়াল ড্রাগস অ্যান্ড মেডিসিনের কারিগরি বিশেষজ্ঞ মোহাম্মদ রামজি ইসমাইল বলেন, 'আমরা ফার্স্ট-লাইন অ্যান্টিবায়োটিক (অ্যাক্সেস গ্রুপ) হারিয়ে ফেলছি। দ্বিতীয় ও তৃতীয় লাইন অ্যান্টিবায়োটিকগুলো ব্যয়বহুল এবং টক্সিক।

তিনি আরও জানান, নতুন অ্যান্টিমাইক্রোবিয়ালের ক্ষেত্রে গবেষণার পাইপলাইনে শুধুমাত্র অল্প কিছু আশাব্যঞ্জক বিকল্প রয়েছে।

এএমআরের সঙ্গে মোকাবিলায় ইসমাইল 'ওয়ান হেলথ' দৃষ্টিভঙ্গি অবলম্বনের আহ্বান জানান। বাংলাদেশ ইতোমধ্যে ওয়ান হেলথে ভালো উন্নতি করেছে।

ওয়ান হেলথে স্বীকার করা হয় মানুষ যে পরিবেশে থাকে এবং সে পরিবেশের অন্যান্য প্রাণীদের স্বাস্থ্য পরিস্থিতির সঙ্গে তার নিজের স্বাস্থ্যের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে।

কোনো কোনো দেশে চিকিৎসার চেয়ে খাদ্য উৎপাদনে অ্যান্টিবায়োটিক বেশি ব্যবহার করা হচ্ছে।

'আমাদের এই ফ্র্যাজাইল ওষুধের অপব্যবহারে অবদান রাখে এমন সমস্ত আচরণকে চিহ্নিত করার উপায় খুঁজে বের করতে হবে,' তিনি যোগ করেন।


আরও খবর

বাড়ছে মৃত্যু, কমেছে শনাক্ত

শনিবার ০২ জুলাই 2০২2




পার্বত্য চট্টগ্রাম হেডম্যান সম্মেলন

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১৬ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শুক্রবার ০১ জুলাই ২০২২ |
Image

উচিংছা রাখাইন,রাঙ্গামাটি প্রতিনিধি

পার্বত্য অঞ্চলের ক্ষুদ্র নৃ গোষ্ঠীর রীতিনীতি গুলো আছে বলেই পার্বত্য অঞ্চলের সামাজিক সমস্যা গুলো সমাধান করা হচ্ছে। এই অলিখিত আইন গুলো সংরক্ষণ করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন পার্বত্য বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি।

তিনি বলেন সন্ত্রাস,  চাঁদাবাজি, খুন গুম করে কখনোই শান্তি ফিরে আসবে  না।  শান্তি ফিরিয়ে আনতে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ১৯৯৭ সালে আলোচনার মাধ্যমে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলের শান্তি ফিরিয়ে আনতে শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর করা হয়েছে।

এর পরও পার্বত্য অঞ্চলে সংঘাত, খুন, গুম, চাঁদাবাজি কখনোই মেনে নেয়া যায় না।

বৃহস্পতিবার ১৬ জুন পার্বত্য চট্টগ্রাম হেডম্যান সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পার্বত্য বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি এ কথা বলেন।

সম্মেলনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন চাকমা সার্কেল চীফ ব্যারিষ্টার রাজা দেবাশীষ রায়।

সিএইচটি হেডম্যান নেটওয়ার্কের সভাপতি কংজরী চৌধুরীর সভাপতিত্বে হেডম্যান সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমা, রাঙ্গামাটি জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অংসুইপ্রু চৌধুরী, বান্দরবান জেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান সিংইরয়ং ম্রো, চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার ড. প্রকাশ কান্তি চৌধুরী,  খাগড়াছড়ি মং সার্কেল চীফ সাচিং প্রু চৌধুরী, রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান সহ হেডম্যানরা বক্তব্য রাখেন।

সম্মেলনে তিন পার্বত্য জেলার ৩৫০ জন হেডম্যান কার্বারী অংশ গ্রহণ করেন।


আরও খবর



সীতাকুণ্ডে অগ্নিকাণ্ড: ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাচ্ছেন ৩ মন্ত্রী

প্রকাশিত:সোমবার ০৬ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 |
Image

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের বিএম ডিপোতে বিস্ফোরণস্থল পরিদর্শনে যাচ্ছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী এবং দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী ডা. মো. এনামুর রহমান। ৩ মন্ত্রীর দপ্তর থেকে সোমবার (৬ জুন) এ তথ্য জানানো হয়েছে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা শরীফ মাহমুদ অপু জানান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সীতাকুণ্ডে দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যাচ্ছেন। সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে চট্টগ্রামের উদ্দেশ্যে ঢাকা থেকে রওনা দিচ্ছেন।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. জাহাঙ্গীর আলম খান বলেন, প্রতিমন্ত্রী দুপুর ১টায় বিমানযোগে ঢাকা ত্যাগ করবেন। দুপুর আড়াইটায় চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে বিএম কন্টেইনার ডিপোতে অগ্নিকাণ্ডের ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন, বিকেল সাড়ে ৫টায় চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডে আহতদের দেখতে যাবেন।  

এছাড়াও সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় প্রতিমন্ত্রী চট্টগ্রাম বন্দরে কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে জানান জাহাঙ্গীর আলম।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. সেলিম হোসেন বলেন, প্রতিমন্ত্রী দুপুরে বিমানে চট্টগ্রাম যাচ্ছেন। সেখান থেকে সীতাকুণ্ড যাবেন।


আরও খবর



সিংড়ায় নির্মাণ কাজ শেষ না হতেই ভেঙে গেল ড্রেন

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২৮ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 |
Image

নাটোরের সিংড়ার চামারী ইউনিয়নের বিলদহর বাজারে নির্মাণ কাজ শেষ না হতেই ভেঙে গেছে ড্রেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ সিমেন্ট কম ও বালি বেশি দেওয়ায় ড্রেন ভেঙে গেছে।

সোমবার (২৭জুন) বিকেলে এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, এলজিএসপি প্রকল্পের আওতায় ৩২৮ মিটার ড্রেন নির্মাণ কাজ বাস্তবায়ন করছেন চামারী ইউনিয়ন পরিষদ। কাজের ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ লক্ষ ৫৫ হাজার টাকা।

প্রকল্প সভাপতি ও ৮নং ওয়ার্ড সদস্য আশরাফুল সরদার বলেন, আজ কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল, কিন্তু বৃষ্টির কারণে গতকাল ভেঙে গেছে। পুনরায় কাজটি করা হবে।

চামারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান স্বপন মোল্লা বলেন, বৃষ্টির কারণে নির্মাণাধীন ড্রেন ভেঙে গেছে। আগামীকাল থেকে পুনরায় কাজ শুরু হবে। তবে সিমেন্ট কম দেয়া হয়নি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এম এম সামিরুল ইসলাম বলেন, ড্রেন ছিল ৫ ইঞ্চি দেয়ালের, সেখানে পানির চাপ বেশি হওয়ায় ১০ ইঞ্চি দেয়ালের প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। এখন ১০ ইঞ্চি দেয়ালের ড্রেন নির্মাণ করা হবে।


আরও খবর



নারায়ণগঞ্জের হেলথ রিসোর্ট হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে প্রতারণার শিকার

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ২৩ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 |
Image

বুলবুল আহমেদ সোহেল ; নারায়ণগঞ্জঃ

নারায়ণগঞ্জ নগরের  চাষাঢ়ার হেলথ রিসোর্ট হাসপাতালে অতিরিক্ত মুনাফার জন্য প্রসূতি রোগীকে অকারণেই জরুরী অজুহাতে সিজার করিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছ। সিজারের পর চুক্তির দ্বীগুন টাকা বিল ধরিয়ে দিয়ে টাকা পরিশোধ না করা পর্যন্ত আটকে রাখাহয় রোগীকে। রোগীর অভিভাবক প্রায় তিনঘন্টা দেন দরবার করে চুক্তির বাইরে অতিরিক্ত টাকা পরিশোধ করে রোগীর ছাড়পত্র হাতে পান।  বুধবার ঘটে যাওয়া এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসকদের নিয়ে সমালোচনার ঝড় ওঠে নগরীতে।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী হায়দার আলী সুমন জানান, শহরের চাষাঢ়ার পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টারে বসেন স্যার সলিমউল্লাহ মেডিকেল কলেজ অ্যান্ড মিটফোর্ড হাসপাতালের গাইনি বিশেষজ্ঞ ও সার্জন ডা. পারুল আক্তার। অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর থেকে তার তত্ত্বাবধানে ছিলেন তার স্ত্রী নীলিমা। সবকিছু স্বাভাবিক থাকলেও গত রোববার (১৯ জুন) সিজার করতে হবে বলে চাষঢ়া বালুর মাঠ এলাকায় অবস্থিত হেলথ রিসোর্ট হাসপাতালে নীলিমাকে ভর্তি কারতে বলেন ডাক্তার। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে হাসপাতালের লোকজন ডা. পারুলের সাথে আলাপ করে ১৫ হাজার টাকা অগ্রীম দিতে বলেন। অগ্রীম টাকা দেওয়ার পর তার স্ত্রীকে ইনজেকশন দিয়ে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে যায়। কিছুক্ষণ পরই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানান, ডা. পারুল ঢাকায় এক মিটিংয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ায় তিনি অপারেশন করতে পারবেন না। অন্য ডাক্তার দিয়ে অপারেশন করানো হবে। অপারেশনের আগে বলেছিলেন, টাকা-পয়সা নিয়ে কোন টেনশন করতে হবে না, সব পারুল ম্যাডাম বুঝবেন।

বুধবার দুপুর বারোটায় স্ত্রী ও নবাগত মেয়েকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য ছাড়পত্র চাইলে হাসপাতাল থেকে ওষুধের খরচ ছাড়াও ৫৪ হাজার ৮০০ টাকার বিল ধরিয়ে দেয়। আর অ্যাডভান্স ১৫ হাজার টাকাও বিলে ওঠানো হয়নি। পুরো টাকা পরিশোধে করে ছাড়পত্র নিতে বলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। 

সুমন এসময় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে ডাঃ পারুলের সঙ্গে ঔষধসহ সব কিছু মিলিয়ে ২৫ হাজার টাকায় চুক্তি হয়েছিল বলে জানান। কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে বলেন ডাঃ পারুলের সঙ্গে কথা বলে চুক্তিনুযায়ীই এ বিল ধরা হয়েছে। এসময় ডাঃ পারুলের সঙ্গে যোগাযোগ কররা চেষ্টা করলে তার ও অ্যাসিসটেন্ট দুজনেরই মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়। 

পরে এ নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও রোগীর স্বজনদের মধ্যে প্রায় তিন চার ঘন্টা দর কষাকষি করে ৩৫ হাজার টাকা বিল পরিশোধের সমঝোতা হয়। পরে চুক্তির বাইরে অতিরিক্ত ১০ হাজার টাকা দিয়ে বিকেল চারটার দিকে স্ত্রী ও সন্তানকে নিয়ে হাসপাতাল ছাড়েন সুমন। 

হেলথ রিসোর্ট হাসপাতাল অ্যান্ড ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালক আব্দুল মান্নান মোল্লা সাংবাদিকদের বলেন, ডা. পারুল আক্তারেরই অপারেশন করার কথা ছিল। তিনি রোগীকে পাঠিয়েও সময়মতো আসতে পারেননি। পরে আরেকজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দিয়ে অপারেশন করানো হয়। হাসপাতালের পক্ষ থেকে সব ধরনের সুবিধা প্রদান করা হয়েছে। বিলের বিষয়টি ডা. পারুলের সাথে রোগীর লোকজন আগেই চুক্তি করেন। সে অনুযায়ীই বিল করা হয়েছ বলে রোগীর অভিভাবকদের অভিযোগের কথাটি এড়িয়ে যান। 

কৌশলে অতিরিক্ত টাকা আদায়ের এ অভিযোগের খবর ছড়িয়ে পড়লে নগর জুড়ে ব্যাপক আলোচিত হয়। সচেতন মহলের দাবি, জেলার স্বাস্থ্য বিভাগের উর্ধতন কর্মকর্তাদের ঔদাসিনতায় আনাচে কানাচে নামে বেনামে অবৈধ হাসপতাল ক্লিনিক ডায়াগনস্টিক সেন্টার গড়ে উঠেছ। বৈধগুলোর মধ্যেও অনেক প্রতিষ্ঠানের ব্যাপারে অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। চিকিৎসকদের সঙ্গে চুক্তিভিত্তিক রোগীদের অনেক হাসপাতাল ক্লিনিকে রোগী যেতে বাধ্য করা হচ্ছে। সে কারণেই সেবা নিতে গিয়ে মানুষকে নানা ভাবে হয়রানি ও প্রতারণার শিকার হতে হচ্ছে।  


আরও খবর



ড. ইউনূসের মামলার কার্যক্রম দুই মাস স্থগিত

প্রকাশিত:সোমবার ১৩ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 |
Image

শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে গ্রামীণ টেলিকমের চেয়ারম্যান ও নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ দুজনের বিরুদ্ধে করা মামলার কার্যক্রম বিচারিক (নিম্ন) আদালতে দুই মাসের জন্য স্থগিত থাকবে বলে আদেশ দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

পাশাপাশি এই সময়ের মধ্যে তার বিরুদ্ধে করা মামলাটি কেন বাতিল হবে না, এই মর্মে জারি করা রুল নিষ্পত্তি করতে হাইকোর্টকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

সোমবার আগের আদেশ সংশোধন করে আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. নুরুজ্জামান ননীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

এর আগে, ২০২১ সালের ১২ ডিসেম্বর শ্রম আইন লঙ্ঘনের মামলায় ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে মামলার কার্যক্রম স্থগিত করেন হাইকোর্ট। একই আদেশে বিচারপতি মো. হাবিবুল গণি ও বিচারপতি মো. রিয়াজ উদ্দিন খানের হাইকোর্ট বেঞ্চ গ্রামীণ টেলিকমের পরিচালক নুরজাহান বেগমের বিরুদ্ধে মামলার কার্যক্রমও স্থগিত করেন।

পরে হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে আপিল আবেদন জানান রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা। ওই আবেদনের শুনারি নিয়ে ড. ইউনূসের বিরুদ্ধে মামলার কার্যক্রম স্থগিত করে আজ আদেশ দেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে মামলাটি কেন বাতিল ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেন আদালত।

২০২১ সালের ৯ সেপ্টেম্বর শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে গ্রামীণ টেলিকমের চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ চারজনের বিরুদ্ধে ঢাকার তৃতীয় শ্রম আদালতে মামলা করেন কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তরের শ্রম পরিদর্শক আরিফুজ্জামান। পরে মামলার বিবাদীদের হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করেন আদালত।

এ মামলার অন্য আসামিরা হলেন- গ্রামীণ টেলিকমের এমডি আশরাফুল হাসান, পরিচালক নুর জাহান বেগম ও শাহজাহান। পরে এই তিন আসামিও পৃথকভাবে মামলার আবেদন করেন।

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা ড. ইউনূসের গ্রামীণ টেলিকম পরিদর্শনে যান। সেখানে গিয়ে তারা শ্রম আইনের কিছু লঙ্ঘন দেখতে পান। এর মধ্যে ১০১ জন শ্রমিক-কর্মচারীকে স্থায়ী করার কথা থাকলেও তাদের স্থায়ী করা হয়নি।

এছাড়া শ্রমিকদের অংশগ্রহণ ও কল্যাণ তহবিল গঠন করা হয়নি। কোম্পানির লভ্যাংশের পাঁচ শতাংশ শ্রমিকদের দেওয়ার কথা থাকলেও সেটিও মানা হয়নি। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইনে এ মামলা করা হয়।


আরও খবর