Logo
শিরোনাম

প্রধানমন্ত্রীর দৃঢ় মনবলের কারণেই পদ্মা সেতু নির্মাণ হয়েছ- মেয়র আইভী

প্রকাশিত:বুধবার ২৯ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:বুধবার ১০ আগস্ট ২০২২ |
Image

বুলবুল আহমেদ সোহেল নারায়ণগঞ্জ ঃ

নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন মেয়র ডা. সেলিনা হায়াৎ আইভী বলেছেন,প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ় মনবলের কারণেই পদ্মা সেতু নির্মাণ করা সম্ভব হয়েছে। টার্নেল হবে। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে এগিয়ে যাবে। এজন্য জনগণকে প্রধানমন্ত্রীর পাশে থাকার আহবান জানান মেয়র আইভী।

সোমবার সন্ধ্যায় জেলা গ্রন্থাগারে নারায়ণগঞ্জ জেলা সাংবাদিক ইউনিয়ন আয়োজিত অসুস্থ সাংবাদিকদের মাঝে আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ অনুষ্ঠানে  মেয়র আইভী প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গঠিত ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের কল্যাণ ফান্ড থেকে অসুস্থ পাঁচ সাংবাদিককে আর্থিক এই সহায়তা দেয়া হয়। 

নারায়ণগঞ্জ জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুল সালামের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবু, নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিষদ প্রশাসক আনোয়ার হোসেন, নারায়ণগঞ্জ প্রেস ক্লাবের সভাপতি খন্দকার শাহ আলম, সাধারণ সম্পাদক শরীফ উদ্দিন সবুজ ও নারায়ণগঞ্জ জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সভাপতি নাফিজ আশরাফ। 

নারায়ণগঞ্জের ঐতিহ্য তুলে ধরে মেয়র আইভী বলেন, ভারি শিল্প প্রতিষ্ঠান গুলো  শীতলক্ষ্যাকে হত্যা করছে। এই নদীকে  রক্ষা করার জন্য  এখনই উদ্যোগ নিতে হবে। নারায়ণগঞ্জ সদর থেকে আড়াই হাজার উপজেলা পর্যন্ত নৌ পর্যটন রুট তৈরি করারও তাগিদ দেন মেয়র আইভী। 


আরও খবর



কতটা বুঝে উঠতে পারি আমরা মানুষকে?

প্রকাশিত:শুক্রবার ২৯ জুলাই ২০২২ | হালনাগাদ:বুধবার ১০ আগস্ট ২০২২ |
Image

শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান চৌধুরী ঃ

 হয়তো আমাদের বোঝার মধ্যেই একটা অস্পষ্টতা থেকে যায়। এ অস্পষ্টতাই অনেক সময় মানুষকে মৃত্যু পর্যন্ত টেনে নিয়ে যায়। সময় এখানে একটা মহামূল্যবান উপাদান হিসেবে কাজ করে। সময়ের বোঝাটা সময়ে বুঝতে না পারাটাই ‘আমি অন্ধের দেশে চশমা বিক্রি করি’-এর মতো। ১৯৩১ সালের একটা ঘটনা মনে পড়ল।

কৌতুক অভিনেতা চার্লি চ্যাপলিন আইনস্টাইনকে আমন্ত্রণ জানান তার একটি শো দেখার জন্য। তখন চ্যাপলিনের ‘সিটি লাইটস্’ সিনেমার প্রদর্শনী চলছিল। শো-এর পরে তারা দুজন শহরের পথ ধরে হেঁটে যাচ্ছিলেন, তখন চ্যাপলিন আইনস্টাইনকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘সবাই আমাকে সহজেই বোঝে, এজন্যই আমার এত জনপ্রিয়তা। কিন্তু মানুষ আপনাকে কেন এত পছন্দ করে বুঝলাম না।’ আইনস্টাইন সহাস্যে জানালেন, ‘কেউ আমাকে সহজে বুঝতে পারে না বলেই আমার এ জনপ্রিয়তা।’

তাহলে মানুষ যাকে সহজে বোঝে আর যাকে বোঝে না, তারা দুজনই কি জনপ্রিয় হয়? বোঝা না বোঝার এ ঘোরের মধ্যেই মানুষকে বোঝার গভীর তত্ত্বটা অনেকটা এক টুকরো আলোর মতো ছড়িয়ে থাকে। মানুষের মধ্যে মহানুভবতা থাকলে সময় মানুষের মধ্যে বোধশক্তি তৈরি করে। কিন্তু মানুষের মধ্যে মহানুভবতা না থাকলে সময় তখন অপেক্ষা করে।

সে অপেক্ষা কতটা দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হবে, তা অনেকটা অনিশ্চিত। কারণ সময় তখন নিজেকে আড়াল করে, নিরুদ্দেশ হয়। যাযাবর হয়। কেউ সময়ের এ রহস্যকে ভেদ করতে পারে না। তবে চার্লি চ্যাপলিন আইনস্টাইন-এর ‘কেউ আমাকে সহজে বুঝতে পারে না বলেই আমার এ জনপ্রিয়তা’ এ উত্তরটার ভেতরের অর্থ বুঝতে পেরেছিলেন। আত্মজীবনীতে তাই চ্যাপলিন লিখছেন, আইনস্টাইনকে তার ঘরোয়া ‘আলপাইন জার্মান’দের মতোই লেগেছিল। তবে চমৎকার অনুভূতিসম্পন্ন, হাসিখুশি আর বন্ধুত্বপূর্ণ ছিলেন আলবার্ট।

তিনি খুব শান্ত ও ভদ্র। তবে এসব ছাপিয়ে ফুটে উঠেছিল আইনস্টাইনের গভীর ও অনন্য সংবেদনশীল মনের পরিচয়। চ্যাপলিনের ধারণা, এ সংবেদনশীল মনই আইনস্টাইনের অনন্য সাধারণ পাণ্ডিত্যের আধার।

আইনস্টাইনের সংবেদনশীল মনের পাণ্ডিত্য সবার পক্ষে বুঝে উঠাটা হয়তো কঠিন ছিল; কিন্তু তিনি যে কিছু একটা করে পৃথিবীর চিন্তাধারা বদলে ফেলতে পেরেছেন, সেটি সাধারণ মানুষের মধ্যে একটা সহজাত কৌতূহল তৈরি করতে পেরেছিল। মানুষের এ কৌতূহল থেকে আইনস্টাইন মানুষের কাছে সাধারণ থেকে অসাধারণ মানুষে পরিণত হয়েছিলেন। সাধারণ মানুষ আইনস্টাইনের আপেক্ষিক তত্ত্বকে না বুঝলেও তার চিন্তার শক্তিকে বুঝতে পেরেছিল। যেটি সে সময় নীরবে, নিভৃতে আইনস্টাইনকে মানুষের কাছে জনপ্রিয় করে তুলেছিল।

ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর আর রাজা রামমোহন রায় সে সময় সমাজ যা বিশ্বাস করত, তার বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহস দেখিয়েছেন। রাজা রামমোহন রায় যেমন ‘সতীদাহ প্রথা’ বন্ধের সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন। অন্যদিকে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরও বাল্যবিবাহ ও কৌলীন্য প্রথা বন্ধে এবং বিধবা বিবাহ চালু করতে সমাজ সংস্কারের দৃঢ় প্রতিজ্ঞা গ্রহণ করেছিলেন। সমাজ এগুলোকে সে সময় জীবনের অপরিহার্য অংশ ও নৈতিকতা বলে প্রচার করেছিল।

গতানুগতিক ধারার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে সে সময় ঈশ্বরচন্দ্র ও রাজা রামমোহন রায় সমাজের কাছে ভিলেন বলে পরিগণিত হলেও আজকের সময় ও সমাজ তাদের মহানায়কে পরিণত করেছে। সে সময়ের সমাজের পশ্চাৎপদ ধারণার মানুষদের কেউ মনে না রাখলেও ঈশ্বরচন্দ্র ও রাজা রামমোহন রায়কে সময় এখনো মনে রেখেছে। এটাই সময়ের ধর্ম।

ইতিবাচক দিকগুলো যতই পুরনো হোক না কেন, তাতে যদি মানবিক ধারণার নান্দনিকতা থাকে; তবে তার আলো কখনো নিভে যায় না। প্রযুক্তির আভিজাত্যের রঙ মেখে দারুণ এ সময়ে আমরা কতটুকু মানুষকে বোঝার চেষ্টা করেছি, কতটা করছি; সে বুঝতে পারার শক্তিটাই কেমন, যা ‘বোঝা’ হয়ে ঝুলে পড়েছে কোনো একটা আস্থাহীনতার জায়গায়! যাদের আমরা ভালো বলছি, তারাই হয়তো খারাপ। আবার যাদের আমরা খারাপ বলছি, তারাই হয়তো ভালো। এ এক গোলক ধাঁধা। সময়ের পরীক্ষা। যে পরীক্ষাটা সময় নেয়। উত্তরটাও সময় দেয়।

তবে সময়ের টমটম ঘোড়ায় চড়ে মানুষের সম্পর্কগুলো কেমন যেন অগোছালো, আলগা, ফসকা গেড়োর মতো হয়ে গেছে। মা, বাবা, ভাই, বোনের সম্পর্কগুলো কেমন যেন অচেনা হয়ে পড়েছে। আপন প্রাণের টানটায় কেমন যেন ঘুণে ধরেছে। মরিচা পড়েছে। সময়টা কি তবে অচেনা হয়ে গেল! মায়া-মমতা সব নিশ্চিহ্ন হয়ে গেল! সেই পুরনো দিনের সম্পর্কের মখমলটা বিবর্ণ সুতার রক্তে যেন পচে গেছে। মা ছুটছে হাই সোসাইটিতে নিজের বড়ত্বের প্রমাণ দিতে; বাবা ছুটছে অবৈধ টাকার পিছনে।

অনৈতিকতাকে নৈতিক বানানোর রঙ-রূপ-রসে ছেলেমেয়েরা উচ্ছন্নে গেছে। মাদক আর ভোগবাদী দুনিয়াতে তারা ডুব দিয়েছে। না আছে মন, না আছে মানবিকতা, না আছে জীবনবোধ। সব মিছে খেলা হয়ে কাদামাটিতে গড়াগড়ি খাচ্ছে। বন্ধুতে-বন্ধুতেও আর চাকচিক্য নেই, আছে স্বার্থের রুগ্ন দেহ। লোভ, কামনা, বাসনা। বন্ধুর মধ্যে আর সেই মায়ার বন্ধন নেই, জাদুকরী চিন্তার শক্তি নেই। সবাই কাঁচা পয়সার তেলেসমাতিতে বেসামাল হয়ে দড়ি টানাটানির প্রতিযোগিতায় নেমেছে। মানুষের ভেতর এখন আর কিছু নেই।

আছে কেবল অস্তিত্বহীন কিছু হাড় ও কংকাল। তবুও জীবন, তবুও সময় কখনো ভুল করে না। সময় সময়ের মতো করে জেগে উঠে। যেমন সময় কখনো ডানা মেলে উড়াল দেয়, আবার কখনো ডানাটা খুলে নেমে আসে মাটির পৃথিবীতে। সময়কে মানুষ যদি বুঝতে পারে, মানুষও সময়কে তখন বুঝে; যা একদিন বাস্তব হয়ে স্বপ্নের সময় হয়। সময়ের পরীক্ষাটা খুব কঠিন বরফের মতো। কখনো এটা পানি, কখনো জলীয়বাষ্প, আবার কখনো বরফ। কখনো গন্তব্যহীন।

রোমান সম্রাট নিরোর কথা মনে পড়ছে। নিরোকে নিয়ে সবচেয়ে প্রচলিত কথাটি হলো-রোম যখন পুড়ছিল, নিরো তখন বাঁশি বাজাচ্ছিল। এটা সত্য না মিথ্যা ছিল, সে বিচারের ভার সময়ের হাতে। কারণ সময় সর্বদাই বেঁচে থাকে, কিন্তু মানুষ সময়ের গর্ভে হারিয়ে যায়। রোমান সম্রাট নিরো ইতিহাসের সবচেয়ে নির্মম ও পাগলাটে ধাঁচের শাসক ছিলেন। কথিত আছে, নিরোর মা নিরোকে ক্ষমতায় বসালেও তিনি তার মাকে হত্যা করেন। ক্ষমতার উন্মুক্ততায় নিরোর হত্যার শিকার হয়েছেন তার সৎভাই ও স্ত্রীরা।

বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ওপর তার দমন-পীড়নের কাহিনী এখনো মানুষের মুখে মুখে। একটা আবেগতাড়িত শিল্পমনস্কতা তার মধ্যে বিদ্যমান ছিল। নিরো থিয়েটার করতে খুব পছন্দ করতেন। তিনি বীণা জাতীয় বিশেষ একটি বাদ্যযন্ত্র বাজাতেন, গান গাইতেন, কবিতা লিখতেন এবং মঞ্চে অভিনয়ও করতেন। সম্রাট নিরোর শাসনকালের প্রথম পাঁচ বছর তার জনপ্রিয়তা ছিল ঈর্ষণীয়। এ সময়টা রোমান জনগণের জন্য ‘স্বর্ণযুগ’ হিসেবে বিবেচনা করা হতো। সময় তাকে মানুষের রাজা বানিয়েছিল। সময়ের ভয়ংকর নিষ্ঠুরতা আবার তাকে পথের মাটিতে ছুড়ে মেরেছে। এটা তো সময়ের খেলা, সময়ের নাটক। সেনাবাহিনী ও সিনেট তাকে ‘জনগণের শত্রু’ হিসেবে ঘোষণা করে। নিরোকে যেখানেই পাওয়া যাবে, সেখানেই তাকে হত্যা করার আদেশ জারি হয়। বিশাল রাজপ্রাসাদে থাকা সম্রাট নিরো গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে পালিয়ে বেড়াতে থাকেন। কিন্তু সেটা আর কতক্ষণ? রক্ষীরা তার গন্তব্যের খোঁজ পেয়ে যখন অগ্রসর হচ্ছিল, তখন তিনি আত্মহত্যা করেন।


মৃত্যুর আগে তিনি ‘কোয়ালিস আর্টিফেক্স পেরেও’ বলে চিৎকার করছিলেন। কী অদ্ভুত! সময় যেটা তাকে উচ্চারণ করতে প্ররোচিত করেছিল, সেটার অর্থ ছিল বহুমাত্রিক। তবে এর মধ্যে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য অর্থ হিসেবে যা বিবেচনা করা হয়, তা হলো- ‘আমার মৃত্যুর সময়ে আমি কী দারুণ এক শিল্পী’, ‘আমার সঙ্গে কী এক শিল্পীর মৃত্যু হচ্ছে’ অথবা ‘আমি একজন বণিকের মতো মারা যাচ্ছি।’ কী বিচিত্র সময়ের রং বদলানোর জাদু; যার অস্থিমজ্জার পচনশীলতায় মানুষ একসময় পচে যায়। কখনো সময়ের সম্মোহনী জাদুতে মানুষ প্রাণশক্তি ফিরে পায়।


আরও খবর

পরাজয় মানুষকে আপন-পর চেনাতে শেখায়

বৃহস্পতিবার ০৪ আগস্ট ২০২২




গুঞ্জন উড়িয়ে দিলেন আলিয়া!

প্রকাশিত:বুধবার ০৩ আগস্ট ২০২২ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ০৯ আগস্ট ২০২২ |
Image

গতবছর ফারহান আখতার ঘোষণা করেছিলেন তার পরবর্তী রোড-ট্রিপ ডিরেক্টরিয়াল প্রোজেক্ট ‘জি লে জারা’ শিগগিরই ফ্লোরে গড়াবে। এক্সেল এন্টারটেইনমেন্টের ব্যানারে নির্মিতব্য সিনেমাটির চিত্রনাট্য লিখছেন জোয়া আখতার এবং রীমা কাগতি। সেই সময় থেকেই সিনেমাটি ঘিরে দর্শকদের কৌতুহল তুঙ্গে রয়েছে। কারণ ‘জি লে জারা’র মাধ্যমে বলিউডের তিন শীর্ষ তারকা প্রিয়াঙ্কা, ক্যাটরিনা ও আলিয়াকে একসঙ্গে দেখবেন সিনেপ্রেমীরা!

তবে সিনেমাটি আলোর মুখ দেখবে না—এমন গুঞ্জনও ছড়িয়েছে অনেকবার। তবে এবার সেই ‘না হওয়া’ গুঞ্জনটি উড়িয়ে দিলেন আলিয়া ভাট। সম্প্রতি তিনি ভারতীয় গণমাধ্যমের এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, আসছে বছরই আলোর মুখ দেখছে জি লে জারা!

আলিয়া ভাট বলেন, ‘সিনেমাটি নিয়ে নানা নেতিবাচক কথা ভিন্ন সময়ই মিডিয়ায় এসেছে। অনেকেই বলেছেন সিনেমাটি হচ্ছে না। তবে সত্য এটাই, সিনেমাটি ফ্লোরে গড়াচ্ছে। আমরা তিনজন আসছি। আমরা আগামীবছর সিনেমাটির শুটিং শুরু করব। যদিও এই বছর সিনেমাটি শুরুর কথা ছিল। কিন্তু আমার সন্তান আগমনের কারণে সেটা পেছাতে হয়েছে। তবে আমরা সবাই জি লে জারা নিয়ে দারুণ উচ্ছ্বসিত। তাই সিনেমাটি ছাড়তে চাই না। দারুণ কিছু চমক নিয়ে শিগগিরই আপনাদের সামনে আসবো। অপেক্ষা করুন।’

উল্লেখ্য, বলিউডে গুঞ্জন রয়েছে, এ যাবতকালের সবচেয়ে বড় প্রকল্প হতে যাচ্ছে জি লে জারা। এমনকি তিন শীর্ষ নায়িকার এক সিনেমায় অভিনয় বলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে ভিন্নমাত্রা যুক্ত করবে বলে মনে করছেন সিনেবোদ্ধারা।


আরও খবর

বিয়ে করছেন রিচা-ফজল

মঙ্গলবার ০৯ আগস্ট ২০২২




মনকে সব সময় খোলামেলা ও বিজ্ঞান নির্ভর রাখতে হবে

প্রকাশিত:শনিবার ১৬ জুলাই ২০২২ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ০৯ আগস্ট ২০২২ |
Image

গোবিন্দ শীল, সিনিয়র সাংবাদিক ও কলাম লেখক ঃ

লক্ষ লক্ষ বছর আগে প্রাকৃতিক পরিবেশে বেঁচে থাকার জন্য মানব মস্তিষ্ক বেশ কয়েক ধরণের শর্টকাট ব্যবহার করতো । এই যুগে মনোবিজ্ঞানীরা সেসব শর্টকাট কে মনের পক্ষপাতিত্ব বা ঝোঁক বলছেন এবং সেই সাথে এসব প্রবণতা থেকে বের হবার উপদেশ দিচ্ছেন । এসব পক্ষপাতিত্বের মূল্য সে সময় অনেক বেশি ছিল কারণ সেখানে জীবণ-মরণের প্রশ্ন জড়িত ছিল এবং সেগুলো আমাদের অবচেতন  মনের অংশ হয়ে আছে । যেমন, কোন হিংস্র পশু দেখলে সাথে সাথে তাকে আক্রমণ করা অথবা পালিয়ে যাওয়া । পরবর্তীতে যে কোন তথ্য বিশ্লেষণের ক্ষেত্রে মস্তিষ্ক পূর্ববর্তী ঐ সব অভিজ্ঞতার সহায়তা নেয়া শুরু করে । সমস্যাটা শুরু এখান থেকে ।  এখন রাস্তায় সন্ধার অন্ধকারে কাউকে দেখলে মন সাথে সাথে বোঝার চেষ্টা করে লোকটি ক্ষতিকর কিনা, অথবা সুন্দর পোষাক পরিহিত কাউকে দেখলে মন ভাবতে পারে লোকটির মননও নিশ্চয় সুন্দর । এসব পক্ষপাতিত্বের মূল কথা হলো ব্যক্তিমাত্রই নিজের সিদ্ধান্তকে সঠিক মনে করে, যদিও অনেক সময় সেটি ভুলও হতে পারে । আমাদের মনের কয়েকটি পক্ষপাতিত্ব হলোঃ Confirmation Bias, Self-serving Bias (নিজের স্বার্থের অনুকূলে পক্ষপাতিত্ব), Anchoring Bias, survivorship bias, actor-observer bias ইত্যাদি । এরমধ্যে Self-serving Bias হলো আমাদের ইগো মনের পক্ষ নেয়া । এটি আমরা সবাই করে থাকি । যে কোন পরিস্থিতিতে আমরা নিজেদের পক্ষে কথা বলি, যদিও অনেক সময় সেটি বিজ্ঞান নির্ভর হয় না ।  Survivorship Bias হলো আমরা কারও সফলতাকে অনুসরণ করার চেষ্টা করি । যেমন, কেউ চিংড়ী মাছ চাষ করে সফল হলে আরেকজন আরেকটি চিংড়ী ঘের করার চেষ্টা করে । Actor-Observer Bias হলো আমরা নিজেদের ব্যর্থতার জন্য অন্যদেরকে দায়ী করি আর অন্যদের ব্যর্থতাকে তাদের নিজেদের কারণে হয়েছে বলে মনে করি । মানব মস্তিষ্ক খুব অল্প সময়ের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে অর্থবহ একটি ছাঁচ  (Meaningful pattern) খোঁজে । পরবর্তীতে এটি অবচেতন মনের অংশ হয়ে যায় এবং মন সেখান থেকে সিদ্ধান্ত দিতে থাকে । মানব মনের আরেকটি অবৈজ্ঞানিক বিষয় হলো, তার সমুদয় স্মৃতিটাই পক্ষপাতে দুষ্ট । অর্থাৎ, আমরা আমাদের বিশ্বাসের পক্ষ নিয়ে তথ্য অনুসন্ধান করি । অতীতে করিম একটি বোমা ফুটিয়ে থাকলে, কোন বোমা ফুটলেই আমরা ধরে নেই করিমই এটি ফুটিয়েছে  (confirmation bias) । এটি আন্তর্জাতিক রাজনীতির ক্ষেত্রে বিশেষত মধ্যপ্রাচ্য ও পাশ্চাত্য রাজনীতিতে খুব সাধারণ একটি বিষয় ।  একই ভাবে পাশ্চাত্যে ও প্রাচ্যের রাজনীতিবিদেরা Anchoring Bias কে তাঁদের পক্ষে ব্যবহারের চেষ্টা করেন ।  এটি হলো, ধরুন যুদ্ধে ২,০০০ লোক মারা গেছেন। সরকার বিষয়টি সবচেয়ে আগে জানবেন সেটিই  স্বাভাবিক । তাই সরকার জনগণের দৃষ্টি ফেরানোর জন্য আগেই ঘোষণা দিয়ে দেন : এ পর্যন্ত যুদ্ধে ২০০ জন নিহত হয়েছেন । আমরাও ব্যক্তিগত জীবনে, চাকুরির ক্ষেত্রে কোন সমস্যা হলো বসকে আগে রিপোর্ট করতে চাই । যে আগে রিপোর্ট করে সে কিছুটা ভাল অবস্থানে থাকে, যদিও দোষটা হয়তো তারই । আমাদের দেশেও সরকারেরা এই এঙ্করিং বায়াসকে কাজে লাগায় । পোষাক কারখানায় বড় ধরণের ঘটনাকে সরকার ছোট করে দেখানোর চেষ্টা করে । আমাদের মনের ছাঁচ/পক্ষপাতকে ব্যবহার করে আমরা অন্যের সহানুভূতি পাবার চেষ্টা করি  অথবা পাল্টাপাল্টি আক্রমণকে বৈধতা দেই । প্যালেষ্টাইন সামান্য ঘটনা ঘটালে ইজ্রায়েল অনেক বড় আকারে প্রতিশোধ নেয়, এটি আমরা প্রায়ই দেখে থাকি ।  আমাদের মনের আরও অনেক ধরণের পক্ষপাত আছে । ধর্ম, জাতি,দেশ নিয়ে আলোচনা করার সময় আমরা আমাদের মনের পক্ষপাতকে গুরুত্ব দেই । মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন মনকে সব সময় খোলামেলা ও বিজ্ঞান নির্ভর রাখতে হবে । তবেই একটি সমাজ অগ্রসর হতে পারবে ।


আরও খবর

পরাজয় মানুষকে আপন-পর চেনাতে শেখায়

বৃহস্পতিবার ০৪ আগস্ট ২০২২




পাকিস্তানে ছয় সেনা কর্মকর্তাসহ হেলিকপ্টার নিখোঁজ

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ০২ আগস্ট 2০২2 | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ০৯ আগস্ট ২০২২ |
Image

পাকিস্তানে ছয় সেনা কর্মকর্তাসহ একটি হেলিকপ্টার নিখোঁজ হয়েছে। তাদের মধ্যে একজন জেনারেল ছিলেন। পাকিস্তানের দক্ষিণপশ্চিম অংশে তারা সেনাবাহিনী কর্তৃক বন্যাত্রাণ অপারেশনের তদারকি করছিলেন তারা।

জানা গেছে, আবহাওয়া খারাপ ছিল। সেনা অফিসারদের নিয়ে যাওয়া হেলিকপ্টারের সঙ্গে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলের যোগাযোগ ছিন্ন হয়ে যায়। 

সেনার পক্ষ থেকে বিবৃতি দিয়ে জানানো হয়েছে, বালুচিস্তানের লাসবেলা এলাকায় সেনার জওয়ানরা যে বন্যাত্রাণে নেমেছেন, তা দেখার জন্য অফিসাররা হেলিকপ্টারে সেখানে গেছিলেন। কিন্তু হেলিকপ্টারের কী হয়েছে, তা বিবৃতিতে জানানো হয়নি।

সংবাদসংস্থা রয়টার্সকে গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, কোর কম্যান্ডার সরফরাজ আলি, পাকিস্তান কোস্ট গার্ডের ডিরেক্টর জেনারেল ব্রিগেডিয়ার আমজাদ হানিফ ও দু’জন গোয়েন্দা অফিসার হেলিকপ্টারে ছিলেন।

পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, উদ্ধার ও ত্রাণের কাজ শুরু হওয়ার পর হেলিকপ্টারটি আর দেখতে পাওয়া যায়নি।

খারাপ আবহাওয়ার জন্য উদ্ধারকাজ বন্ধ রাখা হয়েছিল। মঙ্গলবার সকাল থেকে তা আবার শুরু হয়।

পাকিস্তানে ভয়ংকর বৃষ্টির পর প্রবল বন্যা হয়েছে। সেনাকে উদ্ধার ও ত্রাণের কাজে লাগানো হয়েছে। বালুচিস্তানে প্রচুর মানুষ মারা গেছেন এবং অনেক ঘরবাড়ি ভেসে গেছে।

প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ বলেছেন, পরিস্থিতি খুবই সংকটজনক। সোমবার তিনি দুর্গত অঞ্চল ঘুরে দেখেছেন। শরীফ বলেছেন, পুরো দেশ বন্যাদুর্গত ও তাদের সাহায্যকারীদের সুরক্ষার জন্য প্রার্থনা করছে।

আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী দিনগুলোতে পাকিস্তানে আরও বৃষ্টি হবে। ফলে বন্যা পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে পারে। সূত্র: ডয়েচে ভেলে, এপি, এএফপি, রয়টার্সট্রিবিউন পিকে


আরও খবর



তথ্য অধিকার আইনে তথ্য চাওয়ায় লালমনিরহাটে সাংবাদিককে হুমকি

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১৯ জুলাই ২০২২ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ০৯ আগস্ট ২০২২ |
Image

লালমনিরহাট প্রতিনিধি ॥

লালমনিরহাটে তথ্য অধিকার আইনে তথ্য চাওয়ায় লালমনিরহাট জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা আব্দুর রহিম দৈনিক যায়যায়দিন পত্রিকার লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধি জে আই সমাপ্তকে নানা রকম ভয়-ভীতি ও মামলা দিয়ে হয়রানী করার হুমকি দিয়েছেন। এ ঘটনায় ১৮ জুলাই সোমবার রাতে লালমনিরহাট সদর থানায় একটি সাধারন ডায়েরি করেন সাংবাদিক জে আই সমাপ্ত।

সাধারন ডায়েরি সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ মে ২০২২ ইং তারিখে তথ্য অধিকার আইনের নীতিমালা মেনে লালমনিরহাট জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা আব্দুর রহিমের নিকট তথ্য চেয়ে আবেদন করেন সাংবাদিক জে আই সমাপ্ত। কিন্তু তথ্য অধিকার আইন মানতে রাজি নন জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা আব্দুর রহিম। তাই তিনি যথা সময়ে তথ্য প্রদান করেননি। পরে বিষয়টি নিয়ে গত ২১ জুন ২০২২ ইং তারিখে জেলা প্রশাসক ও সভাপতি, তথ্য অধিকার বাস্তবায়নে অবেক্ষণ (সুপারভিশন) ও পরিবীক্ষণ জেলা কমিটি লালমনিরহাটের নিকট লিখিত অভিযোগ এবং গত ২২ জুন ২০২২ ইং তারিখে তথ্য অধিকার আইনের নীতিমালা অনুযায়ী রংপুর কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের উপ পরিচালক আনোয়ারুল হকের নিকট তথ্যের জন্য আপীল করেন সাংবাদিক সমাপ্ত। সেই আপীলের প্রেক্ষিতে গত ১৪ জুলাই ২০২২ ইং তারিখে রংপুর কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের উপ পরিচালক আনোয়ারুল হকের স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে লালমনিরহাট জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তাকে তথ্য সরবরাহের জন্য বলা হয়। যার একটি অনুলিখি সাংবাদিক সমাপ্তের ই-মেইলে ১৮ জুলাই ২০২২ ইং তারিখ পাঠানো হয়।

সেই চিঠির প্রেক্ষিতে জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা আব্দুর রহিমের মুঠোফোনে কল করে তথ্যের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি তার মনগড়া কিছু কথা তুলে অশোভনীয় ভাষায় কথা বলতে শুরু করেন সাংবাদিক সমাপ্তের সাথে। এক পর্যায়ে জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা আব্দুর রহিম বলেন “তথ্য নিতে অফিসে আয় শালা, তোর তথ্যটা বের করি। আমি লালমনিরহাটের লোক, দেখ তোর অবস্থা কি করি, তোর রিপোর্টার গিরি দেখাবো। তোর নামে মামলা করবো।” এভাবে প্রায় ৯ মিনিট নানা রকম হুমকি প্রদান করেন সে। পরে এ ঘটনায় সোমবার রাতে লালমনিরহাট সদর থানায় একটি সাধারন ডায়েরি (যাহার নং- ৮৬৬) করেন সাংবাদিক সমাপ্ত।

এ ব্যাপারে সাংবাদিক জে আই সমাপ্ত বলেন, রংপুর কৃষি বিপণন অধিদপ্তরের উপ পরিচালক আনোয়ারুল হকের স্বাক্ষরিত একটি চিঠিতে আমাকে তথ্য সরবরাহের জন্য লালমনিরহাট জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তাকে নির্দেশ দেয়া হয়। সেই চিঠির প্রেক্ষিতে তথ্য চাইলে আমাকে নানা রকম ভয়-ভীতি ও মামলার হুমকি প্রদান করেন কৃষি বিপণন কর্মকর্তা আব্দুর রহিম। আমি এখন মনে করছি, যে কোন সময়, যে কোন ধরনের ক্ষতি তার মাধ্যমে আমার হতে পারে। তাই থানায় একটি সাধারন ডায়েরি করেছি। তদন্ত করে পুলিশ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

লালমনিরহাট জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা আব্দুর রহিম বলেন, সাংবাদিক সমাপ্ত আমার ডিডি স্যারের নিকট অভিযোগ করায় আমার মাথা ঠিক ছিলো না, তাই কিছু কথা তাকে বলেছি।  

লালমনিরহাট সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এরশাদুল আলম জানান, জিডির কপি পেয়েছি। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।


আরও খবর