Logo
শিরোনাম

সঞ্চয়পত্রের সুদহার কমছে না

প্রকাশিত:সোমবার ১৩ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 |
Image

২০২২-২৩ অর্থবছরে সঞ্চয়পত্রের ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের সুদহার অপরিবর্তিত রাখার প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

গত বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উপস্থিতিতে ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী এ কথা জানান।

বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী বলেন, ‌‌স্বল্প-আয়ের লক্ষ্যভিত্তিক জনগোষ্ঠীর জন্য উচ্চ সুদ হারের সঞ্চয়পত্র ক্রয়ের ব্যবস্থা রাখা হলেও অনেক উচ্চ-আয়ের বিনিয়োগকারীরা এ স্কিমগুলোর সুবিধা নিচ্ছিল বেশি। সে কারণে আমরা ইতোপূর্বে বিক্রয় ব্যবস্থাপনা অটোমেশন করেছিলাম। যার ফলে নির্ধারিত সীমার অতিরিক্ত সঞ্চয়পত্র ক্রয়ের ক্ষমতা সীমিত হয়েছে। এছাড়াও, সঞ্চয়পত্র ক্রয়ের ক্ষেত্রে জাতীয় পরিচয়পত্রের নম্বর ও টিআইএন নম্বর দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল।

তিনি বলেন, সংস্কার প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতায় চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরে সঞ্চয়পত্র হতে প্রাপ্ত মুনাফার ওপর নির্ভরশীল স্বল্প-আয়ের মানুষের স্বার্থ সমুন্নত রেখে ১৫ লাখ টাকার ঊর্ধ্বে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে সীমাভেদে ১ থেকে ২ শতাংশ পর্যন্ত মুনাফার হার কমানো হয়। এতে করে সঞ্চয়পত্র বাবদ সরকারের সুদ ব্যয় কমলেও ক্ষুদ্র সঞ্চয়কারীদের ক্ষেত্রে মুনাফার হার একই থাকবে বলে জানান অর্থমন্ত্রী।

এর আগে গত ২১ সেপ্টেম্বর সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমি‌য়ে‌ অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ প্রজ্ঞাপন জারি করে। সঞ্চয়পত্রে ১৫ লাখ টাকার ওপরে বিনিয়োগের মুনাফার হার দুই শতাংশ পর্যন্ত কমানো হয়েছে। তবে ১৫ লাখ টাকার নিচে মুনাফার হার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপন নির্দেশনা অনুযায়ী, পাঁচ বছর মেয়াদি বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রে বর্তমানে মেয়াদ শেষে ১১ দশমিক ২৮ শতাংশ মুনাফা পাওয়া যায়। নতুন নির্দেশনায় বলা হয়েছে, এখন থেকে যারা সঞ্চয়পত্রে ১৫ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগ করবেন তারা মেয়াদ শেষে মুনাফা পাবেন ১০ দশমিক ৩০ শতাংশ হারে। ৩০ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগ থাকলে মুনাফার হার হবে ৯ দশমিক ৩০ শতাংশ।

তিন মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক তিন বছর মেয়াদি সঞ্চয়পত্রে বর্তমানে মেয়াদ শেষে মুনাফার হার ১১ দশমিক শূন্য ৪ শতাংশ। এখন ১৫ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে মুনাফার হার কমিয়ে করা হয়েছে ১০ শতাংশ। সঞ্চয়পত্রে যাদের বিনিয়োগ ৩০ লাখ টাকার বেশি তারা মেয়াদ শেষে মুনাফা পাবেন ৯ শতাংশ হারে।

এখন থেকে যারা সঞ্চয়পত্রে ১৫ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগ করবেন তারা মেয়াদ শেষে মুনাফা পাবেন ১০ দশমিক ৩০ শতাংশ হারে। ৩০ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগ থাকলে মুনাফার হার হবে ৯ দশমিক ৩০ শতাংশ।

পাঁচ বছর মেয়াদি পেনশনার সঞ্চয়পত্রে মেয়াদ শেষে এত দিন ১১ দশমিক ৭৬ শতাংশ হারে মুনাফা দেওয়া হতো। এখন এ সঞ্চয়পত্রে যাদের বিনিয়োগ ১৫ লাখ টাকার বেশি তারা মেয়াদ শেষে মুনাফা পাবেন ১০ দশমিক ৭৫ শতাংশ হারে। ৩০ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগ থাকলে এ হার হবে ৯ দশমিক ৭৫ শতাংশ।

দেশে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় পরিবার সঞ্চয়পত্র। পাঁচ বছর মেয়াদি এ সঞ্চয়পত্রে মেয়াদ শেষে মুনাফার হার ১১ দশমিক ৫২ শতাংশ। এখন এ সঞ্চয়পত্রে ১৫ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগে মুনাফার হার কমিয়ে করা হয়েছে ১০ দশমিক ৫০ শতাংশ। ৩০ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগের ক্ষেত্রে এ হার ৯ দশমিক ৫০ শতাংশ।

ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংকের সাধারণ হিসাবে বর্তমানে মুনাফার হার সাড়ে ৭ শতাংশ। এতে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি।

ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংকে তিন বছর মেয়াদি হিসাবে বর্তমানে মুনাফার হার ১১ দশমিক ২৮ শতাংশ। এখন ১৫ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগে মুনাফার হার হবে ১০ দশমিক ৩০ শতাংশ। ৩০ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগে হবে ৯ দশমিক ৩০ শতাংশ। ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংকের সাধারণ হিসাবে বর্তমানে মুনাফার হার সাড়ে ৭ শতাংশ। এতে কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি।

আসছে ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবের আকার ধরা হয়েছে ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকা। বিশাল এ বাজেটের ঘাটতি ধরা হচ্ছে ২ লাখ ৪১ হাজার ৭৯৩ কোটি টাকা। আর অনুদান ছাড়া ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াবে ২ লাখ ৪৫ হাজার ৬৪ কোটি টাকা। যা মোট জিডিপির ৫ দশমিক ৪ শতাংশ। এ ঘাটতি পূরণে সঞ্চয়পত্র থেকে ঋণ ৩৫ হাজার কোটি টাকা নেবে বলে ঠিক করেছে সরকার।

এদিকে চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটে সঞ্চয়পত্র থেকে ৩২ হাজার কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য ধরে রেখেছে সরকার।

জাতীয় সঞ্চয় অধিদফতরের হালনাগাদ তথ্য বলছে, চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) সঞ্চয়পত্র থেকে সরকারের নিট ঋণ পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১৭ হাজার ৫১৮ কোটি ৭৬ লাখ টাকা।

২০২০-২১ অর্থবছরের জুলাই-এপ্রিল সময়ে এই ঋণের পরিমাণ ছিল ৩৪ হাজার ৭২৮ কোটি ৬৪ লাখ টাকা। অর্থাৎ গত অর্থবছরের তুলনায় এবার ১০ মাসে সঞ্চয়পত্র থেকে সরকারের নিট ঋণ অর্ধেকে নেমে এসেছে।

‘কোভিডের অভিঘাত পেরিয়ে উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় প্রত্যাবর্তন’ স্লোগান নিয়ে ২০২২-২৩ অর্থবছরের জন্য ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকার বাজেট জাতীয় সংসদে পেশ করা হয়েছে। নতুন এ বাজেটে মোট দেশজ উৎপাদনে (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হচ্ছে ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। এতে মূল্যস্ফীতি ৫ দশমিক ৫ শতাংশে রাখার কথা বলা হচ্ছে। প্রস্তাবিত বাজেটের আকার চলতি ২০২১-২২ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের তুলনায় ৭৪ হাজার ৩৮৩ কোটি টাকা বেশি। আর সংশোধিত বাজেটের তুলনায় ৮৪ হাজার ৫৬৪ কোটি টাকা বেশি। নতুন বাজেটে সরকারের আয়ের সম্ভাব্য লক্ষ্যমাত্রা হতে যাচ্ছে ৪ লাখ ৩৬ হাজার ২৭১ কোটি টাকা। অনুদান ছাড়া ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ ৪৫ হাজার ৬৪ কোটি টাকা। আর অনুদানসহ ঘাটতি ২ লাখ ৪১ হাজার ৭৯৩ কোটি টাকা।

আয়ের লক্ষ্যমাত্রা চলতি ২০২১-২০২২ অর্থবছরের তুলনায় ৪৪ হাজার ৭৯ কোটি টাকা বেশি। কর বাবদ ৩ লাখ ৮৮ হাজার কোটি টাকা আয় করার পরিকল্পনা করছে সরকার। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) মাধ্যমে কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৩ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা। নতুন অর্থবছরে এনবিআরকে আগের বছরের তুলনায় ৪০ হাজার কোটি টাকা বেশি রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা দিচ্ছে সরকার। এনবিআর বহির্ভূত কর থেকে আয় করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৮ হাজার কোটি টাকা। আর কর ছাড়া আয় ধরা হয়েছে ৪৫ হাজার কোটি। বৈদেশিক অনুদান থেকে আয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ২৭১ কোটি টাকা।


আরও খবর

ছোট ও মাঝারি গরুর দাম বেশি

শুক্রবার ০১ জুলাই ২০২২




কুমিল্লা স্টেডিয়ামে মোহামেডানের সাথে ৪-২ গোলে জয় পেয়েছে আবাহনী

প্রকাশিত:বুধবার ২২ জুন 20২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 |
Image

কু‌মিল্লা জেলা প্রতি‌বেদক ঃ

কুমিল্লা শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ স্টেডিয়ামে বুধবার (২২ জুন) বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লীগের ৯৩ তম ম্যাচে অনুষ্ঠিত হয়েছে। চির প্রতিদ্বন্দ্বি দুই দল আবাহনী মোহামেডানের খেলা দেখতে মাঠে আসে কয়েক হাজার দর্শক। 

পূর্ব ও পশ্চিম দিকে গ্যালারিতে ভাগ হয়ে নিজ নিজ দলের হয়ে উৎসাহ দেয় দর্শকরা। খেলায় ঢাকা আবাহনী লিমিটেড ৪-২ গোলে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবকে পরাজিত করেছে।

বুধবার বিকেল চারটায় খেলা শুরুর ৭ মিনিটের মাথায় ঢাকা আবাহনীর হয়ে গোল করেন, ড্যানিয়েল কলিনদ্রেস। ডরিয়েল্টন দুটি গোল করেন ১০ ও ৪৫+৫তম মিনিটে। এবং চতুর্থ গোলটি করেন ইমন বাবু ৪৩তম মিনিটে। 

মোহামেডানের হয়ে গোল করেন সুলেমান দিয়াবেতে ১৮তম মিনিটে। ২য় গোলটি করেন শাহরিয়ার ইমন ৪৫+২তম মিনিটে। খেলার দ্বিতীয়ার্ধে গোল না হওয়ায় ঢাকা  আবাহনী লিমিটেড ৪-২ গোলে বিজয়ী হয়ে মাঠ ছাড়েন। 

উত্তেজনাপূর্ণ ঢাকা আবাহনী লিমিটেড ও মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের খেলায় মাঠে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা জেলা ফুটবল এসাসিয়েশনের সভাপতি ও নব নির্বাচিত কুমিল্লা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরফানুল হক রিফাত। উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারন সম্পাদক নাজমুল আহসান ফারুক রোমেন, সহ-সাধারন সম্পাদক খায়রুল আলম সোহাগ, কুমিল্লা জেলা ফুটবল এসাসিয়েশনের সাধারন সম্পাদক বাদল খন্দকার, সদস্য দেলোয়ার হোসেন জাকির ও আল আমিন ভূইয়া। এছাড়াও আবাহনী লিমিটেড ও মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের কর্মকর্তা, বাফুফের কর্মকর্তা বৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।


আরও খবর



শিক্ষার্থীদের জন্য নতুন নির্দেশনা

প্রকাশিত:বুধবার ০৮ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 |
Image

২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হওয়া শিক্ষার্থীদের বিষয়, বিভাগ, শিফট, ভার্সন, ছবি পরিবর্তন এবং ভর্তি বাতিল কার্যক্রম শুরু হচ্ছে বুধবার (৮ জুন) থেকে। এই কার্যক্রম চলবে আগামী ৩০ জুন পর্যন্ত। সম্পূর্ণরূপে অনলাইনে এটি সম্পন্ন করতে হবে।

মঙ্গলবার (৭ জুন) ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের কলেজ পরিদর্শক অধ্যাপক আবু তালেব মো. মোয়াজ্জেম হোসেন স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আদেশে বলা হয়েছে, শিক্ষার্থীরা নিজ নিজ কলেজে তার চাহিদা মোতাবেক আবেদন করলে কলেজ কর্তৃপক্ষ বোর্ডের ওয়েবসাইটে লগ ইন করে অনলাইনে শিক্ষার্থীর চাহিদা মোতাবেক সংশোধনী সম্পন্ন করবে। এক্ষেত্রে কলেজ কর্তৃপক্ষ বোর্ডের প্রয়োজনীয় ফি শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে নিয়ে সোনালী সেবার মাধ্যমে জমা দেবে।

এরপর বোর্ডের অনুমোদন সাপেক্ষে সংশোধনী কার্যকর হবে এবং সংশোধিত তথ্যাবলী কলেজ কর্তৃপক্ষ অনলাইনে দেখতে পাবেন। উক্ত কার্যক্রমের জন্য শিক্ষার্থীদের বোর্ডে যোগাযোগের কোনো প্রয়োজন নেই।

বোর্ডের নির্ধারিত ফিগুলো হচ্ছে- প্রতি বিষয় পরিবর্তন ২০০ টাকা, বিভাগ পরিবর্তন ৮০০ টাকা, ভর্তি বাতিল ৬০০ টাকা। তবে শিফট, ভার্সন ও ছবি পরিবর্তন এবং চতুর্থ বিষয় বাতিলের জন্য কোনো ফি লাগবে না।


আরও খবর



হাওরে নৌ ও স্পীডবোট দুর্ঘটনা রোধকল্পে ইটনা থানার ওসির প্রশংসনীয় উদ্যোগ

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১৬ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 |
Image

মুজাহিদ সরকার কিশোরগঞ্জ থেকে ঃ 

দেখা হয় নাই চক্ষু মেলিয়া, ঘর হতে শুধু দুই পা ফেলিয়া’—এ মহাসত্য বাণীকে প্রমাণ করার জন্য আমরা দুনিয়ার সমস্ত সৌন্দর্য উপভোগ করতে পৃথিবীর এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে ঘুরে বেড়াই। খোঁজার চেষ্টা করি প্রকৃতি কোথায় তার অপরূপ ঢেলে দিয়েছে প্রকৃতিপ্রেমিকদের আকর্ষণ করার জন্য। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর পাহাড়, হাওর, বাঁওড়, ধানখেত, নদীবেষ্টিত প্রিয় মাতৃভূমির লোকায়িত রূপ অধরাই থেকে যায় বহু ভ্রমণপিপাসুর কাছে। 

বাংলাদেশে অসংখ্য পর্যটন এলাকা রয়েছে, যার মধ্যে কিশোরগঞ্জের হাওরগুলো প্রকৃতির অশেষ দান। দিগন্তবিস্তৃত জলরাশি যেকোনো প্রকৃতিপ্রেমীর মনে আনন্দের ঢেউ তুলবে। প্রকৃতির এই অপরূপ দৃশ্য উপভোগ করতে ঢাকা থেকে শত শত মানুষ আসে কিশোরগঞ্জ হাওরে। 

কিশোরগঞ্জের ইটনা,অষ্টগ্রাম,মিঠামইন হাওরে চলাচলের এক মাত্র বাহন ছোট ছোট নৌকা আর স্পীডবোট। উত্তাল হাওরে নৌকা বা স্পীডবোট ঝড়ের কবলে পরে মাঝে মধ্যেই ঘটে দূর্ঘটনা। 

হাওরের নৌকা, স্পীডবোট দূর্ঘটনা রোধকল্পে প্রশংসনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন কিশোরগঞ্জ জেলার ইটনা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ কামরুল ইসলাম মোল্লা। গত ১৬ জুন বেলা ১২.৪৫ ঘটিকায় নৌ ও স্পীডবোট দূর্ঘটনা রোধকল্পে উপস্থিত যাত্রী সাধারন, ট্রলারের মাঝি, ট্রলারের হেল্পার, স্পীডবোট ড্রাইভারদের নিয়ে ইটনা থানাধীন ইটনা পুরাতন বাজার ট্রলারঘাটে জনসচেতনমূলক সভা করেন। উক্ত সভায় তিনি হাওরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বেশকিছু বিষয়ের উপর বক্তব্য প্রদান করেন। তিনি বলেন, ১)আগামী ০৭ দিনের মধ্যে সকল ট্রলার, স্পীডবোট এ নূন্যতম ১০টি করে লাইফ জেকেট থাকতে হবে। ২) অতিরিক্ত যাত্রী  নিয়া ট্রলার ও স্পীডবোট যাতায়াত করবে না। ৩) দূর্যোগপূর্ণ আবওহাওয়া ক্ষেত্রে আবওহাওয়া স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত কোন ট্রলার ও স্পীডবোট ঘাট হইতে ছেড়ে যাবে না। ৪) ট্রলার ও স্পীডবোট মালিকগণ তাহাদের নৌযানের জন্য বিআইডব্লিউটি হইতে লাইসেন্স সংগ্রহ করবেন। 

ইটনা থানার অফিসার ইনচার্জের জনসচেতনামূলক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাচ্ছেন সাধারণ জনগণ। তারা বলছে, হাওরের জন্য এই সতর্কবার্তা গুলো প্রয়োজন ছিল।


আরও খবর



কাতার বিশ্বকাপে ৩২ দল চূড়ান্ত; কোন গ্রুপে কারা

প্রকাশিত:বুধবার ১৫ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 |
Image

কাতারের রাজধানী দোহায় গত ২ এপ্রিল ২৯টি দল নিয়ে অনুষ্ঠিত হয় ২০২২ সালের ফুটবল বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ড্র। বাকি ৩ দলকে সম্ভাব্য তালিকায় রেখে এই ড্র অনুষ্ঠান সাজান হয়। মঙ্গলবার রাতে শেষ দল হিসেবে কাতার বিশ্বকাপের টিকিট পেয়েছে কোস্টারিকা। এর মধ্যে দিয়েই চূড়ান্ত হয়ে গেছে ৩২টি দলের নাম। 

এক নজরে বিশ্বকাপের আট গ্রুপ

গ্রুপ এ: কাতার, নেদারল্যান্ডস, সেনেগাল ও ইকুয়েডর
গ্রুপ বি: ইংল্যান্ড, যুক্তরাষ্ট্র, ইরান ও ওয়েলস
গ্রুপ সি: আর্জেন্টিনা, মেক্সিকো, পোল্যান্ড ও সৌদি আরব
গ্রুপ ডি: ফ্রান্স, ডেনমার্ক, তিউনিসিয়া ও অস্ট্রেলিয়া
গ্রুপ ই: স্পেন, জার্মানি, জাপান ও কোস্টারিকা
গ্রুপ এফ: বেলজিয়াম, ক্রোয়েশিয়া, মরক্কো ও কানাডা
গ্রুপ জি: ব্রাজিল, সুইজারল্যান্ড, সার্বিয়া ও ক্যামেরুন
গ্রুপ এইচ: পর্তুগাল, উরুগুয়ে, দক্ষিণ কোরিয়া ও ঘানা


আরও খবর



দেশে বজ্রপাতে মৃত্যুর ঘটনা বাড়ছে

প্রকাশিত:সোমবার ২০ জুন ২০22 | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 |
Image

মইনুল ইসলাম মিতুল:  প্রতি বছরই বর্ষা মৌসুমের শুরুতে ঘটে বজ্রপাতে প্রাণহানি। এ নিয়ে জনমনে দিন দিন উদ্বেগ বেড়েই চলছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, বজ্রপাতে প্রাণহানি কমিয়ে আনার জন্য ২০২১ সালে সরকার সারা দেশে ১০ লাখ তালগাছ লাগানোর সিদ্ধান্ত নেয়। তবে তালগাছ নয়, ২৮ লাখ তালের আঁটি রোপণ করেছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়। বজ্রপাতে প্রাণহানির ঘটনা সম্পর্কে আবহাওয়া অধিদপ্তরের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বায়ুদূষণ ও জলবায়ুর ক্ষতিকর প্রভাবই এর মূল কারণ। আরো দুটি কারণের কথা বলেছেন তারা। এর একটি হলো জনসংখ্যার ঘনত্ব বেড়ে যাওয়া এবং উঁচু গাছগুলো কেটে ফেলা।

প্রাপ্ত তথ্য মতে, নানা প্রতিকূলতায় বাংলাদেশে বছরে গড়ে ৮০ থেকে ১২০ দিন বজ্রপাতের ঘটনা ঘটছে। আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘রিস্কফ্যাক্টরস অ্যান্ড সোশ্যাল ভালনারেবিলিটি’ শীর্ষক গবেষণা বলছে, প্রতি বছর মার্চ থেকে মে মাস পর্যন্ত বাংলাদেশে প্রতি বর্গকিলোমিটার এলাকায় ৪০টি বজ্রপাত হয়। বছরে দেড়শোর মতো লোকের মৃত্যুর খবর সংবাদমাধ্যম প্রকাশ করলেও প্রকৃতপক্ষে এ সংখ্যা পাঁচশ থেকে এক হাজার। বজ্রপাত-সচেতনতায় কাজ করা সংগঠন সেভ দ্য সোসাইটি অ্যান্ড থান্ডারস্টর্ম অ্যাওয়ারনেস ফোরাম (এসএসটিএএফ) বলছে, এ অবস্থা থেকে দ্রুত পরিত্রাণের জন্য পাঠ্যপুস্তকে বজ্রপাত-সচেতনতা ও মাঠে বজ্ররোধক টাওয়ার নির্মাণ জরুরি।

চলতি বছরে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের তথ্য মতে, ২৯ ও ৩০ এপ্রিল এই দুদিনে বজ্রপাতে ৩২ জন নিহত হয়েছে। আর এসএসটিএএফের তথ্য মতে, বজ্রপাতে দেশের ১১ জেলায় গত শুক্রবার (১৭ জুন) সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত ১৯ জন মারা গেছেন।

দুর্যোগ ফোরামের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বাংলাদেশে ২০১৭ সালে ২০৫, ২০১৬ সালে ২৪৫, ২০১৫ সালে ১৮৬, ২০১৪ সালে ২১০, ২০১৩ সালে ২৮৫, ২০১২ সালে ৩০১ এবং ২০১১ সালে ১৭৯ জন বজ্রপাতে নিহত হয়েছেন। আর চলতি বছরের গত ১৭ জুন পর্যন্ত পঞ্চাশ জনেরও বেশি মানুষের প্রাণ গেছে বজ্রপাতে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা (উপপরিচালক) কাওসারা পারভীন বলেন, বজ্রপাত আগেও ছিল, এখনো আছে। বছরের পুরো সময় যে পরিমাণ বজ্রপাত হয়; তার কয়েক গুণ বেশি হয় বর্ষা মৌসুমে। একটি বজ্রমেঘ থেকে ৬০-৭০ হাজার বজ্রপাত হয়। মেঘের ঘর্ষণে কিছু ওপরের দিকে উঠে যায় এবং কিছু মাটিতে নেমে আসে। যেগুলো নিচে পড়ে সেগুলো উঁচু তালগাছ ও নারিকেল গাছ কিছুটা প্রতিরোধে সহায়ক হয়। বজ্রপাত নিরোধে তালগাছ লাগানোর প্রকল্প প্রসঙ্গে জানতে চাইলে এই গবেষক বলেন, এখন পর্যন্ত কোনো তালগাছ লাগানো হয়েছে কি না জানা নেই। দেশের উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে (আটটি স্থান) বজ্রমেঘগুলো প্রবেশ করে। আর কিছু মেঘ ঢোকে উত্তর-পূর্বদিক থেকে। বিশেষ করে হাওর অঞ্চল এগুলো নিচু এলাকা হওয়ায় সেখানে বজ্রমেঘ বেশি হয়। বজ্রপাত থেকে বাঁচার জন্য সচেতনতা বাড়াতে হবে। কারণ, প্রাকৃতিক দুর্যোগকে ঠেকানো কঠিন। এগুলো আসবে। তবে কীভাবে আমরা টিকে থাকতে পারি সেই ব্যবস্থা করতে হবে।

সেভ দ্য সোসাইটি অ্যান্ড থান্ডারস্টর্ম অ্যাওয়ারনেস ফোরামের (এসএসটিএএফ) সাধারণ সম্পাদক রাশিম মোল্লা বলেন, ‘বজ্রপাতে মৃত্যু কমাতে হলে মানুষের মধ্যে সচেতনতা বাড়াতে হবে। আর এজন্য বজ্রপাত সচেতনতার বিষয়টি পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। মাঠে মাঠে বজ্ররোধক টাওয়ার নির্মাণ করতে হবে। 

তথ্য বিশ্লেষণ বলছে, দেশে বজ্রপাতে প্রাণহানি বাড়ছে। বজ্রপাতে ২০১১ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত এক দশকে মারা গেছেন ২ হাজার ৭৮৫ জন। গত ১৭ জুন (শুক্রবার) বজ্রপাতে এক দিনে মারা গেছেন ১১ জন। আবহাওয়াবিদরা বলছেন, বছরের মে থেকে জুন পর্যন্ত এ সময় সবচেয়ে বেশি বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে। আর জলবায়ুর বিরূপ পরিবর্তনের প্রভাবে বজ্রপাতের ঘটনা বাড়ছে। গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ বেড়ে যাওয়ায় পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়ছে। ফলে বাড়তি আর্দ্রতার প্রভাব ফেলছে বর্ষা ঋতুর বৈচিত্র্যে। আর এতে বাড়ছে বজ্রপাত, ঘটছে প্রাণহানি। দেশের বিভিন্ন স্থানে বজ্রপাতে প্রাণহানির ঘটনায় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। মৃত্যুর সংখ্যাও বেড়েছে। বেশি মারা যান মাঠে কাজ করা কৃষক। আর আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য মতে, বজ্রপাতের কারণে বছরে গড়ে দেড় শতাধিক মানুষ প্রাণ হারাচ্ছেন।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ব বিভাগের অধ্যাপক ড. কবিরুল বাশার বলেন, বজ্রপাত রোধে সারা দেশে গাছ রোপণ করতে হবে। গাছ বজ্রপাত থেকে মানুষকে নিরাপদ রাখে। আর হাওর অঞ্চলে যেহেতু বজ্রপাত বেশি হয়, সেখানে প্রচুর ছাউনি নির্মাণ করতে হবে। এ ছাড়া বজ্রপাত নিয়ে মানুষের মধ্যে আরো বেশি সচেতনতা দরকার।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব রবীন্দ্রনাথ বর্মণ বলেন, ‘দুর্যোগ ও বজ্রপাতে প্রাণহানি এড়াতে গত মাসে আমরা একটি প্রকল্প হাতে নিয়েছি। এ বিষয়ে আমরা যাচাই-বাছাই করেছি। বাস্তবায়ন করবে সরকারের দুর্যোগ অধিদপ্তর। এর আগে এটার ওপরে একটা মাঠজরিপ করেছি। সেখানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ও আবহাওয়া বিভাগের বিশেষজ্ঞরা সম্পৃক্ত ছিলেন। এ বিষয়ে প্রকল্প অনুমোদনের জন্য শিগগির পরিকল্পনা কমিশনে প্রস্তাব পাঠানো হবে।


আরও খবর