“রাছুল (সাঃ) ইন্তেকালের পর “বাগে ফাদাক” এর জন্যে আবু বকরের (রাঃ) কাছে হযরত ফাতেমা (আঃ) দাবী জানালেন আবু বকর (রাঃ) তাতে আমল না দিয়ে বলেছিলেন, রাছুল (সাঃ) বলেছেনঃ “আল্লাহর নবীর কোন পরিত্যাজ্য সম্পত্তির প্রতি কারো উত্তরাধিকার সত্ত্ব থাকবে না। উহা দুঃস্থ দুঃখীদের সম্পত্তিতে পরিণত হবে।”
হযরত ফাতেমা (আঃ) আবু বকরের কথায় এমনই রাগান্বিত হলেন যে, তিনি আবু বকরের উক্ত বক্তব্যের জবাবে পাল্টা একটি হাদিস শুনালেন। তার পূর্বে তিনি বললেন, হে আবু বকর এবং ওমর! তোমরা কি আমার বর্ণিত হাদিসটিকে বিশ্বাস করবে ? তারা বললেন, নিশ্চয় আমরা বিশ্বাস করবো। তখন হযরত ফাতেমা (আঃ) বললেন, তবে আমি তোমাদেরকে জিজ্ঞাসা করছি, আল্লাহর শপথের সাথে বলো,
রাছুলুল্লাহ (সাঃ) এর মুখে কি তোমরা শুননি যে, তিনি বলেছেন :
“যে আমার কন্যা ফাতেমার সাথে বন্ধুত্ব রাখলো, সে আমার সাথে বন্ধুত্ব রাখলো, যে তাকে সন্তুষ্ট করলো, সে আমাকেই সন্তুষ্ট করলো এবং যে তাকে নাখোশ করলো সে আমাকেই নাখোশ করলো।”
আবু বকর ও ওমর (রাঃ) হাদিসটি শুনেছেন বলে স্বীকার করলেন। তখন হযরত ফাতেমা (আঃ) বললেন, তবে আল্লাহ এবং ফেরেশতাগণকে সাক্ষী রেখে বলছি, তোমরা আমাকে নাখোশ করেছো তথা চরম অসন্তুষ্ট করেছো, আমার অন্তরে আঘাত দিয়েছো। কেয়ামতে যখন রাছুলুল্লাহ (সাঃ) এর সাথে আমার প্রথম দেখা হবে, আমি তখন তোমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেশ করবো।”
এই কথা শুনে হযরত আবু বকর (রাঃ) অশ্রুপাত করেছিলেন এবং খেলাফত ত্যাগ করার বাসনা করলেন। কিন্তু হযরত ওমর (রাঃ) ও তার অন্যান্য সহযোগীর সহায়তায় তিনি তা ভুলে পুনরায় খেলাফতে মনস্থির করে নিলেন এবং “বাগে ফাদাক” বায়তুল মালে গণ্য করে নিলেন। এ কথা মাওলানা মাজহার উদ্দীন আহম্মদও “ফাতেমার জীবনী” গ্রন্থের ৫৯ পৃষ্ঠায় তুলে ধরেছেন। হযরত ফাতেমা (আঃ) রাছুল (সাঃ) এর পবিত্র রওযা মোবারকে গিয়ে কেঁদে কেঁদে বলতেন- “আব্বা আমি আপনার উম্মত দ্বারা এতো উৎপীড়িত হয়েছি যে, তা সহ্য করতে পারছি না। আপনি দোয়া করুন আল্লাহ যেন আমাকে অতি শীঘ্রই পৃথিবী থেকে নিয়ে যান।”
প্রথমত ঃ হযরত রাছুল (সাঃ) এর ইন্তেকাল করাতে হযরত ফাতেমা (আঃ) খুবই মর্মাহত হয়ে পড়েন।
দ্বিতীয়ত ঃ খেলাফত জবর দখল করাতে তিনি খুব আঘাত প্রাপ্ত হন- যা ছিল ইসলামের মূল নীতিতে কুঠারাঘাত করা- যার ফলশ্রুতিতে মাদ্রাসার মৌলবীরাও আজ নবীর প্রতিনিধি দাবী করে চলেছে।
তৃতীয়ত ঃ “বাগে ফাদাক” জমিটি হযরত আবু বকর (রাঃ) হযরত ফাতেমা (আঃ) এর নিকট হতে জোর করে নিয়ে বায়তুল মালে গণ্য করে ফেলাতে তিনি চরম নাখোশ হয়েছিলেন তাদের উপর। এ অবস্থায় হযরত আলী ও হযরত ফাতেমা (আঃ) তাদের সন্তান-সন্ততি নিয়ে চরম আর্থিক-সংকটে পড়ে যান এবং খুবই কষ্টে জীবন যাপন করছিলেন। হযরত আলী (আঃ) কে প্রায়ই ইহুদীদের বাগানে বা অন্যকোথাও কাজ করে আহারের সংস্থান করতে হতো। অধিকাংশ সময়ই কাজ মিলত না বিধায় পরিবারেরসবাইকে নিয়ে অনাহারে কাটাতে হতো। হযরত আলী ও হযরত ফাতেমার জীবন ইতিহাস ভালভাবে পর্যালোচনা করলে দেখা যায় তাঁরা খুবই আর্থিক সংকটে জীবন যাপন করেছেন এবং তা দৃষ্টে এ কথাও বুঝা যায় না যে, তাঁরা বায়তুল মাল হতে কিছু পেতেন বা নিতেন। “বাগে ফাদাক” জমিটি সরকারী দখলে না নিলে এভাবে চরম আর্থিক সমস্যায় তাদের পড়তে হতো না। মনে হয় রাছুল (সাঃ) এর আহলে বাইয়েতের এ অবস্থা দেখে তৎকালীন সরকার প্রকাশ্যে না হলেও মনে মনে খুশীই হয়েছিল এবং খেলাফতের বিষয়কে কেন্দ্র করে যে ঘটনাগুলো ঘটেছিল তা দৃষ্টে এ কথা বলা যায়। হযরত আলী ও হযরত ফাতেমা (আঃ) এর নিকট হতে বায়াত নেবার জন্য যখন হযরত আবু বকর ও হযরত ওমর (রাঃ) তাদের গৃহে গিয়েছিলেন তখনও হযরত ফাতেমা (আঃ) তাদের সাথে কথা বলেননি, দেয়ালের দিকে মুখ ফিরিয়ে বসা ছিলেন।
তাছাড়া ইবনে কুতাইবা তাঁর “আল ইমামাহ্ ওয়াসসিয়াসাহ্” গ্রন্থের প্রথমে, আত তাবারী তাঁর “তারীখ ” গ্রন্থে একাদশ হিজরীর ঘটনা বর্ণনা প্রসঙ্গে, ইবনে আদি রাবিবহ মালিকী তাঁর “আকদুলফারিদ” গ্রন্থের ২য় খণ্ডে সাকিফার হাদিসে সহী রেওয়ায়েতে বর্ণনা করেন যে, “হযরত ওমর (রাঃ) এর নির্দেশে হযরত আলী ও হযরত ফাতেমা (আঃ) এর গৃহে আগুন জালিয়ে পুড়িয়ে দেবার হুমকি দেয়াও হয়েছিল।” এ ঘটনাটি মুতওয়াতির ও সহী সূত্রে বর্ণিত আছে। কিন্তু যুগ যুগ ধরে রাছুল (সাঃ) এর আহলে বাইয়েতগণের এবং মোহাম্মদী ইসলামের শত্রুগণের সংখ্যাধিক্য, প্রাধান্যতা এবং তাদের অনুকূলে প্রচারণার ফলে, মোল্লা-মৌলবীদের হাতে মোহাম্মদী ইসলামের লাগাম চলে যাবার ফলে এ সমস্ত ইতিহাস বা ঘটনাগুলোকে ধামা চাপা দিয়ে ঢালাও ভাবে স্বীয় মনগড়া মতে সাজিয়ে মুয়াবিয়া, ইয়াজিদ, আবদুল ওহাব নজদী তথা মোল্লাতন্ত্রকে ইসলাম বলে চালিয়ে যাচ্ছে অদ্যাবধি। কাল্পনিক ছোয়াবের বেপারী মোল্লাতন্ত্রের ষড়যন্ত্রে, তাদের শুধু পুঁথিগত বিদ্যার বদৌলতে মোহাম্মদী ইসলামকে তিয়াত্তর তালির পোষাক পরিয়ে জোকার সাজিয়ে মানব সমাজে তুলে ধরে ইসলামকে হেয়-প্রতিপন্ন করে চলেছে। আর যুগ যুগ ধরে ধামাচাপা দিয়ে আসছে ইসলামের মূল ইতিহাস বা ঘটনাগুলোকে, ফলে আজ মিথ্যাকে সত্য বলে সমাজে স্বীকৃত আর সত্যকে মিথ্যা বলেই অধিকাংশ মানুষ জানে।।
হযরত ফাতেমা (আঃ) আবু বকরের কথায় এমনই রাগান্বিত হলেন যে, তিনি আবু বকরের উক্ত বক্তব্যের জবাবে পাল্টা একটি হাদিস শুনালেন। তার পূর্বে তিনি বললেন, হে আবু বকর এবং ওমর! তোমরা কি আমার বর্ণিত হাদিসটিকে বিশ্বাস করবে ? তারা বললেন, নিশ্চয় আমরা বিশ্বাস করবো। তখন হযরত ফাতেমা (আঃ) বললেন, তবে আমি তোমাদেরকে জিজ্ঞাসা করছি, আল্লাহর শপথের সাথে বলো,
রাছুলুল্লাহ (সাঃ) এর মুখে কি তোমরা শুননি যে, তিনি বলেছেন :
“যে আমার কন্যা ফাতেমার সাথে বন্ধুত্ব রাখলো, সে আমার সাথে বন্ধুত্ব রাখলো, যে তাকে সন্তুষ্ট করলো, সে আমাকেই সন্তুষ্ট করলো এবং যে তাকে নাখোশ করলো সে আমাকেই নাখোশ করলো।”
আবু বকর ও ওমর (রাঃ) হাদিসটি শুনেছেন বলে স্বীকার করলেন। তখন হযরত ফাতেমা (আঃ) বললেন, তবে আল্লাহ এবং ফেরেশতাগণকে সাক্ষী রেখে বলছি, তোমরা আমাকে নাখোশ করেছো তথা চরম অসন্তুষ্ট করেছো, আমার অন্তরে আঘাত দিয়েছো। কেয়ামতে যখন রাছুলুল্লাহ (সাঃ) এর সাথে আমার প্রথম দেখা হবে, আমি তখন তোমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেশ করবো।”
এই কথা শুনে হযরত আবু বকর (রাঃ) অশ্রুপাত করেছিলেন এবং খেলাফত ত্যাগ করার বাসনা করলেন। কিন্তু হযরত ওমর (রাঃ) ও তার অন্যান্য সহযোগীর সহায়তায় তিনি তা ভুলে পুনরায় খেলাফতে মনস্থির করে নিলেন এবং “বাগে ফাদাক” বায়তুল মালে গণ্য করে নিলেন। এ কথা মাওলানা মাজহার উদ্দীন আহম্মদও “ফাতেমার জীবনী” গ্রন্থের ৫৯ পৃষ্ঠায় তুলে ধরেছেন। হযরত ফাতেমা (আঃ) রাছুল (সাঃ) এর পবিত্র রওযা মোবারকে গিয়ে কেঁদে কেঁদে বলতেন- “আব্বা আমি আপনার উম্মত দ্বারা এতো উৎপীড়িত হয়েছি যে, তা সহ্য করতে পারছি না। আপনি দোয়া করুন আল্লাহ যেন আমাকে অতি শীঘ্রই পৃথিবী থেকে নিয়ে যান।”
প্রথমত ঃ হযরত রাছুল (সাঃ) এর ইন্তেকাল করাতে হযরত ফাতেমা (আঃ) খুবই মর্মাহত হয়ে পড়েন।
দ্বিতীয়ত ঃ খেলাফত জবর দখল করাতে তিনি খুব আঘাত প্রাপ্ত হন- যা ছিল ইসলামের মূল নীতিতে কুঠারাঘাত করা- যার ফলশ্রুতিতে মাদ্রাসার মৌলবীরাও আজ নবীর প্রতিনিধি দাবী করে চলেছে।
তৃতীয়ত ঃ “বাগে ফাদাক” জমিটি হযরত আবু বকর (রাঃ) হযরত ফাতেমা (আঃ) এর নিকট হতে জোর করে নিয়ে বায়তুল মালে গণ্য করে ফেলাতে তিনি চরম নাখোশ হয়েছিলেন তাদের উপর। এ অবস্থায় হযরত আলী ও হযরত ফাতেমা (আঃ) তাদের সন্তান-সন্ততি নিয়ে চরম আর্থিক-সংকটে পড়ে যান এবং খুবই কষ্টে জীবন যাপন করছিলেন। হযরত আলী (আঃ) কে প্রায়ই ইহুদীদের বাগানে বা অন্যকোথাও কাজ করে আহারের সংস্থান করতে হতো। অধিকাংশ সময়ই কাজ মিলত না বিধায় পরিবারেরসবাইকে নিয়ে অনাহারে কাটাতে হতো। হযরত আলী ও হযরত ফাতেমার জীবন ইতিহাস ভালভাবে পর্যালোচনা করলে দেখা যায় তাঁরা খুবই আর্থিক সংকটে জীবন যাপন করেছেন এবং তা দৃষ্টে এ কথাও বুঝা যায় না যে, তাঁরা বায়তুল মাল হতে কিছু পেতেন বা নিতেন। “বাগে ফাদাক” জমিটি সরকারী দখলে না নিলে এভাবে চরম আর্থিক সমস্যায় তাদের পড়তে হতো না। মনে হয় রাছুল (সাঃ) এর আহলে বাইয়েতের এ অবস্থা দেখে তৎকালীন সরকার প্রকাশ্যে না হলেও মনে মনে খুশীই হয়েছিল এবং খেলাফতের বিষয়কে কেন্দ্র করে যে ঘটনাগুলো ঘটেছিল তা দৃষ্টে এ কথা বলা যায়। হযরত আলী ও হযরত ফাতেমা (আঃ) এর নিকট হতে বায়াত নেবার জন্য যখন হযরত আবু বকর ও হযরত ওমর (রাঃ) তাদের গৃহে গিয়েছিলেন তখনও হযরত ফাতেমা (আঃ) তাদের সাথে কথা বলেননি, দেয়ালের দিকে মুখ ফিরিয়ে বসা ছিলেন।
তাছাড়া ইবনে কুতাইবা তাঁর “আল ইমামাহ্ ওয়াসসিয়াসাহ্” গ্রন্থের প্রথমে, আত তাবারী তাঁর “তারীখ ” গ্রন্থে একাদশ হিজরীর ঘটনা বর্ণনা প্রসঙ্গে, ইবনে আদি রাবিবহ মালিকী তাঁর “আকদুলফারিদ” গ্রন্থের ২য় খণ্ডে সাকিফার হাদিসে সহী রেওয়ায়েতে বর্ণনা করেন যে, “হযরত ওমর (রাঃ) এর নির্দেশে হযরত আলী ও হযরত ফাতেমা (আঃ) এর গৃহে আগুন জালিয়ে পুড়িয়ে দেবার হুমকি দেয়াও হয়েছিল।” এ ঘটনাটি মুতওয়াতির ও সহী সূত্রে বর্ণিত আছে। কিন্তু যুগ যুগ ধরে রাছুল (সাঃ) এর আহলে বাইয়েতগণের এবং মোহাম্মদী ইসলামের শত্রুগণের সংখ্যাধিক্য, প্রাধান্যতা এবং তাদের অনুকূলে প্রচারণার ফলে, মোল্লা-মৌলবীদের হাতে মোহাম্মদী ইসলামের লাগাম চলে যাবার ফলে এ সমস্ত ইতিহাস বা ঘটনাগুলোকে ধামা চাপা দিয়ে ঢালাও ভাবে স্বীয় মনগড়া মতে সাজিয়ে মুয়াবিয়া, ইয়াজিদ, আবদুল ওহাব নজদী তথা মোল্লাতন্ত্রকে ইসলাম বলে চালিয়ে যাচ্ছে অদ্যাবধি। কাল্পনিক ছোয়াবের বেপারী মোল্লাতন্ত্রের ষড়যন্ত্রে, তাদের শুধু পুঁথিগত বিদ্যার বদৌলতে মোহাম্মদী ইসলামকে তিয়াত্তর তালির পোষাক পরিয়ে জোকার সাজিয়ে মানব সমাজে তুলে ধরে ইসলামকে হেয়-প্রতিপন্ন করে চলেছে। আর যুগ যুগ ধরে ধামাচাপা দিয়ে আসছে ইসলামের মূল ইতিহাস বা ঘটনাগুলোকে, ফলে আজ মিথ্যাকে সত্য বলে সমাজে স্বীকৃত আর সত্যকে মিথ্যা বলেই অধিকাংশ মানুষ জানে।।