Logo
শিরোনাম

যুক্তরাষ্ট্রে বন্দুক হামলায় আহত ৪, হামলাকারী নিহত

প্রকাশিত:শনিবার ২৩ এপ্রিল ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 |
Image

যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটনে এক বন্দুকধারীর হামলায় চারজন আহত হয়েছেন। পরে হামলাকারী নিজেও আত্মঘাতী হন বলে জানিয়েছে দেশটির পুলিশ। একটি স্কুলের সামনে স্থানীয় সময় শুক্রবার (২২ এপ্রিল) এ হামলার ঘটনা ঘটে।

হামলার খবরে দ্রুত হাজির হন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা। ঘিরে ফেলে পুরো এলাকা। লকডাউন করে রাখা হয় ইউনিভার্সিটি অব ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়ার আশপাশের এলাকা। হামলাকারীর সন্ধানে বাড়ি বাড়ি চালানো হয় তল্লাশি। বেশ কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত জারি ছিল সতর্কতাও।

ওয়াশিংটন পুলিশ জানিয়েছে, ভিডিও ফুটেজ দেখে একজনকে চিহ্নিত করা গেছে। প্রাথমিকভাবে সন্দেহভাজন ওই ব্যক্তির নাম র্যামন্ড স্পেনসার এবং তার বয়স ২৩। হামলাকারীর মোটিভ ছিল সম্প্রদায়ের লোকজনদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটানো। তবে এখনো তদন্ত চলছে বলেও জানিয়েছে তারা। হামলাকারী একজনই ছিলেন বলেও ধারণা তাদের।

খবর অনুযায়ী, প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী তল্লাশি শুরু করে পুলিশ। এরপর একটি পাশের অ্যাপার্টমেন্টে অভিযান চালিয়ে হামলাকারীর অবস্থান শনাক্ত করে তারা। পুলিশের দাবি সেখানেই ওই হামলাকারী আত্মঘাতী হন। ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ আগ্নেয়াস্ত্রসহ রাইফেল উদ্ধার করে যেটি স্নাইপার টাইপ সেটআপ করা ছিল।



সূত্র: রয়টার্স, দ্যা নিউ ইয়র্ক টাইমস।


আরও খবর



গাড়ি থেকে সেতুতে নামলেই জরিমানা

প্রকাশিত:সোমবার ২৭ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 |
Image

আজ সোমবার থেকে পদ্মা সেতুতে নেমে ছবি তুললেই গুনতে হবে জরিমানা। শুধু ছবি নয়, বাইকে গতিসীমা অতিক্রম করলে কিংবা নিয়ম না মানলে নেওয়া হবে কঠোর ব্যবস্থা।

গতকাল রবিবার বেলা ২টায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এই তথ্য জানান শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) উম্মে হাবিবা ফারজানা।

তিনি বলেন, ‘জেলা প্রশাসকের নির্দেশে নির্বাহী ক্ষমতাবলে জাজিরা প্রান্তে পরিদর্শন করতে এলাম। সেতুতে নেমে কেউ ছবি বা সেলফি তুললে কিংবা সেতুর ওপরে বসলেই জরিমানা করা হবে। আমরা প্রথম দিনেই দেখছি সাধারণ মানুষ সেতু পার হতে গিয়ে ছবি তুলছেন। প্রথম দিন শিথিল থাকলেও সোমবার থেকেই কঠোর ব্যবস্থা নেব আমরা।’ উম্মে হাবিবা ফারজানা বলেন, ‘যেসব বাইকচালক নির্ধারিত গতির চেয়ে বেশি গতিতে বাইক চালাবেন, তাদের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এদিকে রবিবার সকাল থেকে দেখা যায়, পদ্মা সেতু পার হতে যাওয়া লোকজন নিজেদের বাইক কিংবা গাড়ি থেকে নেমে সেতুর ওপরে দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। অনেকে টিকটক কিংবা ভিডিও করে সেগুলো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করছেন। এমন পরিস্থিতি দেখে প্রশাসন জরিমানার উদ্যোগ নিয়েছে।

এদিকে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের স্বপ্নের পদ্মা সেতু উদ্বোধনের পর প্রথম দিনেই বাস, প্রাইভেট কার, মাইক্রোবাস ও মোটরসাইকেল থামিয়ে মোবাইল ক্যামেরায় সেলফি তোলার হিড়িক পড়েছে।

যদিও পদ্মা সেতুর ওপর যানবাহন দাঁড়ানো ও যানবাহন থেকে নেমে ছবি তোলার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ। বৃহস্পতিবার (২৩ জুন) এ ধরনের নিষেধাজ্ঞা দিয়ে গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়। তবু উৎসুক জনতাকে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করেই ছবি তুলতে দেখা যায়।

সেতু কর্তৃপক্ষের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পদ্মা সেতুর ওপর অনুমোদিত গতিসীমা ঘণ্টায় ৬০ কিলোমিটার। সেতুর ওপর যেকোনো ধরনের গাড়ি দাঁড়ানো ও গাড়ি থেকে নেমে সেতুর ওপর দাঁড়িয়ে ছবি তোলা বা হাঁটা সম্পূর্ণ নিষেধ।

রবিবার সেতুর মাঝামাঝি স্থানে সরেজমিনে দেখা যায়, বেশির ভাগ মানুষ গাড়ি থামিয়ে একক ও দলগত ছবি তুলছেন। বাস থামিয়ে যাত্রীদের নেমে ছবি তুলতে দেখা যায়।



আরও খবর



দীর্ঘ দুই বছর পর বাংলাদেশ-ভারত বাস চলাচল শুরু

প্রকাশিত:শুক্রবার ১০ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 |
Image

করোনা মহামারির কারণে গত ২ বছরেরও বেশি সময় ধরে বন্ধ ছিল বাংলাদেশ-ভারত বাস চলাচল। আজ শুক্রবার সকাল থেকে দুই দেশের মধ্যে পুনরায় বাস সার্ভিস চালু হলো। প্রথম ট্রিপে বাংলাদেশ থেকে ২২ জন যাত্রী নিয়ে কলকাতার উদ্দেশ্য রওনা হয়েছে শ্যামলী এন আর পরিবহনের একটি বাস।

আজ শুক্রবার সকালে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) মতিঝিল বাস ডিপো থেকে দুই দেশের মধ্যে আন্তর্জাতিক বাস সার্ভিস পুনরায় চালুর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ঢাকা পরিবহন সমন্বয় কর্তৃপক্ষ নির্বাহী পরিচালক নীলিমা আক্তার ও বিআরটিসি চেয়ারম্যান মো. তাজুল ইসলাম।

এই বাস চালুর বিষয়ে শ্যামলী এন আর ট্রাভেলসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শুভঙ্কর ঘোষ রাকেশ বলেন, ‘করোনার প্রাদুর্ভাবের কারণে দীর্ঘ ২ বছর পর বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে পুনরায় আন্তর্জাতিক বাস সার্ভিস চালু হলো। দীর্ঘদিন পর বন্ধুপ্রতিম দুই প্রতিবেশী দেশের জনসাধারণের যাতায়াতের এবার সুবিধা হবে। সাধারণ মানুষও অপেক্ষায় ছিল কবে এই বাস সার্ভিস চালু হবে। এখন থেকে ঢাকা থেকে সরাসরি বাসে কলকাতা যাওয়া যাবে। এই রুটের বাসের ভাড়া বাড়ানো হচ্ছে না, আগের নির্ধারিত ভাড়ায় যাত্রীরা অনায়াসে কলকাতা ভ্রমণ করতে পারবেন।

রাকেশ আরও বলেন, করোনার আগে যে টাইম সিডিউল বাসগুলো চলত, সেই সিডিউল বাস চলাচল করছে। পর্যায়ক্রমে আমরা বাসের সংখ্যা বাড়াব। আজ দুটি রুটে ঢাকা কলকাতা, ঢাকা আগরতলা বাস চলাচল শুরু হলো। পর্যায়ক্রমে বাকি রুটগুলোতেও বাস পরিচালনা করা হবে।

এদিকে করোনার কারণে বাস সেবা বন্ধ রাখার আগে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে মোট ৫টি রুটে বাস চলাচল করত। সেগুলো হচ্ছে, ঢাকা-কলকাতা-ঢাকা, ঢাকা-আগরতলা-ঢাকা, ঢাকা-সিলেট-শিলং-গুয়াহাটি-ঢাকা, আগরতলা-ঢাকা-কলকাতা-আগরতলা ও ঢাকা-খুলনা-কলকাতা-ঢাকা।


আরও খবর



রাস্তার পাশ থেকে অজ্ঞাত ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশিত:শুক্রবার ১০ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 |
Image

অনুপ সিংহ,নোয়াখালী প্রতিনিধিঃ

নোয়াখালী সুবর্ণচর উপজেলা থেকে পুলিশ এক অজ্ঞাত (৫৫) ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে।  

শুক্রবার (১০ জুন) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার সোনাপুর -চেয়ারম্যানঘাট আঞ্চলিক মহাসড়কের চরজুবিলী ইউনিয়নের ৮নম্বর ওয়ার্ডের  ফায়ার সার্ভিস এলাকা থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়। তবে তাৎক্ষণিক নিহতের পরিচয় নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ এবং স্থানীয়রা। 

স্থানীয় বাসিন্দা সোহেল জানান,প্রাথমিক ভাবে ধারণা করা হচ্ছে গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগ রাতের কোনো এক সময় যানবাহনের ধাক্কায় ওই ব্যক্তি মারা যায়। সকাল ৭টার দিকে স্থানীয় লোকজন রাস্তার পাশে লাশটি পড়ে থাকতে দেখে থানায় খবর দেন। পরে সকাল ৮টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ লাশ উদ্ধার করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করেন চরজব্বার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জিয়াউল হক। তিনি বলেন,মৃত ব্যক্তির মানসিক ভারসাম্যহীন ছিল। দিনের বেলায় উপজেলার বিভিন্ন স্থানে তাকে ঘুরাঘুরি করতে অনেকে দেখেছেন। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পুলিশ নিহত ব্যক্তির নাম ঠিকানা জানতে চেষ্টা চালাচ্ছে।


আরও খবর



নিমতলী ট্র্যাজেডি

পুরান ঢাকার কেমিক্যাল গোডাউন সরেনি এক যুগেও

প্রকাশিত:শুক্রবার ০৩ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 |
Image

কেমিক্যাল বিস্ফোরণে নিমতলী ট্র্যাজেডির এক যুগেও দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন আসেনি পুরান ঢাকায়। আজও বোমা গোডাউনেই বসবাস করছে পুরান ঢাকাবাসী। নিমতলী এলাকা থেকে রাসায়নিক ও বিস্ফোরক জাতীয় কেমিক্যাল দোকান সরিয়ে নেওয়া হলেও তার এক কিলোমিটারের মধ্যেই রয়েছে অসংখ্য ‘বোমা গোডাউন’। অধিকাংশ গোডাউন আবাসিক ভবনগুলোতে।

নিমতলী ট্র্যাজেডির পর সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তর সমন্বিত করে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছিল। বিশেষজ্ঞরা ১৭টি সুপারিশ পেশ করেছিলেন সরকারের কাছে। এরমধ্যে প্রথমেই ছিল বিভিন্ন রাসায়নিক পদার্থের গুদাম ও কারখানা সরিয়ে নেওয়া, আবাসিক ভবনের বাণিজ্যিক কার্যক্রম বন্ধসহ ১৫টি সুপারিশ; যা বাস্তবায়নের দায়িত্ব ছিল শিল্প মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়সহ সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও দপ্তর। ঘটনার এক যুগ অতিবাহিত হওয়ার পরও সুপারিশ বাস্তবায়িত না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্বজনহারা ও ক্ষতিগ্রস্তরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক তদন্ত কমিটির একজন বলেন, ‘ভয়াল ঘটনার এক যুগেরও সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন না হওয়ার নেপথ্যে ক্ষমতাসীনদের প্রভাব ও সরকারের স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে। ওই ঘটনার পর একই কারণে আরো দুটি অগ্নিকাণ্ড দেখতে হয়েছে পুরান ঢাকাবাসীকে।’

নিমতলী অগ্নিকাণ্ডে নিহতের স্বজনরা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আর কত প্রাণ গেলে সরকারের টনক নড়বে! ক্ষমতাসীনদের প্রভাবে কেমিক্যাল গোডাউনগুলো হস্তান্তর হচ্ছে না। বরং বাসিন্দারা প্রতিবাদ করলে নানা রকম নির্যাতনের শিকার হতে হয়।

সুপারিশ বাস্তবায়নে শুধু কি ক্ষমতাশালীদের প্রভাব না কি সরকারের সদিচ্ছার অভাব রয়েছে- এমন প্রশ্নে ফায়ার সার্ভিসের সাবেক মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল অলি আহমেদ খান বলেন, ‘ঘটনার এক যুগ পরও কেমিক্যাল গোডাউন হস্তান্তর না হওয়ার পেছনে সরকারের সমন্বয়হীনতা রয়েছে। এজন্য যেকোনো একটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে দায়িত্ব নিতে হবে। কেমিক্যালের কারণে নিমতলীর পর চকবাজেরর ঘটনাও আমাদের নাড়া দিয়েছিল।’

এমন পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি হওয়া আগেই দ্রুত এসব কারখানা ও কেমিক্যাল গোডাউন হস্তান্তর করা দরকার বলে মনে করেন সাবেক এই কর্মকর্তা।

নিমতলী ও পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা য়ায়, নিমতলী অগ্নিকাণ্ডের এক যুগ পরও বাতাসে ভাসছে পোড়া ও ক্ষতের গন্ধ। ওই ঘটনায় আগুনে পুড়ে ১২৪ জনের মৃত্যু হয়। আহত হয় শতাধিক মানুষ। মর্মান্তিক ওই ঘটনার পর নিমতলী থেকে কেমিক্যাল দোকানগুলো সরিয়ে নেওয়া হলেও পাশেই রয়েছে বেশ কয়েকটি পলিথিন ও প্লাস্টিক কারখানা; যা খোদ স্থানীয় পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি শহিদ মিয়ার বাড়ির নিচেই দেখা মেলে পলিথিন ও প্লাস্টিক কারখানা। এ ছাড়া নিমতলী থেকে এক কিলোমিটারের মধ্যে রয়েছে অসংখ্য কেমিক্যাল গোডাউন। স্থানীয়রা এর নাম দিয়েছেন ‘বোমা গোডাউন’।

পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, অ্যাটম বোমার ওপর বসবাস করছে কয়েক হাজার পরিবার। রাসায়নিক দাহ্য পদার্থ ও বিস্ফোরক জাতীয় পদার্থের গোডাউন, কারখানা ও দোকানের ছড়াছড়ি পুরান ঢাকার একাংশ। বিশেষ করে ইসলামবাগ, ওয়াটার-হাজী বাল্লু রোড, কে বি রুদ্র রোড, হরনাথ ঘোষ রোড, গৌরী সুন্দর লেন, বকশীবাজার লেন, তাঁতীবাজার রোড, নাজিমুদ্দিন রোড, মনসুরবাগ, বাগচান খাঁ লেন, নিজামবাগ, জঙ্গলবাড়ী, নূরবাগ, দুখুরিয়া, মমিনবাগ, হুজুরপাড়া, মনেশ্বর রোড, লালবাগ রোড়, মৌলভীবাজার, আরমানীটোলা ও মিটফোর্ড এলাকায় রয়েছে কয়েক হাজার কেমিক্যাল গোডাউন। যার সিংহভাগই আবাসিক ভবনে। এর সততা মিলেছে খোদ ফায়ার সার্ভিস ও সিটি করপোরেশনের প্রতিবেদনেও।

ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে ২০১৯ সালের শেষদিকে একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, আরমানীটোলা, বাবুবাজার, মিটফোর্ড, চকবাজার, কামরাঙ্গীরচর, লালবাগ, ইসলামপুরসহ আশপাশের এলাকায় আবাসিক ভবনে ঝুঁকিপূর্ণভাবে চার শতাধিক প্রতিষ্ঠান ও দুই হাজার গোডাউন রয়েছে। সিটি করপোরেশনের তালিকায়ও উঠে আসে একই চিত্র।

সিটি করপোরেশনের তথ্য বলছে, পুরান ঢাকায় প্রায় ১৯২৪টি কেমিক্যাল গোডাউন রয়েছে; যার ৯৮ শতাংশ আবাসিক ভবনে। তবে বেসরকারি ও বিভিন্ন সংস্থার হিসাবে এর সংখ্যা সাড়ে তিন হাজারের অধিক।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদ আহাম্মদ বলেন, ‘আমরা বরাবরই পুরান ঢাকা থেকে কেমিক্যাল গোডাউন সরানো বিষয়ে সম্প্রতি কেবিনেটে আলোচনা হয়েছে।’

কেমিক্যাল ব্যবসায়ীদের দাবি, অতিদাহ্য বা ঝুঁকিপূর্ণ কেমিক্যাল নদীর ওপার থেকে বিক্রি করা হচ্ছে। তবে ক্রেতা ও কয়েকজন কেমিক্যাল ব্যবসায়ী জানান, তারা পুরান ঢাকা থেকেই সব ধরনের কেমিক্যাল বিক্রি করে থাকেন। বিশেষ করে মিটফোর্ড, চকবাজার, আরমানীটোলা, ইসলামবাগের বিভিন্ন অলিগলির ভবনের এসব কেমিক্যাল গোডাউন। নাম প্রকাশ না করে এক কেমিক্যাল ব্যবসায়ী বলেন, আমাদের সব ক্রেতা পুরান ঢাকাকেন্দ্রিক। এখানে ছোট-বড় অনেক কারখানা রয়েছে। মুন্সীগঞ্জে গোডাউন করা হলেও এখানেই আমাদের ক্রয়-বিক্রয় করতে হবে। পুরোপুরি সরিয়ে নেওয়া সম্ভব না। এত ঘটনার পরও কোনো আবাসিক এলাকা থেকে কেমিক্যাল সরানো হচ্ছে না! এমন প্রশ্নে ওই ব্যবসায়ী বলেন, ‘এই ব্যবসা যারা করেন, তারা সবাই ক্ষমতাসীন দলের। তাছাড়া এখানে বহু টাকার লেনদেন রয়েছে।’

নিমতলী ট্র্যাজেডির পর কেমিক্যাল গোডাউন স্থানান্তরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রাণালয় থেকে শিল্প মন্ত্রণালয়কে দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরে ২০১৮ সালে শিল্প মন্ত্রণালয় কেরানীগঞ্জে ৫০ একর জায়গার ওপর ‘বিসিক কেমিক্যাল পল্লী ঢাকা’ নামে একটি প্রকল্প একনেকে অনুমোদন পায়। পরে ২০১৯ সালে সেটি মুন্সীগঞ্জ জেলার সিরাজদিখানে ৩১০ একর জমিতে স্থানান্তর করা হয়। এ বছর এসব কেমিক্যাল গুদাম ও কারখানা স্থানান্তরের কথা থাকলেও প্রকল্প পরিচালক বলছেন, আরো এক বছর সময় লাগবে। বাস্তবে জমি ক্রয় ছাড়া এখনো কোনো অবকাঠামোগত উন্নয়ন হয়নি কেমিক্যাল পল্লীর। শিল্প মন্ত্রণালয়ের বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুঠিরশিল্প করপোরেশনের (বিসিক) প্রকল্প পরিচালক (বিসিক কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল পার্ক) মুহাম্মদ হাফিজুর রহমান বলেন, ‘কেমিক্যাল ব্যবসায়ীদের আবাসিক এলাকা থেকে হস্তান্তরের জন্য মুন্সীগঞ্জে ৩১০ একর জায়গা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে সেখানে মাটি ভরাটের কাজ চলছে। ২০২৩ সালে পুরো প্রকল্পের কাজ শেষ হবে। এরপর সেখানে ব্যবসায়ীদের দোকান/গোডাউন বরাদ্দ দেওয়া হবে।’

মামলা হয়নি, পায়নি আশানুরূপ ক্ষতিপূরণ : নিমতলী অগ্নিকাণ্ডে নিহতের স্বজনদের দাবি, ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ১২৪ জন নিহতের ঘটনায় সরকারের পক্ষ থেকে নিহতদের মাথাপিছু ২০ লাখ টাকা করে দেওয়া কথা থাকলেও পরিবার প্রতি পেয়েছেন এক লাখ টাকা। যার পরিবারের ১১ জন মারা গেছে, তিনিও পেয়েছেন ১ লাখ টাকা। ভয়ংকর এ ঘটনায় কোনো মামলা না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন নিহত ও ক্ষতিগ্রস্ত স্বজনরা।

জানা যায়, সেসময়ে বংশাল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছিল। তবে বর্তমানে তারও কোনো হুদিস নেই পুলিশের কাছে। বংশাল থানার ওসি বলেন, ‘তখন কোনো জিডি হয়েছিল কি না, তা আমার জানা নেই।’

এদিকে এ ঘটনায় নাম প্রকাশ না করে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, ‘নিমতলী ট্র্যাজেডির প্রতিবাদ ও বিচারের দাবি এবং সেসময় সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার জন্য অনেক বাসিন্দাকে নির্যাতন ও নানাভাবে হয়রানি করেন স্থানীয় প্রভাবশালীরা। এ ঘটনায় প্রভাবশালী নেতারা সুবিধা নিয়েছেন অথচ ভুক্তভোগীরা কিছুই পাননি।’

ক্ষতিগ্রস্তরা প্রশ্ন রেখে বলেন, কেমিক্যাল গোডাউন কার ছিল, কাদের জন্য আমাদের এত ক্ষতি, এত বড় ঘটনায় কেন মামলা হলো না? এসব প্রশ্নের উত্তর নেই কারো কাছে।



আরও খবর



সৌদি পৌঁছেছেন ২৫ হাজার ৯৮১ জন হজযাত্রী

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ২১ জুন ২০২২ | হালনাগাদ:শনিবার ০২ জুলাই 2০২2 |
Image

বাংলাদেশ থেকে এখন পর্যন্ত প্রায় ২৬ হাজার যাত্রী সৌদি আরব পৌঁছেছেন। সোমবার দিবাগত রাত ২টা পর্যন্ত ২৫ হাজার ৯৮১ জন যাত্রী সৌদি পৌঁছেছেন। এর মধ্যে সরকারি ব্যবস্থাপনায় ৩ হাজার ৩৮৫ ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় হজযাত্রী ২২ হাজার ৫৯৬ জন।

এ ছাড়া এখন পর্যন্ত ৭১টি হজ ফ্লাইট সৌদি গেছে। এর মধ্যে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস পরিচালিত ৩৯টি, সৌদি এয়ারলাইনসের ২৭টি ও ফ্লাইনাসের ৫টি।

হজ সম্পর্কিত প্রতিদিনের বুলেটিন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

এবার বাংলাদেশ থেকে ৫৭ হাজার ৫৮৫ জন হজে সৌদি যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। গত ৫ জুন হজের প্রথম ফ্লাইট ঢাকা ছাড়ে। শেষ হবে ৩ জুলাই। হজ শেষে ফিরতি ফ্লাইট শুরু হবে আগামী ১৪ জুলাই। শেষ হবে ৪ আগস্ট।


আরও খবর

১০ জুলাই পবিত্র ঈদুল আযহা

শুক্রবার ০১ জুলাই ২০২২