Logo
শিরোনাম

সাকিব-মাহমুদউল্লাহকে ‘একটা ভালো মেমোরিস’ দিতে চান শান্ত

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১৬ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২১ জুন ২০২৪ |

Image



স্পোর্টস রিপোর্টার:

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ১৯তম দল হিসেবে গত পরশু দিন নিজেদের ১৫ সদস্যের স্কোয়াড ঘোষণা করে বিসিবি। এই দল নিয়েই গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশে ঢাকা ছাড়েন টাইগাররা।

তবে তার আগে বুধবার শান্তবাহিনী সকালে মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে প্রায় ঘণ্টা দুয়েক অনুশীলন করেন। সেখান থেকে ড্রেসিং রুমে গিয়ে প্রস্তুত হয়ে বৈশ্বিক ক্রিকেট আসরে যাওয়ার আগে আনুষ্ঠানিক ফটোসেশনে অংশগ্রহণ করেন টাইগাররা।

সেখানে প্রথমে স্কোয়াডের ১৫ ক্রিকেটার পরবর্তীকালে কোচ ও বোর্ড সভাপতির সঙ্গে ফটোসেশন করা হয়। এরপর দুপুরে গণমাধ্যমের মুখোমুখি হয় তরুণ অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।

সেখানেই আসন্ন বিশ্বকাপ প্রসঙ্গে কথা বলেন। এ সময় এ বৈশ্বিক ক্রিকেট আসরে স্কোয়াডে থাকা দুই অভিজ্ঞ ক্রিকেটার সাকিব আল হাসান ও মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে ভালো স্মৃতি দেওয়ারও প্রত্যাশা করেন শান্ত।


সবশেষ ২০২২ সালে অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে টাইগার স্কোয়াডে শান্তকে যুক্ত করার পর বেশ আলোচনা-সমালোচনা হয়। কারণ সে সময় ব্যাট হাতে ধারাবাহিক ছিলেন না তিনি।

তবে পরবর্তীকালে আসরটিতে দলের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ছিলেন। পাঁচ ম্যাচে দুই ফিফটির ইনিংসের মধ্য দিয়ে ১৮০ করেন তিনি। সেখান থেকেই শান্তর ঘুরে দাঁড়ানোর শুরু। এরপর ২০২৩ সালটা তো কাটিয়েছেন স্বপ্নের মতো। যদিও সম্প্রতি ব্যাট হাতে খুব বেশি একটা সুবিধাজনক অবস্থানে নেই শান্ত।

তবে বিশ্বকাপে দলের জন্য ভালো কিছু করতে পারবেন বলেই মনে করেন টাইগার তরুণ এ অধিনায়ক।

এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘অবশ্যই আমার শেষ বিশ্বকাপটায় ভালো স্মৃতি রয়েছে। আমার মনে হয় সেখান থেকেই ঘুরে দাঁড়িয়েছিলাম। আশা করবে... এবার আমি বলব যে ব্যাটিং নিয়ে খুব বেশি চিন্তা করছি, তা না, আমার যেই কঠোর পরিশ্রম করা কিংবা আমার যে জায়গায় উন্নতি করার দরকার, ঐ জিনিসগুলো আমি অনুশীলনে করছি, তো আমি আশা করছি এবং আমি আত্মবিশ্বাসী যে, ভালোভাবেই আবার ফিরে আসব।’

বাংলাদেশের অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্ত।
বাংলাদেশের হয়ে এখন পর্যন্ত সবকটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে খেলা খেলোয়াড় সাকিব আল হাসান। তার পরই রয়েছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। সব শেষ এই ফরম্যাটের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে সুযোগ পেলে তিনিও সাকিবের পাশেই থাকতেন।

ধারণা করা হচ্ছে এই দুই ক্রিকেটারের এটাই এই ফরম্যাটে শেষ বিশ্বকাপ। কেননা তারা তাদের ক্যারিয়ারের গোধূলিলগ্নে রয়েছেন। সাকিবের বর্তমান বয়স ৩৭ বছর এবং মাহমুদউল্লাহর ৩৮। আর এই দুই অভিজ্ঞ ক্রিকেটারকে এবারের আসরে বিশেষ কিছু উপহার দিতে চান তরুণ টাইগার অধিনায়ক।

এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘এখনো জানি না, এটা তাদের শেষ বিশ্বকাপ কি না, এটা একটা ধারণা। তবে তরুণ খেলোয়াড় হিসেবে আমরা যারা আছি, অবশ্যই চাইব যে ওনারা এত লম্বা সময় ধরে খেলছেন, তাদেরকে একটা ভালো মেমোরিস দেওয়ার।


যে ভালো একটা বিশ্বকাপ শেষ করে তাদের উপহার দিলাম, অবশ্যই এটা আমাদের দায়িত্ব, সবার মধ্যেই অবশ্য তা থাকে। পাশাপাশি সাকিব ভাই রিয়াদ ভাইয়ের কাছে বাড়তি অতিরিক্ত কিছু চাই না। ওনারা যেভাবে পারফর্ম করছেন, যার যে রোল, সেটা যদি ঠিকভাবে পালন করতে পারেন, তাহলে দল অবশ্যই লাভবান হবে।

যে জিনিসটা চাইব, তাদের যেই অভিজ্ঞতাটা আছে সেটা যদি প্রত্যেকটা খেলোয়াড়ের মধ্যে ছড়িয়ে দেন, তাহলে আমাদের দলে যে ছোটো ছোটো জায়গাগুলোতে উন্নতির দরকার রয়েছে, সেগুলোতে খুব ভালো অবস্থানে থাকব।’

সাধারণত বিগত বছরগুলোতে দেখা গিয়েছিল, কোনো বিশ্বকাপের স্কোয়াড ঘোষণা করার পরই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে দেশের ক্রিকেটাঙ্গন। করা হয় অনেক ক্রিকেটার ও নির্বাচককে নিয়ে সমালোচনাও। তবে এবার তেমনটি দেখা না গেলেও খানিকটা আলোচনার জন্ম দিয়েছে মোহাম্মদ সাইফুদ্দিনের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে জায়গা না পাওয়া নিয়ে। দল ঘোষণার সময় প্রধান নির্বাচক গাজী আশরাফ হোসেন লিপু এ প্রসঙ্গে বলেছিলেন যে, সাইফুদ্দিন তাদের চাওয়া পূরণ করতে পারেনি, তাই প্রাথমিক স্কোয়াডে থাকলেও শেষ মুহূর্তে কাটা পড়েছে এই পেস অলরাউন্ডারের নাম।

আর সেখানেই সুযোগ পেয়েছেন তরুণ পেসার তানজিম হাসান সাকিব। তাই স্বাভাবিকভাবেই অধিনায়ককেও মুখোমুখি হতে হয় সাইফুদ্দিনের বাদ পড়া আর সাকিবের যুক্ত হওয়া প্রসঙ্গে।

এ নিয়ে শান্ত বলেন, ‘সাকিব আমার মনে হয়, এখন যে অবস্থানে আছে, ওর বলের পেসটা স্বাভাবিকভাবে সাইফুদ্দিনের থেকে একটু বেশি। এছাড়া সাইফুদ্দিনের কাছ থেকে আমরা যেই রকম আশা করছিলাম, ঐ অনুযায়ী সব মিলিয়ে একটু কমবেশি ছিল।


পুরো বিস্তারিত আমি বলতে চাই না। তবে দুই জনই খুব কাছাকাছি ছিল। তো আমাদের কাছে সাইফুদ্দিনের বিষয়টায় সাকিবের ওপর আত্মবিশ্বাস বেশি মনে হয়েছে। সব মিলিয়ে কিংবা সেখানকার (বিশ্বকাপ) কন্ডিশন যদি চিন্তা করি, আমাদের মনে হয়েছে সাকিব বেটার অপশন হবে।’

ভিন্ন আরেকটি প্রশ্নের জবাবে এ প্রসঙ্গে অধিনায়ক আরও বলেন, ‘যে জিনিসটা হয়েছে, সাইফুদ্দিন-সাকিব দুই জনই খুবই কাছাকাছি ছিল। আমরা কাকে নেব, শেষ সময়ে সিদ্ধান্ত নিয়েছি। দুই জনই সমান ম্যাচ খেলেছে, জিনিসটা এমন না যে কে আট উইকেট নিয়েছে কিংবা কে নেয়নি, সেটা চিন্তা করে এক জনকে বাদ দেওয়া হয়েছে এক জনকে নেওয়া হয়েছে।

বিষয়টা হলো সব মিলিয়ে দলের কেমন প্রয়োজন টিমের জন্য...থাকে না বিশ্বাসের একটা ব্যাপার কারো ওপর হয়তো একটু বেশি ছিল কিংবা কারো ওপর একটু কম ছিল। আমাদের সবার কাছে মনে হয়েছে সাকিব ব্যাটার কিছু ডেলিভারি করতে পারবে দলের কম্বিনেশন অনুসারে।’

বিশ্বকাপের আগে যুক্তরাষ্ট্রের বিপক্ষে তিনটি প্রস্তুতিমূলক টি-টোয়েন্টি সিরিজ খেলবে বাংলাদেশ দল। ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে যথাক্রমে ২১, ২৩ ও ২৫ মে। এরপর বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে ৮ জুন শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে মাঠে নামবে বাংলাদেশ। এর আগে প্রস্তুতি ম্যাচও খেলবে টাইগাররা।


আরও খবর



বেনজীরকে নিয়ে দুদক আইনজীবী যা বললেন

প্রকাশিত:শনিবার ০১ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২১ জুন ২০২৪ |

Image



নিজস্ব প্রতিবেদক:


দুদক আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম জানান, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক বেনজীর আহমেদের জন্য আগামী ৬ জুন পর্যন্ত দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অপেক্ষা করবে, অনথ্যায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। 


শনিবার (১ জুন) এ তথ্য জানিয়েছেন তিনি।দুদক আইনজীবী বলেন, দুদক আশা করে বেনজীর আহমেদ ৬ তারিখে দুদকের মুখোমুখী হবেন।


দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) আগামী ৬ ও ৯ জুন বেনজীর আহমেদ এবং তার পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনে তলব করেছে। কিন্তু ওই তারিখে বেনজীর আহমেদ কমিশনে আসবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় সৃষ্টি হয়েছে।


এর আগে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে বেনজীর আহমেদ, তার স্ত্রী জীশান মীর্জাসহ তাদের দুই মেয়েকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। মঙ্গলবার (২৮ মে) রাজধানীর সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে তলবের এই চিঠি পাঠানো হয়েছে।


 চিঠিতে আগামী ৬ জুন তাদের দুদকের প্রধান কার্যালয়ে হাজির হতে বলা হয়েছে। তাদের দুই মেয়ে হলেন ফারহিন রিসতা বিনতে বেনজীর ও তাহসিন রাইসা বিনতে বেনজীর। তবে আরেক মেয়ে জাহরা জেরিন বিনতে বেনজীর নাবালিকা হওয়ায় তাকে তলব করা হয়নি।


এরই মধ্যে আদালতের আদেশে বেনজীর পরিবারের মালিকানাধীন রাজধানীর গুলশানে বিশালাকৃতির বিলাসবহুল ফ্ল্যাট, গোপালগঞ্জে ৩৪৫ বিঘা ও মাদারীপুরে ২৭৩ বিঘা জমি জব্দ এবং অসংখ্য ব্যাংক ও বিও অ্যাকাউন্ট অবরুদ্ধ করেছে দুদক। 


অনুসন্ধানে দেখা গেছে, দেশের বিভিন্ন এলাকায় যে বিপুল সম্পদ গড়েছেন বেনজীর, তার বেশির ভাগই তিনি কেনেন আইজিপি পদে আধিষ্ঠিত হওয়ার পর।


আরও খবর



রোহিঙ্গাদের ওপর নির্যাতন চালাচ্ছে আরাকান আর্মি

প্রকাশিত:বুধবার ০৫ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২১ জুন ২০২৪ |

Image

রাখাইনের রোহিঙ্গা মুসলিম জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ২০১৭ সালে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর হত্যাযজ্ঞের এখনও তদন্ত করছে আন্তর্জাতিক আদালত। যুক্তরাষ্ট্র ওই নিপীড়নকে গণহত্যা বলে অভিহিত করেছে। লাখ লাখ রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। আর যারা রাখাইনে রয়ে যায় তারা জান্তার নিপীড়নের মুখে পড়েছে। এখন এই রোহিঙ্গারা নতুন এক হুমকির মুখে পড়তে যাচ্ছে। এবার মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর পরিবর্তনে শক্তিশালী বিদ্রোহী গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে নিপীড়নের অভিযোগ উঠছে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি হচ্ছে আরাকান আর্মি। ইতোমধ্যে রাখাইন রাজ্যের বিশাল অংশের নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে তারা। সম্প্রতি রাখাইনের উত্তরাঞ্চলে তারা সফলতা পেয়েছে, এসব অঞ্চলে রোহিঙ্গাদের আবাস। সম্প্রতি মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো অভিযোগ করেছে, রোহিঙ্গাদের বাড়ি থেকে বিতাড়িত করছে আরাকান আর্মি। এমনকি তাদের সম্পত্তি ধ্বংস করছে বিদ্রোহীরা। অনেক ক্ষেত্রে অগ্নিসংযোগ করা হচ্ছে। অবশ্য আরাকান আর্মি এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে।=

এই জাতিগত উত্তেজনা মিয়ানমারের জটিল জাতিগত চরিত্র ও প্রতিদ্বন্দ্বিতার বিষয়টি হাজির করছে। আরাকান নামে পরিচিত রাখাইন রাজ্যের বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বী রাখাইন জাতিগোষ্ঠী মিয়ানমার থেকে বিচ্ছিন্ন হতে চায়। তারা প্রায় সময় রাজ্যে বসবাসরত রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশ আসা অবৈধ অভিবাসী ও দুষ্কৃতকারী হিসেবে মনে করে।

প্রায় ১৫ বছর আগে গঠিত আরাকান আর্মি দাবি করে, তাদের বাহিনীতে প্রায় ৪০ হাজার যোদ্ধা রয়েছে এবং বছরের পর বছর ধরে মিয়ানমারের সেনাবাহিনীর সঙ্গে লড়াই করে আসছে। দেশটির বিভিন্ন জাতিগত গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে অন্যতম শক্তিশালী হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে তারা। সামরিক সরকারকে উৎখাত করে চায় এমন গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে তারা যোগ দিয়েছে। ২০২১ সালে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখল সেনাবাহিনী। সম্প্রতি সশস্ত্র বিদ্রোহী ও গণতন্ত্রপন্থি শক্তির পক্ষ থেকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে জান্তা।

আরাকান আর্মির হাতে রোহিঙ্গাদের নিপীড়িত হওয়ার সাম্প্রতিক খবর নতুন করে নৃশংসতা আশঙ্কা তৈরি করছে। জান্তা দুর্বল হলেও রোহিঙ্গাদের পরিস্থিতির কোনও পরিবর্তন হচ্ছে না।

বুথিডাংয়ে বসবাস করা ৪২ বছর বয়সী রোহিঙ্গা আং হতায় বলেছেন, আরাকান আর্মির যোদ্ধারা আমাদের নিরাপদ স্থানে চলে যেতে বলেছে। আমাদের শহরে লড়াইয়ের তীব্রতা বেড়েছে এবং ঝুঁকি রয়েছে। আমরা চলে যাব কি যাব না সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্বেই আমাদের বাড়িতে আগুন দেওয়া হয়েছে।

টেলিফোনে তিনি নিউ ইয়র্ক টাইমসকে এসব কথা বলেছেন। রাতের অন্ধকারে শহরের বিভিন্ন বাড়িতে কীভাবে আগুনের সূত্রপাত হচ্ছে তা জানেন না তিনি।

শহরটির আশেপাশে বসবাস করা অপর ৯জন বাসিন্দা বলেছেন, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে অনেক বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে এবং বাসিন্দাদের চলে যেতে বাধ্য করা হয়েছে। কারা এই সহিংসতা চালাচ্ছে তা এখনও অস্পষ্ট, তবে আরাকান আর্মির জড়িত থাকার ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া গবেষক শায়না বাউখনার বলেছেন, আমরা একাধিক মানুষের সাক্ষাৎকার নিয়েছি। তারা বলেছেন যে, যখন ১৭ মে বিস্তৃত অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে তখন বুথিডাংয়ের নিয়ন্ত্রণ ছিল আরাকান আর্মির যোদ্ধাদের হাতে।

জাতিসংঘও বলেছে, মিয়ানমার সেনাবাহিনী যে-সব এলাকা থেকে পিছু হটেছে সে সব স্থানে অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। সংঘাতের কারণে হাজার হাজার রাখাইনজুড়ে হাজার হাজার মানুষ উদ্বাস্তু হয়েছেন। কিছু মানুষ প্রতিবেশী বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন। বাংলাদেশে আগে থেকেই দশ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা বসবাস করছেন।

আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে অতীতে রাখাইন জনগোষ্ঠীর মানুষদের নির্যাতনের অভিযোগও উঠেছিল। বিদ্রোহী গোষ্ঠীটির এক প্রতিনিধি এমন অপরাধের কথা অস্বীকার করেছেন।

আরাকান আর্মির মুখপাত্র খাইং থু খা বলেছেন, আমরা বাড়িঘর পুড়িয়ে দেওয়াতে জড়িত নই। তিনি এসব অগ্নিকাণ্ডের জন্য মিয়ানমার জান্তাকে দায়ী করেছেন। এই বিষয়ে মিয়ানমারের সামরিক কর্মকর্তাদের মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

বেসামরিকদের জোর করে বাড়ি-ঘর ছেড়ে যেতে বাধ্য করার অভিযোগও প্রত্যাখ্যান করেছেন আরাকান আর্মির মুখপাত্র। তিনি বলেছেন, আমরা কখনও কাউকে সরে যেতে বলিনি। কিন্তু যুদ্ধের এলাকা নিরাপদ নয় উল্লেখ করে হয়ত চলে যাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকতে পারি।

তবে গোষ্ঠীটির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টগুলোতে এমন আন্তরিকতার প্রকাশ কম। আরাকান আর্মির কমান্ডার তয়ান ম্রাত নাইং রোহিঙ্গাদের বন্ধুনাগরিক বললেও তিনি তাদের বাঙালি হিসেবে অভিহিত করেছেন। বাঙালি বলার মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশ অনুপ্রবেশকারী এবং মিয়ানমারে তাদের কোনও অধিকার নেই বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়।

এক্স-এ এক পোস্টে তিনি রোহিঙ্গা অ্যাক্টিভিস্টদের বিরুদ্ধে পৃথক ইসলামি নিরাপদ অঞ্চল গড়তে চাওয়ার অভিযোগ করেছেন। যদিও অ্যাক্টিভিস্টরা এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন।

রোহিঙ্গাদের জোর করে সেনাবাহিনীতে নিয়োগ দিচ্ছে মিয়ানমার জান্তা এবং তাদের রাখাইনের গ্রামগুলোতে বিদ্রোহী বিরোধী অভিযানে পাঠানো হচ্ছে, এমন খবর যখন প্রকাশ হচ্ছে তখন আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে নিপীড়নের অভিযোগ উঠছে। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ মনে করে, ফেব্রুয়ারির পর থেকে এক হাজারের বেশি রোহিঙ্গাকে জোর করে বাহিনীতে নেওয়া হয়েছে।

নতুন করে ছড়িয়ে পড়া সাম্প্রদায়িক উত্তেজনায় উদ্বিগ্ন জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনার সতর্ক করে বলেছেন, আরও নৃশংসতার তীব্র ঝুঁকি রয়েছে।

সেনাবাহিনীর ফাঁদে পা না দিতে আরাকান আর্মির নেতৃত্বের প্রতি এক যৌথ বিবৃতিতে আহ্বান জানিয়েছেন রোহিঙ্গা অ্যাক্টিভিস্টরা। তারা অভিযোগ করেছেন, দুই সম্প্রদায়কে একে অন্যের বিরুদ্ধে উসকে দিয়ে সুবিধা নিতে চাইছে জান্তা।

বুথিডাং থেকে নির্বাচিত সাবেক পার্লামেন্ট সদস্য ইউ অং থাউং সোয়ে বলেছেন, মিয়ানমার সেনাবাহিনী এখনও জাতিগত ও ধর্মীয় সংকট তৈরি করতে চাইছে। যখন তারা পরাজিত হওয়ার মুখে থাকে তখন এমন সংঘাত সৃষ্টি করে। আমাদের সতর্ক হতে হবে।

তিনি জানিয়েছেন, তার বাড়িতেও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। কে দায়ী তা তিনি জানেন না।

এখন রোহিঙ্গাদের এমন একটি সংঘাতে কোনও একটি পক্ষকে বেছে নিতে হচ্ছে যাদের কোনও পক্ষই তাদের অধিকারকে সমর্থন করে না। নিজেদের সশস্ত্র গোষ্ঠীও তাদের সন্ত্রস্ত করে রেখেছে। রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে বাংলাদেশের শিবিরে জোর করে তরুণদের দলে ভেড়ানোর অভিযোগ রয়েছে।

মিয়ানমারের প্রখ্যাত মানবাধিকারকর্মী থিনজার শুনলেই ইয়ি বলেছেন, সরেজমিনে পরিস্থিতি হয়ত জটিল হতে পারে। কিন্তু একটি বিষয় একেবারে সহজ: রোহিঙ্গাদের ব্যবহার করা হচ্ছে।


আরও খবর

যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে ইইউ

বৃহস্পতিবার ২০ জুন ২০24




১২ ক্যাটাগরির ভিসা উন্মুক্ত করছে ওমান

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ৩০ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ২০ জুন ২০24 |

Image

 ডিজিটাল ডেস্ক:


বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ওমান সরকার ১২টি ক্যাটাগরিতে ভিসা উন্মুক্ত করবে। 


বাংলাদেশ সোশ্যাল ক্লাব ওমানের চেয়ারম্যান সিরাজুল হকের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে টাইমস অব ওমান। এর আগে ২০২৩ সালের ৩১ অক্টোবর ওমান সরকার বাংলাদেশিদের জন্য সব ক্যাটাগরিতে ভিসা দেওয়া বন্ধ করে দেয়।


১২টি ক্যাটাগরির মধ্যে রয়েছে - ফ্যামিলি ভিসা, জিসিসিভুক্ত দেশগুলোতে বসবাসরত বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভিজিট ভিসা, ডাক্তার ভিসা, ইঞ্জিনিয়ার্স ভিসা, নার্সদের ভিসা, শিক্ষক ভিসা, হিসাবরক্ষক ভিসা, বিনিয়োগকারী ভিসাসহ সব ধরনের অফিসিয়াল ভিসা।



টাইমস অব ওমানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভিসা বন্ধের পর ওমানে বাংলাদেশি নাগরিকদের আগমন ৫০ শতাংশেরও বেশি কমে গেছে।


 গত সেপ্টেম্বরে বাংলাদেশি নাগরিকদের আগমন দাঁড়িয়েছে ২৮ হাজার ২০১ জন, যা কয়েক মাসের ব্যবধানে ৫০ শতাংশেরও বেশি কমেছে।


গত ৩১ অক্টোবর জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে রয়্যাল ওমান পুলিশ (আরওপি) বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য সব ধরনের ভিসা প্রদান স্থগিত করে।


সে সময় বিবৃতিতে ওমান পুলিশ বলেছিল, কয়েক ধরনের ভিসা নীতিমালা পর্যালোচনা করে ওমানে আগত সকল বিদেশিদের জন্য পর্যটন ও ভিজিট ভিসা থেকে ওয়ার্ক ভিসায় রূপান্তর স্থগিতের ঘোষণা করা হলো। 


পাশাপাশি বাংলাদেশি নাগরিকদের নতুন ভিসা ইস্যু স্থগিত কার্যকর হয়েছে। গত বছরের ৩১ অক্টোবর থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই ঘোষণা কার্যকর থাকবে বলে বিবৃতিতে বলা হয়।


কেনো ভিসা প্রদান স্থগিতের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তা ওমান পুলিশ বিবৃতিতে উল্লেখ করেনি। তবে মাস্কাটের বাংলাদেশ দূতাবাস তখন এক বিবৃতিতে জানায়, ভিসা ব‌ন্ধের এই প্রক্রিয়া‌টি অস্থায়ী।


আরও খবর



পানির নিচে ঢাকার রাস্তা, দুর্ভোগে নগরবাসী

প্রকাশিত:সোমবার ২৭ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ২১ জুন ২০২৪ |

Image

সদরুল আইন:


প্রলয়ংকারী ঘূর্ণিঝড় রেমালের প্রভাবে সোমবার (২৭ মে) ভোররাত থেকে রাজধানীতে শুরু হয়েছে বৃষ্টি।


 একটানা চলা এই বৃষ্টি কখনো বাড়ছে, কখনো কিছুটা কমছে। সঙ্গে রয়েছে ঝোড়ো বাতাস। এতে করে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায়।


 বৃষ্টিতে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন কর্মক্ষেত্রে যাওয়া ও খেটেখাওয়া মানুষেরা।


সোমবার (২৭ মে) বৃষ্টিতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার মধ্যে গ্রিনরোড, নিউমার্কেট, ধানমন্ডি ২৭, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, বাড্ডা, মিরপুরের কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া, মিরপুর ১০ নম্বর, ১৩ নম্বর, ১৪ নম্বর, মালিবাগ, শান্তিনগর, সায়েদাবাদ, শনির আখড়া, পুরান ঢাকা, বংশাল, নাজিমুদ্দিন রোড, হাতিরঝিলের কিছু অংশ, আগারগাঁও থেকে জাহাঙ্গীর গেট যেতে নতুন রাস্তায়, খামারবাড়ি থেকে ফার্মগেট, ফার্মগেট-তেজগাঁও ট্রাক স্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকা, মোহাম্মদপুরের কিছু অংশ, মেরুল বাড্ডা, ডিআইটি প্রজেক্ট এলাকায়, মোহাম্মদপুর, ইসিবি, গুলশান লেকপাড় এলাকার সংযোগ সড়কসহ বিভিন্ন সড়ক ও অলিগলিতে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।


সকালে কাজের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বেরিয়ে অনেকেই রাস্তায় বাস পাননি। সিএনজিচালিত অটোরিকশা ও রিকশাচালকেরা বৃষ্টির কারণে বাড়তি ভাড়া চেয়েছেন। কোনো কোনো এলাকায় জলাবদ্ধতার শঙ্কা থাকায় অটোরিকশার চালকরা যেতে রাজি হননি। 


অনেকে গণপরিবহনের অপেক্ষায় থেকে বৃষ্টি ও ঝোড়ো বাতাসে ভিজে গেছেন।


কর্মস্থল কাওরানবাজার যেতে দুপুরের দিকে রামপুরার বাসা থেকে বের হয়েছিলেন তরিকুল ইসলাম। ঘর থেকে বের হয়েই দেখতে পান হাঁটুসমান পানি। কিছুটা পানি পেরিয়ে রিকশার জন্য অপেক্ষা করেন। এরপর তিনগুণ বেশি রিকশা ভাড়ায় অফিসে আসেন তিনি। অফিসে আসতেই বৃষ্টিতে সারা শরীর ভিজে চুপচুপ।


গুলশানের একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চাকরিজীবী কামাল হোসেন বলেন, আমার বাসা মিরপুরে। সকালে অফিসে আসার সময় খুব ভোগান্তিতে পড়েছিলাম। বৃষ্টির কারণে অনেক রাস্তায় জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে। সড়কে বাস, গণপরিবহন কম। যে কারণে অতিরিক্ত ভাড়া নিচ্ছে রিকশাচালকরা।


সকাল থেকে ঝোড়ো বৃষ্টিতে ভোগান্তিতে পড়েছেন সকাল সকাল কাজে বের হওয়া রাজধানীর মানুষজন। রাজধানীর কিছু কিছু সড়ক, অলিগলিতে কিছুটা জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ায় যাতায়াত, চলাফেরা, গণপরিবহনে উঠতে ভোগান্তি; সব মিলিয়ে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়েছে মানুষজনকে।


এদিকে রাজধানীর ডিএনসিসি এলাকায় কোথাও জলাবদ্ধতা হলে, পানি জমে থাকলে হটলাইনে যোগাযোগ করার (১৬১০৬) আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন।


একইসঙ্গে টানা বৃষ্টির কারণে যেন জলাবদ্ধতা সৃষ্টি না হয় সে কারণে জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ করছে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের (ডিএনসিসি) কুইক রেসপন্স টিম।


সোমবার (২৭ মে) সকাল থেকে ডিএনসিসির আওতাধীন রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় এই টিম কাজ করছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মুখপাত্র মকবুল হোসাইন।


আরও খবর



প্রধানমন্ত্রী কাল দ্বিপক্ষীয় সফরে ভারত যাচ্ছেন

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ২০ জুন ২০24 | হালনাগাদ:শুক্রবার ২১ জুন ২০২৪ |

Image




বিডি টুডে  রিপোর্টঃ


ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে আগামীকাল শুক্রবার রাষ্ট্রীয় সফরে নয়াদিল্লি যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।



 এ গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় সফর উপলক্ষে আগামী দুইদিন নয়াদিল্লিতে অবস্থান করবেন তিনি। টানা চতুর্থ মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এটি প্রথম দ্বিপক্ষীয় সফর। 



অন্যদিকে নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে বিজেপি জোটের টানা তৃতীয়বারের মতো সরকার গঠনের পর এটি হবে কোনো সরকার প্রধানের ভারতে প্রথম দ্বিপাক্ষিক সফর।


জানা যায়, এই সফরে দুই দেশের চমৎকার সম্পর্ক আরও দৃঢ় ও এগিয়ে নেওয়ার বার্তা থাকবে। সফরে গুরুত্ব পাবে অর্থনৈতিক সংকট উত্তরণে পারস্পারিক সহযোগিতা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তার বিষয়টি।


 পাশাপাশি আলোচনায় থাকবে ঋণ সহায়তা, সীমান্ত হত্যা ও তিস্তার পানি বণ্টন চুক্তির মতো অমীমাংসিত ইস্যুগুলো। সফরকালে উভয় দেশের মধ্যে বিদ্যমান দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদারে বেশ কিছু চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হবে। এছাড়া একটি সম্ভাব্য বাণিজ্য চুক্তি বিষয়ে আলোচনা হতে পারে।



গতকাল বুধবার প্রধানমন্ত্রী দফতরের প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ১৫ দিনেরও কম সময়ের মধ্যে ভারতের রাজধানীতে এটি শেখ হাসিনার দ্বিতীয় সফর হবে। তিনি গত ৯ জুন নরেন্দ্র মোদির শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে যোগ দেন। 


প্রেস বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি ফ্লাইট কাল শুক্রবার দুপুর ২টার দিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার সফরসঙ্গীদের নিয়ে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করবে। ফ্লাইটটি স্থানীয় সময় বিকাল ৪টায় নয়াদিল্লির পালাম বিমানবন্দরে অবতরণ করবে।


 সন্ধ্যায় ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তার বাসভবনে সাক্ষাৎ করবেন।


প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানাতে শনিবার সকালে রাষ্ট্রপতি ভবনে লাল গালিচা বিছানো হবে। এ সময় ভারতের প্রধানমন্ত্রী আনুষ্ঠানিকভাবে তাকে অভ্যর্থনা জানাবেন এবং দুই দেশের জাতীয় সঙ্গীত বাজানো হবে। 



প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গার্ড অব অনারও পরিদর্শন করবেন। এরপর তিনি রাজঘাটে ভারতের জাতির পিতা মহাত্মা গান্ধীর সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে শ্রদ্ধা জানাবেন। সেখানে তিনি পরিদর্শন বইয়ে স্বাক্ষর করবেন।


শেখ হাসিনা একইদিন নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে একান্ত বৈঠক এবং প্রতিনিধি পর্যায়ে আলোচনার জন্য হায়দরাবাদ হাউসে যাবেন। উভয়েই সমঝোতা স্মারক ও চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠান প্রত্যক্ষ করবেন। এরপর দুই প্রধানমন্ত্রী তাদের বিবৃতি দেবেন। তারা হায়দ্রাবাদ হাউসে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর সম্মানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী আয়োজিত ভোজসভায় যোগ দেবেন।


বিকেলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সচিবালয়ে ভারতের উপরাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনকড়ের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। সন্ধ্যায় শেখ হাসিনা রাষ্ট্রপতি ভবনে ভারতের রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে সাক্ষাৎ করবেন। 



সন্ধ্যা ৬টায় প্রধানমন্ত্রী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে নয়াদিল্লির পালাম বিমানবন্দর থেকে ভারতের রাজধানী ত্যাগ করবেন এবং রাত ৯টায় ঢাকায় অবতরণ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।


পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গত দেড় দশকের ধারাবাহিকতায় ভবিষ্যতে দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এগিয়ে নিতে রাজনৈতিক অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত হবে দুই প্রধানমন্ত্রীর এবারের শীর্ষ বৈঠকে। 



সফরের মূল বিষয়গুলোর মধ্যে রয়েছে- আন্তঃসীমান্ত সংযোগ উদ্যোগ, তিস্তা বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে ভারতীয় বিনিয়োগ, মোংলা বন্দরের ব্যবস্থাপনা ও বিদ্যুৎ বাণিজ্য। দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা অংশীদারত্ব বাড়ানোর বিষয়টিও উঠে আসতে পারে। 



মিয়ানমারের পরিস্থিতি, রোহিঙ্গা সংকট, ভারতের উত্তর পূর্ব রাজ্য মনিপুর সংকটসহ অঞ্চলে বাড়তে থাকা চীনের প্রভাবসহ সার্বিক নিরাপত্তা ও আঞ্চলিক ইস্যুও গুরুত্ব পাবে।


জানা গেছে, এই সফরে বেশ কয়েকটি চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে ভারতের ঋণচুক্তি বাস্তবায়নে গতি আনতে নতুন রূপরেখা চুক্তি, যেকোনো পরিস্থিতিতে বাংলাদেশে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য এমওইউ। 



এছাড়া যে চুক্তি বা সমঝোতার মেয়াদ শেষ হয়ে গিয়েছে, তার কয়েকটি আবারও নবায়নের কথা রয়েছে।


আরও খবর