Logo
শিরোনাম

শিশুদের টিকা নিতে নিবন্ধন করতে হবে

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২৮ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:বুধবার ১০ আগস্ট ২০২২ |
Image

করোনা মহামারি প্রতিরোধে ৫ থেকে ১২ বছরের শিশুদের ফাইজারের টিকা দেওয়া হবে। টিকা নিতে তাদের জন্ম নিবন্ধন সনদের মাধ্যমে সুরক্ষা অ্যাপে নিবন্ধন করতে হবে।

মঙ্গলবার (২৮ জুন) সকালে এক আলোচনা সভায় এ তথ্য জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক এবং ন্যাশনাল ভ্যাকসিন ডেপ্লয়মেন্ট কমিটির সভাপতি মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা।

তিনি বলেন, ৫ থেকে ১২ বছরের শিশুদের যাদের জন্ম নিবন্ধন নেই, তাদের দ্রুত সময়ের মধ্যে জন্ম নিবন্ধন করে নিতে অভিভাবকদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। আবেদন করার পর দ্রুত শিশুদের এই টিকা দেওয়া হবে।

মীরজাদী সেব্রিনা সবাইকে করোনার বিষয়ে আরও সতর্ক হওয়ার জন্য আহ্বান জানান। মাস্ক পরা, সামাজিক দূরত্ব মেনে চলার পাশাপাশি আসন্ন কোরবানির পশুর হাটে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি।


আরও খবর

আজ কলেরার দ্বিতীয় ডোজের টিকা

বুধবার ০৩ আগস্ট ২০২২




জোয়ারে ফুঁসে উঠছে মেঘনা

প্রকাশিত:শুক্রবার ১৫ জুলাই ২০২২ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ০৯ আগস্ট ২০২২ |
Image

ভোলায় চলতি মৌসুমে সর্বোচ্চ জোয়ারে তলিয়ে গেছে বাঁধের বাইরের অন্তত ২০টি গ্রাম। এতে পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন অন্তত ৩০ হাজার মানুষ।

মেঘনার পানি বিপৎসীমার ৭৪ সেন্টিমিটার ওপরে প্রবাহিত হয়। যা এ মৌসুমের সর্বোচ্চ বলে নিশ্চিত করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

এর আগে, বুধবার যা ছিলো ৫৭ সেন্টিমিটার। পূর্ণিমার সৃষ্ট জোয়ারে প্রভাবে নদীর পানি অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

জানা গেছে, জোয়ারের পানিতে ভোলা সদর, দৌলতখান, চরফ্যাশন ও মনপুরার ২০ গ্রাম ডুবে গেছে। বাঁধ না থাকায় এসব এলাকা প্লাবিত হয়।

এ বিষয়ে রাজাপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য মাসুদ রানা জানান, অস্বাভাবিক জোয়ারে রাজাপির ইউনিয়নের সাতটি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন অন্তত পাঁচ হাজার মানুষ। তারা চরম কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন।

অন্যদিকে ভোলা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান বলেন, মেঘনার পানি বিপৎসীমার ৭৪ সেন্টিমিটার ওপরে ছিলো যা এ মৌসুমে সর্বোচ্চ। যদিও ভাটায় পানি নেমে গেছে। তবে এতে বড় ধরনের কোনো ক্ষতি হয়নি। এমন অবস্থা আরও ৩-৪ দিন থাকতে পারে।


আরও খবর

আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস

মঙ্গলবার ০৯ আগস্ট ২০২২




এ বছরে খুলে দেয়া হবে বঙ্গবন্ধু টানেল

প্রকাশিত:শনিবার ৩০ জুলাই ২০২২ | হালনাগাদ:বুধবার ১০ আগস্ট ২০২২ |
Image

মইনুল ইসলাম মিতুল : কর্ণফুলী নদীর তলদেশে নির্মাণাধীন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান টানেল যান চলাচলের জন্য আগামী ডিসেম্বরে উন্মুক্ত করে দেয়া হবে। চলতি বছরের অক্টোবরের শেষ দিকে বা নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে টানেলের একটি টিউব এবং ডিসেম্বরে দ্বিতীয় টিউবটিও খুলে দেয়া হবে।

শুক্রবার (২৯ জুলাই) মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে আয়োজিত এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন।

চট্টগ্রাম বিভাগের সকল জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রধানসহ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন তিনি। বিপিসির চেয়ারম্যান এবিএম আজাদও বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদের সাম্প্রতিক নানা সংকটের ব্যাপারে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, টানেলের কাজ খুব সহজেই বাস্তবায়ন করা গেছে। এতো বড় একটা প্রজেক্ট, নির্ধারিত সময়ে যে বাস্তবায়ন করা যাচ্ছে তা দেশের জন্য বড় সাফল্য। টানেলটা বাংলাদেশের জন্য মডেল হিসেবে চিহ্নিত হবে।

জ্বালানি তেলের দাম নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বিশ্ববাজারে দাম কমলে ইউরোপ আমেরিকাতে দাম কমে যায়। আবার বাড়লে দাম বেড়ে যায়। কিন্তু আমাদের দেশে এই প্র্যাকটিসটা নেই। সরকার এখনও জ্বালানির দাম বাড়ার ঘোষণা দেয়নি। তবে পরিস্থিতি যদি ওই রকম হয় তখন সরকার হয়তো চিন্তা ভাবনা করবে। তবে দাম এখনও বাড়ানো হয়নি।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর পৃথিবীতে এভাবে আর কখনো সাপ্লাই চ্যানেল বন্ধ হয়নি। স্বাভাবিকভাবে সব দেশের ওপর একটা প্রভাব পড়বে। এটা আমাদের সবাইকে মোকাবিলা করতে হবে। এসব বিষয় নিয়ে আজ আলোচনা করেছি।


আরও খবর

আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস

মঙ্গলবার ০৯ আগস্ট ২০২২




গত জুলাইয়ে সড়কে ঝরল ৭৩৯ প্রাণ

প্রকাশিত:শনিবার ০৬ আগস্ট ২০২২ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ০৯ আগস্ট ২০২২ |
Image

গত জুলাই মাসে দেশে সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে ৬৩২টি। এতে নিহত হয়েছেন ৭৩৯ জন ও আহত হয়েছেন দুই হাজার ৪২ জন। নিহতদের মধ্যে নারী ১০৫ জন ও শিশু ১০৯ জন। এ সময় সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনায় পড়েছে মোটরসাইকেল। দুর্ঘটনায় নিহতদের মধ্যে এই দুই চাকার যানের আরোহীই বেশি।

এ সময়ে ২৯৮টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ২৫১ জন, যা মোট নিহতের ৩৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার হার ৪৭ দশমিক ১৫ শতাংশ। দুর্ঘটনায় ১১৮ জন পথচারী নিহত হয়েছেন, যা মোট নিহতের ১৫ দশমিক ৯৬ শতাংশ। যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ১৩৭ জন, অর্থাৎ ১৮ দশমিক ৫৩ শতাংশ।

এছাড়া এই সময়ে ১৪টি নৌ-দুর্ঘটনায় ১৮ জন নিহত এবং সাত জন নিখোঁজ রয়েছেন। ২৬টি রেলপথ দুর্ঘটনায় (রেলক্রসিং দুর্ঘটনাসহ) ৪১ জন নিহত এবং ৩৩ জন আহত হয়েছেন।

শনিবার (৬ আগস্ট) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন। সংগঠনটি নয়টি জাতীয় দৈনিক, সাতটি অনলাইন নিউজপোর্টাল এবং ইলেক্ট্রনিক গণমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে।

প্রতিবেদনে দুর্ঘটনায় যানবাহনভিত্তিক নিহতের পরিসংখ্যানে দেখা যায়, মোটরসাইকেল চালক ও আরোহী ২৫১ জন (৩৩ দশমিক ৯৬ শতাংশ), বাস যাত্রী ৬১ জন (৮ দশমিক ২৫ শতাংশ), ট্রাক-কাভার্ডভ্যান-পিকআপ ভ্যান-ট্রাক্টর-ট্রলি-লরি আরোহী ৫৫ জন (৭ দশমিক ৪৪ শতাংশ), মাইক্রোবাস-প্রাইভেটকার যাত্রী ৫৭ জন (৭ দশমিক ৭১ শতাংশ), থ্রি-হুইলার যাত্রী (ইজিবাইক-সিএনজি-অটোরিকশা-অটোভ্যান-লেগুনা-মিশুক) ১৪৯ জন (২০ দশমিক ১৬ শতাংশ), স্থানীয়ভাবে তৈরি যানবাহনের যাত্রী (নসিমন-ভটভটি-চান্দেরগাড়ি-মাহিন্দ্র-টমটম) ২৬ জন (৩ দশমিক ৫১ শতাংশ) এবং বাইসাইকেল-প্যাডেল রিকশা-প্যাডেল ভ্যান আরোহী ২২ জন (২ দশমিক ৯৭ শতাংশ) নিহত হয়েছেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ঢাকা বিভাগে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে। এ বিভাগে ১৯৯টি দুর্ঘটনায় ২২৮ জন নিহত হন। সিলেট বিভাগে সবচেয়ে কম ৩১টি দুর্ঘটনা ঘটেছে এবং বরিশাল বিভাগে সবচেয়ে কম ৪৬ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। একক জেলা হিসেবে গাজীপুর জেলায় সবচেয়ে বেশি ৪৪ জন নিহত হয়েছেন। সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে ঝালকাঠি, সুনামগঞ্জ ও ঠাকুরগাঁও জেলায়। এ তিনটি জেলায় ১১টি সাধারণ মাত্রার দুর্ঘটনা ঘটলেও কোনো প্রাণহানি ঘটেনি।



আরও খবর

আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস

মঙ্গলবার ০৯ আগস্ট ২০২২




নতুন শিক্ষাক্রম সম্ভাবনাময় !

প্রকাশিত:শুক্রবার ০৫ আগস্ট ২০২২ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ০৯ আগস্ট ২০২২ |
Image

বিলাল হোসেন মাহিনী : নতুন শিক্ষাক্রমের অনেক শক্তিশালী ও ইতিবাচক দিক রয়েছে, কিন্তু সেগুলো যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করা যাবে কি না- সেটি বড় প্রশ্ন। সম্ভাবনাময় এই শিক্ষাক্রমটি বাস্তবায়নে যেসব চ্যালেঞ্জ তৈরি হবে, সেগুলো কার্যকরভাবে মোকাবিলা করতে ব্যর্থ হলে নানান ক্ষতির সম্মুখীন হওয়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না। নতুন শিক্ষাক্রম নিয়ে সবচেয়ে বড় শঙ্কার জায়গা হলো এর বাস্তবায়ন-প্রক্রিয়া। গত দুই দশকে একাধিক শিক্ষাক্রম তৈরি করা হয়েছে, কিন্তু প্রতিবারই বাস্তবায়ন-প্রক্রিয়া হোঁচট খেয়েছে। একটি শিক্ষাক্রমের নানা উপাদান থাকে। বছরের প্রথম দিন পাঠ্যপুস্তক বিতরণে বাংলাদেশ বড় আকারে সাফল্য দেখিয়েছে, কিন্তু ব্যর্থতা রয়েছে শিক্ষক নির্দেশিকা যথাসময়ে তৈরি ও বিতরণে। শিক্ষকদের মানসম্মত প্রশিক্ষণ, তাদের জীবনমান উন্নয়ন তথা আর্থিক সক্ষমতা বৃদ্ধি করা সময়ের দাবি। আমাদের শিক্ষকসমাজ আজও পূর্ণাঙ্গ (শতভাগ) উৎসব-ভাতা থেকে বঞ্চিত, পান নামমাত্র চিকিৎসা-ভাতা ও বাড়িভাড়া। তবে এই শিক্ষকদের বঞ্চিত করে কীভাবে নতুন শিক্ষাক্রম সহজে বাস্তবায়ন হবে তা ভাবনার বিষয়! সাম্প্রতিক সময়ের পাঠ্যপুস্তকগুলোতে বিষয়বস্তু ও উপস্থাপনায় উন্নতি ঘটলেও নানা সমালোচনা রয়েছে।

নতুন শিক্ষাক্রমে যা থাকছে : ক. ২০২৩ সাল থেকে সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সপ্তাহে (শুক্র ও শনিবার) দুদিন ছুটি থাকবে। খ. পিইসি ও জেএসসি পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। অর্থাৎ, দশম শ্রেণির আগে কোনো কেন্দ্রীয় বা পাবলিক পরীক্ষা নেই। গ. তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্তও কোনো পরীক্ষা থাকবে না। ঘ. চতুর্থ শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ৪০ আর একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিতে ৩০ শতাংশ মূল্যায়ন হবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে। ঙ. বিজ্ঞান, মানবিক ও বিজনেস স্টাডিজ বলতে মাধ্যমিকে কোনো বিভাগ থাকবে না। এটি চালু হবে এইচএসসিতে। চ. দশম শ্রেণির পাঠ্যসূচির ওপরই বোর্ড পরীক্ষায় এসএসসির ফল হবে। ছ. প্রাক্-প্রাথমিকের শিশুদের জন্য আলাদা বই থাকবে না, শিক্ষকরাই শেখাবেন। জ. প্রাথমিকে পড়তে হবে আটটি বই। ঝ. নতুন শিক্ষাক্রমে প্রাক-প্রাথমিক থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত ১০ ধরনের শেখার ক্ষেত্র ঠিক করা হয়েছে। এগুলো হলো : ১. ভাষা ও যোগাযোগ, ২. গণিত ও যুক্তি, ৩. জীবন ও জীবিকা, ৪. সমাজ ও বিশ্ব নাগরিকত্ব, ৫. পরিবেশ ও জলবায়ু, ৬. বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, ৭. তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি, ৮. শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য এবং সুরক্ষা, ৯. মূল্যবোধ ও নৈতিকতা ১০. শিল্প ও সংস্কৃতি।

এখন দেখা যাচ্ছে, আমাদের কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে যেসব সাবজেক্ট পড়ানো হয় ওপরের নতুন বিষয়ের সঙ্গে সেসব সাবজেক্টের সরাসরি কোনো সম্পৃক্ততা নেই। তবে, প্রশ্ন হলো কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাস করা গ্র্যাজুয়েটরা কি স্কুলে চাকরি করবেন না? করলে কোন বিষয়ের শিক্ষক হবেন? একমাত্র গণিত ছাড়া আর সব বিষয়ই স্নাতকদের বেসিক ডিগ্রির আওতার বাইরে! এ ছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোই বা কোন বিষয়ের শিক্ষক নিয়োগ দেবে?

নতুন শিক্ষাক্রমের বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিষয়ে পাঠদানের জন্য কি পদার্থ বিজ্ঞান না ফলিত পদার্থ বিজ্ঞান, রসায়ন না ফলিত রসায়ন, জীববিদ্যা না প্রাণিবিদ্যার প্রার্থীকে নিয়োগ দেবে? আর কোন বিষয়ের প্রার্থীই-বা এ পদের জন্য দরখাস্ত করবেন? একইভাবে সব বিষয়ের ক্ষেত্রেই নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান ও গ্র্যাজুয়েটরা দারুণ বিপত্তির মুখোমুখি হবেন। বিষয়ভিত্তিক গ্র্যাজুয়েটদের চাকরির সুযোগ পাঁচ-ছয় গুণ কমে যাবে। অতএব, সময় থাকতেই বিষয়টি নিয়ে সব মহলের চিন্তাভাবনা করা দরকার।

আরো একটি প্রশ্ন হলো, বর্তমান শিক্ষাক্রমের মাধ্যমিকের দশটি বিষয়ে কী নতুন বই দেওয়া হবে? নাকি আগের বই ব্যবহার করা হবে? কেননা, এখানে এক নম্বরে ভাষা ও যোগাযোগ নামে একটি বিষয় রয়েছে। তাহলে কোন ভাষা বা কী কী ভাষা? কতটি ভাষা শেখানো হবে? ইত্যাদি প্রশ্ন থেকেই যায়। জীবন ও জীবিকা বিষয়ে পাঠদান করবেন কারা? কোন সাবজেক্টের শিক্ষক? পরিবেশ ও জলবায়ু বিষয়ে পড়ানোর জন্য শিক্ষক পাওয়া যাবে তো? কী হবে ধর্মশিক্ষার? শিক্ষাক্রমের ৯ নম্বরে মূল্যবোধ ও নৈতিকতা বিষয় রাখা হয়েছে, ধারণা করা হচ্ছে- আগের ধর্ম ও নৈতিক শিক্ষার স্থলে এটা বসবে। কিন্তু ধর্ম (ইসলাম, হিন্দু, খ্রিস্ট বা বৌদ্ধ) শব্দ বাদ দেওয়ার যৌক্তিকতা কী? তবে কী ধর্মহীন শিক্ষাব্যবস্থার দিকে যাচ্ছি আমরা।

নতুন শিক্ষাক্রমের আরো একটি অসংগতি হলো, প্রাক-প্রাথমিকে কোনো বই থাকবে না। আবার প্রথম শ্রেণিতে আটটি বই। সবকিছু কি অসংলগ্ন মনে হচ্ছে না? প্রথম শ্রেণিতে সর্বোচ্চ চারটি বই থাকা দরকার। তাহলে বাংলা, ইংরেজি ও ধর্মীয় বইয়ের বর্ণমালা শিক্ষা এবং গণিতের সংখ্যার ধারণা দেওয়া যাবে। প্রথম শ্রেণিতে আটটি বই দিয়ে যে বোঝা বাড়ানোর আয়োজন করা হয়েছে তা শিশুদের মেধা বিকাশের অন্তরায় হয়ে দাঁড়াবে। শিশুদের মেধা বিকাশের স্বার্থে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত ছয়টি বইয়ের অতিরিক্ত পড়ানো উচিত নয়।

এই শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নে মূল ও বড় ভূমিকা পালন করবেন শিক্ষকরা। কিন্তু তাদের যথাযথভাবে তৈরি না করে শিক্ষাক্রম চালু করা হলে হিতে বিপরীত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রয়োজন অনুসারে দ্রুত যোগ্য শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন। জাতীয় শিক্ষানীতিতে শিক্ষক-শিক্ষার্থীর যে অনুপাত নির্ধারণ করা হয়েছে, সেই অনুসারে প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যোগ্য শিক্ষক রয়েছে কি না, তা দ্রুত যাচাই করা এবং সে অনুসারে শিক্ষক নিয়োগ করা প্রয়োজন। নিয়োগের পাশাপাশি তাদের যথাযথ প্রশিক্ষণও দিতে হবে। না হলে নতুন শিক্ষাক্রম সফলভাবে বাস্তবায়ন করা যাবে না।

নতুন শিক্ষাক্রমে দশম শ্রেণি পর্যন্ত একই বা অভিন্ন বিষয় পড়ার সিদ্ধাটি একদিকে প্রশংসিত হচ্ছে, অন্যদিকে সমালোচিত হচ্ছে। বর্তমানে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত সবাইকে একই বা অভিন্ন বিষয় পড়তে হয়। এনসিটিবি জানাচ্ছে, এই সিদ্ধান্তে একটি নির্দিষ্ট স্তর পর্যন্ত সবাইকে সমভাবে দক্ষ করে গড়ে তোলার সুযোগ থাকবে। সবাইকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত অভিন্ন বিষয় পড়াতে গিয়ে বিজ্ঞানের অবশ্যকীয় অনেক বিষয়বস্তু ছেঁটে ফেলতে হয়েছে, যেটি দীর্ঘ মেয়াদে ক্ষতির কারণ হতে পারে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহ এমনিতেই কম। প্রতি বছর বিজ্ঞানের শিক্ষার্থী কমছে। যেখানে প্রতিযোগিতামূলক বিশ্ব সামনে রেখে, বিশেষত চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের জন্য শিক্ষার্থীদের উপযোগী করে গড়ে তুলতে বিজ্ঞানের প্রতি অধিক গুরুত্ব প্রদান করা প্রয়োজন, সেখানে কেন বিজ্ঞানের প্রতি গুরুত্ব কমানো হলো, তা বোধগম্য নয়। তবে, তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত কোনো বার্ষিক পরীক্ষা না থাকার সিদ্ধান্ত প্রশংসনীয়। এই পরিসর পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত বাড়ানো যেতে পারে। ২০২৩ সাল থেকে প্রাথমিক সমাপনী ও জেএসসি/জেডিসি পরীক্ষাও থাকছে না। সে হিসেবে শিক্ষার্থীরা প্রথম বড় আঙ্গিকে পরীক্ষা দেবে এসএসসিতে। সেখানে শুধু দশম শ্রেণির বিষয়বস্তুর ওপর পরীক্ষা হবে। নবম শ্রেণির পাঠ্যবিষয় বাদ রেখে শুধু দশম শ্রেণির ওপর পরীক্ষা যৌক্তিক হচ্ছে কি নাÑ সেটি নিয়ে ভাবনার অবকাশ রয়েছে। তা ছাড়া, একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিতে দুটো পাবলিক পরীক্ষা গ্রহণের সিদ্ধান্ত সচেতন অভিভাবক মহলকে অস্বস্তিতে ফেলেছে। অর্থাৎ শিক্ষার্থীদের দশম, একাদশ ও দ্বাদশ পরপর তিন বছর তিনটি পাবলিক পরীক্ষা দিতে হবে। পাবলিক পরীক্ষার সংখ্যা কমানোর কথা প্রায়ই বলা হচ্ছে নানা মহল থেকে। সরকারও প্রাথমিক সমাপনী ও জেএসসি পরীক্ষা বাতিল করার কথা বলছে। সেখানে এইচএসসিতে পাবলিক পরীক্ষার সংখ্যা বাড়ানোর কোনো যুক্তিসংগত উত্তর পাওয়া যাচ্ছে না। এতে শিক্ষার্থীদের ওপর চাপ পড়বে, শিক্ষার্থীরা আরো বেশি করে পরীক্ষামুখী হবে। লেখাপড়ার আয়োজন হবে গৌণ, বাড়বে প্রাইভেট বা কোচিংয়ে পড়ার হার। সব মিলিয়ে এ সিদ্ধান্তটি মাধ্যমিক শিক্ষায় খারাপ ফল বয়ে আনতে পারে।

কারিকুলাম প্রণয়নের চেয়ে বাস্তবায়ন বেশি গুরুত্বপূর্ণ : শিক্ষাক্রম পরিমার্জন ও বাস্তবায়ন সাধারণত ১০-১২ বছরের ব্যবধানে করা হয়। বাংলাদেশে কুদরাত-ই-খুদা শিক্ষা কমিশন (১৯৭২-৭৪) রিপোর্টের ভিত্তিতে প্রথমবার শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যসূচি প্রণয়নের (১৯৭৬-৮০) পর তা দুবার (১৯৯১-৯৫ ও ২০১২) পরিমার্জন করা হয়েছে। প্রথম ও দ্বিতীয় অবর্তনের শিক্ষাক্রম পরিমার্জন ও বাস্তবায়নের মধ্যে ১৫-১৬ বছরের ব্যবধান ছিল। কিন্তু তৃতীয় আবর্তনের (২০১১-১৩) মাত্র আট বছর পর চতুর্থবারের মতো শিক্ষাক্রম পরিমর্জনের কাজ শুরু হয়েছে। এর দুটি প্রধান উদ্দেশ্য : ১. জাতিসংঘ ঘোষিত টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় (২০১৬-২০৩০) বিধৃত শিক্ষার লক্ষ্যগুলো (এসডিজি-৪) অর্জনের চেষ্টা এবং ২. বিশ্বব্যাপী স্কুলশিক্ষাকে যোগ্যতাভিত্তিক করার ঢেউকে ধারণ করা। নতুন কারিকুলাম প্রণয়নে ২০১৭ সালে কাজ শুরু করে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড। এবং ২০২২-এ পাইলটিং ও ২০২৩ সালে বাস্তবায়ন শুরু হয়ে ২০২৫ সালে শেষ হবে। শিক্ষাক্রমের খসড়া রূপরেখাকে খুবই ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘এই শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন হলে শিক্ষা হবে আনন্দময়, শিক্ষার্থীদের মধ্যে থাকবে না পরীক্ষাভীতি। যেখানে প্রাক-প্রাথমিক থেকে ধাপে ধাপে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত পৌঁছানোর একটি রূপরেখা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে কোচিং ও গাইড-বাণিজ্য বন্ধ হবে, মুখস্থনির্ভর শিক্ষার পরিবর্তে প্রায়োগিক শিক্ষা গুরুত্ব পাবে। শিক্ষার্থীরা আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষার্থী হয়ে গড়ে উঠবে। এ উদ্যোগকে বাস্তবায়নের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে নিয়ে মহাপরিকল্পনা প্রণয়ন জরুরি। এজন্য সবার শুরুতে মানবসম্পন্ন শিক্ষক নিয়োগ করতে হবে। বাড়াতে হবে শিক্ষকদের বেতন। পাশাপাশি শিক্ষাব্যবস্থার প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার, ক্ষমতায়ন ও অর্থায়নে মনোযোগী হতে হবে। শিক্ষকের ক্ষমতায়নে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে।’

শিক্ষার্থীদের বছরে ৩৬৫ দিনের মধ্যে সরকারি এবং দুদিন করে সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে ১৩৭ দিন বাদ দিলে ১৮৫ কর্মদিবস পাওয়া যাবে। এ সময়ের মধ্যে প্রাক-প্রাথমিক স্কুলে প্রতিদিন আড়াই ঘণ্টা, প্রথম থেকে তৃতীয় শ্রেণিতে সাড়ে তিন ঘণ্টা, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণিতে চার ঘণ্টা, ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণিতে পাঁচ ঘণ্টা, নবম ও দশম শ্রেণিতে সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা এবং একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিতে সাড়ে পাঁচ ঘণ্টা শিখনঘণ্টা নির্ধারণ করা হয়েছে। কারিগরি ও মাদরাসা শিক্ষায়ও নতুন শিক্ষাক্রম চালু হবে। মূল বিষয়গুলো সবারই এক থাকবে, শিখনকালীন মূল্যায়ন ও সামষ্টিক মূল্যায়নও এক থাকবে। একই প্রক্রিয়ায় পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। তবে মাদরাসা ও কারিগরির ক্ষেত্রে নতুন কিছু বিষয় যুক্ত হতে পারে। ১২০টি দেশের শিক্ষাক্রম পর্যালোচনা করে দেশে নতুন এই শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। শিক্ষাবিদ ও সংশ্লিষ্ট সবাই এটিকে মাইলফলক হিসেবে দেখছেন।

লেখক : প্রভাষক, গাজীপুর রউফিয়া কামিল মাদরাসা

[email protected]


আরও খবর

আজ পবিত্র আশুরা

মঙ্গলবার ০৯ আগস্ট ২০২২

মাকামে ইব্রাহিম

শুক্রবার ০৫ আগস্ট ২০২২




বিশ্বম্ভরপুরে সমীর দাসকে ভাসমান ঘর প্রদান

প্রকাশিত:সোমবার ০১ আগস্ট ২০২২ | হালনাগাদ:বুধবার ১০ আগস্ট ২০২২ |
Image

শফিউল আলম,স্টাফ রিপোর্টার:

সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার পলাশ ইউনিয়নের প্যারিনগর গ্রামের সমীর দাসকে 

"ফ্লোটিং হাউস"-"ভাসমান ঘর"প্রদান করা হয়েছে।

১লা আগষ্ট সোমবার দুপুরে আনুষ্ঠানিক ভাবে "ফ্লোটিং হাউস"-"ভাসমান ঘর"প্রদান করা হয়।সমীর দাসকে ২ টি শোবার ঘর ও ১টি রান্নাঘর বিশিষ্ট ঘরটি হস্তান্তর করা হয়।এ ঘর নির্মাণে ২লক্ষ ৫০হাজার টাকা ব্যয় হয়েছে।বৈশিষ্ট বন্যায় পানি বৃদ্ধি হলে ঘরটির প্লাটফর্মও  সমানুপাতিকভাবে উঁচুতে উঠবে।

 এসময় উপস্থিত ছিলেন,পলাশ ইউনিয়ন পরিষদের  চেয়ারম্যান  আলহাজ্ব সুহেল আহমদ, সহকারী কমিশনার  (ভুমি)  আসমা বিনতে রফিক প্রমূখ।

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়,

সাম্প্রতিক বন্যায় বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার ফতেপুর, দক্ষিণ বাদাঘাট ও পলাশ ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলের শতভাগ ঘরবাড়ি প্লাবিত হয়। সরকারিভাবে ইতোমধ্যে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে সম্পূর্ণ ও আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত ৭১৭ টি পরিবারকে নগদ অর্থ ও ঢেউটিন এবং বেসরকারি উদ্যোগে ৭৩ টি পরিবারকে ঢেউটিন প্রদান করা হয়েছে। 

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো:সাদিউর রহিম জাদিদ বলেন,বিগত ০৪ জুলাই বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সাবেক সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোঃ তালুত স্যার বন্যায় ক্ষয়ক্ষতি থেকে  রক্ষার্থে ভাসমান ঘরের প্রয়োজনীয়তা ও আইডিয়া দিলে বেসরকারিভাবে কিছু ফান্ড কালেকশন করতঃ প্যারিনগরে অবস্থিত পূর্নাঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত সমীর দাসের ঘর পরিদর্শন করি এবং ভাসমান ঘর স্থাপনের স্থান নির্ধারণ করি। পরবর্তীতে হাওর বিলাসের সামনে স্থাপিত ভাসমান হাওর ভিউ  ক্যাফের আদলে প্লাটফর্ম তৈরি করে স্থানীয় মিস্ত্রি নজরুল ও আমার সহকর্মীদের সহযোগিতায় মাত্র ১৪ দিনে ঘর নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয়। সুনামগঞ্জ জেলায় হাওরে যাদের ঘর অবস্থিত এবং যারা অন্যত্র স্থানান্তরিত হতে ইচ্ছুক নয় তাদের জন্য এরকম ঘর স্থাপন অনুকরণীয় হতে পারে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ফিশিং উপযোগী স্থানে এরকম "ফ্লোটিং ভিলেজ" কনসেপ্ট চালু রয়েছে।


আরও খবর