Logo
শিরোনাম

তুয়ারী মারাইং ট্রেইল ভ্রমণ

প্রকাশিত:সোমবার ২০ জুন ২০22 | হালনাগাদ:বুধবার ১০ আগস্ট ২০২২ |
Image

গন্তব্য তুয়ারী মারাইং। সঙ্গী অদম্য দামালের দল দে-ছুট ভ্রমণ সংঘ। খাগড়াছড়িগামী রাতের গাড়িতে চড়ে ভোরেই পৌঁছি। হেটেলে উঠে সাফসুতর হতে হতেই দীঘিনালা পথের বাহন মাহেন্দ্র প্রস্তুত। গাইড মিল্টন ত্রিপুরার নির্দেশনা মতে ছুটলাম। পথে ব্রেক দিয়ে পেটে কিছু দানাপানি ঢুকিয়ে নিই। সারাদিন কী পাব আর খাবো। তাই গরম গরম ভাত, ডিম, ভর্তা, ডাল দিয়েই সকালের নাশতা সেরে নিলাম। এরপর ছুটলাম পিচঢালা আঁকাবাঁকা পথে।

যেতে যেতে নয় মাইল ছাড়িয়ে কিছুটা এগিয়ে মাহেন্দ্র ঢুকে যায় ইট-সুরকির পথ মাইতুইপাড়ার দিকে। মনের ভেতর বেশ ভালোলাগা কাজ করতে থাকে। চারপাশ সুনসান নীরবতা ভর করা অরণ্য ঘেরা সরু পথ। আলহাজ মোস্তফা হাকিম বিদ্যা নিকেতন ছাড়িয়ে সীমানাপাড়ায় পৌঁছে গাড়ি ব্রেক। এবার শুরু ঢেউ খেলানো পাহাড়ে ট্র্যাকিং। মাথার উপর নীল আসমানজুড়ে শরৎ কালের শুভ্রতায় ছুটে চলছি। সঙ্গে জুমের ফসলের মন উদাস করা ঘ্রাণ।

চলার পথে ছোট্ট একটি জুমঘরে খানিকটা সময় জিরিয়ে নেওয়া। মাঝেমধ্যে দূর থেকে দৈত্যাকার গাছের ঘন অরণ্য দেখার মাঝে অদ্ভুদ অনুভূতি দোল দেয়। এরকমভাবে প্রায় ঘণ্টাখানেক হাইকিং-ট্র্যাকিং করার পর, এক বিশাল খাদের কিনারায় গিয়ে থামতে হয়। এবার চিকন চিকন বাঁশের ফাঁক গলে নামতে হবে। দেখতে এসেছি -দেখতেই হবে।

 তাই লতা-গুল্মের সাহায্যে নেমে যাই। নামলাম তো ঠিকই। কিন্তু এর পরের দৃশ্য আরও ভয়ঙ্কর। অনবরত পানি গড়িয়ে যাচ্ছে। প্রায় দেড়শ ফুট উপর হতে নিচের দিকে তাকিয়ে দেখি পাথর আর পাথর। ঝুম বর্ষায় এটাও হয়তো একটা ঝর্ণার রূপ ধারণ করে থাকে। ঠিক ওই জায়গাটা দিয়েই ১০/১২ ফুট নিচে নামতে হবে। একটু এদিক সেদিক হলেই সাইজ। কি আর করা। দুর্বার দে-ছুট বলে কথা। সঙ্গীদের সাহায্যে রশি বেয়ে নেমে পড়ি। সেইরকম রোমাঞ্চকর অনুভূতি। লিখে বুঝানো মুশকিল। বুঝতে হলে যেতে হবে মায়াবি প্রকৃতির সান্নিধ্যে ঘেরা তুয়ারী মারাইং। প্রকৃতি যেমনি মায়াবি, ঠিক তেমনি আবার চরম প্রতিশোধ পরায়ন। 

যাক সেসব গুরুগম্ভীর কথা। বরং বাকি অংশের ট্রেইল নিয়ে গল্প করি। তুয়ারী মারাইং ঝর্ণার দেখা পেতে আর খুব বেশি পথ ছিল না। যতটুকুনই ছিল শুধু পাথর আর পাথর। দুইপাশে খাড়া উঁচু পাহাড়। ওর মাঝ দিয়েই চলছিল আমাদের হাইকিং। প্রাচীন গাছগুলোর ডালপালা এমনভাবে একটা আরেকটার সঙ্গে জড়িয়েছিল যে কেউ প্রথম দেখায় ভুতুড়ে বাড়ির প্রান্তর মনে করে থাকবে। ভ্রমণান্দ ঠিক এই জায়গাটাতেই। যেতে যেতে খুব অল্প সময়ের মধ্যেই ঝর্ণার দেখা মিলে। 

সুবহানাল্লাহ। তুয়ারী মারাইং ঝর্ণার রূপ দেখব নাকি এর পরিবেশের নয়নাভিরাম সৌন্দর্য দেখব। কোনটা রেখে কোনটায় দৃষ্টি আটকাব। পুরাই অস্থির প্রকৃতি। প্রায় শতফিট উচ্চতা থেকে ঝর্ণার পানীয় ধারা পতনের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য। মন মাতানো অনবরত ছন্দতোলা রিমঝিম শব্দ। পানি পড়তে পড়তে ঝর্ণার সামনে খুব সুন্দর ক্যাসকেড তৈরি হয়েছে। যেখানে অবলীলায় সাঁতার কাটা যায়। ঝর্ণার ডান সাইডের পাহাড়ের পাদদেশটা চমৎকার আকৃতির। যেন বিশাল একটি থালা। 

সম্ভবত এই কারণেই ঝর্ণার নামটা তুয়ারী মারাইং। তুয়ারী অর্থ কুয়া/কূপ আর মারাইং অর্থ থালা/বাসন। অর্থাৎ কুয়ার থালা। এটি একটি ত্রিপুরা ভাষার শব্দ। সব মিলিয়ে তুয়ারী মাইরাং ঝর্ণা এর পাহাড়ের পাদদেশের ভৌগোলিক আকৃতিসহ এর যাবার ট্রেইলটা অসাধারণ সৌন্দর্য বহন করে আছে। যে কোনো ভ্রমণপিপাসু তুয়ারী মারাইং দেখতে গিয়ে আমৃত্যু সুন্দর স্মৃতির ঝুলি নিয়ে ফিরতে পারবেন।

যাবেন কীভাবে: ঢাকা-খাগড়াছড়ি রুটে বিভিন্ন পরিবহনের বাস সার্ভিস চলাচল করে থাকে। খাগড়াছড়ি বাসস্ট্যান্ড হতে চান্দের গাড়ি/মাহেন্দ্র/সিএনজিতে দীঘিনালা নয় মাইল এলাকার সীমানাপাড়া। মাইতুই বা সীমানাপাড়া হতে স্থানীয় গাইড পাওয়া যায়।

থাকবেন খাবেন কোথায়: খাগড়াছড়ি শহরে মানভেদে বিভিন্ন আবাসিক খাবার হোটেল রয়েছে। চাইলে তুয়ারী মারাইং দিনে দিনে দেখে রাতের গাড়িতে নিজ গন্তব্যে ফিরতে পারবেন।

সতর্কতা: অ্যাডভেঞ্জার ট্রাভেল করার উপযোগী রশি, শুকনো খাবার পর্যাপ্ত পানিসহ প্রয়োজনীয় ওষুধ সঙ্গে নেবেন।

টিপস: শীত মৌসুমে তুয়ারী মারাইং ট্রেইল ভ্রমণ হবে অনন্য।

 

 

 


আরও খবর

নতুন রূপে সেজেছে সাগরকন্যা

মঙ্গলবার ০২ আগস্ট 2০২2




আফ্রিকায় সোনাইমুড়ীর ২ যুবককে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা

প্রকাশিত:রবিবার ২৪ জুলাই ২০২২ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ০৯ আগস্ট ২০২২ |
Image

অনুপ সিংহ, নোয়াখালীঃ

দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রকাশ্যে নোয়াখালী সোনাইমুড়ীর প্রবাসী ২ যুবক কে গুলি করে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরও দুজন। 

নিহত আরিফ হোসেন (২২) সোনাইমুড়ীর বজরা ইউনিয়নের দক্ষিণ পশ্চিম বদরপুর গ্রামের আবদুর রশিদ মিয়ার বাড়ির মহিন উদ্দিনের ছেলে, মো.শুভ (২৪) উপজেলার পোরকরা গ্রামের আবদুল লতিফের ছেলে।

রোববার (২৪ জুলাই) বিকেলের দিকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন দক্ষিণ আফ্রিকা প্রবাসী শামসুল আলম রবিন। এর আগে,গতকাল গতকাল শনিবার (২৩ জুলাই) স্থানীয় সময় রাত সাড়ে ৮টার দিকে ব্রাকফান শহরের এ ঘটনা ঘটে।   

দক্ষিণ আফ্রিকা প্রবাসী শামসুল আলম রবিন জানান, নিহত দুই যুবক আফ্রিকার ব্রাকফান শহরের একটি বাংলাদেশীর দোকানে কাজ করে। গতকাল শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে দুজন কৃষ্ণাঙ্গ সন্ত্রাসী তাদের দোকানে প্রবেশ করে। একপর্যায়ে  সন্ত্রাসীরা শুভকে গুলি করে।  আরিফ, হাসানসহ তিনজনকে কুপিয়ে গুরুত্বর আহত করে। পরে স্থানীয় লোকজন তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক শুভ ও আরিফকে মৃত ঘোষণা করেন।  

আফ্রিকা প্রবাসী শামসুল আলম রবিন আরো জানান, সন্ত্রাসীদের চাঁদা না দেওয়ায় তাদের গুলি করে এবং কুপিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে মালামাল নিয়ে পালিয়ে যায় সশস্ত্র সন্ত্রাসীরা।


আরও খবর

মালয়েশিয়ায় কর্মী যাওয়া শুরু

মঙ্গলবার ০৯ আগস্ট ২০২২




কু‌মিল্লা চৌদ্দগ্রামে পানিতে ডুবে দুই ভাইয়ের মৃত্যু

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ২৮ জুলাই ২০২২ | হালনাগাদ:বুধবার ১০ আগস্ট ২০২২ |
Image

কু‌মিল্লা ব্যুরো ঃ

কু‌মিল্লা চৌদ্দগ্রা‌মের আবদুল কাইয়ুম ফাহমিদ(৯) ও আবদুর রহমান ফাওয়াজ(৮)। দু’জনই আপন চাচাতো-জেঠাতো ভাই। সমবয়সী হওয়াতে তারা একসাথে চলাফেরা করতো। চৌদ্দগ্রা‌মের  সোনাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্র তারা।             বৃহস্পতিবার স্কুল ছুটির পরে সবার অগোচরে দু’জনই বাড়ির পাশের মসজিদের পুকুরে গোসল করতে যায়। বিষয়টি কেউ জানতো না। বাড়িতে ফিরতে দেরি হওয়াতে ফাহিমের বাবা জালাল উদ্দিন ও ফাওয়াজের বাবা বেলাল হোসেনসহ আত্মীয় স্বজনরা গ্রামের বিভিন্ন জায়গায় তাদেরকে খোঁজাখুজি করে। কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না তাদেরকে। অবশেষে ওই পুকুরে স্থানীয়রা গোসল করতে নেমে দু’জনের লাশের সন্ধান পায়। মর্মান্তিক এ ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার দুপুরে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার বাতিসা ইউনিয়নের সোনাপুর গ্রামে। দুইজনের মৃত্যুতে পরিবারসহ আত্মীয় স্বজনের মাঝে চলছে শোকের মাতম। 

নিহত দুই শিশুর জেঠা মীর হোসেন বলেন, ফাওয়াজ ও ফাহমিদ স্কুল ছুটি শেষে গোসল করতে সবার অগোচরে বাড়ি থেকে বের হয়। আমরা কেউ জানতাম না। তাদের বাবা এবং আমরাসহ গ্রামের অনেক জায়গায় খোঁজাখুজি করেও তাদেরকে পাইনি। তারপর বাড়ির পাশের মসজিদের পুকুরের ঘাটে দু’জনের গেঞ্জি এবং প্যান্ট দেখতে পাই। এতে আমাদের সন্দেহ হলে পুকুরে নামার সাথে সাথেই আমার পায়ের সাথে মানুষের শরীরের স্পর্শ পাই। স্থানীয়দের সহায়তায় ডুব দিয়ে তুলে দেখি-দু’জন একে অপরকে জড়িয়ে ধরে আছে। তাদেরকে চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদেরকে মৃত ঘোষণা করেন। 

ফাহমিদের বাবা জালাল উদ্দিন কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় আমার এক বন্ধুর মেয়ে মারা যায়। তাকে দেখতে গিয়ে ওইখানে দেরি হয়ে যায়। প্রতিদিন ফাহমিদ ও ফাওয়াজকে আমি নিজ হাতে গোসল করাই। আজ তারা নিজেরা গোসল করতে গিয়ে আমাদের দুই ভাইয়ের বুক খালি করে চলে গেল। 

ফাওয়াজের বাবা বেলাল হোসেন বলেন, আমি চৌদ্দগ্রাম গিয়েছিলাম। আসতে দেরি হয়েছে। প্রতিদিন দুইজনকে স্কুল থেকে নিয়ে আসতাম। দুইজনকে একসাথে খাওয়াতাম। আজ কেন যে, চৌদ্দগ্রাম গেলাম নিজেও বুঝতে পারছি না। এ কথা বলেই তিনি অজ্ঞান হয়ে যান। 

সোনাপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত শিক্ষক হোসনেয়ারা বেগম বলেন, ফাওয়াজ ও ফাহমিদ দুইজনই আমার স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণীর ছাত্র। বৃহস্পতিবার তারা স্কুলে এসেছিল। ছুটি শেষে বাড়িতে গিয়ে গোসল করতে নেমে দুইজনই মারা যায়। বিষয়টি অত্যন্ত হৃদয় বিদারক। 

কুমিল্লা চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা শুভ রঞ্জন চাকমা বলেন, ফাহমিদ ও ফাওয়াজ আপন চাচাতো-জেঠাতো ভাই। তারা সাঁতার জানতো না। বাড়ির পাশের পুকুরে গোসল করতে নেমে তাদের মৃত্যু হয়েছে।


আরও খবর



বুমেরাং শব্দটির কথা মনে পড়ে গেল

প্রকাশিত:শুক্রবার ২৯ জুলাই ২০২২ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ০৯ আগস্ট ২০২২ |
Image

শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান চৌধুরী ঃ

 ইতিহাস থেকে জানা যায় বুমেরাং শব্দটি অস্ট্রেলিয়ার নিউসাউথ ওয়েলসের একটি আঞ্চলিক ভাষা থেকে এসেছে। বুমেরাং একখণ্ড বক্রাকৃতি কাঠ, যা অস্ত্র হিসেবে বা খেলার জন্য ব্যবহৃত হয়। কোনো একটি লক্ষ্যবস্তুকে উদ্দেশ্য করে এটি ছুড়ে মারলে সেটি আবার নিজের কাছে ফিরে আসে।

এটি কোনো জাদুবিদ্যা নয়। পদার্থবিজ্ঞানের একটি মৌলিক নীতি মেনে এটি কাজ করে। তবে বুমেরাংয়ের সঙ্গে মানুষের কর্মের ফলাফলের একটা যোগসূত্র থাকতে পারে। যেটি মটিভেশনের একটি থিওরির সঙ্গে মেলানো যেতে পারে। বি এফ স্কেনার তাঁর বিহেভিয়ার মডিফিকেশন থিওরিতে বলেছেন, ভালো কাজের ফলাফল ভালো হয়, মন্দ কাজের ফলাফল মন্দ হয়। এর মানে দাঁড়াচ্ছে, মানুষ মন্দ কিছু করলে সেটা বুমেরাং হয়ে তার কাছে ফিরে আসে। ভালো কাজের ফলাফলও বুমেরাং হয়ে ভালো ফলাফলের জন্ম দেয়। আপাতদৃষ্টিতে যে মানুষ অবৈধভাবে অর্থ-সম্পদ গড়ে তুলছে তাকে সুখী মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে সে সুখী নয়। হার্ভার্ড বিজনেস স্কুলের অধ্যাপক ও সহলেখক মাইকেল নরটনও ‘হ্যাপি মানি : দ্য সায়েন্স অব স্মার্টার স্পেনডিং’ বইয়ের ভাবনাটা অনেকটা একই রকম। বইটির এক জায়গায় বলা হয়েছে, ‘আসলে সুখকে পাশে রেখে আমরা অর্থ দিয়ে কিছু কিনি না। বরং আমরা আমাদের সুখকে পণ্যের মধ্যে স্থানান্তর করতেই অর্থ ব্যয় করি। যেটি আসলে মূল্যহীন। ড. ম্যাডিলিন লিভিনের দ্য প্রাইস অব প্রিভিলেজে দেখানো হয়েছে কিভাবে সময়ের সঙ্গে মূল্যবোধের পরিবর্তনের কারণে মানুষ ক্রমেই অর্থের দিকে ঝুঁকেছে। 

উনিশ শ ষাটের দশক ও সত্তরের দশকের প্রারম্ভে কেন ছাত্র-ছাত্রীরা কলেজে যায়, এ প্রশ্ন করা হলে তাদের বেশির ভাগই উত্তর দিত শিক্ষিত হয়ে ওঠা ও জীবন সম্পর্কে জ্ঞান বৃদ্ধি করার জন্যই তারা কলেজে যায়। খুব কমসংখ্যক ছাত্র-ছাত্রী বলত, অনেক অর্থ উপার্জন করার জন্য তারা কলেজে যায়। কিন্তু উনিশ শ নব্বইয়ের দশকের শুরুর দিকে মানুষের মূল্যবোধের পরিবর্তন লক্ষণীয়। এ সময় ছাত্র-ছাত্রীদের কেন তারা কলেজে যায়, এই প্রশ্ন করা হলে বেশির ভাগ ছাত্র-ছাত্রীই উত্তর দিত অনেক অর্থ উপার্জন করার জন্য তারা কলেজে যায়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষ ইতিবাচক মূল্যবোধকে বিসর্জন দিয়ে নেতিবাচক মূল্যবোধ দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে। নেতিবাচক ভাবনা কখনো ইতিবাচক ফলাফলের জন্ম দিতে পারে না। এ কারণে কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে এই মূল্যবোধের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে অবসাদ, আত্মহত্যা এবং অন্যান্য মানসিক সমস্যার হার হঠাৎ করে অনেকটাই বেড়ে গিয়েছিল। মূল্যবোধের কেন এমন পরিবর্তন ঘটল? আমাদের লোভ? মানবিক শক্তির চেয়ে টাকার শক্তির আধিপত্য? সৃজনশীল ও উদার দৃষ্টিভঙ্গির বদলে সংকীর্ণ ও নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি? দেশপ্রেম ও দেশের স্বার্থের চেয়ে নিজ স্বার্থ ও গোষ্ঠী স্বার্থকে প্রাধান্য? বিশ্বাসঘাতকতা? মুখ ও মুখোশ? দীনতা? দৃশ্যমান শক্তি? দৃশ্যমানের ভেতরের অদৃশ্যমান শক্তি? চেনা শক্তির অচেনা সম্পর্ক? দেয়ালের পর দেয়াল? মানুষের অভিনয়? মানুষ যা না সেটা প্রমাণের চেষ্টা? খেলার পেছনের খেলা? প্রকৃতির প্রতি অনাচার? পেশিশক্তি? হয়তো কোনোটাই না কিংবা সবগুলো? হয়তো জানা-অজানা অনেক কিছু। যা আমরা জানি-বুঝি কিন্তু বলতে গেলেই থমকে যায়। 

এই প্রতিবন্ধকতাগুলো যদি মানবিক মূল্যবোধের উৎকর্ষের পথে প্রতিবন্ধকতা বা দেয়াল হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তবে সে দেয়াল ভাঙতে হবে। এক দিন বা দুই দিনে হয়তো তা হবে না। তবে দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা ও মানবিক আচরণের নানা দিক বিশ্লেষণ করে এই প্রাচীর ভাঙতেই হবে? সে ভাবনা হোক আমাদের সবার। শিক্ষাক্ষেত্রে মানবিক আচরণ উন্নয়নের বিষয়টিকে যুক্ত করলে ইতিবাচক ফলাফল আসতে পারে। তবে সেটি হতে হবে ধারাবাহিক ও মানুষের বেড়ে ওঠার সঙ্গে সম্পৃক্ত।

অসততা ও অন্যায়ের ফলাফল যে ভালো হয় না ফেসবুক থেকে সংগৃহীত গল্পটি থেকে সে শিক্ষা আমরা গ্রহণ করতে পারি। ইন্টারভিউ টেবিলের স্যার কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন। তারপর ভারী গলায় বললেন—বাহ! তোমার সার্টিফিকেট তো বেশ ভালো! তোমাকে আর প্রশ্ন করতে চাচ্ছি না। ধরে নাও তুমি চাকরিটি পেয়ে গেছ। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে বড় স্যারকে উপহার হিসেবে পাঁচ লাখ টাকা দিতে হবে। এক সপ্তাহের মধ্যে টাকাটা জমা করে দাও। তারপর তোমার নিয়োগ হবে। ছেলেটি ইন্টারভিউ রুম থেকে বের হয়ে বাড়িতে এসে তার বাবাকে জানাল, পাঁচ লাখ টাকা না হলে তার চাকরিটা হবে না। গ্রামের সহজ-সরল বাবা নিজের ছেলের চাকরির জন্য ভিটাবাড়ি বিক্রি করে পাঁচ লাখ টাকা জোগাড় করলেন। তারপর বড় স্যারকে উপহার হিসেবে পাঁচ লাখ টাকা দিয়ে ছেলেটি চাকরি পেয়ে গেল। আজ বড় স্যারের ছেলের জন্মদিন। বাড়িতে বিশাল পার্টির আয়োজন করা হয়েছে। 

তিনি বাড়িতে ঢুকেই তার ছেলের নাম ধরে ডাকতে শুরু করলেন। ছেলে কাছে আসতেই বড় স্যার ‘হ্যাপি বার্থডে মাই সান’ বলতে বলতে ছেলের হাতে পাঁচ লাখ টাকার বাইকের চাবি তুলে দিলেন। বাইক পেয়ে ছেলেটি খুশিতে আত্মহারা হয়ে বাবাকে জড়িয়ে ধরে চিৎকার দিয়ে বলল, আমার বাবা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ বাবা। বড় স্যারের ছেলে আজ বাইক নিয়ে ঘুরতে বেরিয়েছে ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার বেগে রাজপথে ছুটে চলেছে বাইক। হঠাৎ ট্রাকের সঙ্গে ধাক্কা—সব কিছু থেমে গেল। বড় স্যারের ছেলেকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হলো। হাসপাতালের বড় ডাক্তার সাহেব জানালেন, আপনার ছেলের অবস্থা ভালো না, খুব জটিল একটা অপারেশন করাতে হবে। হাসপাতালের কাউন্টারে ১০ লাখ টাকা জমা করে দিন। বড় স্যার কোনো উপায় না দেখে মেয়ের বিয়ের জন্য ব্যাংকে জমিয়ে রাখা টাকাটা কাউন্টারে জমা করে দিলেন। 

বড় ডাক্তার সাহেব আজ খুব খুশি। তিন-চার লাখ টাকার অপারেশনের জন্য ১০ লাখ টাকা নিয়েছেন, পুরোটাই লাভ। খুশিতে তিনি তাঁর একমাত্র মেয়ের জন্য স্বর্ণের নেকলেস কিনে বাসায় ফিরলেন। বাসায় ঢুকেই তিনি তাঁর কলেজপড়ুয়া মেয়েকে মামণি মামণি বলে ডাকতে শুরু করলেন। ডাক্তার সাহেবের বউ কাঁদতে কাঁদতে বললেন, তাঁদের মেয়ে এখনো বাসায় ফেরেনি। বড় ডাক্তার সাহেব তাঁর মেয়েকে অনেক খোঁজাখুঁজি করলেন, কোথাও কোনো খোঁজ না পেয়ে তিনি যখন দিশাহারা হয়ে পড়লেন, ঠিক তখনই অপরিচিত এক নম্বর থেকে ফোন এলো। ফোনেও ওই প্রান্ত থেকে জানাল, আপনার মেয়ে আমাদের কাছে, মেয়েকে ফেরত পেতে হলে মুক্তিপণ হিসেবে ২০ লাখ টাকা দিতে হবে। কথাটা শুনে বড় ডাক্তার সাহেবের স্ত্রী স্ট্রোক করলেন। 

এ ঘটনা থেকে একটি বিষয় পরিষ্কার তা হলো মানুষকে তার কর্মের ফল ভোগ করতেই হয়। কাজেই যেকোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে মানুষকে তার ইতিবাচক ও নেতিবাচক ফলাফলগুলো বিশ্লেষণ করে দেখতে হবে। মানুষকে তার মানবিক আচরণ দ্বারা পরিচালিত হতে হবে। দানবিক আচরণ বা অন্য কোনো নেতিবাচক শক্তির আচরণ দ্বারা মানুষ প্রভাবিত হলে তার ফলাফল কখনো শুভকর হয় না। মানুষ তার বিবেক দ্বারা তাড়িত হোক, ভেতরের ঘুমন্ত সত্তাকে জাগিয়ে তুলুক, তবেই মানুষ তার কর্মের মাধ্যমে নিজে যেমন সমৃদ্ধ হবে, সমাজও তেমনি মানুষের দ্বারা সমৃদ্ধ হবে।


আরও খবর

পরাজয় মানুষকে আপন-পর চেনাতে শেখায়

বৃহস্পতিবার ০৪ আগস্ট ২০২২




মিরপুরে স্বামীর ছুরিকাঘাতে স্ত্রী নিহত

প্রকাশিত:শুক্রবার ০৫ আগস্ট ২০২২ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ০৯ আগস্ট ২০২২ |
Image

রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে পরকিয়া সন্দেহে স্ত্রীর গলায় ছুরি চালিয়ে হত্যা করেছে স্বামী। এ ঘটনায় মেয়েটির স্বামী আব্দুল হান্নানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, দুদিন আগে খুলনা থেকে ঢাকায় এসে গার্মেন্টেসে চাকরি নেন গৃহবধূ সাথী। কিন্তু কারো প্রেমে পড়ে ঘর ছেড়েছে এমন সন্দেহে হান্নান ঢাকায় এসে তাকে খুঁজে বের করেন। বৃহস্পতিবার রাত ৮ টার দিকে, গার্মেন্টেস থেকে ফেরার পথে সাথীকে পল্লবীর সাত নম্বর সেকশনের রাস্তায় থামায় হান্নান। সেখানেই তিনি সাথীর ওপর চড়াও হয়ে গলায় ছুরি চালিয়ে দেন। এলাকার লোকজন সাথীকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। চিকিৎসকরা জানান অতিরিক্ত রক্ত ক্ষরণে হাসপাতালে পৌঁছার আগেই মারা গেছেন সাথী 


আরও খবর

দল গোছানোর কাজে গতি আনছে আ.লীগ

বুধবার ০৩ আগস্ট ২০২২




২০২৩ সালে জনসংখ্যায় চীনকে টপকে যাবে ভারত

প্রকাশিত:রবিবার ২৪ জুলাই ২০২২ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ০৯ আগস্ট ২০২২ |
Image

সম্প্রতি জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে জনানো হয় ২০২৭ সালের মধ্যে জনসংখ্যার দিক দিয়ে চীনকে ছাড়িয়ে বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশে পরিণত হবে ভারত। তবে সংস্থাটির জনসংখ্যা বিভাগের সর্বশেষ প্রতিবেদন বলছে, আগামী ৭৮ বছরে প্রায় ৪১ কোটি জনসংখ্যা হারাতে চলেছে ভারত। সেই সময় শি জিনপিংয়ের দেশের জনসংখ্যা দাঁড়াতে পারে মাত্র ৪৯.৪ কোটিতে। আর তা হলে চীনের জনসংখ্যা হ্রাস পাবে ৯৩.২ কোটি।

আমেরিকার স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় দাবি করা হয়েছে, ভারতের জনসংখ্যার এই ব্যাপক সঙ্কোচন কোনো প্রতিষেধক নয়। বরং গবেষকদের মতে, কোনো দেশের জনসংখ্যার বৃদ্ধি নেতিবাচক হয়ে গেলে সেই দেশের জ্ঞান এবং জীবনযাত্রার মানও স্থবির হয়ে যায়। ধীরে ধীরে অবলুপ্তির দিকে এগিয়ে যায় ওই জনগোষ্ঠী।

জাতিসংঘের জনসংখ্যা বিভাগের সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২২ সালে ভারতের জনসংখ্যা প্রায় ১৪১.২ কোটি। ২১০০ সালে তা কমে ১০০.৩ কোটিতে নেমে আসবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। ফলে সামনের বছরগুলোতে ভারতের জনসংখ্যার ঘনত্বও উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাবে। ভারত ও চীনের জনসংখ্যা বর্তমানে প্রায় সমান। তবে জনঘনত্বের ক্ষেত্রে দুই দেশের বিশাল পার্থক্য রয়েছে। ভারতে প্রতি বর্গ কিলোমিটারে গড়ে ৪৭৬ জন মানুষ বাস করেন। সেখানে চীনে প্রতি বর্গ কিলোমিটারের গড় জনসংখ্যা মাত্র ১৪৮ জন। ২১০০ সাল নাগাদ ভারতের জনঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে ৩৩৫ জনে নেমে আসবে বলে অনুমান করা হচ্ছে। ভারতের জনঘনত্বের এই পতন, সামগ্রিকভাবে বিশ্বের জনঘনত্বের পতনের থেকে অনেকটাই বেশি হবে বলেই মনে করছেন গবেষকরা।

কিন্তু জনসংখ্যা এবং জনঘনত্বের এই ব্যাপক হ্রাসের কারণ কি? স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের দাবি— এর একমাত্র কারণ ভারতের প্রজনন হার কমে যাওয়ার কারণেই জনসংখ্যা ও জনঘনত্বও ক্রমে কমবে। বর্তমানে ভারতের প্রজনন হার নারী প্রতি ১.৭৬ জন। অর্থাৎ প্রতি মহিলা পিছু ১.৭৬ জন শিশু জন্ম নিচ্ছে। ২০৩২ সালে এই প্রজনন হার কমে ১.৩৯-এ দাঁড়াবে বলে অনুমান করছেন বিজ্ঞানীরা। একইভাবে কমতে কমতে ২০৫২ সালে প্রজনন হার হবে ১.২৮, ২০৮২ সালে ১.২ এবং ২১০০ সালে আরও কমে গিয়ে দাঁড়াবে নারী প্রতি ১.১৯-এ।

তবে শুধু ভারতেই নয়, প্রজনন হার কমার এই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে চীন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-সহ বিশ্বের প্রায় সবগুলো দেশেই। ভারতের সঙ্গে সঙ্গে আগামী শতকে বিশ্বের প্রায় সব দেশেই ক্রমে জনসংখ্যা ও জনঘনত্ব কমবে বলে মনে করা হচ্ছে।

জাতিসংঘের ধারণা, ২১০০ সালে চীনের জনসংখ্যায় আশ্চর্যজনক পতন দেখা যাবে। বর্তমান জনসংখ্যা থেকে ৯৩.২ কোটি কমে গিয়ে শি জিনপিংয়ের দেশের জনসংখ্যা সেই সময় দাঁড়াতে পারে মাত্র ৪৯.৪ কোটিতে। বিশ্বের ক্ষেত্রেও জনসংখ্যা ও জনঘনত্বের এই পতনের কারণ উর্বরতার হার বা প্রজনন হার কমে যাওয়া। গবেষকদের মতে, ২০৫০ সালের মধ্যে গোটা বিশ্বেরই গড় প্রজনন হার ০.৫-এর নিচে নেমে যেতে পারে। অর্থাৎ প্রতি দুই জন নারী প্রতি জন্ম নিতে পারে মাত্র একটি করে শিশু।

স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণায় বলা হয়েছে, কোনো দেশ যত ধনী হয়, ততই সেই দেশের প্রজনন হার কমতে থাকে। এর ফলে সেই দেশের জনসংখ্যা স্থির থাকে না। বরং, জনসংখ্যার ক্রমে কমতে থাকে। তবে বিশ্বের জনসংখ্যার এই ক্রমহ্রাসমান প্রবণতার পুরো উল্টো পথে হাঁটতে পারে আফ্রিকার দেশগুলো।

জাতিসংঘের মতে, কঙ্গো, মিশর, ইথিওপিয়া এবং নাইজেরিয়ার মতো দেশগুলোতে ২১০০ সাল পর্যন্ত জনসংখ্যার ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা রয়েছে। বিশ্বের বেশিরভাগ অঞ্চলের বিপরীতে এই জনসংখ্যা বৃদ্ধিকর ফলে চলতি শতাব্দীর দ্বিতীয়ার্ধে বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে চালনা করতে পারে আফ্রিকার দেশগুলো, এমনটাও অনুমান করছেন গবেষকরা। অন্তত, আফ্রিকার দেশগুলোর সামনে সুযোগের একটা নতুন জানালা খুলে যেতে পারে।


সূত্র: টিভি৯, ইন্ডিয়া টুডে


আরও খবর