Logo
শিরোনাম

ভিকারুননিসার ১৬৯ শিক্ষার্থীর ভর্তি বাতিল, অনিয়ম তদন্তের নির্দেশ

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২১ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১৩ জুন ২০২৪ |

Image

 ডিজিটাল ডেস্ক:


রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের স্কুল শাখার প্রথম শ্রেণির ১৬৯ ছাত্রীর ভর্তি বাতিল করে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। 


একইসঙ্গে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ তদন্তের নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। তদন্তের জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিবের নেতৃত্বে কমিটি গঠন করে দিয়েছেন আদালত।


মঙ্গলবার (২১ মে) হাইকোর্টের বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ এই রায় ঘোষণা করেন।


তদন্ত কমিটিতে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যানের একজন প্রতিনিধি ও বুয়েটের একজন আইটি এক্সপার্টকে রাখতে বলা হয়েছে। 


একইসঙ্গে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রথম শ্রেণির ১৬৯ ছাত্রীর ভর্তি বাতিলই থাকবে বলে আদেশে বলা হয়েছে। 


পাশাপাশি প্রথম শ্রেণিতে অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে শিক্ষার্থী ভর্তি করতে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।


আদালত বলেছেন, ১৬৯ শিশুর ভর্তি নিয়ে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে এক্ষেত্রে অভিভাবকরাও দায় এড়াতে পারেন না।


আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল কাজী মাঈনুল হাসান। রিট আবেদনকারীদের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার মোস্তাফিজুর রহমান খান, ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন, আইনজীবী শামীম সরদার।


 ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ রাফিউল ইসলাম। ।


গত ১৯ মে রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রথম শ্রেণির ১৬৯ শিশুর ভর্তি কেন বাতিল হবে না, এই মর্মে জারি করা রুলের শুনানি শেষ হয়। শুনানি শেষে রায়ের জন্য আজকের দিন নির্ধারণ করা ছিল।


 বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের হাইকোর্ট বেঞ্চ রায়ের জন্য এ দিন ধার্য করেন।


গত ১৪ জানুয়ারি ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রথম শ্রেণির ১৬৯ জন ছাত্রীর ভর্তি বাতিল চেয়ে দুই শিক্ষার্থীর অভিভাবক একটি রিট দায়ের করেন। 


তাদের অভিযোগ হলো, নির্দিষ্ট বয়সের বাইরে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়েছে স্কুলেটিতে। এরপর ২৩ জানুয়ারি রুল জারিসহ ভর্তি বাতিলের আদেশ দেন আদালত। পরে মাউশির নির্দেশনায় ১৬৯ জন শিক্ষার্থীর ভর্তি বাতিল করা হয়।


এরপর ভর্তি বাতিলের বৈধতা নিয়ে ১৩৬ জন অভিভাবক আরেকটি রিট দায়ের করেন। এ নিয়ে গত ২৫ মার্চ হাইকোর্ট রুল জারি করেন। আলাদা রুলের একসঙ্গে শুনানি শেষে রায়ের জন্য নতুন এই দিন ধার্য করা হয়।



আরও খবর



মিল্টন সমাদ্দারের আশ্রমে প্রশাসক নিয়োগ করলো সমাজসেবা অধিদপ্তর

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২৮ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ১২ জুন ২০২৪ |

Image

বিডি টু ডে রিপোর্ট:


বহুল আলোচিত মিল্টন সমাদ্দারের গড়া প্রতিষ্ঠান ‘চাইল্ড অ্যান্ড ওল্ড এজ কেয়ারে’ প্রশাসক নিযুক্ত করেছে সমাজসেবা অধিদপ্তর।


রোববার (২৬ মে) সমাজসেবা অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মো. রকনুল হকের স্বাক্ষতির এক অফিস আদেশে বিষয়টি জানানো হয়েছে।


বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আলহাজ্ব শামসুল হক ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মুহাম্মদ নাছির উদ্দিন।


তিনি গণমাধ্যমকে জানান, সমাজসেবা কর্তৃক প্রশাসক নিযুক্ত হওয়ায় আলহাজ্ব শামসুল হক ফাউন্ডেশনের সাময়িক দায়িত্ব অফিসিয়ালি প্রশাসকের কাছে হস্তান্তর করা হবে।


রিমান্ড শেষে কারাগারে মিল্টন সমাদ্দার

তিনি আরও জানান, মঙ্গলবার (২৮ মে) বিকেল ৩টায় কল্যাণপুরস্থ কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এই দায়িত্ব হস্তান্তর করা হবে।


এদিকে মিরপুর মডেল থানার আরেক মামলায় মিল্টন সমাদ্দারকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন আদালত। রোববার (২৬ মে) ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. মাহবুবুল হকের আদালত শুনানি শেষে এ রায় দেন।


এর আগে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের পরিদর্শক সিকদার মহিতুল আলম তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। সোমবার আদালতের মিরপুর মডেল থানার সাধারণ নিবন্ধন শাখা সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।


প্রসঙ্গত, গত ২ মে প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে জালজালিয়াতির মাধ্যমে মৃত্যু সনদ তৈরি করার অভিযোগে করা মামলায় তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। 



তিন দিনের রিমান্ড শেষে গত ৫ মে তাকে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হাজির করা হয়। তখন এ মামলায় তাকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা মিরপুর জোনাল টিমের উপপরিদর্শক মোহাম্মদ কামাল হোসেন।


এ ছাড়া মানবপাচার আইনের আরেক মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানোসহ সাত দিনের রিমান্ড চেয়ে আবেদন করে ডিবি পুলিশ। পরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেরা মাহবুবের আদালত এ মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখান। 


ওইদিন দুপুরে শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট বেগম শান্তা আক্তারের আদালত তার ফের চার দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।


এর আগে রাজধানীর মিরপুর থেকে মিল্টন সমাদ্দারকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) মিরপুর জোনাল টিম।


আরও খবর



কমলো এলপিজির দাম

প্রকাশিত:সোমবার ০৩ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ১২ জুন ২০২৪ |

Image



নিজস্ব প্রতিবেদক:


ভোক্তা পর্যায়ে আবারও কমল তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) দাম। জুন মাসের জন্য ভোক্তা পর্যায়ে প্রতি ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৩০ টাকা কমিয়ে এক হাজার ৩৬৩ টাকা নির্ধারণ করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। যা মে মাসে দাম ছিল এক হাজার ৩৯৩ টাকা।



আজ সোমবার (৩ জুন) সন্ধ্যা ৬টা থেকে এ নতুন দর কার্যকর হবে। সোমবার বিকেলে বিইআরসি হলরুমে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে নতুন দর ঘোষণা করেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান মো. নূরুল আমিন।


প্রাকৃতিক গ্যাসের নতুন সংযোগ বন্ধ থাকায় গৃহস্থালি রান্নার পাশাপাশি রেস্তোরাঁ, পরিবহণ, ছোট-বড় শিল্পকারখানায়ও এলপিজি ব্যবহার ব্যাপকভাবে বেড়েছে। বিইআরসি প্রতি কেজি এলপিজির খুচরা দাম ১১৩ টাকা ৫৫ পয়সা নির্ধারণ করেছে। 


সে অনুযায়ী সাড়ে পাঁচ কেজি, ১২, ১৫, ১৬, ১৮, ২০, ২৫, ৩০, ৩৫ ও ৪৫ কেজি ওজনের সিলিন্ডারগুলোর দাম কমেছে। যদিও বাজারে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দাম দিয়ে ভোক্তাকে কিনতে হয় বলে ভোক্তাদের অভিযোগ রয়েছে। বাজার ঘুরে সে অভিযোগের সত্যতাও পাওয়া গেছে।


এলপিজির পাশাপাশি গাড়িতে ব্যবহৃত অটোগ্যাসের দামও কমেছে। প্রতি লিটার অটোগ্যাসের দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ৬২ টাকা ৫৩ পয়সা। যা গত মাসে ছিল ৬৩ টাকা ৯২ পয়সা।


গত এপ্রিল মাসে ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ছিল এক হাজার ৪৪২ টাকা, মার্চ মাসে ছিল এক হাজার ৪৮২ টাকা, ফেব্রুয়ারি মাসে ছিল এক হাজার ৪৭৪ টাকা, জানুয়ারিতে ছিল এক হাজার ৪৩৩ টাকা।


 ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে ছিল এক হাজার ৪০৪ টাকা, নভেম্বরে ছিল এক হাজার ৩৮১ টাকা, অক্টোবর মাসে ছিল এক হাজার ৩৬৩ টাকা, সেপ্টেম্বরে ছিল এক হাজার ২৮৪ টাকা, আগস্ট মাসে এক হাজার ১৪০ টাকা, জুলাই মাসে ছিল ৯৯৯ টাকা, জুনে ছিল এক হাজার ৭৪ টাকা, মে মাসে ছিল এক হাজার ২৩৫ টাকা ও এপ্রিলে ছিল এক হাজার ১৭৮ টাকা।



আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সামঞ্জস্য রাখতে সৌদি আরামকো কোম্পানির প্রপেন ও বিউটেনের দামের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতি মাসে এলপিজির মূল্য ঘোষণা করে আসছে বিইআরসি। 


২০২১ সালের ১২ এপ্রিল দেশে প্রথমবারের মতো এলপিজির দাম নির্ধারণ করে বিইআরসি। তার পর থেকে প্রতি মাসে একবার দাম সমন্বয় করা হচ্ছে।


আরও খবর



লেগুনা থেকে বেপরোয়া চাঁদাবাজি

প্রকাশিত:রবিবার ০৯ জুন ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১৩ জুন ২০২৪ |

Image

যানজটের হাত থেকে নগরবাসীকে মুক্তি দিতে আগারগাঁওস্থ বাংলাদেশ বেতার রাজস্ব ভবনের পাশ দিয়ে শহীদ শাহাবুদ্দিন রোড থেকে শুরু করে কামাল সরণি হয়ে মিরপুর- নম্বর পর্যন্ত তৈরি করা হয় ৬০ ফিট সড়ক রোডটিতে সাধারণ মানুষের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা লেগুনা আর এই লেগুনা থেকে লাইন খরচের নামে বছরে প্রায় সাড়ে কোটি টাকা চাঁদা আদায় করে স্থানীয় একটি চক্র 

সরজমিন দেখা যায়, বাংলাদেশ বেতার জাতীয় রাজস্ব ভবনের পাশে গড়ে উঠেছে অলিখিত লেগুনা স্ট্যান্ড। সিরিয়ালে একের পর এক লেগুনা এসে থামছে। যাত্রীবোঝাই করে আবারো যে যার গন্তব্যে ছুটছে। মিরপুর- নম্বর বড়বাগ এলাকারও একই অবস্থা। মিরপুর থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত চলাচলকারী এসব লেগুনাগুলোর সামনের গ্লাসে লাগানো রয়েছে ডিজিটাল সিটি পরিবহনের ব্যানার। আর যেই লেগুনাগুলো মিরপুর- নম্বরের বড়বাগ এলাকা থেকে ছেড়ে এসে ৬০ ফিট হয়ে ফার্মগেট যাচ্ছে সেগুলোতে সাঁটা রয়েছে ঢাকা-ইন্দিরা পরিবহনের স্টিকার। মো. সুমন মিয়া নামে এক লেগুনাচালক বলেন, ডিজিটাল পরিবহনের ব্যানারে এই রোডে অন্তত পঞ্চাশটি লেগুনা চলে। আর ঢাকা ইন্দিরা পরিবহনের ব্যানারে চলে দেড়শ মতো লেগুনা

সবমিলে ৬০ ফিট রোডে প্রতিদিন দুই শতাধিক লেগুনা চলাচল করে এর প্রতিটিকেই রোড খরচ হিসেবে লাইনম্যানদের টাকা দিতে হয় তিনি বলেন, ডিজিটাল সিটির ব্যানারে চলা লেগুনাগুলোকে দিনপ্রতি মোট ৬৫০ টাকা চাঁদা দিতে হয় তিন ধাপে এই টাকা তোলা হয় মিরপুরের মাথায় ৫শ’, মাঝে পাবনা গলি এলাকায় ১শআর বেতারের মোড়ে ৫০ কারা এই চাঁদার টাকা তোলেন, এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশ বেতার মোড়ে ডিজিটাল পরিবহনের ব্যানারে চলা লেগুনা থেকে টাকা তোলেন লাইনম্যান বাবু ছাড়াও শাহজাহান, সবুজ, আলমগীর, মনির, চন্নুসহ আরও অনেকেই এসব চাঁদা আদায় করে কোনো কোনো গাড়ির লাইন খরচ মহাজন (গাড়ির মালিক) দিয়ে দেন কোনো গাড়ির রাস্তার খরচ আবার চালকের কাছ থেকেও নেয়া হয় আর এই টাকা না দিয়ে কেউ রাস্তায় গাড়ি নামাতে পারবে না


শেরে বাংলা নগর থানার এক পুলিশ কর্মকর্তার গাড়িও এই রাস্তায় চলে তাকেও চাঁদার টাকা দিতে হয় নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ফার্মগেটগামী এক লেগুনার চালক বলেন, আজকে আমরা কথা বললে কাল থেকে আর আমাদের রাস্তায় নামতে দেয়া হবে না কাজ থাকবে না না খেয়ে মরবে আমার পরিবারের সদস্যরা উল্টো নির্যাতন করা হবে মো. সজীব নামে ফার্মগেটগামী এক লেগুনা চালক বলেন, মিরপুর- বড়বাগ থেকে ফার্মগেটগামী ঢাকা-ইন্দিরা পরিবহনের ব্যানারে চলাচলকারী লেগুনাগুলোকে সময়ভেদে দিনে থেকে ৯শটাকা চাঁদা দিতে হয় ফার্মগেট এলাকার দেলোয়ার হোসেন চুন্নু মিয়ার হয়ে লাইনম্যানরা এই চাঁদার টাকা ওঠায় অপ্রাপ্ত বয়সী এসব চালককে কখনো পুলিশ ধরে না? এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এই চাঁদার টাকা থানা থেকে নেতা সবার পকেটেই যায় তাই গাড়ির সামনে লাগানো স্টিকার দেখে কেউ গাড়ি আটকায় না চালকদের দেয়া তথ্য মতে, ডিজিটাল সিটি পরিবহনের ব্যানারে চলা ৫০টি লেগুনা থেকে প্রতিদিন ৬৫০ টাকা করে মোট ৩২ হাজার ৫শটাকা চাঁদা আদায় করা হচ্ছে যা মাসে দাঁড়ায় লাখ ৭৫ হাজার টাকা বছরে কোটি ১৭ লাখ টাকা আর ঢাকা ইন্দিরা পরিবহনের ব্যানারে চলা ১৫০টি লেগুনা থেকে প্রতিদিন ৮শটাকা করে মোট লাখ ২০ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করা হয় যা এক মাসে দাঁড়ায় ৩৬ লাখ টাকা বছরে কোটি ৩২ লাখ টাকা এই একটি রাস্তা থেকে শুধুমাত্র লেগুনা থেকেই বছরে প্রায় কোটি ৪৯ লাখ টাকা চাঁদা আদায় করা হচ্ছে 

 

বিষয়ে লাইনম্যান বাবু বলেন, আমি, শাহজাহান, সবুজ আমরা এই তিনজন প্রতিদিন মোস্তফা ভাইয়ের হয়ে টাকা তুলি। আমরা সামান্য বেতনভুক্ত কর্মচারী। টাকা তোলার পরিবর্তে দিনপ্রতি ৬শটাকা করে পাই। বাকি সবকিছুই মোস্তফা মির্জা নিয়ন্ত্রণ করে। তার সঙ্গে আরও অনেকে আছেন। ছাপড়া মসজিদ এলাকায় তাদের অফিস আছে। তিনি সেখানেই বসেন। তবে এলাকাটিতে গিয়ে তার কথিত অফিস বন্ধ পাওয়া যায়। এলাকার অনেক বাসিন্দা জানান, মোস্তফা বর্তমানে জেলে আছে। তবে নিজের নাম না বললেও মোস্তফার বোন পরিচয় দেয়া এক চা দোকানি বলেন, মোস্তফা ব্যবসায়িক কাজে দেশের বাইরে অবস্থান করছেন। তিনি এসব কিছুই জানেন না। ফার্মগেটের ইন্দিরা রোডের ২৮/ গ্লোব সেন্টারে অবস্থিত ঢাকা ইন্দিরা পরিবহনের অফিসে গিয়েও কাউকেই পাওয়া যায়নি।  

এদিকে প্রতিদিন এই রাস্তা দিয়ে লেগুনায় চলাচলকারী উত্তর পীরেরবাগ এলাকার বাসিন্দা আবুল হোসেন বলেন, মাঝে মধ্যে দুই-এক টাকা কম দিতে চাইলোও নেয় না। হেল্পার-চালকেরা খুব খারাপ ব্যবহার করে। গাড়ি থেকে নেমে যেতে বলে। কিন্তু চাঁদার টাকা ঠিকই দেয়। এই চাঁদা না দেয়া হলে আমাদের লেগুনা ভাড়া অনেক কমে আসতো। মিরপুর বড়বাগের বাসিন্দা মো. দুলাল জানান, এই লেগুনার জন্য প্রতিদিন জ্যাম লেগেই থাকে। রাস্তার ওপরই লেগুনাগুলো পার্ক করে রাখা হয়। যেখানে খুশি দাঁড়িয়ে যাত্রী উঠাচ্ছে-নামাচ্ছে। কাউকেই যেন এরা তোয়াক্কা করে না। মনিপুরের বাসিন্দা সাদিয়া আক্তার বলেন, ছেলেকে প্রতিদিন স্কুলে দিতে যাই। কী যে অবস্থা বলে বোঝানো যাবে না। সড়কটিতে ঠিকমতো হাঁটারও উপায় নেই। রাস্তাটিতে নিয়মিত চলাচলকারী আমতলীর বাসিন্দা মো. ফয়সাল বলেন, এই রাস্তায় একমাত্র ভরসা লেগুনা। তবে লেগুনাতে উঠলে বিড়ম্বনায় পড়তে হয়। যাত্রীর জন্য মোড়ে মোড়ে দাঁড়য়। সব চেয়ে বেশি অসুবিধা হয় সকাল বেলা। স্কুলগুলোর সামনে যেইভাবে লেগুনাগুলো দাঁড়িয়ে থাকে, তাতে অন্য গাড়ি আর পথ চলতে পারে না। দীর্ঘ যানজটের তৈরি হয়

বিষয় শেরেবাংলা নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আহাদ আলী বলেছেন, মূলত  লেগুনা বা রাস্তার গাড়ি চলাচলের বিষয়টি পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ দেখভাল করে। আর লেগুনা থেকে টাকা নেয়ার যেই বিষয় বা চাঁদার বিষয়ে এখনো পর্যন্ত আমাদের কাছে কেউ মৌখিক বা লিখিত কোনো অভিযোগ করেনি। যদি আমরা তেমন অভিযোগ পাই, অবশ্যই তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো


আরও খবর



রাজশাহীতে আমের বাজার আমশূন্য

প্রকাশিত:রবিবার ১৯ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১৩ জুন ২০২৪ |

Image

চলতি বছর ম্যাঙ্গো ক্যালেন্ডারের দুইদিন অতিবাহিত হলেও রাজশাহীর বৃহত্তম আমের বাজার বানেশ্বর হাট আমশূন্য রয়েছে। ১৫ মে থেকে রাজশাহী জেলায় ম্যাঙ্গো ক্যালেন্ডার শুরু হয়েছে। সরেজমিনে বানেশ্বর হাটে গিয়ে দেখা মেলেনি আমের।


সারাদেশে রাজশাহীর আমের কদর রয়েছে। রাজশাহীর অর্ধেক এলাকার আম কেনা-বেচা হয় পুঠিয়ার বানেশ্বর হাটে। কিন্তু গাছে তেমন আম না থাকায় এখনো আম কেনা-বেচা শুরু হয়নি বানেশ্বর হাটে। অলস সময় কাটাচ্ছে আড়ৎদাররা। সারাদেশ থেকে আসা পাইকারি আম ক্রেতারাও কেউ আসেনি।


পুঠিয়ার শিবপুরের আমচাষী জমসেদ আলী বলেন, বাগানে আম নেই। গাছে কিছু মুকুল দেরিতে এসেছিল। বৈরী আবহাওয়ার কারণে আম আসেনি। গতবারের তুলনায় অর্ধেক আমও হবে না এবার।


আমের আড়তদার মকবুল হোসেন জানান, অলস বসে আছি। বাগানগুলোতে আম নেই বললেই হয়। কেউ আম পারেনি। পাইকারি ক্রেতারাও নাই। ২৫ মে এর আগে এখানে আম তেমন পাওয়া যাবে না।


বানেশ্বর হাটের ইজারাদার জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বানেশ্বরে আমের বাজার এবার শুরু হয়নি। বাগানগুলোতে আম নাই। তবে এবার আমের দাম বেশি হবে।

পুঠিয়া উপজেলা কৃষিসম্প্রসারণ কর্মকর্তা স্মৃতি রানি সরকার বলেন, এবার আমের অফ ইয়ার। গাছে কিছু মুকুল এসেছিল। তাতে আমের গুটি আসেনি। গতবারের এক তৃতীয়াংশ আমও নাই বাগানগুলোতে।


আরও খবর



বিশ্বের কুখ্যাত মানবপাচারকারী বারজান মাজিদ গ্রেপ্তার

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১৪ মে ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ১৩ জুন ২০২৪ |

Image

আন্তর্জাতিক ডিজিটাল ডেস্ক:



ইউরোপের কুখ্যাত একজন মানবপাচারকারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তার নাম বারজান মাজিদ।


 ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির করা একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদনের সূত্র ধরে তাকে গত রোববার সকালে ইরাকের কুর্দিস্তান এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। দেশটির জ্যেষ্ঠ একজন সরকারি কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন ।


বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেশ কয়েক বছর ধরে মাজিদ ও তার দলের সদস্যরা ইংলিশ চ্যানেল জুড়ে নৌকা এবং লরি ব্যবহার করে ব্যাপকভাবে মানুষ পাচার বাণিজ্য চালিয়ে আসছিল।


সম্প্রতি কুর্দিস্তানের সুলায়মানিয়া শহরে মাজিদের সন্ধান পায় বিবিসি, যেখান থেকে তিনি কয়েক হাজার অভিবাসীকে ইংলিশ চ্যানেল পার করিয়েছেন বলে জানান।


মাজিদ ‘স্করপিয়ন’ নামেও বেশ পরিচিত। “এক হাজারও হতে পারে, আবার ১০ হাজারও হতে পারে। সংখ্যাটা ঠিক জানি না, আমি কখনও গণনা করে দেখিনি,” বলেছিলেন মাজিদ।


কুর্দিস্তানের স্থানীয় সরকারের একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, মানব-পাচারকারী চক্রের ওপর সম্প্রতি বিবিসি যে অনুসন্ধান প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে, সেটির সূত্র ধরেই তারা মাজেদকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়েছেন।


“আজ (রোববার) সকাল সাতটার দিকে তিনি (মাজেদ) নিজের বাড়ি থেকে বের হচ্ছিলেন। তখন আমরা তাকে গ্রেপ্তার করি। এক্ষেত্রে আমাদেরকে তেমন বড় কোনো ঝক্কি পোহাতে হয়নি,” বলেন ওই কর্মকর্তা।


তিনি আরও বলেন, “আমরা এখন তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো তদন্ত করে দেখছি। এরপর আমরা ইউরোপীয় পুলিশ এবং আইনজীবীদের সঙ্গে এ বিষয়ে আলাপ-আলোচনা করবো, যারা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায়।”


যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল ক্রাইম এজেন্সিও (এনসিএ) মাজেদের ধরা পড়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।


এ বিষয়ে প্রকাশিত একটি বিবৃতিতে সংস্থাটি বলেছে, “প্রতিবেদনের মাধ্যমে তার (মাজিদের) মানব পাচারের বিষয়টি প্রকাশ করার জন্য আমরা বিবিসি’র কাছে কৃতজ্ঞ।


এতে আরও বলা হয়েছে, “যুক্তরাজ্যে যারা মানুষদের পাচার করছেন, তারা যেখানেই অবস্থান করুক না কেন, আইনের আওতায় এনে ওইসব চক্রকে নির্মূল করার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করে যাচ্ছি এবং এক ব্যাপারে আমরা দৃঢ়ভাবে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।”


২০১৬ সাল থেকে ২০২১ সালের মধ্যে যুক্তরাজ্য এবং ইউরোপের মধ্যে যত মানুষ পাচার হয়েছে, সেটির বেশিরভাগই ‘স্কর্পিয়নস’ এর চক্র নিয়ন্ত্রণ করেছে বলে জানা যাচ্ছে।


দুই বছর ধরে অভিযান চালিয়ে যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স এবং বেলজিয়ামের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সদস্যরা চক্রটির অন্তত ২৬ জন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে, যারা পরবর্তীতে আদালতে দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন।


কিন্তু চক্রটির মূল হোতামাজেদ, যাকে ‘স্করপিয়ন’ ডাকা হয়, তিনি নিজেই এতদিন গ্রেপ্তার এড়িয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছিলেন। যদিও গ্রেপ্তারের আগেই বেলজিয়ামের একটি আদালতে তার বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয় এবং ১২১টি মানব-পাচারের ঘটনায় তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়।


২০২২ সালের অক্টোবরে মাজেদকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেয় দেশটির আদালত। একই সঙ্গে, নয় লাখ ৬৮ হাজার ইউরো জরিমানাও করা হয়। কিন্তু বিবিসি খুঁজে বের করার আগ পর্যন্ত তার কোনো হদিস পাওয়া যাচ্ছিলো না।


গত এপ্রিলে লোহিত সাগরে নৌকা ডুবির ঘটনায় বেশ কয়েকজন অভিবাসীর মৃত্যু হয়। তখন একটি ফোনালাপকালে মাজেদ ডুবে যাওয়া ব্যক্তিদের প্রতি সামান্য সহানুভূতি দেখান বলে মনে হয়েছে।


“সৃষ্টিকর্তা (এটি নির্ধারণ করে রেখেছেন যে) কখন আপনার মৃত্যু হবে। তবে কখনও কখনও নিজেদের দোষেই আপনার মারা পড়েন,” ওই ফোনালাপে বলেন মাজিদ।


তিনি আরও বলেন, “সৃষ্টিকর্তা কখনও আপনাকে বলেননি যে, তুমি “নৌকায় যাও।”


খোঁজ পাওয়ার পর মাজিদের সঙ্গে দেখা করার চেষ্টা করে বিবিসি। বেশ কয়েকবার চেষ্টার পর অবশেষে তিনি সুলায়মানিয়ার একটি শপিংমলে দেখা করতে রাজি হন।


তিনি যে একটি অপরাধমূলক সংগঠনের একজন শীর্ষ ব্যক্তি, সেটি তখন তিনি অস্বীকার করেন। তিনি বলেন, অন্য চক্রের সদস্যরা তাকে বিভিন্ন সময় ফাঁসানোর চেষ্টা করেছে।


“গ্রেপ্তার হওয়া বেশ কয়েকজন লোক বলেছে যে, আমরা তার জন্য কাজ করছি। তারা কম সাজা পেতে চায়,” বলেন মাজেদ। এরপর তিনি রব লরি নামের সাবেক এক সৈনিককে সেখানে ডাকেন। লরি অবশ্য বিবিসি’র অনুসন্ধানী দলের হয়েই কাজ করছিলেন।


“কেউ তাদের জোর করেনি। তারাই এটি চেয়েছিল,” বলেছিলেন মাজিদ। তিনি আরও বলেন, “তারা নিজেরাই মানব-পাচারকারীদেরকে অনুরোধ বলেছিল যে, দয়া করে আমাদের জন্য এটি করুন।”


“কখনও কখনও চোরাকারবারিরা বলে, শুধু সৃষ্টিকর্তার কথা ভেবে আমি তাদের সাহায্য করবো।...না, এটি (জোর করে নেওয়ার অভিযোগ) সত্য নয়,” বলেন মাজিদ।


বেলজিয়াম সরকারের কৌসুলীর কার্যালয় থেকে মাজিদের গ্রেপ্তারের খবরকে স্বাগত জানানো হয়েছে।


বেলজিয়াম সরকারের কৌঁসুলীর কার্যালয়ের একজন কর্মকর্তা অ্যান লুকোভিয়াক বলেন,অবশেষে আমাদের এই মামলায় ন্যায়বিচার দেখার সুযোগ হয়েছে।


আরও খবর