Logo
শিরোনাম
রাজধানীর সেতু ভবনে আগুন কমপ্লিট শাটডাউন : ঢাকাসহ সারা দেশে বিজিবি মোতায়েন জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ইট বোঝায় ট্রাক খাদে কুষ্টিয়ায় আন্দোলনকারী ও ছাত্রলীগের মধ্যে সংঘর্ষ -কয়েকটি মোটর সাইকেলে আগুন পুঠিয়ায় আ’লীগের বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা লালমনিরহাটে অনুষ্ঠিত হয়েছে তিস্তা সমাবেশ বেনাপোল স্থল বন্দর দিয়ে মিথ্যা ঘোষণায় আমদানি করা হয়েছে ১৮ কোটি টাকার সালফিউরিক এসিড কুমারখালীতে মহাসড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, আহত-২ শরণখোলায় নার্সের চিকিৎসার অবহেলায় এক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ শেরপুরে কোটাবিরোধী শিক্ষার্থী-ছাত্রলীগের সংঘর্ষ, সাংবাদিকসহ আহত-২০

সংসদে অর্থমন্ত্রী: ১০ মাসে ১৩০ মিলিয়ন ডলার নিয়ে গেছে বিদেশি নাগরিকরা

প্রকাশিত:সোমবার ২৪ জুন 20২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ২১ জুলাই ২০২৪ |

Image

সদরুল আইন:

বাংলাদেশে বসবাসকারী বিদেশি নাগরিকদের বছরে আয়ের তথ্য বাংলাদেশ ব্যাংকে সংরক্ষিত নেই। তবে গত বছর জুলাই থেকে চলতি বছরের এপ্রিল পর্যন্ত বিদেশিরা তাদের আয় থেকে ১৩০ দশমিক ৫৮ মিলিয়ন মার্কিন ডলার নিজ নিজ দেশে নিয়ে গেছেন বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী।


সোমবার (২৪ জুন) সংসদে ফরিদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল কাদের আজাদের এক লিখিত প্রশ্নের উত্তরে তিনি এ কথা জানান। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর টেবিলে উত্থাপিত হয়।



কোন দেশের নাগরিক কত ডলার নিয়েছেন সেই তথ্য জানিয়ে তথ্যমন্ত্রী বলেন, ভারত ৫০ দশমিক ৬০ মিলিয়ন ডলার, চীন ১৪ দশমিক ৫৬ মিলিয়ন ডলার, শ্রীলঙ্কা ১২ দশমিক ৭১ মিলিয়ন ডলার, জাপান ছয় দশমিক ৮৯ মিলিয়ন ডলার, কোরিয়া ৬ দশমিক ২১ মিলিয়ন ডলার, থাইল্যান্ড পাঁচ দশমিক ৩০ মিলিয়ন ডলার, যুক্তরাজ্য তিন দশমিক ৫৯ মিলিয়ন ডলার, পাকিস্তান তিন দশমিক ২৪ মিলিয়ন ডলার, যুক্তরাষ্ট্র তিন দশমিক ১৭ মিলিয়ন ডলার, মালয়েশিয়া দুই দশমিক ৪০ মিলিয়ন ডলার, অন্যান্য দেশের নাগরিকরা ২১ দশমিক ৯২ মিলিয়ন ডলার নিজ দেশে নিয়ে গেছেন।


এমপি আব্দুল লতিফের অপর এক প্রশ্নের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে অর্থ মন্ত্রণালয় বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে। মূল্যস্ফীতির চলমান সংকটের মূলে যে কারণগুলো রয়েছে তা হলো- বৈশ্বিক পণ্য বাজারে সরবরাহে অনিশ্চয়তা, মার্কিন ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমে যাওয়া এবং দেশের বাজারে সরবরাহ শৃঙ্খলে ত্রুটি।



 অর্থনৈতিক এ সংকট কাটিয়ে দ্রব্যমূল্য সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখার জন্য সরকার বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।



 


আরও খবর

রাজধানীর সেতু ভবনে আগুন

বৃহস্পতিবার ১৮ জুলাই ২০২৪




থমথমে পরিস্থিতি জাবি ক্যাম্পাসে

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১৬ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ২১ জুলাই ২০২৪ |

Image

নিজস্ব প্রতিবেদক::


কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছাত্রলীগের দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষে উত্তাল হয়ে ওঠা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ক্যাম্পাসে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) সকালে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা ঘুরে এমন পরিস্থিতি দেখা যায়। এর আগে সোমবার সন্ধ্যায় বটতলায় কোটা আন্দোলনকারী ও ছাত্রলীগের মধ্যে সংঘষ হয়। এরপর রাত ৯টার দিকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক মো. নূরুল আলমের বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এর ঘণ্টা দেড়েক পর উপাচার্য তার বাসা থেকে বেরিয়ে এসে হামলার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করে বিচারের আশ্বাস দেন। কিন্তু তাতে আশ্বস্ত হতে না পেরে আন্দোলনকারীরা উপাচার্যের বাসভবনের সামনেই অবস্থান করেন।



জানা যায়, মধ্যরাতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ভিসি ভবনের সামনে কোটাসংস্কার আন্দোলনকারীরা অবস্থান নেন। পরে সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সঙ্গে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে।

পরে, রাত আড়াইটার দিকে বিভিন্ন হল থেকে কয়েক’শ শিক্ষার্থী মিছিল নিয়ে এসে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ধাওয়া দিয়ে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।


শিক্ষার্থীরা জানান, আমাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে অতর্কিতভাবে হামলা করা হয়। হামলাকারীরা হেলমেট পড়ে ছিল ও হাতে ধারালো অস্ত্র ছিল। তারা পেট্রলবোমা ছুড়ে। আমরা উপাচার্যের বাসভবনের ভেতরে আশ্রয় নিলে আমাদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়া হয়।


এ দিকে সোমবার (১৫ জুলাই) রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোটা সংস্কার ও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার বিচারের দাবিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন মঙ্গলবার বিকেলে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের ডাক দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এ ঘোষণা দেন।


তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদ এবং কোটা সংস্কারের এক দফা দাবিতে মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় সারা দেশের ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল এবং সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। 


বিক্ষোভ মিছিলে গণজমায়েত তৈরির জন্য দেশের সাধারণ মানুষকেও অংশ নেয়ার আহ্বান জানান তিনি।


নাহিদ বলেন, ‘বৃহত্তর গণআন্দোলনের দিকে আমাদের যেতে হবে। কারণ, এই আন্দোলন এখন শুধু আর ছাত্রদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নাই। এতে যখন সরকারের সর্বোচ্চ জায়গা থেকে পরিকল্পিতভাবে উসকানি দিয়ে দমনের চেষ্টা করা হয়েছে; সাধারণ মানুষকে এই আন্দোলনে নেমে আসতে হবে।’




আরও খবর



প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে হতে পারে যেসব সমঝোতা স্মারক সই

প্রকাশিত:রবিবার ০৭ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ২১ জুলাই ২০২৪ |

Image

বিডি টুডেস ডেস্ক:



আগামী সোমবার চার দিনের সফরে বেইজিং যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার এই সফরে ঢাকা-বেইজিং উভয়পক্ষই বেশ কয়েকটি বিষয়ে প্রাধান্য দিচ্ছে।



 এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর চীন সফর ঘিরে উভয় পক্ষই ১৫টি চুক্তির প্রস্তুতিও নিয়েছে। চীন বাংলাদেশের অন্যতম উন্নয়ন অংশীদার। সে কারণে প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরে ঢাকার পক্ষ থেকে উন্নয়ন ইস্যুকেই প্রাধান্য দেয়া হচ্ছে।



 বিশেষ করে বেশ কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে চীনের সঙ্গে চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক সই হবে।



গত শুক্রবার পর্যন্ত দুই দেশ নতুন ও নবায়ন মিলিয়ে অন্তত ১৫টি এমওইউ সইয়ের জন্য চূড়ান্ত করেছে। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো- অর্থনৈতিক উন্নয়ন নীতিমালা, ডিজিটাল অর্থনীতিতে বিনিয়োগে সহায়তা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা, স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা, ডিজিটাল অর্থনীতিতে সহযোগিতা জোরদার, চীন-বাংলাদেশ ষষ্ঠ মৈত্রী সেতুর সংস্কার, চীন-বাংলাদেশ ষষ্ঠ মৈত্রী সেতু নির্মাণ, ব্রহ্মপুত্রে পানি প্রবাহের পূর্বাভাস, আওয়ামী লীগ ও সিপিসির মধ্যে সহযোগিতা, দুই দেশের দুটি কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে সহযোগিতা, আম রপ্তানি, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের ক্ষেত্রে সহযোগিতা, পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ও কার্বন নিঃসরণ কমানোর ক্ষেত্রে সহযোগিতা এবং সম্প্রচার কর্তৃপক্ষের মধ্যে সহযোগিতা।



 এছাড়াও সহযোগিতার নানা ক্ষেত্রে কয়েকটি চিঠি সইয়ের কথা রয়েছে।


এই সফরে বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে যেসব সমঝোতা স্মারক সই নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল, তার অন্যতম ছিল প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের উত্থাপিত বৈশ্বিক উন্নয়ন উদ্যোগ (জিডিআই)। 




এছাড়াও চীন সুনীল অর্থনীতিতে সহযোগিতার বিষয়ে একটি এমওইউ সইয়ের প্রস্তাব দিয়েছিল। জানা গেছে, এই সফরে জিডিআই ও সুনীল অর্থনীতিতে সহযোগিতার দুই এমওইউ সই নাও হতে পারে। গত বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) পর্যন্ত দুই দেশের মধ্যে যেসব এমওইউ ও দলিল চূড়ান্ত করার বিষয়ে আলোচনা হয়েছে, তার মধ্যে এ দুটি বিষয় ছিল না।



 দুই দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে যেহেতু আলোচনা হতে যাচ্ছে তাই কোনোভাবে জিডিআইতে বাংলাদেশের যুক্ত হওয়ার ঘোষণাও আসতে পারে।


বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরের অন্যতম প্রধান দিক হচ্ছে রিজার্ভে ডলার ঘাটতিসহ অর্থনৈতিক সংকট মেটাতে দেশটির ঋণ সহায়তা। গত ফেব্রুয়ারিতে চীন ৫০০ কোটি ডলারের সমপরিমাণ ঋণ বাণিজ্য-সহায়তা (ট্রেড ফ্যাসিলিটি) হিসেবে দেয়ার প্রস্তাব দেয়।



 চীনা মুদ্রায় এর পরিমাণ ৩ হাজার ৬০০ কোটি ইউয়ানের বেশি। পরে বাংলাদেশ ওই প্রস্তাবের পাশাপাশি বাজেট সহায়তার আওতায় ২০০ কোটি ডলারের ঋণের অনুরোধ জানায়। 



অর্থাৎ, সব মিলিয়ে ৭০০ কোটি ডলারের সমপরিমাণ (প্রায় ৫ হাজার ৪০ কোটি ইউয়ানের বেশি) ঋণ নিয়ে গত জুনে বেইজিংয়ে দুই দেশের মধ্যে আলোচনাও হয়।



আরও খবর

রাজধানীর সেতু ভবনে আগুন

বৃহস্পতিবার ১৮ জুলাই ২০২৪




পরীমনির সঙ্গে সম্পর্কে চাকরি হারাচ্ছেন পুলিশ কর্তা

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২৫ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ২১ জুলাই ২০২৪ |

Image

চলচ্চিত্র অভিনেত্রী পরীমনির সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের কারণে এবার চাকরি হারাচ্ছেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার গোলাম সাকলায়েন শিথিল।

পরীমনির সঙ্গে সম্পর্কের সময় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) গুলশান বিভাগের এডিসির দায়িত্বে ছিলেন সাকলায়েন।

পরীমনির সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের বিষয়টি সামনে আসার পর প্রথমে তাকে পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্টে (পিওএম) বদলি করা হয়। পরে তাকে ঝিনাইদহ ইনসার্ভিস ট্রেনিং সেন্টারে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার হিসেবে বদলি করা হয়।

শৃঙ্খলা শাখার প্রতিবেদনে বলা হয়, নায়িকা পরীমনির সঙ্গে পুলিশ কর্মকর্তা সাকলায়েনের ঘটনাক্রমে দেখা হয় এবং যোগাযোগ আরম্ভ হয়। এরই ধারাবাহিকতায় নায়িকা পরীমনির বাসায় নিয়মিত রাতযাপন করতে শুরু করেন সাকলায়েন। বিভিন্ন সময়ে (দিনে ও রাতে) পরীমনির বাসায় সাকলায়েন অবস্থান করেছেন বলে মোবাইলের ফরেনসিক রিপোর্ট দেখে প্রমাণ পাওয়া যায়। পুলিশ অধিদপ্তরের এলআইসি শাখার দেওয়া তার ফোনের সিডিআর বিশ্লেষণ অনুযায়ী ০৪/০৭/২০২১ থেকে ০৪/০৮/২০২১ পর্যন্ত তিনি বিভিন্ন সময়ে (দিনে ও রাতে) পরীমনির বাসায় অবস্থান করেছেন। পরীমনির মোবাইলের ফরেনসিক রিপোর্ট (সিআইডি কর্তৃক মামলার আলামত হিসেবে জব্দকৃত) পর্যালোচনায় দেখা যায়, তার ও পরীমনির আদান-প্রদানকৃত মেসেজসমূহ (২৯ জুলাই ২০২১ থেকে ৩ আগস্ট ২০২১ পর্যন্ত) সামসুন্নাহার স্মৃতি ওরফে পরীমনির ফেসবুক আইডি ও গোলাম সাকলায়েন সিথিল নামে ফেসবুক মেসেঞ্জারে কথোপকথন এবং তাদের হোয়াটসআ্যাপ নম্বরে (১১ জুলাই, ২০২১ থেকে ৪ আগস্ট ২০২১ পর্যন্ত) কথোপকথন সাধারণ পরিচিতি বা পেশাগত প্রয়োজনে স্থাপিত কোনো সম্পর্কের নয়। বরং অনৈতিক প্রেমের সম্পর্ক।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২১ সালের ১ আগস্ট ভোর ৬টা থেকে ২ আগস্ট রাত ৩টা পর্যন্ত রাজারবাগ মধুমতি পুলিশ অফিসার্স কোয়ার্টার্সে নায়িকা পরীমনির যাতায়াতের ধারণকৃত সিসিটিভি ফুটেজের ফরেনসিক প্রতিবেদন বিশ্লেষণে ও সাক্ষীদের জবানবন্দি অনুযায়ী প্রতীয়মান হয় যে, ১ আগস্ট সাকলায়েনের পূর্ব পরিকল্পনা ও সম্পূর্ণ জ্ঞাতসারে তার স্ত্রী না থাকা অবস্থায় নায়িকা পরীমনি তার রাজারবাগের সরকারি বাসায় যান এবং প্রায় ১৭ ঘণ্টা সেখানে অবস্থান করে ২ আগস্ট রাত ১টা ৩০ মিনিটে বাসা ত্যাগ করেন।

তার ও নায়িকা পরীমনির সম্পর্কের বিষয়টি বিভিন্ন অনলাইন ও প্রিন্ট মিডিয়ায়, টেলিভিশনে ও বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে এবং যার ফলে জনমনে এ বিষয়ে নানারূপ বিরূপ প্রতিক্রিয়া ও সমালোচনার জন্ম দেয়। সাকলায়েন বাংলাদেশ পুলিশের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা হয়ে সরকারি দায়িত্বের বাইরে নায়িকা পরীমনির সাথে অতিমাত্রায় ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপন করেছিলেন।

সাকলায়েন বিবাহিত ও এক সন্তানের বাবা হওয়া সত্ত্বেও পরীমনির সঙ্গে তার বিবাহবহির্ভূত অনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন, পরীমনির সঙ্গে জন্মদিন উদযাপন ও নিজের সরকারি বাসভবনে নিজ স্ত্রীর অবর্তমানে সময় কাটানোর মতো ঘটনা বিভিন্ন প্রচারমাধ্যমে প্রচারিত হওয়ায় সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। উল্লিখিত অভিযোগে তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা হয়।

তদন্ত প্রতিবেদন ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্যাদি পর্যালোচনাপূর্বক অভিযুক্ত কর্মকর্তাকে দোষী সাব্যস্ত করে তার বিরুদ্ধে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ৩(খ) বিধি অনুযায়ী অসদাচরণ-এর অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় একই বিধিমালার বিধি ৪-এর উপবিধি ৩(ঘ) বিধি মোতাবেক গুরুদণ্ডের আওতায় কেন তাকে চাকরি হতে বরখাস্তকরণ করা হবে না, সে মর্মে ২য় কারণ দর্শানো নোটিস প্রদান করা হয়।

সাকলায়েনের বিভাগীয় মামলার তদন্ত প্রতিবেদন, সাক্ষীদের জবানবন্দি, অভিযুক্তের আত্মপক্ষ সমর্থনমূলক লিখিত জবাব, মৌখিক বক্তব্য ও অন্যান্য কাগজপত্রাদি পুনরায় বিস্তারিত পর্যালোচনা করা হয়। সার্বিক পর্যালোচনাস্তে ২য় কারণ দর্শানোর জবাব সন্তোষজনক বিবেচিত না হওয়ায় সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮-এর ৩(খ) বিধি অনুযায়ী ‌অসদাচরণ-এর অভিযোগে অভিযুক্ত কর্মকর্তা গোলাম সাকলায়েনকে বিধি ৪-এর উপ-বিধি ৩(খ) বিধি মোতাবেক গুরুদণ্ড হিসেবে চাকরি থেকে বাধ্যতামূলক অবসর প্রদান-এর প্রাথমিক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।


আরও খবর



নারায়ণগঞ্জে জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে চারতলা ভবন ঘিরে রেখেছে পুলিশ

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ০২ জুলাই 2০২4 | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ১৬ জুলাই ২০২৪ |

Image



বিডি টুডেস ডেস্ক:


নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের বরপা আড়িয়াবো এলাকায় জঙ্গি আস্তানা সন্দেহে সৌদি প্রবাসী জাকির হোসেনের চারতলা বাড়ি ঘেরাও করে রেখেছে অ্যান্টিটেরোরিজম ইউনিটসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা।



বিষয়টি নিশ্চিত করে অ্যান্টি টেরোরিজম ইউনিটের আরেক পুলিশ সুপার (মিডিয়া অ্যান্ড অ্যাওয়ারনেস) মাহফুজুল আলম রাসেল জানান, কিছুক্ষণের মধ্যে সেখানে অভিযান পরিচালনা করা হবে। অভিযান শেষে বিস্তারিত জানানো হবে।



এটিইউয়ের ধারণা, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন আনসার-আল ইসলামের তিন-চারজন সদস্য ভবনের তিনতলায় অবস্থান করছে।


অ্যান্টিটেরোরিজম ইউনিট ঢাকার পুলিশ সুপার (অপারেশন) সানোয়ার হোসেন জানান, গত ৫ জুন নরসিংদী থেকে ১ জন জঙ্গি আটক করা হয়। গতকাল সোমবার (১ জুলাই) কক্সবাজার থেকে ১ নারীকে আটক করা হয়। 



তার দেওয়া তথ্য মতে, রূপগঞ্জে বরপা আড়িয়াবো এলাকায় সৌদি প্রবাসী জাকিরের চারতলা বাড়িতে একাধিক জঙ্গি থাকার কথা রয়েছে বলে তারা ধারণা করছেন। 


সেজন্য মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে পুরো বাড়ি ঘেরাও করে রেখেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। ভিতরে তল্লাশি চলছে। এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা যায়নি।



আরও খবর



সাভারে নদী খাল বিল দখলের মহোৎসব চলছে

প্রকাশিত:শনিবার ২২ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ২১ জুলাই ২০২৪ |

Image

বিডি টুডে রিপোর্ট:

রাজধানীর পাশের জনপদ সাভার উপ শহরের ওপর দিয়ে বংশী, তুরাগ ও ধলেশ্বরী নদীসহ বিভিন্ন খাল বহমান। কিন্তু এ নদী ও খাল এখন কেবলই স্মৃতি।

 ভূমিখেকোদের গ্রাসে নদী এখন পরিণত হয়েছে ছোট খালে। কেননা নদীর দুই পাশের শত শত বিঘা জমি দখল করে নিয়েছে এলাকার প্রভাবশালীরা। সম্প্রতি সাভারে অবস্থিত তিনটি খাল (তেঁতুলঝোড়া, যোগী-জাঙ্গাল ও নয়নজুলী) এবং দুইটি বিলের (তাঁতি বিল, শুকনা বিল ও রইপতা বা নোয়াদ্দা বিল) মূল প্রবাহ অনুযায়ী সীমানা নির্ধারণ করতে জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের চেয়ারম্যান ও ঢাকা জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। 

একই সঙ্গে এসব খাল ও বিল পুনরুদ্ধারের জন্য দখল ও দূষণকারীর তালিকা প্রস্তুত করতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) করা এক রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি মো. আতাবুল্লাহর দ্বৈত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন। এছাড়া খাল ও বিল দখল এবং দূষণকারীদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং এ সংক্রান্ত সময়ভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা তৈরি করতে বিবাদীদের নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। আদালতের এই আদেশ বাস্তবায়ন করে হাইকোর্টে প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।

অন্যদিকে ঢাকা জেলাধীন সাভার উপজেলার ইয়ারপুর ইউনিয়নের ইছরকান্দি, মনোসন্তোষ ও সাতাইশকান্দি মৌজায় প্রায় ৬০০ একর আয়তনের একটি বিল রয়েছে, যা স্থানীয়ভাবে ‘গজাইরার’ বিল নামে পরিচিত। বিলটির দৈর্ঘ্য প্রায় ১০ কিলোমিটার ও প্রস্থ ৪ কিলোমিটার। বিলটি রক্ষায় ‘উত্তরণ প্রোপার্টিজ লিমিটেড’ ও ‘অ্যাচিভ করপোরেশন’ নামক আবাসন কোম্পানির অননুমোদিত আবাসন প্রকল্পের জন্য মাটি ভরাট, প্লট বিক্রয়সহ সব কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে আদালত। 

একইসঙ্গে আদালতপ্রদত্ত উল্লিখিত নির্দেশ প্রতিপালন সংবলিত প্রতিবেদন আদালতে দাখিলের জন্য রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক এবং ঢাকা জেলার জেলা প্রশাসককে নির্দেশ দিয়েছেন।

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) কর্তৃক দায়েরকৃত একটি জনস্বার্থমূলক মামলার প্রাথমিক শুনানি শেষে সম্প্রতি বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম এবং বিচারপতি মো. আতাবুল্লাহর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বিভাগের ডিভিশন বেঞ্চ এ আদেশ প্রদান করেন।

সাভার উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত বংশী, ধলেশ্বরী ও তুরাগ নদীগুলোর সঙ্গে সংযুক্ত রয়েছে অসংখ্য খাল, বিল ও জলাশয়। যার মধ্যে জামুরমুচিপাড়া মৌজায় তেঁতুলঝোড়া খাল, কান্দিবলিয়ারপুর, চান্দুলিয়া মৌজায় বামনী খাল; পাথালিয়া মৌজায় যোগী-জাঙ্গাল (জুগী জঙ্গল), নয়নজুলী খাল, চারিগাঁও ও চাকরগাঁও মৌজায় তাঁতি বিল (শুকনা বিল) ও বড়ওয়ালিয়া ও মোহনপুর মৌজায় রইপতা (নোয়াদ্দা) উল্লেখযোগ্য। এ খাল ও বিলগুলোর সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ২০টি গ্রামের লক্ষাধিক গ্রামবাসীর জীবন ও জীবিকা। একসময় কৃষিনির্ভর সাভারবাসী সেচের জন্য অনেকাংশেই এসব খাল ও বিলের পানির ওপর নির্ভরশীল ছিল। অবৈধ খদলদারিত্ব ও দূষণে জনগুরুত্বপূর্ণ এসব খাল, বিল ও জলাশয়গুলো বর্তমানে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। এসব খাল ও বিলের অংশবিশেষ ভরাট করে নির্মাণ করা হয়েছে বাড়িঘরসহ নানা স্থাপনা। 

গৃহস্থালি বর্জ্য ফেলার পাশাপাশি শিল্প মালিকরা তাদের শিল্পকারখানার অপরিশোধিত বর্জ্য ফেলার স্থান হিসেবে ব্যবহার করছে উল্লিখিত খাল ও বিলসমূহকে।

সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের চোখের সামনেই এভাবে নদী খাল দখল হলেও তারা দেখেও না দেখার ভান করছেন। ফলে প্রভাবশালীদের নদী ও জলাশয় দখল চলছেই । হাউজিং ব্যবসার প্রতারণার শিকার হচ্ছে হাজার হাজার নিরীহ মানুষ। বংশী, তুরাগ ও ধলেশ্বরী শাখা নদী ও একাধিক খালের তীর দখলের প্রতিযোগিতা অব্যাহত রেখেছে ভূমিদস্যুরা। 

এলাকার বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তি ও হাউজিং কোম্পানিগুলো প্রশাসনকে ম্যানেজ করে এ দখল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। তুরাগ, বংশী, ধলেশ্বরী নদী দখলমুক্ত করার জন্য বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠন বিভিন্ন সময়ে মিছিল, মানববন্ধন, সমাবেশ করলেও কোনোভাবেই ঠেকানো যাচ্ছে না এ দখল প্রক্রিয়া।

এক কালের সাভারের বন্দর নামে পরিচিত নদীর কুল ঘেঁষে অবস্থিত সাভারের নামা বাজার আস্তে আস্তে বড় হচ্ছে, আর ক্ষুদ্র হচ্ছে বংশী নদী। কেননা বাজারের প্রভাবশালী ব্যবসায়ীরা নদীর জমি দখল করে সেখানে নির্মাণ করছে দোকানপাট , মালামাল রাখার গুদামঘর , চিড়া ও তেলের মিল, ডাল মিলসহ অন্যান্য কলকারখানা।

 বাজারের এসব প্রভাবশালী নদীর জায়গা দখল করে দোকানপাট মিল কলকারখানা বসিয়ে লাভবান হচ্ছেন আর সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ব্যবসায়ীদের নামে অবৈধভাবে জমি লিজ দিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

একটি সূত্র জানায়, সরকারি সম্পত্তি দখলে বিভিন্ন প্রভাবশালী ব্যক্তি ভূমি অফিসের কতিপয় অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারীকে ম্যানেজ করে ভূমি দখলের প্রতিযোগিতায় নেমে পড়েছে। অনেক সরকারি সম্পত্তির ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে ভূমি অফিসের সহায়তায় দখল প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে কোটি কোটি টাকার সম্পত্তি নিজেদের দখলে নিয়েছেন।

 সাভার বাজারের পাশে বংশী নদীর পাড় ঘেঁষে সরকারি জমি (খাস জমি) নামে-বেনামে এবং লিজের মাধ্যমে বেদখল হয়ে যাচ্ছে। ইতিমধ্যেই সিংহভাগ জমিই বেহাত হয়ে গেছে। কিন্তু কর্তৃপক্ষ বেহাত হয়ে যাওয়া সম্পত্তি উদ্ধারে অজ্ঞাত কারণে আগ্রহ দেখাচ্ছে না। বর্তমানে বংশী নদীর তীর ঘেঁষে এ দখল প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।

সাভার পরিবেশ উন্নয়ন পরিষদের সভাপতি ড. রফিকুল ইসলাম মোল্লা বলেন, প্রভাবশালী কর্তৃক নদী দখল হয়ে যাচ্ছে। তিনি নদী সুরক্ষায় সিএস নকশা আনুযায়ী নদীর সীমানা নির্ধারনের দাবি জানান। সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) সাভারের সভাপতি অধ্যাপক দীপক কুমার রায় বলেন, ‘পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্যই নদনদী রক্ষা প্রয়োজন। ক্রমাগত নদী খাল ভরাট হলে পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব পড়বে।’ 

এ ব্যাপারে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রাহুল চন্দ বলেন, ‘উচ্ছেদ অভিযান চলমান রয়েছে। পর্যায়ক্রমে অবৈধ দখলকারীদের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান পরিচালিত হবে। এছাড়া নদী, খাল, জলাশয় ভরাটের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


আরও খবর