Logo
শিরোনাম

শুভ নববর্ষ

প্রকাশিত:বুধবার ১৩ এপ্রিল ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ১৬ মে ২০২২ | ২৭১জন দেখেছেন
Image

অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান চৌধুরী, শিক্ষাবিদ

আলমারির উপরটাতে হাত দিতেই

কিছু ধুলো গড়িয়ে পড়লো মাটিতে,

আর পুরোনো ঝলসে যাওয়া একটুকরো কাগজের স্পর্শ

পেলো হাতে ছুঁয়ে যাওয়া কিছু কচি ঘাস,

সেখানে খুব যত্নে আদর করে লেখা ছিল

একটি কিংবদন্তি শব্দ "শুভ হে শুভ নববর্ষ" |

অনেকটা সময় দেখলাম গড়িয়ে গেছে জীবনের

যেখানে বাসা বেঁধেছে মাকড়সা আর পথ

হারিয়েছে মানবিক নির্ভরতা,

কপালে এসেছে ভাঁজ ভাঁজ করা দুর্লভ জড়তা,

কালো চুলগুলো হয়ে গেছে শালবনের মতো সাদা

আর খুব কষ্টে দেখলাম কাঁদছে মানুষ,

মানুষ নয়, যেন প্রাণহীন মানুষের আদর্শ

তবুও উচ্চকিত কণ্ঠে চিৎকার করতে চাই

বলে যেতে চাই, একটি জীবন্ত শব্দ "শুভ হে শুভ নববর্ষ" |

ফুলের যেন আর আগের মতো গন্ধ নেই,

মানুষের নাগর দোলায় চড়ার ছন্দ নেই,

মেলা নেই আর হার না মানা

সেই ইতিহাসের কানা মাছির খেলা নেই ,

পিঠে নেই, মিঠে কথা নেই

সম্মান নেই, সমাদর নেই

আছে শুধু দুখের আগুনে পোড়া খড় কুটোর ভস্ম

তবুও ইট পাথরের শহরে যান্ত্রিকতার অচলায়তন ভেঙে

বলতে চাই বলে যেতে চাই "শুভ হে শুভ নববর্ষ"|

হয়তো আজ যা সবার কাছে একটা

মজার দিন,

আমার কাছে সেটা তো জীবন

আর মনের সাথে স্মৃতির শ্রাবন,

তারপরও পুরোনো চোখেও আজ নিজের সাথে

নিজেকে বোঝার বিস্ময়কর হর্ষ,

তবু এক টুকরো রোদ্দুর স্বপ্ন নিয়ে

বলতে চাই, বলে যেতে চাই "শুভ হে শুভ নববর্ষ"|


আরও খবর

কবি গুরুর জন্মোৎসব

রবিবার ০৮ মে ২০২২




শ্রীনগরে আন্তর্জাতিক নার্সেস দিবস পালিত

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ১২ মে ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ১৬ মে ২০২২ | ৫৯জন দেখেছেন
Image

শ্রীনগর (মুন্সীগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ

“স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় শক্তিশালী নার্স নেতৃত্বের বিকল্প নেই-বিশ্ব স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে নার্সিং খাতে বিনিয়োগ বাড়ান ও নার্সদের অধিকার সংরক্ষণ করুন" এই স্লোগানে শ্রীনগরে  আন্তর্জাতিক নার্সেস দিবস পালিত হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আয়োজন স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হলরুমে এই দিবস পালিত হয়।

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নার্সিং ইনচার্জ শামীমা নুসরাতের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা: আবু তোহা মোঃ শাকিল। 

এসময় অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আর এম ও ডাঃ এস কে পাল, নার্সিং সুপারভাইজার অতিধি রহিমা আক্তার প্রমুখ।


আরও খবর



পার্বতীপুরে রেলহেড ডিপো শুন্য

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১০ মে ২০২২ | হালনাগাদ:রবিবার ১৫ মে ২০২২ | ৪৬জন দেখেছেন
Image

নিজস্ব প্রতিনিধি, পার্বতীপুর

পার্বতীপুুরে রেলহেড অয়েল ডিপোতে পেট্রোল ও অকটেনের মজুদ আশংকাজনক হারে কমে যাওয়ায় উত্তরাঞ্চলের ৮ জেলায় পেট্রোল ও অকটেনর সরবরাহ প্রায় ১৫দিন ধরে বন্ধ রয়েছে। এ ডিপোতে দৈনিক পেট্রোলের চাহিদা ১ লাখ ৮০ হাজার লিটার। বর্তমানে প্রতি সপ্তাহে মাত্র ১ লাখ ৮০ হাজার লিটার ডিপোতে পেট্রোল সরবরাহ দেয়া হচ্ছে।

জানা গেছে,  প্রায় ২ মাস ধরে মৌলভীবাজারের রশিদপুর গ্যাস ফিল্ড হতে রেলপথে পার্বতীপুর রেলহেড অয়েল ডিপোতে পেট্রোল ও অকটেন সরবরাহ দেয়া হচ্চে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম কর্পোরেশনের আওতাধীন ৩ কোম্পানী পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েল কোম্পানী লিমিটেড একদিন পরপর ট্যাংকলরীতে করে ৪ লাখ ৫ হাজার লিটার পেট্রোল পার্বতীপুুর রেলহেড অয়েল ডিপোতে পেট্রোল সরবরাহ করতো। এ ডিপো থেকে প্রতিদিন উত্তরাঞ্চলের ৮ জেলা ঠাকুরগাও, পঞ্চগড়, নীলফামারী, দিনাজপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম, রংপুর ও গাইবান্ধাসহ ৪৫০ পেট্রোল পাম্পে পেট্রোল সরবরাহ করা হয়ে থাকে যা দিয়ে এ অঞ্চলের পেট্রোল ও অকটেনের চাহিদা পুরণ হয়। প্রায় ২ মাস ধরে রশিদপুর গ্যাস ফিল্ড থেকে হঠাৎ করে পেট্রোল ও অকটেন আসা কমে যাওয়ায় ডিপোতে এ সংকট দেখা দিয়েছে।

জ্বালানি তেল পরিবেশক ও পেট্রোল পাম্প প্রতিনিধিদের অভিযোগ, তারা চাহিদা অনুযায়ী তেল পাচ্ছেন না। পেট্রোল ও অকটেন সংকট চরমে পঞ্চগড়, ঠাকুরগাঁও, নীলফামারী ও দিনাজপুরে। ইতিমধ্যে পেট্রোল ও অকটেন না থাকায় দুই শতাধিক তেল পাম্প বন্ধ হয়ে গেছে। শিগগিরই পেট্রোল ও অকটেন সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে সংকট চরম আকার ধারণ করবে।

পেট্রোল ও অকটেন নিতে আসা ট্যাংকলরীগুলো টার্মিনালে ৮/১০ দিন অপেক্ষা করেও পেট্রোল ও অকটেন না পাওয়ায় ব্যবসায়ীরা চরম ক্ষুদ্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।

পার্বতীপুরে ফিলিং স্টেশনগুলোতে পেট্রোল ও অকটেন সংকটের কারণে জ্বালানি না পেয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে যানবাহন চালকদের।

 ঈদের কয়েকদিন আগে থেকে এ অবস্থা চলছে বলে জানিয়েছেন তেল বিক্রয়কারী প্রতিষ্ঠানগুলো।

দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, পার্বতীপুর কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের রিয়েল ফিলিং স্টেশনসহ কয়েকটি পাম্পে তেল নেই। পেট্রোল ও অকটেন না থাকায় মোটরসাইকেল চালকদের ফিরে যেতে হচ্ছে। পাম্প পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে।

রিয়েল ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক মোঃ নুরুল নবী জানান, ঈদের কয়েকদিন আগেই পেট্রোল ও অকটেন সংকট চরমে পৌঁছেছে। মানুষকে দিতে পারছি না। গত ২৮ এপ্রিল ৯ হাজার লিটার পেট্রোল ও ৪ হাজার ৫শ লিটার অকটেন এসেছিল। সেগুলো বিকেলের মধ্যেই শেষ হয়ে যায়। তিনি আরও জানান, প্রতিদিন এ পাম্পে সাড়ে ৩ হাজার লিটার পেট্রোল ও ১ হাজার ৩শ লিটার অকটেন প্রয়োজন পড়ে। কিন্তু সরবরাহ না থাকায় আমরা গ্রাহককে পেট্রোল ও অকটেন দিতে পারছি না। যার কারণে তেল না থাকায় পাম্পে গায়ে পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখা হয়েছে।

নীলফামারী সৈয়দপুর শহরের ইকু ফিলিং স্টেশনের মালিক মোঃ সিদ্দিকুল আলম জানান, প্রায় মাস থেকে পেট্রোল ও অকটেন সংকট দেখা দেয়। পার্বতীপুর তেল ডিপোতে না পেয়ে সিরাজগঞ্জের বাঘাবাড়ি ডিপো থেকে তেল নিয়ে পাম্পগুলো চালাতে হচ্ছিল। কিন্তু এখন বাঘাবাড়ি ডিপোতেও পেট্রোল ও অকটেন পাওয়া যাচ্ছে না। তবে, পাম্পগুলোতে ডিজেল সরবরাহ রয়েছে।

দিনাজপুর জেলা পেট্রোল পাম্প মালিক সমিতির সাধারন সম্পাদক এটিএম হাবিবুর রহমান শাহীন জানান, পার্বতীপুর রেলহেড অয়েল ডিপোতে প্রায় ১৫ দিন ধরে পেট্রোল ও ৭ দিন ধরে অকটেনের সংকট চলছে। আমরা চাহিদা মত পেট্রোল ও অকটেন সরবরাহ পাচ্ছি না। এরফলে প্রায় অনেক তেল পাম্প বন্ধ হয়ে রয়েছে।

শনিবার রাত ৮টার দিকে মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের ডেপুটি ম্যানেজার কাজী মোঃ রবিউল জানান, শনি এবং রবিবার ৬ লাখ পেট্রোল ডিপোতে এসেছে। আজকের মধ্যে ডিপোতে আরও ৪ লাখ লিটার পেট্রোল ও দেড় লাখ অকটেন এসে পৌছাবে। ঈদের ছুটি থাকায় এ সাময়িক সমস্যা হয়েছে বলে তিনি দাবী করেন। বর্তমানে তিন কোম্পানী পদ্মা, মেঘনা ও যমুনায় প্রায় ২০ লাখ ডিজেল মজুদ রয়েছে।  

এ বিষয়ে পদ্মা, মেঘনা ও যমুনা অয়েল তিন কোম্পানীর পার্বতীপুর রেলওয়ে অয়েল হেড ডিপোর ইনচার্জ এমরানুল হাসানের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলে মোবাইল ফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।


আরও খবর



লালমনিরহাটে ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়ায় পুড়ে গেছে কৃষকের ধানের ফসল

প্রকাশিত:সোমবার ১৮ এপ্রিল ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ১৪ মে ২০২২ | ১১৩জন দেখেছেন
Image

লালমনিরহাট জেলা প্রতিনিধি

লালমনিরহাট জেলার সদর উপজেলা কুলাঘাট ইউনিয়ন এর নিয়ম বহির্ভূতভাবে গড়ে তোলার বিষাক্ত ধোঁয়ায় ভরে গেছে কৃষকের আবাদি ধানের ফসল। কি খেয়ে বাঁচবে কৃষকরা এমন সংখ্যা তাদের। সরেজমিনে জানা গেছে লালমনির সদর উপজেলার কুলাঘাট ইউনিয়ন এর একই স্থানে পৃথক তিনটি ভাটা ও পাশে পৌরসভার সীমানায় আরো দুইটি ইটভাটা থাকায় মানিকচক ঘাট এলাকার প্রায় তিন শতাধিক কৃষকের ধানের ফসল বিষাক্ত ধোঁয়ায় উড়ে গেছে। এছাড়া মোগলহাটের জুরান পাড়া এলাকায় পৃথক দু'টি ইটভাটায় দুই শতাধিক কৃষকের প্রায় ৬০০ একর আবাদি ধানের ফসল পুড়ে গেছে। কৃষকরা প্রথমেই ধান বীজ ও কৃষি কর্মকর্তাদের ওপর দোষারোপ করলেও পরবর্তীতে জানা যায় এটি স্থানে অন্য কোনো রোগ নয়। ধানের যে কারণে ক্ষতি হয়েছে তা হলো ইটভাটার বিষাক্ত ধোঁয়া। এমনটি জানিয়েছেন লালমনিরহাট এর কৃষি বিভাগের কর্মকর্তা ও মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তা গণ।

এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট ভাটা এলাকায় কৃষকরা সংশ্লিষ্ট ভাটা মালিকদের নিকট চেয়ারম্যান ও মেম্বারদের উপস্থিতিতে তাদের ক্ষতিপূরণের দাবি জানান। সেই সাথে আটা বন্ধেরও দাবি তোলেন তারা।

এ বিষয়ে মোগলহাট ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান জানান ঢাকা মালিকদের সঙ্গে কথা হয়েছে যাতে করে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দেন তারা।

কুলাঘাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইদ্রিস আলী জানান কৃষকদের ক্ষতিপূরণ দেয়া দরকার মালিকদের।

জেলায় প্রায় ৩৭ টি ইটভাটা রয়েছে যার মধ্যে পাঁচটি অনুমোদিত বাকি সব আবেদিত বলে জানা গেছে জেলা প্রশাসন সূত্রে। যত্রতত্র ইটভাটা ও কিছুসংখ্যক অসাধু জমির মালিকরা ইটভাটায় মাটি বিক্রি করুন যেমন নিচু হয়ে যাচ্ছে তাদের আবাদি জমি তেমনই বিনষ্ট হচ্ছে আমাদের ফসল । ছোট্ট এই জেলায় এত বেশি এটা হয়েছে তা সচেতন মহলের উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে এমনটাই জানিয়েছেন একাধিক সচেতন মহল ব্যক্তিবর্গ।


আরও খবর



জুমাতুল বিদায় মসজিদে মসজিদে মুসল্লিদের ঢল

প্রকাশিত:শুক্রবার ২৯ এপ্রিল ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ১৬ মে ২০২২ | ৯২জন দেখেছেন
Image

ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে এবং ইহকাল ও পরকালের মুক্তি কামনায় আজ শুক্রবার সারাদেশে পবিত্র জুমাতুল বিদা পালিত হয়েছে। পবিত্র রমজান মাসের শেষ শুক্রবার জুমাতুল বিদা হিসেবে প্রতিবছর পালন করেন মুসলমানরা। রমজান মাসজুড়ে রোজা রাখা আর ইবাদত-বন্দেগির অংশ হিসেবে এদিন নাজাত প্রার্থনা করেন সবাই। রাজধানীসহ বিভাগীয় ও জেলা শহরের প্রধান প্রধান মসজিদে ছিল না তিল ধারণের ঠাঁই। গ্রামে-গঞ্জেও ছিল নামাজিদের অভূতপূর্ব উদ্দীপনা। সকল পর্যায়ের কোটি মানুষ ছুটে আসেন রমজানের মহাসম্মানিত শেষ জুমায় শরিক হতে। রাজধানীর মসজিদগুলোতে লাখো মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত ও ধর্মীয় আবেগভরা উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। আল্লাহর রহমত বরকত নাজাত প্রত্যাশী নানা বয়সী মানুষ যেন ¯্রােতের গতিতে ছুটে এসেছিলেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ, মহাখালী মসজিদে গাউসুল আজম, গুলশান আজাদ মসজিদ, ধানমন্ডি সেন্ট্রাল মসজিদ, সোবহানবাগ মসজিদ, এলিফ্যান্ট রোড মসজিদ, বনানী বাজার মসজিদ, মহাখালী বায়তুল মাহফুজ, মিরপুর কাজীপাড়া জামে মসজিদ, শেওড়াপাড়া বড় মসজিদ, ১১নং কেন্দ্রীয় মসজিদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদ, মতিঝিল ওয়াপদা মসজিদ, কাওরান বাজার আম্বারশাহ ও হাইকোর্ট মাজার মসজিদসহ রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার জামে মসিজদগুলোয়।

গতকাল জুমার আজানের আগে থেকেই মুসুল্লিগণ মসজিদে সমবেত হতে শুরু করেন। জুমাতুল বিদার জামাতে প্রায় সকল মসজিদই ছিল পূর্ণ। ভবনের ছাদ-বারান্দা ভরে নামাজিদের কাতার চলে যায় সড়কে। নামাজ শেষে মসজিদে মসজিদে হয় দীর্ঘ মুনাজাত। খতিবগণের বিশেষ মুনাজাতের সময় ছিল আমিন আমিন ধ্বনি আর গুনাহ মাফ চেয়ে আল্লাহর কাছে কান্না। ভাবগম্ভীর ইবাদত ও মুনাজাত গোটা রাজধানীর পরিবেশকে মোহিত করে তুলেছিল। পবিত্র আবহ বিরাজ করছিল মসজিদ নগরী ঢাকায়। প্রাণের উচ্ছ্বাসে আর হৃদয়ের টানে মসজিদে ছুটে আসা মানুষ অভিবাসী নির্যাতিত মুসলিম ভাইবোন ও শিশুদের জন্য প্রার্থনা করেন। বাংলাদেশের উন্নয়ন-সমৃদ্ধি ও জাতির সর্বাঙ্গীণ মুক্তি-সাফল্যের পথে সকল বাধা দূর করা, দুর্নীতি-লুটপাট, অন্যায়-অত্যাচার, অযোগ্যতা-দায়িত্বহীনতায় পূর্ণ নেতৃবৃন্দের হেদায়েত জন্যও আল্লাহর দরবারে দোয়া করেন। মুনাজাতে দেশের ঘৃণ্য রাজনীতির ব্যর্থতার চক্র থেকে উত্তরণ, অভিশপ্ত দুর্বৃত্তায়নের করাল গ্রাস থেকে পরিত্রাণ লাভ এবং বিশ্বময় উন্নতির যুগে, বাংলাদেশের অকর্মা, দুর্বৃত্ত ও লুটেরা চক্রের হাত থেকে মুক্তি পাওয়ার পথ বের হওয়ার জন্য আল্লাহর রহমত ও করুণা কামনা করা হয়।
চট্টগ্রামে মসজিদে ধর্মপ্রাণ মানুষের ঢল
চট্টগ্রাম ব্যুরো জানায়, মাহে রমজানের শেষ জুমা জুমাতুল বিদা উপলক্ষ্যে চট্টগ্রামের মসজিদে মসজিদে ধর্মপ্রাণ মুসল্লিদের ঢল নামে। মহানগরী ও জেলার মসজিদগুলোতেও ছিল ব্যাপক উপস্থিতি। মসজিদে স্থান সংকুলান না হওয়ায় অনেকে রাস্তায় জুমার নামাজ আদায় করেন। এসময় বিভিন্ন মসজিদ এলাকায় সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। নামাজ শেষে দেশ ও জাতির কল্যাণ এবং মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও শান্তি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করা হয়। সেখানে মহান আল্লাহর কাছে দু’হাত তুলে দোয়া কামনা করেন ধর্মপ্রাণ মুসল্লিরা।
জুমাতুল বিদায় নগরীর আন্দরকিল্লা শাহি জামে মসজিদে হাজারো মুসল্লি অংশ নেন হন। মসজিদের আঙিনা, ছাদ ছাড়িয়ে মুসল্লিদের উপস্থিতি এসে পড়ে সামনের সড়কের অনেকদূর পর্যন্ত। নামাজ শুরুর আগে প্রচ- খরতাপ মুসল্লিদের ভোগালেও নামাজ শুরু হতে হতেই হালকা বৃষ্টি সবার মাঝে যেনো প্রশান্তির ছোঁয়া নিয়ে আসে। নগরীর জমিয়াতুল ফালাহ মসজদি, লালদীঘি জামে মসজিদ, বায়তুশ শরফ জামে মসজিদ, চট্টেশ্বরাই গায়েবি মসজিদ, সিজিএস কলোনী জামে মসজিদ, মুরাদপুর মসজিদে বেলাল, অলি খাঁ জামে মসজিদ, চন্দপুরা শাহী জামে মসজিদ, বহদ্দারহাট জামে মসজিদসহ নগরীর প্রায় সব মসজিদে তিল ধারণের ঠাঁই ছিলো না। নামাজের আগে জুমাতুল বিদা ও রমজানের তাৎপর্য নিয়ে বিশেষ খুতবা দেন ইমাম ও খতিবেরা।
খুলনাতে জুমাতুল বিদা পালিত
খুলনা ব্যুরো জানায়, খুলনাতেও পালিত হল জুমাতুল বিদা বা রমজানের শেষ জুমা। রোজাদার মুসল্লীগণ জুমা আদায়ের জন্য মসজিদে একত্রিত হন। ঈমামগণ খুৎবা দানকালে রমজান মাসের শেষ জুমার, শাবে কদরের ও ফিতরার গুরুত্ব ও ফজিলত সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করেন। জুমার নামাজ শেষে মুসল্লিরা দু’হাত তুলে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। খুলনার টাউন জামে মসজিদে জুমাতুল বিদার খুৎবা দেন মসজিদের খতিব মাওলানা মোহাম্মদ সালেহ। খুলনার প্রত্যেকটি মসজিদে নামাজ শেষে বিশেষ মুনাজাত পরিচালনা করা হয়। এসময় মসজিদে মুসল্লিদের উপচে পড়া ভীড় দেখা যায়। কেউ কেউ শেষ রাতে কবরস্থানে গিয়ে কবর জিয়ারাত করে মৃত আত্মীয় স্বজনের কবর জিয়ারত করে তাদের রুহের মাগফিরাত কামনা করেন।
বগুড়ায় মুসল্লিদের উপচে পড়া ভীড়
বগুড়া অফিস জানান, পবিত্র রমজান মাসের শেষ জুমাহ জুমাতুল বিদা’র জামায়াতগুলোতে বগুড়ার মসজিদগুলোতে ছিল মুসল্লিদের উপচে পড়া ভীড়।
বগুড়ার মহাস্থান গড় জামে মসজিদ, বগুড়া কেন্দ্রিয় জামে মসজিদ, বগুড়া সেন্ট্রাল জামে মসজিদসহ ছোট বড় সব মসজিদেই দেখা যায় হাজার হাজার মুসল্লি মসজিদের ভিতরে যায়গা না পেয়ে আশেপাশের রাস্তায় জায়নামাজ বিছিয়ে বসে পড়ে।
হাজীগঞ্জ বড় মসজিদে লাখো মানুষের ঢল
চাঁদপুর জেলা সংবাদদাতা সংবাদদাতা জানান, চাঁদপুরের হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদে জুমা’তুল বিদায় লাখো মানুষের ঢল নামে। সকাল থেমে থেমে বৃষ্টি ও বিশাল জামায়াতকে রুখতে পারেনি। গুড়ি গুড়ি বৃষ্টির মধ্যে সকাল ১০টার পর থেকে হাজীগঞ্জের প্রত্যান্ত অঞ্চল ও জেলা শহর থেকে মুসল্লিরা এসে নামাজ পড়ার জন্য জায়গা নেয়। মসজিদ, মসজিদের ছাদ, কওমী মাদরাসা ১-৬ তালা, হাজীগঞ্জ প্লাজা, হাজীগঞ্জ টাওয়ার, হাজীগঞ্জ পৌর সুপার মার্কেটের ২য় ও তৃতীয় তলা, বিভিন্ন মার্কেটের ওলিগলি পূর্ণ হয়ে যখন নামাজ শুরু হয় তখন চাঁদপুর-কুমিল্লা সড়কে মুসল্লিরা দাঁড়িয়ে পড়লে নামাজের সময় সড়কটি বন্ধ থাকে। জুমাতুল বিদার নামাজ সুষ্ঠ ও সুন্দর ভাবে সম্পন্ন করতে মসজিদ কর্তৃপক্ষ, পৌরসভা ও পুলিশ প্রশাসনের আগে থেকে প্রস্তুত থেকে সেবা প্রদান করে। এ ছাড়া ২০টি স্বেচ্ছাসেবী প্রতিষ্ঠান কাজ করে। নামাজ শেষে মুসলিম উম্মা ও বিশ্ব শান্তি কামনা করে বিশেষ মোনাজাত পরিচালনা করেন হাজীগঞ্জ ঐতিহাসিক বড় মসজিদের পেশ ইমাম ও খতিব হাফেজ মাওলানা মুফতি আবদুর রউফ।
গফরগাঁওয়ে জমাতুলবিদা পালিত
গফরগাঁও উপজেলা সংবাদদাতা জানান, পবিত্র মাহে রমজানের শেষ শুক্রবার পবিত্র জমাতুল বিদা গফরগাঁও উপজেলার পৌরসভাসহ বিভিন্ন মসজিদে পালিত হয়েছে। প্রতিটি মসজিদে মুসুল্লিদের উপচে পড়া ভীর ছিল। কোথাও জায়গা নেই। সকলস্তরে মুসুল্লিরা জুমা নামাজে অংশ নেয়। এ উপলক্ষে প্রতিটি মসজিদে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।
রাজশাহীতে জুমাতুল বিদা পালিত
রাজশাহী ব্যুরো জানান, ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্যদিয়ে শুক্রবার রাজশাহীতে পালিত হয়েছে পবিত্র জুমাতুল বিদা। জুমার আজানের পর রাজশাহী কেন্দ্রীয় শাহ্ মখদুম (র.) দরগা মসজিদ, সাহেব বাজার বড় মসজিদ ও হেতেম খাঁ মসজিদ, সোনাদিঘী মসজিদসহ নগরীর সব মসজিদে নামাজে মুসল্লিদের ভীড় লক্ষ্য করা যায়। জুমাতুল বিদাকে কেন্দ্র করে নামাজ শুরুর আগেই সব মসজিদ কানায় কানায় ভরে যায়। ঠাঁই না হওয়ায় অনেকেই বাইরে নামাজ আদায় করেন। জুমাতুল বিদার খুতবায় উচ্চারিত হয় ‘আলবিদা, আলবিদা, ইয়া শাহর রামাদান। অর্থাৎ বিদায়, বিদায় হে মাহে রমজান। জুমার দুই রাকাত নামাজ শেষে রাজশাহীসহ গোটা দেশ ও জাতির সুখ সমৃদ্ধি, কল্যাণ ও মুসলিম উম্মাহর ঐক্য ও শান্তি এবং কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। নামাজ আদায়ের পর মহানগরের টিকাপাড়া, কাদিরগঞ্জ, হেতেম খাঁ, গৌরহাঙ্গাসহ বিভিন্ন কবরস্থানে বাবা-মা ও আত্মীয়-স্বজনের কবর জিয়ারত করতে যান। এ মাসের শেষ জুমার দিন পালিত হয় আল কুদস দিবস।
বরিশাল ব্যুরো জানায়, পবিত্র জুমাতুল বিদা নামাজে গতকাল বরিশালসহ দক্ষিণাঞ্চলের মসজিদে মসজিদে মুসল্লিদের ঢল নামে।
জুমাতুল বিদা উপলক্ষে গতকাল দক্ষিণাঞ্চলে সর্ববৃহৎ জামাত অনুষ্ঠিত হয় ফরিদপুরের বিশ্ব জাকের মঞ্জিলে। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে হাজার হাজার জাকেরান ও আশেকানবৃন্দ বিশ্ব জাকের মঞ্জিল জামে মসজিদে জুমাতুল বিদার নামাজ আদায় করেন। পরে বিশ্ব জাকের মঞ্জিলের পীর ছাহেব খাজাবাবা ফরিদপুরী নকসবন্দী মুজাদেদ্দী (কু:ছে:আ:) ছাহেবের রওজা শরিফ জিয়ারতের নিয়তে ফাতেহা শরিফ পাঠান্তে বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
বরিশালের চরমোনাই দরবার শরিফ মসজিদ, পিরোজপুরের ছারছীনা দরবার শরিফ মসজিদ এবং ঝালকাঠীর নেছারাবাদ দরবার শরিফ মসজিদ ও মোকামিয়া দরবার শরিফ মসজিদ ছাড়াও জামে বরিশাল মহানগরীর এবাদুল্লাহ মসজিদ, জামে কসাই মসজিদ, বায়তুল মোকাররম মসজিদসহ নগরীর বিভিন্ন মসজিদে জুমাতুল বিদার বড় জামাত অনুষ্ঠিত হয়।

আরও খবর

গৌতম বুদ্ধের জন্মদিন আজ

রবিবার ১৫ মে ২০২২

হজের নিবন্ধন শুরু সোমবার

শুক্রবার ১৩ মে ২০২২




ভোর থেকে রাজধানীতে থেমে থেমে বৃষ্টি

প্রকাশিত:বুধবার ০৪ মে ২০২২ | হালনাগাদ:সোমবার ১৬ মে ২০২২ | ৬৪জন দেখেছেন
Image

তখন নগরবাসী ঘুম ভাঙেনি। হঠাৎ দমকা হাওয়া। হাওয়ার দাপটের সঙ্গে বজ্রের ধ্বনি। কোথাও কোথাও যেনো বাজ পড়ল। যারা ঘরের জানালা খুলে ঘুমিয়েছিলেন আচমকা শব্দে তাদের কারও ঘুম ভাঙল। ঘুমের আড়মোড়া ভেঙে জানালা লাগিয়ে দেন তারা। ততক্ষণে এক পশলা বৃষ্টি হয়ে গেছে।

ভোর ৬টা থেকে বৃষ্টি শুরু, যা চলে সকাল আটটা পর্যন্ত। এখন হালকা বৃষ্টি পড়ছে। টানা বৃষ্টিতে ঢাকায় কোনো কোনো সড়কে দেখা দিয়েছে জলাবদ্ধতা।

ঈদের দ্বিতীয় দিন আজ বুধবার। কেউ কেউ ভেবেছিলেন, সকাল সকাল আত্মীয়ের বাড়িতে বেড়াতে যাবেন। পরিবারের সবাইকে নিয়ে কেউবা বিনোদনকেন্দ্রে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন। তাদের পরিকল্পনা ভেস্তে যেতে বসেছে। যদিও দিন বাড়তে থাকলে বৃষ্টির দাপট কিছুটা কমে আসতে শুরু করেছে। তবে বৃষ্টি নেই হয়ে যায়নি। ঝরছে টিপটিপ করে। যাকে বলে ঝিরিঝিরি বৃষ্টি।

বৃষ্টিতে রাজধানীর বাসিন্দাদের খুব যে একটা ক্ষতি হয়েছে সেটা বলা যায় না। কেননা, এখনো সবার মনে ঈদের আমেজ। অফিসে কিংবা কর্মস্থলে যাওয়ার তাগিদ নেই। তাই বৃষ্টির সকালটায় আরামদায়ক আলস্যে কাটিয়ে দিচ্ছেন কেউ কেউ। বৃষ্টির পরশে বয়ে যাওয়া ঠাণ্ডা হাওয়ায় ঘুমকাতুরেদের ঘুম ভাঙতে খানিকটা দেরি হবে বুঝি!


আরও খবর