Logo
শিরোনাম
বাউল ছালমা হলেন বরিশাল বিভাগের শ্রেষ্ঠ "জয়িতা" পাংশায় মাদক সহ ৯ মামলার আসামী গ্রেফতার ১৬৩ টাকায় তেল বিক্রির ব্যত্যয় ঘটলে ব্যবস্থা নেয়া হবে: ভোক্তার মহাপরিচালক দুর্গাপুরে বালুবাহী হ্যান্ডট্রলির চাপায় প্রাণ গেল শিক্ষার্থীর নওগাঁ জেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি আবু বক্কর, সাধারণ সম্পাদক বেলায়েত নওগাঁয় প্রাইভেটকার তল্লাসি, ৭২ কেজি গাঁজা সহ যুবক আটক রূপগঞ্জে প্রাইভেটকার চাপায় গৃহবধু নিহত রাঙ্গামাটির বড়ইছড়ি নির্মাণ শ্রমিক বোঝাই ট্রাক খাদে নিহত-২, আহত-২০ মুসলিমদেরকে সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত করার জন্য বিভিন্ন ষড়যন্ত্র চলছে নওগাঁয় কম্পিউটার ব্যবসার অন্তরালে অশ্লিল ভিডিও বিক্রি করায় ৩ যুবক আটক

সোনাইমুড়ীতে আগ্নেয়াস্ত্রসহ হত্যা মামলার আসামি গ্রেপ্তার

প্রকাশিত:শুক্রবার ০১ ডিসেম্বর ২০২৩ | হালনাগাদ:শুক্রবার ০১ মার্চ ২০২৪ |

Image

অনুপ সিংহ,নোয়াখালী প্রতিনিধি :

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে ৪টি হত্যা,৩টি অস্ত্র মামলাসহ ১৫ মামলার এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে র‍্যাব। এসময় তার কাছ থেকে একটি বন্দুক ও দুটি মোবাইল উদ্ধার করা হয়। 

গ্রেপ্তার কৃত জাকির হোসেন সোনাইমুড়ী উপজেলার সোনাপুর  ইউনিয়নের হাসানপুর গ্রামের রফিক উল্লাহর ছেলে।

বৃহস্পতিবার (৩০ নভেম্বর) দিবাগত রাতে উপজেলার সোনাপুর ইউনিয়নের হাসানপুর গ্রাম  থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। 

এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন র‍্যাব-১১ এর সিপিসি-৩ এর নোয়াখালী ক্যাম্পের কোম্পানি অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মাহমুদুল হাসান।  

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, জাকির হোসেন ৪টি হত্যা, ৩টি অস্ত্র মামলা সহ ১৫ মামলার আসামি। সে অস্ত্র আইনে মামলায় ১৭ বছরের সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি। এ ঘটনায় তার বিরুদ্ধে সোনাইমুড়ী থানায় অস্ত্র আইনে আরেকটি মামলা হয়েছে।


আরও খবর

বাউল ছালমা হলেন বরিশাল বিভাগের শ্রেষ্ঠ "জয়িতা"

বৃহস্পতিবার ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

পাংশায় মাদক সহ ৯ মামলার আসামী গ্রেফতার

বৃহস্পতিবার ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪




দলে দলে ঢুকছে মিয়ানমারের সীমান্তরক্ষী

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ০১ মার্চ ২০২৪ |

Image

মিয়ানমারের অভ্যন্তরীণ সংঘর্ষের জেরে এখন পর্যন্ত দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) ২২৯ জন সদস্য পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছেন। মঙ্গলবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বেলা ১১টার দিকে বিজিবির জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) তাদের নিরস্ত্রীকরণ করে নিরাপদ আশ্রয়ে নিয়েছে। মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত আশ্রয় নেওয়া বিজিপির সদস্য সংখ্যা ছিল ১১৩। পরে আরও ৭ জনকে রিসিভ করলে সে সংখ্যা হয় ১১৫। এরপর একসঙ্গে আরও ১১৪ জন প্রবেশ করেন।

আগে যারা প্রবেশ করেছেন তারা সবাই এখনো বাংলাদেশেই রয়েছেন। এর মধ্যে কয়েকজন হাসপাতালে চিকিৎসাও নিচ্ছেন। তাদের নিজ দেশে ফেরাতে মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রেখেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

গত কয়েক দিন ধরে মিয়ানমারের অভ্যন্তরে সামরিক জান্তা বাহিনীর সঙ্গে বিদ্রোহী গ্রুপের তুমুল লড়াই চলছে। তাদের ছোড়া গুলির সিসা ও রকেট লঞ্চার বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম-তুমব্রু সীমান্তে উড়ে এসে পড়ছে। এতে ঘুমধুম-তুমব্রু এলাকার বাসিন্দারা আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠায় দিন পার করছেন। ইতোমধ্যে হতাহতের ঘটনাও ঘটেছে।

সোমবার (৫ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, বাংলাদেশে ঢুকে পড়া মিয়ানমারের বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি) সদস্যদের ফিরিয়ে নিতে সে দেশের সরকার যোগাযোগ করেছে।

হাছান মাহমুদ বলেন, মিয়ানমারের সঙ্গে আমাদের নিরবচ্ছিন্ন যোগাযোগ আছে। আজ সকালে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আমাদের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। তারা তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিয়ে যাবে। তাদের বর্ডার গার্ডের সদস্যদের ফিরিয়ে নিয়ে যাবে। এখন তাদের উড়োজাহাজ, নাকি নৌকায় ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে, সেটা নিয়ে আমরা আলোচনার মধ্যে আছি।

মন্ত্রী জানান, এর আগে ভারতেও অনেকে (বিজিপি সদস্য) ঢুকে পড়েছিলেন। ভারত থেকে তাদের উড়োজাহাজে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

মিয়ানমার থেকে এখনো অনেকে আসছেন উল্লেখ করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমার আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে। আমরাও যোগাযোগ করেছি। এখনো আরও আসছে, আসার সম্ভাবনা আছে। কয়েকজন আহত হয়েছে। তাদের কক্সবাজার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সন্ধ্যায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের পক্ষে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক জাতীয় সংসদে বলেন, সীমান্তে উত্তেজনার পরিস্থিতি সরকার নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণে রেখেছে৷ মিয়ানমারের সঙ্গে আলোচনার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিষয়টি দেখছে।


আরও খবর

গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ, দগ্ধ সাত

বুধবার ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪




একজন শুভ্রদেব ও একুশে পদক প্রাপ্তি

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ০১ মার্চ ২০২৪ |

Image

মনির চৌধুরী সঙ্গীত শিল্পী :

আমার সাথে শ্রদ্ধেয় শুভ্র দার পরিচয় সেই ১৯৯৫/৯৬ সাল থেকে (জেরিন আসগর) জেরিনা আপার বাসায় গান করা থেকে। তারপর টুটু আপার বাসায় সেই সময় শুভ্রদা অনেকবার আমার অনেক গান শুনেছেন। সেই পরিচয়ে শুভ্র দার বিয়ের মেয়ে দেখা অনুষ্ঠান হোটেল পূর্বাণীতে, সেখানে দাদা আমাকে ডাকেন গান গেতে। আমি যদি ভুল নাকরে থাকি, সেই অনুষ্ঠানে প্রয়াত প্রণব ঘোষ দাদা পুরো অনুষ্ঠান সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন। গান করেছি আমি, ক্লোজআপ ওয়ান তারকা বাঁধন ও পারভেজ। আমরা এই ৩ জনই গান করেছি। ওই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের সঙ্গীত জগতের সব তারকারা উপস্থিত ছিলেন। তারপর দাদা আমাকে অনেক প্রগামে গান করার সুযোগ করে দিয়েছেন এবং এখনো দিচ্ছেন। যেটা নিয়ে আমি এতো ভুমিকা করেছি কেন সেটা এখনই পরিস্কার হবে। 

আমি যেহেতু গান করি সেহেতু আমি অনেক প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের পিছনে বা প্রতিষ্ঠান প্রধানের পিছনে মাসের পর মাস, কারো পিছনে ১ বছর ঘুরেছি আমার এ্যালবাম করার জন্য। আমি কারো নাম নিচ্ছি না। কিন্তু কেউই আমার গান রেকর্ড করেনি ও এ্যালবামও প্রকাশ  করেনি। বলাই বাহুল্য আমার কাছে তখন টাকা ছিল না যে আমি এ্যালবাম বের করবো। এখানে আমি বলবো আমার গানের শুরু আমার ইমিডিয়েট ভাই মাজহারুল ইসলামের (বর্তমানে র্প্রিন্সিপাল) হাত ধরে। তিনি আমাকে স্কুলে থাকা অবস্থায় হামদ- নাত শিখিয়ে দিয়ে প্রথম প্রতিযোগীতায় প্রথম হওয়ার পরএই আমার যাত্রা শুরু হলো। ২০০৩ সালে ধানমন্ডি সুরধুনীতে আমার আসা হলো হাসান জামাল আংকেল এর মাধ্যমে। উনি বাংলাদেশ বেতারে ডিডিজি ছিলেন। এই আংকেল আমাকে সুরধুনীতে ডা: খালেদা আন্টি সাথে পরিচয় করিয়ে দেন। ২০০৫ সালে এটিএন তারকা রিয়ালিটি শোতে শুভ্র দা চেয়েছিলেন আমি ওই রিয়ালিটি শো তো অংশগ্রহণ করি, কিন্তু র্দূভাগ্য আমার ঐ শোতো অংশ নেয়া হয় নাই যে কোন কারনে। ২০০৬ খালেদা আন্টি ঠিক করলেন আমার একক সঙ্গীত অনুষ্ঠান করবেন। আমি আন্টিকে না বলেছিলাম কিন্তু উনি আমার অনুষ্ঠান করবেনই। কারন একটা অনুষ্ঠান করতে অনেক ঝামেলা পোহাতে হয় এজন্য না করেছিলাম। অনুষ্ঠানের তারিখ ঠিক হলো। আমি তখন শুভ্র দাকে বললাম দাদা আমার অনুষ্ঠানে আসবেন। দাদা সহ অনেক শিল্পীকে জাতীয় যাদুঘরের প্রধান মিলনায়তনে দাওয়াত দিয়েছিলাম। অনেকি এসেছিলেন সেখানে। দাদা অনুষ্ঠানে আসলেন এবং বক্তব্য রাখার সময় বললেন, সুরধনী আজকে যে শিল্পীকে নিয়ে অনুষ্ঠান করছেন আমি সুরধুনীর সবাইকে আমার অন্তর থেকে ধন্যবাদ জানাই। এবং দাদা এও বলেছিলেন, আমরা বলি এ স্টার ও স্টার আজকে আমি বলবো সত্যিকারের স্টার মনির চৌধুরী। সত্যিকারের স্টার ও ই যাকে নিয়ে সুরধুনী এতো বিশাল আয়োজন করেছে। আমি দাদার আমার মতো অধম ও বেগুন মানুষকে নিয়ে একথা আমি কোন দিনও ভুলবো না। আমাদের শিল্পী সমাজে আমার দেখা ২/৪  সেলিব্রিটি শিল্পী ছাড়া কাউকে দেখা যায়না নতুন কোন গানের মানুষকে সামনে তুলে ধরতে সাহায্য ও সহায়তা  করতে কোন কারন ছাড়া। আমি বলতে চাই, আপনার প্রতিভা আছে কিন্তু এই প্রতিভাটাকে সবার সামনে তুলে ধরার প্রয়াস কোন সেলিব্রিটি শিল্পী দেখায় কোন রকম সম্পর্ক ছাড়া এটা বিরল। যেটা দাদা আমার বেলায় দেখিয়েছেন। আমি ছোট বেলা থেকে শুনে আসছি, যে মানুষকে সম্মান করে মহান আল্লাহ নাকি তাকে সম্মানিত করেন। ওই একক অনুষ্ঠানের পর দাদাকে ধরে ডা: খালেদা আন্টি ও সুরধুনীর সবাই এটিএন এর চেয়ারম্যান জনাব মাহফুজুর রহমানকে দিয়ে আমার একক মৌলিক গানের এ্যালবাম "প্রিয়া তোমায় ভুলিনি" শিরোনামে সিডি ও ভিসিডি বের করার ব্যবস্থা করেন। সবকটি গান লিখেছেন শেখ রেজা শানু, সুর করেছেন শ্রদ্ধেয় মান্নান মোহাম্মদ।  

আমি প্রথমেই একটু বেশি ভুমিকা টেনেছি সঙ্গত  কারনে। আমি তো সারাজীবন দাদার অবদানের কথা বলবোই। আমার জানা মতে আরো অনেককে শিল্পী হওয়ার পথে সহায়তা করেছেন দাদা। জীবনে যিনি মানুষের মঙ্গল চান, যিনি পরোপকারী তিনি তো সম্মানিত হবেন এটাই স্বাভাবিক। আজ অবধিও দাদা আমার খোঁজ খবর রাখেন। করোনা মহামারীর সময়ও দাদা আমার খোঁজ খবর নিয়েছেন। অনেকেই দাদার একুশে পদক পাওয়া নিয়ে নেতিবাচক মনোভাব ব্যক্ত করেছেন আমি দেখছি, কিন্তু আমি বলবো শুভ্র দা মানবিক মূল্যবোধ সম্পন্ন একজন শিল্পী। তাঁকে মহান আল্লাহ পাক সম্মানিত করেছেন। আপনার আমার হিংসা করে কোন লাভ নেই। আল্লাহ যাকে সম্মান দেন তাঁকে কেউ অসম্মান করা ঠিক না।

এবার আসি দাদার জনপ্রিয়তা নিয়ে কথা।

দাদা ৮০ দশক ও ৯০ দশকে যে গান উপহার দিয়েছেন এগুলো আমার বিবেচনায় সেরা। ইয়াং ছেলে মেয়ের কাছে দাদা কতো জনপ্রিয় তা শুধু আমরা জানি যারা সে সময় স্কুল ও কলেজে পড়েছি। কৃষ্ণ চুড়ায় ছায়ে ছায়ে, নীল চাঁদোয়া, আমি হেমিলনের সেই বাঁশিওয়ালা। এরকম অগণিত গান জনপ্রিয়। আহা! কি ক্রেজ দাদার। গীতিকার ও সুরকার হিসেবেও সফল দাদা। আন্তজার্তিক অঙ্গনে দাদার যে অবদান সেটা একটা ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে দাদার ক্যারিয়ারে। আমি তো উনার কোন অযোগ্যতা দেখিনা। কতো অযোগ্য লোক একুশে পদক পেয়েছে দেখলাম, তাদের বেলায় তো কারো কোন প্রতিবাদ দেখলাম না। ঔ সময় ভোলায় অভিজিৎ দা আমাকে বলতেন "ভোলার শুভ্র দেব" এটা আমার কানে এখনো বাজে।


আরও খবর

ভাষার মাসের প্রথম দিনে নওগাঁয় বর্ণমালা মিছিল

বৃহস্পতিবার ০১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪




নিজ দেশে ফিরতে চায় রোহিঙ্গারা

প্রকাশিত:রবিবার ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ |

Image

রাখাইনে চলমান সংঘাতের কারণে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের জন্য ওপারে সীমান্তে অবস্থান নিয়েছে মিয়ানমারের অনেক রোহিঙ্গা। তবে তাদের এদেশে ঢোকার ব্যাপারে বিরোধিতা করছে উখিয়া-টেকনাফে আশ্রিত রোহিঙ্গারা। তারা বলছেন, নিজ দেশ ছেড়ে এবার ভুল করা যাবে না।

ক্যাম্পে আয়োজিত কনভেনশনে রোহিঙ্গা নেতারা বলেছেন, আরাকান আর্মি তাদের অবস্থান স্পষ্ট করলে এখনই তারা ফিরে যাবেন মিয়ানমারে।

দেশটির অভ্যন্তরে জান্তা বাহিনীর সঙ্গে বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির তুমুল সংঘর্ষ চলছে। ইতোমধ্যে রাখাইন রাজ্যের বেশ কিছু এলাকা দখলে নিয়েছে সংগঠনটি। ফলে বুচিডংসহ রাখাইনের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের জন্য সীমান্তে অবস্থান নিয়েছে।

এদিন উখিয়া ক্যাম্পের কয়েকজন রোহিঙ্গা জানান, রাখাইনে দুই পক্ষের হামলায় রোহিঙ্গারা প্রতিনিয়ত আক্রান্ত হচ্ছেন। তাই তারা বাংলাদেশে চলে আসার জন্য নিয়মিত যোগাযোগ করছেন এখানকার রোহিঙ্গাদের সঙ্গে।

তবে এবার নিপীড়নের শিকার হলেও কোনো অবস্থাতেই জন্মভূমি না ছাড়ার আহ্বান জানিয়েছেন রোহিঙ্গা নেতারা। তারা বলছেন, ২০১৭ সালে বাংলাদেশে এসে ভুল করেছেন তারা। সেটা দ্বিতীয়বার যেন অন্যরা না করেন। মিয়ানমারে এখন জান্তারা দুর্বল হয়ে পড়েছে। ফলে এখনই স্বদেশে ফিরে যাওয়া জরুরি।

এক রোহিঙ্গা বলেন, আমরা আর কোনও রোহিঙ্গাকে বাংলাদেশে আসতে দিতে চাই না। বরং এখনই সময় সেখানে আমাদের চলে যাওয়ার। এসময়ে যেতে পারলে খুবই ভালো হয়। সেই সুরে সুর মিলিয়ে আরেক রোহিঙ্গা বলেন, কষ্ট পেলেও, জুলুমের শিকার হলেও মিয়ানমারেই থাকা দরকার ওপারের রোহিঙ্গাদের। তারা থাকতে পারলে পরে আমরাও যেতে পারবো।

মিয়ানমারে দ্রুত ফিরে যাওয়ার জন্য এদিন সকালে উখিয়ার লম্বাশিয়া ক্যাম্পে সম্মেলন করেন এফডিএমএন রিপ্রেজেন্টেটিভ কমিটি। এতে নির্বাচিত বিভিন্ন ক্যাম্পের ৪ হাজার প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করেন। আরাকান আর্মিকে ইঙ্গিত করে কমিটির নেতা মাস্টার ছৈয়দ উল্লাহ বলেন, সংগঠনটি রোহিঙ্গাদের অবস্থান স্পষ্ট করলে তারা এখনই চলে যেতে প্রস্তুত।

তিনি আরও বলেন, মিয়ানমারের আরকানে আমাদের আত্মীয়স্বজন, মা-বাবা, ভাই-বোন আছে। তাদের ওপর অনেক নির্যাতন হচ্ছে। তাদের প্রতি আহ্বান থাকবে, তারা যেন কোনদিনও দেশ ছেড়ে চলে না আসে। জাতিসংঘের সংস্থাগুলোকে প্রত্যাবাসন ইস্যুতে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে আলাপ করে উদ্যোগ নিতে হবে। অন্যথায় একজোট হয়ে আমরা মিয়ানমারে ফিরে যাব।

ছলিম উল্লাহ নামে এক রোহিঙ্গা বলেন, আমাদের দেশ আছে। মিয়ানমারের আরকান আমাদের দেশ। আমরা দেশে ফিরে যেতে চাই।

এদিকে শরণার্থী কমিশন বলছে, নতুন করে যেকোনো অনুপ্রবেশ ঠেকাতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে সরকার। শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসান কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, আরও রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ঢোকার আশঙ্কা রয়েছে। তবে আমাদের বর্ডার গার্ড (বিজিবি) অত্যন্ত সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

বিজিবির টেকনাফ ব্যাটালিয়নের কমান্ডার লে. কর্নেল মহিউদ্দীন আহমেদ বলেন, রোহিঙ্গাদের সম্ভাব্য প্রবেশ নিয়ে সতর্ক অবস্থানে আছে বিজিবি। সীমান্ত এলাকায় কঠোর নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। একজন রোহিঙ্গাকেও প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না। আমরা সব সময়ই সজাগ আছি।

 


আরও খবর

গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ, দগ্ধ সাত

বুধবার ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪




হাসপাতালে অনুপস্থিত চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মী

প্রকাশিত:রবিবার ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ০১ মার্চ ২০২৪ |

Image

দেশের সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে চিকিৎসক এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে সরকার নানা উদ্যোগ নিলেও তা কাজে আসছে না। এসব প্রতিষ্ঠানে এখনও প্রতিদিন অনুপস্থিত থাকেন গড়ে ৪৬ শতাংশ চিকিৎসক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী। এতে ভোগান্তিতে পড়তে হয় রোগীদের, পোহাতে হয় দুর্ভোগ। নিরুপায় হয়ে অনেকে বেসরকারি হাসপাতালে যেতে বাধ্য হন। খোদ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পর্যবেক্ষণে ফুটে উঠেছে এমন চিত্র।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দায়িত্ব পালনে অবহেলাকারীদের শাস্তি না হওয়ায় উদ্বেগজনক এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে শক্ত তদারকির অভাব। দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের দক্ষতায়ও ঘাটতি রয়েছে। তবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন বলেছেন, দেরিতে কর্মস্থলে আসা, দ্রুত অফিস ত্যাগ ও অনুমতি ছাড়া কোনো চিকিৎসক কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকলে তাঁকে অবশ্যই শাস্তি ভোগ করতে হবে। দায়িত্ব পালনে অবহেলাকারীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। সরকার এ ব্যাপারে তদারকি আরও জোরদার করবে বলেও জানান তিনি।

ছুটির দিন ছাড়া সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের বহির্বিভাগে সেবা প্রদান শুরু হয় সকাল ৮টায়, চলে বেলা ২টা পর্যন্ত। আর ছুটির দিনগুলোতে চালু থাকে শুধু জরুরি বিভাগ, থাকেন স্বল্পসংখ্যক চিকিৎসক।

বেলা ১১টা পর্যন্ত চিকিৎসকের দেখা নেই

গত ৩ ফেব্রুয়ারি সকাল ৮টায় বগুড়া ২৫০ শয্যার মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, বহির্বিভাগে রোগীর লাইন। কিন্তু বেলা ১১টা পর্যন্ত চিকিৎসকের দেখা নেই! শহরের আকাশতারা এলাকা থেকে আসা বৃদ্ধা শামসুন্নাহার বেগম বলেন, আগে একদিন এসে ফিরে গেছি, ডাক্তার পাইনি, আজও পেলাম না। এখন ক্লিনিকে যাচ্ছি। ওই নারী জানান, তিনি এসেছিলেন মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক রত্না রানী সরকারের কাছে।

সার্জারি বিভাগের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. এস এম বেলালও দুদিন ধরে অনুপস্থিত বলে অভিযোগ করেন এদিন তাঁর কাছে আসা কয়েকজন রোগী। অর্থোপেডিক বিভাগের ডা. জাহিদুল কবির সুজন হাসপাতালে আসেন বেলা ১১টায়। ৬২ জন চিকিৎসকের মধ্যে প্রতিদিন এ হাসপাতালে অন্তত ২০ জন অনুপস্থিত থাকেন বলে অভিযোগ রোগীদের।

কর্মস্থলে অনুপস্থিতির বিষয়ে ডা. রত্না রানী সরকার বলেন, আমি নিয়মিত হাসপাতালে যাই। তবে জরুরি একটি কাজের জন্য দুদিন যেতে পারিনি। একই কথা বলেন ডা. এস এম বেলাল হোসেন। হাসপাতালটির তত্ত্বাবধায়ক ডা. কাজী মিজানুর রহমান বলেন, চিকিৎসকরা কেন মাঝে মধ্যে ছুটি ছাড়া অনুপস্থিত থাকছেন, সে বিষয়ে তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চিকিৎসকের দেখা পান না রোগীরা

খুলনার কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গত ১ ফেব্রুয়ারি সকাল ৯টায় গাইনি ডাক্তারের কাছে আসেন রাবেয়া খাতুন। তিন ঘণ্টা অপেক্ষার পর জানতে পারেন চিকিৎসক হাসপাতালে আসেননি। পরে চিকিৎসক না দেখিয়ে বাড়ি ফেরেন তিনি। একই দিন নাতির শ্বাসকষ্টের চিকিৎসায় ১০ কিলোমিটার দূর থেকে হাসপাতালে আসেন বৃদ্ধ আব্দুল মাজেদ। বহির্বিভাগের সামনে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকেন দীর্ঘক্ষণ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ডাক্তারের দেখা পাননি। তারাও চিকিৎসা না নিয়েই ফিরে যান। এই ঘটনা জানার পর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক রেজাউল করিম বলেন, তদন্ত করে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দুপুর হলেই শূন্য হাসপাতাল

মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে বেলা ১টার পর চিকিৎসক পাওয়া কঠিন। আবার বেলা ১১টার আগে বহির্বিভাগে আসেন না কেউ। সদর উপজেলার বাসিন্দা আফতাব উদ্দিন সরকার হাড়ের সমস্যা নিয়ে গত ৩ ফেব্রুয়ারি এ হাসপাতালে আসেন। একই সমস্যা নিয়ে আসেন রোশনা বেগম ও চা শ্রমিক বধূ ভৌমিক। কিন্তু বেলা ১১টা পর্যন্ত হাসপাতালের বহির্বিভাগে তালা ঝুলতে দেখা যায়। তখন চিকিৎসক না দেখিয়েই চলে যান অনেকে।

পরে বিষয়টি নিয়ে সমকালের সঙ্গে কথা হয় অর্থোপেডিক কনসালট্যান্ট ডা. জুনাইদ হোসেনের। তিনি বলেন, ওটি ও অন্য বিভাগে চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম। তাই বহির্বিভাগের চেম্বারে যেতে পারিনি। ওই দিন অর্থোপেডিক বিভাগের অন্য চিকিৎসক ছুটিতে থাকার কথা জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা অভিযোগ করেন, দুপুর হলেই এ হাসপাতালে ডাক্তার পাওয়া কঠিন। তারা নিজের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন অথবা হাসপাতাল থেকে চলে যান।

সেবা দেন পরিচ্ছন্নতাকর্মী

গত ১ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টায় নাটোর সদর হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, বুকের যন্ত্রণা নিয়ে করিডোরে বিছানা পেতে শুয়ে আছেন রবিউল আলম। আগের রাতে হাসপাতালে আসেন তিনি। পরদিন বেলা ১১টা পর্যন্ত ডাক্তারের দেখা পাননি। আরেকটু ভেতরে গিয়ে দেখা যায়, অঞ্জলি নামে এক পরিচ্ছন্নতাকর্মী এক শিশুর ক্যানোলা খুলে দিচ্ছেন। মাঝে মধ্যেই তিনি এমন সেবা দেন। এটি তাঁর দায়িত্ব কিনা জানতে চাইলে দ্রুত সটকে পড়েন ওই নারী।

নাটোরের সিভিল সার্জন ও সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মুহাম্মদ মশিউর রহমান বলেন, হাসপাতালটি আড়াইশ শয্যায় উন্নীত হলেও জনবল বাড়েনি। তাই রোগীদের সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। কোনো ডাক্তার দেরিতে হাসপাতালে এলে বা নির্ধারিত সময়ের আগে চলে গেলে তাঁকে প্রথমে মৌখিক সতর্ক করা হয় বলে জানান তিনি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে অভিযোগের পাহাড়

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমের (এমআইএস) তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ জানুয়ারি থেকে ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১০ দিনে অধিদপ্তরে অভিযোগ এসেছে ৭১৩টি। এর মধ্যে ৪১৭টি অভিযোগই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে। একই সময়ে অধিদপ্তরে পরামর্শ আসে ১২৭টি।

এক অভিযোগকারী লেখেন, ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে তিনি চোখের চিকিৎসক পাননি। গত ৬ ফেব্রুয়ারি মোবাইল ফোনে মেসেজ করে অভিযোগটি দেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে। মেসেজে তিনি লিখেছেন, এই হাসপাতালে চোখের কোনো চিকিৎসক নাই। প্রতিদিন ৫ থেকে ১০ জন সেবা প্রত্যাশী ফিরে যাচ্ছেন।

অধিদপ্তরের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমের তথ্য বলছে, সারাদেশে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মোট চিকিৎসকের গড়ে ৪৬ শতাংশ প্রতিদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন। তাদের ডিজিটাল হাজিরার এক সপ্তাহের উপাত্ত (১ থেকে ৮ জানুয়ারি) বিশ্লেষণ করে এই চিত্র পাওয়া যায়। আট বিভাগের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জেলা সদর ও জেনারেল হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বিশেষায়িত সরকারি হাসপাতালে কর্মরত ৩৪ হাজার চিকিৎসক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে ১৮ হাজার ৩৬০ জন কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন; যা মোট জনবলের ৪৬ শতাংশ। এমআইএসের উপাত্ত অনুযায়ী, উল্লিখিত সময়ে সবচেয়ে বেশি উপস্থিতি ছিল ময়মনসিংহ বিভাগে ৫৬ দশমিক ৩০ শতাংশ, এরপর রয়েছে সিলেট বিভাগ ৫৬ দশমিক ১৮ শতাংশ। চট্টগ্রামে এ হার ৫৫ দশমিক ৬৬ শতাংশ, বরিশালে ৫৪ দশমিক ৬৪ শতাংশ, খুলনায় ৫১ দশমিক ৮২ শতাংশ, রংপুরে ৫১ দশমিক ৭৭ শতাংশ, ঢাকায় ৫১ দশমিক ৬৬ শতাংশ এবং রাজশাহীতে ৫১ দশমিক ৫১ শতাংশ। এ হিসাবে কর্মস্থলে অনুপস্থিতি সবচেয়ে বেশি রাজশাহী বিভাগে।

২০১৯ সালে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পরিদর্শনের সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, যে ডাক্তার জেলায় যাবেন না বা কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকবেন, তাঁকে ওএসডি করে নতুন ডাক্তার নিয়োগ দেওয়া হবে। কিন্তু পরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বা অধিদপ্তর থেকে কারও বিরুদ্ধে তেমন কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমের লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক ডা. মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসকদের শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত করতেই ডিজিটাল হাজিরার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে হাসপাতালপ্রধান অথবা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কর্মস্থলে অনুপস্থিত চিকিৎসক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীর তালিকা দেখতে পারেন; ব্যবস্থাও নিতে পারেন। তাঁর দাবি এভাবে মাঝে মধ্যে কিছু চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

অনেক হাসপাতালেই ডিজিটাল হাজিরা মেশিন ব্যবহার হচ্ছে না। কোথাও কোথাও আবার সেটি অনেক দিন ধরে নষ্ট। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. শাহ মনির হোসেন মনে করেন, কর্মক্ষেত্রে চিকিৎসকদের শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত করতে শক্ত তদারকি দরকার। এ ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রশাসন শাখা ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের আরও কঠোর হতে হবে। যারা দায়িত্ব পালনে গাফিলতি করছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।

বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন বলেন, প্রতিদিন ৪৬ শতাংশ চিকিৎসক-কর্মকর্তার হাসপাতালে অনুপস্থিতি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। সরকার যেহেতু বেতন দেয়, তাই প্রত্যেক চিকিৎসককে অবশ্যই হাসপাতালে উপস্থিত থাকতে হবে।

 

 


আরও খবর

চোখ রাঙাচ্ছে এডিস মশা

বুধবার ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪




আরেক দফায় বাড়বে বিদ্যুতের দাম!

প্রকাশিত:বুধবার ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ |

Image

এবার বাড়বে বিদ্যুতের দাম আগামী জুন মাসের মধ্যে ভর্তুকি গ্রহণযোগ্য পর্যায়ে নামিয়ে আনতে বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর চিন্তা করছে জ্বালানি বিভাগ ঈদের পর বিদ্যুতের দাম থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা গেছে বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে জ্বালানি খরচ বেড়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ  উৎপাদন খরচ বেড়েছে তাই আপ্রাণ চেষ্টা করেও সরকার ভর্তুকি থেকে বেড়িয়ে আসতে পারছে না এই অবস্থায় বিদ্যুতের দাম না বাড়িয়ে উপায় নেই দাম কিছুটা বাড়ালে ভর্তুকিও কিছুটা কমবে তবে জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সেবা নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ না বাড়িয়ে সরকার বিদ্যুতের দাম বাড়ালে জনগণের ওপর ব্যাপক চাপ সৃষ্টি হবে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে থাকবে না সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা আরো কঠিন হবে।  


বিদ্যুৎ জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা বলছেন, করোনা পরিস্থিতি রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কারণে বৈশ্বিক জ্বালানির দাম আকাশচুম্বি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে বাংলাদেশেও। ২০০৯ সালে দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা হাজার ৯৪২ মেগাওয়াট ছিলো। পরবর্তী ১৫ বছরে বিদ্যুতের উৎপাদন সক্ষমতা বেড়ে ২৯ হাজার ১৭৪ মেগাওয়াট হয়েছে। দেশীয় জ্বালানির পর্যাপ্ত যোগান না থাকায় বিদ্যুতের উৎপাদন বাড়াতে জ্বালানির আমদানি বাড়াতে হয়েছে। এসব কারণে সরকারকে আগে যে পরিমাণ ভর্তুকি দিতে হতো, এখন তার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। ২০২৩ সালে দফায় বিদ্যুতের দাম ১৫ শতাংশ বাড়ানোর পরও ভর্তুকি কমছে না। প্রতি কিলোওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে সরকারকে প্রায় সাড়ে টাকা ভর্তুকি দিতে হচ্ছে। বিদ্যুৎ জ্বালানি খাতে সরকারের অব্যাহতভাবে ভর্তুকি দেয়ার বিষয়টি নিয়ে আর্থিক দাতা সংস্থাগুলোও প্রশ্ন তুলেছে। দাতা সংস্থা আইএমএফের পরামর্শ হচ্ছে ভর্তুকি থেকে বেরিয়ে  আসতে হবে। এই শর্তেই তারা সরকারকে ঋণ দিয়েছে।

আগামীতে বিদ্যুৎ জ্বালানি খাতের ভর্তুকি  থেকে বেড়িয়ে আসতে না পারলে ঋণের অর্থ ছাড় বন্ধ করে দিতে পারে বলেও আভাস দিয়েছে সংস্থাটি। এসব কারণে সরকার ভর্তুকি থেকে বেড়িয়ে আসতে বিদ্যুতের দাম বাড়াতে জোর তৎপরতা শুরু করেছে। পিডিবির পর্যালোচনায় প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এখন প্রতি ইউনিট বিদ্যুতের গড় খুচরা দাম টাকা ২৫ পয়সা। এছাড়া পাইকারি পর্যায়ে প্রতি ইউনিটের দাম টাকা ৭০ পয়সা। পাইকারিতে ভর্তুকি পুরোপুরি তুলে দিতে হলে পাইকারি দাম ১২ টাকা ১১ পয়সা নির্ধারণ করতে হবে। পাইকারি পর্যায়ে দাম বাড়লে খুচরা গ্রাহক পর্যায়েও দাম বেড়ে ১৪ টাকা ৬৮ পয়সা হবে। পিডিবি চার ধাপে বিদ্যুতের দাম বাড়াতে পর্যালোচনা প্রতিবেদনে সুপারিশ করেছে। ধাপে ধাপে বিদ্যুতের ভর্তুকি কিভাবে এবং কত কমিয়ে শূন্যের কোটায় নামা যায় ওই পর্যালোচনায় তাও তুলে ধরা হয়েছে


মন্ত্রণালয়ের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা জানান, বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর বিষয়ে উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সবকিছু এখন আলোচনায় রয়েছে। তবে দাম বাড়ানোর ব্যাপারে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। দাম বাড়ানোর প্রস্তাব সংবলিত পিডিবির পর্যালোচনা পত্র মন্ত্রণালয়ে জমা দেয়া হয়েছে। এটা নিয়ে এখন পর্যালোচনা চলছে। তবে আগামী ১২ মার্চ থেকে রমজান শুরু হবে। রমজানের আগে বিদ্যুতের দাম

বাড়ানো হবে না। তবে ঈদের পরপরই বিদ্যুতের দাম বাড়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে। এবার দাম বাড়িয়ে ভর্তুকি পুরোপুরি তুলে নেয়া হবে না। শতাংশ থেকে ১০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে। এতে জনগণের ওপর তেমন চাপ পড়বে না। সব কিছুই সহনীয় পর্যায়ে থাকবে


পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসেইন জানিয়েছেন, বর্তমান সরকার ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিয়েছে। এখন সরবরাহ ঠিক রাখতে বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যবস্থার ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। উৎপাদন বাড়ানোর ফলে বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে ভর্তুকির পরিমাণও বেড়েছে। হাজার হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। বিদ্যুৎ খাতের ভর্তুকি কমাতে পারলে ওই টাকা দিয়ে আরো উন্নয়নমূলক কাজ করা যাবে। এতো বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি দিয়ে একটি সেক্টর চলতে পারে না। কারণেই বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর চিন্তা-ভাবনা চলছে


পিডিবি সূত্রে জানা গেছে, গত অর্থবছরে পিডিবি ৮৮ হাজার ৪৫০ গিগাওয়াট বিদ্যুৎ কিনেছে। এতে ৯৬ হাজার ৮৪ কোটি ৯০ লাখ টাকা ব্যয় হয়। এই বিদ্যুৎ ৬টি বিতরণকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে ৫০ হাজার ৮৫৮ কোটি ২৫ লাখ টাকায় বিক্রি করেছে। পিডিবির লোকসান হয়েছে ৪৭ হাজার ৭৮৮ কোটি টাকা। অর্থাৎ লোকসান ৫২ দশমিক শতাংশ বেড়েছে। গত অর্থবছরে সরকার বিদ্যুৎ খাতে ভর্তুকি দিয়েছে ৩৯ হাজার ৫৩৫ কোটি টাকা। বাকি টাকা ভর্তুকি দিয়েছে পিডিবি। এভাবে আর ভর্তুকি দেয়া সম্ভব না


বিদ্যুতের দাম বাড়াতে সরকারের চিন্তা-ভাবনা প্রসঙ্গে জানতে চাইলে জ্বালানি বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক বদরূল ইমাম বলেন, বিদ্যুতে ভর্তুকি কমানোর কথা বলে বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হবে বলে শুনছি। এর ফলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরো বাড়বে। জিনিসপত্রের দাম বেড়ে যাবে। এমনিতেই বাজারের বেহাল দশা। মানুষ আর্থিক সংকটে আছে। এখন আবারো বিদ্যুতের দাম বাড়ানো সঠিক সিদ্ধান্ত হবে বলে আমি মনে করি না। জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম না বাড়িয়ে এই খাতের অব্যবস্থাপনা, ভুলনীতি, অপচয় রোধ করতে পারলে বিদ্যুতের উৎপাদন খরচ কমে আসবে। তখন ভর্তুকি এমনিতেও কমবে। এইসব বিষয়গুলো সংস্কারে সরকারের উদ্যোগ নেয়া উচিত


আরও খবর

গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ, দগ্ধ সাত

বুধবার ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪