Logo
শিরোনাম

শেরপুরে স্ত্রীকে হত্যার দায়ে স্বামীর মৃত্যুদন্ড

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১০ মে ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ১৬ মে ২০২২ | ৬১জন দেখেছেন
Image

জেলা প্রতি‌নি‌ধি, শেরপুর:

শেরপুরে যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনে স্ত্রীকে হত্যা মামলায় স্বামী ফুরকান আলী (৩৬)কে মৃত্যুদন্ড আদালত। মঙ্গলবার (১০ মে) দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. আখতারুজ্জামান আসামির অনুপস্থিতিতে ওই রায় ঘোষণা করেন। ফুরকান আলী শ্রীবরদী উপজেলার রানীশিমুল ইউনিয়নের চেল্লাকান্দি এলাকার ময়দান আলীর ছেলে ও এক সন্তানের জনক। তবে, মামলার পর থেকেই পলাতক রয়েছেন তি‌নি। একইসাথে মামলার অপর ৩ আসামি ফুরকানের বাবা ময়দান আলী (৫৯), মা ফুলেতন বেগম (৪৯) ও আত্নীয় সওদাগর আলী (৬১)কে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় বেকসুর খালাস দেওয়া হয়।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুালের পিপি এ্যাডভোকেট গোলাম কিবরিয়া বুলু জানান, ২০১১ সালের ২ জুলাই রাতে স্ত্রী এক সন্তানের জননী ও শ্রীবরদী উপজেলার বড়গেরামারা এলাকার আব্দুল জব্বারের মেয়ে জহুরা বেগমকে (২৩) যৌতুকের দাবি আদায়ে ব্যর্থ হয়ে মারপিট ও শ্বাসরোধে হত্যার পর তার লাশ নিজ ঘরের দর্ণায় ফাঁসিতে ঝুঁলিয়ে রাখে স্বামী ফুরকান আলী। ওই ঘটনায় পরদিন ফুরকান আলী, তার বাবা-মা ও ২ আত্নীয়সহ ৫ জনের বিরুদ্ধে শ্রীবরদী থানায় মামলা দায়ের করেন জহুরা বেগমের বড় ভাই ফজলুল হক। পরবর্তীতে তদন্ত শেষে একই বছরের ২০ নভেম্বর ফুরকানের আত্মীয় আজিজুর রহমান ব্যতীত ৪ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দাখিল করেন শ্রীবরদী থানার এসআই নুরুল আমিন খান। পরবর্তীতে একমাত্র ময়দান আলী হাজির হয়ে বিচারের মুখোমুখি হলেও অপর ৩ আসামিই পলাতক থাকে। প‌রে মামলায় চূড়ান্ত পর্যায়ে বাদী, চিকিৎসক ও তদন্ত কর্মকর্তাসহ ৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য প্রমাণে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১১ (ক) ধারায় আনিত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় ফুরকান আলীকে এই দন্ড দেওয়া হয়। এছাড়া একই আইনে সহায়তার অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় বাকী‌ আসামিদের খালাস দেওয়া হয়।


আরও খবর



ভাসানচর থেকে পালিয়ে আসা ২ রোহিঙ্গা যুবক সুবর্ণচরে আটক

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১২ মে ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ১৬ মে ২০২২ | ৪৪জন দেখেছেন
Image

  অনুপ সিংহ,নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ

নোয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা হাতিয়ার ভাসানচর রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে পালিয়ে আসা দুই রোহিঙ্গা যুবকসহ এক কিশোরকে আটক করেছে স্থানীয় বাসিন্দারা ।

আটককৃত রোহিঙ্গারা হলো, ভাসানচর আশ্রয়ণ কেন্দ্রের ৭২ নং ক্লাস্টারের  ছৈয়দুল আমিনের ছেলে খায়রুল আমিন (২১) ৬৮ নং ক্লাস্টারের আবদুল খালেকের ছেলে সাইফুল ইসলাম (১৮) এবং ২৭ নং ক্লাস্টারের মো. রফিকের ছেলে আবদুল্লাহ (১২)।

বৃহস্পতিবার (১২ মে)দুপুরের দিকে আটককৃত তিন রোহিঙ্গাকে পুনরায় ভাসানচর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।  এর আগে গতকাল বুধবার সন্ধ্যার দিকে সুবর্ণচর উপজেলায় মোহম্মদপুর এলাকায় থেকে স্থানীয় লোকজন তাদের আটক করে চরজব্বর থানা পুলিশে হাতে সোপর্দ করে।  

বিষয়টি নিশ্চিত করেন চরজব্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জিয়াউল হক। তিনি আরো জানান, স্থানীয়রা তিন রোহিঙ্গা নাগরিককে আটক করে পুলিশে খবর দেয়। বুধবার সন্ধ্যায় তাদেরকে আটক করে থানায় এনে রাখা হয়।  বৃহস্পতিবার দুপুরে পুনরায় তাদেরকে ভাসানচর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।


আরও খবর



স্বপ্নের ঠিকানা পাচ্ছেন দ্বীপ রাঙ্গাবালীর পাঁচ শতাধিক পরিবার

প্রকাশিত:সোমবার ২৫ এপ্রিল ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ১৫ মে ২০২২ | ৮৮জন দেখেছেন
Image

কামরুল হাসান, জেলা প্রতিনিধি  পটুয়াখালী ঃ

মাথা গোঁজার একটু ঠাঁই, আর পাকা একটি ঘর ছিল যাদের দু’চোখের স্বপ্ন। তারাই পাচ্ছেন স্বপ্নের ঠিকানা, হচ্ছে নিজের বাড়ি। মুজিববর্ষ উপলক্ষে মঙ্গলবার পটুয়াখালীর দ্বীপ উপজেলা রাঙ্গাবালীর পাঁচ শতাধিক পরিবার পাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর। সঙ্গে দুই শতক জমি। 

প্রশাসনের তথ্যমতে, গৃহহীন ও ভূমিহীনদের জন্য আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় তৃতীয় পর্যায় এ উপজেলায় নির্মাণাধীন ৬১৮টি ঘরের মধ্যে নির্মিত ৫২০টি ঘর এবার হস্তান্তর করা হবে । মঙ্গলবার সকাল ৯ টায় প্রধানমন্ত্রী গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে সারাদেশে জমি ও ঘর প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধনের পর রাঙ্গাবালীতে উপকারভোগীদের হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে তুলে দেওয়া হবে ঘরের চাবি ও জমির দলিলসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র।  

ঈদের আগেই উপহারের এসব ঘর পাওয়া ওইসব পরিবারগুলোর ঈদ আনন্দে  নতুন মাত্রা যুক্ত হবে বলে মনে করছেন প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা। উপকারভোগীরা বলছেন, মুজিববর্ষে তাদের স্থায়ী ঠিকানা হয়েছে। তাই প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন তারা। দীর্ঘায়ু কামনা করেছেন প্রধানমন্ত্রীর। 

এ প্রসঙ্গে কথা হয় উপকারভোগীদেরই একজনের সঙ্গে, নাম নার্গিস বেগম (৪০)। পেশায় গৃহকর্মী। যার ছিল না এক টুকরো জমি কিংবা মাথা গোঁজার জন্য ঘর। অন্যের বাড়ি আর ভাড়া বাসায়ই কেটেছে জীবন। তিনি এ পর্যায় উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাহেরচর আশ্রয়ণ প্রকল্পে নির্মিত একটি ঘর পেয়েছেন। তার অনুভূতি জানতে চাইলে আনন্দঅশ্রæ চোখে নার্গিস বেগম বলেন, ‘মানুষের বাসায় কাজ করতাম। নিজের কোন জায়গা জমি ঘর আছিল না। ভাড়া ঘরে থাকতাম। ছেলে সন্তান নিয়া অনেক কষ্ট করছি। ওদের (সন্তানদের) মন ছোট থাকতো। এখন প্রধানমন্ত্রী আমারে ঘর দিছে। আমি অনেক খুশি।’   

একই ইউনিয়নের মাদারবুনিয়া আশ্রয়ণ প্রকল্পে ঘর পাওয়া  মান্নান হাওলাদার (৭০) বলেন, ‘আমার আগের জীবন আছিল খুবই কষ্টের। ভাঙা ঘরে ছিলাম। আমার মা শেখ হাসিনা আমারে ঘর দেওনে (দেয়ায়) আমি খুশি। আমি তার জন্য অনেক অনেক দোয়া করি।’ নার্গিস ও মান্নানের মত এমন অনুভূতি ঘর পাওয়া অনেকেরই। তাদের ভাষ্য, একটি ঘর তাদের জীবন বদলে দিবে। 

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মাশফাকুর রহমান বলেন, মঙ্গলবার সকাল ৯ টায় আনুষ্ঠানিকভাবে উপজেলা পরিষদ চত্ত¡রে  তৃতীয় পর্যায় নির্মিত মুজিববর্ষের ঘরের চাবি ও জমির দলিলপত্র হস্তান্তর করা হবে।  এই  অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী) আসনের এমপি এবং সভাপতিত্ব করবেন পটুয়াখালী জেলা প্রশাসক স্যার।  

উল্লেখ্য, মুজিববর্ষ উপলক্ষে গৃহহীন-ভূমিহীন পরিবারের জন্য এ উপজেলায় মোট এক হাজার ৮৮৫টি ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়। এরমধ্যে প্রথম পর্যায় ৪৯১, দ্বিতীয় পর্যায় ৭৭৬ ও তৃতীয় পর্যায় ৬১৮টি ঘর বরাদ্দ হয়।


আরও খবর



অসময়ে ঝড়-বৃষ্টি

প্রকাশিত:বুধবার ২০ এপ্রিল ২০22 | হালনাগাদ:সোমবার ১৬ মে ২০২২ | ১০২জন দেখেছেন
Image

দেশের উত্তরাঞ্চলে গত কয়েকদিন ধরে ঝড়-বৃষ্টির প্রবণতা বেশি ছিল। অন্যান্য অঞ্চলেও থেকে থেকে ঝড়-বৃষ্টি হচ্ছিল। তবে সোমবার সকাল ৬টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় রংপুর বিভাগ ছাড়া কোথাও ঝড়-বৃষ্টি হয়নি। মঙ্গলবার আবহাওয়া অধিদপ্তর সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

আবহাওয়াবিদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, এখন ঝড়-বৃষ্টি হওয়ার কারণ হচ্ছে গভীর সঞ্চারণশীল মেঘমালা (বজ্র মেঘ)। এই মেঘ দেশের মধ্যেও সৃষ্টি হয় এবং ভারত থেকেও এখানে এসে পরিপক্ক হয়। বজ্র মেঘের কারণে ঝড়-বৃষ্টি সব সময় হবে এমন নয়। মাঝে মাঝে হবে, আবার থাকবে না।

তিনি আরও বলেন, এপ্রিল মাসের আবহাওয়ার পূর্বাভাসে আমরা বলেছি—দেশের উত্তর, উত্তর-পশ্চিম ও মধ্যাঞ্চলে ২ থেকে ৩ দিন বজ্র ও শিলাবৃষ্টিসহ মাঝারি বা তীব্র কালবৈশাখী ঝড় এবং দেশের অন্যত্র ৩ থেকে ৫ দিন বজ্র ও শিলাবৃষ্টিসহ হালকা বা মাঝারি ধরনের কালবৈশাখী হতে পারে।

আজ সকাল ৯টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টার পূর্বাভাস তুলে ধরে এ আবহাওয়াবিদ বলেন, রংপুর ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং ময়মনসিংহ ও ঢাকা বিভাগের দু-এক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া দেশের অন্যত্র অস্থায়ীভাবে আংশিক মেঘলাসহ আবহাওয়া প্রধানত শুষ্ক থাকতে পারে।

আজ সন্ধ্যা পর্যন্ত অভ্যন্তরীণ নদীবন্দরগুলোর জন্য কোনো সতর্কবাণী নেই এবং কোনো সংকেতও দেখাতে হবে না। আগামী দিনগুলোতে তাপমাত্রা কিছুটা বাড়তে পারে বলে জানান আবুল কালাম মল্লিক।


আরও খবর

ঢাকায় ফিরছে মানুষ

বুধবার ০৪ মে ২০২২




মুন্সীগঞ্জ শ্রীনগরে টিকটকে পরিচয়ে ২ স্কুলছাত্রী উধাও, ৬ ঘন্টা পরে উদ্ধার

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১২ মে ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ১৬ মে ২০২২ | ৩৭জন দেখেছেন
Image

শ্রীনগর সংবাদদাতাঃ

মুন্সীগঞ্জ শ্রীনগরে টিকটক ও ফেইসবুকে পরিচয়ের মাধ্যমে ২ ছাত্রীর উধাও হওয়ার ৬ ঘন্টা পর শ্রীনগর থানা পুলিশ তাদেরকে উদ্ধার করেছে। গত বুধবার রাতে ঢাকার ব্রাক ইউনিভার্সিটি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদেরকে উদ্ধার করা হয়।থানা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শ্রীনগর উপজেলার ষোলঘর এলাকার স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির ছদ্মনাম আদুরী (১৪) নামে এক ছাত্রীর সাথে টিকটক ভিডিও ও ফেসইবুকে মামুনুর রশিদ নামে এক তরুণের সঙ্গে পরিচয় হয়। এক সপ্তাহের পরিচয়ে তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ১১ মে বুধবার প্রেমিক মামুনুর রশিদ ঢাকা থেকে ষোলঘরে প্রেমিকার সাথে দেখা করতে আসে। দেখা ও কথাবার্তা শেষে সন্ধ্যার দিকে আদুরী তার বান্ধবী( ছদ্মনাম) কবরীকে (১৪) সাথে করে ঢাকায় চলে যায়। অপরদিকে সন্ধ্যায় ছাত্রীরা বাড়িতে না ফেরায় অভিভাবকরা শ্রীনগর থানায় আসে। এর মধ্যে একই এলাকার ওই ২ ছাত্রীর পরিবারের অভিভাবকদের পরিচয় হয়। তারা আলাদা আলাদভাবে থানায় সাধারণ ডায়েরী দায়ের করেন। (ডিজি নং -৪০০ ও ৪০১। এর পর শ্রীনগর থানার এসআই মো. আল-আমিনের নের্তৃত্বে পুলিশের একটি টীম রাতেই ঢাকার গুলশান এলাকায় অভিযান চালিয়ে ২ ছাত্রীকে উদ্ধার করেন।এ ব্যাপারে শ্রীনগর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আমিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, উধাও হওয়ার ৬ ঘন্টা পরেই পুলিশ ছাত্রীদের উদ্ধার করা হয়। তাদেরকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।


আরও খবর



অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্তদের অর্থ প্রদানে হাইকোর্টের রুল

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২৬ এপ্রিল ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ১৬ মে ২০২২ | ৯৭জন দেখেছেন
Image

রাজধানীর গুলশান-বনানী-বারিধারা লেক উন্নয়ন প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্তদের বিদ্যমান আইন (২০১৭ সালে প্রণীত আইন) অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ প্রদানের কেন নির্দেশ দেয়া হবে না । এই মর্মে রুল জারি করেছেন হাইকোর্ট। ভুক্তভোগী মো: লেহাজউদ্দিনসহ ৮৩ জনের পক্ষে করা রিটের শুনানি শেষে বিচারপতি মো: খসরুজ্জামান এবং এবং বিচারপতি মো: ইকবাল কবিরের ডিভিশন বেঞ্চ এ রুল জারি করেন। রিটকারীদের পক্ষে ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম গতকাল (সোমবার) এ তথ্য জানান।

রিটে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব, ঢাকা জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (এলএ. শাখা), ঢাকা ভূমি অধিগ্রহণ কর্মকর্তা এবং রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যানকে বিবাদী করা হয়েছে। আগামী ৪ সপ্তাহের মধ্যে বিবাদীদের রুলের জবাব দিতে হবে।

রুলের বিষয়ে ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ২০১৫ সালে রাজধানীর গুলশান-বনানী-বারিধারা লেক উন্নয়ন প্রকল্পের জন্য ভূমি অধিগ্রহণ করে রাজউক। অধিগ্রহণের আওতায় যাদের জমি পড়েছে, তাদেরকে এলএ কেসের প্রেক্ষিতে ৩ ধারা এবং ৬ ধারায় নোটিশ করা হয়েছে। অথচ তাদেরকে এখন পর্যন্ত ক্ষতিপূরণ টাকা পরিশোধ করা হয়নি। ক্ষতিপূরণের কোনো টাকাও জেলা প্রশাসনে জমা দেয়নি। অন্যদিকে জমির মালিকগণ দু’টি নোটিশপ্রাপ্ত হওয়ায় জমির খাজনা পরিশোধ করতে পারছেন না। এ কারণে আমরা জেলা প্রশাসনের দেয়া ৩ ধারা এবং ৬ ধারার নোটিশকে চ্যালেঞ্জ করেছি। একই সঙ্গে অধিগ্রহণে ক্ষতিগ্রস্ত জমি মালিকদের বিদ্যমান আইন অনুযায়ী কেন ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ দেয়া হবে নাÑ এই মর্মে রুল চেয়েছি। শুনানি শেষে আদালত বিবাদীদের প্রতি রুল জারি করেছেন। রিটে উল্লেখ করা হয়, প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রথম খরচ ধার্য করা ছিল ৪১০ কোটি ২৫ লাখ ৫২ হাজার টাকা। পরে প্রকল্পটিতে সংশোধন আনা হয়। সংশোধিত প্রকল্পে ৮২ দশমিক ৫৬ একর জমি অধিগ্রহণ, ২০ হাজার ৫৫২ দশমিক ১৭ রানিং মিটার ওয়াকওয়ে নির্মাণ, ৩ লাখ ৭৪ হাজার ৫৩১ দশমিক ১৩ ঘন মিটার মাটি ভরাট, ৩৭৩ দশমিক ৪৮ রানিং মিটার কজওয়ে নির্মাণ, ৫ হাজার ২১৮ দশমিক ৩২ রানিং মিটার ড্রাইভওয়ে নির্মাণ, ২ হাজার ৫০০ রানিং মিটার তীর সংরক্ষণ কাজ, ৬৯ হাজার ৬১ বর্গমিটার গ্রাস টার্ফিং, ৮ লাখ ৯২ হাজার ৭২৭ দশমিক ৪৪ ঘনমিটার লেক খনন, একশটি সীমানা পিলার নির্মাণ, ৪ হাজার গাছ রোপণ ও পরামর্শক সেবা প্রহণ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। অথচ এ জন্য বাড়ানো হয়নি বরাদ্দ।

২০১৭ সালে প্রণীত ‘স্থাবর সম্পত্তি অধিগ্রহণ ও হুকুমদখল আইন’র উদ্ধৃতি দিয়ে রিটে উল্লেখ করা হয়, আইনটির ৮ ধারার (৪) উপধারার (৩) এ বলা হয়েছে প্রাক্কলন প্রাপ্তির ১২০ কার্যদিবসের মধ্যে প্রত্যাশী ব্যক্তি বা সংস্থার ক্ষতিপূরণের মঞ্জুরির অর্থ নির্ধারিত পদ্ধতিতে জেলা প্রশাসকের নিকট জমা প্রদান করিতে হইবে’। আইনের ১১ (১) ধারায় বলা হয়েছে ‘ধারা ৮ এর অধীন রোয়েদাদ প্রস্তুতের পর দখল গ্রহণের পূর্বে প্রত্যাশী ব্যক্তি বা সংস্থা কর্তৃক ধারা ৮ এর উপধারা (৩) অনুসারে প্রস্তুতকৃত ক্ষতিপূরণ মঞ্জুরির প্রাক্কলিত অর্থ জমা প্রদানের অনধিক ৬০ কার্যদিবসের মধ্যে জেলা প্রশাসক উক্ত ক্ষতিপূরণের অর্থ উপধারা (২) এর বিধান সাপেক্ষে স্বার্থসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে প্রদান করিবেন।

রিটে উন্নয়ন প্রকল্পে ক্ষতিগ্রস্তদের মানবেতর জীবনযাপনের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে। ভুক্তভোগীরা সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের জন্য অনেকেই স্মৃতিবিজড়িত ভিটে মাটি, আবেগজড়িত জমি সরকারকে দিতে বাধ্য হয়েছেন। গুলশান-বনানী-বারিধারা লেকে অনেকে শেষ সম্বলও হারিয়েছেন। ক্ষতিপূরণের টাকা পাবেন, এই আশায় অনেকে ধার-কর্জ করে বাসা ভাড়া দিচ্ছেন। সংসার চালাচ্ছেন। অর্থাভাবে চিকিৎসা খরচও চালাতে পারছেন না অনেকে। অধিগ্রহণের নোটিশপ্রাপ্ত হওয়ায় ভুক্তভোগীরা অন্যত্র জমি বিক্রি করতে পারছেন না। ভাড়া প্রদান কিংবা ব্যবহারও করতে পারছেন না।

প্রসঙ্গত : ঢাকা মহানগরীর শোভা বর্ধন, অবৈধ দখলদার থেকে লেক উদ্ধারসহ বেশ কিছু উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে ২০১০ সালে রাজউক গুলশান-বনানী-বারিধারা লেক উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেয়। প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল ২০১৩ সালে। আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় সেটি সম্ভব হয়নি। ২০১৫ সালে প্রকল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণ করে ঢাকা জেলা প্রশাসক (ডিসি)। ক্ষতিগ্রস্তদের ৩ এবং ৬ ধারায় নোটিশও করে। অথচ ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণের কোনো অর্থ এখন পর্যন্ত পরিশোধ করা হয়নি। এদিকে খরচ বৃদ্ধি ছাড়াই উন্নয়ন প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয় ৪ বার। এতেও প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হয়নি। ২০১৯ সালে পঞ্চমবার প্রকল্পের মেয়াদ ৪ বছর বাড়িয়ে ২০২৩ সাল করার প্রস্তাব করা হয়।


আরও খবর