কিশোরদের নিরাপত্তা নিয়ে দায়ের করা একটি মামলার বিচার এড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামা অঙ্গরাজ্যকে অন্তত ১০ কোটি ডলার দিতে সম্মত হয়েছে টিকটক। পাশাপাশি কিশোর ব্যবহারকারীদের জন্য অ্যাপ ব্যবহারে কিছু নতুন সীমাবদ্ধতাও চালু করবে প্রতিষ্ঠানটি।
শুক্রবার টিকটক ও আলাবামা কর্তৃপক্ষের মধ্যে এ সমঝোতা হয়। এর ফলে আগামী সপ্তাহে শুরু হতে যাওয়া মামলাটির বিচার আর হচ্ছে না।
আলাবামার অ্যাটর্নি জেনারেল স্টিভ মার্শালের দপ্তর জানিয়েছে, সমঝোতা অনুযায়ী আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে অঙ্গরাজ্যকে কমপক্ষে ১০ কোটি ডলার দেবে টিকটক। তবে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ হলে এই অর্থের পরিমাণ বেড়ে ৩০ কোটি ডলার পর্যন্ত হতে পারে।
মামলাটির বিচার সোমবার শুরু হওয়ার কথা ছিল। এদিন জুরি বা বিচারকমণ্ডলী নির্বাচনের প্রক্রিয়াও শুরু হওয়ার কথা ছিল।
মার্শালের দপ্তর জানিয়েছে, টিকটক কিশোর ব্যবহারকারীদের জন্য প্রতিদিন সর্বোচ্চ দুই ঘণ্টা অ্যাপ ব্যবহারের সময়সীমা চালু করতে সম্মত হয়েছে।
এ ছাড়া রাত ১২টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত শিশুদের টিকটক ব্যবহারে বাধা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। এর পাশাপাশি অভিভাবকদের নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তার জন্য আরও বেশ কিছু সুবিধা চালু করবে প্রতিষ্ঠানটি।
আলাবামার মামলাটি যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে তরুণ ব্যবহারকারীদের ওপর এসব প্ল্যাটফর্মের কথিত ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে দায়ের হওয়া একাধিক মামলার সর্বশেষ ঘটনা।
বিচারে যাওয়ার আগেই এর আগে আরও কয়েকটি মামলার নিষ্পত্তি করেছে টিকটক। এর মধ্যে লস অ্যাঞ্জেলেসে এক তরুণীর করা মামলা ও কেনটাকির একটি স্কুল জেলার করা মামলাও রয়েছে।
অন্যদিকে, মেটা আদালতে মামলা লড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং কয়েকটি মামলায় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে।
চলতি বছরের মার্চে নিউ মেক্সিকোর একটি জুরি ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মালিক মেটাকে ৩৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার দিতে নির্দেশ দেয়।
শিশুদের জন্য তাদের প্ল্যাটফর্ম কতটা নিরাপদ— এ বিষয়ে জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগে মেটাকে দায়ী করা হয়।
একই মাসে লস অ্যাঞ্জেলেসের আরেকটি জুরি ২০ বছর বয়সী এক তরুণীর মামলায় মেটা ও গুগলের মালিকানাধীন ইউটিউবকে অবহেলার জন্য দায়ী করে।
ওই তরুণী বলেছিলেন, ছোটবেলায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের প্রতি তিনি আসক্ত হয়ে পড়েছিলেন। মামলায় তাকে ৬০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।
আগস্টে শিশুদের আসক্ত করার উদ্দেশ্যে ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুক নকশা করা হয়েছিল— এমন অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের করা একটি বড় মামলার নিষ্পত্তিতে ১৮০ কোটি ডলার দিতে সম্মত হয় মেটা।
আলাবামার মামলাটি আদালতে গড়ালে টিকটককে শিশু ও কিশোরদের নিরাপত্তা নিয়ে তাদের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম সম্পর্কে নজিরবিহীন জনসমালোচনা ও যাচাইয়ের মুখে পড়তে হতো।
কারণ আদালতে কোম্পানির অভ্যন্তরীণ নথি ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাক্ষ্য প্রকাশ্যে আসার সম্ভাবনা ছিল।
আলাবামা ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে টিকটক ও এর চীনা মূল কোম্পানি বাইটড্যান্সের বিরুদ্ধে প্রথম মামলা করে।
অঙ্গরাজ্যটির অভিযোগ ছিল, তরুণ ব্যবহারকারীদের দীর্ঘ সময় অ্যাপে আটকে রাখার জন্য টিকটককে এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যা ‘একটি অত্যাধুনিক জুয়া খেলার মেশিনের মতো’ কাজ করে।
পরে অঙ্গরাজ্যটি মামলাটি আলাবামার ‘ডিসেপটিভ ট্রেড প্র্যাকটিসেস অ্যাক্ট’-এর আওতাধীন অভিযোগে সীমিত করে। এতে মূলত খতিয়ে দেখা হয়, টিকটক ‘রেস্ট্রিক্টেড মোড’ ও ‘কিডস মোড’-এর মতো নিরাপত্তা সুবিধাগুলোর কার্যকারিতা সম্পর্কে ব্যবহারকারীদের বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়েছিল কি না।
মামলার নথি অনুযায়ী, আলাবামার তদন্তকারীরা ১৩, ১৪ ও ১৫ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীর পরিচয়ে টিকটক অ্যাকাউন্ট খুলেছিলেন। এরপর এসব অ্যাকাউন্টে ‘রেস্ট্রিক্টেড মোড’ চালু করা হয়।
টিকটকের বক্তব্য ছিল, এই মোড চালু থাকলে ব্যবহারকারীরা প্রাপ্তবয়স্কদের উপযোগী বা অনুপযুক্ত বিষয়বস্তু দেখতে পাবেন না।
কিন্তু আলাবামার মামলার নথিতে বলা হয়, ওই অ্যাকাউন্টগুলোতে অল্প সময়ের মধ্যেই আত্মহত্যা, আত্মক্ষতি, খাদ্যাভ্যাসজনিত মানসিক সমস্যা, অ্যালকোহল ও যৌনতা নিয়ে ভিডিও দেখানো হয়।
অঙ্গরাজ্যটির আরও অভিযোগ, অ্যাপ স্টোরগুলোকে টিকটক ভুলভাবে জানিয়েছিল যে প্ল্যাটফর্মটি ১২ বছর বা তার বেশি বয়সী শিশুদের জন্য উপযোগী এবং এতে কেবল সামান্য বা খুব কম পরিমাণে প্রাপ্তবয়স্কদের উপযোগী বিষয়বস্তু রয়েছে।
আলাবামা অঙ্গরাজ্যকে ১০ কোটি ডলার দেবে টিকটক
আলাবামা অঙ্গরাজ্যকে ১০ কোটি ডলার দেবে টিকটক
কিশোরদের নিরাপত্তা নিয়ে দায়ের করা একটি মামলার বিচার এড়াতে যুক্তরাষ্ট্রের আলাবামা অঙ্গরাজ্যকে অন্তত ১০ কোটি ডলার দিতে সম্মত হয়েছে টিকটক। পাশাপাশি কিশোর ব্যবহারকারীদের জন্য অ্যাপ ব্যবহারে কিছু নতুন সীমাবদ্ধতাও চালু করবে প্রতিষ্ঠানটি। শুক্রবার টিকটক ও আলাবামা কর্তৃপক্ষের মধ্যে এ সমঝোতা হয়। এর ফলে আগামী সপ্তাহে শুরু হতে যাওয়া মামলাটির বিচার আর হচ্ছে না। আলাবামার অ্যাটর্নি জেনারেল স্টিভ মার্শালের দপ্তর জানিয়েছে, সমঝোতা অনুযায়ী আগামী ৪৫ দিনের মধ্যে অঙ্গরাজ্যকে কমপক্ষে ১০ কোটি ডলার দেবে টিকটক। তবে নির্দিষ্ট কিছু শর্ত পূরণ হলে এই অর্থের পরিমাণ বেড়ে ৩০ কোটি ডলার পর্যন্ত হতে পারে। মামলাটির বিচার সোমবার শুরু হওয়ার কথা ছিল। এদিন জুরি বা বিচারকমণ্ডলী নির্বাচনের প্রক্রিয়াও শুরু হওয়ার কথা ছিল। মার্শালের দপ্তর জানিয়েছে, টিকটক কিশোর ব্যবহারকারীদের জন্য প্রতিদিন সর্বোচ্চ দুই ঘণ্টা অ্যাপ ব্যবহারের সময়সীমা চালু করতে সম্মত হয়েছে। এ ছাড়া রাত ১২টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত শিশুদের টিকটক ব্যবহারে বাধা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে। এর পাশাপাশি অভিভাবকদের নিয়ন্ত্রণ ও ব্যবহারকারীদের নিরাপত্তার জন্য আরও বেশ কিছু সুবিধা চালু করবে প্রতিষ্ঠানটি। আলাবামার মামলাটি যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম কোম্পানিগুলোর বিরুদ্ধে তরুণ ব্যবহারকারীদের ওপর এসব প্ল্যাটফর্মের কথিত ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে দায়ের হওয়া একাধিক মামলার সর্বশেষ ঘটনা। বিচারে যাওয়ার আগেই
এর আগে আরও কয়েকটি মামলার নিষ্পত্তি করেছে টিকটক। এর মধ্যে লস অ্যাঞ্জেলেসে এক তরুণীর করা মামলা ও কেনটাকির একটি স্কুল জেলার করা মামলাও রয়েছে। অন্যদিকে, মেটা আদালতে মামলা লড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এবং কয়েকটি মামলায় বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে। চলতি বছরের মার্চে নিউ মেক্সিকোর একটি জুরি ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মালিক মেটাকে ৩৭ কোটি ৫০ লাখ ডলার দিতে নির্দেশ দেয়। শিশুদের জন্য তাদের প্ল্যাটফর্ম কতটা নিরাপদ— এ বিষয়ে জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করার অভিযোগে মেটাকে দায়ী করা হয়। একই মাসে লস অ্যাঞ্জেলেসের আরেকটি জুরি ২০ বছর বয়সী এক তরুণীর মামলায় মেটা ও গুগলের মালিকানাধীন ইউটিউবকে অবহেলার জন্য দায়ী করে। ওই তরুণী বলেছিলেন, ছোটবেলায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারের প্রতি তিনি আসক্ত হয়ে পড়েছিলেন। মামলায় তাকে ৬০ লাখ ডলার ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। আগস্টে শিশুদের আসক্ত করার উদ্দেশ্যে ইনস্টাগ্রাম ও ফেসবুক নকশা করা হয়েছিল— এমন অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের করা একটি বড় মামলার নিষ্পত্তিতে ১৮০ কোটি ডলার দিতে সম্মত হয় মেটা। আলাবামার মামলাটি আদালতে গড়ালে টিকটককে শিশু ও কিশোরদের নিরাপত্তা নিয়ে তাদের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম সম্পর্কে নজিরবিহীন জনসমালোচনা ও যাচাইয়ের মুখে পড়তে হতো। কারণ আদালতে কোম্পানির অভ্যন্তরীণ নথি ও শীর্ষ কর্মকর্তাদের সাক্ষ্য প্রকাশ্যে আসার
সম্ভাবনা ছিল। আলাবামা ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে টিকটক ও এর চীনা মূল কোম্পানি বাইটড্যান্সের বিরুদ্ধে প্রথম মামলা করে। অঙ্গরাজ্যটির অভিযোগ ছিল, তরুণ ব্যবহারকারীদের দীর্ঘ সময় অ্যাপে আটকে রাখার জন্য টিকটককে এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যা ‘একটি অত্যাধুনিক জুয়া খেলার মেশিনের মতো’ কাজ করে। পরে অঙ্গরাজ্যটি মামলাটি আলাবামার ‘ডিসেপটিভ ট্রেড প্র্যাকটিসেস অ্যাক্ট’-এর আওতাধীন অভিযোগে সীমিত করে। এতে মূলত খতিয়ে দেখা হয়, টিকটক ‘রেস্ট্রিক্টেড মোড’ ও ‘কিডস মোড’-এর মতো নিরাপত্তা সুবিধাগুলোর কার্যকারিতা সম্পর্কে ব্যবহারকারীদের বিভ্রান্তিকর তথ্য দিয়েছিল কি না। মামলার নথি অনুযায়ী, আলাবামার তদন্তকারীরা ১৩, ১৪ ও ১৫ বছর বয়সী কিশোর-কিশোরীর পরিচয়ে টিকটক অ্যাকাউন্ট খুলেছিলেন। এরপর এসব অ্যাকাউন্টে ‘রেস্ট্রিক্টেড মোড’ চালু করা হয়। টিকটকের বক্তব্য ছিল, এই মোড চালু থাকলে ব্যবহারকারীরা প্রাপ্তবয়স্কদের উপযোগী বা অনুপযুক্ত বিষয়বস্তু দেখতে পাবেন না। কিন্তু আলাবামার মামলার নথিতে বলা হয়, ওই অ্যাকাউন্টগুলোতে অল্প সময়ের মধ্যেই আত্মহত্যা, আত্মক্ষতি, খাদ্যাভ্যাসজনিত মানসিক সমস্যা, অ্যালকোহল ও যৌনতা নিয়ে ভিডিও দেখানো হয়। অঙ্গরাজ্যটির আরও অভিযোগ, অ্যাপ স্টোরগুলোকে টিকটক ভুলভাবে জানিয়েছিল যে প্ল্যাটফর্মটি ১২ বছর বা তার বেশি বয়সী শিশুদের জন্য উপযোগী এবং এতে কেবল সামান্য বা খুব কম পরিমাণে প্রাপ্তবয়স্কদের উপযোগী বিষয়বস্তু রয়েছে।
সুফী মাজহারুল ইসলাম মাসুম
[email protected] | ০১৭১১৬৬০৫৫৭
রওশন টাওয়ার, (লিফট-৮) ১৫২/২/এ২ গ্রীণ রোড ,
পান্থপথ সিগন্যাল, ঢাকা-১২০৫ ।
মোবাইলঃ ০১৭১৭৪৩৬১৩৯
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত