Logo
শিরোনাম
রাজধানীর সেতু ভবনে আগুন কমপ্লিট শাটডাউন : ঢাকাসহ সারা দেশে বিজিবি মোতায়েন জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ইট বোঝায় ট্রাক খাদে কুষ্টিয়ায় আন্দোলনকারী ও ছাত্রলীগের মধ্যে সংঘর্ষ -কয়েকটি মোটর সাইকেলে আগুন পুঠিয়ায় আ’লীগের বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা লালমনিরহাটে অনুষ্ঠিত হয়েছে তিস্তা সমাবেশ বেনাপোল স্থল বন্দর দিয়ে মিথ্যা ঘোষণায় আমদানি করা হয়েছে ১৮ কোটি টাকার সালফিউরিক এসিড কুমারখালীতে মহাসড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, আহত-২ শরণখোলায় নার্সের চিকিৎসার অবহেলায় এক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ শেরপুরে কোটাবিরোধী শিক্ষার্থী-ছাত্রলীগের সংঘর্ষ, সাংবাদিকসহ আহত-২০

শরীর ও আত্মার খাদ্য

প্রকাশিত:বুধবার ০৯ মার্চ ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ২১ জুলাই ২০২৪ |

Image

মানুষের জীবনের দু’টি দিক। একটি হলো- মানুষের শরীর বা অবয়ব। অন্যটি হলো- আত্মা বা রূহ। বর্তমান তথ্য-প্রযুক্তির যুগে একে কম্পিউটার যন্ত্রের সাথে তুলনা করা যায়। কম্পিউটারের যেমন দু’টি দিক রয়েছে- এক. হার্ডওয়্যার তথা বডি; দুই. সফটওয়্যার তথা বডিতে ধারণকৃত প্রোগ্রাম। তেমনি মানুষের শরীর হলো একটা হার্ডওয়্যার এবং এই হার্ডওয়্যারে ধারণকৃত সফটওয়্যারটি নাম হলো, রূহ বা আত্মা। একটি ভারসাম্যপূর্ণ জীবনের জন্য মানুষকে এই দু’টিরই সমান ও যথাযথ গুরুত্ব দিতে হয় এবং দু’টির জন্যই তার সুষম ও পৃষ্টিকর খাদ্যের ব্যবস্থা করতে হয়। অন্যথায় এর একটি অসুস্থ হলে অন্যটি স্ব^য়ংক্রিয়ভাবে নষ্ট হয়ে যায়। আমরা সবাই আমাদের হার্ডওয়্যার তথা শরীরের খাদ্য সম্পর্কে মোটামুটি জ্ঞান রাখি এবং এই খাদ্য সংগ্রহের জন্য রাত-দিন মাড়িয়ে যাই সর্বদা। কিন্তু সেই তুলনায় আমাদের সফটওয়্যার তথা রূহ বা আত্মার খাদ্যের চেষ্টা অনেকটা কদাচিৎ ও নগণ্য। ফলে বাইরে থেকে একজনকে সুঠাম ও সুস্বাস্থ্যের অধিকারী মনে হলেও তার মধ্যে বাস করে একটি মৃত বা অসুস্থ আত্মা। ফলে তার দেহখানি একখান অসাড় কলাগাছ। যার মধ্যে কোনো পরিপুষ্টতা নেই, নেই কোনো উপকারী পদার্থ।
মানুষের শরীরকে মাটি থেকে তৈরি করা হয়েছে। তাই আমাদের খাদ্য সব মাটি। অর্থাৎ মাটি থেকে উৎপন্ন খাদ্য আমাদের শরীরকে পরিপুষ্ট করে রাখে। আবার আমার মাটিতেই চলে যাব। মাটি থেকে আবার বের করে আনা হবে। আল্লাহর এই সাইকেল অনন্তকাল ধরে চলছে, চলবে। এই প্রবন্ধে আপাতত বডি তথা শরীরকে বাদ দিয়ে আত্মার সুষম খাদ্যের একটি তালিকা দেয়ার চেষ্টা করা হবে ইনশা আল্লাহ।
আল্লাহ তায়ালা বলেন, ‘তিনিই তো সেই সত্তা যিনি তোমাদেরকে মাটি থেকে সৃষ্টি করেছেন। তারপর শুক্র থেকে। তারপর রক্তের পিণ্ড থেকে। অতঃপর তিনি তোমাদেরকে শিশুর আকৃতিতে বের করে আনেন। এরপর তিনি তোমাদের বৃদ্ধিপ্রাপ্ত করেন যাতে তোমরা নিজেদের পূর্ণ শক্তিতে উপনীত হতে পারো। তারপর আরো বৃদ্ধিপ্রাপ্ত করেন যাতে তোমরা বৃদ্ধাবস্থায় উপনীত হও। তোমাদের কাউকে আগেই ফিরিয়ে নেয়া হয়। এসব কাজ করা হয় এ জন্য যাতে তোমরা তোমাদের নির্ধারিত সময়ের সীমায় পৌঁছতে পারো এবং যাতে প্রকৃত সত্য উপলব্ধি করতে পারো।’ (সূরা আল মুমিন-৬৭)
আয়াতে জীবনের এসব পর্যায়ের মধ্য দিয়ে আমাদেরকে অতিক্রম করানোর কারণ এ নয় যে, আমরা পশুর মতো জীবনযাপন করব এবং পশুর মতো মরব। বরং এসব পর্যায় অতিক্রম করানো হয় এ জন্য যে, আল্লাহ আমাদেরকে যে জ্ঞান দিয়েছেন তা কাজে লাগাব।
আত্মা। আত্মা হলো রবের আমর বা হুকুমমাত্র। কাজেই আত্মার খাদ্য আসে রবের ইবাদতের মাধ্যমে রবের কাছ থেকে। তাই আত্মাকে সজীব ও সতেজ রাখার জন্য আমাদের দৈনন্দিন নিম্নের কাজগুলো আঞ্জাম দিতে হবে। মনে রাখতে হবে, আত্মার খাদ্য গ্রহণের জন্য বৈরাগ্য বা সন্ন্যাসী হওয়া যাবে না। বরং সমাজ সংসারের বিশাল চারণভূমিতে জীবনের পদচারণায়, শয়নে-স্বপনে, প্রকাশ্যে-নির্জনে, দিনে ও রাতে জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে প্রতিটি কার্য সম্পাদনে বা কোনো বক্তব্য পেশকালে আল্লাহর হুকুমকে পর্যালোচনা করা হলেই আত্মার খাদ্য গ্রহণ করা হবে। অর্থাৎ দুনিয়া ও আখিরাতের সাফল্য কোন পথে তা তন্ন তন্ন করে অনুসন্ধান করা সূক্ষ্ম দৃষ্টিতে অবলোকন করা। যিনি তার ভেতর ও বাইরে কোন কোন জিনিস সাফল্যের পথে বাধার সৃষ্টি করে তা প্রথমে চিহ্নিত করেন এরপর যথাসাধ্য নিয়ন্ত্রণ বা বাগে আনার চেষ্টা চালান। আর এর জন্য কোনো বিরানভূমি বা গভীর অরণ্যে নয় বরং সমাজ সংসারই হলো এর উপযুক্ত ক্ষেত্র। সমাজ-সংসারের অসংখ্য ঘাত-প্রতিঘাত মোকাবেলা করে আল্লাহর পথে টিকে থাকার পরীক্ষাই যার হলো না, তিনি আবার আত্মশুদ্ধি করেন কিভাবে? তাছাড়া যিনি এ আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে আধ্যাত্মিকতা হাসিল করবেন তিনি অবশ্যই এমন ব্যক্তি হবেন যিনি সর্বাবস্থায় আল্লাহ ও মানুষের অধিকারকে আল্লাহরই ভয়ে সংরক্ষণ করবেন। যার হৃদয় বিশ্ব মানবতার দুরবস্থা দেখে কেঁদে উঠবে। বিশ্বের যেকোনো নিভৃত কোণে কোনো একজন মুসলিমের গায়ে আঘাত লাগার সাথে সাথে তার গায়ে সে আঘাত অনুভূত হবে এবং এ দুরবস্থা থেকে মানবতাকে মুক্তিদানের চিন্তা-চেতনা তার অন্তরকে অস্থির করে তুলবে। এটিই হলো সুস্থ সবল আত্মার পরিচয়। আত্মার খাদ্যের জন্য নিম্নের কাজগুলো নিয়মিত করা উচিত।
কুরআন ও সুন্নাহর অধ্যয়ন : বেশি বেশি কুরআন ও হাদিস অধ্যয়ন করা এবং এই অধ্যয়ন বুঝে অর্থ অনুধাবন করে পড়তে হবে। জ্ঞান হলো আত্মার খোরাক। কারণ জ্ঞানের পরিধি যত বিস্তৃতি লাভ করবে, আল্লাহর ভয় তত বেশি বৃদ্ধি পাবে। আর সেই জ্ঞান হলো- তাওহিদ, আল্লাহর ক্ষমতা, আল্লাহর গুণাবলি, রিসালাত ও আখিরাতের জ্ঞান। যে ব্যক্তি আল্লাহর গুণাবলির ব্যাপারে যত বেশি অজ্ঞ হবে সে তার ব্যাপারে তত বেশি নির্ভীক হবে। পক্ষান্তরে আল্লাহর শক্তিমত্তা, জ্ঞান প্রজ্ঞা ও বিজ্ঞানময়তা, ক্রোধ, পরাক্রম সার্বভৌম কর্তৃত্ব ক্ষমতা ও অন্যান্য গুণাবলি সম্পর্কে যে ব্যক্তি যত বেশি জানবে সে তত বেশি তার নাফরমানি করতে ভয় পাবে।
মানবতার কল্যাণ করা : আল্লাহর রহমত, বরকত ও আত্মার আনন্দের জন্য মানুষের প্রতি কল্যাণ ও উপকারের হাত বাড়িয়ে দেয়া। মানুষের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠা করা, অসুস্থকে দেখতে যাওয়া, সেবা করা, বিপদে পড়লে উদ্ধার করা, মাজলুমকে সাহায্য করা, কাফন-দাফনে অংশগ্রহণ করা ইত্যাদি সমাজকল্যাণমূলক কাজে নিজেকে সম্পৃক্ত করলে আত্মার প্রশান্তি বেড়ে যায়।
হিংসামুক্ত কল্যাণ কামনা করা : হৃদয়কে বিদ্বেষ, হিংসা ও অন্যের অকল্যাণ কামনা থেকে মুক্ত রাখা। হিংসামুক্ত আত্মা পরোপকারী ও অন্যের কল্যাণকামী হয়। মুসনাদে আহমাদে রাসূলুল্লাহ সা: এ ধরনের ব্যক্তিকে জান্নাতের সুসংবাদ দিয়েছেন। অন্য হাদিসে আনাস রা: বলেন, রাসূলুল্লাহ সা: আমাকে বলেন, ‘বেটা! যদি পারো তবে এমনভাবে সকাল-সন্ধা পার করো যে, তোমার হৃদয়ে কারো প্রতি কোনো বিদ্বেষ বা অকল্যাণের ইচ্ছা নেই। সম্ভব হলে এরূপ চলবে, কারণ এরূপ চলা আমার সুন্নতের অন্তর্ভুক্ত। আর যে আমার সুন্নতকে জীবিত করল, সে আমাকে ভালোবাসল। আর যে আমাকে ভালোবাসবে সে আমার সাথে জান্নাতে থাকবে।’ ইমাম তিরমিজি হাদিসটিকে সহিহ বলেছেন।
আত্মনিয়ন্ত্রণ ও ধৈর্যধারণ করা : ধৈর্য মুমিন জীবনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ও ঈমানের অন্যতম অংশ। ধৈর্য বলতে নিষ্ক্রিয় নির্জীবতা বুঝানো হয় না। বরং সক্রিয় আত্মনিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা বোঝায়। পারিপার্শ্বিক অবস্থা বা অন্যের আচরণ দ্বারা নিজের আচরণ প্রভাবিত না করে নিজের স্থির সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে নিজেকে পরিচালিত করার ক্ষমতা। ইসলামী দৃষ্টিতে ধৈর্য তিন প্রকার- এক. বিপদ-আপদ ও কষ্টে ধৈর্য; দুই, পাপ ও লোভ থেকে ধৈর্য এবং তিন. ক্রোধের মধ্যে ধৈর্য। ধৈর্যশীলদের সাথে আল্লাহ থাকেন।
হতাশা বর্জন ও আল্লাহর ওপর ভরসা করা : আল্লাহর রহমত থেকে নৈরাশ্যই হতাশা ও উৎকণ্ঠার মূল কারণ। এটি পাপ। এ জন্য হাদিসে বারবার এগুলো থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনার শিক্ষা দেয়া হয়েছে। আল-কুরআনে আল্লাহর রহমত থেকে বঞ্চিত হতে নিষেধ করা হয়েছে। মানুষের মনে আল্লাহর ওপর আস্থা যত গভীর হয় আত্মা বা মানসিক শক্তি ও স্থিরতা ততই বৃদ্ধি পায়। নিয়মিত আল্লাহর ইবাদত, কুরআন-সুন্নাহ অধ্যয়ন ও আল্লাহর স্মরণ হতাশা ও নৈরাশ্য দূরীভূত করে।
কৃতজ্ঞতা ও সন্তুষ্টি : আমাদের জীবনে অগণিত নিয়ামত রয়েছে। আবার কষ্টও রয়েছে। আমাদের একটি বড় দুর্বলতা হলো- আনন্দের কথা তাড়াতাড়ি ভুলে যাই আর কষ্ট বেদনাকে জিইয়ে রাখি। আত্মার পরিপুষ্টতার জন্য এই দুর্বলতা কাটাতে হবে। সর্বদা ইতিবাচক হতে হবে। আত্মতুষ্টির জন্য রাসূলুল্লাহ সা:-এর নিচের হাদিসটি মনে রাখতে হবে। ‘সম্পদে, শক্তিতে তোমাদের চেয়ে উত্তম কারো দিকে যখন তোমাদের দৃষ্টি পড়বে, তখন সে যেন তার চেয়ে খারাপ অবস্থায় নিমজ্জিত ব্যক্তির দিকে দৃষ্টি দেয়।’ (বুখারি, কিতাবুর রিকাক)
নির্লোভ : সচ্ছলতা, অসচ্ছলতা, সম্মান ও অসম্মান সর্বাবস্থায় স্থিতিশীল রাখা। আল্লাহ যখন যে অবস্থায় রাখবেন তখন সে অবস্থায় বান্দা তার দায়িত্ব পালন করবে। সম্পদ বা প্রতিপত্তি থাকলে তা দিয়ে আখিরাতের ঘর তৈরি করবে। সম্পদ বা প্রতিপত্তি না থাকলে তাতেই বান্দা আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করবে। সম্পদ বা প্রতিপত্তির লোভ যেন কাউকে অন্ধ না করে।
সুন্দর আচরণ : উত্তম আচরণ প্রকৃত মুসলিমের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। সবার সাথে উত্তম ও শোভনীয় আচরণ করা আল্লাহর প্রিয় ইবাদাতগুলোর অন্যতম। কিয়ামতের দিন কর্মবিচারের পাল্লায় সবচেয়ে ভারী ও মূল্যবান কর্ম হবে সুন্দর আচরণ।
আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের সা: ভালোবাসা : আল্লাহ ও তাঁর রাসূল সা:-কে অন্য সব কিছু এবং নিজের জীবনের চেয়েও বেশি ভালোবাসা। আল্লাহ ও তাঁর রাসূলকে ক্রমাগত জীবনের শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করা পর্যন্ত ভালোবাসা ঈমানের অঙ্গ। এই ভালোবাসা দ্বারা আত্মার খোরাক সৃষ্টি হয়, আত্মা সর্বদা পুষ্ট ও সতেজ থাকে।
আল্লাহর জিকির : জেনে বুঝে মনের আবেগ মিশিয়ে সকাল-সন্ধ্যা ছাড়াও সার্বক্ষণিক আল্লাহর জিকির তথা আল্লাহকে স্মরণ করা। এটি আত্মার বিশাল খাদ্যভাণ্ডার। আত্মা সুস্থ ও সবল রাখার জন্য রাসূলুল্লাহ সা:-এর সুন্নাহ মোতাবেক নিজেকে আল্লাহর জিকিরে রত রাখতে হবে।


আরও খবর



কুমিল্লায় পুরুষের চেয়ে নারীর সংখ্যা ৪ লাখ বেশি

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ০৪ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ১৯ জুলাই ২০২৪ |

Image



বিডি টুডেস রিপোর্ট:


কুমিল্লা জেলায় জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার বেড়েছে। জেলায় বার্ষিক জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার ১.২৭ এবং জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ১ হাজার ৯৭৪ জন।



 জনসংখ্যার মধ্যে পুরুষের চেয়ে মহিলা চার লাখের বেশি। জেলায় মোট পুরুষ ২৯ লাখ ৩৭১ জন, মহিলা ৩৩ লাখ ১১ হাজার ৫৮০ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গ ২৫৬ জন। 


জেলার জনশুমারি ও গৃহগণনার রিপোর্টটি তুলে ধরেন জেলা পরিসংখ্যান ব্যুরোর উপপরিচালক মোঃ হাবিবুর রহমান। বাংলাদেশের প্রথম ডিজিটাল জনশুমারি ও গৃহগণনা এটি।এতে কুমিল্লার জনসংখ্য৬২ লাখ ছাড়িয়েছে।



এ বিষযে জেলা প্রশাসক খন্দকার মু. মুশফিকুর রহমান বলেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশ পরিচালনায় প্রশাসনিক কার্যক্রমে গতিশীলতা আনয়নে বিভিন্ন সময়ে আইনের পরিবর্তিত নতুন বিধিমালা জারি করেন। যা ২০১৩ সালে আদমশুমারি নাম বাদ দিয়ে জনশুমারি করা হয়েছে। 


তিনি বলেন, জনসেবা প্রদানের মধ্যে সঠিক তথ্য নির্ভর করার লক্ষ্যে সঠিকভাবে শুমারির প্রয়োজন। দেশের ও সমাজের উন্নয়ন অগ্রগতির লক্ষ্যে এলাকাভিত্তিক সার্বিক শুমারি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। 



জেলার সকল সরকারি কর্মকর্তাদের জনকল্যাণে ২০২২ সালের জনশুমারির রিপোর্ট অনুসরণ করে সেবা দানের কার্যক্রম গহণের আহ্বান জানান তিনি।



জনশুমারির রিপোর্ট বলা হয়েছে, সাক্ষরতার হার জাতীয় সাক্ষরতার হারের চেয়ে বেশি। জেলা সাক্ষরতার হার ৭৬.৬৮ এবং জাতীয় সাক্ষরতার হার ৭৪.৮০। 


জেলায় মোট ৮৮.৮৫% খানার নিজস্ব বাসগৃহে বসবাস করে। ৯% খানা ভাড়া বাসায় বসবাস করে যাদের অন্যত্র নিজস্ব বাসগৃহ আছে এবং ১.৩৬ শতাংশ খানা ভাড়া  বাসায় বসবাস করে যাদের কোন নিজস্ব বাসগৃহ নেই এবং ০.৩৩ পার্সেন্ট লোক বিনা ভাড়ায় বসবাস করে যাদের অন্যত্র নিজস্ব বাসগৃহ আছে। 


প্রকাশিত রিপোর্ট মোতাবেক জেলায় পাঁচ বছর ও তদুর্ধ বয়সীদের মধ্যে ৫৮.৫৮ শতাংশ মানুষের নিজস্ব ব্যবহারের মোবাইল ফোন রয়েছে এবং ৪০.২৬ শতাংশ লোক ইন্টারনেট ব্যবহার করে। 


জেলার জনশুমারি ও বসবাসকারী ১২ লাখ ৬৯ হাজার ২৮০ জন এবং পল্লী এলাকায় বসবাসকারী ৪৯ লাখ ৪২ হাজার ৯৩৬ জন। এছাড়া জেলায় ধর্মভিত্তিক জনসংখ্যার হার মুসলমান ৯৫.৫৬, হিন্দু ৪.৩৩, বৌদ্ধ ০.০৯, খ্রিস্টান ০.০১ এবং অন্যান্য ধর্মের হার ০.০০৩। বাসস।


আরও খবর



থমথমে পরিস্থিতি জাবি ক্যাম্পাসে

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১৬ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ২০ জুলাই ২০24 |

Image

নিজস্ব প্রতিবেদক::


কোটা সংস্কারের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছাত্রলীগের দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া ও সংঘর্ষে উত্তাল হয়ে ওঠা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ক্যাম্পাসে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। মঙ্গলবার (১৬ জুলাই) সকালে বিশ্ববিদ্যালয় এলাকা ঘুরে এমন পরিস্থিতি দেখা যায়। এর আগে সোমবার সন্ধ্যায় বটতলায় কোটা আন্দোলনকারী ও ছাত্রলীগের মধ্যে সংঘষ হয়। এরপর রাত ৯টার দিকে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক মো. নূরুল আলমের বাসভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। এর ঘণ্টা দেড়েক পর উপাচার্য তার বাসা থেকে বেরিয়ে এসে হামলার ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করে বিচারের আশ্বাস দেন। কিন্তু তাতে আশ্বস্ত হতে না পেরে আন্দোলনকারীরা উপাচার্যের বাসভবনের সামনেই অবস্থান করেন।



জানা যায়, মধ্যরাতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের ভিসি ভবনের সামনে কোটাসংস্কার আন্দোলনকারীরা অবস্থান নেন। পরে সেখানে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সঙ্গে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ার শেল নিক্ষেপ করে।

পরে, রাত আড়াইটার দিকে বিভিন্ন হল থেকে কয়েক’শ শিক্ষার্থী মিছিল নিয়ে এসে ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের ধাওয়া দিয়ে ছত্রভঙ্গ করে দেয়।


শিক্ষার্থীরা জানান, আমাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে অতর্কিতভাবে হামলা করা হয়। হামলাকারীরা হেলমেট পড়ে ছিল ও হাতে ধারালো অস্ত্র ছিল। তারা পেট্রলবোমা ছুড়ে। আমরা উপাচার্যের বাসভবনের ভেতরে আশ্রয় নিলে আমাদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ছোড়া হয়।


এ দিকে সোমবার (১৫ জুলাই) রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কোটা সংস্কার ও আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার বিচারের দাবিতে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন মঙ্গলবার বিকেলে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশের ডাক দিয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় আন্দোলনের অন্যতম সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এ ঘোষণা দেন।


তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদ এবং কোটা সংস্কারের এক দফা দাবিতে মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় সারা দেশের ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল এবং সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে। 


বিক্ষোভ মিছিলে গণজমায়েত তৈরির জন্য দেশের সাধারণ মানুষকেও অংশ নেয়ার আহ্বান জানান তিনি।


নাহিদ বলেন, ‘বৃহত্তর গণআন্দোলনের দিকে আমাদের যেতে হবে। কারণ, এই আন্দোলন এখন শুধু আর ছাত্রদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নাই। এতে যখন সরকারের সর্বোচ্চ জায়গা থেকে পরিকল্পিতভাবে উসকানি দিয়ে দমনের চেষ্টা করা হয়েছে; সাধারণ মানুষকে এই আন্দোলনে নেমে আসতে হবে।’




আরও খবর



গাজা সিটি ছাড়ার নির্দেশ ইসরাইলি বাহিনীর

প্রকাশিত:বুধবার ১০ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ২০ জুলাই ২০24 |

Image

এবার গাজা সিটি ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে ইসরাইলের সামরিক বাহিনী (আইডিএফ)। বুধবার (১০ জুলাই) সকালে লিফলেট ফেলে ওই নির্দেশ দেয়া হয়।

টাইমস অফ ইসরাইলের খবরে বলা হয়, আইডিএফ জানিয়েছে, আজ বুধবার সকালে লিফলেট ফেলে নির্দেশ দেয়া হয়েছে, যেন গাজা সিটির বেসামরিক নাগরিকরা অন্যত্র চলে যায়। এক্ষেত্রে মধ্য গাজার দেইর আল বালাহ শরণার্থী শিবিরকে প্রাধান্য দেয়া যেতে পারে।

নির্দেশনাতে বলা হয়, বেসামরিক নাগরিকরা যেন উপকূলীয় কোনো সড়ক বা সালাহ উদ্দিন সড়ক ব্যবহার করে অন্যত্র যায়। এ সড়কগুলো নিরাপদ থাকবে।

লিফলেটে গাজা সিটিকে বিপজ্জনক যুদ্ধ অঞ্চল হবে বলে সতর্কও করা হয়।

সম্প্রতি আইডিএফ গাজা শহরের বেশ কয়েকটি এলাকায় সরে যাওয়ার সতর্কতা জারি করেছে। কারণ সৈন্যরা এর পশ্চিম এবং দক্ষিণ পার্শ্ববর্তী এলাকাগুলোর পাশাপাশি পূর্ব শেজাইয়া পাড়ায় অভিযান চালাচ্ছে।

উল্লেখ্য, এর আগেও বিভিন্ন শহর খালি করার জন্য আইডিএফ এভাবে লিফলেট ফেলে নির্দেশ দিয়েছিল।


আরও খবর



চিলমারীতে পানিতে ডুবে এক শিশুর মৃত্যু

প্রকাশিত:রবিবার ১৪ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ২০ জুলাই ২০24 |

Image
চিলমারী, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি::

কুড়িগ্রামের চিলমারীতে পানিতে ডুবে লাবনী নামের (১৪) এক শিশুর মৃত্যু হয়েছে। আজ রবিরার (১৪ই জুলাই) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার, রমনা ইউনিয়নের শরীফের হাট (খন্দকার পাড়া) এলাকায় এ ঘটনা ঘটেছে।

নিহত লাবনী শরীফের হাট (খন্দকার পাড়া) এলাকার লাল মিয়ার মেয়ে। ৪ ভাই বোনের মধ্যে লাবনী সবার আদরের ছোট বোন ছিলেন। জানা গেছে, আজকে দুপুরে পরিবারের অগোচরে শিশু লাবনী কলা গাছের ভুরায় (ভেলায়) চরে দাদার বাসা যাওয়ার সময় পানিতে পড়ে যায়।পরবর্তীতে তাকে সব জায়গায় খুঁজে না পাওয়ায়, আত্মীয়-স্বজনরা খোঁজা-খুঁজির এক পর্যায়ে, স্থানীয় আব্দুল খালেক দুপুর ২টার সময় শিশু লাবনীর লাশ পানিতে ভাসতে দেখে এবং তার বাবা মাকে খবর দিলে তারা এসে লাশ উদ্ধার করেন। পরে বাদ আসর শরীফের হাট সুইচ গেট সংলগ্ন বাঁধের রাস্তায় তাকে দাফন করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে ৪নং রমনা মডেল ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড সদস্য মোঃ শফিকুল ইসলাম জানান, শিশুটির মৃত্যুর খবর জানতে পেরেছি। কলা গাছের ভুরায় (ভেলায়) চরে দাদার বাড়ি যাওয়ার সময় পানিতে পড়ে তার মৃত্যু হয়েছে। পরে তাকে দাফন করা হয়েছে বলে জানা তিনি।

আরও খবর



বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে

প্রকাশিত:বুধবার ০৩ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ২০ জুলাই ২০24 |

Image

বন্যায় পুরোপুরি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে সুনামগঞ্জও চরম প্রতিকূল এই পরিস্থিতির মধ্যে সিলেটবাসীর জন্য আরও দুঃসংবাদ নিয়ে এসেছে আবহাওয়া পূর্বাভাসের বিভিন্ন মডেল 

কানাডার সাসকাচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া জলবায়ু বিষয়ক পিএইচডি গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ জানান, আগামী তিন দিনে সিলেটের বন্যার চরম অবনতির প্রবল সম্ভাবনা নির্দেশ করছে আবহাওয়া পূর্বাভাসের মডেলগুলো। এসব মডেল প্রায় ৮০ থেকে ৯০ ভাগ নির্ভুল তথ্য দিয়ে থাকে

তিনি বলেন, আগামী তিন দিনে সিলেট সুনামগঞ্জ জেলার সীমান্তবর্তী মেঘালয় পর্বত এলাকায় ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের মডেল অনুসারে প্রায় ৬০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। আমেরিকান মডেল বলছে প্রায় ৫০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হতে পারে। তবে যুক্তরাজ্যের মডেলের পূর্বাভাস আরও ভয়াবহ, সেটি বলছে প্রায় ১১০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যদিকে ফ্রান্সের মডেল অনুসারে প্রায় ৬৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে

এদিকে ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তরের (আইএমডি) বরাত দিয়ে হিন্দুস্তান টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের চেরাপুঞ্জি বিশ্বের সবচেয়ে বৃষ্টিপ্রবণ এলাকা। গত ২৪ ঘণ্টায় সেখানে ৯৭২ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে ,

আর গত তিন দিনে সেখানে প্রায় আড়াই হাজার মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এটিও গত ২৭ বছরের মধ্যে তিন দিনে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টিপাতের রেকর্ড। ভারতের আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস বলছে, চেরাপুঞ্জিতে আগামী ২৪ ঘণ্টায় আরও ৫৫০ মিলিমিটার বৃষ্টি হতে পারে। অন্যদিকে দেশের উত্তরাঞ্চলের প্রধান নদী তিস্তা ব্রহ্মপুত্র নদের পানি দ্রুত বাড়ছে। এরই মধ্যে তিস্তা অববাহিকার চারটি জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যার পানি প্রবেশ করেছে

বন্যা পূর্বাভাস সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী বলেন, দেশের একটি বিভাগের প্রায় ৮০ শতাংশ ডুবে যাওয়ার মতো বন্যা এর আগে বাংলাদেশে হয়নি। সিলেটে এর আগে যত বন্যা হয়েছে, তা মূলত হাওর এলাকা এর পার্শ্ববর্তী এলাকার মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু এবার গ্রাম, শহর উঁচু এলাকাও পানির নিচে চলে গেছে। আর সোমবারের আগে এই পানি নামার সম্ভাবনা কম। কারণ, উজানে আগামী দুই দিন অতিভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস আছে

এদিকে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় সিলেট বিভাগের বেশির ভাগ এলাকার যোগাযোগব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। টেলিফোন নেটওয়ার্ক অকার্যকর হয়ে গেছে। অনেক স্থানে বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র বৈদ্যুতিক খুঁটি তলিয়ে যাওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ভয়াবহ বন্যায় সিলেট-সুনামগঞ্জ সড়ক তলিয়ে গেছে। সারা দেশের সঙ্গে সুনামগঞ্জের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। অবস্থায় সিলেট সুনামগঞ্জের প্রায় পৌনে দুই লাখ গ্রাহক বিদ্যুৎহীন রয়েছেন। শুক্রবার দুপুরে বিদ্যুৎ বিভাগের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন


আরও খবর

রাজধানীর সেতু ভবনে আগুন

বৃহস্পতিবার ১৮ জুলাই ২০২৪