বৃহস্পতিবার, ৪ জুন ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
দেশের খবর হাজিরা খাতায় শতভাগ উপস্থিত, বাস্তবে শ্রেণিকক্ষ খালি

হাজিরা খাতায় শতভাগ উপস্থিত, বাস্তবে শ্রেণিকক্ষ খালি

 ঝালকাঠির রাজাপুর উপজেলার আংগারিয়া এস.এম মহিলা দাখিল মাদ্রাসা  পরিচালনায় চরম অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে না থাকলেও হাজিরা খাতায় তাদের শতভাগ উপস্থিতি দেখাচ্ছেন শিক্ষকরা। এতে সরকার প্রতি মাসে কয়েক লাখ টাকা ক্ষতির মুখে পড়ছে 

প্রতিষ্ঠানটির নথি অনুযায়ী মোট শিক্ষার্থী ২২০ জন, যার মধ্যে ইবতেদায়ী শাখায় রয়েছে ১০৯ জন। তবে বাস্তবে প্রতিদিন উপস্থিত থাকে মাত্র ৩০ জনের মতো। অথচ ১৬ জন শিক্ষক-কর্মচারীর জন্য সরকারি তহবিল থেকে প্রতি মাসে ৩ লাখ ৩০ হাজার ৬২৯ টাকা বেতন তোলা হচ্ছে।

মাদ্রাসা ঘুরে দেখা যায়
প্রথম শ্রেণিতে কোনো শিক্ষার্থী নেই,
দ্বিতীয় শ্রেণিতে ২ জন, তৃতীয় শ্রেণিতে ৩ জন,
চতুর্থে ২ জন, পঞ্চমে ৪ জন,
ষষ্ঠ শ্রেণিতে ৪ জন, সপ্তমে ৮ জন,
অষ্টম শ্রেণিতে কেউ নেই,
নবম শ্রেণিতে ৩ জন এবং দশম শ্রেণিতে ৪ জন উপস্থিত।
স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, দুপুর হওয়ার আগেই প্রতিদিন ছুটি ঘোষণা করা হয়। শিক্ষকরা নিয়মিত শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা না করে ইচ্ছেমতো আসা-যাওয়া করেন। এর প্রভাব পড়েছে পরীক্ষার ফলাফলেও। সম্প্রতি অনুষ্ঠিত দাখিল পরীক্ষায় ১১ জন শিক্ষার্থী অংশ নিলেও উত্তীর্ণ হয়েছে মাত্র ২ জন।

শিক্ষাবিদরা মনে করছেন, নিয়মিত পাঠদান, শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি নিশ্চিতকরণ, শিক্ষা কর্মকর্তাদের সক্রিয় তদারকি ও শিক্ষক-কর্মচারীদের জবাবদিহিতা বৃদ্ধি ছাড়া মাদ্রাসাটির মানোন্নয়ন সম্ভব নয়।

মাদ্রাসার সুপার মো. ছালেক বলেন, “ক্লাসরুমে পানি জমে কর্দমাক্ত হয়ে যায়, আয়া না থাকায় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা সম্ভব হয় না। এলাকায় অল্প বয়সে মেয়েদের বিয়ে হয়ে যায়, ফলে শিক্ষার্থীও কমে গেছে। হাজিরা শতভাগ দেখাতে হয় বলে অনেক সময় শিক্ষার্থী বাড়িতে থাকলেও খাতায় উপস্থিত দেখানো হয়।”

রাজাপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এ কে এম হারুন আর রশিদ জানান, “শিক্ষার্থীরা অনুপস্থিত থাকলে হাজিরা খাতায় উপস্থিত দেখানো অনৈতিক ও বেআইনি। ইতোমধ্যে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষকে শোকজ করার প্রক্রিয়া চলছে। তদন্ত শেষে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে, প্রয়োজনে বেতন বন্ধও করা হবে।

খুঁজুন