Logo
শিরোনাম

শিক্ষক উৎপল হত্যার প্রতিবাদে মানববন্ধন

প্রকাশিত:শুক্রবার ০১ জুলাই ২০২২ | হালনাগাদ:বুধবার ১০ আগস্ট ২০২২ |
Image

অনুপ সিংহ,নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ

সাভারের আশুলিয়ায় শিক্ষক উৎপল কুমার সরকারকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িতদের শাস্তির দাবি ও বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক লাঞ্ছনার প্রতিবাদে নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে মানববন্ধন করেছে শিক্ষকরা।  

বাংলাদেশ শিক্ষক  সমিতি সোনাইমুড়ী উপজেলা শাখার উদ্যোগে বৃহস্পতিবার সকাল ১১টায়  উপজেলা পরিষদ প্রাঙ্গনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন জেলা শিক্ষক সমিতির সহ সভাপতি নোমান উদ্দিন, উপজেলা শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক বেল্লাল হোসেন পাটোয়ারী, সিনিয়র সহ-সভাপতি এ বি এম নোমান, সহ-সভাপতি জাফরুল্লাহ,  যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক  জাফর উদ্দিন।  

এ সময় উপস্থিত ছিলেন  উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের  প্রধান শিক্ষকসহ  শিক্ষকবৃন্দ।


আরও খবর



তেলের দামবৃদ্ধির প্রতিবাদে ঢাকায় বিক্ষোভ আজ

প্রকাশিত:রবিবার ০৭ আগস্ট ২০২২ | হালনাগাদ:বুধবার ১০ আগস্ট ২০২২ |
Image

অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির ফলে দেশ মহাসঙ্কটে পড়ে উন্নয়নের চাকা স্থবির হয়ে সাধারণ মানুষের জীবন জীবিকা দুর্বিষহ করে তুলবে

 -----চরমোনাই পীর সাহেব  

জ্বালানী তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে জ্বালানী তেলের দামবৃদ্ধির এ সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম পীর সাহেব চরমোনাই। তিনি বলেন, এই অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির ফলে দেশ মহাসঙ্কটে পড়বে। উন্নয়নের চাকা স্থবির হয়ে পড়বে। সাধারণ মানুষের জীবন জীবিকা দুর্বিষহ করে তুলবে। 

এক বিবৃতিতে পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, বিশ্ববাজারে জ্বালানী তেলের দাম যেদিন কমলো, সেদিন বাংলাদেশে বাড়লো অস্বাভাবিক ভাবে। বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ালেও বর্তমানে তেলের বাজার নিম্নমুখী। এই সময়ে বাজার পর্যবেক্ষণ না করে, কেবল আইএমএফের প্রেসক্রিপশন বাস্তবায়নে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক ও গণবিরোধী। অনতিবিলম্বে বর্ধিত মূল্য প্রত্যাহার করে, আগের মূল্য বহাল রাখার দাবি জানান তিনি। তিনি বলেন, এ মূল্যবৃদ্ধির কারণে শিল্প কল-কারখান বন্ধ হয়ে যাবে। ফলে নতুন করে সঙ্কট সৃষ্টি হবে। শ্রমিক অসন্তোষ বাড়বে। তিনি বলেন, একদিকে সারাদেশে বিদ্যুতের লোড শেডিংয়ের ফলে জনজীবন দুর্বষহ হয়ে উঠছে। এখন আবার জ্বালানির দাম বাড়ায় নিত্যপণ্যের বাজার অস্থির হয়ে উঠবে। এর প্রভাব পড়বে সাধারণ ও খেটে খাওয়া মানুষের উপর। তিনি বলেন, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় দেশে পরিবহন ভাড়া বাড়বে, জিনিসপত্রের দাম বাড়বে, বাড়বে মুদ্রাস্ফীতি। 

পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, এ অমানিবক সিদ্ধান্ত সরকারকে বাতিল করতেই হবে। অন্যথায় সারাদেশে গণরোষ সৃষ্টি হয়ে গণআন্দোলনে রূপ নিতে বাধ্য। তাই সাধারণ মানুষের কথা ভেবে জ্বালানী তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বাতিল করুন।

কর্মসূচী : জ্বালানী তেলের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ এবং বর্ধিত মূল্যের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর ৭ আগস্ট রবিবার বিকেল ৩টায় রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাব চত্ত্বরে বিক্ষোভ সমাবেশের ঘোষণা দিয়েছে।


আরও খবর



জলবায়ু পরিবর্তনে হুমকির মুখে কৃষি

প্রকাশিত:সোমবার ২৫ জুলাই ২০২২ | হালনাগাদ:বুধবার ১০ আগস্ট ২০২২ |
Image

মইনুল ইসলাম মিতুল : জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে হুমকির মুখে পড়েছে উত্তরাঞ্চলের আউশ ও রোপা আমন ধানের চাষাবাদ।

এই সময়ের মধ্যে সিংহভাগ জমিতে আমনের চারা রোপণ হওয়ার কথা। কিন্তু বৃষ্টির পানির অভাবে অধিকাংশ জমিতে চারা লাগানো যাচ্ছে না। প্রকৃতির এমন বিরুপ আচরণে চাষিদের কপালে পড়েছে চিন্তার ভাঁজ। কখনো টিপটিপ, কখনো একপশলা বৃষ্টি হলেও বর্ষানির্ভর আউশ-আমন চাষের জন্য তা যথেষ্ট নয়। রোদের তীব্রতার চেয়ে বাড়তি সেচ খরচের ধকলে পুড়ছেন এই অঞ্চলের কৃষকরা।

আবহাওয়াবিদরা বলছেন, বর্ষাকালে যে পুঞ্জিভূত মেঘ বাংলাদেশে অবস্থান করার কথা সেটা এখন ভারতের পশ্চিমবঙ্গে আছে। এজন্য বর্ষাকালেও মুষলধারে বৃষ্টি হচ্ছে না। গত এক দশক ধরেই আবহাওয়ায় এমন অস্বাভাবিক পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তন ও বৈশ্বিক উষ্ণতার প্রভাবে ঋতু পরিক্রমায় এই পরিবর্তন বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, এখনই উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। সামনে ভারী বর্ষনের সম্ভাবনা রয়েছে। ভাদ্র মাসের প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত চারা রোপণ করা যাবে। চাষিদের সম্পূরক সেচ দিয়ে চাষাবাদ করার পরামর্শ দিচ্ছেন তারা।

বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট এর তথ্যমতে, বরেন্দ্র অঞ্চলে গড় বৃষ্টিপাত প্রায় এক হাজার ১০০ মিলিমিটার। ১০ বছর আগে রাজশাহীতে বছরে গড় বৃষ্টি হতো এক হাজার ৫০০ মিলিমিটার। রাজশাহী আবহাওয়া অফিসের তথ্যমতে, গত বছর আষাঢ় মাসে রাজশাহীতে বৃষ্টি হয়েছিল ২৫ দিন। আর এ বছর আষাঢ়ে বৃষ্টি হয়েছে মাত্র আটদিন। গত বছর ৩৫৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হলেও এবার তা হয়েছে মাত্র ৩৯ দশমিক দুই মিলিমিটার। বৃষ্টিপাত কমেছে প্রায় ৮৯ শতাংশ। তবে এবার যেই পরিমাণ বৃষ্টি হয়েছে সেটাও বিক্ষিপ্তভাবে কিছু সময়ের জন্য। তাপমাত্রা ছিল গড়ে ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বর্তমানে তাপদাহের বিপর্যয় শুধু বাংলাদেশ নয় এটা বৈশ্বিক সংকট। এমন পরিস্থিতি থেকে উত্তোরণের জন্য প্রচুর পরিমাণে বৃক্ষ রোপন করতে হবে। ফলদ ও ফুলের পাশাপাশি পশু-পাখির উপযোগী বৃক্ষরোপন অপরিহার্য।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর-বিবিএস আউশ ফসলের প্রাক্কলিত হিসাব শীর্ষক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ বছর দেশে আউশের আবাদ হয়েছে ১১ লাখ ৫৯ হাজার ৮০ হেক্টর জমিতে।

বরেন্দ্র অঞ্চলের নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার উত্তরগ্রাম গ্রামের কৃষক রেজাউল ইসলাম জানায়, আষাঢ়-শ্রাবণ মাসে বৃষ্টি নেই। কৃষকেরা এটা ভাবতেই পারছে না। এই রকম বৈরী আবহাওয়া আগে কখনই দেখেননি।

সাপাহার উপজেলার গোয়ালভিটা গ্রামের কৃষক ইব্রাহিম হোসেন বলেন, অনাবৃষ্টির কারণে গভীর নলকূপের পানি দিয়ে আমনের জমি রোপণ করতে গিয়ে শ্রমিক খরচ, হালচাষ ও সার-কীটনাশক দিয়ে বিঘাপ্রতি প্রায় ৪ হাজার টাকা করে খরচ হয়েছে। যদি বৃষ্টি না হয় তাহলে বোরোর আবাদ করতে যে ৯-১০ হাজার টাকার মতো খরচ হতো আমনেও তেমন খরচ হবে।

আবহাওয়ার এমন পরিবর্তন উত্তরের কৃষির জন্য অশনি সংকেত হিসেবে দেখছেন রংপুর আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা একেএম কামরুল হাসান। তিনি বলেন, স্বাভাবিক বৃষ্টি না হলে আমন চাষে তিন ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েন কৃষকরা। প্রথমত সেচে বাড়তি খরচ, দ্বিতীয়ত খেতে আগাছা, রোগ বালাই ও পোকার আক্রমণ বেড়ে যায় এবং তৃতীয়ত উৎপাদিত ধানে ভালো মানের চাল পাওয়া যাবে না।

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডক্টর আবদুল্যাহ আল মারুফ গণমাধ্যমে বলেন, রাজশাহী যে তাপমাত্রা বাড়ার প্রবণতা উর্দ্ধমুখী। আমরা গবেষণা করে যেটা পেয়েছি তা হলো, প্রতিবছর দশমিক ০০৩ করে তাপমাত্রা বাড়ছে। তিনি মনে করেন, রাজশাহী অঞ্চলে তাপমাত্রা বাড়ার কারণ জলাশয় ও পুকুর ভরাট, বৃক্ষ নিধন, বহুতল ভবন নির্মাণ। এজন্য রাজশাহীর তাপমাত্রা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। তিনি আরও বলেন, তাপপ্রবাহ মোকাবেলা করার জন্য এখন থেকে ব্যবস্থা নেয়া জরুরী। আমাদের সবাইকে গাছ লাগিয়ে আবার গ্রীন বলয়ে ফিরে আসতে হবে। নাহলে এই অঞ্চলে প্রতিবছর তাপমাত্রা বাড়তে থাকবে।


আরও খবর

আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস

মঙ্গলবার ০৯ আগস্ট ২০২২




যুক্তরাষ্ট্রকে মূল্য দিতে হবে, চীনের হুমকি

প্রকাশিত:বুধবার ০৩ আগস্ট ২০২২ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ০৯ আগস্ট ২০২২ |
Image

চীনা হুমকির মুখে রাতে তাইওয়ানে নেমে বুধবার সকালে দেশটির পার্লামেন্টে গেছেন যুক্তরাষ্ট্রের স্পীকার ও দেশটির ডেমোক্র্যাটিক পার্টির অন্যতম শীর্ষ ব্যক্তিত্ব ন্যান্সি পেলোসি।

পার্লামেন্টে দেয়া ভাষণে তিনি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও তাইওয়ানের মধ্যে সংসদীয় আদান-প্রদান তিনি আরও বাড়াতে চান। একই সঙ্গে পেলোসি তাইওয়ানকে 'বিশ্বের অন্যতম মুক্ত সমাজ' আখ্যায়িত করেছেন।

তাইওয়ানের পার্লামেন্টে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম এই শীর্ষ নেতাকে স্বাগত জানান পার্লামেন্টের ভাইস প্রেসিডেন্ট সাই খাই চং।

তার এ সফরের প্রতিবাদ জানাতে বেইজিংয়ে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

যুক্তরাষ্ট্রকে মূল্য দিতে হবে, চীনের হুমকি

ন্যান্সি পেলোসির সফরকে কেন্দ্র করে কূটনৈতিক নানা পাল্টা পদক্ষেপ নিচ্ছে চীন। চীনের সরকারি বার্তা সংস্থার খবর অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতকে তলব করে কড়া প্রতিবাদ করেছেন চীনের ভাইস ফরেন মিনিস্টার।

তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রকে তার ভুলের মূল্য দিতে হবে এবং ওয়াশিংটনকে পেলোসির সফরের প্রতিক্রিয়া সামাল দিতে বাস্তব পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

সূত্র : বিবিসি।


আরও খবর



ইটনা প্রায় ২০০টি ফার্মেসীর মধ্যে ড্রাগ লাইসেন্স আছে মাত্র ০৯টির

প্রকাশিত:শনিবার ৩০ জুলাই ২০২২ | হালনাগাদ:বুধবার ১০ আগস্ট ২০২২ |
Image

মোঃ মুজাহিদ সরকার,কিশোরগঞ্জ:

কিশোরগঞ্জের ইটনা উপজেলার সদর ইউনিয়ন বাজারে ২৩-২৫টা ছাড়াও ০৮টি ইউনিয়নের বিভিন্ন বাজার ও মহল্লায় আনুমানিক দুই শতাধিক ওষুধের দোকান গড়ে উঠেছে। হাতেগোনা কয়েকটি দোকান ছাড়া বেশিরভাগ ওষুধের দোকানে লাইসেন্স, কেমিস্ট ও ফার্মাসিস্ট ছাড়াই চলছে রমরমা ওষুধ ব্যবসা। 

জানা যায়, প্রশাসনের কোন রকম নজরদারি না থাকায় আইনের তোয়াক্কা না করে সরকারি রেজিস্ট্রার্ড চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন ছাড়াই এন্টিবায়েটিক, ঘুমের ঔষুধসহ সব ধরনের ওষুধ বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। তাছাড়া অবাধে বিক্রি হচ্ছে যৌন উত্তেজক টেবলেট ও মহিলাদের গর্ভপাতের ওষুধ। আবার অনেক ফার্মেসিতে ওষুধ বিক্রির পাশাপাশি রোগের চিকিৎসাও দেয়া হচ্ছে। 

কিশোরগঞ্জ জেলা থেকে ইটনা উপজেলার অতিরিক্ত দূরত্ব হওয়ায় নিম্ন আয়ের মানুষের চিকিৎসাসেবার অন্যতম মাধ্যম হয়ে উঠেছে লাইসেন্সবিহীন এসব ফার্মেসী। আর এতে করে মারাত্বক স্বাস্থ্য ঝুঁকি মধ্যে পড়ছেন উপজেলার মানুষ। অন্যদিকে লাভবান হচ্ছে একদল ওষুধ ব্যবসায়ী। 

ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর(কিশোরগঞ্জ) সূত্রে জানা যায়, ইটনা উপজেলায় সরকারিভাবে ড্রাগ লাইসেন্সধারী ফার্মেসী রয়েছে মোট ৭৩টি। এর মধ্যে অ্যালোপ্যাথিক ৬৯টি, হোমিওপ্যাথিক ০২টি এবং ইউনানি ০১টি এবং হোল সেল ১টি ফার্মেসী রয়েছে। উল্লেখ্য যে, ইটনা উপজেলায় এই ৭৩টি এর মধ্যে শুধুমাত্র ০৯টি অ্যালোপ্যাথিক ফার্মেসীর ড্রাগ লাইসেন্স নবায়ন করা হয়েছে। নবায়ন হয়েছে "গীতা ড্রাগ হাউজ,জয়িতা ফার্মেসী,মুসলিম মেডিকেল হল,সাথী ফার্মেসী, ইসলামিয়া ফার্মেসী,জয় মেডিসিন সেন্টার,উর্মি মেডিকেল হল, পুষ্পকলি ওষুধালয় এবং জননী মেডিসিন গার্ডেন। কিছু ফার্মেসী আছে ২০১০-১৪ইং সালের পর আর নবায়ন করা হয় নাই কিন্ত উপর মহল ম্যানেজ করে ওষুধের রমরমা ব্যবসা বাণিজ্য চলছে। 

সঠিক তথ্য নিশ্চিত করার জন্য, ওষুধ ফার্মেসীতে সাজানো রোগী পাঠায় রেজিস্টার্ড চিকিৎসকের ছারপত্র ছাড়াই। আমাদের সাজানো ক্রেতা র চাহিবার মাত্রই এন্টিবাইটিক ওষুধ বিক্রি করেন ফার্মেসীতে দায়িত্বরত লোকজন অথচ তাদের ফার্মাসিস্ট সার্টিফিকেট নাই। একই চিত্র উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়নের ফার্মেসীগুলোতেও।

দেখা যায়, আবার অনেক ফার্মেসীতে মানুষের ওষুধের পাশাপাশি গরু-ছাগল, হাঁস মুরগির ওষুধও বিক্রি করতে। এসব ঔষুধ সংরক্ষণও করা হয় যেনতেন ভাবে। 

গত ২৪ শে নভেম্বর ২০২০ইং নীলফামারীতে মডেল ফার্মেসী উদ্বোধনের সময় বাংলাদেশ ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (ডিজি) মেজর জেনারেল মো. মাহবুবুর রহমান বলে ছিলেন, ওষুধ ফার্মেসী স্থাপন করতে হলে ড্রাগ লাইসেন্স ও ফার্মাসিস্ট থাকতে হবে। ড্রাগ লাইসেন্স এবং ফার্মাসিস্ট ছাড়াই যেসব ফার্মেসী স্থাপন করা হয়েছে, তা আইনানুযায়ী অবৈধ। ওই সব অবৈধ ফার্মেসীতে কোনো ওষুধ কোম্পানি ওষুধ সরবরাহ করতে পারবে না। ড্রাগ লাইসেন্স ও ফার্মাসিস্ট ছাড়া যেসব ওষুধের দোকান চালু আছে, তা ক্রমান্বয়ে বন্ধ করে দেওয়া হবে। 

নামপ্রকাশ না করার শর্তে এক ফার্মেসীর মালিক বলেন, আমরা ইটনা সদরের সব থেকে বড় ওষুধের দোকান 'গীতা ড্রাগ হাউজ' থেকে ওষুধ কিনে এনে বিক্রি করি। আমার মতো ড্রাগ লাইসেন্সবিহীন বিভিন্ন ইউনিয়নের ওষুধের দোকানে সব ধরনের ওষুধ বিক্রি করে গীতা ড্রাগ হাউজ কিন্ত গীতা ড্রাগ হাউজের হোলসেল করার অনুমতি নেই। 

গীতা ড্রাগ হাউজের মালিক সনজিত রায় বলেন, আমার এখন থেকে যারা ওষুধ কিনে নেন তাদের বেশিরভাগ-ই গ্রামের মহল্লার ছোট ছোট ওষুধ ব্যবসায়ী। ড্রাগ লাইসেন্স আছে নাকি নাই এগুলো ওষুধ কোম্পানি থেকেও খোঁজ করেন না তবে আমরা ফার্মেসীর মালিকদের সাথে মিটিং করে বার বার বলছি ড্রাগ লাইসেন্স করার জন্য। 

উর্মি মেডিকেল হলের মালিক শাওন চন্দ্র দে বলেন, আমরা সরকারের নির্দেশ মেনে ট্যাক্স দিয়ে ড্রাগ লাইসেন্স নবায়ন করে বৈধ ভাবে ব্যবসা করছি। অনেকে ট্রেড লাইসেন্স ও ড্রাগ লাইসেন্স না থাকার পরও জমজমাট ব্যবসা করে যাচ্ছে। প্রশাসনের উচিত মোবাইল কোর্ট করে জরিমানা দিয়ে ছেড়ে না দিয়ে তাদের ড্রাগ লাইসেন্স গুলো দ্রুত করার জন্য সহযোগিতা করা। 

ইটনা উপজেলা ওষুধ ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি ও ওষুধ ব্যবসায়ী হায়দার আলী বলেন, আমরা সবাই কে বলবো ড্রাগ লাইসেন্স করার জন্য এবং যাদের ড্রাগ লাইসেন্স আছে তাদের নবায়ন করার জন্য। তিনি আরও বলেন, কিছুদিনের মধ্যে ওষুধ ব্যবসায়ীদের কে নিয়ে মিটিং করবো।

ইটনা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা.প্রসূন সাহা বলেন, চিকিৎসক এর প্রেসক্রিপশন ব্যতীত অপ্রয়োজনীয় এন্টিবায়োটিক, ব্যাথানাশক বড়ি এবং মানহীন ঔষধ মানব শরীরে কিডনি, লিভার সহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের ক্ষতি করে। 

উপজেলা নির্বাহী অফিসার নাফিসা আক্তার জানান, কিছু মাস আগে উপজেলার বাজারে ওষুধের দোকানগুলোতে উপজেলা প্রশাসন মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করেন এবং বেশ কিছু দোকানকে নগত অর্থ জরিমানা করা হয়েছিল। ওষুধ ব্যবসায়ীদের সবাইকে নির্দেশ দেয়া হয়েছিল ড্রাগ লাইসেন্স করার জন্য এবং যাদের ড্রাগ লাইসেন্স আছে কিন্ত নবায়ন করা হয়নি তাদের কে দ্রুত নবায়ন করার জন্য।


আরও খবর



বোকা শব্দটা খুব ছোট হলেও এর দর্শনটা খুব গভীর

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১৪ জুলাই ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ০৮ আগস্ট ২০২২ |
Image

অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান চৌধুরীর ফেসবুক থেকে নেয়াঃ

পৃথিবীর সবচেয়ে কমেডি চরিত্র হচ্ছে বোকা | ট্রাজিডি চরিত্রও হচ্ছে বোকা | খুব বিব্রতকর একটা চরিত্র, যেটা বহুমাত্রিক ও পরিবর্তনশীল | ঠিক নাটকের চরিত্র নয়, নাটকের বাইরের বাস্তব জীবনের চরিত্রও এটি | যেটা  গড়তে গড়তে ভেঙে যায়, ভাঙতে ভাঙতে গড়ে উঠে | 

বোকা শব্দটা খুব ছোট হলেও এর ভিতরের মনস্তত্ব ও দর্শনটা খুব গভীর | সবাই নিজেকে বোকা প্রমাণ করতে যেমন ভালোবাসে, ঠিক তেমনি অন্যকেও বোকা বানাতে ভালোবাসে | আপাতদৃষ্টিতে মনে হতে পারে, বোকা তো বোকাই, এটা প্রমাণের কি দরকার | 

তাছাড়া এটা বিজ্ঞানের কোনো সূত্রও নয় যে এটাকে প্রমাণ করে দেখাতে হবে | তারপরও বোকা প্রমাণের সুযোগটা কেউ হাতছাড়া করতে চায়না | 

মানুষ নিজের স্বার্থে বোকা সাজে, আবার নিজের স্বার্থে চালাক সাজে, নিজের স্বার্থে অন্যকে বোকা বানায়, নিজের স্বার্থে অন্যকে চালাক সাজায়  | বিষয়টা অনেকটা আয়নাবাজির মতো | যেখানে মানুষ নিজের প্রয়োজনে চরিত্র বদলায়, রং পাল্টায়, স্বার্থ উদ্ধারের পর আবার আবার পরবর্তী অভিনয়ের জন্য তৈরী হয়  | 

অভিনয় একটা কৌশল, অভিনেতা সে কৌশলের একটা অংশ মাত্র | অথচ এখন অভিনয় মানুষ নামের অভিনেতাদের পেটে ঢুকে গেছে অথচ হজম হচ্ছেনা  | মানুষ এখন খুব ক্ষুধার্ত, না কোনো খাদ্যের অভাবে নয় | বরং নিজেদের ভোগ বিলাস মেটানোর অভাবে  | 

বড় বড় মানুষরা এই রোগের নাম দিয়েছে ভোগবাদিতা | ভোগবাদী বোকাদের অভিনয় কমেছে, অভিনেতা সাজার ক্ষুধা বেড়েছে | সে ক্ষুধার পেট এতটাই বড় হচ্ছে যে তা কখন সেই  মানুষটাকেই খেয়ে ফেলবে তা হয়তো সে নিজেও জানেনা | 

তবে আমি একজন প্রকৃত বোকা খুঁজছি | কিন্তু কিছুতেই খুঁজে পাচ্ছিনা | কাঁচের আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে একটা বোকা মানুষকে দেখতে পেলাম | সেখানে আমি ছাড়া কেউ ছিলোনা | তবে আয়নার মানুষটা কে আমি ঠিক বলতে পারছিনা | কারণ আয়নায় যাকে দেখছি সেটা যে আমি তা কিভাবে বিশ্বাস করবো, কারণ নিজের মুখটা যে কখনো নিজে দেখা হয়ে উঠেনি | 

সব মানুষের ভিতরে নিঃস্বার্থ বোকা তৈরী হোক, যারা জানবেনা তারা কি করছে, যারা বুঝবেনা তারা কি করছে, তবে তারা যা করছে তা পৃথিবীর কোনো না কোনো কল্যাণের জন্যই করছে | স্বার্থবাদী মানুষের চোখে নিঃস্বার্থ মানুষরা বোকা হয় | এটাই পৃথিবীর নিয়ম |

কখনো কখনো জ্ঞান আহরণের জন্য মানুষকে বোকা সাজতে হয় | এটাকে নেতিবাচক না ভেবে ইতিবাচক ভাবা যেতে পারে |  কারণ কোনো একটি বিষয়কে একজন মানুষ যেভাবে ভাবছে, অন্যরা হয়তো তাদের মতো করে ভাবছে | সে ভাবনাগুলো থেকে এমন কিছু নতুন সৃষ্টির ধারণা বেরিয়ে আসতে পারে যেটা বোকা মানুষটাকে গবেষণার কিংবা লেখার কোনো নতুন উপাদানের ভাবনায় আক্রান্ত করতে পারে |

তবে বোকা একটি শব্দ মাত্র | সে শব্দটা মানুষ হয়তো তার স্বার্থের কারণেই বানিয়েছে | তবে বোকারা সেটা  কখনো জানতেও পারেনা বা জানার চেষ্টাও করেনা  | আর সেটা  না জানাটাই হয়তো সবচেয়ে  ভালো | কারণ বোকারা কখনো ঘুমায়না,তার শরীরটা বিছানায় গা-এলিয়ে  ঘুমায় | কারণ বোকা মানুষটা তার বাইরের শরীরটাকে  ঘুমিয়ে দিয়ে নিজের ভিতরের বোকা মানুষটাকে  জাগিয়ে রাখতে ভালোবাসে | পৃথিবীতে সবাই ঘুমিয়ে পড়লে জেগে থাকার মানুষ তো আর পাওয়া যাবেনা | 

কাউকে কাউকে আজীবন নিজের সাথে যুদ্ধ করতে করতে জেগে  থাকতে হয় | মানুষের স্বার্থে তাকে ত্যাগের মূল্য দিতে হয় | সামনে এগিয়ে থেকেও সবার পিছনে পিছনে চলতে হয় | পর্দার সামনে আসার কথা থাকলেও পর্দার  পিছনে দাঁড়িয়ে ক্যামেরাম্যানের মতো কাজটা করে যেতে হয় | সবাই ক্যামেরায় বন্দি নায়ক-নায়িকাদের দেখতে ভালোবাসে, অন্তরালের বোকা মানুষটাকে কেউ হয়তো খুঁজেও দেখেনা | হয়তো বোকা মানুষটা সবকিছুই   বুঝে,  মুখটাতে বোকার হাসিটা তারপরও ধরে রাখে আমৃত্যু, তবে সে হাসির পিছনে লুকিয়ে থাকা কান্নাগুলো সে কখনো কাউকে দেখাতে চায়না | মানুষের নির্দয় পৃথিবীতে সে কান্নার মূল্যইবা কতটুকু | বাণিজ্যিক দুনিয়ার চাকচিক্যে সেটা হয়তো কখনো কারো চোখেই পড়েনা | মনকেও এতটুকু নাড়াও দেয়না | 

সব সত্য সত্য নয় , সব মিথ্যা সত্য নয়, সব সত্য মিথ্যা নয়, সব মিথ্যা মিথ্যা নয়  | সবকিছুই একটা খেলা | 


আরও খবর

পরাজয় মানুষকে আপন-পর চেনাতে শেখায়

বৃহস্পতিবার ০৪ আগস্ট ২০২২