Logo
শিরোনাম

‘যুদ্ধ করতে প্রস্তুত’ সৈন্যের সংখ্যা দশগুণ বাড়াচ্ছে ন্যাটো

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২৮ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:বুধবার ১০ আগস্ট ২০২২ |
Image

যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা দেশগুলোর সামরিক জোট তাদের ‘যুদ্ধ করতে প্রস্তুত’ এমন সেনা সংখ্যা বিপুল সংখ্যায় বাড়ানোর ঘোষণা দিয়েছে।

স্নায়ু যুদ্ধের অবসানের পর ন্যাটো জোটের সম্মিলিত প্রতিরক্ষার ক্ষেত্রে একে সবচেয়ে বড় পুনর্গঠন বলে বর্ণনা করা হচ্ছে। 

ন্যাটো জোটের মহাসচিব ইয়েন্স স্টোলটেনবার্গ বলছেন, এ জোটের ‘দ্রুত যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত’ সৈন্যের সংখ্যা ৪০ হাজার থেকে প্রায় দশগুণ বাড়িয়ে ৩ লক্ষাধিকে উন্নীত করছে।

এটি একটি নতুন কৌশলগত পরিকল্পনা- এবং এ সপ্তাহেই মাদ্রিদে একটি শীর্ষ সম্মেলন হবে যেখানে এটা অনুমোদিত হতে পারে বলে বিবিসি জানিয়েছে।  

স্টোলটেনবার্গ বলছেন, ইউরোপের নিরাপত্তার প্রতি রাশিয়ার প্রত্যক্ষ হুমকির পরই এই সৈন্যসংখ্যা বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তার কথায়, নতুন এই ‘সামরিক ব্লুপ্রিন্ট’ পূর্ব ইউরোপে ন্যাটোর প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে ব্যাপকভাবে উন্নত করা হবে।

ন্যাটোর এই ‘র‍্যাপিড রিঅ্যাকশন ফোর্স’ হচ্ছে স্থল, নৌ ও বিমান সেনা ও সরঞ্জামের সমন্বয়ে তৈরি করা একটি বাহিনী। কোন আক্রমণ হলে যাদেরকে দ্রুতগতিতে মোতায়েন করা যাবে। ২০১৪ সালের আগে এ বাহিনীর সৈন্য সংখ্যা ছিল ১৩ হাজার - আর এখন তা বেড়ে ৪০ হাজার হয়েছে।

ইউক্রেনে রুশ অভিযানের পর এই সৈন্যদের ইতোমধ্যেই লাৎভিয়া, এস্তোনিয়া, লিথুয়ানিয়া ও পোল্যান্ডে উচ্চ-প্রস্তুতিমূলক অবস্থায় রাখা হয়েছে। এ ছাড়া বুলগেরিয়া, রোমানিয়া, হাঙ্গেরি ও স্লোভেনিয়ায় আরো ‘যুদ্ধের জন্য তৈরি’ সেনাদল মোতায়েনের পরিকল্পনা রয়েছে।

স্টোলটেনবার্গ জানিয়েছেন, স্নায়ুযুদ্ধ পরবর্তীকালে ২০১০ সালে ন্যাটো জোট রাশিয়ার ব্যাপারে নতুন অবস্থান নিয়েছিল। রাশিয়াকে তখন আনুষ্ঠানিকভাবে ‘কৌশলগত অংশীদা’ বলা হতো। তবে এখন তা বদলে যাচ্ছে। 

তিনি বলেন, ন্যাটো জোটের নিরাপত্তা ও মূল্যবোধের প্রতি সবচেয়ে বড় ও প্রত্যক্ষ হুমকি হচ্ছে রাশিয়া। তবে নতুন পরিকল্পনাটিতে এই প্রথমবারের মতো ন্যাটো জোটের প্রতি চীনের চ্যালেঞ্জগুলোর কথাও থাকবে।


সূত্র: বিবিসি বাংলা


আরও খবর



এবার কোরবানি বেড়েছে সাড়ে ৮ লাখ পশু

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ১২ জুলাই ২০২২ | হালনাগাদ:বুধবার ১০ আগস্ট ২০২২ |
Image

সারাদেশে পবিত্র ঈদুল আজহাতে মোট ৯৯ লাখ ৫০ হাজার ৭৬৩টি গবাদিপশু কোরবানি দেয়া হয়েছে বলে জানায় মৎস ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়।

গত বছর সারাদেশে মোট ৯০ লাখ ৯৩ হাজার ২৪২টি গবাদিপশু কোরবানি হয়। যা চলতি বছরের তুলনায় কম। এ বছর ৮ লাখ ৫৭ হাজার ৫২১টি গবাদিপশু বেশি কোরবানি হয়েছে।

সোমবার (১১ জুলাই) এ তথ্য জানান মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয় জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. ইফতেখার হোসেন। এবার কোরবানি যোগ্য পশুর সংখ্যা ছিল এক কোটি ২১ লাখ ২৪ হাজার ৩৮৯টি। এ বছর ঢাকা বিভাগে ১১ লাখ ৬৭ হাজার ৮১০টি গরু-মহিষ, ১৩ লাখ ২৩ হাজার ৭১১টি ছাগল-ভেড়া ও অন্যান্য ২৪৭টিসহ মোট ২৪ লাখ ৯১ হাজার ৭৬৮টি গবাদিপশু কুরবানি হয়েছে।

এছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ১৩ লাখ ১৩ হাজার ৬৭৮টি গরু-মহিষ, ৮ লাখ ১৪ হাজার ৬৮৫টি ছাগল-ভেড়া ও অন্যান্য ৯৬টিসহ মোট ২১ লাখ ২৮ হাজার ৪৫৯টি গবাদিপশু কোরবানি হয়েছে।

রাজশাহী বিভাগে ৭ লাখ ৯ হাজার ২৪৩টি গরু-মহিষ ও এক লাখ ২৮ হাজার ৮৮৫টি ছাগল-ভেড়াসহ মোট ১৯ লাখ ৯৮ হাজার ১২৮টি গবাদিপশু কোরবানি হয়েছে।

খুলনা বিভাগে দুই লাখ ৫৮ হাজার ২৬৪টি গরু-মহিষ, ৬ লাখ ৬৭ হাজার ৯৩০টি ছাগল-ভেড়া ও অন্যান্য ১৫টিসহ মোট ৯ লাখ ২৬ হাজার ২০৯ টি গবাদিপশু কোরবানি হয়েছে।

বরিশাল বিভাগে ২ লাখ ৬৭ হাজার ৬১৪টি গরু-মহিষ ও দুই লাখ ৩১ হাজার ৩২৩টি ছাগল-ভেড়াসহ মোট চার লাখ ৯৮ হাজার ৯৩৭টি গবাদিপশু কোরবানি হয়েছে।

এছাড়াও সিলেট বিভাগে ২ লাখ ১ হাজার ১৮৬টি গরু-মহিষ ও এক লাখ ৯১ হাজার ৩৯৭টি ছাগল-ভেড়াসহ মোট তিন লাখ ৯২ হাজার ৫৮৩টি গবাদিপশু কোরবানি হয়েছে।

রংপুর বিভাগে ৫ লাখ ৩১ হাজার ৯৩টি গরু-মহিষ ও ৬ লাখ ৭ হাজার ৮০৩টি ছাগল-ভেড়াসহ মোট ১১ লাখ ৩৮ হাজার ৮৯৬ টি গবাদিপশু কুরবানি হয়েছে।

ময়মনসিংহ বিভাগে ১ লাখ ৮০ হাজার ৫৪৮টি গরু-মহিষ, এক লাখ ৯৫ হাজার ১৮৬টি ছাগল-ভেড়া ও অন্যান্য ৪৯টিসহ মোট তিন লাখ ৭৫ হাজার ৭৮৩টি গবাদিপশু কুরবানি হয়েছে।


আরও খবর

আকাশ ছুঁলো কাঁচা মরিচের দাম

শনিবার ০৬ আগস্ট ২০২২




গরমে অতিষ্ঠ জনজীবন

প্রকাশিত:শুক্রবার ১৫ জুলাই ২০২২ | হালনাগাদ:বুধবার ১০ আগস্ট ২০২২ |
Image

মইনুল ইসলাম মিতুল : আজ সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৭.৬ ডিগ্রী সেলসিয়াস। তীব্র গরমে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে রংপুরবাসীর জনজীবন। একটু প্রশান্তির জন্য ফুটপাতে ঠান্ডা শরবত পান করছে সাধারণ মানুষ। গাছের ছায়া কিংবা শীতল কোনো স্থানে ছুটতে দেখা গেছে অনেককে।

বৃহস্পতিবার (১৪ জুলাই) নগরীর বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ভ্যাপসা গরমে অল্পতেই ক্লান্ত হয়ে পড়ছে কর্মজীবী মানুষজন। এতে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।

গাছের ছায়াতলে বিশ্রাম নিতে নিতে রিকশাচালক আব্দুর রহিম বলেন, গরমে রিকশা নিয়ে বের হয়ে মহাবিপদে। যাত্রীও নাই ভাড়াও নাই। তাই রিকশা বন্ধ করে গাছের নিচে আশ্রয় নিচ্ছি।

পথচারী গোলাম মাওলা বলেন, ভ্যাপসা গরমে বাজার করতে এসে বাজার না করেই বাড়ি ফিরতে ইচ্ছে করছে। সূর্য উঠার পর থেকে রোদের তাপ অনেক বেড়ে গেছে। রোদের তাপে বের হওয়া বড়ই দুষ্কর।

এদিকে তাপদাহ বেড়ে যাওয়ায় নগরীতে বেড়েছে ঠান্ডা পানীয়র চাহিদা। ফুটপাতে বিক্রি করা লেবুর শরবত, আখের রস ও ফলমূল কিনে খাচ্ছেন অনেকে। একইসঙ্গে চাহিদা বেড়েছে ডাব ও কোমল পানীয়র।

কনফেকশনারী দোকানদাররা জানান, তীব্র গরমে কোমলপানীয়, জুস ও আইসক্রিম খুব চলছে। এছাড়া শহরের ইলেক্ট্রনিক্স দোকানগুলোতে পাখা বিক্রির ধুম লেগেছে।

আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা একেএম কামরুল হাসান বলেন, এবছরের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩৭.৬ ডিগ্রী সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে। এটি আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আগামী দুদিন তাপমাত্রা উঠানামা করবে। তবে শিগগিরই বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। বৃষ্টি হলেই গরম কমে যাবে।


আরও খবর

আন্তর্জাতিক আদিবাসী দিবস

মঙ্গলবার ০৯ আগস্ট ২০২২




দাবানলে স্পেন ও পর্তুগালে ৩২২ জনের মৃত্যু

প্রকাশিত:রবিবার ১৭ জুলাই ২০২২ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ০৯ আগস্ট ২০২২ |
Image

দাবানলে পুড়ছে ইউরোপের তিন দেশ পর্তুগাল, ফ্রান্স ও স্পেন। দমকলবাহিনীর হাজার হাজার কর্মী আগুন নেভাতে কাজ করছেন। বেশ কয়েক দিন ধরেই এমন পরিস্থিতি চলছে। দাবানল কমার কোনো লক্ষণ নেই। এখন পর্যন্ত এই দুর্যোগে পর্যন্ত পর্তুগালে ২৩৮ জনের ও স্পেনে ৮৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি। 

প্রতিবেদনে বলা হয়, আগামী দিনে ইউরোপে এমন আরও দাবানল হতে পারে বলে সতর্ক করেছেন সংশ্লিষ্টরা। হাজার হাজার মানুষকে দাবানল থেকে বাঁচাতে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। দাবানলে পুড়েছে জমি, বাড়িঘর। 

আবহাওয়ার এমন বিরূপ অবস্থার জন্য জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবকে দায়ী করছেন আবহাওয়াবিদরা। 

গত বৃহস্পতিবার পর্তুগালের মধ্য ও উত্তরাঞ্চলের পাঁচটি এলাকায় ৪৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে, যা জুলাই মাসের জন্য সর্বোচ্চ। শুক্রবার উত্তর পর্তুগালের ব্রাগানকা অঞ্চলে দাবানল নেভানোর কাজের সময় উড়োজাহাজ বিস্ফোরণ হয়। এতে উড়োজাহাজের এক পাইলট নিহত হন। 

গত বৃহস্পতিবার পর্তুগালের স্বাস্থ্যমন্ত্রী মার্তা টেমিডো বলেন, দাবানলের কারণে স্বাস্থ্যব্যবস্থা ‘বিশেষভাবে উদ্বেগজনক’ পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছে।


আরও খবর



বুমেরাং শব্দটির কথা মনে পড়ে গেল

প্রকাশিত:শুক্রবার ২৯ জুলাই ২০২২ | হালনাগাদ:মঙ্গলবার ০৯ আগস্ট ২০২২ |
Image

শিক্ষাবিদ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান চৌধুরী ঃ

 ইতিহাস থেকে জানা যায় বুমেরাং শব্দটি অস্ট্রেলিয়ার নিউসাউথ ওয়েলসের একটি আঞ্চলিক ভাষা থেকে এসেছে। বুমেরাং একখণ্ড বক্রাকৃতি কাঠ, যা অস্ত্র হিসেবে বা খেলার জন্য ব্যবহৃত হয়। কোনো একটি লক্ষ্যবস্তুকে উদ্দেশ্য করে এটি ছুড়ে মারলে সেটি আবার নিজের কাছে ফিরে আসে।

এটি কোনো জাদুবিদ্যা নয়। পদার্থবিজ্ঞানের একটি মৌলিক নীতি মেনে এটি কাজ করে। তবে বুমেরাংয়ের সঙ্গে মানুষের কর্মের ফলাফলের একটা যোগসূত্র থাকতে পারে। যেটি মটিভেশনের একটি থিওরির সঙ্গে মেলানো যেতে পারে। বি এফ স্কেনার তাঁর বিহেভিয়ার মডিফিকেশন থিওরিতে বলেছেন, ভালো কাজের ফলাফল ভালো হয়, মন্দ কাজের ফলাফল মন্দ হয়। এর মানে দাঁড়াচ্ছে, মানুষ মন্দ কিছু করলে সেটা বুমেরাং হয়ে তার কাছে ফিরে আসে। ভালো কাজের ফলাফলও বুমেরাং হয়ে ভালো ফলাফলের জন্ম দেয়। আপাতদৃষ্টিতে যে মানুষ অবৈধভাবে অর্থ-সম্পদ গড়ে তুলছে তাকে সুখী মনে হলেও প্রকৃতপক্ষে সে সুখী নয়। হার্ভার্ড বিজনেস স্কুলের অধ্যাপক ও সহলেখক মাইকেল নরটনও ‘হ্যাপি মানি : দ্য সায়েন্স অব স্মার্টার স্পেনডিং’ বইয়ের ভাবনাটা অনেকটা একই রকম। বইটির এক জায়গায় বলা হয়েছে, ‘আসলে সুখকে পাশে রেখে আমরা অর্থ দিয়ে কিছু কিনি না। বরং আমরা আমাদের সুখকে পণ্যের মধ্যে স্থানান্তর করতেই অর্থ ব্যয় করি। যেটি আসলে মূল্যহীন। ড. ম্যাডিলিন লিভিনের দ্য প্রাইস অব প্রিভিলেজে দেখানো হয়েছে কিভাবে সময়ের সঙ্গে মূল্যবোধের পরিবর্তনের কারণে মানুষ ক্রমেই অর্থের দিকে ঝুঁকেছে। 

উনিশ শ ষাটের দশক ও সত্তরের দশকের প্রারম্ভে কেন ছাত্র-ছাত্রীরা কলেজে যায়, এ প্রশ্ন করা হলে তাদের বেশির ভাগই উত্তর দিত শিক্ষিত হয়ে ওঠা ও জীবন সম্পর্কে জ্ঞান বৃদ্ধি করার জন্যই তারা কলেজে যায়। খুব কমসংখ্যক ছাত্র-ছাত্রী বলত, অনেক অর্থ উপার্জন করার জন্য তারা কলেজে যায়। কিন্তু উনিশ শ নব্বইয়ের দশকের শুরুর দিকে মানুষের মূল্যবোধের পরিবর্তন লক্ষণীয়। এ সময় ছাত্র-ছাত্রীদের কেন তারা কলেজে যায়, এই প্রশ্ন করা হলে বেশির ভাগ ছাত্র-ছাত্রীই উত্তর দিত অনেক অর্থ উপার্জন করার জন্য তারা কলেজে যায়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মানুষ ইতিবাচক মূল্যবোধকে বিসর্জন দিয়ে নেতিবাচক মূল্যবোধ দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে। নেতিবাচক ভাবনা কখনো ইতিবাচক ফলাফলের জন্ম দিতে পারে না। এ কারণে কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের মধ্যে এই মূল্যবোধের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে অবসাদ, আত্মহত্যা এবং অন্যান্য মানসিক সমস্যার হার হঠাৎ করে অনেকটাই বেড়ে গিয়েছিল। মূল্যবোধের কেন এমন পরিবর্তন ঘটল? আমাদের লোভ? মানবিক শক্তির চেয়ে টাকার শক্তির আধিপত্য? সৃজনশীল ও উদার দৃষ্টিভঙ্গির বদলে সংকীর্ণ ও নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি? দেশপ্রেম ও দেশের স্বার্থের চেয়ে নিজ স্বার্থ ও গোষ্ঠী স্বার্থকে প্রাধান্য? বিশ্বাসঘাতকতা? মুখ ও মুখোশ? দীনতা? দৃশ্যমান শক্তি? দৃশ্যমানের ভেতরের অদৃশ্যমান শক্তি? চেনা শক্তির অচেনা সম্পর্ক? দেয়ালের পর দেয়াল? মানুষের অভিনয়? মানুষ যা না সেটা প্রমাণের চেষ্টা? খেলার পেছনের খেলা? প্রকৃতির প্রতি অনাচার? পেশিশক্তি? হয়তো কোনোটাই না কিংবা সবগুলো? হয়তো জানা-অজানা অনেক কিছু। যা আমরা জানি-বুঝি কিন্তু বলতে গেলেই থমকে যায়। 

এই প্রতিবন্ধকতাগুলো যদি মানবিক মূল্যবোধের উৎকর্ষের পথে প্রতিবন্ধকতা বা দেয়াল হিসেবে বিবেচনা করা হয়, তবে সে দেয়াল ভাঙতে হবে। এক দিন বা দুই দিনে হয়তো তা হবে না। তবে দীর্ঘমেয়াদি গবেষণা ও মানবিক আচরণের নানা দিক বিশ্লেষণ করে এই প্রাচীর ভাঙতেই হবে? সে ভাবনা হোক আমাদের সবার। শিক্ষাক্ষেত্রে মানবিক আচরণ উন্নয়নের বিষয়টিকে যুক্ত করলে ইতিবাচক ফলাফল আসতে পারে। তবে সেটি হতে হবে ধারাবাহিক ও মানুষের বেড়ে ওঠার সঙ্গে সম্পৃক্ত।

অসততা ও অন্যায়ের ফলাফল যে ভালো হয় না ফেসবুক থেকে সংগৃহীত গল্পটি থেকে সে শিক্ষা আমরা গ্রহণ করতে পারি। ইন্টারভিউ টেবিলের স্যার কিছুক্ষণ চুপ করে রইলেন। তারপর ভারী গলায় বললেন—বাহ! তোমার সার্টিফিকেট তো বেশ ভালো! তোমাকে আর প্রশ্ন করতে চাচ্ছি না। ধরে নাও তুমি চাকরিটি পেয়ে গেছ। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে বড় স্যারকে উপহার হিসেবে পাঁচ লাখ টাকা দিতে হবে। এক সপ্তাহের মধ্যে টাকাটা জমা করে দাও। তারপর তোমার নিয়োগ হবে। ছেলেটি ইন্টারভিউ রুম থেকে বের হয়ে বাড়িতে এসে তার বাবাকে জানাল, পাঁচ লাখ টাকা না হলে তার চাকরিটা হবে না। গ্রামের সহজ-সরল বাবা নিজের ছেলের চাকরির জন্য ভিটাবাড়ি বিক্রি করে পাঁচ লাখ টাকা জোগাড় করলেন। তারপর বড় স্যারকে উপহার হিসেবে পাঁচ লাখ টাকা দিয়ে ছেলেটি চাকরি পেয়ে গেল। আজ বড় স্যারের ছেলের জন্মদিন। বাড়িতে বিশাল পার্টির আয়োজন করা হয়েছে। 

তিনি বাড়িতে ঢুকেই তার ছেলের নাম ধরে ডাকতে শুরু করলেন। ছেলে কাছে আসতেই বড় স্যার ‘হ্যাপি বার্থডে মাই সান’ বলতে বলতে ছেলের হাতে পাঁচ লাখ টাকার বাইকের চাবি তুলে দিলেন। বাইক পেয়ে ছেলেটি খুশিতে আত্মহারা হয়ে বাবাকে জড়িয়ে ধরে চিৎকার দিয়ে বলল, আমার বাবা পৃথিবীর শ্রেষ্ঠ বাবা। বড় স্যারের ছেলে আজ বাইক নিয়ে ঘুরতে বেরিয়েছে ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার বেগে রাজপথে ছুটে চলেছে বাইক। হঠাৎ ট্রাকের সঙ্গে ধাক্কা—সব কিছু থেমে গেল। বড় স্যারের ছেলেকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হলো। হাসপাতালের বড় ডাক্তার সাহেব জানালেন, আপনার ছেলের অবস্থা ভালো না, খুব জটিল একটা অপারেশন করাতে হবে। হাসপাতালের কাউন্টারে ১০ লাখ টাকা জমা করে দিন। বড় স্যার কোনো উপায় না দেখে মেয়ের বিয়ের জন্য ব্যাংকে জমিয়ে রাখা টাকাটা কাউন্টারে জমা করে দিলেন। 

বড় ডাক্তার সাহেব আজ খুব খুশি। তিন-চার লাখ টাকার অপারেশনের জন্য ১০ লাখ টাকা নিয়েছেন, পুরোটাই লাভ। খুশিতে তিনি তাঁর একমাত্র মেয়ের জন্য স্বর্ণের নেকলেস কিনে বাসায় ফিরলেন। বাসায় ঢুকেই তিনি তাঁর কলেজপড়ুয়া মেয়েকে মামণি মামণি বলে ডাকতে শুরু করলেন। ডাক্তার সাহেবের বউ কাঁদতে কাঁদতে বললেন, তাঁদের মেয়ে এখনো বাসায় ফেরেনি। বড় ডাক্তার সাহেব তাঁর মেয়েকে অনেক খোঁজাখুঁজি করলেন, কোথাও কোনো খোঁজ না পেয়ে তিনি যখন দিশাহারা হয়ে পড়লেন, ঠিক তখনই অপরিচিত এক নম্বর থেকে ফোন এলো। ফোনেও ওই প্রান্ত থেকে জানাল, আপনার মেয়ে আমাদের কাছে, মেয়েকে ফেরত পেতে হলে মুক্তিপণ হিসেবে ২০ লাখ টাকা দিতে হবে। কথাটা শুনে বড় ডাক্তার সাহেবের স্ত্রী স্ট্রোক করলেন। 

এ ঘটনা থেকে একটি বিষয় পরিষ্কার তা হলো মানুষকে তার কর্মের ফল ভোগ করতেই হয়। কাজেই যেকোনো বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে মানুষকে তার ইতিবাচক ও নেতিবাচক ফলাফলগুলো বিশ্লেষণ করে দেখতে হবে। মানুষকে তার মানবিক আচরণ দ্বারা পরিচালিত হতে হবে। দানবিক আচরণ বা অন্য কোনো নেতিবাচক শক্তির আচরণ দ্বারা মানুষ প্রভাবিত হলে তার ফলাফল কখনো শুভকর হয় না। মানুষ তার বিবেক দ্বারা তাড়িত হোক, ভেতরের ঘুমন্ত সত্তাকে জাগিয়ে তুলুক, তবেই মানুষ তার কর্মের মাধ্যমে নিজে যেমন সমৃদ্ধ হবে, সমাজও তেমনি মানুষের দ্বারা সমৃদ্ধ হবে।


আরও খবর

পরাজয় মানুষকে আপন-পর চেনাতে শেখায়

বৃহস্পতিবার ০৪ আগস্ট ২০২২




বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট করতে

ষড়যন্ত্রকারীরা নড়াইলে মানবতাবিরোধী ঘটনা ঘটিয়েছে

প্রকাশিত:সোমবার ১৮ জুলাই ২০২২ | হালনাগাদ:বুধবার ১০ আগস্ট ২০২২ |
Image

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদশে-এর আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম পীর সাহেব চরমোনাই নড়াইলের লোহাগাড়ায় কলেজ ছাত্র কর্তৃক ফেসবুকে মহানবী সা. কে অবমাননা ও সংখ্যালঘুদের বাড়িঘরে হামলার নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছেন, বিরাজমান সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও বাংলাদেশের ভাবমূর্তি বিশ্ব্ব দরবারে নষ্ট করতে ষড়যন্ত্রকারীরা নড়াইলে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের বাড়িতে কাপুরুষোচিত মানবতাবিরোধী হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে। এমন হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ইসলাম সমর্থণ করে না।

আজ এক বিবৃতিতে পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, নড়াইলের লোহাগাড়ার কলেজ ছাত্র আকাশ সাহা কর্তৃক ফেসবুকে মহানবীকে কটুক্তি করে অবমাননা ও সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর একই সূত্রে গাঁথা। 

তিনি বলনে, জুম্মার নামাজের পর মুসল্লিদের বিক্ষোভের সময় হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেনি। বিক্ষোভের ঘটনা ভিন্নখাতে প্রবাহিত করতে স্বার্থান্বেষীরা হীনস্বার্থ হাসিলে স্থানীয় প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের বাড়িতে হামলা ভাঙচুর করেছে। হামলাকারীরা আগামী জাতীয় নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে কারো এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করে থাকতে পারে। 

পীর সাহেব চরমোনাই আরো বলেন, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের অবমাননা ও সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার স্ক্রিপট কারা তৈরি করে ইসলাম ও দেশবিরোধী এ ন্যাক্কারজনক ঘটনার পেছনে কলকাঠি নাড়ছে তাদেরকে খুঁজে বের করতে হবে।


আরও খবর