ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে দেওয়া জলবায়ু সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি নিউজিল্যান্ড ভঙ্গ করেছে—এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছে দেশটির সরকার। একটি পরিবেশবাদী সংগঠন ব্রাসেলসে অভিযোগ দায়ের করার পর বুধবার নিউজিল্যান্ড এ অবস্থানের কথা জানায়।
নেদারল্যান্ডসভিত্তিক পরিবেশ ও জলবায়ু ন্যায়বিচারবিষয়ক সংগঠন ‘বোথ এন্ডস’ জানিয়েছে, তারা ইউরোপীয় কমিশনের কাছে অভিযোগটি করেছে। সংগঠনটির অভিযোগ, ২০২৪ সালে ইইউর সঙ্গে করা বাণিজ্য চুক্তিতে দেওয়া প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এসেছে নিউজিল্যান্ড।
সংগঠনটি বলেছে, ‘নিউজিল্যান্ড ইইউর সঙ্গে একটি বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল। সেখানে প্যারিস জলবায়ু চুক্তি মেনে চলা এবং বাণিজ্য আকর্ষণের জন্য পরিবেশ সুরক্ষা দুর্বল না করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল।’
তাদের অভিযোগ, এরপর নিউজিল্যান্ড সমুদ্রসীমায় তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানের সুযোগ আবার চালু করেছে, মিথেন নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্যমাত্রা কমিয়েছে এবং জলবায়ু সংক্রান্ত দাবিতে আদালতে যাওয়ার সুযোগ সীমিত করে একটি আইন পাস করেছে। সংগঠনটির দাবি, দেশটির নিজস্ব কর্মকর্তারাও ওই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে পরামর্শ দিয়েছিলেন।
বোথ এন্ডস বলেছে, ‘আমরা শুধু একটি বিষয় চাই—নিউজিল্যান্ড যে প্রতিশ্রুতিতে স্বাক্ষর করেছে, তা যেন তারা পালন করে।’
সংগঠনটির দাবি, ইইউর কোনো বাণিজ্য চুক্তির আওতায় এটিই প্রথম জলবায়ু সংক্রান্ত অভিযোগ। এর মাধ্যমে এ ধরনের চুক্তিতে দেওয়া পরিবেশগত প্রতিশ্রুতির বাস্তব মূল্য কতটা, তা যাচাই হবে বলেও তারা জানিয়েছে।
নিউজিল্যান্ডের বাণিজ্যমন্ত্রী টড ম্যাকলে এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তার দাবি, ইইউর সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির কোনো শর্ত ভঙ্গ করেনি নিউজিল্যান্ড। দেশটির জন্য চুক্তিটির বার্ষিক আর্থিক মূল্য আনুমানিক ১ দশমিক ৮ বিলিয়ন নিউজিল্যান্ড ডলার (প্রায় ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার)।
এক বিবৃতিতে ম্যাকলে বলেন, ‘নিউজিল্যান্ড তার আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতাকে গুরুত্বের সঙ্গে নেয় এবং সবসময় সেগুলো পালন করে। আমরা ইইউর সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির শর্ত মেনে চলছি।’
তিনি বলেন, পরিবেশ ও জলবায়ু সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতা পূরণে নিউজিল্যান্ড প্রতিশ্রুতিবদ্ধ—এ বিষয়টি সরকার সবসময় পরিষ্কার করেছে। তবে কীভাবে এসব প্রতিশ্রুতি পূরণ করা হবে, সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার নিউজিল্যান্ডের পার্লামেন্ট ও সরকারের।
ম্যাকলে বলেন, ‘কীভাবে নিউজিল্যান্ড তার দায়বদ্ধতা পূরণ করবে, তা বিদেশি দেশ, সংগঠন বা স্বার্থসংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর বলে দেওয়ার বিষয় নয়।’
ভারতের সঙ্গে একটি লাভজনক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা শেষ করার পরপরই তিনি এই মন্তব্য করেন। নতুন চুক্তিটি আগামী মাসে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।
২০১৯ সালে আইন করে প্রতিষ্ঠিত নিউজিল্যান্ডের স্বাধীন সংস্থা ক্লাইমেট চেঞ্জ কমিশন জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে ডানপন্থী সরকারের নীতিগত পরিবর্তনের কারণে দেশটি নিজস্ব কার্বন নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থ হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে।
জুলাইয়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে কমিশন বলেছে, সরকারের কয়েকটি নীতির কারণে নিঃসরণ আরও বাড়তে পারে।
এর মধ্যে রয়েছে কৃষি খাতকে কার্বন নিঃসরণমূল্য ব্যবস্থার বাইরে রাখা, পরিবেশবান্ধব গাড়ি সংক্রান্ত নিয়মে পরিবর্তন, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য তথ্য প্রতিবেদন দেওয়ার বাধ্যবাধকতা কমানো এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির জন্য একটি স্থাপনা তৈরির পরিকল্পনা।
কমিশনের মতে, এসব নীতির ফলে যে পরিমাণ কার্বন নিঃসরণ বাড়বে, তা অন্য খাতে নিঃসরণ কমানোর মাধ্যমে অর্জিত সাশ্রয়ের চেয়েও বেশি হতে পারে।
ইইউ’র সঙ্গে জলবায়ু প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ অস্বীকার নিউজিল্যান্ডের
ইইউ’র সঙ্গে জলবায়ু প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের অভিযোগ অস্বীকার নিউজিল্যান্ডের
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তিতে দেওয়া জলবায়ু সংক্রান্ত প্রতিশ্রুতি নিউজিল্যান্ড ভঙ্গ করেছে—এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছে দেশটির সরকার। একটি পরিবেশবাদী সংগঠন ব্রাসেলসে অভিযোগ দায়ের করার পর বুধবার নিউজিল্যান্ড এ অবস্থানের কথা জানায়। নেদারল্যান্ডসভিত্তিক পরিবেশ ও জলবায়ু ন্যায়বিচারবিষয়ক সংগঠন ‘বোথ এন্ডস’ জানিয়েছে, তারা ইউরোপীয় কমিশনের কাছে অভিযোগটি করেছে। সংগঠনটির অভিযোগ, ২০২৪ সালে ইইউর সঙ্গে করা বাণিজ্য চুক্তিতে দেওয়া প্রতিশ্রুতি থেকে সরে এসেছে নিউজিল্যান্ড। সংগঠনটি বলেছে, ‘নিউজিল্যান্ড ইইউর সঙ্গে একটি বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল। সেখানে প্যারিস জলবায়ু চুক্তি মেনে চলা এবং বাণিজ্য আকর্ষণের জন্য পরিবেশ সুরক্ষা দুর্বল না করার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল।’ তাদের অভিযোগ, এরপর নিউজিল্যান্ড সমুদ্রসীমায় তেল ও গ্যাস অনুসন্ধানের সুযোগ আবার চালু করেছে, মিথেন নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্যমাত্রা কমিয়েছে এবং জলবায়ু সংক্রান্ত দাবিতে আদালতে যাওয়ার সুযোগ সীমিত করে একটি আইন পাস করেছে। সংগঠনটির দাবি, দেশটির নিজস্ব কর্মকর্তারাও ওই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে পরামর্শ দিয়েছিলেন। বোথ এন্ডস বলেছে, ‘আমরা শুধু একটি বিষয় চাই—নিউজিল্যান্ড
যে প্রতিশ্রুতিতে স্বাক্ষর করেছে, তা যেন তারা পালন করে।’ সংগঠনটির দাবি, ইইউর কোনো বাণিজ্য চুক্তির আওতায় এটিই প্রথম জলবায়ু সংক্রান্ত অভিযোগ। এর মাধ্যমে এ ধরনের চুক্তিতে দেওয়া পরিবেশগত প্রতিশ্রুতির বাস্তব মূল্য কতটা, তা যাচাই হবে বলেও তারা জানিয়েছে। নিউজিল্যান্ডের বাণিজ্যমন্ত্রী টড ম্যাকলে এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তার দাবি, ইইউর সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির কোনো শর্ত ভঙ্গ করেনি নিউজিল্যান্ড। দেশটির জন্য চুক্তিটির বার্ষিক আর্থিক মূল্য আনুমানিক ১ দশমিক ৮ বিলিয়ন নিউজিল্যান্ড ডলার (প্রায় ১ বিলিয়ন মার্কিন ডলার)। এক বিবৃতিতে ম্যাকলে বলেন, ‘নিউজিল্যান্ড তার আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতাকে গুরুত্বের সঙ্গে নেয় এবং সবসময় সেগুলো পালন করে। আমরা ইইউর সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির শর্ত মেনে চলছি।’ তিনি বলেন, পরিবেশ ও জলবায়ু সংক্রান্ত আন্তর্জাতিক দায়বদ্ধতা পূরণে নিউজিল্যান্ড প্রতিশ্রুতিবদ্ধ—এ বিষয়টি সরকার সবসময় পরিষ্কার করেছে। তবে কীভাবে এসব প্রতিশ্রুতি পূরণ করা হবে, সে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার নিউজিল্যান্ডের পার্লামেন্ট ও সরকারের। ম্যাকলে বলেন, ‘কীভাবে নিউজিল্যান্ড তার দায়বদ্ধতা পূরণ করবে,
তা বিদেশি দেশ, সংগঠন বা স্বার্থসংশ্লিষ্ট গোষ্ঠীর বলে দেওয়ার বিষয় নয়।’ ভারতের সঙ্গে একটি লাভজনক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা শেষ করার পরপরই তিনি এই মন্তব্য করেন। নতুন চুক্তিটি আগামী মাসে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। ২০১৯ সালে আইন করে প্রতিষ্ঠিত নিউজিল্যান্ডের স্বাধীন সংস্থা ক্লাইমেট চেঞ্জ কমিশন জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে ডানপন্থী সরকারের নীতিগত পরিবর্তনের কারণে দেশটি নিজস্ব কার্বন নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থ হওয়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। জুলাইয়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে কমিশন বলেছে, সরকারের কয়েকটি নীতির কারণে নিঃসরণ আরও বাড়তে পারে। এর মধ্যে রয়েছে কৃষি খাতকে কার্বন নিঃসরণমূল্য ব্যবস্থার বাইরে রাখা, পরিবেশবান্ধব গাড়ি সংক্রান্ত নিয়মে পরিবর্তন, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের জন্য তথ্য প্রতিবেদন দেওয়ার বাধ্যবাধকতা কমানো এবং তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির জন্য একটি স্থাপনা তৈরির পরিকল্পনা। কমিশনের মতে, এসব নীতির ফলে যে পরিমাণ কার্বন নিঃসরণ বাড়বে, তা অন্য খাতে নিঃসরণ কমানোর মাধ্যমে অর্জিত সাশ্রয়ের চেয়েও বেশি হতে পারে।
সুফী মাজহারুল ইসলাম মাসুম
[email protected] | ০১৭১১৬৬০৫৫৭
রওশন টাওয়ার, (লিফট-৮) ১৫২/২/এ২ গ্রীণ রোড ,
পান্থপথ সিগন্যাল, ঢাকা-১২০৫ ।
মোবাইলঃ ০১৭১৭৪৩৬১৩৯
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত