Logo
শিরোনাম
রাজধানীর সেতু ভবনে আগুন কমপ্লিট শাটডাউন : ঢাকাসহ সারা দেশে বিজিবি মোতায়েন জয়পুরহাটের পাঁচবিবিতে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ইট বোঝায় ট্রাক খাদে কুষ্টিয়ায় আন্দোলনকারী ও ছাত্রলীগের মধ্যে সংঘর্ষ -কয়েকটি মোটর সাইকেলে আগুন পুঠিয়ায় আ’লীগের বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভা লালমনিরহাটে অনুষ্ঠিত হয়েছে তিস্তা সমাবেশ বেনাপোল স্থল বন্দর দিয়ে মিথ্যা ঘোষণায় আমদানি করা হয়েছে ১৮ কোটি টাকার সালফিউরিক এসিড কুমারখালীতে মহাসড়ক অবরোধ করে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ, আহত-২ শরণখোলায় নার্সের চিকিৎসার অবহেলায় এক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ শেরপুরে কোটাবিরোধী শিক্ষার্থী-ছাত্রলীগের সংঘর্ষ, সাংবাদিকসহ আহত-২০

তুই রাজাকার” কলাম চালু করায় আমি তার পক্ষে কলম ধরেছি

প্রকাশিত:বুধবার ০৫ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ২১ জুলাই ২০২৪ |

Image

পুলক ঘটক, সিনিয়র সাংবাদিক :

নাঈমুল ইসলাম খান তার পত্রিকার প্রথম পাতায় তারেক রহমানের উদ্দেশ্যে একটি খোলা চিঠি ছাপিয়েছিলেন। সেটা উল্লেখ করে প্রচারণা চালানো হচ্ছে, খান সাহেব তারেকের লোক, বা তিনি তারেকের সঙ্গে লাইন দিয়েছিলেন। কিন্তু সেই খোলাচিঠি তিনি কবে ছাপিয়েছিলেন, সেখানে কি লেখা হয়েছিল, কি ভুল আছে তার কোনো উদ্ধৃতি কেউ দিচ্ছে না। ঢালাও মন্তব্য, “তিনি তারেক রহমানকে খোলা চিঠি দিয়েছিলেন, তারেকের সাথে লাইন দিয়েছিলেন ইত্যাদি ইত্যাদি।” এধরনের প্রচারণা অসততা এবং উদ্দেশ্যমূলক। 

আচ্ছা ভাইয়েরা, মিথ্যা কথা কেন বলেন? তিনি কি সেই খোলাচিঠি তারেক রহমান ক্ষমতাধর থাকা অবস্থায় লিখে তার কাছ থেকে সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করেছিলেন? চিঠিটি তিনি লিখেছিলেন ২০০৭ সালের ওয়ান-ইলেভেনে ক্ষমতায় আসা সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে – যখন তারেক রহমান কারাগারে। 

বিচার ও শাস্তি থেকে একরকম রেহাই দিয়ে তারেককে চিকিৎসার নামে বিদেশে পাঠানো সঠিক হয়েছে কিনা, তাকে কারাগারে রেখে বিচার প্রক্রিয়া চালালে পরবর্তী রাজনীতিটা কেমন হতো ইত্যাদি প্রশ্নে মতান্তর থাকতে পারে। ভবিষ্যতে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা এসব নিয়ে অনেক আলোচনা করবেন। তবে এটুকু জেনে রাখুন, তারেককে বিদেশে পাঠানো, নির্বাচন আয়োজন এবং সামরিক বাহিনীর কুক্ষিগত রাজনৈতিক ক্ষমতা নির্বাচিত গণতান্ত্রিক সরকারের কাছে হস্তান্তরের ক্ষেত্রে একজন সাংবাদিকের ঐ খোলা চিঠির অবদান আছে।  

সাংবাদিকের নিজের কন্ঠ থেকে সুর বেরোয় না, অথচ সবচেয়ে বড় সঙ্গীতজ্ঞ ওস্তাদের সুরের সমালোচনা লেখে। নিজেরা বলিং, ব্যটিং, ফিল্ডিং কিছুই না পারলেও দক্ষ ক্রিকেটারের ভুল ধরে। নিজেরা খেলতে না জেনেও দক্ষ খেলোয়ারদের খেলা শেখায়। আর নিজেরা রাজনৈতিক না হয়েও রাজনীতি শেখায় ঝানু রাজনীতিবিদকে। সাংবাদিকতা পেশার চরিত্রটাই এমন। নাঈমুল ইসলাম খান আওয়ামীলীগ বা বিএনপি করেন না। তিনি সাংবাদিক। তিনি তারেক রহমানকে খোলা চিঠি লিখে সাংবাদিকতায় কোনো পাপ করেননি। 


২০০৮ সালের ৭ সেপ্টেম্বর দৈনিক আমাদের সময়ের প্রথম পাতায় ছাপা হওয়া ঐ খোলা চিঠিতে তারেক রহমানকে নাঈমূল ইসলাম খান যেসব পরামর্শ দিয়েছেন সেগুলো যদি তিনি মানতেন তাহলে জিয়াপুত্র ব্যক্তিগতভাবে উপকৃত হতেন এবং রাজনীতিরও উপকার হতো। 

কারাগার থেকে বেরিয়ে দেশের বাইরে গিয়ে যাতে চিকিৎসা নেন এবং স্বাস্থ্যের যত্ন নেন, তৎকালীন সময়ে বন্দী এক ‘নষ্ট রাজপুত্রকে’ সেই পরামর্শ দিয়েছেন সাংবাদিক। “জুবায়দা ও জায়মার প্রতি ভালবাসা থেকে দেশের সকল মানুষের প্রতি ভালবাসা” শিখতে পরামর্শ দিয়েছেন। 

তাকে পড়াশোনা করতে বলেছেন এবং ইউরোপ ও আমেরিকার কোনো বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিশেষ কোর্সে অংশ নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের প্রতি, এমনকি আটককৃত অবস্থায় তারেক যাদের দ্বারা নিগৃহিত হয়েছেন তাদের প্রতিও, প্রতিহিংসাপরায়ন না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। 

বলেছেন, “দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীত সম্পর্কে আপনার দৃষ্টিভঙ্গিতে ভ্রান্তি ছিল নিশ্চয়ই। ... বাংলাদেশের খেটে খাওয়া পরিশ্রমী কৃষক-মজুর আরো অনেক ভালো জীবন যাপনের অধিকার রাখে। তাদের কথা একটু বেশি করে ভাবুন....” 

তারেককে ভুল স্বীকার করার পরামর্শ দিয়ে তিনি লিখেছেন, “আমাদের রাজনীতি ও রাষ্ট্র পরিচালনায় যে কোন ভুল স্বীকারকে অত্যন্ত অসম্মানজনক ও ক্ষতিকারক বিবেচনা করা হয়। আমি আপনাকে প্রতিশ্রুতি দিতে এই ধারণা ভিত্তিহীন ও মারাত্মক বিপর্যয়কর।” 

এ লেখায় অপরাধ কোথায়? ওনার লেখাটি বেশ বড়, যাদের ইচ্ছা হয়, খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পড়ে লেখাটির সমালোচনা লিখুন; গণতন্ত্রে সমালোচনা ও পাল্টা সমালোচনা আত্মোপলব্ধিতে ও সমাজ-মানস গঠনে ভূমিকা রাখে। 

আমি কেন নাঈমুল ইসলামের পক্ষে লিখছি? তার সঙ্গে নিশ্চয় আমার আন্তরিক সুসম্পর্ক আছে। কিন্তু ভাল সম্পর্ক থাকলেও সবার সম্পর্কে সবসময় লেখি না। আমি তার পক্ষে লিখছি, কারণ তিনি ”রাজাকার পুত্র”। একজন রাজাকার পুত্র পত্রিকার সম্পাদক হয়ে সেখানে “তুই রাজাকার” কলাম চালু করার দুঃসাহসী বীরত্ব প্রদর্শন করায় আজ আমি তার পক্ষে কলম ধরেছি। 

একটি প্রতিকূল সময়ে সাংবাদিকতায় মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে নতুন ধারা সৃষ্টির কারিগর হওয়ায় তার কাছে স্বাধীন বাংলাদেশের দায় আছে। 

 “মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের নির্ভীক কণ্ঠস্বর” স্লোগানে ‘আজকের কাগজ’ পত্রিকা আবির্ভাবের সেই সময়টা ভাবুন - ১৯৯১ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর জিয়া ও এরশাদ হয়ে খালেদা পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ও চেতনাবিরোধী রাজনীতির পুরো সময়টা বিবেচনা করুন। তখনকার প্রভাবশালী বাংলা পত্রিকা ইত্তেফাক ও ইনকিলাব। ইনকিলাব ও তার মালিকের অবস্থান সবাই জানেন। আর ইত্তেফাক সেসময় মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে না হলেও এই চেতনার পক্ষে বিপ্লবী অবস্থানে ছিল না। পত্রিকাটির মালিকরা প্রায় সবসময় ছিলেন ক্ষমতাসীনদের সঙ্গে; তারা মন্ত্রিত্বও নিয়েছেন – ক্ষমতার এ পক্ষে, ও পক্ষে; সব পক্ষেই। তাদের সুবিধাবাদী ক্ষমতারোহন নিয়ে আমাদের কথা নেই, বরং সাথে আছি নীতিতেই আমরাও আছি। 

এরশাদ ও খালেদা সরকারের প্রিষ্ঠপোষকতায় ইনকিলাবের চেয়েও চরম প্রতিক্রিয়াশীল ও উগ্র অবস্থান থেকে প্রকাশিত হতো বঙ্গবন্ধু হত্যাকারীদের দল ফ্রিডম পার্টির পত্রিকা দৈনিক মিল্লাত। ঐ পত্রিকায় শেখ হাসিনার নামটাও বিকৃত করে করে লেখা হতো; হিন্দুয়ানী ভাষা থেকে জাতিকে উদ্ধারের জন্য ‘জলপ্রপাত’কে লেখা হতো ‘পানিপ্রপাত’। সেনাশাসক এইচ এম এরশাদের দৈনিক জনতা পত্রিকাও ছিল একই লাইনের।       

মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে সবসময় সুস্পষ্ট অবস্থানে সবেধন নীলমণি ছিল সংবাদ ও বাংলার বাণী। কিন্তু বুদ্ধিজীবী মহলের বাইরে সাধারণ মানুষের কাছে তার প্রবেশ কতটুকু ছিল? 

তবে বলুন, খালেদার আমলে শানিত কলমে “তুই রাজাকার” কলাম চালু করা কার দালালী ছিল? নাঈমুল ইসলাম কি তখন ক্ষমতাসীন দলের তুষ্টিসাধন করে লাভবান হওয়ার সাংবাদিকতা করেছিলেন? অনেকের মতোই সাংবাদিকতায় ও চরিত্রে আপোষকামিতা তথা বিচ্যুতির রেকর্ড খান সাহেবের নেই, একথা কখনোই বলব না। কিন্তু সেকাল থেকে আজ পর্যন্ত তার কর্মকাণ্ডে তাকে কি মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষের বুদ্ধিজীবী হিসেবে চেনেন? 

অধিক কথা কি বলব, জাতীয় প্রেস ক্লাবের নির্বাচনের সময় নাঈমুল ইসলাম খানের ভোট কোন পক্ষ প্রত্যাশা করে? ইসলামপন্থী, এরশাদপন্থী, খালেদাপন্থী, ফ্রিডমপার্টিপন্থীরা? নাকি তার ভোটটা আমরা প্রত্যাশা করি? আপনি মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের একজন হয়ে “রাজাকার পুত্রের” ভোট আপনি পাবেন – এমনটা কেন প্রত্যাশা করেন ভাই? 

আপনিও অন্তরে জানেন নাঈমুল ইসলাম খান মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের একজন; তার পিতার রাজনৈতিক অবস্থান মুক্তিযুদ্ধের বিপক্ষে থাকলেও। আপনি আরও জানেন, নাঈমুল খান একদম অসাম্প্রদায়িক। আপনি জানেন, তিনি সাম্প্রদায়িক বৈষম্য, জাতিগত বৈষম্য, লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য ইত্যাদির বিপক্ষের মানুষ। তিনি পরিপূর্ণভাবে আধুনিক চিন্তাচেতনা সম্পন্ন বুদ্ধিদীপ্ত মানুষ। 

ছেলে বয়সে ছাত্রশিবির করেছে, এখনো গোপনে জামায়াত-হেফাজতের সঙ্গে টাচে আছে, বাবা-কাকাও ছিল রাজাকার – এমন মানুষও পরিচয় গোপন করে আপনার-আমার সাথে থাকে – মিথ্যা কথা বলে এবং সুবিধা নেয়। আর যে মানুষটা অকপটে তার সত্য পরিচয় দিয়ে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে লড়াই করে যাচ্ছে তাকে কোনঠাসা করার জন্য তার পিতার অপরাধ দেখিয়ে দেওয়ার মূল মতলব কি? 

আওয়ামী লীগ করে, কিন্তু সেক্যুলারিজম কি জিনিস বোঝে না – আন্তরিকভাবে সাম্প্রদায়িক ও মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী; রাজনীতি নিয়ে পুরাই ব্যবসা করে –এমন মানুষকে সালাম দিয়ে চলার চেয়ে অকপটে “রাজাকার পুত্র” হিসেবে নিজেকে স্বীকার করে অনুশোচনা প্রকাশকারী নাঈমুল ইসলাম খানকে সালাম জানানো নৈতিক দায়িত্ব মনে করি। রাজাকারের পরিবারে জন্ম নিলে রাজাকার হওয়াই তার দায়িত্ব, মানুষ হওয়ার অধিকার তার নেই – এমন বিশ্বাস নিয়ে কখনো চলিনি, এমন কথা কখনো বলিনি, ভবিষ্যতেও বলব না। যাদের ভাগে টান পরে তারা এসব বলুক।

গতকাল আমাদের এক রিপোর্টার ভাই একটি দৈনিক পত্রিকায় ডেপুটি এডিটর হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। ফেসবুকে পোস্ট দেখে ওনাকে আমি অভিনন্দন জানিয়েছি। আমাদের বহু সহকর্মী তাকে অভিন্দন জানিয়েছেন। আচ্ছা, ওনাকে অভিনন্দন জানানোর সময় তিনি কোন মতাবলম্বী, কতটা সৎ, কত ইঞ্চি লম্বা – এসব কি আমরা বিবেচনা করেছি? তিনি তার পেশাগত জায়গায় একটি বড় সফলতা অর্জন করেছেন বিধায় আমরা অকুন্ঠে বন্ধু হিসেবে তাকে অভিনন্দিত করেছি। নাঈমুল ইসলাম খান তার পেশাগত জায়গায় যদি কোনও বড় অর্জন করেন, আমরা কি তাকে অভিনন্দন জানাবো না? সাংবাদিকতা পেশাটি কি আমলাদের পদের তুলনায় তুচ্ছ? একজন পত্রিকা সম্পাদক কি সরকারের একজন সচিবের তুলনায় অত্যন্ত নগন্য? তাহলে প্রধানমন্ত্রী তাকে সচিব পদমর্যাদার একটি দায়িত্বে নিয়োজিত করলে কষ্ট কোথায়? 

বলুন দেখি নাঈমুল ইসলাম খান বড় কোনও বিনিয়োগ হাতে নিয়ে যদি আবার বৃহৎ একটি পত্রিকা বের করার উদ্যোগ নেন, তার কাছে চাকরির জন্য যাবেন না – কে কে আছেন? রাজাকার পুত্রের অধিনে চাকরিতে যাবেন – এটা একটা কথা হল? 

নাঈমুল খান দুর্নীতিবাজ ও অসৎ হলে পত্রিকার সম্পাদক হিসেবে তার দায়িত্ব পালন কি কাঙ্খিত? সৎ ও দুর্নীতিমুক্ত থাকা কি শুধু আমলাদের বিষয়? একজন অসৎ ও দুর্নীতিবাজ সাংবাদিক কি সমাজের অনেক বেশি ক্ষতি করতে পারে না? তার পত্রিকার সম্পাদক হওয়া নিয়ে টেনশন নেই, তাকে অভিনন্দন জানাতেও রাজি আছেন, শুধু তার প্রধানমন্ত্রীর প্রেস-সেক্রেটারি হওয়া নিয়ে টেনশন – এরকম কেন? অসৎ ও দুর্নীতিবাজ হলে নাঈমুল খানের সম্পাদক থাকা উচিত নয়, তার জেলে থাকা উচিত। সব পেশার জন্য এটাই সত্য হওয়া উচিত। 

 “তুই রাজাকার” কলামের জন্য নাঈম খানের ব্যাপারে বহু মানুষের জ্বলুনি আছে। তারা প্রত্যাশা করে একজন রাজাকার পুত্র তাদের পক্ষে থাকবে। অন্যদিকে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের লোকরা রাজাকারের বিরুদ্ধে তার কলমকে নেবে, কিন্তু ভয়ে থাকবে তার ভাগটা যেন তিনি নিতে না পারেন।  

নাঈমুল খান দক্ষতা ও বাকপটুতা দ্বারা তার অবস্থান অর্জন করেছেন একথা সত্য। জামাত-বিএনপির লোকজনের ভাষায় তিনি, “চাটুকারিতা” করে হাসিনার আস্থা অর্জন করেছেন। আচ্ছা, ঐ পদে কি শেখ হাসিনার সরকারের বিরোধী কাউকে নিয়োগ দেওয়া আশা করেন? অনেকে আছে, যারা আওয়ামী লীগ সরকারের পক্ষে কোনও অবদান ছাড়াই অনেক বড় বড় পদ হাতিয়ে নিয়েছেন। তাদেরও সমালোচনা হয়। আবার যে দক্ষতার সাথে সরকারের পারপাস সার্ভ করে তারও সমালোচনা হয়। সরকারের যদি তিনি চাটুকারিতা করে থাকেন এবং যদি তিনি যোগ্য হন, তাহলে তো সরকারের রাজনৈতিক নিয়োগে ভুল নেই। একদিন নয়, দু’দিন নয়, বছরের পর বছর নাঈমুল খান মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে এবং সংবাদপত্রের মাধ্যমে মানুষের মত প্রকাশ ও জানার অধিকারের পক্ষে কাজ করেছেন। তাতে ভুল-ভ্রান্তি ও বিচ্যুতিও আছে। কিন্তু তার অবদান মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে; অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের পক্ষে। এতে আওয়ামীলীগের কতটুকু উপকার বা ক্ষতি হয়েছে তারা বুঝবে।   

আগেও বলেছি, আবার বলছি, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব পদের জন্য সম্ভাব্য যেসব নাম শুরু থেকে আলোচনায় ছিল তারা সবাই দক্ষ, যোগ্য ও উত্তম মানুষ। তারা সবাই প্রতিষ্ঠিত এবং আরও বড় জায়গায় প্রতিষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনাও আছে। যারা যেখানে কাজ করেন তারা সেখানেই অর্জন প্রত্যাশা করেন এবং লেগে থাকলে প্রাপ্তিও আছে। তাদের কারও নিয়োগে আমার আপত্তি নেই, বরং অর্জনে অভিন্দন জানাবো। 

বিভিন্ন মহল থেকে বিরোধিতার ফলশ্রুতিতে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব হিসেবে নাঈমুল ইসলাম খানের নিয়োগ কিছুটা ঝুলে গেছে, এ আমি জানি। শেখ হাসিনা কোন সাংবাদিককে অথবা কোন আমলাকে তার প্রেস সচিব নিয়োজিত করবেন, এ সিদ্ধান্ত ও এক্তিয়ার সম্পূর্ণ তাঁর। কিন্তু একজন মানুষকে অহেতুক হেনস্তা করা বা অপদস্ত করা অনুচিত কাজ মনে করি। মুক্তিযুদ্ধের চেতনা প্রতিষ্ঠায় এক রাজাকার পুত্রের অবদানকে মানুষ যেন শ্রদ্ধায় স্মরণে রাখে।


আরও খবর



কুড়িগ্রামে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে দুই বোনসহ তিনজনের মৃত্যু

প্রকাশিত:শনিবার ০৬ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:শনিবার ২০ জুলাই ২০24 |

Image


কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি:


কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় আলাদা বিদ্যুৎস্পৃষ্টে দুই বোনসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (৫ জুলাই) বিকালের দিকে নাগেশ্বরী উপজেলার দুটি গ্রামে এসব ঘটনা ঘটে।



নিহতরা হলেন, উপজেলার কালিগঞ্জ ইউনিয়নের বেগুনীপাড়া গ্রামের শাহাদাৎ হোসেনের দুই মেয়ে সুমাইয়া (১১), মাছুমা (৬) এবং নারায়ণপুর ইউনিয়নের ব্যাপারীপাড়া গ্রামের মৃত আব্দুর রহমান মুন্সির ছেলে সিরাজুল ইসলাম (৩৫)।এসব তথ্য নিশ্চিত করেন উপজেলার কচাকাটা থানার ওসি বিশ্বদেব রায়।


স্থানীয়দের বরাত দিয়ে ওসি বিশ্বদেব রায় বলেন, বিকালে সুমাইয়া ও মাছুমা কলাগাছের ভেলা নিয়ে পাশের খালার বাড়ি যেতে রওনা দেয়। একটু দূরে যাওয়ার পর তাদের সেচ পাম্পের টানানো বিদ্যুতের তার দুই বোনের গলায় আটকে যায়। এতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয় ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।


অপরদিকে বিকাল ৬টার দিকে নারায়ণপুর ইউনিয়নের ব্যাপারীপাড়া গ্রামের সিরাজুল ইসলাম কলাগাছের ভেলায় করে পাশের বাড়ি যাচ্ছিলেন। তখন তার বাঁশের লগি বিদ্যুৎ সরবরাহের মূল তারে লাগে। এতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ঘটনাস্থলে তারও মৃত্যু হয়। 


ওসি আরো বলেন, কোনো অভিযোগ না থাকায় লাশগুলো পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ বিষয়ে আলাদা অপমৃত্যুর মামলা হবে বলে জানান তিনি। 


আরও খবর



টানা চতুর্থবারের মতো জয় পেলেন টিউলিপ সিদ্দিক

প্রকাশিত:শুক্রবার ০৫ জুলাই ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ২১ জুলাই ২০২৪ |

Image


সদরুল আইন:



যুক্তরাজ্যের সাধারণ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ শেষে চলছে ভোট গণনা। বুথফেরত জরিপে বিরোধী দল লেবার পার্টির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার আভাস পাওয়া গেছে।



 এদিকে নির্বাচনে টানা চতুর্থবারের মতো জয় পেয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাতনি টিউলিপ সিদ্দিক। শুক্রবার (৫ জুলাই) সকালে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের অফিশিয়াল ওয়েবসাইটে এ ফল প্রকাশ করা হয়।



আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, ১৪ বছর ধরে যুক্তরাজ্যের ক্ষমতায় থাকা কনজারভেটিভ পার্টি এবার বিশাল ব্যবধানে হারতে পারে। জরিপের তথ্য অনুযায়ী, লেবার পার্টি ৪১০টি আসনে জয় পেতে পারে। আর কনজারভেটিভ পার্টি পেতে পারে ১৩১টি আসন। 



বিবিসি জানিয়েছে, লেবার পার্টি জিতলে দেশটির পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হতে পারেন কেইর স্টারমার। ফল আসার পরপরই বিরোধী শিবির লেবারের সমর্থকরা ব্যাপক উচ্ছ্বাসও প্রকাশ করেন। 


এদিকে, যুক্তরাজ্যে নির্বাচনে টানা চতুর্থবারের মতো জয় পেয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নাতনি টিউলিপ সিদ্দিক। লন্ডনের হ্যাম্পস্টেড অ্যান্ড হাইগেট আসন থেকে লেবার পার্টির হয়ে লড়েছেন তিনি। এছাড়াও জয় পেয়েছেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রূপা হক। 



যুক্তরাজ্যে জাতীয় নির্বাচনে এবারই সর্বোচ্চ সংখ্যক বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থী লড়ছেন। যাদের মধ্যে একাধিক প্রার্থীর জয়ের পর মন্ত্রিসভায় স্থান পাওয়ারও সম্ভাবনা রয়েছে।


লেবার পার্টি থেকে গেল মেয়াদের চার এমপি রুশনারা আলী, টিউলিপ সিদ্দিক, ড. রূপা হক ও আফসানা বেগম এবারও লড়েছেন। একই দল থেকে এবার ভোটের লড়াইয়ে আছেন আরও চারজন। 



তারা হলেন- রুমী চৌধুরী, রুফিয়া আশরাফ, নুরুল হক আলী ও নাজমুল হোসাইন। কনজারভেটিভ দলের মনোনয়ন নিয়ে ভোটের মাঠে আছেন আতিক রহমান ও সৈয়দ সাইদুজ্জামান।


এছাড়া, ওয়ার্কার্স পার্টি অব ব্রিটেন থেকে ছয় জন এবং রিফর্ম পার্টি, লিবারেল ডেমোক্র্যাটস, স্কটিশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি ও সোশ্যালিস্ট পার্টি থেকে আছেন একজন করে। গ্রিন পার্টি থেকে তিন জন, আর স্বতন্ত্র হিসেবে ১১ বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থী লড়ছেন ভোটের মাঠে। 


জানা যায়, যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে মোট আসন ৬৫০টি। এতে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে যেকোনো দলকে এককভাবে ৩২৬টি আসনে জয় পেতে হবে।




আরও খবর



২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেট পাস হচ্ছে আজ

প্রকাশিত:রবিবার ৩০ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ২১ জুলাই ২০২৪ |

Image



বিডি টুডেস ডেস্ক:



‘সুখী, সমৃদ্ধ, উন্নত ও স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে অঙ্গীকার’ স্লোগান নিয়ে এবারের বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকা। 


দেশের ৫৩তম এই বাজেটের আকার বাড়ছে ৪ দশমিক ৬ শতাংশ। বড় কোনো পরিবর্তন ছাড়াই আজ পাস হচ্ছে প্রস্তাবিত এই বাজেট।



রোববার (৩০ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট উত্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী। পরে তা সংসদ সদস্যদের কণ্ঠভোটে পাস হবে।


৬ জুন জাতীয় সংসদে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাজেট পেশ করেন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। অর্থমন্ত্রী হিসেবে তার প্রথম বাজেট হতে যাচ্ছে এটি।


 শনিবার (২৯ জুন) জাতীয় সংসদে কয়েকটি সংশোধনীসহ অর্থবিল-২০২৪ পাস হয়েছে। বিলটি পাসের আগে বিলের উপর সংশোধনী প্রস্তাব গ্রহণের মাধ্যমে সংসদ সদস্যদের শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুযোগ বহাল রাখা হয়।


 এছাড়া ১৫ শতাংশ কর দিয়ে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়া হয়েছে।


২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেট চলতি অর্থবছরের বাজেটের চেয়ে প্রায় ৩৬ হাজার কোটি টাকা বেশি। এতে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৬ দশমিক ৭৫ ভাগ এবং মূল্যস্ফীতি ৬ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।


বিলের উপর জনমত বাছাইয়ের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হয় সংসদে। সংসদ সদস্যদের বক্তব্যের জবাবে অর্থমন্ত্রী বলেন, দ্রব্যমূল্যের দাম কমাতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, ব্যাংকসুদের হার বাজারভিত্তিক ও নীতি সুদহার প্রবর্তন করা হয়েছে। 



ডলারের দাম স্বাভাবিক রাখতে ক্রলিংপেগ পদ্ধতি অনুসরণ করা হচ্ছে। নতুন অর্থবছরে মূল্যস্ফীতি ৬ দশমিক ৫ শতাংশের মধ্যে নিয়ে আসা হবে।


তিনি বলেন, এলডিসি থেকে বেরিয়ে যাওয়ার সব সক্ষমতা অর্জন করেছে বাংলাদেশ। আওয়ামী লীগের নির্বাচনী ইশতেহারে ঘোষিত ১১টি পদক্ষেপ পূরণে বাজেটে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। কর্মসংস্থান সৃষ্টি, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবিলা ও খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।



 তিনি আরও বলেন, স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণ হলে ২০৪১ সালের মধ্যে মাথাপিছু আয় হবে ১২ হাজার ৫০০ ডলার। দারিদ্র্য শূন্যের কোঠায় নেমে আসবে। খাদ্য নিরাপত্তায় টিসিবির মাধ্যমে কোটি পরিবারকে খাদ্য সহায়তা, ওএমস কার্যক্রম চালু রাখা ও সামাজিক সুরক্ষার আওতায় খাদ্য সহায়তা দেওয়া হবে।


সংসদে পাস হওয়া বিলে ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে শুরু অর্থ বছরের জন্য আর্থিক বিধান, বিদ্যমান আইন সংশোধনীসহ কর প্রস্তাবসমূহ অনুমোদন করা হয়েছে। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অনেক সংসদ সদস্য (এমপি) নতুন নির্বাচিত হয়ে এসেছেন। 



তাদের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে এমপিদের গাড়ি আমদানিতে ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপের প্রস্তাব প্রত্যাহার করা হয়েছে। এছাড়া সম্পদশালীদের কোম্পানির কাজে ব্যবহৃত গাড়ির পরিবেশ সারচার্জ মওকুফ করা হয়েছে। 



এছাড়া রিটার্নে আগের বছরের তুলনায় ১৫ শতাংশ বেশি আয় দেখানো হলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ট্যাক্স ফাইল অডিটে ফেলবে না।


আরও খবর

রাজধানীর সেতু ভবনে আগুন

বৃহস্পতিবার ১৮ জুলাই ২০২৪




সার্ক কারেন্সি সোয়াপ চালু করল ভারত

প্রকাশিত:শনিবার ২৯ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ২১ জুলাই ২০২৪ |

Image

সার্কভুক্ত দেশগুলোর জন্য নতুন কারেন্সি সোয়াপ উইন্ডো গঠন করেছে রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া (আরবিআই)। ২০২৪-২৭ মেয়াদে তিন বছরের জন্য এই কারেন্সি সোয়াপ চালু করা হয়।

দ্য ইকোনোমিক টাইমসের খবরে বলা হয়, মোট ২৫ হাজার কোটি রুপির কারেন্সি সোয়াপ সুবিধা চালু করেছে রিজার্ভ ব্যাংক অব ইন্ডিয়া (আরবিআই)। ভারতের রিজার্ভ ব্যাংকের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক চুক্তির মাধ্যমে সার্কভুক্ত দেশগুলো কারেন্সি সোয়াপের সুবিধা গ্রহণ করতে পারবে। ভারতীয় মুদ্রাকে সমর্থনের জন্য দেশগুলো বিভিন্ন ছাড় পেয়ে থাকবে।

এ ছাড়া পৃথক সোয়াপ উইন্ডোর মাধ্যমে ভারতের রিজার্ভ ব্যাংক দুই বিলিয়ন মার্কিন ডলার ও ইউরোতে অদলবদল চুক্তি বজায় রাখবে। এর আগে, ২০১২ সালের ১৫ নভেম্বর বৈদেশিক মুদ্রার তারল্য চাহিদা বা অর্থপ্রদানের ভারসাম্য সংকট মোকাবিলা করতে ব্যাক-আপ তহবিল সরবরাহের জন্য সার্ক কারেন্সি সোয়াপ ফ্যাসিলিটি চালু করে ভারত।

সার্কভুক্ত দেশগুলো হলো, আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, ভুটান, ভারত, মালদ্বীপ, নেপাল, পাকিস্তান ও শ্রীলঙ্কা।

প্রসঙ্গত, কারেন্সি সোয়াপ প্রথম চালু হয় ১৯৮১ সালে বিশ্বব্যাংক ও আইবিএমের মধ্যে। এটি মূলত আন্তঃদেশীয়। দুই দেশের দুই কোম্পানি বিনিময় হারের ঝুঁকি কমানো এবং অপেক্ষাকৃত কম সুদে পুঁজির সহজলভ্যতার কারণে দুই মুদ্রার এই অদলবদল সুবিধা গ্রহণ করে থাকে। আন্তর্জাতিক ফাইন্যান্সে এটিকে এক ধরনের হেজিং বা নিরাপত্তার ঢাল হিসেবে দেখা হয়। ২০০৮ সালে বৈশ্বিক আর্থিক সংকটের সময় যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ কিছু উন্নয়নশীল দেশকে এ সুবিধা দিয়েছিল তারল্যের স্বার্থে।


আরও খবর



হজে গিয়ে এ পর্যন্ত ৫৩ বাংলাদেশির মৃত্যু

প্রকাশিত:শুক্রবার ২৮ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:রবিবার ২১ জুলাই ২০২৪ |

Image

চলতি বছর পবিত্র হজ পালন করতে গিয়ে এ পর্যন্ত ৫৩ বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে পুরুষ ৪০ এবং নারী ১৩ জন। তাদের মধ্যে মক্কায় ৪২ জন, মদিনায় ৪ জন, মিনায় ৬ জন ও জেদ্দায় একজন মারা গেছেন। সৌদি আরবের আইন অনুযায়ী মারা যাওয়া ব্যক্তিদের সে দেশে দাফন করা হচ্ছে।

বৃহস্পতিবার রাতে দেওয়া বুলেটিনে বলা হয়, পবিত্র হজ পালন শেষে এখন পর্যন্ত ২৬ হাজার ৯০৯ জন হাজি দেশে ফিরেছেন। সৌদি থেকে ৬১টি ফ্লাইটে এসব হাজি বাংলাদেশে এসেছেন। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স ১৭টি, সৌদি এয়ারলাইন্স ২৪টি এবং ফ্লাইনাস এয়ারলাইন্স ২০টি ফ্লাইট পরিচালনা করে।

পবিত্র হজ পালন শেষে দেশে ফিরেছেন ৩৯২০ জন‌, ৩৫ হাজির মৃত্যু হজ শেষে গত ২০ জুন থেকে দেশে ফেরার ফ্লাইট শুরু হয়। ওইদিন বাংলাদেশ বিমানের প্রথম ফিরতি ফ্লাইট ৪১৭ হাজি নিয়ে শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। আগামী ২২ জুলাই পর্যন্ত হাজিদের ফিরতি ফ্লাইট অব্যাহত থাকবে।

প্রসঙ্গত, বাংলাদেশ থেকে মোট ৮৫ হাজার ২২৫ জন (ব্যবস্থাপনা সদস্যসহ) হজযাত্রী সৌদি আরবে গেছেন। আগামী বছর (২০২৫) বাংলাদেশের জন্য এক লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জনের কোটা দিয়েছে সৌদি আরব।

এদিকে, চলতি বছর প্রখর তাপপ্রবাহ ও অসহনীয় গরমের জেরে হজ করতে গিয়ে সৌদি আরবে রেকর্ড মৃত্যু এক হাজার ৩০০ ছাড়িয়েছে। সৌদিতে তীব্র দাবদাহের কারণে ওই হজযাত্রীরা মারা গেছেন বলে জানিয়েছে সৌদি কর্তৃপক্ষ। অন্যদিকে হজ পালন করতে গিয়ে এখন পর্যন্ত ৫৩ বাংলাদেশির মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।‌ এর মধ্যে হজের আনুষ্ঠানিকতা শুরুর আগে ১৭ জন, বাকি ৩৬ জন‌ হজের আনুষ্ঠানিকতার শুরুর পর মারা গেছেন। মারা যাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে ৫০ জনের পরিচয় প্রকাশ করেছে হজ পোর্টাল। বাকি তিনজনের পরিচয় এখনো প্রকাশ করতে পারেনি ধর্ম মন্ত্রণালয়।

সৌদি আরবের আইন অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি হজ করতে গিয়ে যদি মারা যান, তাহলে তার মরদেহ সৌদি আরবে দাফন করা হয়। নিজ দেশে আনতে দেওয়া হয় না। এমনকি পরিবার-পরিজনের কোনো আপত্তি গ্রাহ্য করা হয় না। মক্কায় হজযাত্রী মারা গেলে মসজিদুল হারামে জানাজা হয়।


আরও খবর