Logo
শিরোনাম
রাজধানীর সেতু ভবনে আগুন কমপ্লিট শাটডাউন : ঢাকাসহ সারা দেশে বিজিবি মোতায়েন জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ইট বোঝায় ট্রাক খাদে কুষ্টিয়ায় আন্দোলনকারী ও ছাত্রলীগের মধ্যে সংঘর্ষ -কয়েকটি মোটর সাইকেলে আগুন পুঠিয়ায় আ’লীগের বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা লালমনিরহাটে অনুষ্ঠিত হয়েছে তিস্তা সমাবেশ বেনাপোল স্থল বন্দর দিয়ে মিথ্যা ঘোষণায় আমদানি করা হয়েছে ১৮ কোটি টাকার সালফিউরিক এসিড কুমারখালীতে মহাসড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, আহত-২ শরণখোলায় নার্সের চিকিৎসার অবহেলায় এক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ শেরপুরে কোটাবিরোধী শিক্ষার্থী-ছাত্রলীগের সংঘর্ষ, সাংবাদিকসহ আহত-২০

সারাদেশে চলছে শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন

প্রকাশিত:শনিবার ০১ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ২১ জুলাই ২০২৪ |

Image

ডিজিটাল ডেস্ক:

সারাদেশে চলছে শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন। ৬ থেকে ১১ মাস বয়সী প্রায় ২৭ লাখ শিশুকে একটি নীল রঙের এবং ১২ থেকে ৫৯ মাস বয়সী প্রায় এক কোটি ৯৫ লাখ শিশুকে লাল রঙের একটি ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাপসুল খাওয়ানো হচ্ছে।


শনিবার (১ জুন) সকালে ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব প্রিভেন্টিভ ও সোশাল মেডিসিনে (নিপসম) নিজে শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাইয়ে সারাদেশে এই ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন। বিকেল ৪টা পর্যন্ত চলবে এই কার্যক্রম।


শিশুদের নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে এসে ক্যাপসুল খাওয়ানোর আহ্বান জানান তিনি। ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, অন্ধত্ব রোধে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করে।


দিনব্যাপী এ কার্যক্রমে সারাদেশে সরকারি-বেসরকারি ৪০ হাজার স্বাস্থ্যকর্মী ও দুই লাখ ৪০ হাজার স্বেচ্ছাসেবী নিয়োজিত থাকবেন।



জানা গেছে, সারাদেশে প্রায় এক লাখ ২০ হাজার কেন্দ্রে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানোর কথা থাকলে এবার ঘূর্ণিঝড় রিমালের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় উপকূলীয় এলাকার প্রায় এক হাজার ২২৪ কেন্দ্রে নির্দিষ্ট সময়ে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো হবে না।


 তবে পুনর্বাসন সমস্যা সমাধান হলে সেখানে পরবর্তী খুব দ্রুত সময়ে খাওয়ানো হবে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল।


ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ার ক্ষেত্রে যেসব নিয়ম মানতে হবে:


১. শিশুদের ভরাপেটে কেন্দ্রে নিয়ে আসতে হবে।

২. কাঁচি দিয়ে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুলের মুখ কেটে এর ভেতরে থাকা সবটুকু তরল ওষুধ চিপে খাওয়ানো হবে।

৩. জোর করে বা কান্নারত অবস্থায় ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো যাবে না।



আরও খবর

রাজধানীর সেতু ভবনে আগুন

বৃহস্পতিবার ১৮ জুলাই ২০২৪




নওগাঁর ৩ জন সৌদি আরবে আগুনে পুড়ে নিহত

প্রকাশিত:শুক্রবার ০৫ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ২১ জুলাই ২০২৪ |

Image

শহিদুল ইসলাম জি এম মিঠন :

সৌদি আরবের রিয়াদের মুসাসানাইয়া এলাকায় একটি সোফা তৈরির কারখানায় আগুনে পুড়ে নিহত ৪ জন বাংলাদেশির মধ্যে নওগাঁর আত্রাই উপজেলার-ই রয়েছেন ৩ জন রেমিট্যান্স যোদ্ধা। বুধবার সৌদির স্থানীয় সময় বিকেল ৫টারদিকে আগুনে নিহতের এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন নিহতদের স্বজনরা। মৃত্যুর খবর পাবার পর থেকে ওই তিনজন রেমিট্যান্স যোদ্ধার পরিবারে চলছে শোকের মাতব।

নিহতরা ৩ জন হলেন,  নওগাঁর আত্রাই উপজেলার তেজনন্দি গ্রামের মজিবর রহমানের ছেলে ফারুক হোসেন (৪০), শিকারপুর গ্রামের সাহাদ আলীর ছেলে এনামুল হোসেন (২৫) ও দিঘা স্কুলপাড়া গ্রামের কবেজ আলীর ছেলে শুকবর রহমান (৪০)।

নিহত ফারুকের ভাতিজা পিন্টু আলী বলেন, চাচা ফারুক হোসেন গার্মেন্টসে কাজ করতেন। প্রায় ৬ বছর আগে ধার-দেনা করে সৌদি আরবে যান তিনি। কিন্তু যাবার পর থেকেই সেখানে নানা সমস্যার মধ্যে পড়ে যান। প্রায় ৮ মাস হচ্ছে স্থায়ীভাবে সোফা তৈরির কারখানায় কাজে যোগদান করেছেন। এরই মধ্যে বুধবার রাত ১০টা নাগাদ মোবাইল ফোনে জানতে পারেন কারখানায় আগুনে ফারুক নিহত হয়েছেন। একই

উপজেলার দিঘা গ্রামের নিহত শুকবর আলীর জামাই বিদ্যুত হোসেন বলেন, তার শ্বশুড় কৃষি শ্রমীক ছিলেন। গত আড়াই বছর আগে একমাত্র সম্বল ১১শতক জায়গা বিক্রি করে তার সাথে ধার-দেনার টাকায় তিনি সৌদি আরবে পাড়ি জমান। এখন পর্যন্ত ধার-দেনার টাকা শোধ করতে পারেন নি। শুকবরের দুই ছেলে এক মেয়ে। ছেলেদের মধ্যে বড় ছেলে শামিম হোসেন প্রতিবন্ধি। তার মাথা গোঁজার একমাত্র বাড়ির তিন শতক জায়গা ছাড়া আর কোন জমি নেই। কিভাবে শ্বাশুড়ী, শ্যালোকদের নিয়ে চলবেন তা নিয়ে চরম বিপাকে পরেছেন। শ্বশুর শুকবর আলীই ছিলেন পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি। শিকারপুর গ্রামের নিহত যুবক এনামুলের চাচা জাহিদুল ইসলাম বলেন, এনামুল গার্মেন্টস শ্রমিক ছিলেন। অনেকটা সুখের আসায় ঘর বাঁধতে ধার-দেনা করে সৌদি আরবে যান। সেখান থেকে কেবলমাত্র রোজগারের টাকায় ধার-দেনা শোধ করে ইটের বাড়ি নির্মান করছেন। বাড়ির কাজ শেষ হলে আগামী বছর দেশে এসে বিয়ে করার কথা ছিলো। কিন্তু সেটা তার ভাগ্যে জুটলোনা। বুধবার রাত অনুমান সাড়ে ১০ টারদিকে আগুনে পুরে মারা যাবার খবর আসে। তখন থেকেই একমাত্র ছেলেকে হারানোর শোকে বাবা-মা পাথর হয়ে পড়েছেন। কিছুতেই যেন তাদেরকে বুঝ দিয়ে থামানো যাচ্ছেনা। নিহতদের তিন পরিবার থেকেই দ্রুত মৃতদেহ দেশে আনতে সরকারের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেছেন। এব্যাপারে আত্রাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সঞ্চিতা বিশ্বাস বলেন, সৌদি আরবে আগুনে পুরে ৩ জন নিহতের খবর পেয়েছি। তাদের পরিবারের খোঁজ খবর রাখা হচ্ছে। এছাড়া নিহতদের লাশ দেশে ফেরাতে এবং সরকারী কোন সুযোগ সুবিধা থাকলে তা সহায়তা করতে সার্বিক সহযোগিতা করা হবে।


আরও খবর



টানা দ্বিতীয়বারের মতো কোপা আমেরিকা চ্যাম্পিয়ন মেসি বাহিনী

প্রকাশিত:সোমবার ১৫ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ২১ জুলাই ২০২৪ |

Image

ক্রীড়া প্রতিবেদক::


আর্জেন্টাইন ফ্যানদের জন্য একটু আবেগেরই ছিলো কোপার ফাইনালের এ ম্যাচটা। কারণ আর্জেন্টিনার জার্সিতে এটিই ছিল ডি মারিয়ার শেষ ম্যাচ। 

অন্যদিকে আরেক কিংবদন্তি লিওনেল মেসির কোপা আমেরিকার টুর্নামেন্টে এটা ছিল শেষ ম্যাচ। তবে এমন আবেগের ফাইনালটাও যে রঙিন করে তুললেন লাউতারো মার্টিনেজ। ১১২ মিনিটে তার একমাত্র গোলেই টানা দ্বিতীয়বারের মতো কোপা আমেরিকা চ্যাম্পিয়ন হয় আর্জেন্টিনা।


কলম্বিয়ার উগ্র সমর্থকদের কারণে এক ঘণ্টা ২০ মিনিট পর মাঠে গড়ায় কোপা আমেরিকার ফাইনাল ম্যাচ। তবে ম্যাচের শুরু থেকেই আর্জেন্টিনাকে বেশ চাপে রাখে কলম্বিয়া। একের পর আক্রমণে ব্যস্ত থাকেন হামেস রদ্রিগেজরা। অন্যদিকে আর্জেন্টিনাও বেশ কয়েকবার হানা দিয়েছিল কলম্বিয়ার ডেরায়।



আর্জেন্টিনা ম্যাচ শুরু করেছিল মানসিকভাবে পিছিয়ে থেকেই। অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের মা, আলেহান্দ্রো গার্নাচোর ভাইসহ একাধিক খেলোয়াড়ের স্বজনরা আটকে ছিলেন উগ্রপন্থি কলম্বিয়ান সমর্থকদের মাঝে। খেলা শুরুর আগে নিজের মাকে নিরাপদে স্টেডিয়ামে নিয়ে আসতে লকাররুম ছেড়ে বেরিয়ে আসেন ম্যাক অ্যালিস্টার। এমন বিপর্যস্ত আর্জেন্টিনার ওপর শুরু থেকেই চড়াও হয় কলম্বিয়া। কিন্তু প্রথমার্ধে মানসিকভাবে বিধ্বস্ত সেই আর্জেন্টিনাকে খুঁজে পাওয়া যায়নি সেভাবে। ম্যাচের শুরুতেই গোলের সুযোগ তৈরি করেছেন তারা। আলভারেজের শট অল্পের জন্য চলে যায় পোস্টের বাইরে দিয়ে। 

 

খেলার ৬ মিনিটে অবশ্য বেঁচে যায় আলবিসেলেস্তেরা। কলম্বিয়ার কর্ডোবার শট পোস্টে লেগে বেরিয়ে যায়। অল্পের জন্য গোল খাওয়া থেকে বেঁচে যায় তারা। তার ঠিক চার মিনিট পরে পর আবারও আক্রমণ চালায় কলম্বিয়া। কিন্তু সে যাত্রায় গোল আদায় করতে ব্যর্থ হয় তারা।

 

ম্যাচের ২০ মিনিটে সতীর্থের পাস থেকে সরাসরি গোল পোস্টে শট নিয়েছিলেন মেসি। তবে এ যাত্রায় কলম্বিয়াকে বাঁচিয়ে দেন তাদের গোলরক্ষক। তার ৫ মিনিট পর লিসান্দ্রোকে আঘাত করে হলুদ কার্ড দেখেন কর্ডোবা। ৪৩ মিনিটে বল নিয়ে এগোচ্ছিলেন তাগলিয়াফিকো। বক্সের কাছাকাছি জায়গায় তাকে বাজেভাবে ট্যাকল করায় ফ্রি কিক পায় আর্জেন্টিনা। এ থেকে বক্সের মধ্যে উড়িয়ে বল মারেন মেসি; সতীর্থের হেড চলে যায় ক্রসবারের উপর দিয়ে। আক্রমণ এবং প্রতি আক্রমণে গোলশূন্য সমতায় শেষ হয় প্রথমার্ধ।

 

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই দাপট ধরে রাখে কলম্বিয়া। আক্রমণেও উঠেছিলো কয়েকবার। কিন্তু ৫৮ মিনিটে কোনো রকমে বেঁচে যায় কলম্বিয়া। বাঁ দিক থেকে বল নিয়ে একেবারে প্রতিপক্ষের ডেরায় ঢুকে পড়েন ডি মারিয়া। তার নেয়া শট কোনো রকমে ঠেকিয়ে দেন কলম্বিয়ার গোলরক্ষক কামিলো ভারগাস।


লিওনেল স্ক্যালোনিকে সচরাচর মাথা গরম করতে দেখা যায় না। তবে এদিন তিনি মেজাজ হারালেন। কলম্বিয়ার ফুটবলারদের মারকুটে ফুটবল দেখে নিজেকে আর ধরে রাখতে পারেননি তিনি।   


কোপা আমেরিকার টুর্নামেন্টে আর মাঠে নামা হবে না মেসির -- এটা এক প্রকার নিশ্চিত। চোট পেয়ে যখন মাঠ ছাড়ছিলেন, তখন নিশ্চয় এই কথাটা মনে পড়ছিল তার। ম্যাচের ৬৬ মিনিটে কান্নাভেজা চোখে মাঠ থেকে উঠে গেলেন মেসি। প্রথমার্ধের ৩৫তম মিনিটে চোট পেয়েছিলেন আর্জেন্টাইন অধিনায়ক। তারপর বাকি সময়টা তাকে ভুগতে দেখা যায়। ভালভাবে খেলতেও পারছিলেন না। অবশেষে ৬৬ মিনিটে তাকে উঠে যেতে হলো মাঠ থেকে। এরপরে দেখা যায়, বেঞ্চে বসে কান্না করেছেন অঝরে।

  

মেসি উঠে যাওয়ার পর কিছুটা ছন্নছাড়া ফুটবল খেলতে থাকে আর্জেন্টিনা। আক্রমণে উঠেও তার কোনো ফল পাচ্ছিলো না আর্জেন্টনা। ৮৭ মিনিটে এগিয়ে যেতে পারতো আর্জেন্টিনা। গঞ্জালেসের হেড অল্পের জন্য বাইরে দিয়ে চলে যায়। ৯১ মিনিটে ভাল সুযোগ পেয়েছিলেন ডি মারিয়া। বিপক্ষে গোলরক্ষকের ভুলে তিনি সুযোগ পেয়েছিলেন; কিন্তু ফাঁকা পেয়েও বল নিয়ন্ত্রণ করতে না পারায় সুযোগ নষ্ট হয়।

 

নির্ধারিত ৯০ মিনিটও শেষ হয় গোলশূন্য সমতায়। ফলে ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে। টুর্নামেন্টের নকআউট ম্যাচগুলোতে এ নিয়ম ছিল না। খেলার ৯০ মিনিট সমতায় শেষ হলে সরাসরি টাইব্রেকার দেয়া হতো। তবে ফাইনাল ম্যাচে সেই নিয়ম নেই। খেলার ৯০ মিনিট শেষে সমতা থাকলে আরও ৩০ মিনিট খেলা হবে। যার জন্য এ ম্যাচও গড়ায় অতিরিক্ত ৩০ মিনিটে।

 

অতিরিক্ত সময়েও একের পর এক আক্রমণ করে গেছে দুদল। তবে কাঙ্খিত গোলের দেখা পাচ্ছিলেন না কোনও দল। অবশেষে সোনার হরিণ নামক সেই গোলটি পেয়ে যায় আর্জেন্টিনা। ১১২ মিনিটে এলো কাঙ্খিত সেই গোল। মাঝমাঠ থেকে লাউতারো মার্টিনেজকে বল বাড়িয়ে দিলেন লো সেলসো। বক্সের ভেতরে ঢুকে নিখুঁত শটে বল জালে জড়ান লাউতারো। আর সেই গোলেই টানা দ্বিতীয়বারের মতো কোপা আমেরিকার শিরোপা ঘরে তোলে আর্জেন্টিনা। সেই সঙ্গে কোপা আমেরিকার ইতিহাসে এককভাবে সর্বোচ্চ ১৬ বার চ্যাম্পিয়ন এখন আর্জেন্টিনা।


   


আরও খবর



বিচারপতির নাম ভাঙিয়ে ঘুষ, হাইকোর্টের দুই কর্মচারী গ্রেপ্তার

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১১ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ২১ জুলাই ২০২৪ |

Image

বিডি টুডেস ডেস্ক:


বিচারপতির নাম ভাঙিয়ে ৯ লাখ টাকা ঘুষ নেওয়ায় হাইকোর্টের দুই কর্মচারী গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।



 গ্রেপ্তারকৃতরা হলো মো. রশিদ (৩৮) ও মো. হাফিজ (৩৪)।বুধবার (১০ জুলাই) তাদেরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।



বিচারপতি মো.আতোয়ার রহমানের নির্দেশক্রমে বেঞ্চ অফিসার সুজিত কুমার বিশ্বাস বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় মামলা দায়ের করেন।


মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, বুধবার বিকেল ৫টায় ২৭ ভবন ২৭ নম্বর আদালতের বিচারপতি মো. আতোয়ার রহমান ও বিচারপতি মো. আলী রেজার সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চের এমএলএসএস মো. আব্দুর রশিদ (৩৮) ও রেজিস্টার জেনারেলের অফিসের এমএলএসএস মো. হাফিজ (৩৪) মামলার বিবাদীর থেকে ৯ লাখ ২০ হাজার টাকা ঘুষ নেয়।


বিষয়টি বিচারপতির নজরে আসার পর রাত সাড়ে ৯টায় তাদের সুপ্রিম কোর্ট অ্যান্ড স্পেশাল কোর্ট সিকিউরিটি বিভাগ পুলিশের সহায়তায় শাহবাগ থানায় হস্তান্তর করা হয়।



আরও খবর



শুধু চিকিৎসার জন্য জনপ্রতি ব্যয় আয়ের ৭৩ শতাংশ

প্রকাশিত:বুধবার ১৭ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ২১ জুলাই ২০২৪ |

Image

চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে গিয়ে প্রতিবছর ৬১ লাখ ৩০ হাজার মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যায়, যা মোট জনসংখ্যার ৩ দশমিক ৭ শতাংশ। কেননা কম সরকারি বরাদ্দ এবং যা বরাদ্দ হয় সেটিরও কার্যকর ব্যয় না হওয়ায় মানুষের পকেট থেকে চলে যাচ্ছে বছরে মোট স্বাস্থ্য ব্যয়ের ৭৩ শতাংশ অর্থ। তবে এক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি খরচ হচ্ছে ওষুধ কিনতে গিয়ে ৫৪ দশমিক ৪০ শতাংশ, দ্বিতীয় অবস্থানে ডায়াগনস্টিকের জন্য ২৭ দশমিক ৫২ শতাংশ, কন্সালটেশনের জন্য ১০ দশমিক ৩১ এবং পরিবহণের জন্য খরচ হয় ৭ দশমিক ৭৭ শতাংশ অর্থ। বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) সেমিনারে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন বলেন, আমি স্বাস্থ্য সুরক্ষা আইন করব, কেননা এটা আমরা জন্য চ্যালেঞ্জ। এই আইনের মাধ্যমে রোগী ও চিকিৎসক সব পক্ষকে সুরক্ষা দেওয়াটা আমার দায়িত্ব। সেই সঙ্গে হেলথ ইন্স্যুরেন্সের কাজ চলছে বলেও তিনি জানান।

প্রতিবেশী ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ভুটান, মালদ্বীপ ও মিয়ানমারের তুলনায় বাংলাদেশে রোগীর চিকিৎসা ব্যয়ভার বেশি। মালদ্বীপে স্বাস্থ্যসেবার মাত্র ১৪ শতাংশ রোগীকে বহন করতে হয়। অথচ বাংলাদেশে একজন রোগীকে মোট ব্যয়ের ৭৩ শতাংশ বহন করতে হয়। এই ব্যয়ভার মেটাতে গিয়ে মধ্যবিত্ত ও নিম্নবিত্তরা হিমশিম খাচ্ছে। বাধ্য হয়ে অনেকে মাঝপথে চিকিৎসা বন্ধ করে দিচ্ছে। যদিও জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় (এসডিজি) ২০৩২ সালের মধ্যে ব্যয়ের এই হার ৩২ শতাংশে নামিয়ে আনার অঙ্গীকার করা হয়েছে। চিকিৎসায় রোগীর ব্যয় বৃদ্ধির জন্য সরকারের অদূরদর্শিতা ও অবহেলাকে দায়ী করেছেন জনস্বাস্থ্যবিদরা। তাদের মতে, স্বাস্থ্য খাতকে এখনো অবহেলার চোখে দেখা হয়। বাজেট বরাদ্দে স্বাস্থ্য খাত সবসময় পিছিয়ে থাকে। সামান্য যা বরাদ্দ হয় সেই অর্থও যথাযথভাবে ব্যয় করা হয় না। ফলে রোগীকে রোগ নির্ণয়ের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ওষুধের জন্য বিপুল অর্থ ব্যয় করতে হয়। রোগীর খরচের এই লাগাম টানতে না পারলে এসডিজি অর্জন অসম্ভব হয়ে পড়বে। এ জন্য বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়াতে হবে। সরকারি স্বাস্থ্যসেবার অবকাঠামো, চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মী বা লোকবল বৃদ্ধি, রোগ নির্ণয়ের পরীক্ষা-নিরীক্ষা সুবিধা এবং

প্রয়োজনীয় ওষুধ উৎপাদন ও সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।

২০০০ সাল থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশে স্বাস্থ্য খাতে সরকারের এবং রোগীর ব্যয়ের একটি পরিসংখ্যান গত ১৫ এপ্রিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) প্রকাশ করে। এতে দেখা যায়, দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে কম বাজেট বরাদ্দ হয় বাংলাদেশে। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রস্তাবিত বাজেটে ৪১ হাজার ৪০৭ কোটি টাকা বরাদ্দের প্রস্তাব করা হয়েছে। দেশের ১৭ কোটি ১২ লাখ মানুষের বিপরীতে টাকার অঙ্কে সরকার ব্যয় করবে গড়ে ৩ হাজার ৪২ টাকা (২৬ ডলার)। ২০০০ সালে বাংলাদেশে রোগীর চিকিৎসার জন্য সরকার ব্যয় করত গড়ে ৮ ডলার। ২০২১ সালে এই অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ২৫ দশমিক ৯ ডলার।

রোগীর ঘাড়ে বোঝার ভার: দুই দশক আগেও সরকার চিকিৎসা ব্যয়ের ৩৮ শতাংশ বহন করত। এখন রোগীর ব্যয়ভার ৭৩ শতাংশে পৌঁছেছে। ডব্লিউএইচওর তথ্যমতে, দেশে এখন আউট অব পকেট এক্সপেনডিচার ৭৩ শতাংশের বেশি। কারণ, ২০২১ সালে আউট অব পকেট এক্সপেনডিচার ছিল ৭৩ শতাংশ। কভিড-পরবর্তী সময়ে রোগ নির্ণয়ের পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং ওষুধসহ অন্যান্য ব্যয় কয়েক ধাপে বেড়েছে। কিন্তু এরপর আর কোনো জরিপ হয়নি। ২০২০ সালে এই হার ছিল ৭৪ শতাংশ। ২০১৯ সালে ৭২ শতাংশ, ২০১৮ সালে ৭১ শতাংশ, ২০১৭ সালে ৭০ শতাংশ, ২০১৬ সালে ৭১ শতাংশ, ২০১৫ সালে ৭৩ শতাংশ, ২০১৪ সালে ৭১ শতাংশ, ২০১৩ সালে ৭০ শতাংশ, ২০১২ সালে ৬৮ শতাংশ, ২০১১ সালে ৬৮ শতাংশ, ২০১০ সালে ৬৮ শতাংশ, ২০০৯ সালে ৬৮ শতাংশ, ২০০৮ সালে ৬৬ শতাংশ, ২০০৭ সালে ৬৬ শতাংশ, ২০০৬ সালে ৬৬ শতাংশ, ২০০৫ সালে ৬৫ শতাংশ, ২০০৪ সালে ৬৩ শতাংশ, ২০০৩ সালে ৬৩ শতাংশ, ২০০২ সালে ৬৩ শতাংশ, ২০০১ সালে ৬৬ শতাংশ, ২০০০ সালে ৬২ শতাংশ।

রোগীর চিকিৎসা ব্যয়ভারের শীর্ষ ১০টি দেশের তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ। ৭৯ শতাংশ ব্যয়ের ভার নিয়ে যৌথভাবে শীর্ষে রয়েছে আর্মেনিয়া ও তুর্কিস্তান। এই সূচকে ৭৭ শতাংশ রোগীকে ব্যয় করতে হয় যৌথভাবে ইকুয়েটোরিয়াল গিনি এবং আফগানিস্তানে। নাইজেরিয়ার নাগরিকদের চিকিৎসা ব্যয়ের ৭৬ শতাংশ নিজেকেই বহন করতে হয়। এর পরই বাংলাদেশের অবস্থান। দেশে নাগরিকদের ব্যয় করতে হয় ৭৩ শতাংশ। প্রতিবেশী মিয়ানমারে রোগীর ঘাড়ে ৭০ শতাংশ ব্যয়ের বোঝা। টোগোতে ৬৯ শতাংশ, ক্যামেরুনে ৬৭ শতাংশ। এ তালিকায় সবচেয়ে কম ৬৬ শতাংশ বহন করতে হয় আজারবাইজানের নাগরিকদের।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশ ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, শ্রীলঙ্কা এবং মালদ্বীপের নাগরিকদের চেয়ে বাংলাদেশে একজন রোগীকে বেশি ব্যয় করতে হয়। মালদ্বীপের নাগরিকরা চিকিৎসা ব্যয়ের মাত্র ১৪ শতাংশ নিজেরা বহন করে। ভুটানের এই ব্যয়ের হার ১৯ শতাংশ, শ্রীলঙ্কায় ৪৪ শতাংশ, ভারতে ৫০ শতাংশ, নেপালে ৫১ শতাংশ, পাকিস্তানে ৫৭ শতাংশ ব্যয় রোগীরা বহন করে।

বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবায় রোগীর ব্যয় বৃদ্ধির কারণ হিসেবে বাজেট বরাদ্দের স্বল্পতাকে দায়ী করছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. সৈয়দ আব্দুল হামিদ বলেন, ১৭ কোটি মানুষকে ভালো রাখতে বাজেটের অন্তত ১২ থেকে ১৫ শতাংশ স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ প্রয়োজন। সেখানে বরাদ্দ ৫ শতাংশে আটকে আছে। এ বছর প্রস্তাব করা হয়েছে মাত্র ৫ দশমিক ২ শতাংশ। মানসম্মত চিকিৎসা সেবা প্রদানের জন্য এই অর্থ অপর্যাপ্ত। এর পরও সমস্যা হলো, স্বাস্থ্য খাতের বরাদ্দের অর্থ চিকিৎসাসেবায় ব্যয় করা সম্ভব হয় না। সীমিত অর্থের বিরাট অংশ কাজে লাগাতে পারে না মন্ত্রণালয়। সেগুলো ফেরত যায়। এতে সরকারি সেবার পরিধি ছোট হচ্ছে। রোগীকে অর্থ খরচ করে বেসরকারিতে সেবা নিতে হচ্ছে। এজন্য দেশের জিডিপির বড় অংশ স্বাস্থ্যে বরাদ্দ দিতে হবে। সরকারি হাসপাতালে সেবা নিতে আসা রোগীদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও ওষুধ বিনামূল্যে প্রাপ্তি নিশ্চিত করতে হবে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যেও এই বিশেষজ্ঞের বক্তব্যের প্রমাণ মিলেছে। দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে স্বাস্থ্য খাতে বাংলাদেশে সবচেয়ে কম বরাদ্দ দেওয়া হয়। সবশেষ বাজেটে বাংলাদেশে ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে মাত্র ২৬ ডলার। প্রতিবেশী মিয়ানমারে এই ব্যয়ের পরিমাণ ৪৮ ডলার। পাকিস্তানে ৪৯ ডলার, নেপালে ৭৬ ডলার, ভারতে ৮১ ডলার। শ্রীলঙ্কায় সরকারের ব্যয়ের পরিমাণ বেশ ভালো। সেখানে ব্যয় করা হয় গড়ে ২৮৩ ডলার। মালদ্বীপ তার নাগরিকদের জন্য বছরে ব্যয় করে প্রায় ১ হাজার ৪৭৯ ডলার। বৈশ্বিক সূচকেও স্বাস্থ্য ব্যয়ের হিসেবে তলানিতে বাংলাদেশ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সদস্যভুক্ত ১১২টি দেশের স্বাস্থ্য খাতে সবচেয়ে কম সরকারি ব্যয়ের ২০টি দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ১৯তম। এই তালিকায় আফগানিস্তান ছাড়া বাকি ১৮টি দেশ আফ্রিকার যুদ্ধবিধ্বস্ত ও দরিদ্রতম দেশ।

কম ব্যয়ের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে দক্ষিণ সুদান। সেখানে সরকার গড়ে ব্যয় করে ৫ দশমিক ৪ ডলার। এরপর কঙ্গোতে ৭ দশমিক ৬ ডলার। মাদাগাস্কারে সরকার ব্যয় করে ১১ দশমিক ৯ ডলার, সেন্ট্রাল আফ্রিকায় ১১ দশমিক ৯ ডলার, বেনিনে ১২ ডলার, আফগানিস্তানে ১২ ডলার, টগোতে ১২ দশমিক ৯ ডলার, হাইতিতে ১৩ দশমিক ৪ ডলার, শাদে ১৪ দশমিক ১ ডলার, ইরত্রিয়ায় ১৬ দশমিক ৯ ডলার, লাইবেরিয়ায় ব্যয় ১৭ ডলার, বুরুন্ডিতে ১৭ দশমিক ৩ ডলার, ক্যামেরুনে ১৯ দশমিক ৭ ডলার, গিনিতে ২০ ডলার, জিম্বাবুয়েতে ২০ দশমিক ৭ ডলার, মালাউইয়ে ২১ দশমিক ৯ ডলার, গিনি বিসাউয়ে ২৪ দশমিক ১ ডলার, ইথিওপিয়ায় ২৪ দশমিক ৯ ডলার, বাংলাদেশে ২৫ দশমিক ৯ ডলার এবং সবশেষ তানজানিয়ায় জনপ্রতি সরকার ব্যয় করে ২৬ দশমিক ১ ডলার।

জিডিপির হিসাবেও স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ কমেছে: দেশের উন্নয়নের প্রধান সূচক হলো জিডিপি। মোট দেশজ উন্নয়নের মাত্র দশমিক ৪০ শতাংশ অর্থ সরকার স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় করে। ২০০০ সালে এই ব্যয়ের পরিমাণ ছিল দশমিক ৫১ শতাংশ। ভারত, পাকিস্তান, ভুটান, মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কা, নেপালের সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায়, স্বাস্থ্য খাতে জিডিপির হিসাবে বরাদ্দের পরিমাণ নিম্নগামী। বাংলাদেশের তুলনায় ভুটান প্রায় পাঁচগুণ বেশি অর্থ ব্যয় করে। শ্রীলঙ্কায়ও প্রায় চারগুণের বেশি অর্থ ব্যয় করে। মিয়ানমার, নেপাল স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দের হিসেবে প্রতিনিয়ত উন্নতি করছে। পাকিস্তান ছাড়া এ তালিকায় সবাই উন্নতি করেছে।

জিডিপির হিসাবে বিশ্বের সবচেয়ে কম স্বাস্থ্য ব্যয়ের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়। এই সূচকে শীর্ষে রয়েছে বেনিন। সেখানে দশমিক ৩২ শতাংশ ব্যয় করা হয়। এর পরই বাংলাদেশের অবস্থান। দেশে এখন দশমিক ৪০ শতাংশ ব্যয় করা হয়। সূচকে দশমিক ৪৩ শতাংশ ব্যয়ের হিসাবে বাংলাদেশের পর হাইতির অবস্থান। ক্যামেরুন ব্যয় করে দশমিক ৪৮ শতাংশ। এ ছাড়া নাইজেরিয়া দশমিক ৫৪ শতাংশ, টেগো দশমিক ৫৫ শতাংশ, কঙ্গোতে দশমিক ৬৩ শতাংশ, ইকুয়েডর দশমিক ৬৮ শতাংশ, গিনি দশমিক ৬৯ শতাংশ এবং লাওসে দশমিক ৭২ শতাংশ ব্যয় করা হয়।

জিডিপির হিসাবে স্বাস্থ্য খাতে সবচেয়ে বেশি ব্যয় করে কিউবা। সেখানে ১২ দশমিক ৬৩ শতাংশ ব্যয় করা হয় স্বাস্থ্য খাতে। এরপর নাউরু ১১ দশমিক ৩৪ শতাংশ, কিরিবাতি ১১ দশমিক ১২ শতাংশ, ব্রিটেন ১০ দশমিক ৩৫ শতাংশ, জার্মানি ১০ দশমিক ২২ শতাংশ, টুভালু ১০ দশমিক ১৪ শতাংশ, সুইডেন ৯ দশমিক ৬৬ শতাংশ, যুক্তরাষ্ট্র ৯ দশমিক ৬২ শতাংশ, অস্ট্রেলিয়া ৯ দশমিক ৪৭ শতাংশ এবং ফ্রান্স ৯ দশমিক ৩০ শতাংশ স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় করে।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ও সিভিল সোসাইটি অর্গানাইজেশন ফোরামের কনভেনার ডা. সৈয়দ রুবায়েত বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে বাংলাদেশ সরকার স্বাস্থ্য খাতে সবচেয়ে কম ব্যয় করে। ২০২১ সালে বাংলাদেশ একজন মানুষের পেছনে গড়ে ২৬ ডলার ব্যয় করেছে। এ সময়ে প্রতিবেশী মিয়ানমার ৪৮ ডলার ব্যয় করেছে। পাকিস্তান নানা সংকটের মধ্যেও ৪৯ ডলার ব্যয় করেছে। নেপালে ৭৬ ডলার, ভারতে ৮১ ডলার, শ্রীলঙ্কায় ২৮৩ ডলার জনপ্রতি ব্যয় করেছে। সবচেয়ে বেশি ব্যয় করেছে মালদ্বীপ। তারা ওই বছর জনপ্রতি গড়ে ১ হাজার ৪৭৯ ডলার ব্যয় করেছে।

তিনি বলেন, ২০২১ সালের তথ্যমতে, বাংলাদেশে এখন চিকিৎসা ব্যয়ের ৭৩ শতাংশ রোগীকে বহন করতে হয়। ২০০০ সালে মোট ব্যয়ের ৬২ শতাংশ রোগীকে বহন করতে হতো। এরপর প্রতিনিয়ত শুধু বাড়ছেই সূচক। রোগীর চিকিৎসা ব্যয় বৃদ্ধির কারণে ৮ দশমিক ৬১ মিলিয়ন বা ৮৬ লাখ মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে নেমে যাচ্ছে। ২০৩২ সালের মধ্যে রোগীর ব্যয় কমিয়ে ৩২ শতাংশে নামিয়ে আনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। কিন্তু বাজেটে পর্যাপ্ত বরাদ্দ নেই। ফলে এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কঠিন হয়ে যাবে। তাই স্বাস্থ্যে বাজেটের পরিমাণ বাড়াতে হবে। রোগীদের ঘাড় থেকে চিকিৎসা ব্যয়ের বোঝা কমাতে হবে


আরও খবর



বাংলাদেশকে ১০০ কোটি ডলার দেবে চীন

প্রকাশিত:বুধবার ১০ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ২১ জুলাই ২০২৪ |

Image

অর্থনৈতিক সহযোগিতার অংশ হিসেবে বাংলাদেশকে ১০০ কোটি ডলার প্রদানের ঘোষণা দিয়েছেন চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং।

বুধবার (১০ জুলাই) পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ এতথ্য জানান। তিনি সাংবাদিকদের জানান, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে চীন সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী।

তিনি জানান, বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ককে নতুন মাত্রায় নিয়ে যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন চীনের প্রধানমন্ত্রী।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে সব বিষয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়েছে।

ড. হাছান মাহমুদ আরও জানান, ১৯৫২ ও ১৯৫৭ সালে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের চীন সফর এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছয়টি সফরের মধ্য দিয়ে যে সম্পর্কের সূচনা হয়েছিল তা স্মরণ করে লি কিয়াং বলেছেন, আগামী দিনগুলোতে এই সম্পর্ক আরও সম্প্রসারিত হবে।

দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপনে আগামী বছর বাংলাদেশ সফরের জন্য চীনের প্রেসিডেন্ট, প্রধানমন্ত্রী ও অন্যদের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন শেখ হাসিনা।

কূটনৈতিক সম্পর্কের সুবর্ণজয়ন্তী যথাযথভাবে উদযাপনের ওপর দুই নেতাই গুরুত্বারোপ করেন। রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে চীনের সহযোগিতা কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

এছাড়াও তিনি চীনের সঙ্গে বাণিজ্য ব্যবধান কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। জবাবে চীনে আরও বাংলাদেশি পণ্য আমদানির কথা বলেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী।

এসময় চীনের প্রধানমন্ত্রীকে চামড়াজাত পণ্য, পাটজাত পণ্য, ওষুধ পণ্য ও সিরামিক পণ্য আমদানির অনুরোধ জানান শেখ হাসিনা।

বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠা ও বিশ্বজুড়ে মানবতা সমুন্নত রাখতে একসঙ্গে কাজ করতে সম্মত হয়েছে দুই দেশ।

চীনা বিনিয়োগকারীদের জন্য বাংলাদেশ একটি রপ্তানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল বরাদ্দ করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে আরও চীনা বিনিয়োগের আমন্ত্রণ জানান।

এছাড়াও ব্রিকসে যেকোনো ফরম্যাটে বাংলাদেশের অন্তর্ভুক্তির কথা উল্লেখ করেন শেখ হাসিনা।


আরও খবর

রাজধানীর সেতু ভবনে আগুন

বৃহস্পতিবার ১৮ জুলাই ২০২৪