Logo
শিরোনাম

পানি বেড়ে ডুবছে গ্রাম ও শহর

প্রকাশিত:শুক্রবার ১৭ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:বুধবার ১০ আগস্ট ২০২২ |
Image

মইনুল ইসলাম মিতুল:  অতিবৃষ্টি ও উজানের ঢলে চতুর্থ দফায় নদণ্ডনদীর পানি বাড়ছে দেশের উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে। সুরমা কুশিয়ারা ও সারি নদীর পানি বেড়ে সিলেটের বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। নদীর পাড় উপচে শহরে পানি ঢুকে পড়ায় বিভিন্ন এলাকার বাসবাড়ি তলিয়ে গেছে। সুনামগঞ্জের অসংখ্য রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্লাবিত হয়েছে। পানিতে তলিয়ে গেছে কুড়িগ্রামের রৌমারী স্থলবন্দর এলাকা; বন্ধ রয়েছে আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যও। এতে বেকার হয়ে পড়েছেন বন্দরের প্রায় ৬০০০ শ্রমিক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। আর ১৫ গ্রাম ও চরের তিন সহস্রাধিক পরিবার বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে নীলফামারীতে। এমন অবস্থায় এসব জেলার বন্যাকবলিত পরিববারগুলো দীর্ঘস্থায়ী দুর্ভোগের শঙ্কা করছেন।

বন্যার্তরা জানিয়েছেন, দ্বিতীয় দফায় আবার বন্যা দেখা দেওয়ায় তারা চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। অধিকাংশ এলাকায় বাসাবাড়িতে পানি ঢুকে পড়ছে। রাস্তাঘাট ডুবে যাওয়ায় অনেকে যোগাযোগবিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছেন। খবর প্রতিদিনের সংবাদ প্রতিনিধিদের।

সিলেট : পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সিলেট কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলার প্রধান দুই নদী সুরমা কুশিয়ারা ও সারি নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে পানি বেড়েছে। সুরমা নদীর কানাইঘাট পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার শূন্য দশমিক ৯৩ সেন্টিমিটার ও সিলেট পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার শূন্য দশমিক ৩২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ ছাড়া কুশিয়ারা নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার শূন্য দশমিক ৩৩ সেন্টিমিটার এবং সারি নদের সারিঘাট পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার শূন্য দশমিক ৪৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ ছাড়া জেলার অন্য নদণ্ডনদীর পানিও ক্রমশ বাড়ছে।

স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, জেলার কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর, কানাইঘাট ও সদর উপজেলার অন্তত ৫০০ গ্রাম বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকার একাধিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সরকারি-বেসরকারি কার্যালয়ের ভেতরে পানি ঢুকে পড়ায় স্বাভাবিক কার্যক্রম বিঘ্নিত হয়েছে। এর বাইরে সিলেট নগরের অন্তত ৮ থেকে ১০টি এলাকা পানিতে তলিয়ে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

এদিকে কোম্পানীগঞ্জ ও গোয়াইনঘাট উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ও গ্রামের সংযোগসড়ক পানিতে তলিয়ে আছে। এসব রাস্তা দিয়ে যানবাহনের বদলে মানুষজন নৌকায় চলাচল করছেন। বিকাল পর্যন্ত নগর ও পাঁচটি উপজেলায় অন্তত চার থেকে সাড়ে চার লাখ মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় আছেন।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, সিলেট নগরের তালতলা, জামতলা, সোবহানীঘাট, তেরোরতন, উপশহর, কালীঘাটসহ বেশ কয়েকটি এলাকায় সুরমার পাড় উপচে পানি ঢুকে পড়ায় আকস্মিক বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। এসব এলাকার রাস্তাঘাট পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় মানুষজন ভোগান্তি পোহাচ্ছেন। অনেক বাসাবাড়ি ও দোকানে পানি উঠেছে। কোথাও কোথাও হাঁটুপানি দেখা গেছে। ঘরের ভেতরে পানি ওঠায় অনেকে আত্মীয়ে বাড়ি সরে যাচ্ছেন। সিলেটের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ সাঈদ আহমদ চৌধুরী বলেন, ২৪ ঘণ্টায় সিলেটে সর্বোচ্চ ১৪৩ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়েছে। চলতি সপ্তাহে কমণ্ডবেশি বৃষ্টিপাত হবে। তবে ১৯ ও ২০ জুন বেশি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

সিলেটের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. আনোয়ার সাদাত জানান, প্রয়োজনীয় স্থানে আশ্রয়কেন্দ্র চালুর জন্য সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসন বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।

সুনামগঞ্জ : সুনামগঞ্জ জেলায় বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি হয়েছে। জেলার প্রায় সব উপজেলা বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে। অসংখ্য রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্লাবিত হয়েছে। জেলা সদরের সঙ্গে পাঁচটি উপজেলার সরাসরি সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। জেলায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন লক্ষাধিক মানুষ।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, সুরমার পানি দিরাইয়ের পুরাতন এলাকার পয়েন্টে বিপৎসীমার ২৯ সেন্টিমিটার, ছাতক পয়েন্টে ২ দশমিক ১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এ ছাড়া তাহিরপুর এলাকায় জাদুকাটা নদীর পানি প্রবাহিত হচ্ছে বিপৎসীমার ৬৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের সুনামগঞ্জ কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জহুরুল ইসলাম বলেন, নদণ্ডনদীর পানি দ্রুত বেড়ে যাচ্ছে। তবে বৃষ্টি কমলে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।

জেলা প্রশাসক মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, পানি বাড়ছে, আর পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। জেলার লক্ষাধিক মানুষ এখন পানিবন্দি। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সার্বিক পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

রংপুর : ভারী বর্ষণ এবং উজানের ঢলে তিস্তার পানি বিপৎসীমা ছুঁয়েছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের কন্ট্রোল রুম সূত্রে জানা গেছে বৃহস্পতিবার সকাল ৬টার দিকে তিস্তা ব্যারেজ পয়েন্টে নদীর পানি বিপৎসীমার দশমিক ৬৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। তবে সকাল ৯টায় তা বেড়ে বিপৎসীমা ছুঁয়েছে।

এদিকে গঙ্গাচড়ার ছয় ইউনিয়ন ও নদী তীরের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এরই মধ্যে ৩০ গ্রামের ২৫ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

গঙ্গাচড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, তিস্তার পানি বাড়ায় লক্ষ্মীটারি, কোলকোন্দ, মর্নেয়া নোহালী ও আলম বিদিতর ইউনিয়নের ৩০ গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা লক্ষ্মীটারি ইউনিয়নের। এ ইউনিয়নের বিনার চর, শংকরদাহসহ বেশ কয়েকটি দুর্গম চরাঞ্চলের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন।

এদিকে তিস্তা নদীর পানি বাড়ার কারণে চরাঞ্চলের শত শত হেক্টর জমির বাদাম নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

লক্ষ্মীটারি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল হাদী বলেন, অসময়ে তিস্তা নদীর পানি বাড়ায় ইউনিয়নের অনেক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। এছাড়া বাদামসহ বেশ কিছু ফসলের ক্ষতি হয়েছে।

গঙ্গাচড়ার ইউএনও এরশাদ উদ্দিন বলেন, পানি বেড়ে যাওয়ায় নদী তীরবর্তী ও দুর্গম চরাঞ্চলের মানুষকে সতর্ক থাকার জন্য পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিভিন্ন এলাকায় সহায়তা পৌঁছাতে কাজ চলছে।

নীলফামারী : তিস্তা নদীর পানি বাড়ায় ডিমলা উপজেলার তিস্তাবেষ্টিত পূর্ব ছাতনাই, টেপাখড়িবাড়ি, খগাখড়িবাড়ি, খালিশাচাপানী, ঝুনাগাছ চাপানী ও গয়াবাড়ি ইউনিয়নের প্রায় ১৫টি গ্রাম ও চরের তিন সহস্রাধিক পরিবার বন্যাকবলিত হয়ে পড়েছে।

উপজেলার পূর্ব ছাতনাই ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান আবদুল লতিফ খান বলেন, সকাল থেকে তিস্তার পানি বাড়তে শুরু করে। এতে ইউনিয়নের ঝাড়সিংহেরস্বর, পূর্ব ছাতনাই ও খোকার চরের পাঁচ শতাধিক পরিবার বন্যাকবলিত হয়ে পড়ে। দুপুর সাড়ে ১২টা পর্যন্ত পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকে।

টেপাখাড়িবাড়ির ইউপি চেয়ারম্যান মো. ময়নুল হক বলেন, ইউনিয়নের প্রায় এক হাজার পরিবারের বাড়িঘরে বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে। সকালে স্বপন বাঁধের প্রায় ৫০ মিটার অংশ ভেঙে মসজিদ পাড়ার ১৪০টি পরিবারের বাড়িঘর বন্যাকবলিত হয়।

পানি উন্নয়ন বোর্ড ডালিয়া ডিভিশনের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আসফাউদ্দৌলা বলেন, তিস্তার পানি বৃহস্পতিবার বিপৎসীমা ছুঁয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এ কারণে ব্যারাজের সব কটি (৪৪টি) জলকপাট খুলে রাখা হয়েছে। বর্তমানে পানিপ্রবাহ স্বাভাবিক রয়েছে।

কুড়িগ্রাম : রৌমারী স্থলবন্দর এলাকার রাস্তার দুই পাশে জমে আছে পানি। পানির মধ্যে থরে থরে সাজানো রয়েছে বিভিন্ন আকারের পাথর ও বালু। ডিপোগুলোতে পাথর আছে, পাথর ভাঙার মেশিন আছে, কিন্তু নেই শ্রমিক। নেই কর্মচাঞ্চল্য, নেই মানুষের কোলাহল।

বন্দরের রাজস্ব কর্মকর্তা সৈয়দ আরিফুর রহমান বলেন, বন্দরে যাতায়াতের সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধ হয়ে গেছে। এ কারণে ছয় হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছে। এছাড়া এ কাজের সঙ্গে জড়িত অন্যরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। আর সরকার হারাচ্ছে রাজস্ব। দীর্ঘদিন কর্মহীন থাকায় শ্রমিকদের পরিবারে দেখা দিয়েছে অভাব। অনেকে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহের চেষ্টা করছেন।

রৌমারী উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শেখ আবদুুল্লাহ বলেন, বন্দর অচল হওয়ায় ছয় হাজার শ্রমিক অত্যন্ত অসহায় ও মানবেতর জীবন যাপন করছেন। তাদের দ্রুত সহযোগিতা করা দরকার।


আরও খবর

আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস

মঙ্গলবার ০৯ আগস্ট ২০২২




বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে

ষড়যন্ত্রকারীরা নড়াইলে মানবতাবিরোধী ঘটনা ঘটিয়েছে

প্রকাশিত:সোমবার ১৮ জুলাই ২০২২ | হালনাগাদ:বুধবার ১০ আগস্ট ২০২২ |
Image

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদশে-এর আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম পীর সাহেব চরমোনাই নড়াইলের লোহাগাড়ায় কলেজ ছাত্র কর্তৃক ফেসবুকে মহানবী সা. কে অবমাননা ও সংখ্যালঘুদের বাড়িঘরে হামলার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছেন, বিরাজমান সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বিশ্ব্ব দরবারে নষ্ট করতে ষড়যন্ত্রকারীরা নড়াইলে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাড়িতে কাপুরুষোচিত মানবতাবিরোধী হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে। এমন হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ইসলাম সমর্থণ করে না।

আজ এক বিবৃতিতে পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, নড়াইলের লোহাগাড়ার কলেজ ছাত্র আকাশ সাহা কর্তৃক ফেসবুকে মহানবীকে কটুক্তি করে অবমাননা ও সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর একই সূত্রে গাঁথা। 

তিনি বলনে, জুম্মার নামাজের পর মুসল্লিদের বিক্ষোভের সময় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেনি। বিক্ষোভের ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে স্বার্থান্বেষীরা হীনস্বার্থ হাসিলে স্থানীয় প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িতে হামলা ভাঙচুর করেছে। হামলাকারীরা আগামী জাতীয় নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে কারো এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করে থাকতে পারে। 

পীর সাহেব চরমোনাই আরো বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অবমাননা ও সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার স্ক্রিপট কারা তৈরি করে ইসলাম ও দেশবিরোধী এ ন্যাক্কারজনক ঘটনার পেছনে কলকাঠি নাড়ছে তাদেরকে খুঁজে বের করতে হবে।


আরও খবর



বগুড়ায় ছাত্রলীগের সম্পাদকের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ০৯ আগস্ট ২০২২ | হালনাগাদ:বুধবার ১০ আগস্ট ২০২২ |
Image

বগুড়া প্রতিনিধি ঃ

বগুড়ার সোনাতলা উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক সুজন কুমার ঘোষের বিরুদ্ধে এক গৃহবধূকে ধর্ষণের অভিযোগে উঠেছে। এই ঘটনায় মঙ্গলবার (৯ আগস্ট) বিকেলে সোনাতলা থানায় ৩০ বছর বয়সী ওই নারী মামলা করেছেন।  

অভিযুক্ত সুজন কুমার ঘোষ নামাজখালী গ্রামের সুভাষ ঘোষের ছেলে। 

এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন সোনাতলা থানা পুলিশের ওসি জালাল উদ্দিন। 

মামলা সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী গৃহবধূ দুই সন্তানের জননী। তার স্বামী বগুড়া শহরের একটি তেলের ডিপোতে শ্রমিকের কাজ করেন।  তিনি প্রতিদিন সকালে বাড়ি থেকে বের যান ও রাতে বাড়িতে ফেরেন। 

এই সুযোগে ছাত্রলীগ নেতা সুজন গত তিন বছর ধরে ওই গৃহবধূকে ধর্ষণ করে আসছেন। 

বিষয়টি গোপন রাখার জন্য তিনি দলীয় প্রভাব খাটিয়ে ওই নারীকে জীবন নাশের  হুমকি দিতেন। সর্বশেষ জুলাই মাসের ২৫ তারিখেও সুজন গৃহবধূকে ধর্ষণ করেন। 

এর মধ্যে গৃহবধূ বিষয়টি তার স্বামীকে জানান। পরে আজ মঙ্গলবার সোনাতলা থানায় ওই নারী বাদী হয়ে মামলা করেন। 

ওসি জালাল উদ্দিন জানান, গৃহবধূর অভিযোগের ভিত্তিতে আমরা মামলা গ্রহণ করেছি। অভিযুক্ত ছাত্রলীগ নেতা সুজনকে গ্রেফতারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। 


আরও খবর



নিজের পায়ে উঠে দাঁড়াও, মেরুদণ্ডটা শক্ত করো

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১৪ জুলাই ২০২২ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ০৯ আগস্ট ২০২২ |
Image

অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান চৌধুরীর ফেসবুক থেকে নেয়াঃ

সারা পৃথিবী তোমার বিপক্ষে দাঁড়াতে পারে। পৃথিবীর সব মানুষ একদিকে আর তুমি আরেকদিকে ছিটকে পড়তে পারো। ভেবে দেখেছো এমনটা যদি তোমার জীবনে ঘটে সেটা তোমার জন্য কেমন হতে পারে। কেউ তোমার দিকে তাকাচ্ছে না, কোনো কথা তোমার সাথে বলছে না, সব চেনা মুখ অচেনা হয়ে গেছে। তুমি দরজা-জানালা বন্ধ করে চুপচাপ বসে আছো। কেউ সান্ত্বনা দেবার নেই, কেউ তোমাকে বোঝার মতো নেই, তোমার মাথায় হাত রাখার একটা মানুষ পর্যন্ত নেই। 

দম বন্ধ হয়ে আসছে তোমার, চারপাশটা কেমন অপরিচিত হয়ে উঠেছে। বেঁচে থেকেও মৃত মানুষের মতো জীবন তোমার, নিঃশ্বাস নেই, অক্সিজেন নেই। হাতুড়ি পেটা একটা বিপন্ন অস্থিরতা তোমাকে হাতড়িয়ে বেড়াচ্ছে। আতঙ্ক, নিস্তব্ধতা সবদিকে। তোমার ছায়াটাও সুবিধাবাদী হয়ে তোমাকে ত্যাগ করেছে। কষ্ট আর বোবা কান্নাগুলো তোমাকে কেমন যেন এলোমেলো করে দিয়েছে। 

তোমার সারাজীবনের হাসিমুখ আজ অন্ধকারে ঢেকে গেছে। তোমার সাজানো চুলগুলো এলোমেলো হয়ে বাতাসে ভাসছে। এমন দুঃসময়ে তোমার সুসময়ের বন্ধুদের কথা মনে পড়ছে, আপনজনদের কথা মনে পড়ছে। তোমার বিপক্ষে দাঁড়ানো মানুষদের কথা মনে পড়ছে। খুব ক্লান্ত তুমি। তারপরও তোমার কানে ভেসে আসছে সেই চেনা সুর, অচেনা সময়ের গান: যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চলো রে... 

সবকিছু তোমার প্রতিকূলে, কেবল তুমিই তোমার অনুকূলে। তারপরও নিজের পায়ে উঠে দাঁড়াও, মেরুদণ্ডটা শক্ত করো, ঘুরে দাঁড়াও।

যেদিন সবাই তোমার দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিবে সেদিনও তুমি তোমার বিশ্বাসকে ধরে রেখো। তোমার সাথে কেউ না থাকলেও তোমার আত্মশক্তি তোমার সাথে থাকবে । এই আত্মশক্তি অনেক মানুষের শক্তি থেকেও অনেক বড়। মনে রেখো সব সময় বীরদের একাই লড়তে হয়েছে। হোক সেটা পরিবর্তনের, হোক সেটা ভাবনার, হোক সেটা সততার। 

যেদিন তুমি একা হবে সেদিন তুমি বুঝবে তোমার পথ সঠিক পথ ছিল। অন্যদের পথ সঠিক ছিলো না । তুমি একা, এটাই তোমার শক্তি। তোমার সাথে কেউ নেই, তুমি তোমার সাথে আছো, তোমার নিজের চিন্তার সাথে আছো- এটাই তোমার শক্তি। তুমি যা ভেবেছো, অন্যরা তার ঠিক উল্টো ভেবেছে, এটাই তোমার শক্তি। পৃথিবীতে বেশিরভাগ মানুষ পরিবর্তন আনতে পারে না, কেউ কেউ পারে। তুমি সে পরিবর্তন এনেছো বলে তুমি আজ একা হয়ে পড়েছো। এটা সাময়িক, সুদীর্ঘকালের জন্য হতে পারে না। ফেলে আসা সময় আর ইতিহাস এমন সাক্ষীই দিচ্ছে।  

জেগে উঠো আপন শক্তিতে, ঘর থেকে বের হয়ে সারা পৃথিবীকে  চিৎকার করে জানিয়ে দাও তোমার ব্যক্তিসত্তার কথা, তোমার ভিতরের জ্বলে উঠা ঘুমন্ত শক্তির কথা । গুন্ গুন্ করে সে মহাদুর্যোগেও গেয়ে উঠো জীবনের জয়গান: সঙ্কোচের বিহ্বলতা, নিজেরে অপমান, সঙ্কটের কল্পনাতে হয়ো না ম্রিয়মান। মুক্ত করো ভয়, আপন মাঝে শক্তি ধরো, নিজেরে করো জয়।


আরও খবর

পরাজয় মানুষকে আপন-পর চেনাতে শেখায়

বৃহস্পতিবার ০৪ আগস্ট ২০২২




ডেপুটি স্পিকারের মৃত্যুতে রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর শোক

প্রকাশিত:শনিবার ২৩ জুলাই ২০২২ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ০৯ আগস্ট ২০২২ |
Image
জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার এবং গাইবান্ধা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট ফজলে রাব্বী মিয়ার মৃত্যুতে গভীর শোক ও দুঃখ প্রকাশ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শনিবার সকালে এক শোকবার্তায় রাষ্ট্রপতি বলেন, সংসদীয় গণতন্ত্রের চর্চা ও বিকাশে তার অবদান জাতি শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। সংসদ পরিচালনায় ফজলে রাব্বী মিয়ার দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা বহুদিন থাকবে। এ সময় ফজলে রাব্বী মিয়ার রুহের মাগফিরাত কামনা করে তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান রাষ্ট্রপতি।

এদিকে, এক শোকবার্তায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ছাত্রজীবন থেকেই ফজলে রাব্বী মিয়া আইয়ুববিরোধী আন্দোলন এবং ’৬২-এর শিক্ষা কমিশনবিরোধী আন্দোলনে জড়িত ছিলেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ১১নং সেক্টরে যুদ্ধ করেছিলেন। সংসদীয় গণতন্ত্রে অসামান্য ভূমিকার জন্য তিনি স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

এ সময় মরহুমের বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করে তার শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি আন্তরিক সমবেদনা জানান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শুক্রবার রাত ২টায় (নিউইয়র্কের স্থানীয় সময় বিকেল ৪টা) যুক্তরাষ্ট্রের মাউন্ট সিনাই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়া। তিনি দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ ছিলেন।

আরও খবর

আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস

মঙ্গলবার ০৯ আগস্ট ২০২২




রূপগঞ্জে তিতাসের অভিযানে ৫ হাজার অবৈধ আবাসিক সংযোগ বিচ্ছিন্ন

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১৯ জুলাই ২০২২ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ০৯ আগস্ট ২০২২ |
Image

নিজস্ব সংবাদদাতা( রূপগঞ্জ) 

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের তারাবো পৌরসভার বরপা এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে অভিযান চালিয়ে ৫ হাজার অবৈধ আবাসিক গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ। অভিযানে দুই থেকে তিন কিলোমিটার এলাকা বিস্তৃত অবৈধ আবাসিক গ্যাস সংযোগের দুই ইঞ্চি পাইপ লাইন সংযোগ কেটে উদ্ধার করা হয়। নির্বাহি ম্যাজিষ্ট্রেট উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) আতিকুল ইসলামের নেতৃত্বে 

আজ ( মঙ্গলবার) সকাল এগারোটা থেকে শুরু হয়ে দুপুর পর্যন্ত  এ অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্ন অভিযান চলে। অবৈধ সংযোগে ব্যবহৃত বিপুল পরিমান পাইপ ও রাইজার সরঞ্জাম জব্দ করে তিতাস কর্তৃপক্ষ।

তিতাসের সোনারগাঁ আঞ্চলিক বিপনন বিভাগের ব্যবস্থাপক মেজবাউর রহমান জানান,  রূপগঞ্জে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে বরপা এলাকায় উচ্চ চাপসম্পন্ন গ্যাস পাইপ থেকে আবাসিক ও বানিজ্যিক অবৈধ গ্যাস সংযোগ নেওয়া হয়েছে।

আইনশৃংখলা বাহিনীর সহায়তায় ও ভ্রাম্যমান আদালত অবৈধ সংযোগগুলো বিচ্ছিন্ন করনে অভিযান চালায়। 

এখন পর্যন্ত ৫ হাজার অবৈধ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়েছে। যত বাধাই আসুক তিতাসের অবৈধ গ্যাস সংযোগ বিচ্ছিন্নকরণ অভিযান অব্যাহত থাকবে। 


আরও খবর