ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা শুক্রবার দেশটিতে স্পোর্টস বেটিং বা খেলাধুলার ফল নিয়ে অনলাইন বাজির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন।
দেশটির ফুটবল ক্লাবগুলোর অন্যতম বড় পৃষ্ঠপোষক এই খাত বন্ধের সিদ্ধান্ত এমন এক সময় এলো, যখন আর মাত্র কয়েক দিন পরেই ব্রাজিলে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন। ওই নির্বাচনে চতুর্থ মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন লুলা।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্রাজিলে জুয়া ও অনলাইন বেটিং ব্যাপকভাবে বেড়েছে। এর ফলে অনেক মানুষ ঋণের মধ্যে পড়েছেন।
জনমত জরিপগুলোতেও এই শিল্পের বিরুদ্ধে ভোটারদের উল্লেখযোগ্য বিরোধিতার কথা উঠে এসেছে। লুলা নিজেও বেটিং শিল্পকে ‘ক্যানসার’ বলে আখ্যা দিয়েছেন।
শুক্রবার লুলার সঙ্গে এক অনুষ্ঠানে নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দিয়ে অর্থমন্ত্রী ডারিও ডুরিগান বলেন, ‘দেশে বেটিং সাইটগুলোতে আর টাকা জমা করা সম্ভব হবে না।’
আগামী ৪ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় প্রথম দফার ভোটের আগে লুলা সরকারের নেওয়া একাধিক পদক্ষেপের মধ্যে এটি সর্বশেষ।
নির্বাচনী জনমত জরিপে ডানপন্থী সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারোর সঙ্গে লুলার ব্যবধান খুবই কম।
২০২৩ সালে স্পোর্টস বেটিং বা বাজি ধরার বাজারের জন্য একটি নিয়ন্ত্রক কাঠামো চালু হওয়ার পর ব্রাজিলে এই বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হয়েছে।
রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম— সবখানেই ইনফ্লুয়েন্সার ও ক্রীড়া তারকাদের মাধ্যমে ব্যাপক বিজ্ঞাপন চালানো হয়েছে।
দেশটির শীর্ষ বিভাগের ২০টি ফুটবল ক্লাবের মধ্যে ১৩টি ক্লাবের জার্সিতে প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে অনলাইন বেটিং কোম্পানির নাম রয়েছে।
ফুটবল তারকা নেইমার ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়রও এই শিল্পের বিজ্ঞাপনে সবচেয়ে পরিচিত মুখগুলোর মধ্যে রয়েছেন।
সরকারের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বেটিং ব্যবসার জন্য ৮৫টি লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি লাইসেন্সের মূল্য ছিল ৩ কোটি ব্রাজিলীয় রিয়াল বা প্রায় ৫৭ লাখ ডলার। এই অর্থ ফেরত দেওয়া হবে না।
অর্থমন্ত্রী ডারিও ডুরিগান জানান, বেটিং কোম্পানিগুলোর সঙ্গে নতুন বিজ্ঞাপন চুক্তিও তাৎক্ষণিকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আর বর্তমানে চালু থাকা চুক্তিগুলো ৬ অক্টোবরের পর বাতিল হয়ে যাবে।
তিনি বলেন, ওই তারিখের পর দেশে ‘কোনো সাইট, কোনো অ্যাপ্লিকেশন বা কোনো বৈধ বেটিং স্পনসরশিপ থাকবে না।’
ফুটবল ক্লাবগুলোর আপত্তি
ব্রাজিলের অন্যতম জনপ্রিয় ফুটবল ক্লাব ফ্লামেঙ্গো এই সিদ্ধান্তকে ‘ব্রাজিলের ক্রীড়াঙ্গনের ওপর বড় আঘাত’ বলে অভিহিত করেছে।
ক্লাবটির আশঙ্কা, এর প্রভাব শুধু পেশাদার ফুটবলে সীমাবদ্ধ থাকবে না; যুব একাডেমি, নারী ফুটবল, অলিম্পিক ক্রীড়া ও বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতাতেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
এক বিবৃতিতে ফ্লামেঙ্গো বলেছে, ‘ব্রাজিল স্পোর্টস বেটিং কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করবে, তা নিয়ে বছরের পর বছর আলোচনা করেছে।
একটি নিয়ম তৈরি করে কোম্পানি ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে তার ভিত্তিতে প্রতিশ্রুতি ও বিনিয়োগে উৎসাহিত করার পর রাতারাতি পুরো নিয়ন্ত্রক কাঠামো বদলে দেওয়া যায় না।’
নির্বাচনের আগে ব্রাজিলে স্পোর্টস বেটিং নিষিদ্ধ করলেন লুলা
নির্বাচনের আগে ব্রাজিলে স্পোর্টস বেটিং নিষিদ্ধ করলেন লুলা
ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভা শুক্রবার দেশটিতে স্পোর্টস বেটিং বা খেলাধুলার ফল নিয়ে অনলাইন বাজির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছেন। দেশটির ফুটবল ক্লাবগুলোর অন্যতম বড় পৃষ্ঠপোষক এই খাত বন্ধের সিদ্ধান্ত এমন এক সময় এলো, যখন আর মাত্র কয়েক দিন পরেই ব্রাজিলে গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচন। ওই নির্বাচনে চতুর্থ মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হওয়ার জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন লুলা। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ব্রাজিলে জুয়া ও অনলাইন বেটিং ব্যাপকভাবে বেড়েছে। এর ফলে অনেক মানুষ ঋণের মধ্যে পড়েছেন। জনমত জরিপগুলোতেও এই শিল্পের বিরুদ্ধে ভোটারদের উল্লেখযোগ্য বিরোধিতার কথা উঠে এসেছে। লুলা নিজেও বেটিং শিল্পকে ‘ক্যানসার’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। শুক্রবার লুলার সঙ্গে এক অনুষ্ঠানে নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দিয়ে অর্থমন্ত্রী ডারিও ডুরিগান বলেন, ‘দেশে বেটিং সাইটগুলোতে আর টাকা জমা করা সম্ভব হবে না।’ আগামী ৪ অক্টোবর অনুষ্ঠেয় প্রথম দফার ভোটের আগে লুলা সরকারের নেওয়া একাধিক
পদক্ষেপের মধ্যে এটি সর্বশেষ। নির্বাচনী জনমত জরিপে ডানপন্থী সিনেটর ফ্লাভিও বলসোনারোর সঙ্গে লুলার ব্যবধান খুবই কম। ২০২৩ সালে স্পোর্টস বেটিং বা বাজি ধরার বাজারের জন্য একটি নিয়ন্ত্রক কাঠামো চালু হওয়ার পর ব্রাজিলে এই বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হয়েছে। রাস্তাঘাট থেকে শুরু করে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম— সবখানেই ইনফ্লুয়েন্সার ও ক্রীড়া তারকাদের মাধ্যমে ব্যাপক বিজ্ঞাপন চালানো হয়েছে। দেশটির শীর্ষ বিভাগের ২০টি ফুটবল ক্লাবের মধ্যে ১৩টি ক্লাবের জার্সিতে প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে অনলাইন বেটিং কোম্পানির নাম রয়েছে। ফুটবল তারকা নেইমার ও ভিনিসিয়ুস জুনিয়রও এই শিল্পের বিজ্ঞাপনে সবচেয়ে পরিচিত মুখগুলোর মধ্যে রয়েছেন। সরকারের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বেটিং ব্যবসার জন্য ৮৫টি লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। প্রতিটি লাইসেন্সের মূল্য ছিল ৩ কোটি ব্রাজিলীয় রিয়াল বা প্রায় ৫৭ লাখ ডলার। এই অর্থ ফেরত দেওয়া হবে না। অর্থমন্ত্রী ডারিও ডুরিগান জানান, বেটিং কোম্পানিগুলোর সঙ্গে
নতুন বিজ্ঞাপন চুক্তিও তাৎক্ষণিকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। আর বর্তমানে চালু থাকা চুক্তিগুলো ৬ অক্টোবরের পর বাতিল হয়ে যাবে। তিনি বলেন, ওই তারিখের পর দেশে ‘কোনো সাইট, কোনো অ্যাপ্লিকেশন বা কোনো বৈধ বেটিং স্পনসরশিপ থাকবে না।’ ফুটবল ক্লাবগুলোর আপত্তি ব্রাজিলের অন্যতম জনপ্রিয় ফুটবল ক্লাব ফ্লামেঙ্গো এই সিদ্ধান্তকে ‘ব্রাজিলের ক্রীড়াঙ্গনের ওপর বড় আঘাত’ বলে অভিহিত করেছে। ক্লাবটির আশঙ্কা, এর প্রভাব শুধু পেশাদার ফুটবলে সীমাবদ্ধ থাকবে না; যুব একাডেমি, নারী ফুটবল, অলিম্পিক ক্রীড়া ও বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতাতেও এর প্রভাব পড়তে পারে। এক বিবৃতিতে ফ্লামেঙ্গো বলেছে, ‘ব্রাজিল স্পোর্টস বেটিং কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করবে, তা নিয়ে বছরের পর বছর আলোচনা করেছে। একটি নিয়ম তৈরি করে কোম্পানি ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে তার ভিত্তিতে প্রতিশ্রুতি ও বিনিয়োগে উৎসাহিত করার পর রাতারাতি পুরো নিয়ন্ত্রক কাঠামো বদলে দেওয়া যায় না।’
সুফী মাজহারুল ইসলাম মাসুম
[email protected] | ০১৭১১৬৬০৫৫৭
রওশন টাওয়ার, (লিফট-৮) ১৫২/২/এ২ গ্রীণ রোড ,
পান্থপথ সিগন্যাল, ঢাকা-১২০৫ ।
মোবাইলঃ ০১৭১৭৪৩৬১৩৯
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত