সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র : ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াটে বদলে যাবে • অক্সফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে "ট-র্চা-র সেল"! • রংপুরে মোটরসাইকেল চোর চক্রের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার, উদ্ধার - ৯টি • বিআরটিএ ঢাকা মেট্রো-৪-এ ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ, দালালদের মাধ্যমে দ্রুত সেবা পাওয়ার দাবি • বিশ্ব ডিম দিবস ২০২৬ উপলক্ষ্যে বিএলআরআইতে বর্ণাঢ্য আয়োজন • ঘুষ ছাড়া মেলে না সেবা নারায়ণগঞ্জ বিআরটিএতে দালালচক্রের দৌরাত্ম্যের অভিযোগ • সোনাইমুড়ীর সাব-রেজিস্ট্রার সিরাজুল হকের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্য ও সেবাগ্রহীতাদের হয়রানির অভিযোগ • বিএনপি সরকারের সাত মাসে ৩২ কূপ খনন, যুক্ত হচ্ছে প্রায় ১৪৮ এমএমসিএফ গ্যাস • ঢাকার বস্তিতে যক্ষ্মা স্ক্রিনিংয়ে ১ লাখ ৪৫ হাজার ডলার দেবে জাপান • আবেগ, অশ্রুতে আর্জেন্টিনা জাতীয় দল থেকে মেসির বিদায়
আন্তর্জাতিক ইতিহাস সৃষ্টির পথে তামিল সুপারস্টার বিজয়

ইতিহাস সৃষ্টির পথে তামিল সুপারস্টার বিজয়

তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচনের বুথফেরত জরিপগুলো (এক্সিট পোল) নিয়ে এখন চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। তবে সব আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন দক্ষিণী সিনেমার সুপারস্টার বিজয় এবং তার নবগঠিত দল ‘তামিলাগা ভেট্টি কাজাগাম’ (টিভিকে)। রাজনীতির ময়দানে নতুন পা রাখা বিজয়ের দল ঐতিহাসিক ভোট পেতে যাচ্ছে বলে আভাস দিচ্ছেন বিশ্লেষকেরা।

সবগুলো বুথফেরত জরিপ অনুযায়ী বিজয়ের দল দুই অঙ্কের ভোট পেতে পারে। এর মধ্যে ‘অ্যাক্সিস-মাই ইন্ডিয়া’র জরিপে তো বিজয়ের দলকে ১২০টি আসন পর্যন্ত দেওয়া হয়েছে, যা সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতার সমান।

রাজনীতিতে বিজয়ের এই উত্থানকে এনটিআর, এমজিআর, জয়ললিতা কিংবা বিজয়াকান্তের মতো তারকাদের সঙ্গে তুলনা করা হলেও বিশ্লেষকেরা বলছেন, বিজয়ের প্রেক্ষাপট সম্পূর্ণ ভিন্ন। এনটিআর যখন অন্ধ্রপ্রদেশে জয়ী হয়েছিলেন, তখন কংগ্রেস বিরোধী হাওয়া ও তেলেগু আবেগের একটি বড় ভূমিকা ছিল। আবার এমজিআর বা জয়ললিতা সরাসরি ক্ষমতায় আসার আগে দীর্ঘ সময় সক্রিয় রাজনীতি ও দলীয় সাংগঠনিক প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

বিজয়াকান্তের পেছনে ছিল নির্দিষ্ট একটি জাতিগোষ্ঠীর সমর্থন, আর পবন কল্যাণের রয়েছে দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াই এবং শক্তিশালী জোটের অভিজ্ঞতা। কিন্তু বিজয়ের ক্ষেত্রে এসবের কিছুই নেই। তিনি কোনো প্রতিষ্ঠিত জোট ছাড়াই নির্বাচনে লড়ছেন এবং তার প্রধান শক্তি হচ্ছে ‘জেন-জি’ প্রজন্ম বা তরুণ ভোটাররা। রাজনীতিতে তার কোনো পূর্ব অভিজ্ঞতা বা নির্দিষ্ট আদর্শিক কাঠামো না থাকলেও সামাজিক মাধ্যম এবং তার সিনেমাটিক জনপ্রিয়তা একটি বড় গণজোয়ার সৃষ্টি করেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বিজয়ের এই লড়াই মূলত তামিলনাড়ুর দুই প্রতিষ্ঠিত আঞ্চলিক দলের বিরুদ্ধে এক ত্রিপক্ষীয় লড়াই। যদি তিনি বিশাল ভোটের ব্যবধানে জয়ী হন, তাহলে তা হবে তামিল রাজনীতির ইতিহাসে এক অভূতপূর্ব ‘জেন-জি’ মুহূর্ত। আর যদি প্রয়োজনীয় আসন না-ও পান, তবুও তার সংগৃহীত বড় অঙ্কের ভোট প্রমাণ করবে যে তামিলনাড়ুর মানুষ বিকল্প কোনো পরিবর্তনের জন্য মুখিয়ে আছে।

রাজনীতির এই সন্ধিক্ষণে অনেকের মনেই প্রশ্ন জেগেছে, রজনীকান্ত কি তবে সঠিক সময় হারিয়েছেন? রজনীকান্ত যখন রাজনীতিতে আসার ঘোষণা দিয়েছিলেন, তখন তিনি তার ক্যারিয়ারের সায়াহ্নে ছিলেন। অন্যদিকে বিজয় এখন জনপ্রিয়তার শীর্ষে এবং তরুণ বয়সেই এই সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছেন। সব মিলিয়ে বিজয়ের এই রাজনৈতিক অভিষেক তামিলনাড়ুর ইতিহাসে নতুন কোনো অধ্যায়ের সূচনা করবে কি না, তা জানতে এখন ফলাফলের অপেক্ষা।

খুঁজুন