Logo
শিরোনাম
মেঘনা নদীতে গোসল করার সময় নিখোঁজ ছাত্রের মরদেহ উদ্ধার রাজবাড়ীতে ট্রাকের সাথে সংঘর্ষে মোটর সাইকেল আরোহীর মৃত্যু রাজবাড়ীতে আবৃত্তি ও কথামালায় প্রকাশনা উৎসব নওগাঁয় মোটরসাইকেলের ধাক্কায় স্কুল ছাত্র নিহত-মা ও ছোট বোন আহত মোরেলগঞ্জে শ্রমীকদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ করলেন এমপি মিলন লালমনিরহাটে বিদ্যুৎ স্পৃষ্টে মারাগেছে স্কুলছাত্র নওগাঁয় বোরো ধান চাষের শুরুতেই বিদ্যুতের লোড শেডিং, দুঃশ্চিন্তায় কৃষকরা নওগাঁয় ৩৫ কোটি টাকা মূল্যের কষ্টিপাথরের মূর্তি উদ্ধার করেছে পুলিশ কুড়িগ্রামের শীতকাতর অসহায় মানুষের পাশে কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেত্রকোনায় বিশ্ব জলাভূমি দিবস উপলক্ষে মানববন্ধন

প্রধানমন্ত্রীর উপহার-সোলার প্যানেল-দুর্গম পার্বত্যঞ্চলকে আলোকিত করেছে

প্রকাশিত:Monday ১৪ November ২০২২ | হালনাগাদ:Friday ০৩ February ২০২৩ |
Image

-মো. রেজুয়ান খান :

বাংলাদেশের ১৩ হাজার ২৯৫ বর্গ কি.মি. প্রায় দশ ভাগের এক ভাগ জুড়ে তিন পার্বত্য জেলা অবস্থিত। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার এই তিন পার্বত্য জেলার উন্নয়ন এবং এর অধিবাসীদের ভাগ্যোন্নয়নে কার্যকরী পদক্ষেপ নিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদৃষ্টিসম্পন্ন মনোভাব এবং স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের মাটি ও মানুষকে একই বন্ধনে আবদ্ধ করতে ১৯৯৭ সালে শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন করেছিলেন। এরপর থেকেই সরকার অব্যাহতভাবে পার্বত্য অঞ্চলে উন্নয়ন সহায়ক পরিবেশ এবং ব্যাপক উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পার্বত্য অঞ্চলের দুর্গম এলাকার বিদ্যুৎ সুবিধা থেকে বঞ্চিত মানুষের দিকটি বিশেষ বিবেচনায় রেখেছেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলার দুর্গম পার্বত্য এলাকার চল্লিশ হাজার পরিবারকে সোলার হোম সিস্টেম এবং বিভিন্ন পাড়াকেন্দ্র, স্টুডেন্টস হোস্টেল, অনাথ আশ্রমগুলোতে ২ হাজার ৫০০টি সোলার কমিউনিটি সিস্টেম সম্পূর্ণ বিনামূল্যে বিতরণ ও স্থাপনের কাজ চলছে। সোলার প্যানেল হতে উৎপাদিত বিদ্যুতের মাধ্যমে পাহাড়ি দুর্গম এলাকাগুলো বিদুতের আলোয় আলোকিত হচ্ছে। যার ফলে তিন পার্বত্য জেলার দুর্গম এলাকার মানুষের জীবনযাত্রার মান পূর্বের তুলনায় অধিকাংশক্ষেত্রে আধুনিক ও ইতিবাচক অবস্থা বিরাজ করছে।


দুর্গম ও প্রত্যন্ত পাহাড়ি অঞ্চলে গ্রীড লাইনের মাধ্যমে বিদ্যুত সুবিধা পৌঁছানো অত্যন্ত দুষ্কর ও ব্যয়বহুল। তাই এসব এলাকায় এ যাবৎকাল আলো ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা প্রক্রিয়ার একমাত্র উৎস ছিলো কেরোসিন বাতি বা ডিজেল জেনারেটর, যা ছিল ব্যয়বহুল। অস্বচ্ছল মানুষের কাছে বিদ্যুতের আলো পাওয়া ছিল সোনার হরিণ পাওয়ার মতো। সরকার এসব প্রান্তিক অস্বচ্ছল মানুষের জন্য বিদ্যুতের আলোর ব্যবস্থা করে দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। সরকারের উন্নয়নমূলক কার্যাবলীর অধিকাংশই পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধানে হয়ে থাকে। পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড পার্বত্য অঞ্চলের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সামাজিক, অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ জীবনমানের পরিবর্তনে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করছে। পার্বত্য অঞ্চলের সকল উন্নয়ন কাজে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড প্রশংসা ও সাফল্যের দাবি রাখে। পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড সোলার ফটোভোল্টাইক সিস্টেম স্থাপনের মাধ্যমে পার্বত্য অঞ্চলের মানুষকে বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় আনতে পেরেছে। ফটোভোল্টাইক সোলার প্যানেল সরাসরি সূর্যের আলো থেকে বিদ্যুত তৈরি করে। এটা শক্তির সোর্স হিসেবে সূর্যের আলোকে শোষণ করে। ফটোভোল্টাইক (পিভি) মডিউল হলো একটি প্যাকেজযুক্ত বিভিন্ন ভোল্টেজ এবং ওয়াটেজেজে পাওয়া ফটোভোল্টাইক সৌর কোষগুলোর সংযুক্ত সমাবেশ।

মানুষের মৌলিক চাহিদাগুলোর মধ্যে বিদ্যুৎ অপরিহার্য ও প্রয়োজনীয় উপকরণ। জাতীয় গ্রীড হতে দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা এই মুহূর্তে সম্ভব নয়। আগামি দুই যুগের মধ্যেও পার্বত্য তিন জেলার দুর্গম অঞ্চলে জাতীয় গ্রীড থেকে বিদ্যুত সরবরাহ করা সম্ভব হবে না বলে বিশেষজ্ঞরা মত দিয়েছেন। তাই সরকার দুর্গম পার্বত্য অঞ্চলের মানুষের জীবনমানের পরিবর্তনে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে সোলার হোম সিস্টেম ও সোলার কমিউনিটি সিস্টেম বিতরণ করছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার ইতোমধ্যে রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান এ তিনটি পার্বত্য জেলার ২৬টি উপজেলার দুর্গম স্থানসমূহে বিদ্যুৎ সুবিধা বঞ্চিত মানুষের জন্য সোলার হোম সিস্টেম এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পাড়াকেন্দ্র, স্টুডেন্টস হোস্টেল, অনাথ আশ্রম ইত্যাদি প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ সরবরাহের জন্য সোলার কমিউনিটি সিস্টেম চালু করেছে। 

ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর মানুষজন পাহাড়ের উপর যুগ যুগ ধরে ছড়িয়ে ছিটিয়ে বসবাসে অভ্যস্ত। প্রত্যন্ত পার্বত্য এলাকায় সেখানকার অধিবাসীরা ছোটো ছোটো গ্রামে পাড়া গড়ে তুলে বসবাস করে আসছে। প্রতিটি পাড়ায় ২০ থেকে ১০০ পরিবার বাস করে। সরকারের দেওয়া মৌলসেবাগুলো সহজলভ্য ও পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী জনগণের কাছে সহজেই পৌঁছে যায়। তবে পাহাড়ের উপর ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা মানুষগুলোর কাছে এসব সেবা অনেক সময় পৌঁছানো দুষ্কর হয়ে পড়ে। তাই সরকার পার্বত্য প্রত্যন্ত অঞ্চলে বসবাসরত দরিদ্র জনসাধারণের মাঝে সোলার প্যানেলের মাধ্যমে সৌর বিদ্যুৎ এবং কমিউনিটি সেন্টারগুলোতে অফ গ্রীডে ফটোভোল্টাইক সিস্টেমে বিদ্যুৎ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে উপকারভোগীদের মাঝে বিতরণের ব্যবস্থা নিয়েছে।  

ফটোভোল্টাইক সোলার সিস্টেমে বিদ্যুৎ সুবিধা প্রদান করার জন্য দ্বিতীয় পর্যায়ে ৪০ হাজার উপকারভোগী পরিবারকে বাছাই করা হয়েছে। এছাড়া দুর্গম এলাকার ২ হাজার ৫০০টি ফটোভোল্টাইক কমিউনিটি সিস্টেমের মাধ্যমে পাড়া কেন্দ্র, স্টুডেন্ট হোস্টেল, অনাথ আশ্রম কেন্দ্র, এতিমখানাগুলোতে বিদ্যুৎ সরবরাহ প্রদানের কাজও শুরু করেছে সরকার। সরকারের এ প্রকল্পের শিরোনাম ‌‘পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত এলাকায় সোলার প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ (দ্বিতীয় পর্যায়) নামকরণ করা হয়। প্রকল্পটি সম্পূর্ণ জিওবি অর্থায়নে মোট ২১৭ কোটি ৭১ লাখ টাকা প্রাক্কলিত ব্যয়ে জুলাই ২০২০ থেকে জুন ২০২৩ মেয়াদের মধ্যে বাস্তবায়ন কাজ সমাপ্ত হওয়ার কথা রয়েছে। প্রথম পর্যায়ে ১০ হাজার ৮৯০ টি পরিবারকে সোলার হোম সিস্টেম এবং ২ হাজার ৮১৪টি সোলার কমিউনিটি সিস্টেমের মাধ্যমে বিদ্যুৎ বঞ্চিত পাড়া কেন্দ্র, দুর্গম এলাকার স্টুডেন্ট হোস্টেল, অনাথ আশ্রম কেন্দ্র, এতিমখানাগুলোতে বিতরণ ও স্থাপন করা হয়েছে। যার ফলে ১ দশমিক ৮০ মেগাওয়াট সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদিত ও ব্যবহৃত হচ্ছে।

পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রত্যন্ত এলাকার রাঙ্গামাটি জেলায় বিদ্যুৎ বঞ্চিত পাড়ার সংখ্যা ৬৩৯টি যার মধ্যে বিদ্যুৎ বঞ্চিত পরিবারের সংখ্যা ১৬ হাজার ৪৪৩টি। ইতোমধ্যে সোলার হোম সিস্টেমের আওতায় রাঙ্গামাটি জেলার ৩ হাজার ৬৪৩টি পরিবারকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলে বিদ্যুৎ বঞ্চিত পাড়ার সংখ্যা ৪৫৪টি যার মধ্যে ১৬ হাজার ১০৭টি বিদ্যুৎ বঞ্চিত পরিবারকে উপকারভোগী পরিবার হিসেবে বাছাই করা হয়েছে। ইতোমধ্যে খাগড়াছড়ি জেলায় স্থাপিত সোলার হোম সিস্টেমের মাধ্যমে ৩ হাজার ১০৭টি উপকারভোগী পরিবারকে বিদ্যুৎ সুবিধা প্রদান করা হয়েছে। বান্দরবান জেলার দুর্গম এলাকার বিদ্যুৎ বঞ্চিত পাড়ার সংখ্যা ১ হাজার ৮৮১টি। যার মধ্যে বিদ্যুৎ সেবা প্রাপ্তি থেকে বঞ্চিত পরিবারের সংখ্যা ১৮ হাজার ৩৬০টি। ইতোমধ্যে বান্দরবান জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের ৪ হাজার ৩৬০টি পরিবারকে সোলার হোম সিস্টেমের আওতায় বিদ্যুৎ সুবিধা প্রদান করা হয়েছে।


গত ২১ সেপ্টেম্বর ২০২২ তারিখে বান্দরবান জেলার থানচি উপজেলার দুর্গম এলাকা রেমাক্রী ইউনিয়নে ‘পার্বত্য চট্টগামের প্রত্যন্ত এলাকায় সোলার প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ-২য় পর্যায়’ প্রকল্পের আওতায় ৬ কোটি টাকা মূল্যের সোলার প্যানেল সিস্টেমের বিদ্যুৎ সরঞ্জাম সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ১ হাজার ৩২৭টি পরিবারের মাঝে বিতরণ করা হয়েছে। শুধু তাই না সরঞ্জামগুলো স্থাপনের জন্য প্রত্যেককে সোলার প্যানেল সিস্টেম ব্যবহার সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ প্রদানসহ নগদ টাকা দেওয়া হয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এসব উপকরণ বিতরণ করেন। প্রতিটি সোলার প্যানেল থেকে উপকারভোগীরা ১০০ ওয়াট পিক আওয়ার বিদ্যুৎ পাবেন। সোলার প্যানেল সরঞ্জামগুলোর মাধ্যমে ৪টি এলইডি বাল্ব, ১টি সিলিং ফ্যান, ১টি টিভি, ১টি চার্জ কন্ট্রোলার চালানো যাবে। যা সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে উপকারভোগীরা কমপক্ষে ২০ বছর পর্যন্ত সৌর বিদ্যুৎ সুবিধা পাবেন।

পার্বত্য অঞ্চলের দুর্গম এলাকাগুলো বিদ্যুতায়নের জন্য সোলার প্যানেল বা সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন হলো সবচেয়ে ভালো উপায়, নির্ভরযোগ্য, পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব। পার্বত্য জনপদে সোলার প্যানেল বিতরণ ও স্থাপনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকার পার্বত্যঞ্চলকে আলোকিত করেছেন। উন্নত ও সমৃদ্ধশালী পার্বত্য অঞ্চল গড়ার মানসে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয় অবিরাম কাজ করে যাচ্ছে।


লেখক: তথ্য ও জনসংযোগ অফিসার, পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়।


আরও খবর



লালমনিরহাটে রোগীর পেটকেটে সেলাই, পরে চিকিৎসা না দিয়ে বিদায়

প্রকাশিত:Sunday ০৮ January ২০২৩ | হালনাগাদ:Friday ০৩ February ২০২৩ |
Image

নিজস্ব প্রতিনিধি  :


জেলা সদরে অবস্থিত নিরাময় ক্লিনিকে ছবিতা রাণী নামে এক রোগী দীর্ঘদিন ধরে পেট ব্যথায় ভুগলে রংপুর সহ বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য যান। একাধিক ডাক্তারের চিকিৎসা নিলে  সাময়িক রোগ দমন হলেও তা বার বার দেকা দিলে স্থানীয় নিরাময় ক্লিনিকে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হন। 

পরে তার বিভিন্ন প্রকার পরীক্ষা নিরিক্ষা শেষে ক্লিনিকের বেডে নিয়ে রোববার তাঁর শরীরে অস্ত্র পাচার করেন৷ কিন্তু উক্ত অপারেশন করার সময় গটনা বেগতিক হলে তাৎক্ষণিক তড়িঘড়ি করে রোগীর কাটা পেট সেলাই দেন। পরে রোগীর অবিভাবক  দিনমজুর শচীন ঘটনাটি তার নিকটতম লোকজনকে জানান।  কিন্তু গরীব অসহায় হওয়ায় তার এ ঘটনা নিরবে সয়ে যাওয়া ছাড়া আর কোন উপায় না পেয়ে জানান,সাংবাদিকদেরকে জানালে যদি তার কোন ক্ষতি করে সেই ভয়ে কোননঅভিযোগ করেননি।  ছবিতা রাণী বর্তমানে বেড়পাঙ্গার বাড়ীতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে উক্ত শচীনের পরিবার ও এলাকাবাসী নিশ্চিত করেছেন।  

সচেতন মহলের দাবি সঠিক রোগ নির্নয় না করেই এধরণের অস্ত্র পাচার মোটেই কাম্য নয়।


আরও খবর



হাত খরচ থেকে টাকা বাঁচিয়ে শীতবস্ত্র বিতরন

প্রকাশিত:Thursday ০৫ January ২০২৩ | হালনাগাদ:Friday ০৩ February ২০২৩ |
Image

শহিদুল ইসলাম জি এম মিঠন, স্টাফ রিপোর্টার :


“চলবো মোরা একসাথে, জয় করবো মানবতাকে” এই প্রতিপাদ্য বিষয়কে সামনে নিয়ে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের কয়েকজন যুবকের হাত ধরে পথচলা শুরু করে মথুরাবাটি সমতা সামাজিক সংগঠন। 

এই সংগঠনটি একটি অরাজনৈতিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। 

প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সংগঠনের সদস্যদের হাত খরচের টাকা বাঁচিয়ে ও আগ্রহী ব্যক্তিদের প্রদান করা আর্থিক সহযোগিতায় প্রতি বছরই নানা দুর্যোগে অতি দরিদ্রদের সহায়তা প্রদান করে আসছে। তারই ধারাবাহিকতায় সংগঠনের পক্ষ থেকে বৃহস্পতিবার উপজেলার পারমোহন ঘোষ গ্রাম ও তার আশেপাশের ১২টি গ্রামের শতাধিক শীর্তাত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র হিসেবে কম্বল বিতরন করা হয়েছে। 

পারমোহন ঘোষ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গনে শীতবস্ত্র বিতরন অনুষ্ঠানে সংগঠনের সভাপতি সোহাগ আলীর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে শীতবস্ত্র বিতরন কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন, উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা জিল্লুর রহমান। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিশা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন খাঁন, সুদরানা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক অমেন্দ্রনাথ সাহা রনি, বড়সাঁওতা উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক খোরশেদ আলম, পারমোহন ঘোষ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বিএম আশফাকুল ইসলাম, উপজেলা আওয়মীলীগের যুব ও ক্রীড়া বিষয়ক সম্পাদক সাইদুর রহমান শোভন, সংগঠনের উপদেষ্টা উজ্জ্বল আলী, সাব্বির আহমেদ, সহ-সভাপতিমোয়াজ্জেম আলী, সম্পাদক রবিউল ইসলাম, অর্থ সম্পাদক আব্দুল আলীম, প্রচার সম্পাদক বিপ্লব কুমার, সদস্য সুজন ইসলাম, মুনসুর রহমান প্রমুখ। কনকনে এই শীতে একটি গরম কাপড় পেয়ে শীর্তাতদের মুখে হাসি ফুটেছে।

এসময় বক্তারা বলেন সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান থেকে শুরু করে সামর্থবান ব্যক্তি ও বিভিন্ন সংগঠন সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়ে সমাজের গরীব-অসহায়, ছিন্নমূল মানুষদের পাশে এসে দাঁড়ায় তাহলে দেশে কোন গরীব মানুষরা আর কষ্টে জীবন-যাপন করতো না। এই সংগঠনের এমন মহৎ উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসার দাবীদার। আমরা যদি সবাই সাধ্যমতো এই সংগঠনের কর্মকান্ডে সহযোগিতা করি তাহলে আগামীতে এই সংগঠনটি দেশব্যাপী অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করবে। 


আরও খবর



প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক সহায়তার চেক পেলেন ২৬ জন সাংবাদিক

প্রকাশিত:Wednesday ০১ February ২০২৩ | হালনাগাদ:Friday ০৩ February ২০২৩ |
Image

শহিদুল ইসলাম জি এম মিঠন, স্টাফ রিপোর্টার :


নওগাঁয় ২৬ জন সাংবাদিকদের মাঝে সাংবাদিক কল‍্যান ট্রাষ্ট থেকে প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ করা হয়েছে। 

বুধবার বিকাল সারে ৩টায় নওগাঁ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এসব চেক বিতরণ করেন জেলা প্রশাসক খালিদ মেহেদী হাসান পিএএ'। এ সময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মুহাম্মদ ইব্রাহিম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) এস এম জাকির হোসেন, নওগাঁ জেলা প্রেস ক্লাব এর সভাপতি কায়েস উদ্দিন, নিয়ামতপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি শাহজাহান সাজু সহ অন্যান্য সাংবাদিকরা বক্তব‍্য রাখেন। পরে নওগাঁ জেলা সদর, নিয়ামতপুর ও পত্নীতলা উপজেলার মোট ২৬ জন সাংবাদিককে মোট ২ লাখ ৬০ হাজার টাকার চেক বিতরণ করা হয়।


আরও খবর



বিএনপির সঙ্গে গণতন্ত্র চর্চা করার মতো মানসিকতা নেই

প্রকাশিত:Friday ২৭ January ২০২৩ | হালনাগাদ:Friday ০৩ February ২০২৩ |
Image

বুলবুল আহমেদ সোহেল :

বিএনপির সঙ্গে গণতন্ত্র চর্চা করার মতো মানসিকতা নেই মন্তব্য করে নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনের আলোচিত সংসদ সদস্য একে এম শামীম ওসমান বলেছেন, নারায়ণগঞ্জকে অশান্ত করার চেষ্টা করলে এখানে থাকতে দেব না।‘নেতৃবৃন্দ বলছেন গণতন্ত্রের কথা, ভোট নিরপেক্ষ হওয়ার কথা। বিএনপির ভাইয়েরা যারা আছেন, ২০০১ থেকে ২০০৭ পর্যন্ত কী করেছেন? পঁচাত্তর সালের পর আপনারা যখন ক্ষমতায় ছিলেন, তখন কী করেছিলেন? এই আদালত থেকে আওয়ামী লীগের নেতাদের মার খেয়ে চলে যেতে হয়েছে। এগুলো কি সামান্য অত্যাচার? নারায়ণগঞ্জ জেলা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্যানেলে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিয়ে বৃহস্পতিবার (২৬ জানুয়ারি) দুপুরের দিকে তিনি এ কথা বলেন। 

তিনি আরে বলেন, ‘আপনারা দেখবেন লিংকরোডে পাপ্পু ও মনিরের কবর রয়েছে। তাদেরকে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল, এমনকি তাদের লাশের উপরও গুলি করা হয়েছিল। আমাদের বাড়ি ঘরেও হামলা করা হয়েছিল, ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। সিদ্ধিরগঞ্জ এলাকায় এক খুনির নির্দেশে নয়জন নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছিল। বিএনপির আমলে নারায়ণগঞ্জের ৪৯ জন লোককে আমাদের হাত দিয়ে দাফন করতে হয়েছে।’ 

বিএনপি বলেছিল ১০ ডিসেম্বর হ্যান হবে, ত্যান হবে; আমি বলেছিলাম ঘোড়ার ডিম হবে। এখনও বলছি ঘোড়ার ডিম না, বিএনপির কোনো ডিমই হবে না। ঘোড়াও ওদের জন্য ডিম পাড়বে না। ওদের দিন শেষ। বিএনপি এখন আম্মা গ্রুপ, ভাইয়া গ্রুপে ভাগ হয়ে গেছে।’ 

বিএনপি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘আপনারা অনেক বড় বড় কথা বলছেন, শান্ত থাকুন, নারায়ণগঞ্জের পরিবশে শান্ত থাকতে দেন। আমরা সবাইকে ক্ষমা করে দিয়েছি। আমাদের ওপর অনেক নির্যাতন করা হয়েছিল। সেগুলো যদি একবার আমাদের মাথায় মনে পড়ে যায়, তাহলে কিন্তু আপনাদের নারায়ণগঞ্জে বাস করা কঠিন হয়ে যাবে।‘আমরা ধৈর্য ধরেছি, কিন্তু আমরা দুর্বল না। আপনারা যে অপরাধ করেছেন তার জন্য বিচার হয়েছে। জনগণ আপনাদের বিরুদ্ধে রায় দিয়েছে। রাষ্ট্রীয়ভাবে সব জায়গায় এবং নারায়ণগঞ্জ বারেও রায় দেওয়া হয়েছে।’


নির্বাচনের বছরে বিরোধী শক্তি নানা ধরনের অপকর্মে লিপ্ত হতে পারে বলেও সতর্ক করেন শামীম ওসমান। তিনি বলেন, ‘এই বছরটা হচ্ছে বাংলাদেশের সবচেয়ে সংকটের বছর। সব অশুভ শক্তি, সব ষড়যন্ত্রকারী এক হয়েছে। এরা কামড় দেওয়ার চেষ্টা করলে আমরাও যারা গণতন্ত্রে বিশ্বাসী, যারা জাতির পিতার সৈনিক, আমরাও প্রস্তুত আছি, ওই সমস্ত অশুভ শক্তির বিষদাঁত ভেঙে দেওয়ার জন্য। আমরা প্রস্তুত থাকব, ছিলাম, আছি এবং নারাণগঞ্জে আগামীতে নেতৃত্ব দেব।’ 

আইনজীবীদের নির্বাচন নিয়ে তিনি বলেন, ‘আইনজীবী প্যানেলের এই বার একটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গা। এবারের প্রার্থী সভাপতি জুয়েল ও সাধারণ সম্পাদক মোহসিনসহ প্রতিটা সদস্য যেন সমান ভোট পান। এই বিষয়টা আপনাদের দৃষ্টি রাখার জন্য বলছি। ব্যক্তিগত দ্বন্ধে যাবেন না। সবাই একত্রিত হয়ে বারের আওয়ামী লীগের প্যানেলকে জয়যুক্ত করবেন।’

সভায় উপস্থিত ছিলেন মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক খোকন সাহা, মনিরুজ্জামান বুলবুল, এক্স পিপি ও সিনিয়র আইনজীবী ওয়াজেদ আলী খোকন, আইনজীবী সমিতি নির্বাচনের সভাপতি প্রার্থী হাসান ফেরদৌস জুয়েল ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী মোহসিন মিয়াসহ আওয়ামী লীগপন্থি বারের আইনজীবীরা।

নারায়ণগঞ্জ আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে আওয়ামী লীগ মনোনীত জুয়েল-মোহসিন প্যানেলে ১৭ প্রার্থী প্রতিদ্ধন্ধিতা করছেন। আগামী ৩০ জানুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।


আরও খবর



ফুলবাড়িতে,২৫ কেজি গাঁজাসহ-এক মাদক কারবারি আটক

প্রকাশিত:Monday ২৩ January 20২৩ | হালনাগাদ:Friday ০৩ February ২০২৩ |
Image

উত্তম কুমার মোহন্ত,ফুলবাড়ী (কুড়িগ্রাম) :

কুড়িগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার এর নির্দেশ ক্রমে চলমান মাদক বিরোধী অভিযানের ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে ফুলবাড়ি থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে ২৫কেজি গাঁজা সহ-এক মাদক কারবারি কে আটক করে।

জানাযায় ফুলবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)ফজলুর রহমানের নেতৃত্বে,থানা পুলিশের মাদক উদ্ধারকারী একটি চৌকস টিম ২২(জানুয়ারি) রবিবার রাত একটার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে উপজেলার শিমুলবাড়ি ইউনিয়নের মিয়াপাড়া জাকলাটারী এলাকায় অভিযান চালিয়ে নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের খালিশা কোটাল গ্রামের মোঃ আব্দুল জলিলের ছেলে কুখ্যাত মাদক কারবারি মোঃ রশিদুল ইসলাম (৩৩)কে ২৫ কেজি গাঁজা সহ-হাতেনাতে আটক করে।

এব্যাপারে ফুলবাড়ী থানার অফিসার ইনচার্জ ওসি ফজলুর রহমান জানান আটক ওই মাদক কারবারির বিরুদ্ধে নিয়মিত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রুজু করে জেলহাজতে প্রেরণ করা হয়েছে। 


আরও খবর