Logo
শিরোনাম

সিলেট-সুনামগঞ্জে পানির নিচে এটিএম

প্রকাশিত:রবিবার ১৯ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 |
Image

বন্যার কারণে সিলেট ও সুনামগঞ্জে ব্যাংকের শাখাগুলো খোলেনি। পানিতে তলিয়ে গেছে ব্যাংকগুলোর এটিএম বুথ। যেসব ব্যাংকের শাখা নিচতলায়, সেগুলো পানিতে ডুবে গেছে। তবে যেসব শাখা দোতলা ও তিনতলায়, সেসব শাখা এখনো নিরাপদ আছে।

ইন্টারনেট, মুঠোফোন ও বিদ্যুৎব্যবস্থা না থাকায় ব্যাংকগুলোর সব ধরনের সেবা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। এ কারণে ওই সব এলাকার ব্যাংকের শাখার পাশাপাশি, এটিএম, মোবাইল ব্যাংকিং সেবাও বন্ধ রয়েছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডাচ্‌-বাংলা ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কাশেম মো. শিরিন বলেছেন, ‘সিলেট ও সুনামগঞ্জে আমাদের ৬টি শাখা, ৯৫টি এটিএম এবং ৩১টি টাকা জমার মেশিন আছে। তার সবই পানির নিচে। এ কারণে ১৫ থেকে ১৬ কোটি টাকা পানিতে ডুবে আছে। যোগাযোগব্যবস্থা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ওই সব এলাকায় রকেট, ইন্টারনেট ব্যাংকিং, এজেন্ট ব্যাংকিং সেবাও বন্ধ হয়ে গেছে।

একই অবস্থা সরকারি–বেসরকারি সব ব্যাংকের। সুনামগঞ্জের ব্যাংক শাখাগুলো নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সুস্পষ্টভাবে কিছু বলতে পারছেন না। অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ শামস-উল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বন্যার কারণে সিলেট ও সুনামগঞ্জে ব্যাংকের শাখাগুলো খোলা সম্ভব হয়নি। আমাদের বেশির ভাগ শাখা দোতলায় হওয়ায় ক্ষয়ক্ষতি কম হয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংক আমাদের আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়ে দিয়েছে, নিরাপত্তা নিশ্চিত না করে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে আপাতত বন্ধ রাখতে। পাশাপাশি ওই এলাকায় ত্রাণ সহায়তা দিতে বলেছে। আমরা সেই অনুযায়ী ব্যবস্থা নিচ্ছি।


আরও খবর

ছোট ও মাঝারি গরুর দাম বেশি

শুক্রবার ০১ জুলাই ২০২২




টিউমার ও ক্যান্সারের মধ্যে পার্থক্য

প্রকাশিত:সোমবার ২০ জুন ২০22 | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 |
Image

একটি যার শরীলে একবার বাসা বাধে তিলে তিলে মানুষটির জীবন শেষ করে দেয়। তবে সচেতনতা যথার্থ চিকিৎসা রোগীকে দিতে পারে দীর্ঘায়ায়ু। আবার অনেক সময় রোগীরা ভোগান্তিতে পরেন ভুল তথ্য কিংবা চিকিৎসার কারনে। ক্যান্সার সম্পর্কে জ্ঞানের অভাবের কারনে অনভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শে বা ভুল রোগ নির্নেয় ব্যবস্থা প্রতিবেদনের কারনে। তাছাড়া ক্যান্সার টিউমার এই দুটি ব্যাধিই মানব শরীরের কোষের অস্বাভাবিক বিবর্তন প্রদর্শন করে। আর চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দেহে গড়ে ত্রিশ ট্রিলিয়নের মতো কোষ থাকে। তাই অনেক সময়ই আমরা টিউমার শব্দটি শুনলে ভাবি ক্যান্সার, আবার ক্যান্সার শুনলে মনেকরি টিউমার হয়েছে।  যেমন মানুষে বলে- ব্রেইন ক্যান্সার হয়েছে কিংবা ব্রেইন টিউমার হয়েছে,! কিন্তু দুটো ব্যাধি কি একই! মোটেও নয়।  যেমনটা ব্রেস্ট টিউমার কিংবা ব্রেস্ট ক্যান্সার, দুটো একই নয়।

টিউমার হলো কিছু অস্বাভাবিক টিস্যুর সমাবেশ, যেখানে কোষগুলো অস্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় সংখ্যা বৃদ্ধি করে। টিস্যু মানে একই ধরনের কিছু কোষ, যখন কোথাও এক হয়ে একই ধরনের কাজ করে।

বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন ডা. অপূর্ব চৌধুরী

আমাদের শরীরে বিলিয়ন নয়, ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন কোষ আছে। ধরা হয় একজন প্রাপ্তবয়স্কের দেহে গড়ে ত্রিশ ট্রিলিয়নের মতো কোষ থাকে। জন্মের সময় সংখ্যা চার শতাংশের এক শতাংশ থাকে। কোষের ভেতর কিছু নিয়মে পুরনো কোষ মরে যায়, নতুন কোষ জন্ম নেয়, আবার কিছু কোষ সাইজে বাড়ে, কিছু কোষ সংখ্যায় বাড়ে। কিন্তু কোন কোষ মরে যাবে এবং কোন কোষ কতগুলো নতুন কোষ জন্ম দিতে পারবে, কোন কোষের সাইজ কেমন হবে, কোষের এমন সব বৈশিষ্ট্যকে নিয়ন্ত্রণের জন্য কোষের ভেতর কিছু নির্দেশ বা নিয়ম থাকে। আর সে নিয়মগুলো থাকে ডিএনএতে। কোনো কারণে ডিএনএ-এর মধ্যে থাকা নির্দেশ প্রক্রিয়া পরিবর্তন হয়ে গেলে কোষগুলো তখন অস্বাভাবিকভাবে নতুন কোষের জন্ম দিতে থাকে, পুরনো কোষ মরে না গিয়ে হযবরল ঘুরতে থাকে, অথবা নতুন জন্ম নেওয়া কোষগুলো কাজবিহীন ঘুরে বেড়ায়।

কারণ কোষগুলোতে কোথায় গিয়ে থামতে হবে তার নির্দেশ থাকে না, কী কাজ করবে তার নির্দেশটি পরিবর্তন হয়ে যায়। তখন পরিবর্তিত ডিএনএ-এর নির্দেশে রোবটের মতো একের পর এক নতুন কোষের জন্ম দিতে থাকে, নতুন অস্বাভাবিক কোষের সংখ্যা বেড়ে বেড়ে স্বাভাবিক কোষের কাজে ব্যাঘাত ঘটায়, বুড়ো কোষগুলোর পটোল তোলার প্রক্রিয়া থেমে গিয়ে আবর্জনার মতো জমা হতে থাকে শরীরে।

তখন শরীরের অতিরিক্ত এবং অস্বাভাবিক কোষগুলো কোথাও জমা হয়ে একটি লাম্প বা প্লি বা চাকতির মতো হয়ে প্রকাশ পেলে তাকে তখন টিউমার বলে।

টিউমার দুধরনের হয়। এক ধরনের টিউমার শুধু এক জায়গাতে বৃদ্ধি পেয়ে এক জায়গাতেই বসে থাকে। এদের বলে বিনাইন টিউমার। এরা তেমন ক্ষতিকারক নয়। আরেক প্রকার টিউমারের ভেতর থাকা অস্বাভাবিক কোষগুলো রক্ত কিংবা লিম্ফ্ নামক কিছু রাসায়নিক পদার্থের মাধ্যমে শরীরের অন্য কোনো অংশে গিয়ে জমা হয়ে সেই অংশের স্বাভাবিক কাজে ব্যাঘাত ঘটায়, নতুন কোনো টিউমার তৈরি করে সেখানে, তখন তাদের বলে ম্যালিগন্যান্ট টিউমার। ম্যালিগন্যান্ট টিউমারকে অন্যভাবে বলে ক্যান্সারাস টিউমার। কাজের সুবিধায় সংক্ষেপে ক্যান্সার বলে।

আমাদের শরীরে প্রায় ২০০ ধরনের ক্যান্সার জাতীয় সমস্যা আছে। ক্যান্সার হলো মূলত শরীরের অনেক জায়গায় বিভিন্ন সমস্যার একটি সমষ্টি। এর শুরুটা শরীরের কোনো একটি অংশে হয়। তারপর যখন সেটি শরীরের বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ে, কেবল তখন তাকে ক্যান্সার বলে।

টিউমারের মধ্যে থাকা অস্বাভাবিক কোষগুলো শরীরের বিভিন্ন অংশে গিয়ে কখনো নতুন টিউমার হতে পারে, কখনো কেবল সেখানকার অন্য কোষগুলোর কাজে ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। এমন করে না ছড়িয়ে পড়া বিনাইন টিউমারগুলো যখন শরীরের অন্য কোথাও ছড়িয়ে গিয়ে সমস্যা তৈরি করে, সেই ম্যালিগন্যান্ট টিউমারগুলোই মূলত বেশিরভাগ ক্যান্সারের জন্য দায়ী বলে, তখন তার তৈরি করা সমস্যাগুলোকে সহজ করে কেবল ক্যান্সার বলে। ক্ষেত্রে যে অঙ্গ বা অংশ থেকে কোষের পরিবর্তনের শুরু, তখন তাকে ওই পার্টের ক্যান্সার বলে।

আবার কিছু ব্যতিক্রম আছে। যেমন- ব্লাড ক্যান্সার, লিউকেমিয়া। এক্ষেত্রে রক্তের স্বাভাবিক কোষগুলোর চেয়ে অস্বাভাবিক কোষগুলো রক্তে বেশি থেকে রক্তকে তার স্বাভাবিক কাজ করতে দেয় না, রক্তে কোনো আলাদা টিউমার দেখা দেয় না।

তারমানে সব টিউমার ক্যান্সার নয়, কিছু কিছু টিউমার কেবল ক্যান্সার, যখন সেই টিউমারগুলোর মধ্যে থাকা কোষগুলো শরীরের অন্য অংশে গিয়ে আরও নতুন টিউমার বা কাজে সমস্যা তৈরি করে। আবার সব ক্যান্সার টিউমার নয়, যেখানে অস্বাভাবিক কোষগুলো টিস্যু আকারে কোথাও জমাট বেঁধে প্রকাশ পায়। যেমন ব্লাড ক্যান্সারে এমন টিউমার হয় না।

অনেক মহিলার ব্রেস্টে জীবনের যে কোনো সময়ে লাম্প বা চাকতির মতো বা পিণ্ডের মতো কিছু দেখা দিতে পারে। বাড়তি প্লিটি কেবল একটি টিউমার হতে পারে। এটিকে ভুল করে ব্রেস্ট ক্যান্সার বলা যাবে না। কারণ চিকিৎসকরা এমন বাড়তি কোষের সমাবেশ কোথাও হলে প্রথমে তার সিটি স্ক্যান কিংবা এমআরআই করে নিশ্চিত হন এটি কেবল টিউমার কিনা। তারপর সেখান থেকে কিছু কোষ বায়োপসির নামক পরীক্ষার মাধ্যমে মাইক্রোস্কোপের নিচে রেখে কোষগুলো পরীক্ষা করে নিশ্চিত হন কোষগুলো ক্যান্সার জাতীয় কোষ কিনা, তখন তেমন পরিবর্তন দেখলে তাকে ব্রেস্ট ক্যান্সার বলা যায়। শুধু এমন টিউমার হলে প্রথমে কেবল ওষুধ দিয়ে, তারপর অপারেশন করে সেই বাড়তি অংশটি কেটে ফেলে টিউমারের চিকিৎসা করা হয়।

সেই টিউমার যদি শরীরের অন্য কোথাও ছড়িয়ে যায়, শরীরে আরও বিভিন্ন ধরনের সমস্যা তৈরি করে, তখন যে অংশে টিউমারটি হয়েছে সেটি প্রথমে অপারেশন করে কেটে ফেলার দরকার বা অবস্থায় থাকলে কেটে ফেলে দিতে হয়, সঙ্গে শরীরের অন্য অংশগুলোতে ছড়িয়ে যাওয়া অস্বাভাবিক ক্যান্সার কোষগুলোকে মেরে ফেলা অথবা তারা যাতে আর সংখ্যা বৃদ্ধি করতে না পারে, সেটা থামিয়ে দেওয়ার জন্য কিছু কেমিক্যালের মাধ্যমে কেমোথেরাপি এবং কিছু রে বা রশ্মির মাধ্যমে রেডিওথেরাপি দিয়ে ক্যান্সারটির চিকিৎসা করার চেষ্টা করা হয়। এখন নিশ্চয়ই কারও টিউমার হলেই ক্যান্সার হয়েছে, এমনটি বলবেন না এবং ভাববেনও না। বর্তমানে দুটোরই চিকিৎসা আছে। টিউমার বা ক্যান্সার হওয়া মানেই সঙ্গে সঙ্গে মৃত্যু নয়। ক্যান্সার বা টিউমার শরীরের অন্য হাজার রোগের মতোই একটি রোগ বা সমস্যা। বরং শরীরের কোথাও এমন বাড়তি কোন মাংস প্লি, কোনো কারণ ছাড়াই অনেকদিন ধরে অস্বাভাবিকভাবে শরীরের ওজন কমে যাওয়া, দীর্ঘদিন কোনো কারণ ছাড়াই দীর্ঘ সময় দুর্বল অনুভব করা, এমন সব কমন কিছু সমস্যার মুখোমুখি হলে দ্রুত চিকিৎসকের সঙ্গে পরামর্শ করুন।

 


আরও খবর

বাড়ছে মৃত্যু, কমেছে শনাক্ত

শনিবার ০২ জুলাই 2০২2




বিপৎসীমার উপরে যমুনার পানি

প্রকাশিত:শনিবার ১৮ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 |
Image

উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও ভারী বর্ষণে সিরাজগঞ্জের যমুনা নদীর পানি বৃদ্ধির পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ নদ-নদীর পানিও বাড়ছে। এতে নদী তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বিভিন্ন ফসল ডুবে গেছে। প্লাবিত হচ্ছে নতুন নতুন এলাকা।

শনিবার (১৮ জুন) সকাল ৯টায় পাওয়া শেষ খবরে, গত ২৪ ঘণ্টায় ৪২ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অপরদিকে, কাজিপুর পয়েন্টে গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৬ সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে বলে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে।

যমুনার পানি বাড়ায় সিরাজগঞ্জের কাজিপুর, বেলকুচি, শাহজাদপুর, চৌহালী ও সদর উপজেলার বিভিন্ন স্থানে নিম্নাঞ্চল ডুবে গেছে। এতে তিল, কাউন, বাদাম, পাট ও সবজিসহ বিভিন্ন ফসল ডুবে গেছে।

এব্যাপারে সিরাজগঞ্জ পানিউন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রোকৌশলী শফিকুল ইসলাম জানান, জেলার কোথাও কোনো ঝুঁকিপূর্ণ বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নেই। তবে নদী তীরবর্তী কিছু কিছু এলাকায় ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। এ ধারা অব্যাহত থাকলে যমুনার পানি বিপৎসীমা (আজ) শনিবার অতিক্রম করতে পারে বলে জানান তিনি।

তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যেই ভাঙন এলাকায় ৪০ হাজার জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে। এছাড়া ভাঙনরোধে ৩০ হাজার জিও ব্যাগ প্রস্তুত রাখা হয়েছে এবং ৯৬ হাজার জিও ব্যাগের জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়েছে। বাঁধসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো নজরদারিতে রাখা হচ্ছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।


আরও খবর



পদ্মা সেতু উদ্বোধন উৎসবের জন্য প্রস্তুত

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১৪ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 |
Image

মইনুল ইসলাম মিতুল:  প্রমত্তা পদ্মার বুকে এখন স্বগর্বে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের ইতিহাসের দীর্ঘতম সেতু- স্বপ্নের পদ্মা সেতু। দেশ-জাতির সক্ষমতার প্রতীক পদ্মা সেতু এখন উদ্বোধনের পালা। আর মাত্র ১০ দিন পরই খুলে দেওয়া হবে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে দক্ষিণ বাংলাকে এক সুতোয় গেঁথে দেওয়া এই সেতুটি। পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানকে উৎসবে রূপ দিতেই এখন সব ব্যস্ততা। সেতুর দুই পাড়েই শুধু নয়, উৎসব ছড়িয়ে দেওয়া হবে দেশজুড়ে। তাই প্রতিদিনই সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সেতু এলাকা পরিদর্শনে যাচ্ছেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সফল করতে কার কী দায়িত্ব তা বুঝিয়ে দেওয়া হচ্ছে। টুকটাক যেসব কাজ বাকি আছে, তাও আগামীকালের মধ্যে শেষ হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। গতকাল সোমবার মাওয়া প্রান্তে গিয়ে সরেজমিনে দেখা গেছে, পদ্মা সেতুকে সাজিয়ে-গুছিয়ে নিতে শেষ মুহূর্তের কর্মযজ্ঞ। অন্য দিকে দেখা গেছে পদ্মা সেতু দেখতে আসা উৎসুক মানুষের ভিড়।

দুর্নীতিচেষ্টার ভিত্তিহীন অভিযোগ এনে বিশ্বব্যাংকের মুখ ফিরিয়ে নেওয়া, রাজনৈতিক বাদানুবাদ, গুজব, প্রাকৃতিক প্রতিকূলতাসহ নানা বাধা জয় করে বাংলাদেশের নিজস্ব অর্থায়নে নির্মিত পদ্মা সেতু এখন ঐতিহাসিক বাস্তবতা।

৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই পদ্মা সেতু নির্মাণ করে বিশ্বকে নিজের সক্ষমতা জানান দিয়েছে বাংলাদেশ। আগামী ২৫ জুন সেতু উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেতুর দুই পাড়ে তিনি নানা আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেবেন। পরে মাদারীপুরের শিবচরে রাজনৈতিক সমাবেশে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী।

সরেজমিনে দেখা গেছে, উদ্বোধন অনুষ্ঠানের জন্য প্রস্তুত করা হচ্ছে সেতুকে। শেষ মুহূর্তের কাজ চলছে জোরেশোরেই। মূল সেতুর লাইট লাগানোর কাজ শেষ পর্যায়ে। কিছু কিছু জায়গায় ধোয়া-মোছার কাজ চলছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থাও খতিয়ে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। সেতু উদ্বোধন ঘিরে দুই পাড়ের মানুষের মধ্যে দেখা গেছে বিপুল উৎসাহ ও উদ্দীপনা। এতে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উৎসুক মানুষের ঢল সামাল দেওয়া নিয়েও আলোচনা চলছে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে।

সেতু বিভাগ সূত্র জানায়, মাওয়ায় সুধী সমাবেশের স্থান, দুই প্রান্তের ম্যুরাল ও ফলক উন্মোচনের স্থানসহ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যেসব স্থানে যাবেন, এর সবকটি ঘুরে দেখছেন সরকারের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা।

সেতু বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের দিন দুই পাড়ে অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা থাকবে। জরুরি স্বাস্থ্যসেবার প্রয়োজন হলে দুই পাড়েই পদ্মা সেতু প্রকল্পের অধীন পুনর্বাসন এলাকার পাঁচটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র ব্যবহার করা হবে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, উদ্বোধনী অনুষ্ঠান উপলক্ষে সেতু বিভাগ ১৮টি উপকমিটি করেছে। এসব কমিটি প্রতিদিনই নিজেদের মধ্যে বৈঠক করছে। এর মধ্যে আমন্ত্রণ জানানোর জন্য এরই মধ্যে প্রায় তিন হাজার অতিথির তালিকা তৈরি করা হয়েছে। তাদের প্রত্যেকের জন্য দাওয়াতপত্র তৈরির কাজ চলছে।

পদ্মা সেতু প্রকল্পের পরিচালক মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, পদ্মা সেতু উদ্বোধনের জন্য প্রস্তুত। এখন সবকিছু ঠিকঠাক আছে কি না তা পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। কোনো সমস্যা থাকলে তা সমাধান করা হচ্ছে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পদ্মা সেতু উদ্বোধনকে ঘিরে বর্ণাঢ্য আয়োজন করতে যাচ্ছে সরকার ও ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর কর্মসূচিতে পদ্মা সেতু যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আওয়ামী লীগ। সারা দেশে ২৩ জুন প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী এবং ২৫ জুন পদ্মা সেতুর উদ্বোধন যুগপৎভাবে পালন করবে দলটি।

পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে খুবই জমকালো। মূল উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ৬৪টি জেলাতেও দেখানোর ব্যবস্থা থাকবে। অর্থাৎ দেশজুড়ে উৎসব পালন করা হবে। ২৫ জুন সকাল ১০টায় মুন্সীগঞ্জের মাওয়া প্রান্তে পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর সেতু পেরিয়ে জাজিরা প্রান্তে যাবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এ প্রান্তের টোল প্লাজার সামনে উদ্বোধনী ফলক উন্মোচনের পর তিনি যোগ দেবেন দলীয় জনসভায়। মাদারীপুরের শিবচরের কাঁঠালবাড়ীতে উদ্বোধনী জনসভার মঞ্চটি করা হচ্ছে পদ্মা সেতুর আদলে। এরই মধ্যে ঢাকা ও পদ্মার দুই পাড়ের জেলাগুলোর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী সার্বিক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছেন। জনসভায় ১৫ থেকে ২০ লক্ষাধিক লোকের উপস্থিতি প্রত্যাশা করছে আওয়ামী লীগ।

দলীয় সূত্র মতে, প্রথমে নৌকার আদলে জনসভার মঞ্চ করার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদ্মা সেতুর আদলে মঞ্চ তৈরির নির্দেশনা দিয়েছেন। ফলে শুধু পদ্মা সেতু উদ্বোধনই নয়, মঞ্চেও চমক থাকবে পদ্মার।

মঞ্চের সামনে থেকে দেখে মনে হবে অবিকল পদ্মা সেতুর ওপর মূল জনসভা করা হচ্ছে। পদ্মা সেতু যে বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনার সাহসের প্রতীক তা প্রমাণ করতেই এ উদ্যোগ বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা। জনসভার পর ফানুস উড়ানো থেকে শুরু করে জমকালো সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে। সেতুর পাশাপাশি সাজানো হচ্ছে দুই পাড়ের পুরো এলাকা। এ দিন নদীতেও থাকবে সুসজ্জিত নৌকা। ক্ষমতাসীনদের প্রত্যাশা, শুধু পদ্মা সেতুর দুই পাড়ের মানুষই নয়, উদ্বোধনের দিন সারা দেশের মানুষ এই আনন্দ উৎসবে অংশ নেবে। কেউ সমাবেশস্থলে এসে, আবার কেউ টেলিভিশনের মাধ্যমে, আবার কেউ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উৎসবে মেতে উঠবেন। পাশাপাশি দেশের প্রতিটি জেলা-উপজেলা, ইউনিয়ন পর্যন্ত আনন্দ মিছিল, শোভাযাত্রা, আতশবাজিসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে আনন্দ উৎসব করা হবে।

উদ্বোধনের আগে সেনাবাহিনী মূল সেতু এলাকায় কাউকে প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। ঢাকা থেকে পদ্মা সেতু দেখতে আসা মাইমুনা আক্তার বলেন, ‘পদ্মা সেতু হয়ে গেছে শুনে দেখতে আসলাম। কিন্তু নৌকাতেও সেতুর নিচে যেতে দিচ্ছে না। দূর থেকে দেখা যাচ্ছে। তাও অনেক ভালো লাগছে। গর্বে বুকটা ভরে যাচ্ছে। আমি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ধন্যবাদ জানাই।’

পদ্মা সেতু সর্বশেষ অবস্থা জানাতে রবিবার সেতু এলাকাসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ড সরেজমিনে পরিদর্শন করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, নৌ-পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী, জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নুর-ই-আলম চৌধুরী, পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এনামুল হক শামীমসহ একটি প্রতিনিধি দল।

সেতুর সর্বশেষ পরিস্থিতি জানিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা এই সেতু নির্মাণ করে বিশ্বকে জানিয়ে দিয়েছেন বঙ্গবন্ধুর বাংলাদেশ দুর্নীতি করে না। তিনি বলেন, এই সেতু আমাদের সামর্থ্য ও সক্ষমতার সেতু। এই সেতু এক দিকে সম্মান ও মর্যাদার প্রতীক, অন্য দিকে তথাকথিত দুুর্নীতির কথা বলে যে অপমান করা হয়েছে, সেই প্রতিশোধের সেতু।

তিনি জানান, পদ্মা সেতু উদ্বোধন উপলক্ষে ২৫ জুন সকাল ১০টায় মাওয়া প্রান্তে কূটনৈতিকসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষদের নিয়ে সুধী সমাবেশ করা হবে। এখানে পদ্মা সেতুর ফলক উন্মোচন করা হবে। বেলা ১১টার পর শেখ হাসিনা পদ্মা সেতু পাড়ি দিয়ে ওপারে আরেকটি ফলক উন্মোচন করবেন। তারপর কাঁঠালবাড়ীতে লাখ লাখ মানুষের সমাবেশে দেশবাসীর সামনে কথা বলবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।


আরও খবর



রূপগঞ্জে কিশোর সজল হত্যাকাণ্ডের প্রধান আসামিসহ গ্রেফতার ৭

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২১ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 |
Image

বুলবুল আহমেদ সোহেল ; নারায়ণগঞ্জঃ

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে কিশোর সজল হত্যার ঘটনায় প্রধান আসামি জয়নাল ওরফে পঁচা জয়নালসহ সাত আসামিকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)।  মঙ্গলবার নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জের আদমজীতে সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান র‍্যাব- ১১ এর অধিনায়ক লে. কর্নেল তানভীর মাহমুদ পাশা।

গত ১৭ জুন রূপগঞ্জে চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্রে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষে আহত হয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কিশোর সজল (১৫) এর মৃত্যু হয়। নিহত সজল চনপাড়া ৯নং ওয়ার্ডের ৮নং প্লটের বুলু মিয়ার ছেলে। এ ঘটনায় নিহতের মা বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন।  

২১ জুন রাতে অভিযান চালিয়ে ঢাকা জেলার দোহার এলাকা হতে মামলার প্রধান আসামি রূপগঞ্জের চনপাড়ার মৃত মান্নানের ছেলে জয়নাল ওরফে পঁচা জয়নাল , মৃত মালেকের ছেলে শাকিল , আনোয়ারের ছেলে দারোয়ান বাবু ,সালামের ছেলে দারোয়ান সোহেল , আমির হোসেনের ছেলে শাহাদাত , আজহার মোল্লার ছেলে মাসুদ ও কামাল হোসেনের ছেলে সিফাতকে গ্রেফতার করা হয় ।  

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ জুন সন্ধ্যায় চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্রে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে জয়নাল গ্রুপের সঙ্গে রাজা ও শাহিন গ্রুপের সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় ১০ জন গুলিবিদ্ধসহ ২৫ জন আহত হয়। ওই সংঘর্ষে ইটের আঘাতে সজল আহত হয় এবং পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়।  

আসামিদের বিরুদ্ধে এ মামলা ছাড়াও আরও একাধিক মামলা রয়েছে। জয়নাল গ্রুপের প্রধান জয়নালের বিরুদ্ধে তিনটি হত্যা মামলা ও তিনটি অস্ত্র মামলাসহ ১৭টি মামলা রয়েছে। মামলার ৩নং আসামি শাকিলের নামে নয়টি, বাবুর নামে চারটি, সোহেলের নামে একটি মামলা রয়েছে।


আরও খবর



হঠাৎ সবার কাছে ক্ষমা চেয়ে যা বললেন প্রভা

প্রকাশিত:বুধবার ২৯ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 |
Image

নাটকের অভিনয়ে নিয়মিত সাদিয়া জাহান প্রভা। নিয়মিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ইনস্টগ্রামেও দেখা যায় তাকে। প্রায় ইনস্টগ্রাম স্টোরিতে নিজের অনুভূতি শেয়ার করেন। শেয়ার করেন নিজের নানা গেটআপের ছবি।

সম্প্রতি মানুষের অনিশ্চিত জীবনের কথা স্মরণ করে একটি স্টোরি শেয়ার করেছেন প্রভা, যেখানে লিখেছেন— ‘জীবন খুবই অনিশ্চিত। যে কারোর সঙ্গে যে কোনো কিছু ঘটে যেতে পারে। এ মুহূর্তে আমার যেটি মনে হচ্ছে, যদি আমার কিছু হয়ে যায়…। যদি আমি কাউকে জেনে-বুঝে কিংবা অজান্তে কষ্ট দিয়ে থাকি, কারও অনুভূতিতে আঘাত করে থাকি, তার জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি।’

প্রভা আরও লিখেন— ‘আমি ক্ষমা চাইছি। প্লিজ আমার অপরাধ ক্ষমা করে দিন এবং আমার জন্য দোয়া করবেন। আল্লাহ আপনাদের মঙ্গল করুন।’

‘কাউন্টডাউন’ নামের একটি ধারাবাহিক নাটকে অভিনয় করছেন প্রভা। সকাল আহমেদের পরিচালনায় নাটকটির প্রচার শুরু হয়েছে গত ৩১ মে। এতে প্রভার সঙ্গে আরও আছেন তৌসিফ মাহবুব, সজল, অর্ষা, উর্মিলা, মিশু সাব্বির, আরফান আহমেদ প্রমুখ। এ ছাড়া ঈদের বেশ কিছু একক নাটকে অভিনয় করছেন এই অভিনেত্রী।

 

সুত্রঃ যুগান্তর


আরও খবর

শিশুদের সিনেমায় মিথিলা

শুক্রবার ০১ জুলাই ২০২২