হযরত মুহম্মদ (সঃ) ৫৭০ খৃষ্টাব্দে জন্মগ্রহণ করেছিলেন, এবং এর ঠিক ৫২ বছর পরে ৬২২ খৃষ্টাব্দে তিনি এই পৃথিবীর প্রথম ইসলামী সরকারটি গঠন করেছিলেন। তারপরে ৬৩৩ খৃষ্টাব্দের মধ্যেই তাঁর প্রতিষ্ঠিত এই সরকার দিগ্বিজয়ের ধ্বজা ধরে বিভিন্ন আক্রমণাত্মক অভিযানের জন্য প্রায় তৈরি হয়ে গিয়েছিল; আর এমনকি প্রাথমিক পর্যায়েও তাঁদের এই অভিযান আরবের উত্তর-পূর্ব দিকে অবস্থিত ইরান, এবং দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে অবস্থিত মিশরকে অতিক্রম না করে ক্ষান্ত হয়নি। কিন্তু এসময়ের মধ্যে বাকি বিশ্বের বিভিন্ন অংশের মানুষ হযরত মুহম্মদ (সঃ) ও তাঁর আদর্শ সম্পর্কে মোটামুটিভাবে অজ্ঞই ছিলেন, এবং এখানে আলোচ্য কালের মধ্যে তাঁরা তখন নিজেদের সমস্যাগুলি নিয়েই ব্যস্ত ছিলেন।
ইতিহাস বলে যে, হযরত মুহম্মদের (সঃ) জন্মের সময়ে ইউরোপ সবেমাত্র মহাশক্তিশালী রোমের পতন এবং রোমান সাম্রাজ্যের পশ্চিম অংশ ধ্বংস হওয়ার আঘাত কাটিয়ে উঠতে শুরু করেছিল। এসময়ে ইউরোপের বিভিন্ন জাতি, যথা—ফ্রাংক (Frank), মেরোভিজিয়ান (Merovingians), ভিসিগথ (Visigoths), অষ্ট্রগথ (Ostrogoths) ও অন্যান্যরা একে অন্যের বিরুদ্ধে ক্রমাগত যুদ্ধে লিপ্ত হলেও তাঁরা কেউই নিজেদের অভিলাষ অন্যদের উপরে চাপিয়ে দিতে সমর্থ হয়নি। এছাড়া সেযুগের ইউরোপের জনসাধারণের একটা বিরাট অংশ তখনও বর্বর থাকা সত্ত্বেও গির্জাই তাঁদের একমাত্র প্রধান প্রতিষ্ঠান ছিল, যেটাকে ইউরোপের জনসাধারণমাত্রই তখন মান্য করত। ইউরোপের ইতিহাসে এই সময়কে মহান পোপ গ্রেগরীর যুগ বলা হয়ে থাকে। ইনি যখন ৫৯০ খৃষ্টাব্দে তাঁর রাজত্ব আরম্ভ করেছিলেন, তখন হযরত মুহম্মদের (সঃ) বয়স ছিল ২০ বছর, এবং এর ১৪ বছর পরে, অর্থাৎ—হযরত মুহম্মদের (সঃ) ৩৪ বছর বয়সে এই মহামান্য পোপের মৃত্যু হয়েছিল। প্রসঙ্গতঃ একথাও উল্লেখ্য যে, এই পোপ গ্রেগরী প্রাচীন ইউরোপের চারজন প্রসিদ্ধ ল্যাটিন খৃষ্টান ধর্মযাজকদের (Latin Fathers) শেষ পুরুষ, এবং মধ্যযুগীয় খৃষ্টান পোপদের প্রথম পুরুষ ছিলেন। সুতরাং তাঁর সময় থেকেই ইউরোপে মধ্যযুগের সূচনা হয়েছিল বলে মনে করা হয়ে থাকে। তাঁর জীবনেতিহাস থেকে জানা যায় যে, তাঁকে তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে পোপ নিযুক্ত করা হলেও, ক্ষমতায় আসীন হওয়ার পরে তিনি খুবই কর্মঠ হয়ে উঠেছিলেন। ইউরোপে নিজের শাসনকালে তিনি গির্জার সঞ্চিত সম্পদ দান-দাক্ষিণ্যে খরচ করেছিলেন, অভুক্ত গরীব দুঃখীদের খাওয়ানোর ব্যবস্থা করেছিলেন, এবং যুদ্ধবন্দিদের ক্ষমা করে দিয়ে তাঁদের কারাগার থেকে মুক্ত করে দিয়েছিলেন। এছাড়া নিজের শাসনকালে তিনি খৃষ্টধর্মের পক্ষ থেকে ইউরোপে একটি বিরাট ধর্ম অভিযানও পরিচালনা করেছিলেন, এবং তৎকালীন ইউরোপের সুদূর অঞ্চলগুলিতে ধর্মাশ্রম নির্মাণ করবার বিষয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সক্রিয়ভাবে সাহায্য করেছিলেন। এসব ছাড়া তিনিই এসময়কার ইংল্যাণ্ডবাসী মানুষকে খৃষ্টধর্মে দীক্ষিত করবার মূল পুরোধা ছিলেন। আর এই খৃষ্টান সন্ন্যাসীই খৃষ্টধর্মের ইতিহাসে সর্বপ্রথম পোপ ছিলেন, যিনি নিজেকে ‘প্রভুর নফরদের নফর’ বলে উল্লেখ করেছিলেন। কিন্তু এসব সত্ত্বেও তিনি আবার এই দাবিও করেছিলেন যে, একজন পোপ হিসেবে রোমের বিশপকেই প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের সব গির্জার অধিনায়ক হিসেবে সকলের স্বীকার করে নেওয়া উচিত। এছাড়া তিনি একথাও মনে করতেন যে, তৎকালীন পাশ্চাত্যে একজন সম্রাটের অবর্তমানে গির্জাকেই তাঁর শূন্যস্থান পূরণ করবার জন্য এগিয়ে আসা উচিত। আর তিনি পার্থিব বিষয়ের প্রতি মনোযোগ দেওয়ার জন্য নিজের জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে শোক প্রকাশ করলেও অন্যদিকে আবার রাজার ক্ষমতা গ্রহণ করাকে প্রয়োজনীয় বলেও মনে করেছিলেন।
অন্যদিকে ইতিমধ্যে সমকালীন ভারতবর্ষে সাহিত্য, বিজ্ঞান ও শিল্পকলায় কৃতিত্বের অধিকারী গুপ্ত বংশের সোনালী যুগ শেষ হয়ে প্রায় এক শতাব্দী ধরে হুণদের দাসত্ব ও ক্ষমতা লাভ নিয়ে আভ্যন্তরীণ সংঘর্ষের পরে পুষ্যভূতি বা বর্ধন বংশের শাসক হর্ষবর্ধন ৬০৬ খৃষ্টাব্দে উত্তর ভারতে একটি রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করে নিজের শাসনকার্য পরিচালনা করতে আরম্ভ করেছিলেন। এবং তিনি হযরত মুহম্মদের (সঃ) মৃত্যুর ১৫ বছর পরে—৬৪৭ খৃষ্টাব্দে দেহত্যাগ করেছিলেন। মাঝের এই ৪২ বছরে তিনি তাঁর সাম্রাজ্যে শান্তি ও নিরাপত্তা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে পেরেছিলেন, এবং এসময়ে তাঁর রাজধানী কণৌজ শিল্প ও শিক্ষার একটি কেন্দ্রস্থলে পরিণত হয়েছিল। তবে প্রথমদিকে শৈবধর্মের অনুসারী হলেও পরবর্তীসময়ে হর্ষবর্ধন অবশ্য বৌদ্ধধর্মে দীক্ষিত হয়েছিলেন, এবং এসময় থেকে তিনি মৌর্যবংশীয় শাসক অশোকের (খৃষ্টপূর্ব ২৭৪-২৩৬) সমকক্ষ হওয়ার প্রচেষ্টা করেছিলেন। সমকালীন ভারতে আগত প্রসিদ্ধ চৈনিক ও বৌদ্ধ পর্যটক হুয়ান চুয়াং (Hsuan Chuang) জানিয়েছিলেন যে, বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করবার পরে প্রতি পাঁচ বছর অন্তর হর্ষবর্ধন একটি ভোজের পর্ব ঘোষণা করতেন, এবং এই অনুষ্ঠানে তৎকালীন ভারতের প্রত্যেকটি ধর্মের দরিদ্র মানুষদের আমন্ত্রণ জানাতেন। তবে শুধু এটুকুই নয়, বরং এসময়ে তিনি তাঁর খাজাঞ্চীখানার সমস্ত উদ্বৃত্ত অর্থ এই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিতদের মধ্যে বিতরণ তো করে দিনতেনই, একইসাথে এই অনুষ্ঠানে তিনি তাঁর সমস্ত অলঙ্কার ও রাজকীয় পোশাক-পরিচ্ছদও দান করে দিতেন। কিন্তু তাঁর সময়ে এসব শুধুমাত্র একজন ব্যক্তির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল বলে পরবর্তীসময়ে এর পরিণতি ভয়াবহ হয়েছিল, এবং তাঁর মৃত্যুর পরে ভারতীয় উপমহাদেশে পুনরায় অভ্যন্তরীণ গোলযোগ দেখা দিয়েছিল; আর অন্যান্য শাসকরা নিজেদের মধ্যে যুদ্ধবিগ্রহে লিপ্ত হয়ে পড়েছিলেন।
সমকালীন চীনে আবার হযরত মুহম্মদের (সঃ) জীবদ্দশাতেই একটি পুনর্জাগরণের সূচনা হয়েছিল। এসময়ে চীনের প্রসিদ্ধ তিয়াং বংশ (Tiang Dynasty) এদেশের যাযাবর আক্রমণকারীদের শাসনের স্থলাভিষিক্ত হয়ে সোনালী যুগের সূচনা করেছিল। এসময়ে চীনের ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সম্রাট তাই সুং (Tai Tsung, ৬২৭-৬৪৯ খৃষ্টাব্দ) হযরত মুহম্মদের (সঃ) মক্কা থেকে মদীনায় হিজরতের পাঁচ বছর পরে সিংহাসনে আরোহণ করেছিলেন, এবং ৬৫০ খৃষ্টাব্দ পর্যন্ত একটানা রাজত্ব করেছিলেন। তাঁর জীবনেতিহাস থেকে জানা যায় যে, তিনিই চীনে অনেক বছর ধরে চালু থাকা নিষ্ঠুর যুদ্ধ বিগ্রহের অবসান ঘটিয়ে চীন দেশের মানুষদের বাণিজ্যে উৎ
ইতিহাস বলে যে, হযরত মুহম্মদের (সঃ) জন্মের সময়ে ইউরোপ সবেমাত্র মহাশক্তিশালী রোমের পতন এবং রোমান সাম্রাজ্যের পশ্চিম অংশ ধ্বংস হওয়ার আঘাত কাটিয়ে উঠতে শুরু করেছিল। এসময়ে ইউরোপের বিভিন্ন জাতি, যথা—ফ্রাংক (Frank), মেরোভিজিয়ান (Merovingians), ভিসিগথ (Visigoths), অষ্ট্রগথ (Ostrogoths) ও অন্যান্যরা একে অন্যের বিরুদ্ধে ক্রমাগত যুদ্ধে লিপ্ত হলেও তাঁরা কেউই নিজেদের অভিলাষ অন্যদের উপরে চাপিয়ে দিতে সমর্থ হয়নি। এছাড়া সেযুগের ইউরোপের জনসাধারণের একটা বিরাট অংশ তখনও বর্বর থাকা সত্ত্বেও গির্জাই তাঁদের একমাত্র প্রধান প্রতিষ্ঠান ছিল, যেটাকে ইউরোপের জনসাধারণমাত্রই তখন মান্য করত। ইউরোপের ইতিহাসে এই সময়কে মহান পোপ গ্রেগরীর যুগ বলা হয়ে থাকে। ইনি যখন ৫৯০ খৃষ্টাব্দে তাঁর রাজত্ব আরম্ভ করেছিলেন, তখন হযরত মুহম্মদের (সঃ) বয়স ছিল ২০ বছর, এবং এর ১৪ বছর পরে, অর্থাৎ—হযরত মুহম্মদের (সঃ) ৩৪ বছর বয়সে এই মহামান্য পোপের মৃত্যু হয়েছিল। প্রসঙ্গতঃ একথাও উল্লেখ্য যে, এই পোপ গ্রেগরী প্রাচীন ইউরোপের চারজন প্রসিদ্ধ ল্যাটিন খৃষ্টান ধর্মযাজকদের (Latin Fathers) শেষ পুরুষ, এবং মধ্যযুগীয় খৃষ্টান পোপদের প্রথম পুরুষ ছিলেন। সুতরাং তাঁর সময় থেকেই ইউরোপে মধ্যযুগের সূচনা হয়েছিল বলে মনে করা হয়ে থাকে। তাঁর জীবনেতিহাস থেকে জানা যায় যে, তাঁকে তাঁর ইচ্ছার বিরুদ্ধে পোপ নিযুক্ত করা হলেও, ক্ষমতায় আসীন হওয়ার পরে তিনি খুবই কর্মঠ হয়ে উঠেছিলেন। ইউরোপে নিজের শাসনকালে তিনি গির্জার সঞ্চিত সম্পদ দান-দাক্ষিণ্যে খরচ করেছিলেন, অভুক্ত গরীব দুঃখীদের খাওয়ানোর ব্যবস্থা করেছিলেন, এবং যুদ্ধবন্দিদের ক্ষমা করে দিয়ে তাঁদের কারাগার থেকে মুক্ত করে দিয়েছিলেন। এছাড়া নিজের শাসনকালে তিনি খৃষ্টধর্মের পক্ষ থেকে ইউরোপে একটি বিরাট ধর্ম অভিযানও পরিচালনা করেছিলেন, এবং তৎকালীন ইউরোপের সুদূর অঞ্চলগুলিতে ধর্মাশ্রম নির্মাণ করবার বিষয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে সক্রিয়ভাবে সাহায্য করেছিলেন। এসব ছাড়া তিনিই এসময়কার ইংল্যাণ্ডবাসী মানুষকে খৃষ্টধর্মে দীক্ষিত করবার মূল পুরোধা ছিলেন। আর এই খৃষ্টান সন্ন্যাসীই খৃষ্টধর্মের ইতিহাসে সর্বপ্রথম পোপ ছিলেন, যিনি নিজেকে ‘প্রভুর নফরদের নফর’ বলে উল্লেখ করেছিলেন। কিন্তু এসব সত্ত্বেও তিনি আবার এই দাবিও করেছিলেন যে, একজন পোপ হিসেবে রোমের বিশপকেই প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের সব গির্জার অধিনায়ক হিসেবে সকলের স্বীকার করে নেওয়া উচিত। এছাড়া তিনি একথাও মনে করতেন যে, তৎকালীন পাশ্চাত্যে একজন সম্রাটের অবর্তমানে গির্জাকেই তাঁর শূন্যস্থান পূরণ করবার জন্য এগিয়ে আসা উচিত। আর তিনি পার্থিব বিষয়ের প্রতি মনোযোগ দেওয়ার জন্য নিজের জীবনের প্রতিটি মুহূর্তে শোক প্রকাশ করলেও অন্যদিকে আবার রাজার ক্ষমতা গ্রহণ করাকে প্রয়োজনীয় বলেও মনে করেছিলেন।
অন্যদিকে ইতিমধ্যে সমকালীন ভারতবর্ষে সাহিত্য, বিজ্ঞান ও শিল্পকলায় কৃতিত্বের অধিকারী গুপ্ত বংশের সোনালী যুগ শেষ হয়ে প্রায় এক শতাব্দী ধরে হুণদের দাসত্ব ও ক্ষমতা লাভ নিয়ে আভ্যন্তরীণ সংঘর্ষের পরে পুষ্যভূতি বা বর্ধন বংশের শাসক হর্ষবর্ধন ৬০৬ খৃষ্টাব্দে উত্তর ভারতে একটি রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করে নিজের শাসনকার্য পরিচালনা করতে আরম্ভ করেছিলেন। এবং তিনি হযরত মুহম্মদের (সঃ) মৃত্যুর ১৫ বছর পরে—৬৪৭ খৃষ্টাব্দে দেহত্যাগ করেছিলেন। মাঝের এই ৪২ বছরে তিনি তাঁর সাম্রাজ্যে শান্তি ও নিরাপত্তা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে পেরেছিলেন, এবং এসময়ে তাঁর রাজধানী কণৌজ শিল্প ও শিক্ষার একটি কেন্দ্রস্থলে পরিণত হয়েছিল। তবে প্রথমদিকে শৈবধর্মের অনুসারী হলেও পরবর্তীসময়ে হর্ষবর্ধন অবশ্য বৌদ্ধধর্মে দীক্ষিত হয়েছিলেন, এবং এসময় থেকে তিনি মৌর্যবংশীয় শাসক অশোকের (খৃষ্টপূর্ব ২৭৪-২৩৬) সমকক্ষ হওয়ার প্রচেষ্টা করেছিলেন। সমকালীন ভারতে আগত প্রসিদ্ধ চৈনিক ও বৌদ্ধ পর্যটক হুয়ান চুয়াং (Hsuan Chuang) জানিয়েছিলেন যে, বৌদ্ধধর্ম গ্রহণ করবার পরে প্রতি পাঁচ বছর অন্তর হর্ষবর্ধন একটি ভোজের পর্ব ঘোষণা করতেন, এবং এই অনুষ্ঠানে তৎকালীন ভারতের প্রত্যেকটি ধর্মের দরিদ্র মানুষদের আমন্ত্রণ জানাতেন। তবে শুধু এটুকুই নয়, বরং এসময়ে তিনি তাঁর খাজাঞ্চীখানার সমস্ত উদ্বৃত্ত অর্থ এই অনুষ্ঠানে আমন্ত্রিতদের মধ্যে বিতরণ তো করে দিনতেনই, একইসাথে এই অনুষ্ঠানে তিনি তাঁর সমস্ত অলঙ্কার ও রাজকীয় পোশাক-পরিচ্ছদও দান করে দিতেন। কিন্তু তাঁর সময়ে এসব শুধুমাত্র একজন ব্যক্তির মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল বলে পরবর্তীসময়ে এর পরিণতি ভয়াবহ হয়েছিল, এবং তাঁর মৃত্যুর পরে ভারতীয় উপমহাদেশে পুনরায় অভ্যন্তরীণ গোলযোগ দেখা দিয়েছিল; আর অন্যান্য শাসকরা নিজেদের মধ্যে যুদ্ধবিগ্রহে লিপ্ত হয়ে পড়েছিলেন।
সমকালীন চীনে আবার হযরত মুহম্মদের (সঃ) জীবদ্দশাতেই একটি পুনর্জাগরণের সূচনা হয়েছিল। এসময়ে চীনের প্রসিদ্ধ তিয়াং বংশ (Tiang Dynasty) এদেশের যাযাবর আক্রমণকারীদের শাসনের স্থলাভিষিক্ত হয়ে সোনালী যুগের সূচনা করেছিল। এসময়ে চীনের ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ সম্রাট তাই সুং (Tai Tsung, ৬২৭-৬৪৯ খৃষ্টাব্দ) হযরত মুহম্মদের (সঃ) মক্কা থেকে মদীনায় হিজরতের পাঁচ বছর পরে সিংহাসনে আরোহণ করেছিলেন, এবং ৬৫০ খৃষ্টাব্দ পর্যন্ত একটানা রাজত্ব করেছিলেন। তাঁর জীবনেতিহাস থেকে জানা যায় যে, তিনিই চীনে অনেক বছর ধরে চালু থাকা নিষ্ঠুর যুদ্ধ বিগ্রহের অবসান ঘটিয়ে চীন দেশের মানুষদের বাণিজ্যে উৎ