Logo
শিরোনাম

সুফিবাদ ও ইসলাম

প্রকাশিত:রবিবার ২৪ জুলাই ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ০৬ অক্টোবর ২০২২ |
Image

 মাজহারুল ইসলাম মাসুম. সিনিয়র সাংবাদিক, লেখক, ও গবেষক :   মুহাম্মদ ইকবাল তার ইসলামী ধর্মীয় চিন্তার পুনর্গঠন শীর্ষক রচনায় ইসলাম ধর্মের প্রাসঙ্গিকতা, গতিশীলতা- এর ইতিহাস এবং ধর্মীয় অভিজ্ঞতা তথা এর মর্মকথা ব্যক্ত করতে গিয়ে এই ধর্মতত্ত্বের সাথে আধুনিক বিজ্ঞান ও দর্শনের সংঘাত এবং ঐক্যকে খোঁজার চেষ্টা করেছেন। মনুষ্যজাতির সামাজিক ও রাজনৈতিক সংঘাতের আলোকে, নানা তত্ত্ব। জিজ্ঞাসার মধ্যে ধর্মবোধ এবং এর প্রয়োগ কতটুকু সম্ভব এমন প্রশ্ন রেখেছেন। তিনি যেমন ইসলামের মরমীবাদকে অনুভবের চেষ্টা করেছেন, তেমনি নানা ধর্মতত্ত্বের ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ পর্যালোচনা করার চেষ্টা করেছেন। এ প্রেক্ষিতে তিনি জনৈক মুসলিম সুফির বক্তব্যের উদ্ধৃতি দিয়ে বলেছেন, পবিত্র কুরআনকে সে-ই সত্যিকার অর্থে বুঝতে পারবে যে কিনা কোরআন অবতীর্ণ হওয়ার প্রেক্ষিত এবং তার আদিরূপ অনুভব করতে পারবে। মূলত নানামুখী লোভ ও স্বার্থচিন্তার সাথে ধর্মচিন্তার সংশ্লেষণটি কঠিন হওয়ার কারণেই নানা বিতর্কের সূচনা।

লেখক মনে করেন সামাজিক বিশৃঙ্খলার আবর্তে নানা ধর্মের মত ও সংঘাতের প্রেক্ষাপটে কোরআনের প্রয়োজনীয়তা অতীব গুরুত্বপূর্ণ ছিল ওই গ্রন্থের অবতীর্ণ হওয়ার সময়টাতে। সকল শান্তি ও শৃঙ্খলার প্রেক্ষাপটে ভেদজ্ঞান নিরসন ও শান্তি স্থাপনের আলোকে এর মর্মকথার গুরুত্ব সব সময়ের জন্য প্রযোজ্য। চূড়ান্ত গোঁড়ামি ও শ্রেষ্ঠত্বের অহংকারে নিমজ্জিত ইহুদি ও কর্তৃত্ববাদী রোমানদের আঘাতে যিশু ও উদীয়মান খৃস্টানগণ যখন ছিন্নভিন্ন হচ্ছে, যিশুর প্রেম ও করুণাধারায় সিক্ত মানবতাবাদী ধর্ম যখন বিত্তবানদের করায়ত্বে এসে পথহারা হচ্ছে, তখনই ইসলামের আবির্ভাব। কেবল পথভ্রষ্ট এবং উচ্ছৃঙ্খল আরবদের পথ দেখাবার জন্য নয়, বেপথু খৃস্টানদের পথের সন্ধান দিতে, দিকভ্রান্ত চিন্তা এবং অহং এ নিমজ্জিত ইহুদিগনকে একক বিশ্বাসে আনবার জন্য, একটি ধর্মীয় ইন্টিগ্রেশন প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ইসলামের আবির্ভাব হয়।

প্রাচীন গসপেলে জন মানবভাতৃত্বের কথা ব্যক্ত করেছিলেন। হজরত মোহাম্মদ (সা.) ওই আচরণটিকে অধিকতর মানবিক এবং প্রায়গিক করেছেন। তিনি বিজ্ঞান এবং সামাজিক শৃঙ্খলাকে ধর্মের অঙ্গ করেছেন। অতিশুদ্ধ ধর্মাবতার চরিত্রের সাথে প্রকৃত জ্ঞানী সমাজসংস্কারক চরিত্রের অপূর্ব সমন্বিত রূপের প্রকাশ ছিল হজরত মোহাম্মদ (সা.) এর চরিত্রে। বোধ এবং সামরিক জ্ঞানের এমন সমন্বয় হয়ত কারও মাঝে প্রকাশিত হয়নি। ধর্মীয় উদ্দেশ্য, রাজনৈতিক স্বার্থ তথা সামগ্রিক মানবকল্যাণ ও শান্তিকে তিনি এক পাতায় আনতে পেরেছিলেন তার অসামান্য চরিত্র ও মেধাগুণে। তার অবর্তমানে ইসলাম তার বিজয়ধারা অক্ষুণ্ণ রাখলেও অহংবোধ ও স্বার্থচিন্তার আবর্তে পরে মূল ধর্মচিন্তা ও স্রোত থেকে অনেকটা সরে যায় এর প্রবক্তাগণ। ব্যাখ্যাগত দুর্বলতায় আক্রান্ত হলেও খ্রিস্টধর্মের মতো গুরুতররূপে শিকড়বিচ্যুত হয়নি ইসলাম।

এক্ষেত্রে, লেখক মনে করছেন, শুরু থেকে ইসলামে নানামুখী চিন্তা প্রাধান্য পেলেও এক পর্যায়ে তা দুটি ধারায় বিভক্ত হয়ে যায়। একপক্ষে থাকেন কর্তৃত্ববাদী ধর্ম এবং এর স্থূল তথা কট্টর ব্যাখ্যার প্রবক্তা বলে পরিচিত ইমাম গাজ্জালি ও ইমাম হানিফা প্রমুখ, অন্যপক্ষে থাকেন ইবনে রুশদ এবং তার অনুসারীগণ। শাক্ত ও সুযোগসন্ধানীগণ এই কট্টরদের ওপর সওয়ার হয়ে ইসলামের সাম্যবাদে কুঠারাঘাত করে। শুরু হয় বিরুদ্ধ স্রোত ইসলাম যা সমর্থন করেনা সেই রাজার রাজত্ব।

একেবারে ইসলামের শুরুতে যখন ইসলামী চিন্তাবিদগণ গ্রিকদর্শনসহ অন্যান্য দর্শন ও বিজ্ঞান পরীক্ষা করছিলেন এবং ওইসব দর্শন ও বিজ্ঞানের উৎকর্ষ সাধনের চেষ্টা করছিলেন, সে সময় ইমাম গাজ্জালি একটি গ্রন্থ প্রণয়ন করেন যার নাম ছিল তাহফাতে ফালাসিফা যার অর্থ হলো  ওই পর্যায়ে ইবনে রুশদের ধারণা স্পেন ও ইউরোপে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে। বিশেষ করে, ৬২২ খৃস্টাব্দে হজরত মোহাম্মদ (সা.) এর মৃত্যুর পর, ৬৩৪ খৃস্টাব্দে একদিকে যেমন সিরিয়া বিজয় নিশ্চিত হয়, তেমনি ইসলামী চিন্তার আধিপত্য সিরিয়া অতিক্রম করে তুর্কিস্থান হয়ে ইউরোপমুখী হয়, অন্যদিকে, শিক্ষা, দীক্ষা, সংস্কৃতি, শক্তিতে বলবান পারস্য তা অতিক্রম করে ৬৩৭ খৃস্টাব্দে। পারস্য বিজয় সম্পূর্ণ হলে তা আফগানিস্তান ও হিন্দুকুশ পর্বতমালা অতিক্রম করে ভারতের মাটিতে আসে ৬৬৪ খৃস্টাব্দে। একইভাবে স্পেনের কনস্ট্যান্টিনোপল আক্রান্ত হয় ৬৬৯ খৃস্টাব্দে, মিশর পদানত হয় ৬৪২ খৃস্টাব্দে এবং প্রাচীন সভ্যনগরী কারথেজ পদানত হয় ৬৯৭ খৃস্টাব্দে। ৭১১ থেকে ৭১২ এর মধ্যে স্পেনের অধিকাংশ মুসলিমদের কব্জায় আসে, এরপর দক্ষিণ ইতালিসহ গ্রিসের সিসিলিও মুসলিমদের পদানত হয়। ৭৩২ খৃস্টাব্দ পর্যন্ত এই অভিযাত্রা অপ্রতিরোধ্য থাকে। ১৪৫৩ পর্যন্ত পূর্ব ইউরোপসহ পুরো এই অঞ্চলটি মুসলিমদের অধীনে থাকে।

লেখক মনে করেন- এই আগ্রাসন ও রাজ্য বিজয়ের মধ্যে একদিকে ইসলামী শিক্ষা ও সংস্কৃতিতে প্রাচীন উর ও মেসপটেমিয়ার সভ্যতার ছোঁয়া বিশেষ করে অংক, জ্যোতির্বিদ্যা ও জ্যামিতি শাস্ত্রের অনুপ্রবেশ ঘটে, তেমনি গ্রিকদের ন্যায়শাস্ত্র, তর্কশাস্ত্র ও দর্শনের অনুপ্রবেশ ঘটে। ধর্মবিস্তারের সাথে সাথে একদিকে রোমানদের রাজ্যশাসন এবং দিগ্বিজয়ের কৌশলটিও রপ্ত করে আরবগণ, অপরদিকে প্রাচীন সিরিয়া বা পারস্য সংস্কৃতির অনুপ্রবেশ ঘটে ইসলামের মাঝে।

এতে করে সুফি ও মরমীবাদের আসন স্থায়ীভাবে নিশ্চিত হয় ইসলামে। এই সুফিগণই প্রিয় মোহাম্মদ (সা.) এর অনুসারী হয়ে শুদ্ধ আত্মার অনুসন্ধানে ব্যাপ্ত হয়ে শুদ্ধতাচর্চায় নিমজ্জিত হয়। ঈশ্বরের সাথে একীভূত হয়ে শুদ্ধতার লক্ষ্যে পথচলা ও পথের আলোয় পথ দেখানোই সুফিবাদ। সুফিবাদে বিশ্বাসীগণকে সমষ্টিগত বলে আউলিয়া, যার অর্থ আল্লাহর কাছের মানুষ; ঈশ্বরাশ্রয়ী এক বন্ধু, যার আত্মার মাঝে দৃশ্যমান বিশ্ব এবং অলক্ষ্য, অজ্ঞাত, অনন্তের নিত্য খেলা।

এটি ইসলামী ঋষি সংস্কৃতিকেই প্রকাশ করে। সে অন্তরে যেমন ঈশ্বরের ছায়া ও শক্তি ধারণ করে, তেমনি ঈশ্বরের প্রতিভূর মনন ও শক্তি ধারণ করে। তিনি রাজা বা প্রভূ নন; তিনি শুদ্ধতার এক প্রেমময় প্রকাশ।

ইউরোপীয় এবং ইহুদি সম্প্রদায়গুলো স্পেনে বসবাস করায় ওই অঞ্চলটি একটি সাংস্কৃতিক রন্ধনশালায় পরিণত হয়। অর্থাৎ একে অপর থেকে গ্রহণ ও বর্জন করছিল ওই স্থানে, অনেকটা সহজ প্রক্রিয়ার মধ্যে। এভাবেই আরবদের নানা আবিষ্কার, জীবন ও দর্শন পাশ্চাত্যে শেকড় পায়। তবে, এটি ছিল সেই দর্শন যা ইবনে রুশদ প্রচার করেছিলেন। স্পেনে অবস্থানকারী সকল মুসলিম দার্শনিক ও পণ্ডিত যে ইবনে রুশদের সাথে একমত পোষণ করেছেন তা নয়।

ওই সময় রাজ্যবিজয় এবং রাজার রাজত্ব, রাজার স্বার্থ মুখ্য হয়ে ওঠে। এতে মূল ধর্মচিন্তা, ধর্মীয় স্বার্থ এবং মৌলিক দর্শন অনেক ক্ষেত্রে গৌণ হয়ে ওঠে। এ আলোকে মূলচিন্তার অনুসারীগণ আপন দর্শন বিস্তারে ভিন্ন পথ খোঁজেন। এরই ধারাবাহিকায় সুফি দার্শনিক মহীয়ুদ্দীন ইবনুল- আরাবি মন্তব্য করেন, আল্লাহ অনুভূতিস্বরূপ এবং দৃশ্যমান জগৎ একটি প্রত্যয় মাত্র। আরেকজন সুফিসাধক ইরাকির মতে স্থান ও কালের মাঝে অবস্থান বহু এবং বিচিত্র; ঐশীস্থান ইন্দ্রকালের অস্তিত্ব আছে এর মাঝে। এক্ষেত্রে ইকবাল বলেন, এমনও হতে পারে আমরা যাকে বাহ্যিক জগৎ বলি তা আমাদের বুদ্ধির সৃষ্টি, মানবিক বোধ ও অনুভূতির এমন আরও অনেক স্তর রয়েছে যা সম্পূর্ণ আলাদা স্থান ও কালের সাথে সামঞ্জস্য রক্ষা করে চলছে।

এক্ষেত্রে এটা স্পষ্ট যে, ধর্মীয় অনুভূতির মধ্যে যারা সত্য আবিষ্কারে আগ্রহী হবে তাদের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা ও অনুভূতির ওপর নির্ভর করতে হয়। লেখক মনে করেন যে, এসব বিষয়ে অপরকে সম্পূর্ণ জানা ও জানানো কখনোই সম্ভব নয়। মধ্যযুগীয় আধ্যাতিক সাধনা বা সনাতন সত্যজিজ্ঞাসা পদ্ধতি আদিম এবং মহাসত্য আবিষ্কারের পথে, এটি বিগ্ন বৈ কিছু নয়; তবে তিনি এটাও বলেন, সন্ধান নিরর্থক নয়।

লেখক নিজে মনে করেন, এ ধরনের চিন্তা চেতনার মধ্যে একটি তৃপ্তি ও শান্তি থাকলেও এর ভ্রান্তির চোরাবালি প্রগতিমুখী চিন্তা বা বিজ্ঞাননির্ভর চিন্তাকে বাধাগ্রস্ত করতে পারে। গভীরতম জ্ঞান ও মৌলিক আবিষ্কারের পেছনে চর্চিত পাঠ ও কগনিটিভ জ্ঞানের মতো বিভূতির ভূমিকা কম নয়।

মহাবিশ্ব তথা সকল সৃষ্টির শুরু শূন্য থেকে, ব্যাখ্যাতীত উৎস বা আধার থেকে উৎসারিত শক্তি থেকে। আর সে শক্তির পেছনে যদি ঈশ্বর বা স্রষ্টাকে অনুভব করি তার অর্থ দাঁড়াবে- তার হতে শুরু এবং সেখানেই পরিসমাপ্তি। আমরা আছি সেই যাত্রাপথে- নদীর স্রোতে। তিনি সকল কার্যকারণের নিয়ন্ত্রক, সকল কিছুর স্রষ্টা এবং বিনাশকর্তা।

সৃষ্টি, বিনাশ, কর্ম এবং কর্মফল সবকিছুর পেছনে রয়েছে কার্যকারণ। এই কার্যকারণের কিছু ব্যাখ্যা দিয়েছেন হজরত আব্দুল কাদের জিলানি, তাঁর ফতুহুল গায়েব গ্রন্থে। এসব কথা স্পষ্ট হয়েছে মাওলানা রুমীর অনবদ্য রচনাতেও।

পবিত্র কোরআনের আয়াতে বলা হয়েছে- ইয়া হাইয়্যু হিনা লা-হাইয়্যু ফীদাইমু মিয়্যাতি মুলকিহী ওয়া বাকাইহী ইয়া হাইয়্যু। অর্থাৎ- হে চিরজীবী (আল্লাহ)! যে সময় তোমার রাজত্বের স্থায়িত্বে ও অস্তিত্বে কিছুই বর্তমান ছিল না, সে সময়ও তুমি বর্তমান ছিলে; হে চিরজীবী।

এর মাঝে মহাবিশ্বের সৃষ্টি, বিস্তার, বির্বতন ও সময়ের প্রসারণের কথা বলা রয়েছে এটা অসাধারণ ইনট্যুইটিভ জ্ঞান তথা সত্যের প্রকাশ।

  


আরও খবর

তরিকা সমূহের বর্ণনা, তরিকা কি ?

শনিবার ০১ অক্টোবর ২০২২




ফুলবাড়িতে,জন্মপ্রতিবন্ধী মানিক মিয়া পা দিয়ে দিচ্ছেন এসএসসি পরীক্ষা

প্রকাশিত:শুক্রবার ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:বুধবার ০৫ অক্টোবর ২০২২ |
Image

উত্তম কুমার মোহন্ত ফুলবাড়ী,কুড়িগ্রামঃ

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী সদর ইউনিয়নের চন্দ্রখানা গ্রামের মোঃ মিজানুর রহমান এর ছেলে মানিক মিয়া( ৫)দুইহাত বিহীন জন্ম প্রতিবন্ধী। সে পা দিয়ে পিএসসি, জেএসসি পরীক্ষায় মেধা তালিকায  উত্তীর্ণের পর আজ ১৫(সেপ্টেম্বর) বৃহস্পতিবার বরাবরের মতো পা দিয়ে এসএসসি পরীক্ষা দিচ্ছে। পা দিয়ে লিখলেও অন্যান্য শিক্ষার্থীর তুলনায় তার লেখার প্রশংসা না করলে নয়।

মানিকের বাবা মোঃ মিজানুর রহমান পেশায় একজন ঔষধ ব্যবসায়ী,মা মোছাঃ মরিয়ম বেগম একটি স্কুল এন্ড কলেজের অধ্যাপিকা এই দুই দম্পতির বড়ছেলে মানিক মিয়া দুইহাত বিহীন জন্ম প্রতিবন্ধী।দুটি হাত নাকলেও পড়াশোনায় পিছিয়ে নেই সে। মহান সৃষ্টিকর্তা দুহাত বিহীন তাকে এমন মেধাবী করে তৈরি করেছে যে পরীক্ষার হলে অন্যান্য শিক্ষার্থীর চেয়ে পা দিয়ে দ্রুত লিখে সুন্দর ভাবে সকল প্রশ্নের উত্তর দিচ্ছে মানিক।আরো একটি অবাক বিষয় পা দিয়ে মোবাইল ফোন ব্যবহার করে বন্ধু বান্ধব,আত্নীয় স্বজনের সাথে দিব্বি কথা বলতে পারে।

অবাক বিষয় মানিক মিয়া পা দিয়ে কম্পিউটার টাইপ, ইন্টারনেট ব্রাউজার সহ-বিভিন্ন বিষয়ে  পারদর্শী। সে ২০১৬সালে ফুলবাড়ী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পিএসসিতে গোল্ডেন এ+প্লাস ২০২০সালে ফুলবাড়ী জছিমিয়া মল্ডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জেএসসি জিপিএ ৫ পেয়ে মেধা তালিকায় উত্তীর্ণ হয়েছেন।এজন্য মানিকের মা মরিয়ম বেগমের অবদান অনেক বেশি।কারণ একজন শিক্ষিত মা দিতে পারে একটি ভবিষৎত শিক্ষিত জাতি।

বৃহস্পতিবার ১৫(সেপ্টেম্বর)ফুলবাড়ী বালিকা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় এসএসসি পরীক্ষা কেন্দ্রে বাংলা পরীক্ষায় অংশ গ্রহণের সময় মানিকের সাথে কথা বলে জানা যায় ,আমার দুটি হাত না থাকলেও আল্লাহ রহমতে আমি পিএসসিতে গোল্ডেন এ+প্লাসপাই জেএসসিতে জিপিএ ৫ পেয়েছি আপনারা সবাই দোয়া করবেন এসএসসিতেও গোল্ডেন এ+ প্লাস পেয়ে কৃতকার্য হতে পারি।আমার ইচ্ছা ভালো রেজাল্ট করে প্রকৌশলী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশুনা করার।কারণ আমি কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার হয়ে বাবা মায়ের মুখ উজ্জ্বল করতে চাই।

মানিকের বাবা মিজানুর রহমান মা মরিয়ম বেগম বলেন,আমাদের দুই ছেলে মানিক বড় ছোট ফাহীম ৬ষ্ঠ শ্রেনীতে পরে। মানিকের জন্মথেকে দুটি হাত নেই কিন্তূ আমাদের তা মনে হয় না ছোট থেকেই তাকে আমরা পাদিয়ে লেখার অভ্যাস করিয়েছি। সমাজে অনেক সুস্থ ও স্বাভাবিক ছেলে মেয়েদের পড়াশুনার চেয়ে আমাদের মানিকের মেধা অনেক ভালো। আল্লাহর রহমতে পিএসসি,জেএসসিতে অনেক ভালো রেজাল্ট করেছে এটা আমাদের গর্ব। আপনারা সবাই দোয়া করবেন আমার ছেলেটা যেন সুস্থ সুন্দর ভাবে বেঁচে থাকে এবং পূর্বের ন্যায় এসে এসপি ভালো রেজাল্ট করতে পেরে তার মনের স্বপ্ন গুলো পূরণ করতে পারে।

ফুলবাড়ী জসিমিয়া মডেল সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবেদ আলী খন্দকার জানান, শারীরিক প্রতিবন্ধকতা থাকলেও মানিক অসাধারণ ছাত্র।সে আমাদের

সম্পদ সে ডান পায়ের বুড়ো আঙ্গুল দিয়ে কলম ধরে লিখে আর বা পায়ের আঙ্গুল দিয়ে প্রশ্ন ও খাতার পাতা উল্টায় এইভাবে লেখে সে বিগত পরীক্ষাগুলোতে ভালো রেজাল্ট করেছে। আমি দোয়া করি এসএসসি তে যেন ভালো রেজাল্ট করতে পারে এজন্য প্রান খুলে দোয়া করি।

ফুলবাড়ী বালিকা পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় পরীক্ষা কেন্দ্রে সচিব, মশিউর রহমান বলেন, মানিক প্রতিবন্ধী হলেও অন্যান্য শিক্ষার্থীর তুলনায় তার মেধা অনেক ভালো।তার বিগত পরীক্ষার রেজাল্ট অনেক ভালো,সে ব্রেঞ্চে বসে লিখতে পারেনা সেই জন্য তাকে চৌকিতে বসে পরীক্ষার ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়েছে নিয়ম অনুযায়ী তাকে বিশ মিনিট বাড়তি সময় দেওয়া সহ সকল সুবিধা দেওয়া হয়েছে। একটি অবাক বিষয় পা দিয়ে এত সুন্দর লেখা এটা আমার কাছে অদ্ভুত বিষয়। আমি দোয়া করি মানিক যেন পূর্বের ন্যায় ভালো রেজাল্ট করতে পারে বাবা মায়ের মুখ উজ্জ্বল করতে পারে। 


আরও খবর



করোনা টিকার মেয়াদ বাড়ল তিন দিন

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ০৪ অক্টোবর ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ০৬ অক্টোবর ২০২২ |
Image

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে চলমান প্রথম ও দ্বিতীয় ডোজের বিশেষ টিকা দান ক্যাম্পেইনের সময়সীমা আগামী ৮ অক্টোবর পর্যন্ত বৃদ্ধি করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

৩ অক্টোবর দুপুরে কোভিড-১৯ ভ্যাকসিনেশন বিশেষ ক্যাম্পেইন বিষয়ক এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবির।

আহমেদুল কবির বলেন, করোনার বিশেষ এই টিকাদান ক্যাম্পেইন আজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও সরকারি ছুটি ও লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়ায় আরও তিনদিন এই কর্মসূচি বাড়ানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক বলেন, আগামী ৪, ৬, ৮ তারিখ পর্যন্ত বাদ পড়া ব্যক্তিরা নির্ধারিত টিকা কেন্দ্রগুলোতে গিয়ে টিকা নিতে পারবেন।

এরইমধ্যে গত ছয়দিনে ১ কোটিরও বেশি মানুষ প্রথম, দ্বিতীয় ও বুস্টার ডোজ নিয়েছেন। এর মধ্যে প্রথম ডোজ দেওয়া হয়েছে ৬ লাখ ২ হাজার ৪৮ জনকে, দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয়েছে ১৫ লাখ ৪ হাজার ৬৩৮ জনকে। আর বাকি সব বুস্টার ডোজ দেওয়া হয়েছে।

আহমেদুল কবির বলেন, টিকাদানের কারণেই বর্তমানে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা কমেছে। তবে গত কয়েকদিনে সংক্রমণ কিছুটা বাড়লেও হাসপাতালে ভর্তির সংখা খুবই কম। এসব বিষয় চিন্তা করেই বাদ পড়াদের টিকার আওতায় আনতে নতুন করে আবারও বিশেষ টিকা দান ক্যাম্পেইনের সময় বাড়ানো হয়েছে।


আরও খবর

ভয়াবহ হচ্ছে ডেঙ্গু

মঙ্গলবার ০৪ অক্টোবর ২০২২

ডেঙ্গু নিয়ে ঢাকায় দিনে, ২৫ জন ভর্তি

শুক্রবার ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২




নারায়ণনারায়ণগঞ্জে সাজা প্রাপ্ত আসামীর বদলে ভিন্নব্যাক্তির কারাভোগ ;

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ০৬ অক্টোবর ২০২২ |
Image

 বুলবুল আহমেদ সোহেল :

নারায়ণগঞ্জে মাদক কারবারি জাকিরের বদলে অন্য একজন সাজা খাটতে গিয়ে কারাগারে শনাক্ত হওয়ার মতো চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে।  বুধবার বিকেলে শুনানী শেষে আসামী জাকির ও ভূয়া আাসমী জুয়েলের বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগে মামলার নির্দেশ দিয়েছে আদালত । 

নারায়ণগঞ্জ আদালত পুলিশের পরিদর্শক আসাদুজ্জামান জানান, নারায়ণনারায়ণগঞ্জ বন্দর থানার ২০১৭ সালের একটি মাদক মামলায় ৬ মাসের সাজা হয় আসামী জাকিরের। ইয়াবাসহ গ্রেপ্তারের পর চলতি বছরের ১০ আগষ্ট তার বিরুদ্ধে আদালত ৬ মাসের কারাদণ্ডাদেশ দেন। রায় ঘোষণার আগে জামিনে মুক্ত হয়ে পলাতক থাকে জাকির। রায় ঘোষনার পর আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। এ প্রেক্ষিতে চলতি বছরের ১২ সেপ্টেম্বর জুয়েল নামের ব্যাক্তি নিজেকে জাকির দাবি করে  আদালতে আত্মসমর্পণ করে আইনজীবীর মাধ্যমে। আত্মসমর্পণের পর আসামীর পক্ষ জামিনের আবেদন করলে আদালত জামিন না মঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। মূল আসামী জাকিরের পরিবর্তে জুয়েল কারাগারে রয়েছে জানতে পেরে কারা কর্তৃপক্ষ আদালতেকে ব্যাপারটি অবগত করেন। 

মাদক মামলার সাজাপ্রাপ্ত আসামী হলো, জাকির ওরফে সোহেল ওরফে গাজী । সে বন্দর উপজেলার নূরবাগ এলাকার সামেদ মিয়ার ছেলে। তার পরিবর্ততে আসামী হয়ে কারাভোগ করতে যায় জুয়েল। সে উপজেলার নবীগঞ্জের আলাউদ্দিনের ছেলে।স্থানীয়দের দাবি, জাকির ও জুয়েল পূর্ব পরিচিত। জুয়েল বিভিন্ন মামলায় এর আগে একাধিবার জেল খেটেছেন। অর্থের বিনিময়ে এমনটা করেছে সে।  

বুধবার বিকেলে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ শামছুর রহমানের আদালত শুনানি শেষে, তাদের বিরুদ্ধে যোগসাজসে প্রতারণা ও মিথ্যে সাক্ষী দেয়ার অপরাধে দুইজনের বিরুদ্ধে ফতুল্লা থানায় মামলা করার নির্দেশ দেন সহকারী ব্যাঞ্চকে। তবে মাদক মামলায় জুয়েলকে অব্যহতি দেয়া হয়েছে।

অন্যের মাদক মামলায় আত্মসমর্পণ ও  জুয়েলের জামিন আবেদন করেছিলেন আইনজীবীর রোকেয়া সুলতানা। বুধবারের শুনানিতে স্বশরীরে হাজির হয়ে তিনি ব্যাখা প্রদান করেন ও যাচাই না করে আসামীর পক্ষ নেয়ায় আদালতে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। আদালতে তাকে মামলার বিষয়ে শর্তক থাকার নির্দেশ দিয়েছে। তবে এ বিষয়ে ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজী হননি তিনি।


আরও খবর



অপহরণের ২৫ দিনপর অপহৃতা উদ্ধার,আসামি গ্রেফতার

প্রকাশিত:বুধবার ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:বুধবার ০৫ অক্টোবর ২০২২ |
Image

নিজস্ব প্রতিনিধি,লালমনিরহাট ঃ

"ছদ্দ নাম ঝরি' সে লালমনিরহাট জেলার আদিতমারি উপজেলার টেপাটারি গ্রামের বাবুল চন্দ্রের ১৭ বছর বয়সী মেয়েকে অপহরণ করে ত্রিশালের বকাটে ছেলে সিয়ামুল হক সিয়াম। এ ব্যাপারে আদিতমারি থানায় বাদি হয়ে মেয়েটির বাবা বাবলু চন্দ্র অপহরণ মামলা দায়ের করলে  প্রায় ২৫ দিনপর আদিতমারি থানা পুলিশের এস আই সুকুমার রায় সহ সঙ্গীয় ফোর্স গাজীপুরের শ্রীপুর থানা এলাকা থেকে ভিকটিমকে উদ্ধার করে এবং মামলার প্রধান আসামি  সিয়ামুল হক সিয়ামকে গ্রেফতার করে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আদিতমারি থানা পুলিশ। ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন মোক্তারুল ইসলাম, অফিসার ইনচার্জ আদিতমারি থানা।


আরও খবর



১০ কোটি টাকা চেয়ে আদালতে সেই জজ মিয়া

প্রকাশিত:সোমবার ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২২ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ০৬ অক্টোবর ২০২২ |
Image

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ঢাকার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেতা শেখ হাসিনার সমাবেশে গ্রেনেড হামলা মামলায় ফাঁসানো আসামি জজ মিয়া ১০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে এবার হাইকোর্টে রিট করেছেন। গত (১২ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি মো. রিয়াজ উদ্দিন খানের হাইকোর্ট বেঞ্চ থেকে তার আইনজীবী মোহাম্মদ হুমায়ন কবির পল্লব এ বিষয়ে রিট করার অনুমতি নেন।

এর আগে ১১ আগস্ট জজ মিয়ার পক্ষে আইনজীবী মোহাম্মদ হুমায়ন কবির পল্লব ও আইনজীবী মোহাম্মদ কাউছার স্বরাষ্ট্র সচিব, আইজিপি, তৎকালীন স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবরসহ ১১ জন বরাবরে এ বিষয়ে আইনি নোটিশ দেন। আরো যাদের কাছে নোটিশ পাঠানো হয়েছে, তারা হলেন- ঢাকার জেলা প্রশাসক, মতিঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি), নোয়াখালীর সেনবাগ থানার ওসি, পুলিশের অপরাধ ও তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), তৎকালীন আইজিপি খোদা বক্স চৌধুরী, তৎকালীন এএসপি আব্দুর রশিদ, তৎকালীন এএসপি মুনশি আতিকুর রহমান এবং তৎকালীন বিশেষ পুলিশ সুপার মো. রুহুল আমিন।

নোটিশে ওই ঘটনার জন্য জড়িত ব্যক্তিদের দায় নির্ধারণের অনুসন্ধান কমিটি গঠন করতে বলা হয়েছে। যাদের দায় পাওয়া যাবে তাদের কাছ থেকে ওই ক্ষতিপূরণ আদায় করে জজ মিয়াকে দিতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি লুৎফুজ্জামান বাবরসহ জড়িত ব্যক্তিদের স্থাবর সম্পত্তি জব্দের আইনগত পদক্ষেপের উদ্যোগ নিতে বলা হয়েছে। নোটিশে এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে ১৫ দিন সময় দেওয়া হয়েছে, অন্যথায় হাইকোর্টের রিট করা হবে বলে জানিয়েছেন আইনজীবী। তবে নোটিশে কোনো সাড়া না পেয়ে এবার হাইকোর্টে রিট করছেন জজ মিয়া।

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট ঢাকার বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনার সমাবেশে গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। এতে দলের নেতাকর্মীসহ ২২ জন নিহত হন।


আরও খবর

শিগগিরই বাড়ছে বিদ্যুতের দাম

মঙ্গলবার ০৪ অক্টোবর ২০২২