চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বুধবার বেইজিং থেকে ওয়াশিংটনের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। সেখানে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে।
বহুল প্রত্যাশিত এ আলোচনা এমন সময়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যখন দুই দেশ ক্রমেই সক্ষম হয়ে ওঠা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থার সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগের মুখে রয়েছে এবং উভয় পক্ষ বাণিজ্য নিয়ে উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করছে।
শি ‘বিশেষ বিমানে বেইজিং ত্যাগ করেছেন’। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন স্ত্রী পেং লিইউয়ান, ঘনিষ্ঠ সহযোগী কাই ছি এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইসহ অন্যরা।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার দুই নেতার বৈঠকের আগে ওয়াশিংটনে পৌঁছালে জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে ট্রাম্প নিজে শিকে স্বাগত জানাবেন।
গত মে মাসে রাষ্ট্রীয় সফরে শি বেইজিং পৌঁছলে চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট তাঁকে স্বাগত জানিয়েছিলেন।
বৃহস্পতিবার সকালে শি ও পেং হোয়াইট হাউসে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। সেখানে সামরিক বিমানের উড্ডয়ন প্রদর্শনীও থাকবে।
দুই নেতা বৈঠক করবেন এবং সন্ধ্যায় ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে শিকে রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে আপ্যায়ন করবেন।
শুক্রবার সকালে সফর শেষ হবে। ওই সকালে দুই প্রেসিডেন্ট দম্পতি হোয়াইট হাউসে চা পান করবেন এবং পরে সফরের সমাপ্তি হিসেবে ন্যাশনাল আর্কাইভস পরিদর্শন করবেন।
হোয়াইট হাউস বলেছে, এ সফর ‘দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক’।
তবে দুই নেতার বৈঠকে একাধিক বিরোধপূর্ণ বিষয় উঠে আসতে পারে। ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেছেন, তিনি শির সঙ্গে ‘প্রায় সবকিছু নিয়েই’ আলোচনা করবেন।
ইরান নিয়ে ট্রাম্পের যুদ্ধের বিষয়টিও আলোচনায় দীর্ঘ ছায়া ফেলেছে। তেহরানের সঙ্গে লেনদেনকারী দেশগুলোর ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে চলার চেষ্টা করছে চীন। তবে এমন খবরও রয়েছে যে, বেইজিং মার্কিন সেনাদের ওপর হামলার জন্য তেহরানকে গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করেছে।
বাণিজ্যযুদ্ধ আরও বড় উদ্বেগের বিষয়। বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতি এখনো ট্রাম্পের আরোপ করা বৈশ্বিক শুল্কের প্রভাব কমানোর চেষ্টা করছে।
চীনের ভূখণ্ড বলে দাবি করা তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে যুদ্ধের আশঙ্কাও আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।
তবে বিশ্লেষকেরা প্রত্যাশা কমিয়ে বলেছেন, বৈঠক থেকে খুব বেশি সুনির্দিষ্ট চুক্তির ঘোষণা নাও আসতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এবং তাঁর চীনা সমকক্ষ হে লিফেংয়ের মধ্যে প্রাথমিক আলোচনায় এআই-সংক্রান্ত উদ্বেগ নিয়ে যোগাযোগের একটি মাধ্যম তৈরির বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত খুব কমই প্রকাশ করা হয়েছে।
বেসেন্ট তখন বলেন, দুই পক্ষ এআই-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে যোগাযোগের জন্য ‘যুক্তরাষ্ট্র-চীন এআই সংলাপ’ নামে একটি ব্যবস্থা তৈরির বিষয়ে আলোচনা করেছে।
তিনি বলেন, ‘দুই দেশের মধ্যে একটি অবহিতকরণ ব্যবস্থা থাকার প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্র দিয়েছে।’
কারাগারে থাকা হংকংয়ের গণতন্ত্রপন্থী গণমাধ্যম উদ্যোক্তা জিমি লাইয়ের ছেলে ওয়াশিংটন থেকে শির কাছে তাঁর ৭৮ বছর বয়সী বাবাকে মুক্তি দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন।
তবে ট্রাম্প গত মে মাসে বলেছিলেন, তিনি শির সঙ্গে লাইয়ের ভাগ্য নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং তাঁর মুক্তির সম্ভাবনা কম।
তবে ট্রাম্প শির কাছে বিষয়টি উত্থাপন করার পর চীন ভূগর্ভস্থ একটি চার্চের প্রতিষ্ঠাতা এজরা জিনকে মুক্তি দেয়।
চীনের দর-কষাকষির অন্যতম হাতিয়ার হলো বিরল মৃত্তিকা উপাদান সরবরাহে দেশটির আধিপত্য। উচ্চপ্রযুক্তির পণ্যে ব্যবহৃত এসব গুরুত্বপূর্ণ উপাদান মার্কিন উৎপাদকদের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
গত বছর বিরল মৃত্তিকা উপাদানের রপ্তানিতে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের পর বেইজিং সফলভাবে ওয়াশিংটনকে আকাশচুম্বী শুল্কের অবস্থান থেকে সরে আসতে চাপ দিয়েছিল।
ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের পথে চীনের প্রেসিডেন্ট শি
ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের পথে চীনের প্রেসিডেন্ট শি
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বুধবার বেইজিং থেকে ওয়াশিংটনের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। সেখানে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করবেন বলে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে। বহুল প্রত্যাশিত এ আলোচনা এমন সময়ে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে, যখন দুই দেশ ক্রমেই সক্ষম হয়ে ওঠা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবস্থার সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগের মুখে রয়েছে এবং উভয় পক্ষ বাণিজ্য নিয়ে উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা করছে। শি ‘বিশেষ বিমানে বেইজিং ত্যাগ করেছেন’। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন স্ত্রী পেং লিইউয়ান, ঘনিষ্ঠ সহযোগী কাই ছি এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইসহ অন্যরা। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, বৃহস্পতিবার দুই নেতার বৈঠকের আগে ওয়াশিংটনে পৌঁছালে জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজে ট্রাম্প নিজে শিকে স্বাগত জানাবেন। গত মে মাসে রাষ্ট্রীয় সফরে শি বেইজিং পৌঁছলে চীনের ভাইস প্রেসিডেন্ট তাঁকে স্বাগত জানিয়েছিলেন। বৃহস্পতিবার সকালে শি ও পেং হোয়াইট হাউসে একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেবেন। সেখানে সামরিক বিমানের উড্ডয়ন প্রদর্শনীও থাকবে। দুই নেতা বৈঠক করবেন এবং সন্ধ্যায় ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে শিকে রাষ্ট্রীয় নৈশভোজে আপ্যায়ন করবেন। শুক্রবার সকালে সফর শেষ হবে। ওই সকালে দুই প্রেসিডেন্ট দম্পতি হোয়াইট
হাউসে চা পান করবেন এবং পরে সফরের সমাপ্তি হিসেবে ন্যাশনাল আর্কাইভস পরিদর্শন করবেন। হোয়াইট হাউস বলেছে, এ সফর ‘দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক’। তবে দুই নেতার বৈঠকে একাধিক বিরোধপূর্ণ বিষয় উঠে আসতে পারে। ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেছেন, তিনি শির সঙ্গে ‘প্রায় সবকিছু নিয়েই’ আলোচনা করবেন। ইরান নিয়ে ট্রাম্পের যুদ্ধের বিষয়টিও আলোচনায় দীর্ঘ ছায়া ফেলেছে। তেহরানের সঙ্গে লেনদেনকারী দেশগুলোর ওপর মার্কিন নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে চলার চেষ্টা করছে চীন। তবে এমন খবরও রয়েছে যে, বেইজিং মার্কিন সেনাদের ওপর হামলার জন্য তেহরানকে গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করেছে। বাণিজ্যযুদ্ধ আরও বড় উদ্বেগের বিষয়। বিশ্বের দুই বৃহত্তম অর্থনীতি এখনো ট্রাম্পের আরোপ করা বৈশ্বিক শুল্কের প্রভাব কমানোর চেষ্টা করছে। চীনের ভূখণ্ড বলে দাবি করা তাইওয়ানকে কেন্দ্র করে যুদ্ধের আশঙ্কাও আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। তবে বিশ্লেষকেরা প্রত্যাশা কমিয়ে বলেছেন, বৈঠক থেকে খুব বেশি সুনির্দিষ্ট চুক্তির ঘোষণা নাও আসতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট এবং তাঁর চীনা সমকক্ষ হে লিফেংয়ের মধ্যে প্রাথমিক আলোচনায় এআই-সংক্রান্ত উদ্বেগ নিয়ে যোগাযোগের একটি মাধ্যম তৈরির বিষয়টি
নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত খুব কমই প্রকাশ করা হয়েছে। বেসেন্ট তখন বলেন, দুই পক্ষ এআই-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে যোগাযোগের জন্য ‘যুক্তরাষ্ট্র-চীন এআই সংলাপ’ নামে একটি ব্যবস্থা তৈরির বিষয়ে আলোচনা করেছে। তিনি বলেন, ‘দুই দেশের মধ্যে একটি অবহিতকরণ ব্যবস্থা থাকার প্রস্তাব যুক্তরাষ্ট্র দিয়েছে।’ কারাগারে থাকা হংকংয়ের গণতন্ত্রপন্থী গণমাধ্যম উদ্যোক্তা জিমি লাইয়ের ছেলে ওয়াশিংটন থেকে শির কাছে তাঁর ৭৮ বছর বয়সী বাবাকে মুক্তি দেওয়ার আবেদন জানিয়েছেন। তবে ট্রাম্প গত মে মাসে বলেছিলেন, তিনি শির সঙ্গে লাইয়ের ভাগ্য নিয়ে আলোচনা করেছেন এবং তাঁর মুক্তির সম্ভাবনা কম। তবে ট্রাম্প শির কাছে বিষয়টি উত্থাপন করার পর চীন ভূগর্ভস্থ একটি চার্চের প্রতিষ্ঠাতা এজরা জিনকে মুক্তি দেয়। চীনের দর-কষাকষির অন্যতম হাতিয়ার হলো বিরল মৃত্তিকা উপাদান সরবরাহে দেশটির আধিপত্য। উচ্চপ্রযুক্তির পণ্যে ব্যবহৃত এসব গুরুত্বপূর্ণ উপাদান মার্কিন উৎপাদকদের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। গত বছর বিরল মৃত্তিকা উপাদানের রপ্তানিতে কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপের পর বেইজিং সফলভাবে ওয়াশিংটনকে আকাশচুম্বী শুল্কের অবস্থান থেকে সরে আসতে চাপ দিয়েছিল।
সুফী মাজহারুল ইসলাম মাসুম
[email protected] | ০১৭১১৬৬০৫৫৭
রওশন টাওয়ার, (লিফট-৮) ১৫২/২/এ২ গ্রীণ রোড ,
পান্থপথ সিগন্যাল, ঢাকা-১২০৫ ।
মোবাইলঃ ০১৭১৭৪৩৬১৩৯
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত