রবিবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
আন্তর্জাতিক বন্যায় বিপর্যস্ত ব্যাংকক, আশ্রয়কেন্দ্রে হাজার হাজার মানুষ

বন্যায় বিপর্যস্ত ব্যাংকক, আশ্রয়কেন্দ্রে হাজার হাজার মানুষ

টানা কয়েক দিনের ভারী বৃষ্টিতে থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের বিভিন্ন এলাকা প্লাবিত হয়েছে। পানিতে তলিয়ে গেছে ঘরবাড়ি ও সড়ক। এতে রোববার সকালে হাজার হাজার মানুষকে আশ্রয়কেন্দ্রে রাত কাটাতে হয়েছে। 

ব্যাংকক মেট্রোপলিটন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের (বিএমএ) তথ্য অনুযায়ী, বন্যার কারণে প্রায় ৪ হাজার ৯০০ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে প্রায় ৫২ হাজার পরিবার। বন্যার এ পরিস্থিতির কারণে পুরো রাজধানীতে দুর্যোগ ঘোষণা করা হয়েছে।
কেউ কেউ এরই মধ্যে ঘর ও ভিজে যাওয়া জিনিসপত্র শুকানোর কাজ শুরু করেছেন।

আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার থেকে রোববার পর্যন্ত ব্যাংককের কিছু এলাকায় ৩৩০ মিলিমিটারের (প্রায় ১৩ ইঞ্চি) বেশি বৃষ্টিপাত হয়েছে।

থাইল্যান্ডে বর্ষাকালের বৃষ্টি নতুন কিছু নয়। সেপ্টেম্বর দেশটির বর্ষাকালের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাতের সময়। 
তবে ব্যাংককের কয়েকজন বাসিন্দা জানিয়েছেন, এ বছর পরিস্থিতি আগের তুলনায় অনেক বেশি ভয়াবহ মনে হচ্ছে।

রাজধানীর উপকণ্ঠে প্রেমপ্রচাকর্ন খালের পাশে বসবাসকারী অফিসকর্মী কোসিন নিলসেট রোববার সকালে  বলেন, ‘আমাদের বাড়ি প্রায় ৩০ ঘণ্টা পানির নিচে ছিল।’

৪৪ বছর বয়সী কোসিন বলেন, ‘এবার পানির উচ্চতা ২০১১ সালের বন্যার চেয়েও বেশি।’

২০১১ সালে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার এই দেশটিতে ভয়াবহ বন্যায় ৫০০ জনের বেশি মানুষ মারা যায় এবং লাখ লাখ ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

পানির উচ্চতা খালের প্রতিরোধক দেয়াল ছাড়িয়ে যেতে দেখে কোসিন ও তার পরিবারের সদস্যরা ঘরের জিনিসপত্র উঁচু জায়গায় তুলে রাখেন। কিন্তু এরপরও তাদের বাড়ির নিচতলা পানিতে ভিজে যায়।

পানি ঝাড়ু দিয়ে বের করার সময় কোসিন বলেন, ‘তবে পানির কল ও বিদ্যুৎ এখনো চালু আছে।’

ব্যাংককের পূর্বাঞ্চলে পথচারীরা প্লাস্টিকের রেইনকোট পরে ঘোলা পানির মধ্য দিয়ে হেঁটে যাচ্ছেন। কোনো কোনো এলাকায় মুদি দোকানের পার্কিংয়ের পানির উচ্চতা হাঁটু পর্যন্ত উঠে গেছে। অনেকে প্লাস্টিকের পাত্রে নিজেদের জিনিসপত্র ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।

বিএমএ জানিয়েছে, রোববার সকালেও ব্যাংককের বিস্তৃত খালব্যবস্থায় পানির উচ্চতা অনেক বেশি ছিল। পানি দ্রুত নিষ্কাশনের জন্য কর্তৃপক্ষ কাজ করছে।

ব্যাংকক ও আশপাশের প্রদেশগুলোতে রোববারও আরও বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। তবে সোমবার থেকে বৃষ্টিপাত কমে আসতে পারে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে আসছেন, জীবাশ্ম জ্বালানি পোড়ানোর কারণে পৃথিবীর তাপমাত্রা বাড়তে থাকায় চরম আবহাওয়ার ঘটনা আরও ঘন ঘন ও তীব্র হতে পারে।

ব্যাংককের গভর্নর চাদচার্ট সিত্তিপুন্ট জানান, শহরের বেশ কয়েকটি সড়ক এখনো পানিতে তলিয়ে আছে। 
ফেসবুক লাইভে তিনি নগরবাসীকে জরুরি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দেন।

শনিবার রাতে চাদচার্ট খেহা রোমক্লাও এলাকার একটি স্কুলে স্থাপিত অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করেন। 
সেখানে প্রায় ১ হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছে বলে জানান তিনি।

কেউ কেউ করিডোরে খাট ও বেঞ্চে তাদের কুকুরদের নিয়ে বিশ্রাম নিচ্ছিল। অন্যরা ডেস্ক-চেয়ার এক পাশে সরিয়ে রাখা শ্রেণিকক্ষের মেঝেতে কম্বল বিছিয়ে শুয়ে ছিলেন।

বিএমএ জানিয়েছে, বন্যার কারণে সোমবার ব্যাংককের শত শত স্কুল বন্ধ থাকবে।

এদিকে সপ্তাহান্তে প্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে বাসিন্দাদের ভিড় বাড়ায় কিছু নিত্যপণ্যের দোকানের তাক প্রায় খালি হয়ে যায়।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জনগণকে আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত পণ্য কিনে মজুত না করার আহ্বান জানিয়েছে। 
একই সঙ্গে সতর্ক করে বলা হয়েছে, দুর্যোগের সুযোগ নিয়ে পণ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বাড়ানো একটি ফৌজদারি অপরাধ।

৫৬ বছর বয়সী থিদারাত সিলসুওয়ান প্রেমপ্রচাকর্ন খালের পাশে আংশিক পানিতে ডুবে থাকা বাড়িতে একাই বসবাস করেন।

দুই দিন ধরে আমি টেবিলের ওপর ঘুমাচ্ছি।’

ঘর পরিষ্কার করা এবং যতটা সম্ভব জিনিসপত্র রক্ষা করার চেষ্টা করায় তিনি আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে চাননি।

থিদারাত বলেন, ‘আমি সবকিছু উঁচু স্থানে রাখার চেষ্টা করেছি। কিন্তু ফ্রিজ ও ওয়াশিং মেশিনের মতো বড় বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি আর সরাতে পারিনি। মনে হয় এগুলো নষ্ট হয়ে গেছে।’

খুঁজুন