Logo
শিরোনাম

পদ্মা সেতু উদ্বোধন উৎসবের জন্য প্রস্তুত

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১৪ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ০৩ জুলাই ২০২২ |
Image

মইনুল ইসলাম মিতুল:  প্রমত্তা পদ্মার বুকে এখন স্বগর্বে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের ইতিহাসের দীর্ঘতম সেতু- স্বপ্নের পদ্মা সেতু। দেশ-জাতির সক্ষমতার প্রতীক পদ্মা সেতু এখন উদ্বোধনের পালা। আর মাত্র ১০ দিন পরই খুলে দেওয়া হবে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে দক্ষিণ বাংলাকে এক সুতোয় গেঁথে দেওয়া এই সেতুটি। পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানকে উৎসবে রূপ দিতেই এখন সব ব্যস্ততা। সেতুর দুই পাড়েই শুধু নয়, উৎসব ছড়িয়ে দেওয়া হবে দেশজুড়ে। তাই প্রতিদিনই সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সেতু এলাকা পরিদর্শনে যাচ্ছেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সফল করতে কার কী দায়িত্ব তা বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে। টুকটাক যেসব কাজ বাকি আছে, তাও আগামীকালের মধ্যে শেষ হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। গতকাল সোমবার মাওয়া প্রান্তে গিয়ে সরেজমিনে দেখা গেছে, পদ্মা সেতুকে সাজিয়ে-গুছিয়ে নিতে শেষ মুহূর্তের কর্মযজ্ঞ। অন্য দিকে দেখা গেছে পদ্মা সেতু দেখতে আসা উৎসুক মানুষের ভিড়।

দুর্নীতিচেষ্টার ভিত্তিহীন অভিযোগ এনে বিশ্বব্যাংকের মুখ ফিরিয়ে নেওয়া, রাজনৈতিক বাদানুবাদ, গুজব, প্রাকৃতিক প্রতিকূলতাসহ নানা বাধা জয় করে বাংলাদেশের নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত পদ্মা সেতু এখন ঐতিহাসিক বাস্তবতা।

৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পদ্মা সেতু নির্মাণ করে বিশ্বকে নিজের সক্ষমতা জানান দিয়েছে বাংলাদেশ। আগামী ২৫ জুন সেতু উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেতুর দুই পাড়ে তিনি নানা আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেবেন। পরে মাদারীপুরের শিবচরে রাজনৈতিক সমাবেশে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উদ্বোধন অনুষ্ঠানের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে সেতুকে। শেষ মুহূর্তের কাজ চলছে জোরেশোরেই। মূল সেতুর লাইট লাগানোর কাজ শেষ পর্যায়ে। কিছু কিছু জায়গায় ধোয়া-মোছার কাজ চলছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থাও খতিয়ে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। সেতু উদ্বোধন ঘিরে দুই পাড়ের মানুষের মধ্যে দেখা গেছে বিপুল উৎসাহ ও উদ্দীপনা। এতে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উৎসুক মানুষের ঢল সামাল দেওয়া নিয়েও আলোচনা চলছে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে।

সেতু বিভাগ সূত্র জানায়, মাওয়ায় সুধী সমাবেশের স্থান, দুই প্রান্তের ম্যুরাল ও ফলক উন্মোচনের স্থানসহ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেসব স্থানে যাবেন, এর সবকটি ঘুরে দেখছেন সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা।

সেতু বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের দিন দুই পাড়ে অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা থাকবে। জরুরি স্বাস্থ্যসেবার প্রয়োজন হলে দুই পাড়েই পদ্মা সেতু প্রকল্পের অধীন পুনর্বাসন এলাকার পাঁচটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র ব্যবহার করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উদ্বোধনী অনুষ্ঠান উপলক্ষে সেতু বিভাগ ১৮টি উপকমিটি করেছে। এসব কমিটি প্রতিদিনই নিজেদের মধ্যে বৈঠক করছে। এর মধ্যে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য এরই মধ্যে প্রায় তিন হাজার অতিথির তালিকা তৈরি করা হয়েছে। তাদের প্রত্যেকের জন্য দাওয়াতপত্র তৈরির কাজ চলছে।

পদ্মা সেতু প্রকল্পের পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, পদ্মা সেতু উদ্বোধনের জন্য প্রস্তুত। এখন সবকিছু ঠিকঠাক আছে কি না তা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কোনো সমস্যা থাকলে তা সমাধান করা হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পদ্মা সেতু উদ্বোধনকে ঘিরে বর্ণাঢ্য আয়োজন করতে যাচ্ছে সরকার ও ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিতে পদ্মা সেতু যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আওয়ামী লীগ। সারা দেশে ২৩ জুন প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এবং ২৫ জুন পদ্মা সেতুর উদ্বোধন যুগপৎভাবে পালন করবে দলটি।

পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে খুবই জমকালো। মূল উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ৬৪টি জেলাতেও দেখানোর ব্যবস্থা থাকবে। অর্থাৎ দেশজুড়ে উৎসব পালন করা হবে। ২৫ জুন সকাল ১০টায় মুন্সীগঞ্জের মাওয়া প্রান্তে পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর সেতু পেরিয়ে জাজিরা প্রান্তে যাবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ প্রান্তের টোল প্লাজার সামনে উদ্বোধনী ফলক উন্মোচনের পর তিনি যোগ দেবেন দলীয় জনসভায়। মাদারীপুরের শিবচরের কাঁঠালবাড়ীতে উদ্বোধনী জনসভার মঞ্চটি করা হচ্ছে পদ্মা সেতুর আদলে। এরই মধ্যে ঢাকা ও পদ্মার দুই পাড়ের জেলাগুলোর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন। জনসভায় ১৫ থেকে ২০ লক্ষাধিক লোকের উপস্থিতি প্রত্যাশা করছে আওয়ামী লীগ।

দলীয় সূত্র মতে, প্রথমে নৌকার আদলে জনসভার মঞ্চ করার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদ্মা সেতুর আদলে মঞ্চ তৈরির নির্দেশনা দিয়েছেন। ফলে শুধু পদ্মা সেতু উদ্বোধনই নয়, মঞ্চেও চমক থাকবে পদ্মার।

মঞ্চের সামনে থেকে দেখে মনে হবে অবিকল পদ্মা সেতুর ওপর মূল জনসভা করা হচ্ছে। পদ্মা সেতু যে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার সাহসের প্রতীক তা প্রমাণ করতেই এ উদ্যোগ বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা। জনসভার পর ফানুস উড়ানো থেকে শুরু করে জমকালো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। সেতুর পাশাপাশি সাজানো হচ্ছে দুই পাড়ের পুরো এলাকা। এ দিন নদীতেও থাকবে সুসজ্জিত নৌকা। ক্ষমতাসীনদের প্রত্যাশা, শুধু পদ্মা সেতুর দুই পাড়ের মানুষই নয়, উদ্বোধনের দিন সারা দেশের মানুষ এই আনন্দ উৎসবে অংশ নেবে। কেউ সমাবেশস্থলে এসে, আবার কেউ টেলিভিশনের মাধ্যমে, আবার কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উৎসবে মেতে উঠবেন। পাশাপাশি দেশের প্রতিটি জেলা-উপজেলা, ইউনিয়ন পর্যন্ত আনন্দ মিছিল, শোভাযাত্রা, আতশবাজিসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আনন্দ উৎসব করা হবে।

উদ্বোধনের আগে সেনাবাহিনী মূল সেতু এলাকায় কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। ঢাকা থেকে পদ্মা সেতু দেখতে আসা মাইমুনা আক্তার বলেন, ‘পদ্মা সেতু হয়ে গেছে শুনে দেখতে আসলাম। কিন্তু নৌকাতেও সেতুর নিচে যেতে দিচ্ছে না। দূর থেকে দেখা যাচ্ছে। তাও অনেক ভালো লাগছে। গর্বে বুকটা ভরে যাচ্ছে। আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানাই।’

পদ্মা সেতু সর্বশেষ অবস্থা জানাতে রবিবার সেতু এলাকাসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ড সরেজমিনে পরিদর্শন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুর-ই-আলম চৌধুরী, পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীমসহ একটি প্রতিনিধি দল।

সেতুর সর্বশেষ পরিস্থিতি জানিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা এই সেতু নির্মাণ করে বিশ্বকে জানিয়ে দিয়েছেন বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ দুর্নীতি করে না। তিনি বলেন, এই সেতু আমাদের সামর্থ্য ও সক্ষমতার সেতু। এই সেতু এক দিকে সম্মান ও মর্যাদার প্রতীক, অন্য দিকে তথাকথিত দুুর্নীতির কথা বলে যে অপমান করা হয়েছে, সেই প্রতিশোধের সেতু।

তিনি জানান, পদ্মা সেতু উদ্বোধন উপলক্ষে ২৫ জুন সকাল ১০টায় মাওয়া প্রান্তে কূটনৈতিকসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষদের নিয়ে সুধী সমাবেশ করা হবে। এখানে পদ্মা সেতুর ফলক উন্মোচন করা হবে। বেলা ১১টার পর শেখ হাসিনা পদ্মা সেতু পাড়ি দিয়ে ওপারে আরেকটি ফলক উন্মোচন করবেন। তারপর কাঁঠালবাড়ীতে লাখ লাখ মানুষের সমাবেশে দেশবাসীর সামনে কথা বলবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।


আরও খবর



রিলিফ নয় নদী খনন ও স্থায়ী নদীতীর রক্ষর বাধ চান লালমনিরহাট বাসি

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ২৩ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ০৩ জুলাই ২০২২ |
Image

লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধি ঃ

 কমতে শুরু করেছে তিস্তা ও ধরলার পানি

লালমনিরহাটে চলমান বন্যা পরিস্থিতির খানিকটা উন্নতির পথে তিস্তা ধরলায় বিপদসীমার ৪৫ ও  ৫০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে পানি বইছে তবে নিচু এলাকার মানুষজন এখনো পানিবন্দি আছে । লালমনিরহাট তিস্তা ধরলা পারেন মানুষজন সরকার কিংবা কোনো ব্যক্তির কাছে রিলিজ স্লিপ চান না তারা চান নদী খনন সহ নদীর পাড় ভাঙ্গন রোধে স্থায়ী বন্দোবস্ত। অপরদিকে বানভাসি সেই সকল মানুষের পয়োনিষ্কাশন সহ বিশুদ্ধ পানির অভাব চরম পর্যায়ে। স্বাস্থ্য বিভাগ ও জনসাস্থ বিভাগের পক্ষ থেকে পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট কিংবা ভালবাসি ওই এলাকার উঁচু জায়গায় কোথাও গভীর নলকূপ স্থাপন করতে দেখা যায়নি। 

মোগলহাট ইউনিয়নের ভূমিকা গ্রামের বাসিন্দা আমিনা বেগম জানান যে ত্রাণ  মানুষের কোন কাজে আসে না সেই রিলিফ নয় নদী খনন ও স্থায়ী নদীতীর রক্ষর বাধ চান ।

অপরদিকে সরকারি সাহায্যের ১০ কেজি করে চাল কিছুসংখ্যক বানভাসি পরিবার পেলেও এখনো অনেক মানুষ তার আওতায় আসেনি। এছাড়াও চাহিদার চেয়ে অপ্রতুল বরাদ্দ আছে এমনটা অভিযোগ স্থানীয় অনেক জনপ্রতিনিধিদের।  ১০ কেজি করে চাল বরাদ্দ হলেও বানভাসিদের অভিযোগ তারা পাননি শিশুখাদ্যের বরাদ্দ সহ গবাদিপশুর খাবার।

তিস্তার ও ধরলার পানি কমতে শুরু করেছে, আপাতত বন্যার পানি বিপদ সীমার নিচে । নদীপারের নিম্নাঞ্চলের মানুষজন বিশুদ্ধ পানি সহ শিশু গবাদিপশুর খাবার সংকটে রয়েছে। এসকল ভুক্তভোগী নদীপাড়ের মানুষজন বলেন কেউ পাবে কেউ পায় না এমন রিলিফ, সিলিপ নয়,নদী খনন ও ভাঙনরোধে স্থায়ী বন্দোবস্ত চান।


আরও খবর



রাস্তার পাশ থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশিত:শুক্রবার ১০ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 |
Image

অনুপ সিংহ,নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ

নোয়াখালী সুবর্ণচর উপজেলা থেকে পুলিশ এক অজ্ঞাত (৫৫) ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে।  

শুক্রবার (১০ জুন) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার সোনাপুর -চেয়ারম্যানঘাট আঞ্চলিক মহাসড়কের চরজুবিলী ইউনিয়নের ৮নম্বর ওয়ার্ডের  ফায়ার সার্ভিস এলাকা থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। তবে তাৎক্ষণিক নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ এবং স্থানীয়রা। 

স্থানীয় বাসিন্দা সোহেল জানান,প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগ রাতের কোনো এক সময় যানবাহনের ধাক্কায় ওই ব্যক্তি মারা যায়। সকাল ৭টার দিকে স্থানীয় লোকজন রাস্তার পাশে লাশটি পড়ে থাকতে দেখে থানায় খবর দেন। পরে সকাল ৮টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেন চরজব্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক। তিনি বলেন,মৃত ব্যক্তির মানসিক ভারসাম্যহীন ছিল। দিনের বেলায় উপজেলার বিভিন্ন স্থানে তাকে ঘুরাঘুরি করতে অনেকে দেখেছেন। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ নিহত ব্যক্তির নাম ঠিকানা জানতে চেষ্টা চালাচ্ছে।


আরও খবর



তিস্তার পানি বেড়ে ফের বিপদসীমার উপরে

প্রকাশিত:সোমবার ২০ জুন ২০22 | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 |
Image

লালমনিরহাটে তিস্তা নদীর পানি পুনরায় বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ২৮ সেন্টিমিটার ও ধরলার পানি বিপৎসীমার ৬ সেন্টিমিটারের উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে ভয়াবহ বন্যার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সোমবার দুপুর ১২টায় তিস্তার ডালিয়া পয়েন্টে ও ধরলার শিমুলবাড়ি পয়েন্টে এ পানিপ্রবাহ রেকর্ড করা হয়। হঠাৎ এমন পানি বৃদ্ধিতে তিস্তার তীরবর্তী অঞ্চলে ভয়াবহ বন্যার রূপ ধারণ করছে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় সব ধরনের প্রস্তুতি নিয়েছে জেলা প্রশাসন।

জানা যায়, ভারী বর্ষণ আর উজানের ঢলে গত সপ্তাহ থেকে লালমনিরহাটের তিস্তা, ধরলা, রত্নাই, সানিয়াজান নদীর পানি উঠানামার মধ্যে রয়েছে। তিস্তার পানি শনিবার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার উপরে উঠলে গতকাল রবিবার তা নেমে ৫ সেন্টিমিটারের নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়। সোমবার (২০ জুন) সকাল থেকে পানি দ্রুত বাড়তে থাকে এবং দুপুর ১২টা থেকে আবারও তীব্র গতিতে পানি বৃদ্ধি শুরু হয়ে ডালিয়া ব্যারেজ পয়েন্টে বিপৎসীমার ২৮ সে.মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ধরলার শিমুল বাড়ি পয়েন্ট এলাকায় ৬ সে. মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

চলমান বন্যায় তিস্তা নদীর দুই তীরের নিম্নাঞ্চলে পানিবন্দী হয়ে আছে হাজার হাজার পরিবার। রবিবার কিছুটা কমে রাস্তাঘাট থেকে পানি নেমে গেলেও অনেক বসতবাড়িতে হাঁটু পানি ছিল, কিন্তু সোমবার (আজ) আবার পানি বৃদ্ধি পেতে শুরু করেছে। কয়েকদিন ধরেই নানান দুর্ভোগে দিন কাটাচ্ছেন তিস্তা পারের লোকজন। নতুন করে পানি বৃদ্ধিতে এসব এলাকায় ভয়াবহ বন্যা দেখা দিলে চরম খাদ্য সংকটে পড়বে। এ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন বানভাসি মানুষ।

আদিতমারী মহিষখোচা এলাকার লোকমান হোসেন বলেন, কয়েকদিন থেকে পানি বাড়ছে আর কমছে। এখনো পানি পুরোপুরি নেমে যায়নাই। কস্ট করে দিন কাটাচ্ছি। আবারও বন্যা হলে নিরুপায় হয়ে পড়বো আমরা।

জেলা প্রশাসন ও পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, বন্যার্তদের সহযোগিতায় সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। শুকনো খাবারসহ নগদ অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে। নদী ভাঙনে জিও ব্যাগ ও তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

আদিতমারী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মফিজুল ইসলাম বলেন, উপজেলার মহিষখোচা, দুর্গাপুর, ভাদাই ইউনিয়নের পানিবন্দী লোকজনের তালিকা করে সাহায্য করা হচ্ছে। বন্যাদুর্গতদের সকল সহযোগিতা অব্যাহত আছে। নতুন করে বন্যার বিষয়ে আমরা সজাগ রয়েছি।

লালমনিরহাট জেলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মিজানুর রহমান বলেন, তিস্তা ও ধরলার পানি বেড়ে আজ বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। নদী ভাঙন রোধে বিভিন্ন জায়গায় জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। এছাড়াও জরুরি প্রয়োজনে যেকোনো পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।


আরও খবর



হত্যাচেষ্টা মামলা; চিত্রনায়িকা একার বিরুদ্ধে চার্জশিট গ্রহণ

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২১ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 |
Image

রাজধানীর হাতিরঝিল থানায় দায়ের করা হত্যাচেষ্টা মামলায় চিত্রনায়িকা সিমন হাসান একার বিরুদ্ধে চার্জশিট গ্রহণ করেছেন আদালত।

গতকাল সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট শহিদুল ইসলামের আদালত এ চার্জশিট গ্রহণ করেন। বিচারের জন্য প্রস্তুত হওয়ায় মামলাটি বদলির আদেশ দেওয়া হয়েছে বলে জানান হাতিরঝিল থানার আদালতের সাধারণ নিবন্ধন শাখার কর্মকর্তা সাব-ইন্সপেক্টর এস এম মনিরুজ্জামান।

গত ২৪ এপ্রিল একাকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করেন তদন্ত কর্মকর্তা হাতিরঝিল থানার সাব-ইন্সপেক্টর (নিরস্ত্র) মো. ফয়সাল।

এর আগে, মাদক মামলায়ও একার বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করে পুলিশ। মামলাটি বর্তমানে বিচারাধীন। দুই মামলায় একা জামিনে আছেন।

গত ৩১ জুলাই গৃহকর্মীকে নির্যাতনের অভিযোগে নায়িকা চিত্রনায়িকা একাকে আটক করে পুলিশ। গত ১ আগস্ট আদালত একার জামিন ও রিমান্ড নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছিলেন। পরে দুই মামলায় জামিন পেয়ে কারামুক্ত হন একা।


আরও খবর

শিশুদের সিনেমায় মিথিলা

শুক্রবার ০১ জুলাই ২০২২




বন্যা পরিস্থিতির আরো অবনতি

প্রকাশিত:রবিবার ১৯ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 |
Image

মইনুল ইসলাম মিতুল :  টানা বর্ষণ ও অব্যাহত পাহাড়ি ঢলে সিলেটে বেড়েই চলেছে বন্যার পানি। এরই মধ্যে সিলেট নগরী ও অনেক উপজেলার বিস্তীর্ণ অঞ্চল পানিতে পুরোপুরি ডুবে গেছে। গতকাল শনিবারও টানা বর্ষণে নতুন করে প্লাবিত হয়েছে সিলেট নগরীর বাকি এলাকা। পুরো সিলেট বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বন্ধ রয়েছে ট্রেন যোগাযোগ।

এ ছাড়া গতকাল সকালে সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ, জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট, কানাইঘাট, সদর উপজেলাসহ আরো অনেক এলাকা প্লাবিত হয়েছে। বন্যাদুর্গতদের উদ্ধারে সেনাবাহিনীর সঙ্গে নৌবাহিনী ও ফায়ার ব্রিগেড সদস্যরা মাঠে নেমেছেন।

গতকাল শসকাল থেকে নৌবাহিনীর ৩৫ জন সদস্য দুটি টিমে বিভক্ত হয়ে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। নৌবাহিনীর সদস্যরা নিজস্ব ক্রুজ ও বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টার ব্যবহার করছেন। বিকালে ৬০ জনের আরেকটি দল এবং আরো ক্রুজ ও হেলিকপ্টার উদ্ধার কাজে যুক্ত হয়েছে।

বন্যার পানি ওঠায় পানিতে তলিয়ে গেছে কুমারগাঁও বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র। ফলে পুরো সিলেট বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন হওয়ায় মোবাইল টেলিফোন নেটওয়ার্কও পাচ্ছেন না বন্যাদুর্গতরা। এদিকে ভয়াবহ অবস্থা দেখা দিয়েছে সিলেটের জকিগঞ্জ-কানাইঘাট উপজেলায়। প্রথম দফা বন্যায় সুরমা-কুশিয়ারা নদীর অন্তত ১৫ স্থানে ভেঙে যাওয়া ডাইক মেরামত না করায় ফের ভাঙা অংশ দিয়ে প্রবল বেগে পানি ঢুকছে লোকালয়ে। গত শুক্রবার সকাল থেকে সুরমা-কুশিয়ারা নদীর অন্তত ৫টি স্থান দিয়ে পানি ঢুকছে। গতকাল নতুন করে প্লাবিত হচ্ছে অনেক এলাকা।

বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন পুরো সিলেট : সিলেট কুমারগাঁও গ্রিড উপকেন্দ্রে বন্যার পানি উঠে যাওয়ায় পুরো সিলেট ও সুনামগঞ্জ জেলার বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। গতকাল দুপুর সোয়া ১২টার দিকে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। বিদ্যুৎ বিভাগের সিলেটের প্রধান প্রকৌশলী আবদুল কাদের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি বলেন, পানি উঠে যাওয়ায় আপাতত সাবস্টেশনটি বন্ধ করা হয়েছে। তবে আমরা চেষ্টা করছি পানি সেচে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এটি আবার চালু করতে। এর আগে গত বৃহস্পতিবার রাত থেকে এই সাবস্টেশনে পানি উঠতে শুরু করে। গত শুক্রবার দুপুর থেকে এই কেন্দ্র সচল রাখতে যৌথভাবে কাজ শুরু করে সেনাবাহিনী, বিদ্যুৎ বিভাগ, ফায়ার সার্ভিস ও সিটি করপোরেশন। বিদ্যুৎ কেন্দ্রের চারপাশে বাঁধ নির্মাণ করেন তারা। তবে পানি দ্রুত বাড়তে থাকায় বন্ধ করে দিতে হলো উপকেন্দ্রটি।

ভাঙা ডাইক এখন মরণফাঁদ : জকিগঞ্জ-কানাইঘাট উপজেলায় ভয়াবহ অবস্থা দেখা দিয়েছে। প্রথম দফা বন্যায় সুরমা-কুশিয়ারা নদীর অন্তত ১৫ স্থানে ভেঙে যাওয়া ডাইক মেরামত না করায় ফের ভাঙা ডাইক দিয়ে প্রবল বেগে পানি ঢুকছে লোকালয়ে। গত শুক্রবার সকাল থেকে সুরমা-কুশিয়ারা নদীর অন্তত ৫টি স্থান দিয়ে পানি ঢুকছে। গতকাল শনিবার পর্যন্ত পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় নতুন করে প্লাবিত হচ্ছে অনেক এলাকা।

সরেজমিনে দেখা গেছে, সুরমা নদীর আটগ্রাম এলাকার মরিচা, নালুহাটি ও বড়বন্দ গ্রামে প্রথম দফায় ভেঙে যাওয়া ডাইক দিয়ে প্রবল বেগে পানি লোকালয়ে ঢুকছে। শুক্রবার সকাল থেকে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় মাত্র ১২ ঘণ্টায় নতুন করে প্লাবিত হয়েছে অর্ধশতাধিক গ্রাম। তলিয়ে গেছে গ্রামীণ রাস্তাঘাট।

সেনাবাহিনীর পাশাপাশি উদ্ধার অভিযানে নৌবাহিনী : সিলেটে বন্যাদুর্গত এলাকায় পানিবন্দি লোকজনকে উদ্ধারে কাজে যোগ দিয়েছে নৌবাহিনী। গতকাল সকাল থেকে নৌবাহিনীর ৩৫ জন সদস্য দুটি টিমে ভাগ হয়ে কাজ শুরু করেছে। সিলেট জেলা প্রশাসক মো. মজিবর রহমান এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। উদ্ধার কাজে নৌবাহিনী সদস্যরা নিজস্ব ক্রুজ ও বিমান বাহিনীর হেলিকপ্টার ব্যবহার করছেন। বিকালের মধ্যে ৬০ জনের আরেকটি দল এবং আরো ক্রুজ ও হেলিকপ্টার উদ্ধার কাজে যুক্ত হবে। জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, নৌবাহিনীর ৩৫ সদস্যের একটি দল শুক্রবার রাতেই সিলেট এসে পৌঁছায়। গতকাল সকাল থেকে ৩৫ সদস্যের দল কোস্টগার্ডের একটি ক্রুজ ও বিমানবাহিনীর দুটি হেলিকপ্টার দিয়ে উদ্ধার কাজ শুরু করে। সিলেট সদর উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়নে একটি টিম সকাল থেকে কাজ শুরু করে। আরেকটি টিম কোম্পানীগঞ্জে কাজ শুরু করেছে। জেলা প্রশাসন সূত্র আরো জানায়, আরো দুটি ক্রুজ উদ্ধার কাজে যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে একটি সিলেটে ও অন্যটি সুনামগঞ্জে উদ্ধার কাজে যুক্ত হবে। এদিকে, সেনাবাহিনীর ৯টি ইউনিট সিলেট ও সুনামগঞ্জে উদ্ধার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। গত শুক্রবার বিকাল থেকে তারা সিলেটের ৩টি উপজেলা ও সুনামগঞ্জের ৫টি উপজেলায় উদ্ধার কাজ করছে।

রেকর্ড ভেঙেছে এবার বন্যা : সিলেটে বন্যা দেশের আগের সব রেকর্ড ভেঙেছে। বিভাগের ৮০ শতাংশ এলাকা এখন পানির নিচে। এর মধ্যে সুনামগঞ্জের ৯০ শতাংশ এলাকা ডুবে গেছে। বাকি তিন জেলা শহরের কিছু উঁচু স্থান, পাহাড়ি এলাকা এবং ভবন ছাড়া সবখানে এখন পানি। আগামী দুই দিনে এই পানি আরো বাড়তে পারে বলে জানিয়েছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র বলছে, ১৯৯৮ সালের জুন মাসে সিলেট বিভাগে অনেকটা এমন বন্যা হয়েছিল। কিন্তু এরপর বেশির ভাগ বন্যা মূলত হাওর ও সুনামগঞ্জের নিম্নাঞ্চল পর্যন্ত সীমাবদ্ধ ছিল। ২০১৯ সালে সুনামগঞ্জ ও সিলেট শহরে দু-তিন দিনের জন্য হঠাৎ বন্যা হয়। কিন্তু পুরো সিলেট বিভাগের বেশির ভাগ এলাকা প্লাবিত হওয়ার মতো বন্যা হয়নি।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুজ্জামান ভূইয়া বলেন, দেশের একটি বিভাগের প্রায় ৮০ শতাংশ ডুবে যাওয়ার মতো বন্যা এর আগে বাংলাদেশে হয়নি। সিলেটে এর আগে যত বন্যা হয়েছে তা মূলত হাওর এলাকা ও এর পার্শ্ববর্তী এলাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু এবার গ্রাম, শহর ও উঁচু এলাকা হিসেবে বিবেচিত স্থানগুলোও পানির নিচে চলে গেছে। আর সোমবারের আগে এই পানি নামার সম্ভাবনা কম। কারণ উজানে আগামী দুই দিন অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস আছে।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভূ-উপগ্রহভিত্তিক সংস্থা ইসিএমডব্লিউর পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামীকাল বাংলাদেশের উজানে ভারতের চেরাপুঞ্জিতে ৫০০ থেকে ৬০০ মিলিমিটার বৃষ্টি হতে পারে। এর আগে গত ২৪ ঘণ্টায় সেখানে ৯৭২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে; যা ১২২ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টি। আর গত তিন দিনে সেখানে প্রায় আড়াই হাজার মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এই অল্প কয়েক দিনে এত বৃষ্টির রেকর্ডও গত ১০০ বছরে নেই।

রানওয়েতে পানি, ফ্লাইট শিডিউল পরিবর্তন

ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রানওয়েতে পানি উঠে যাওয়ার কারণে সিলেট-লন্ডন ফ্লাইটের শিডিউলে পরিবর্তন আনা হয়েছে। গতকাল ও আজকের দুটি ফ্লাইট পিছিয়ে আগামী ২১ ও ২৩ তারিখে নেওয়া হয়েছে। গতকাল এ তথ্য জানিয়েছেন সিলেট এমএজি ওসমানী বিমানবন্দরের ব্যবস্থাপক হাফিজ আহমদ। তিনি বলেন, শনিবার ও রবিবার সিলেট-লন্ডন রুটে বিমানের দুটি ফ্লাইট ছিল। কিন্তু ওসমানী বিমানবন্দরের রানওয়েতে পানি উঠে যাওয়ায় এসব ফ্লাইট শিডিউল পরিবর্তন করা হয়েছে। ১৮ তারিখের ফ্লাইট ২১ তারিখ এবং ১৯ তারিখের ফ্লাইট ২৩ তারিখ যাবে। এর আগে শুক্রবার বিকালে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সব ধরনের বিমান চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হয়।

সিলেট রেলওয়ে স্টেশন বন্ধ ঘোষণা

বন্যার পানি ঢুকে পড়ায় বিমানবন্দরের পর এবার সিলেট রেলস্টেশনও বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার মাইজগাঁও রেলস্টেশন থেকে ট্রেন চলবে। গতকাল দুপুর দেড়টার দিকে স্টেশন বন্ধ ঘোষণা করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিলেট রেলস্টেশন ম্যানেজার মো. নুরুল ইসলাম।

তিনি জানান, এরই মধ্যে রেলস্টেশনের মূল প্ল্যাটফরমে বন্যার পানি ঢুকে পড়েছে। স্টেশনে কোনো ট্রেন ঢুকতে পারছে না। তাই রেলস্টেশন বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে বিকল্প হিসেবে মাইজগাঁও রেলস্টেশন থেকে ট্রেন চলাচল করবে।

সিলেট-সুনামগঞ্জের পর হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জ ও নবীগঞ্জে বন্যা দেখা দিয়েছে। কালনী-কুশিয়ারাসহ বিভিন্ন নদণ্ডনদীর পানি দ্রুত বাড়ছে। প্রতিনিয়ত প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা। এরই মধ্যে জেলার দুই উপজেলার অন্তত ৪০টি গ্রামের হাজারো পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন। তাদের আশ্রয়ণ কেন্দ্রে নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বন্যার্তদের মধ্যে খাদ্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। আজমিরীগঞ্জ-পাহারপুর ও আজমিরীগঞ্জ-কাকাইলছেও সড়ক ডুবে যাওয়ায় দুটি ইউনিয়নের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে।



আরও খবর