Logo
শিরোনাম
কমনওয়েলথ উইমেন্স ফোরামের সভায় প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা

পরিবারই প্রথম প্রতিষ্ঠান, যা নারী নেতৃত্ব সৃষ্টি ও ক্ষমতায়ন করতে পারে”

প্রকাশিত:সোমবার ২০ জুন ২০22 | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 |
Image

‘নারী নেতৃত্ব সৃষ্টি করা অত্যন্ত কঠিন। পরিবার থেকেই নারীর নেতৃত্ব তৈরি ও নারীর ক্ষমতায়ন করতে হবে। কারণ পরিবারই প্রথম প্রতিষ্ঠান, যা তাদের কন্যা ও বোনদের মাঝে নেতৃত্ব সৃষ্টি ও ক্ষমতায়ন করতে পারে বলে জানিয়েছেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা।

প্রতিমন্ত্রী ইন্দিরা বলেন, বাংলাদেশে প্রধানমন্ত্রী নারী, স্পিকার নারী, বিরোধী দলীয় নেতা নারী ও সংসদীয় উপনেতা নারী। যা বিশ্বে বিরল উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। বাংলাদেশে নারী সচিব, বিচারক, মেজর জেনারেল, বিশ্ব বিদ্যালয়ের ভিসি ও জাতিসংঘের অধীনে বাংলাদেশের নারীরা শান্তি রক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালন করছে। বাংলাদেশে মোট চুয়াত্তর জন সংসদ সদস্য আছে যার মধ্যে পঞ্চাশটি আসন নারীদের জন্য সংরক্ষিত। এছাড়া স্থানীয় সরকার পর্যায়ে বিশ হাজার নির্বাচিত নারী জনপ্রতিনিধি রয়েছে। 

আজ (২০ জুন সোমবার) রুয়ান্ডার রাজধানী কিগালিতে অনুষ্ঠিত ৩য় কমনওয়েলথ উইমেন্স ফোরামের প্রথম দিনে ‘উইমেন ইন লিডারশিপ: বিয়ন্ড নাম্বারস’ সেশনে আলোচনায় অংশ নিয়ে প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা এসব কথা বলেন। রুয়ান্ডার রাজধানী কিগালিতে অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী সম্মেলনের উদ্বোধন করেন রুয়ান্ডার ফার্স্ট লেডি জেনেট কাগামে (Jeannette Kagame)। স্বাগত বক্তব্য দেন কমনওয়েলথের সেক্রেটারি জেনারেল প্যাট্রিসিয়া স্কটল্যান্ড কিউসি (Patricia Scotland QC)।   

প্রতিমন্ত্রী ইন্দিরা আরো বলেন, নারী নেতৃত্ব সৃষ্টিতে বড় বাধা হলো সামাজিক বাধা ও সচেতনতার অভাব। নারী ক্ষমতায়ন হলে সমাজের সকলে উপকৃত হবে। কারণ নারীরা কর্মক্ষেত্রে অত্যন্ত বিশ্বস্ত ও সৎ। বিশ্বে যেসকল দেশে নারী সরকার প্রধান আছে, সেখানে নারীর ক্ষমতায়ন দ্রুত হচ্ছে। বাংলাদেশ রাজনৈতিক দলে এক তৃতীয়াংশ নারী সদস্য রাখার নির্দেশনা রয়েছে। বাংলাদেশে অর্থনৈতিক কাজে নারীরা অনেক এগিয়েছে এবং চল্লিশ লক্ষ নারী গার্মেন্টস সেক্টরে কাজ করছে। যা রপ্তানী আয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। 

প্রথম দিনে ‘উইমেন ইন লিডারশিপ: বিয়ন্ড নাম্বারস’ সেশনে যুক্তরাজ্যের চেরী ব্লেয়ার ফাউন্ডশনের প্রতিষ্ঠাতা চেরী ব্লেয়ার ( Cherie Blair), দক্ষিণ আফ্রিকার সমবায় বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী থেম্বেসাইল নকান্ডিমেং ( Thembisile Nkandimeng), যুক্ত্রাজ্যের এমপি হ্যারিয়েট ব্যাল্ডউইন ( Harriet Baldwin), নাইজেরিয়ার অ্যামেরিকান ইউনিভার্সিটির প্রেসিডেন্ট ড. মার্গি এনসাইন ( Margee ensign) ও কমনওয়েলথ লোকাল গভার্নমেন্টের সেক্রেটারি জেনারেল লুসি স্লাক (Lucy Slack) । 

কমনওয়েলথ উইমেন্স ফোরামে কমনওয়েলথভুক্ত দেশের নারী ও জেন্ডার বিষয়ক মন্ত্রী ও প্রতিনিধিসহ পাঁচশত বেশী ডেলিগেট অংশগ্রহণ করছে।কিগালিতে অনুষ্ঠিত দুই দিনব্যাপী কমনওয়েলথ উইমেন্স ফোরামের প্রতিপাদ্য ডেলিভারিং কমন ফিউচার: ট্রান্সফর্মিং জেন্ডার ইক্যুয়ালিটি। এবারের সভায় ‘উইমেন ইন লিডারশিপ: বিয়ন্ড নাম্বারস, উইমেন’স ইকোনমিক এমপাওয়ারমেন্ট: ব্রেকিং ব্রেরিয়ার্স’, ‘এনগেজিং মেন এন্ড বয়েজ: এন্ডিং ভায়োলেন্স এগেইনিস্ট উইমেন এন্ড গার্লস’, ‘জেন্ডার এন্ড ক্লাইমেট চেঞ্জ: ইন্টার‍্যাকশন এন্ড অপারচুনিটিজ ফর প্রগ্রেস’ এবং হিউম্যান ক্যাপিটাল ডেভেলপমেন্ট: বিল্ডিং গার্লস লিডারস ফর টুমোরো’ সেশন অনুষ্ঠিত হবে। উল্লেখ্য যে, ২০১৩ সালে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত ১০ম কমনওয়েলথ উইমেন এ্যাফেয়ার্স মিনিস্ট্রিয়াল মিটিং ও কমনওয়েলথ জেন্ডার এ্যাকশন প্লান মিটিং এ কমনওয়েলথ উইমেন্স ফোরামের প্রস্তাব করা হয় যা পরবর্তীতে কমনওয়েলথ উইমেন্স ফোরাম হিসবে গৃহীত হয়।

প্রতিমন্ত্রী ফজিলাতুন নেসা ইন্দিরা সেশন পরবর্তিতে যুক্তরাজ্যের সাবেক প্রদানমন্ত্রী টনি ব্লেয়ারের স্ত্রী ও চেরী ব্লেয়ার ফাউন্ডশনের প্রতিষ্ঠাতা চেরী ব্লেয়ারের সাথে সৌজন্য সাক্ষাত করেন। এ সময় চেরি ব্লেয়ার বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়নে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি যুক্তরাজ্য লেবার পার্টির এমপি, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’র ভাগ্নী ও শেখ রেহানার কন্যা টিউলিপ সিদ্দিক’র নেতৃত্বেরও প্রশংসা করেন। তিনি বাংলাদেশে নারীর ক্ষমতায়ন ও নারীর অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের জন্য নিকট ভবিষ্যতে বাংলাদেশ সফর করবেন বলে আগ্রহ প্রকাশ করেন ও বাংলাদেশকে যুক্ত্রাজ্যের ঘনিষ্ঠ বন্ধু রাষ্ট্র হিসবে উল্লেখ করেন।


আরও খবর



ভারতীয় রুপির মান সর্বকালের সর্বনিম্নে

প্রকাশিত:রবিবার ১২ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 |
Image

মার্কিন ডলারের বিপরীতে ভারতীয় মুদ্রার (রুপি) মান আরও কমেছে। গতকাল মার্কিন মুদ্রার বিপরীতে রুপির মান সর্বকালের সর্বনিম্ন পর্যায়ে গিয়ে ঠেকেছে। ভারতীয় প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে এ খবর পাওয়া গেছে।

কিছুদিন পর মুদ্রাস্ফীতির তথ্য প্রকাশ করবে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংক (ফেড) অদূর ভবিষ্যতে সুদহারও কমাতে পারে।

এর আগে দেশি ও আন্তর্জাতিক শেয়ারবাজারে বিনিয়োগে সতর্ক ভারতীয় বিনিয়োগকারীরা। ফলে ভারতে ইক্যুইটি কমেছে। এতে ডলারের বিপরীতে রুপির ব্যাপক দরপতন হয়েছে। এছাড়া নেপথ্যে বিশ্বব্যাপী ক্রমবর্ধমান জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধিও রয়েছে।

আন্তঃব্যাংক বিদেশি বিনিময় বাজারে দিনের শুরুতে প্রতি ডলার বিক্রি হয় ৭৭ দশমিক ৮১ রুপিতে। আর দিনের শেষ ভাগে আন্তর্জাতিক মুদ্রাটি লেনদেন হয় ৭৭ দশমিক ৮৭ রুপিতে। যা ভারতীয় ইতিহাসে সর্বনিম্ন।

এর আগের দিন এক ডলারের বিনিময় হার ছিল ৭৭ দশমিক ৭৬ রুপি। যা ছিল রেকর্ড সর্বনিম্ন। অর্থাৎ একদিনের ব্যবধানেই তা ভেঙে যায়।

উল্লেখ্য, ইক্যুইটি হলো একটি মিউচুয়াল ফান্ড স্কিম, যা প্রধানত কোম্পানিগুলোর শেয়ার/স্টকগুলোতে বিনিয়োগ করে।


আরও খবর

ছোট ও মাঝারি গরুর দাম বেশি

শুক্রবার ০১ জুলাই ২০২২




বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনা আওয়ামীলীগের না- শামীম ওসমান

প্রকাশিত:শুক্রবার ২৪ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 |
Image

 বুলবুল আহমেদ সোহেল ; নারায়ণগঞ্জঃ 

নারায়ণগঞ্জ ৪ আসনের সংসদ সদস্য একেএম শামীম ওসমান বলেছেন আমরা বঙ্গবন্ধু ও শেখ হাসিনাকে আওয়ামী লীগ করন করে ফেলছি। বঙ্গবন্ধু আওয়ামী লীগের না,বঙ্গবন্ধু সারা জাতির ছিলেন। শেখ হাসিনা আওয়ামী লীগের সম্পদ ছিলেন, কিন্তু এখন আর আওয়ামী লীগের সম্পদ না। শেখ হাসিনা হচ্ছেন এখন বাংলাদেশের সম্পদ। শেখ হাসিনা হচ্ছেন ছোট ছোট বাচ্চাদের আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। স্বপ্ন পুরোনের জায়গা, যে স্বপ্ন দেখে সে স্বপ্ন পূরণ করে। শেখ হাসিনা আজ প্রমান করেছেন সারাবিশ্বের কাছে,যে বাংলাদেশ কারো উপরে ভরসা করে নেই। বাংলাদেশ নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে আছে,করো উপর ভরসা করে দাড়িয়ে নেই।

তিনি বলেন আগামী ২৫ জুন পদ্মা সেতু উদ্বোধন হবে। পদ্মা সেতু উদ্বোধন নিয়ে অনেকেই সমালোচনা করছেন, অনেকেই বলছেন বণ্যা পরিস্থিতি যোগ করছেন। বন্ধ্যাতে শেখ হাসিনা বসে নাই। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী,পুলিশ,র‌্যাব,বিজিবি,কোষ্টগার্ড,আওয়ামীলীগ,সাধারণ মানুষ বণ্যা কবোলিত মানুষের ঘরে ঘরে পৌঁছে গিয়েছে। ঐটাও চলছে এইটাও চলবে। পদ্মা সেতুর কারণে অর্থনৈতিক ভিত্তিতে টু পয়েন্ট ফাইভ পারসেন্ট জিডিপি বেড়ে যাবে।

শামীম ওসমান বলেন, বাংলাদেশ যে মাথা উঁচু করে দাঁড়াচ্ছে কিছু মানুষের কাছে ভালো লাগে না। সামনের সময় অনেক কঠিন কিন্তু স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি সফল হতে পারবে না। একাত্তরের পরাজিত হয়েছে, আগামীতেও পরাজিত হবে। 

বৃহস্পতিবার (২৪ জুন) বিকেলে নারায়ণগঞ্জ শিল্পকলা একাডেমির অডিটোরিয়ামে পাঁচগুণি ব্যাক্তিকে সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানের আলোচনা সভায় প্রদান অতিথীর বক্তৃতায় এসব কথা বলেন। পাঁচ গুণীজন ব্যক্তিকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে শিল্পকলা একাডেমি সম্মাননা ২০২১ প্রদান করা হয়। অ্যাক্রোবেটিক প্রদর্শনী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্যদিয়ে একাডেমির এ কর্মসূচি শেষ হয়। 

জেলা প্রশাসক মঞ্জুরুল হাফিজের সভাপতিত্বে আরও বক্তব্য রাখেন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আমির খসরু, জেলা সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি আব্দুস সালাম, প্রেসক্লাবের সভাপতি খন্দকার শাহ আলম সহ সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ব ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।


আরও খবর



তুয়ারী মারাইং ট্রেইল ভ্রমণ

প্রকাশিত:সোমবার ২০ জুন ২০22 | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 |
Image

গন্তব্য তুয়ারী মারাইং। সঙ্গী অদম্য দামালের দল দে-ছুট ভ্রমণ সংঘ। খাগড়াছড়িগামী রাতের গাড়িতে চড়ে ভোরেই পৌঁছি। হেটেলে উঠে সাফসুতর হতে হতেই দীঘিনালা পথের বাহন মাহেন্দ্র প্রস্তুত। গাইড মিল্টন ত্রিপুরার নির্দেশনা মতে ছুটলাম। পথে ব্রেক দিয়ে পেটে কিছু দানাপানি ঢুকিয়ে নিই। সারাদিন কী পাব আর খাবো। তাই গরম গরম ভাত, ডিম, ভর্তা, ডাল দিয়েই সকালের নাশতা সেরে নিলাম। এরপর ছুটলাম পিচঢালা আঁকাবাঁকা পথে।

যেতে যেতে নয় মাইল ছাড়িয়ে কিছুটা এগিয়ে মাহেন্দ্র ঢুকে যায় ইট-সুরকির পথ মাইতুইপাড়ার দিকে। মনের ভেতর বেশ ভালোলাগা কাজ করতে থাকে। চারপাশ সুনসান নীরবতা ভর করা অরণ্য ঘেরা সরু পথ। আলহাজ মোস্তফা হাকিম বিদ্যা নিকেতন ছাড়িয়ে সীমানাপাড়ায় পৌঁছে গাড়ি ব্রেক। এবার শুরু ঢেউ খেলানো পাহাড়ে ট্র্যাকিং। মাথার উপর নীল আসমানজুড়ে শরৎ কালের শুভ্রতায় ছুটে চলছি। সঙ্গে জুমের ফসলের মন উদাস করা ঘ্রাণ।

চলার পথে ছোট্ট একটি জুমঘরে খানিকটা সময় জিরিয়ে নেওয়া। মাঝেমধ্যে দূর থেকে দৈত্যাকার গাছের ঘন অরণ্য দেখার মাঝে অদ্ভুদ অনুভূতি দোল দেয়। এরকমভাবে প্রায় ঘণ্টাখানেক হাইকিং-ট্র্যাকিং করার পর, এক বিশাল খাদের কিনারায় গিয়ে থামতে হয়। এবার চিকন চিকন বাঁশের ফাঁক গলে নামতে হবে। দেখতে এসেছি -দেখতেই হবে।

 তাই লতা-গুল্মের সাহায্যে নেমে যাই। নামলাম তো ঠিকই। কিন্তু এর পরের দৃশ্য আরও ভয়ঙ্কর। অনবরত পানি গড়িয়ে যাচ্ছে। প্রায় দেড়শ ফুট উপর হতে নিচের দিকে তাকিয়ে দেখি পাথর আর পাথর। ঝুম বর্ষায় এটাও হয়তো একটা ঝর্ণার রূপ ধারণ করে থাকে। ঠিক ওই জায়গাটা দিয়েই ১০/১২ ফুট নিচে নামতে হবে। একটু এদিক সেদিক হলেই সাইজ। কি আর করা। দুর্বার দে-ছুট বলে কথা। সঙ্গীদের সাহায্যে রশি বেয়ে নেমে পড়ি। সেইরকম রোমাঞ্চকর অনুভূতি। লিখে বুঝানো মুশকিল। বুঝতে হলে যেতে হবে মায়াবি প্রকৃতির সান্নিধ্যে ঘেরা তুয়ারী মারাইং। প্রকৃতি যেমনি মায়াবি, ঠিক তেমনি আবার চরম প্রতিশোধ পরায়ন। 

যাক সেসব গুরুগম্ভীর কথা। বরং বাকি অংশের ট্রেইল নিয়ে গল্প করি। তুয়ারী মারাইং ঝর্ণার দেখা পেতে আর খুব বেশি পথ ছিল না। যতটুকুনই ছিল শুধু পাথর আর পাথর। দুইপাশে খাড়া উঁচু পাহাড়। ওর মাঝ দিয়েই চলছিল আমাদের হাইকিং। প্রাচীন গাছগুলোর ডালপালা এমনভাবে একটা আরেকটার সঙ্গে জড়িয়েছিল যে কেউ প্রথম দেখায় ভুতুড়ে বাড়ির প্রান্তর মনে করে থাকবে। ভ্রমণান্দ ঠিক এই জায়গাটাতেই। যেতে যেতে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ঝর্ণার দেখা মিলে। 

সুবহানাল্লাহ। তুয়ারী মারাইং ঝর্ণার রূপ দেখব নাকি এর পরিবেশের নয়নাভিরাম সৌন্দর্য দেখব। কোনটা রেখে কোনটায় দৃষ্টি আটকাব। পুরাই অস্থির প্রকৃতি। প্রায় শতফিট উচ্চতা থেকে ঝর্ণার পানীয় ধারা পতনের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য। মন মাতানো অনবরত ছন্দতোলা রিমঝিম শব্দ। পানি পড়তে পড়তে ঝর্ণার সামনে খুব সুন্দর ক্যাসকেড তৈরি হয়েছে। যেখানে অবলীলায় সাঁতার কাটা যায়। ঝর্ণার ডান সাইডের পাহাড়ের পাদদেশটা চমৎকার আকৃতির। যেন বিশাল একটি থালা। 

সম্ভবত এই কারণেই ঝর্ণার নামটা তুয়ারী মারাইং। তুয়ারী অর্থ কুয়া/কূপ আর মারাইং অর্থ থালা/বাসন। অর্থাৎ কুয়ার থালা। এটি একটি ত্রিপুরা ভাষার শব্দ। সব মিলিয়ে তুয়ারী মাইরাং ঝর্ণা এর পাহাড়ের পাদদেশের ভৌগোলিক আকৃতিসহ এর যাবার ট্রেইলটা অসাধারণ সৌন্দর্য বহন করে আছে। যে কোনো ভ্রমণপিপাসু তুয়ারী মারাইং দেখতে গিয়ে আমৃত্যু সুন্দর স্মৃতির ঝুলি নিয়ে ফিরতে পারবেন।

যাবেন কীভাবে: ঢাকা-খাগড়াছড়ি রুটে বিভিন্ন পরিবহনের বাস সার্ভিস চলাচল করে থাকে। খাগড়াছড়ি বাসস্ট্যান্ড হতে চান্দের গাড়ি/মাহেন্দ্র/সিএনজিতে দীঘিনালা নয় মাইল এলাকার সীমানাপাড়া। মাইতুই বা সীমানাপাড়া হতে স্থানীয় গাইড পাওয়া যায়।

থাকবেন খাবেন কোথায়: খাগড়াছড়ি শহরে মানভেদে বিভিন্ন আবাসিক খাবার হোটেল রয়েছে। চাইলে তুয়ারী মারাইং দিনে দিনে দেখে রাতের গাড়িতে নিজ গন্তব্যে ফিরতে পারবেন।

সতর্কতা: অ্যাডভেঞ্জার ট্রাভেল করার উপযোগী রশি, শুকনো খাবার পর্যাপ্ত পানিসহ প্রয়োজনীয় ওষুধ সঙ্গে নেবেন।

টিপস: শীত মৌসুমে তুয়ারী মারাইং ট্রেইল ভ্রমণ হবে অনন্য।

 

 

 


আরও খবর

কুয়াকাটা সৈকতে হয়রানি

বৃহস্পতিবার ০২ জুন 2০২2




ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের ট্রেন যোগাযোগ বন্ধ

গাজীপুরে মালবাহী ট্রেন লাইনচ্যূত

প্রকাশিত:রবিবার ০৫ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 |
Image

সদরুল আইনঃ

 গাজীপুরের জয়দেবপুর রেলওয়ে জংশন এলাকায় একটি মালবাহী ট্রেন লাইনচ্যুত হয়ে ঢাকার সঙ্গে উত্তরবঙ্গের ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।

আজ রোববার (৫ জুন) দুপুরে মালবাহী ট্রেনের পেছনের চারটি বগি লাইনচ্যুত হয় বলে জানা গেছে।

জানা যায, রংপুরগামী মালবাহী ট্রেনটি জয়দেবপুর রেলওয়ে জংশন এলাকায় অতিক্রম করার সময় চারটি বগি লাইনচ্যুত হয়।

এছাড়া রাজবাড়ী সড়কে সকল প্রকার যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। উদ্ধারকারী দলকে খবর দেওয়ার পর তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছেছেন।

জয়দেবপুর রেলওয়ে জংশন পুলিশ ক্যাম্পের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. শহীদুল্লাহ হিরো গণমাধ্যমকে জানান, লাইনচ্যুত ট্রেনটি রেল লাইনে তুলতে কতক্ষণ সময় লাগবে তা এখনি বলা যাচ্ছে না।


আরও খবর



এক সপ্তায়ও পুলিশ উদ্ধার করতে পারেনি অপহৃত শিশু আফসানাকে

প্রকাশিত:শনিবার ০৪ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 |
Image

সদরুল আইনঃ

            গাজীপুরের শ্রীপুরে নিখোঁজের এক সপ্তাহ অতিবাহিত হলেও অপহৃত আফসানা আক্তার (৮) নামের এক শিশুকে খুঁজে পায়নি পুলিশ।

এ ঘটনায় সাবেক স্বামীর বিরুদ্ধে রবিবার (২৯ মে) শ্রীপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন অপহৃত শিশুর মা সেলিনা আক্তার। 

           অভিযুক্ত আল-আমিন (৩৫) ময়মনসিংহের পাগলা থানার চাকুয়া গ্রামের মৃত রইছ উদ্দিনের ছেলে। তিনি পেশায় রিকশাচালক। ভুক্তভোগীর মা সেলিনা আক্তার শ্রীপুর উপজেলার বরমী ইউনিয়নের সাতখামাইর গ্রামের মফিজ উদ্দিনের মেয়ে।

জানা যায়, প্রায় ১৫ বছর আগে পারিবারিকভাবে আল-আমিনের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে ঝগড়া লেগেই থাকতো। 

এসব ঘটনায় বছর খানেক আগে আল-আমিনকে তালাক দেন সেলিনা। পরে ছেলেমেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়ি সাতখামাইর গ্রামে বসবাস শুরু করেন। সেখানে বিভিন্ন মানুষের বাড়িতে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন সেলিনা।

অভিযোগপত্রে সেলিনা উল্লেখ করেন, গত ২৬ মে বিকালে বাড়ির পাশে নানার দোকানে যাচ্ছিল আফসানা আক্তার। পথে আল-আমিন বিভিন্ন ভয়-ভীতি দেখিয়ে তাকে নিয়ে যায়। বিষয়টি পরে জানতে পারেন সেলিনা। 

সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজখুঁজি করেও মেয়ের সন্ধান না পেয়ে শ্রীপুর থানায় পুলিশের সহযোগিতা চেয়ে আবেদন করেন তিনি।

সেলিনা অভিযোগ করেন, ‌‘পুলিশ স্যারের (এএসআই ইব্রাহিম খলিল) কাছে গিয়েছিলাম। স্যার আমাকে বলেছেন, মেয়ে কোথায় আছে তা জানাতে। আমি যদি জানতাম আমার মেয়েকে কোথায় নিয়ে রেখেছে, তাহলে কি পুলিশের কাছে যেতাম? আমি গরিব বলে মেয়েকে নিয়ে যাওয়ার এক সপ্তাহ পরও পুলিশ উদ্ধারে কোনও ব্যবস্থা নেয়নি।

এ বিষয়ে শ্রীপুর থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) ইব্রাহিম খলিল বলেন, ‘শিশুটির মা গত ৩০ মে আমার কাছে এসেছিলেন। আমি তাকে আল-আমিন বা তার কোনও স্বজনের মোবাইল ফোন নম্বর দিতে বলেছিলাম। উনি দিতে পারেননি। কোনও সোর্সও নেই। আল-আমিন ও শিশুটিকে কীভাবে খুঁজে বের করবো?’


আরও খবর