Logo
শিরোনাম

পর্দা উঠছে কান চলচ্চিত্র উৎসবের

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১৪ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২১ জুন ২০২৪ |

Image

প্রতি বছর ফ্রান্সের দক্ষিণ উপকূলীয় শহরে বসে চলচ্চিত্র দুনিয়ার সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ আসর কান চলচ্চিত্র উৎসব। সেই ধারাবাহিকতায় এবারের কান উৎসব ২০২৪-এর ৭৭তম আসরের পর্দা উঠছে আজ মঙ্গলবার। শোবিজ দুনিয়ার অন্যতম বড় চলচ্চিত্র উৎসব এটি।

ফ্রান্সের পালে দ্য ফেস্টিভ্যাল ভবনের গ্র্যান্ড থিয়েটার লুমিয়েরে জমকালো আয়োজনে বসবে এই আসর। এ উপলক্ষে কান শহরে জড়ো হচ্ছেন বিশ্বের বড় বড় চলচ্চিত্র তারকারা।

প্রতি বছরই বাছাই করা বেশ কিছু চলচ্চিত্র দেখানো হয় এই উৎসবে। এবারের তালিকায় কিছু ভারতীয় সিনেমাও রয়েছে। প্রদর্শিত হবে পায়েল কাপাডিয়ার অল উই ইমাজিন অ্যাজ লাইট ও শ্যাম বেনেগালের মন্থন

এছাড়া এই তালিকায় রয়েছে আরো বেশ কয়েকটি সিনেমা। সেই সিনেমাগুলোর মধ্যে রয়েছে—‘অল উই ইমাজিন অ্যাজ লাইটসিনেমার কথা। মুম্বাইয়ের একজন নার্সের জীবনের ওপর র্নিমিত হয়েছে সিনেমাটি।


আরও খবর

ঢাকায় আসছেন নচিকেতা

শুক্রবার ১৪ জুন ২০২৪




বাংলাদেশকে ২৫ কোটি ডলার ঋণ দিচ্ছে এডিবি

প্রকাশিত:সোমবার ১০ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২১ জুন ২০২৪ |

Image

বাংলাদেশকে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকা ঋণ দিচ্ছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)। দেশের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে ২৫ কোটি মার্কিন ডলার ঋণ দিচ্ছে সংস্থাটি। বাংলাদেশি মুদ্রায় এ অর্থের পরিমাণ ২ হাজার ৯৩৫ কোটি ৫০ লাখ টাকা (প্রতি ডলার ১১৭.৪২ টাকা ধরে)।

সোমবার (১০ জুন) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানা যায়। সোমবার রাজধানীর অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ও এডিবির পক্ষে যথাক্রমে ইআরডির সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী এবং এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর এডিমন গিনটিং এ ঋণ চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

এই চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার প্রতিরক্ষা এবং প্রতিরোধমূলক ক্ষমতা জোরদার হবে বলে আশা প্রকাশ করেছে উভয়পক্ষ। সেকেন্ড স্ট্রেংথেনিং সোশ্যাল রেজিলিয়েন্স প্রোগ্রাম শীর্ষক প্রোগ্রামের মাধ্যমে এডিবির এই অর্থ দেশের মানুষের দক্ষতা বৃদ্ধি, সুবিধাবঞ্চিত মানুষের আর্থিক উন্নয়ন এবং বৈচিত্রপূর্ণ সুরক্ষা চাহিদা নিশ্চিতের লক্ষ্যে কাজ করা হবে। দেশের দারিদ্রতা কমাতে সাহায্য করবে এই নতুন প্রোগ্রামটি।

এ ব্যাপারে এডিবির কান্ট্রি ডিরেক্টর এডিমন গিনটিং বলেন, সেকেন্ড স্ট্রেংথেনিং সোশ্যাল রেজিলিয়েন্স প্রোগ্রাম কর্মসূচির লক্ষ্য হলো সুরক্ষা এবং দক্ষতা বৃদ্ধি, সুবিধাবঞ্চিত মানুষের আর্থিক অন্তর্ভুক্তি উন্নত করা এবং বৈচিত্র্যপূর্ণ সুরক্ষা চাহিদার প্রতিক্রিয়া জোরদার করার ক্ষেত্রে সংস্কারমূলক কাজের গতি বাড়ানো। এ কর্মসূচির প্রথম ধাপ ২০২২ সালের জুনে শেষ হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এ ছাড়া এই প্রোগ্রামের সাহায্যে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগের ঝুঁকিতে থাকা মানুষের জন্য সহায়তা দেওয়া হবে। তা ছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের বিরুদ্ধে সামাজিক সুরক্ষায় এ অর্থ কাজে লাগানো হবে বলে জানা যায়। এ ছাড়া বিধবা ভাতা কর্মসূচির আওতায় সুবিধাভোগীর সংখ্যা আরও বৃদ্ধি করা হবে এডিবির এই নতুন প্রোগ্রামের মাধ্যমে। পাশাপাশি ট্রান্সজেন্ডারদের জন্য জীবিকা সহায়তা কর্মসূচির প্রসার ঘটিয়ে দুর্বল নারী ও ট্রান্সজেন্ডারদের সুরক্ষা নিশ্চিতে কাজ করা হবে বলে জানানো হয় বিজ্ঞপ্তিতে।

কর্মসূচির আরেকটি লক্ষ্য হলো তৈরি পোশাক খাতকে আরও শক্তিশালী করে তোলা। দেশের শ্রম ও কর্মসংস্থানে আরও উন্নয়নের মাধ্যমে দেশের পোশাক খাতের কর্মীদের পাশাপাশি অন্যান্য কর্মীদের কাজের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানা যায়। এ ছাড়া দেশের প্রযুক্তিগত উন্নয়ন ও নীতি বিশ্লেষণে সহায়তা করে সরকারি সংস্থার সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য অনুদান দিচ্ছে এডিবি।


আরও খবর



নয়াদিল্লি পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

প্রকাশিত:শনিবার ০৮ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২১ জুন ২০২৪ |

Image


নিজস্ব প্রতিবেদক:


ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নরেন্দ্র মোদির শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে নয়াদিল্লি পৌঁছেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।


প্রধানমন্ত্রী ও তার সফরসঙ্গীদের বহনকারী বাংলাদেশ বিমানের বিশেষ ফ্লাইটটি দিল্লি সময় বেলা ১১টা ৫১ মিনিটে অবতরণ করে বলে জানানো হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে।


শনিবার (৮ জুন) বাংলাদেশ সময় সকাল ১০টা ১৫ মিনিটে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়ন করে ফ্লাইটটি।


আগামীকাল রোববার (৯ জুন) সন্ধ্যা ৭টা ২০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা উপস্থিত থাকবেন নরেন্দ্র মোদির অভিষেক আয়োজনে।


অনুষ্ঠানে যোগদান শেষে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে একান্ত বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। এরপর ভারতীয় প্রেসিডেন্ট কর্তৃক আয়োজিত নৈশভোজে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।


এছাড়া সফরকালে বিভিন্ন দাপ্তরিক কাজ সম্পাদন এবং রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে অংশ নেবেন তিনি।



সোমবার (১০ জুন) সন্ধ্যায় নয়াদিল্লির পালাম বিমানবন্দর থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী।


তৃতীয় মেয়াদে ভারতের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে রোববার (৯ জুন) শপথ নেবেন নরেন্দ্র মোদি। কংগ্রেস নেতা জওহরলাল নেহরুর পর তিনিই হচ্ছে ভারতের দ্বিতীয় ব্যক্তি, যিনি টানা তৃতীয়বার দেশটির প্রধানমন্ত্রী হচ্ছেন।


প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর গত বুধবার (৫ জুন) টেলিফোনে নরেন্দ্র মোদিকে অভিনন্দন জানান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আলাপকালে শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে বঙ্গবন্ধুকন্যাকে আমন্ত্রণ জানান মোদি। 


আরও খবর



বজ্রপাতে একদিনে আটজনের প্রাণহানি

প্রকাশিত:শনিবার ০৮ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ২০ জুন ২০24 |

Image

বিডি টু ডে  রিপোর্ট: দেশের চার জেলায় বজ্রপাতে একদিনে আটজনের প্রাণহানি ঘটেছে। গতকাল শুক্রবার (৭ জুন) বজ্রপাতে নওগাঁয় তিনজন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে তিনজন এবং নাটোর ও ঠাকুরগাঁওয়ে একজন করে প্রাণ হারিয়েছেন। 

নওগাঁ:

বজ্রপাতে নওগাঁর মান্দায় একজন এবং পত্নীতলা উপজেলায় দুজনের মৃত্যু হয়েছে। আজ শুক্রবার (৭ জুন) বিকেলে এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন মান্দা উপজেলার ভোলাম গ্রামের ফইমুদ্দিনের ছেলে শামসুল আলম (৩৪), পত্নীতলা উপজেলার উপজেলার পাটিচড়া ইউনিয়নের নাগরগোলা গ্রামের বিশা মণ্ডলের ছেলে খাদেমুল ইসলাম (৫০) ও গাহন গ্রামের আব্দুল হামিদের স্ত্রী মনিকা (৩৫)।

মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোজাম্মেল হক কাজী বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, শুক্রবার বিকেলে হঠাৎ করেই পশ্চিম আকাশ কালো মেঘে ঢেকে যায়। কৃষক শামসুল আলম মেঘ দেখে বাড়ির পাশে মাঠে কাজ করতে যান। তার স্ত্রী লালবানুও সঙ্গে ছিলেন। এ সময় হঠাৎ বজ্রাঘাতে ঘটনাস্থলেই তিনি মারা যান।

অন্যদিকে, পত্নীতলা থানার ওসি মোজাফফর হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে বৃষ্টির মধ্যে কৃষক খাদেমুল ইসলাম মাঠ থেকে ধান বহন করে বাড়ি আনার সময় উঠানে বজ্রাঘাতে নিহত হন। 

একই সময়ে পৃথক ঘটনায় গৃহবধূ মনিকা বাড়ির সামনে আম কুড়াতে গিয়ে বজ্রাঘাতে নিহত হন। স্বজনরা উদ্ধার করে তাদের হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। তিনটি ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা করে পরিবারের কাছে মরদেহ হস্তান্তর করা হয়েছে।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ:

বজ্রপাতে চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জে শিশুসহ দুজন এবং ভোলাহাট উপজেলায় আরেক শিশু নিহত হয়েছে।

নিহতরা হলেন—শিবগঞ্জ পৌর এলাকার আলীডাঙ্গার সুভাস ভক্তের স্ত্রী ববি ভক্ত (৩২), শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁকা ইউনিয়নের দক্ষিণপাকা নিশিপাড়ার এরশাদ আলীর মেয়ে কবিতা খাতুন (১১) এবং ভোলাহাট উপজেলার আন্দিপুর হঠাৎপাড়ার ইসলাম আলীর মেয়ে আমেনা খাতুন (১০)।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপুর ২টার দিকে বাড়ির সামনে বসে থাকা অবস্থায় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই মারা যায় ববি ভক্ত। এ ছাড়া বিকেল ৩টার দিকে বাড়ির পেছনে টিউবওয়েলের পানি আনতে যায় শিশু কবিতা খাতুন। এ সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই মারা যায় সে।

শিবগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাজ্জাদ হোসেন এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেন।

অপরদিকে, বিকেল পৌনে ৩টায় ঝড়-বৃষ্টির সময় আমবাগানে আম কুড়ানোর সময় বজ্রপাতে আহত হয় আমেনা খাতুন। তাকে উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

ভোলাহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুমন কুমার এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

নাটোর:

নাটোরের নলডাঙ্গায় বজ্রপাতে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় আহত হয়েছেন আরও একজন। গতকাল শুক্রবার দুপুর দেড়টার দিকে উপজেলার কোমরপুর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।

নিহত কামরুল হোসেন (৩৫) উপজেলার কোমরপুর গ্রামের মো. লুৎফর রহমানের ছেলে। আহত হয়েছেন মো. মজনু (৪০) একই গ্রামের আহমদ আলীর ছেলে। 

স্থানীয়দের বরাত দিয়ে নলডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনোয়ারুজ্জামান বলেন, দুপুরে মাছ ধরার সময় নলডাঙ্গার ব্রহ্মপুর ইউনিয়নের পীরগাছা এলাকায় বজ্রপাতে একজন মারা গেছে। আরও একজন আহত হয়েছে। পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে গেছে।

ঠাকুরগাঁও:

বজ্রপাতে ঠাকুরগাঁওয়ের পীরগঞ্জ উপজেলায় এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শুক্রবার দুপুরে উপজেলার জাবরহাট ইউনিয়নের রনশিয়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত লিপি আক্তার (৩৫) রনশিয়া গ্রামের ফিরোজ্জামানের স্ত্রী।

স্থানীয়রা জানান, শুক্রবার দুপুরে বৃষ্টি নামলে বাড়ির পাশে ভুট্টার গাছের খড়ি ঢাকতে গিয়ে বজ্রপাতে আহত হন লিপি আক্তার। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

পীরগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খায়রুল আনাম এ বিষয়ে বলেন, এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা করা হয়। 


আরও খবর



২৯৭ আসনে এগিয়ে মোদির এনডিএ

প্রকাশিত:বুধবার ০৫ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২১ জুন ২০২৪ |

Image

ভারতের লোকসভা নির্বাচনে বুথফেরত সমীক্ষাগুলোর আভাসই সত্যি হতে যাচ্ছে। নরেন্দ্র মোদির বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ এখন পর্যন্ত ২৯৭ আসনে এগিয়ে রয়েছে। আর বিরোধী কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইন্ডিয়া জোট পেয়েছে ২০৮ আসন। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির লাইভ আপডেট থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

এদিকে, বুথফেরত জরিপের আভাস সত্যি করে দিয়ে পশ্চিমবঙ্গেও এগিয়েও রয়েছে বিজেপি। আনন্দবাজার পত্রিকার লাইভ আপডেট থেকে জানা গেছে, বাংলায় এখন পর্যন্ত এগিয়ে রয়েছে বিজেপি। পেয়েছে ১১ আসন। আর তৃণমূল কংগ্রেস পেয়েছে ১০ আসন।

২০১৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে এনডিএ পেয়েছিল মোট ৩৫২ আসন। আর কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন জোট পেয়েছিল ৯১ আসন। সে তুলনায় কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন এবার অনেক ভালো করছে বলে জানিয়েছেন বিশ্লেষকরা।


আরও খবর

যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে ইইউ

বৃহস্পতিবার ২০ জুন ২০24




জিয়ার স্বাধীনতার ঘোষণা: এবার তারিখটাও বদলে দিলো বিএনপি!

প্রকাশিত:শুক্রবার ৩১ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ১৮ জুন ২০২৪ |

Image


 

আসাদ জামান:


রাজনীতিতে মিথ্যার চর্চা একেবারেই স্বাভাবিক ঘটনা। মিথ্যা না বললে রাজনীতি হয় না। কিন্তু যে মিথ্যা জাতির ইতিহাসকে বদলে দেয়, সে মিথ্যা যে পক্ষ থেকেই হোক, তার প্রতিবাদ হওয়া দরকার। 


এই প্রতিবাদ করার জন্য কোনো দল বা সংগঠনের সক্রিয়া সদস্য বা কর্মী হওয়ার প্রয়োজন নেই। প্রয়োজন কেবল ইতিহাসারে প্রতি দায়বদ্ধতা, সত্যের সারথি হওয়া।



বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৩তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বুধবার (২৯ মে) গণমাধ্যমে দলটির মহাসচিবের নামে যে ‘বাণী’ পাঠানো হয়েছে, সেখানে বলা হয়েছে, ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের শুরুতে রাজনৈতিক নেতৃত্বের অনুপস্থিতিতে দেশের মানুষ যখন দিশেহারা ঠিক সেই মুহূর্তে ২৬ মার্চ কালুরঘাট বেতার কেন্দ্রে মেজর জিয়ার স্বাধীনতার ঘোষণা পুরো জাতিকে স্বাধীনতা যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে উজ্জীবিত করেছে।’


এতদিন শুধু জিয়াকে স্বাধীনতার ঘোষক দাবি করে আসছিল বিএনপি। কিন্তু তারা কোনোদিন বলেনি, জিয়া এই ঘোষণাটা ২৬ মার্চ দিয়েছিলেন। জন্ম-মৃত্যুবার্ষিকীতে দেওয়া বাণীতে জিয়াকে স্বাধীনতার ঘোষক দাবি করলেও ঘোষণার তারিখটা সব সময় ২৭ মার্চ হিসেবেই উল্লেখ করেছে বিএনপি।


 কখনো কখনো কৌশলে এড়িয়ে গেছে। তবে তাদের নিজেদের লেখা বই-পুস্তক দলিল-দস্তাবেজে জিয়ার স্বাধীনতার ঘোষণার তারিখ ২৭ মার্চ-ই উল্লেখ আছে।


প্রয়াত সাংবাদিক মাহফুজ উল্লাহর লেখা ‘প্রেসিডেন্ট জিয়া: রাজনৈতিক জীবনী’ বইয়ের ২৬ নম্বর পৃষ্ঠায় লেখা হয়েছে— ‘‘সম্প্রতি একাত্তর সালের ২৫ মার্চের ঘটনাবলি নিয়ে যে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল সে ব্যাপারে শমসের মুবিন চৌধুরী বীর বিক্রম জানান: সত্যি বলতে কী, ২৭ মার্চ কালুরঘাট বেতরকেন্দ্র থেকে দেওয়া মেজর জিয়ার সেই বিখ্যাত স্বাধীনতার ঘোষণা সম্পর্কে নিজের ভাষ্য দিতে গিয়ে প্রত্যেকেই আসল সত্য থেকে দূরে সরে গেছেন। 


এই সাহসী লোকটির অধীনে চট্টগ্রামে লড়াই করাকালে আমার স্বকর্ণে তা (স্বাধীনতার ঘোষণা) শোনার সৌভাগ্য হয়েছিল। একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো— মেজর জিয়ার নির্দেশে ২৮ মার্চ সারাদিন ধরে সেই কেন্দ্র থেকেই আমাকে তার ঐতিহাসিক ঘোষণাটি বার বার প্রচার করতে হয়েছিল। আমার সঙ্গে ছিলেন সুবেদ আলী ভূঁইয়া।


আওয়ামী লীগ নেতা হান্নানের সুনির্দিষ্ট অনুরোধে মেজর জিয়া তার ৩০ মার্চ দেওয়া দ্বিতীয় ভাষণে শেখ মুজিবের নাম অন্তর্ভুক্ত করেন।… মেজর জিয়ার ২৭ মার্চ ঘোষণাটা শেষ হয়েছিল এই কথাটি দিয়ে— ‘Under the circumstances I declare myself provisional head of the government of Bangladesh. Joy Bangla.’ (বর্তমান পরিস্থিতিতে আমি নিজেকে বাংলাদেশ সরকারের অস্থায়ী প্রধান হিসেবে ঘোষণা করছি, জয়বাংলা।)’’



রাষ্ট্রপতি হওয়ার পর জিয়ার যে সরকারি জীবনবৃত্তান্ত প্রকাশিত হয়, সেখানে লেখা ছিল— ‘১৯৭০ সালের অক্টোবরে চট্টগ্রামে নবগঠিত অষ্টম ইস্টবেঙ্গল রেজিমেন্টে জিয়াকে বদলি করা হয়। এই রেজিমেন্টে নিয়োজিত থাকাকালেই তিনি পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন এবং ১৯৭১ সালের ২৭ মার্চ সাড়ে সাত কোটি স্বাধীনতাকামী বাঙালির পক্ষে ঐতিহাসিক স্বাধীনতার ঘোষণা দেন।’ (সূত্র: দ্য বাংলাদেশ অবজার্ভার, ২২ এপ্রিল ১৯৭৭)


এ ছাড়া স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের স্থপতি বেলাল মোহাম্মদ ২০১০ সালের ২১ মার্চ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সিনিয়র রিপোর্টার প্রদীপ চৌধুরীকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে জিয়ার স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র পাঠ সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য দেন। সাক্ষাৎকারটি প্রকাশ হয় ২০১০ সালের ২৮ মার্চ।



ওই সাক্ষাৎকারে বেলাল মোহাম্মদ বলেন, “২৬ মার্চ এদিক-সেদিক টেলিফোন করছি। টেলিফোন দেওয়ার পর চন্দনপুরের তাহের সোবাহান নামে আমার এক বন্ধু ছিল, তিনি বললেন, ‘একজন উচ্চ পদের মেজরের সন্ধান আমি জানি, তবে নাম জানি না। তিনি পটিয়াতে আছেন। তিনি হেডকোয়ার্টারের বাইরে এসেছিলেন বাবর ও সোয়াত জাহাজের অস্ত্র খালাসের জন্য। তিনি আজ রাতে, মানে ২৬ শে মার্চ দিবাগত রাতে সিচুয়েশন অবজার্ভ করার জন্য পটিয়াতে আছেন।”


‘আমাকে উনি অ্যাডভাইজ করলেন, ২৭ তারিখ যদি পটিয়াতে যেতে পারেন নিশ্চয়ই ওনাকে ওখানে পাবেন। বললেন, যেহেতু বাইরে আছেন, নিশ্চয়ই উনি বঙ্গবন্ধুর সাপোর্টার হবেন। আমার আরেক বন্ধুর সাহায্যে আমরা একটা গাড়ির ব্যবস্থা করে পরদিন সকালে রওনা হয়েছি পটিয়ায়। আর আমার সহকর্মীদের বলে দিয়েছি, কালুরঘাটের দিকে আস্তে আস্তে যাবে। আমি পটিয়া থেকে আসার পর প্রোগ্রাম শুরু হবে।’


“পটিয়ায় পৌঁছেই দেখা গেল আর্মি গিজ গিজ করছে।… এখানে যে আর্মি অফিসার আছেন, তার নাম মেজর জিয়াউর রহমান। তার সঙ্গে দেখা হলো। তাকে বললাম, ‘আপনি তো এখানে ব্রডকাস্ট শুনেছেন।’ তিনি বললেন, ‘আপনারা যে বঙ্গবন্ধুর স্বাধীনতার ঘোষণা প্রচার করেছেন, তা শুনেছি এবং খুশি হয়েছি।’”


‘আমি বললাম, আপনি যদি দয়া করে আপনার এই ছাউনিটা এখান থেকে সরিয়ে কালুরঘাটে নিয়ে যেতেন, তাহলে বাড়িটা প্রটেক্ট হবে। আমরাও ওখানে স্থায়ীভাবে থাকতে পারব। স্থায়ীভাবে না থাকতে পারলে কোনো কমিটমেন্ট করা যাবে না। ঠিক টাইমে রেডিওতে প্রোগ্রাম দেওয়া অ্যাডভেঞ্চার নয়। বেশ কিছু লোক লাগে। সব রকমের পয়েন্টে লোক বসে থাকা লাগে।’



“তারপর উনি আর দেরি করেন নাই। সৈন্যদের রওনা করিয়ে দিলেন। নিজেও একটা জিপে করে রওনা হলেন। আমাদের গাড়িটা ওনার গাড়ির পেছনে পেছনে চলল। পথে যেখানেই উনি বেশি মানুষের জটলা দেখলেন, যারা কর্মস্থল ছেড়ে পোটলা-পুটলি নিয়ে চলে যাচ্ছে, সেখানে তিনি দাঁড়িয়ে একটা বক্তৃতা দিলেন।


 ‘আপনারা যার যার কাজের জায়গায় চলে যান। ইনশাল্লাহ দুয়েক দিনের মধ্যে আমরা পাঞ্জাবিদের খতম করে দেবো। আর উর্দু ভাষায় যারা কথা বলে তারা সব আমাদের দুশমন। তাদেরকে শেষ করে দেন।’”


“এটাই ছিল ওনার বক্তব্য। এই দশ জায়গায় থেমে থেমে যাওয়ার কারণে আমাদের কালুরঘাটে পৌঁছতে সন্ধ্যা হয়ে গেল।… আমার সহকর্মী যারা উপস্থিত ছিল, তারা প্রোগ্রাম শুরু করল। একসময় জিয়াউর রহমান ও আমি একটা রুমে বসেছি। 


আমার এক সহকর্মী আমাকে কিছু কাগজপত্র দেখাচ্ছে। আমি কী মনে করে বললাম, ‘আচ্ছা মেজর সাহেব, এখানে তো আমরা সবাই মাইনর, আপনিই একমাত্র মেজর। আপনি কি নিজের কণ্ঠে কিছু বলবেন? উনি বললেন, ‘হ্যাঁ। সত্যিই তো, কী বলা যায়?’”


‘সঙ্গে সঙ্গে একটা কাগজ এগিয়ে দেওয়া হলো। তার প্রতিটি শব্দ তিনিও উচ্চারণ করেছেন এবং আমিও উচ্চারণ করেছি। এভাবে লেখা শুরু হলো— ‘আই, মেজর জিয়া অন বিহাফ অব আওয়ার গ্রেট ন্যাশনাল লিডার বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান ডু হেয়ার বাই ডিক্লেয়ার ইন্ডিপেনডেন্স অব বাংলাদেশ।… খোদা হাফেজ জয় বাংলা।’”


‘এই ঘোষণাটির খসড়াও তৈরি হলো আমার সঙ্গে আলাপ করে।… আর আমার সহকর্মীদের বলে দিলাম, কিছুক্ষণের মধ্যে মেজর জিয়া একটা জরুরি ভাষণ দেবেন। এভাবে দুই-তিনবার অ্যাডভান্স অ্যানাউন্সমেন্ট করা হলো। তারপর তিনি নিজের কণ্ঠে ইংরেজিটা পড়েছেন। বাংলাটা আমার সহকর্মী আব্দুল্লাহ আল ফারুকের কণ্ঠস্বর ভালো, তাকে দিয়ে শুনিয়েছি। এভাবেই হলো। 


কোনো রকম পূর্বপ্রস্তুতি ছিল না, পরিকল্পনা ছিল না এবং এটা স্বাধীনতা ঘোষণা না। এটা হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর পক্ষ থেকে একই কথার পুনরুক্তি করা।’


‘রাষ্ট্রপতি জিয়া কোনোদিন নিজেকে স্বাধীনতার ঘোষক বলেননি। ২৬ তারিখও বলেননি, উনি সবসময় ২৭ তারিখই (২৭ মার্চ) বলেছেন।… পরবর্তী সময় যে ঘোষক-টোষক বলা হয়েছে, এগুলো তৈরি করা। রাষ্ট্রপতি জিয়া এগুলো ক্লেইম করেননি।’


প্রকৃত অর্থে জিয়াউর রহমান জীবিত অবস্থায় কোনোদিন নিজেকে স্বাধীনতার ঘোষক দাবিই করেননি। তার মৃত্যুর পর বিএনপির রাজনীতি খালেদা জিয়ার হাতে পড়লে এ বিতর্ক প্রথম শুরু হয়। খালেদা জিয়ার হাত থেকে বিএনপির রাজনীতি যখন তারেক রহমানের হাতে পড়ে, তখন এটা ‘পূর্ণতা’ লাভ করে। তারপরও জিয়ার ‘স্বাধীনতার ঘোষণা’ সংক্রান্ত তারিখ বিএনপি এতদিন ২৭ মার্চ-ই বলে আসছিল। হঠাৎ কেন ২৬ মার্চে নিয়ে এলো?


এর পেছনে কারণটা হলো— জিয়ার ২৭ মার্চের ‘বেতার ঘোষণা’কে স্বাধীনতার ঘোষণা দাবি করলেও ক্ষমতায় থেকে এবং ক্ষমতার বাইরে থেকে ২৬ মার্চকেই ‘মহান স্বাধীনতা দিবস’ হিসেবে পালন করে আসছে বিএনপি। এ নিয়ে প্রধান প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগ তো বটেই সুধী এবং সাধারণ মহল থেকেও প্রশ্ন উঠছে— জিয়ার ঘোষণা যদি স্বাধীনতার ঘোষণা হয়, তাহলে স্বাধীনতা দিবস ২৭ মার্চ নয় কেন? 


যে ২৬ মার্চ বিএনপি স্বাধীনতা দিবস পালন করে, সেদিন তো জিয়া ‘স্বাধীনতার ঘোষণা’ দেননি। তার জীবদ্দশায় কোনো দিন দাবিও করেননি যে তিনি ২৬ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন। সুতরাং এ ধরনের প্রশ্ন থেকে বাঁচতে বিএনপি হয়তো জিয়ার ঘোষণার তারিখটাই বদলে দিতে চাচ্ছে!


জিয়ার ‘স্বাধীনতার ঘোষণার’ তারিখটা ছাড়াও মির্জা ফখরুলের ওই ‘বাণী’-তে আরেকটি স্পর্শকাতর ভুল বা কৌশলে স্বাধীনতার প্রকৃত ইতিহাস অস্বীকারের ইঙ্গিত রয়েছে। বাণীর চতুর্থ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, ‘স্বাধীনতা যুদ্ধের শেষে জাতি বিদেশি শাসন থেকে মুক্তি লাভ করে।’


১৯৭১ সালের বাঙালির যুদ্ধটা ছিল দখলদার পাকিস্তানি বাহিনীর বিরুদ্ধে। বিজয়টাও ছিল পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে। কী এক অজানা কারণে জিয়ার মৃত্যুবার্ষিকীতে দেওয়া বাণীতে ‘পাকিস্তান’ শব্দটার উল্লেখ না করে ‘বিদেশি’ শব্দটা ব্যবহার করল বিএনপি— সেটাও গভীর কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে বৈকি! এভাবে ইতিহাসকে অস্বীকার করে বা ভুল ইতিহাস লিখে বিএনপি কী অর্জন করতে চায়, সেটাই এখন দেখার বিষয়। 


অবশ্য বড় দলগুলোর চেয়ারম্যান-মহাসচিব বা সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের নামে পাঠানো বিবৃতি/বাণীর খসড়া সাধারণত অফিস স্টাফরা লিখে থাকেন। দফতর সম্পাদক চোখ বুলিয়ে দেন এবং যার নামে পাঠানো হয়, তিনি সচারাচার এসব বিবৃতি/বাণী পড়ে দেখেন না। ফলে এসব বিবৃতি/বাণীতে থাকা ভুলগুলোকে খুব একটা বেশি গুরুত্ব দেওয়ার সুযোগ থাকে না। তবুও কথা থেকে যায়…।



আরও খবর