শনিবার, ৬ জুন ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
শিক্ষা বুয়েটের প্রফেসর থেকে আধ্যাত্মিক রাহবার

বুয়েটের প্রফেসর থেকে আধ্যাত্মিক রাহবার

---- আমিনুল ইসলাম কাসেমী

বুয়েটের প্রফেসর থেকে আধ্যাত্মিক রাহবার। অসংখ্য ওলামায়েকেরামের পথপ্রদর্শক। এটা যেন অবিস্বাস্য কথা। বুয়েট যেটা আধুনিক  শিক্ষার সূতিকাগার। যারা দুনিয়ার মোহে উন্মাতাল।  জাগতিক চাকচিক্যে নিজের জীবনকে গড়ে তোলে। সেই পরিবেশের মানুষ হবে দুনিয়াবিমুখ!  দুনিয়ার সুখ - শান্তি ত্যাগ করে খোদার রাহে জীবন বিলিয়ে দিবে! এটা যেন কল্পনা করা যায় না।

আসলে ইচ্ছে থাকলে উপায় হয়।  সংগ্রাম- সাধনার মাধ্যমে নিজের জীবনকে দুনিয়ার মোহ ত্যাগ করে মহান আল্লাহর পেয়ারা হওয়া যায়। তেমনি এক অসাধ্যকে জয় করে দেখিয়েছিলেন প্রফেসর হামীদুর রহমান সাহেব।  যিনি বাংলাদেশ প্রকৌশলী বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক ছিলেন। একদম দুনিয়াবী সকল উপলক্ষ্য তার সঙ্গী ছিল।  কিন্তু মহান আল্লাহর কী লীলাখেলা। তার কী অপরিসীম দয়া। হযরত হাফেজ্জী হুজুর ( রহ,) এর সংস্পর্শে এসে বুয়েটের সেই আধুনিকতার ছোঁয়ায় লালিত প্রফেসর বিশাল পরিবর্তনে চলে আসেন।

আল্লাহওয়ালার সংশ্রব বড় জিনিস। অনেকে এ বিষয়টা এড়িয়ে যান। অথচ প্রফেসর হামীদুর রহমান সাহেবের মত এরকম বহু মানুষ সোহবাতে আহলুল্লাহ এর মাধ্যমে নিজের জীবনকে রাঙিয়েছেন। ঘন- কালো অন্ধকার জীবনকে করেছেন পূর্ণিমার চাঁদেরমত আলোকিত।  একজন দুনিয়াদার মানুষ হয়েগেছেন দুনিয়াবিমুখ।  শুধু এখানেই সীমাবদ্ধ নয়। নিজে ছিরাতে মুস্তাকিমের উপরে চলার চেষ্টা করেছেন। সেই সাথে তিনি হাজারো মানুষের রাহবার বনে গিয়েছিলেন।

যে ব্যক্তি দুনিয়ার কল- কব্জা আর ইঞ্জিনের মেহনত করত। বড় বড় ইমারত আর আধুনিক নির্মাণশৈলী এবং নতুন কিছু উদ্ভাবনের চিন্তায় মগ্ন ছিল। সেই ব্যক্তি  ওই কল- কব্জার আর স্হাপত্যের নেশা ছেড়ে নিজের কলবকে পরিশুদ্ধ করার মেহনতে মত্ত হন। শুধু এখানেই ক্ষান্ত হননি তিনি।  নিজেকে পরিশুদ্ধি করার পাশাপাশি অন্যের কলব পরিস্কারের সংগ্রামে লিপ্ত হন।

যেকারণে খেলাফত ও ইজাযাত লাভ করেন হাফেজ্জী হুজুর থেকে। আবার হযরত থানবী ( রহ,) এর খলিফা হারদুয়ী হযরত( রহ,) থেকেও তিনি খেলাফত লাভ করেছিলেন। আর এভাবে অসংখ্য আলেমের রাহবার হয়ে ওঠেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ে গন্ডি ছেড়ে খানকায়ে মোজাহাদা আর কোরবানীতে কাটে তাঁর জীবন।  বুয়েটের ইঞ্জিনায়ার আর ভবন নির্মাতাদের পরিবর্তে তাঁর খেদমতে ভিড় জমায় ওলামায়েকেরাম এবং তলাবায়েইজাম। দুনিয়াদারদের আনাগোনার পরিবর্তে তাঁর খেদমতে হাজির হয় খোদাপ্রেমিকগণ।

এটাই শতসিদ্ধ কথা।" সোহবতে সালেহ তরা সালেহ কুনাদ" সৎ সঙ্গে স্বর্গবাস"।  ভাল মানুষের সংস্পর্শেই মানুষ ভাল হয়। জীবন হয় আলোকিত। তার বড় প্রমাণ প্রফেসর হামীদুর রহমান। 

আজ তিনি বিদায় নিলেন। দুনিয়ার জীবন থেকে অবসান নিয়ে আখেরাতে পাড়ি জমালেন। তাঁর এই বিদায়ে আমরা দুআ মুনাজাত করি। মহান আল্লাহ তাঁকে জান্নাতের মেহমান হিসাবে কবুল করুন। আমিন।

খুঁজুন