৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন। এ নির্বাচন নিয়ে এখন চলছে নানা আলোচনা ও বিশ্লেষণ- কোন প্যানেলের কে নির্বাচিত হচ্ছেন ভিপি, জিএস, এজিএসসহ অন্যান্য পদে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সবার মধ্যে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। কেউ মনে করছেন, আবিদুল ইসলাম খানের নেতৃত্বাধীন ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেল বিজয়ী হবে। কেউ বলছেন, উমামার নেতৃত্বাধীন স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য বিজয়ী হবে। কারওবা ধারণা ছাত্রশিবির-সমর্থিত আবু সাদিক কায়েমের নেতৃত্বাধীন ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট বিজয়ী হবে। তবে নিরঙ্কুশভাবে কোনো প্যানেল বিজয়ী নাও হতে পারে; ভিন্ন ভিন্ন প্যানেল কিংবা স্বতন্ত্র প্যানেল থেকে কেউ কেউ নির্বাচিত হতে পারেন বলে অনেকে মনে করছেন। তবে বিশেষ কোনো প্রার্থীর প্রতি বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষপাত থাকলে ভিন্ন পরিস্থিতি হতে পারে, যা আগামী রাজনীতিতে নেতিবাচক বার্তা দেবে- এমন গুঞ্জনও রয়েছে।
পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী মো. নাজমুছ ছাকিব খান মনে করেন, ছাত্রদল মনোনীত প্যানেলের জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তার যুক্তি, ছাত্রদলের এই প্যানেল সবার কাছেই গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে প্যানেল গঠন করাই তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। মেয়েদের হলগুলোর ভোট এবং জগন্নাথ হলের ভোট ছাত্রদলের প্যানেল পাবে।
তিনি বলেন, একটি প্যানেলের বিরুদ্ধে আমরা প্রায়ই নারী হেনস্তার অভিযোগ শুনতে পেয়েছি। সেদিক দিয়ে ছাত্রদল নারী শিক্ষার্থীদের অধিকার নিয়ে বেশ সোচ্চার।
বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থী ফিন্যান্স বিভাগের কাজী মোবারক হোসেন সাদী প্যানেল হিসেবে কোনো প্রার্থীকে এগিয়ে না রেখে ব্যক্তি হিসেবে এগিয়ে রাখছেন। তিনি বলেন, ছাত্রশিবির প্যানেলকে যারা প্রতিনিধিত্ব করছে তাদের মধ্য থেকে অনেকে বিভিন্ন পদে বিজয়ী হতে পারেন। কারণ হিসেবে তিনি মনে করেন, শিক্ষার্থীদের মাঝে তাদের একটা ভালো পরিচিতি রয়েছে। বাম সংগঠন এবং অন্যান্য সংগঠন থেকেও প্রার্থী জয়ী হতে পারেন বলে তার ধারণা।
জাপানিজ স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী ফাওয়াদ হক আমাদের সময়কে জানান, আমরা অবশ্যই সেসব প্রার্থীকে এগিয়ে রাখব যারা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন এবং যারা গণ-অভ্যুত্থানে শিক্ষার্থীদের সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তিনিও জানান, কোনো নির্দিষ্ট প্যানেলকে এগিয়ে না রেখে ব্যক্তিকে এগিয়ে রাখবেন।
ডাকসু নির্বাচন-সংশ্লিষ্টদের বিশ্লেষণ, নির্বাচনে বিজয়ী হতে হলে প্রার্থীর ইমেজ, প্যানেল, শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং রাজনৈতিক মতাদর্শ বিবেচনায় থাকে।
ছাত্রদল সমর্থিত প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান একটি কোচিংয়ে শিক্ষকতার সূত্রে তার কয়েকশত শিক্ষার্থী ঢাবিতে অধ্যয়নরত, জুলাই আন্দোলনে তার ভূমিকা, শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে সোচ্চার থাকা, ভালো বক্তা সর্বোপরি ঢাবিতে তার ইমেজও ইতিবাচক। তার পক্ষে বৃহত্তর ছাত্র সংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ঐক্যবদ্ধভাবে তার পক্ষে আছে। এসব বিবেচনায় আবিদ অনেকটা এগিয়ে রয়েছেন এবং শিক্ষার্থীরা তাকেই বেছে নিতে পারেন এমন সম্ভাবনাও জোরাল।
কেন শিক্ষার্থীরা আপনাদেরই ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করবে- এ প্রশ্নে ছাত্রদল মনোনীত এজিএস পদপ্রার্থী তানভীর আল হাদী মায়েদ আমাদের সময়কে বলেন, দীর্ঘ গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের পাশে থেকে সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত হয়েছে ছাত্রদল। জুলাই আন্দোলনসহ গত এক বছরে আমাদের প্যানেলের ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। আমাদের রাজনৈতিক আদর্শ মহান মুক্তিযুদ্ধসহ বাংলাদেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনের উত্তরাধিকার বহন করে। তাই মাঠপর্যায়ের রাজনীতি ও সার্বিক নেতৃত্বের যোগ্যতা বিচার করলে আমাদেরই শিক্ষার্থীরা প্রাধান্য দেবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।
অন্যদিকে প্রায় ৪৮ শতাংশ নারী ভোটারের একটা অংশের দৃষ্টি কাড়তে পারেন উমামা। তা ছাড়া জুলাই আন্দোলন ও একদা এনসিপির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় তাদের একটা অংশের ভোট পেতে পারেন। ভিপি পদে নারীদের পিছিয়ে থাকার বিষয়টিও নারীর ক্ষমতায়নে বিশ্বাসী ভোটারদের মধ্যে তার ব্যাপারে ইতিবাচক প্রভাব রাখতে পারে।
শিবির সমর্থিত সাদিক কায়েম বিশ^বিদ্যালয়ে খুবই পরিচিত। শিক্ষার্থীদের সঙ্গেও তার একটা যোগাযোগ আছে। যুক্ত ছিলেন জুলাই আন্দোনে; শিবির-সমর্থিত শিক্ষার্থীদের ভোট তিনি পেতে পারেন।
বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদের ভিপি প্রার্থী আব্দুল কাদেরেরও ঢাবি ক্যাম্পাস এবং সামাজিক মাধ্যমে পরিচিতি আছে। এই পরিচিতি নির্বাচনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
আব্দুল কাদের বলেন, আমাদের প্যানেলের সদস্যরা সবাই পরীক্ষিত যোদ্ধা, যারা ফ্যাসিবাদী সময়সহ বিভিন্ন সময়ে শিক্ষার্থীদের পাশে থেকেছেন, হামলা-মামলা-নির্যাতন সয়েছেন। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আমাদের প্যানেলের সবাই নিয়মিত শিক্ষার্থী। কেউ জাতীয় রাজনীতির মহড়া দিতে আসেনি, শিক্ষার্থীদের প্রকৃত প্রতিনিধি হয়ে কাজ করতে এসেছে। এই বিষয়গুলোই আমাদের অন্যদের থেকে আলাদা করে এগিয়ে রাখবে বলে আশা রাখছি।
স্বতন্ত্র ভিপি প্রার্থী শামীম হোসেন সামাজিক মাধ্যমে বিশেষ পরিচিত। তার বাচনভঙ্গি ও সাহিত্য পর্যালোচনা সামাজিক মাধ্যমে জনপ্রিয়। এখন পর্যন্ত তার রাজনৈতিক পরিচয় সেভাবে স্পষ্ট হয়নি। বিশ্বিবিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সামাজিক মাধ্যমের প্রভাব পড়লে তিনি বিজয়ী হতে পারেন বলে অনেকের ধারণা।
এ ছাড়াও জয়ের ব্যাপারে ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট প্যানেলের এজিএস প্রার্থী মহিউদ্দিন খান বলেন, দলীয় লেজুড়বৃত্তির ঊর্ধ্বে উঠে শিক্ষার্থীদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েছি। ফলে আমরা বিশ্বাস করি, শিক্ষার্থীরা আমাদের এই দৃষ্টিভঙ্গি ও উদ্দেশ্য অনুধাবন করে আমাদের ভোট দেবেন।
স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য প্যানেলের জিএস প্রার্থী আল সাদী ভূঁইয়া বলেন, আমরা শিক্ষার্থীদের স্বার্থে কাজ করার ইচ্ছা, পরিকল্পনা ও এজেন্ডা নিয়ে আসছি। শেষ পর্যন্ত আমরা শিক্ষার্থীদের পাশে থাকব, শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করব, আর আমাদের বিজয় হবে শিক্ষার্থীদের বিজয়।
প্রতিরোধ পর্ষদ প্যানেলের এজিএস প্রার্থী জাবির আহমেদ জুবেল বলেন, নারীর অধিকার, সংখ্যালঘুদের অধিকার এবং শ্রমজীবী মানুষের পক্ষে আমরা ধারাবাহিক লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি। ১৯৭১, ১৯৯০ ও ২০২৪-এর চেতনাকে আমরা পূর্ণাঙ্গভাবে ধারণ করি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দাবি ও অধিকার রক্ষার আন্দোলনের প্রকৃত মঞ্চ আমরাই। তাই শিক্ষার্থীরা আমাদের ভোটে নির্বাচিত করবেন।
অপরাজেয় ৭১ ও অদম্য ২৪ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী নাইম হাসান মনে করেন, চেতনাগত অবস্থান এবং ইতিবাচক চরিত্রে বিশ^বিদ্যালয় জুড়ে তাদের নীরব ভোট রয়েছে। বাইরে যেমন আলোচনাই থাকুক না কেন শিক্ষার্থীরা তাদের বিপক্ষে যাবে না।
পক্ষপাত রাজনীতিতে নেতিবাচক বার্তা দেবে : ঢাবি প্রশাসন বিশেষ প্রার্থীর প্রতি পক্ষপাত দেখালে তা আগামী রাজনীতিতে নেতিবাচক বার্তা দেবে বলে কেউ কেউ মনে করছেন। ডাকসুর সাবেক নেতারা নির্বাচনে পক্ষপাতের ইঙ্গিত দিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন। ডাকসুর সাবেক ভিপি আমান উল্লাহ আমান মনে করেন, হাত-পা বেঁধে নির্বাচন করতে দেওয়া হয়েছে। এতে একটি পক্ষকে সুবিধা দেওয়ার জন্য ঢাবি প্রশাসন এই নিয়ম করেছে বলে মনে করেন তিনি।
ডাকসুর সাবেক জিএস মুশতাক হোসেন আমাদের সময়কে বলেন, ঢাবি প্রশাসন যদি সবার অভিযোগের জায়গা খালি রাখে তাহলে তাদের প্রতি সন্দেহ থাকে না। এও সত্য যে, ঢাবি প্রশাসন চেষ্টা করছে সামাল দিতে; না হলে তারা এতদূর আসতে পারত না।
ডাকসু নির্বাচন: কোন প্যানেল এগিয়ে
ডাকসু নির্বাচন: কোন প্যানেল এগিয়ে
৯ সেপ্টেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন। এ নির্বাচন নিয়ে এখন চলছে নানা আলোচনা ও বিশ্লেষণ- কোন প্যানেলের কে নির্বাচিত হচ্ছেন ভিপি, জিএস, এজিএসসহ অন্যান্য পদে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সবার মধ্যে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। কেউ মনে করছেন, আবিদুল ইসলাম খানের নেতৃত্বাধীন ছাত্রদল সমর্থিত প্যানেল বিজয়ী হবে। কেউ বলছেন, উমামার নেতৃত্বাধীন স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য বিজয়ী হবে। কারওবা ধারণা ছাত্রশিবির-সমর্থিত আবু সাদিক কায়েমের নেতৃত্বাধীন ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট বিজয়ী হবে। তবে নিরঙ্কুশভাবে কোনো প্যানেল বিজয়ী নাও হতে পারে; ভিন্ন ভিন্ন প্যানেল কিংবা স্বতন্ত্র প্যানেল থেকে কেউ কেউ নির্বাচিত হতে পারেন বলে অনেকে মনে করছেন। তবে বিশেষ কোনো প্রার্থীর প্রতি বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষপাত থাকলে ভিন্ন পরিস্থিতি হতে পারে, যা আগামী রাজনীতিতে নেতিবাচক বার্তা দেবে- এমন গুঞ্জনও রয়েছে।পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে লোকপ্রশাসন বিভাগের শিক্ষার্থী মো. নাজমুছ ছাকিব খান মনে করেন, ছাত্রদল মনোনীত প্যানেলের জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তার যুক্তি, ছাত্রদলের এই প্যানেল সবার কাছেই গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়মিত শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে প্যানেল গঠন করাই তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। মেয়েদের হলগুলোর ভোট এবং জগন্নাথ হলের ভোট ছাত্রদলের প্যানেল পাবে।তিনি বলেন, একটি প্যানেলের বিরুদ্ধে আমরা প্রায়ই নারী হেনস্তার অভিযোগ শুনতে পেয়েছি। সেদিক দিয়ে ছাত্রদল নারী শিক্ষার্থীদের অধিকার নিয়ে বেশ সোচ্চার।বিশ্ববিদ্যালয়ের আরেক শিক্ষার্থী ফিন্যান্স বিভাগের কাজী মোবারক হোসেন সাদী প্যানেল হিসেবে কোনো প্রার্থীকে এগিয়ে না রেখে ব্যক্তি হিসেবে এগিয়ে রাখছেন। তিনি বলেন, ছাত্রশিবির প্যানেলকে যারা প্রতিনিধিত্ব করছে তাদের মধ্য থেকে অনেকে বিভিন্ন পদে বিজয়ী হতে পারেন। কারণ হিসেবে তিনি মনে করেন, শিক্ষার্থীদের মাঝে তাদের একটা ভালো পরিচিতি রয়েছে। বাম সংগঠন এবং অন্যান্য সংগঠন থেকেও প্রার্থী জয়ী হতে পারেন বলে তার ধারণা।জাপানিজ স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী ফাওয়াদ হক আমাদের সময়কে জানান, আমরা অবশ্যই সেসব প্রার্থীকে এগিয়ে রাখব যারা ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার ছিলেন এবং যারা গণ-অভ্যুত্থানে শিক্ষার্থীদের সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। তিনিও জানান, কোনো নির্দিষ্ট প্যানেলকে এগিয়ে না রেখে ব্যক্তিকে এগিয়ে রাখবেন।ডাকসু নির্বাচন-সংশ্লিষ্টদের বিশ্লেষণ, নির্বাচনে বিজয়ী হতে হলে প্রার্থীর ইমেজ, প্যানেল,
শিক্ষার্থীদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং রাজনৈতিক মতাদর্শ বিবেচনায় থাকে।ছাত্রদল সমর্থিত প্রার্থী আবিদুল ইসলাম খান একটি কোচিংয়ে শিক্ষকতার সূত্রে তার কয়েকশত শিক্ষার্থী ঢাবিতে অধ্যয়নরত, জুলাই আন্দোলনে তার ভূমিকা, শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ে সোচ্চার থাকা, ভালো বক্তা সর্বোপরি ঢাবিতে তার ইমেজও ইতিবাচক। তার পক্ষে বৃহত্তর ছাত্র সংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল ঐক্যবদ্ধভাবে তার পক্ষে আছে। এসব বিবেচনায় আবিদ অনেকটা এগিয়ে রয়েছেন এবং শিক্ষার্থীরা তাকেই বেছে নিতে পারেন এমন সম্ভাবনাও জোরাল।কেন শিক্ষার্থীরা আপনাদেরই ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করবে- এ প্রশ্নে ছাত্রদল মনোনীত এজিএস পদপ্রার্থী তানভীর আল হাদী মায়েদ আমাদের সময়কে বলেন, দীর্ঘ গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের পাশে থেকে সবচেয়ে বেশি নির্যাতিত হয়েছে ছাত্রদল। জুলাই আন্দোলনসহ গত এক বছরে আমাদের প্যানেলের ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য। আমাদের রাজনৈতিক আদর্শ মহান মুক্তিযুদ্ধসহ বাংলাদেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনের উত্তরাধিকার বহন করে। তাই মাঠপর্যায়ের রাজনীতি ও সার্বিক নেতৃত্বের যোগ্যতা বিচার করলে আমাদেরই শিক্ষার্থীরা প্রাধান্য দেবে বলে আমরা বিশ্বাস করি।অন্যদিকে প্রায় ৪৮ শতাংশ নারী ভোটারের একটা অংশের দৃষ্টি কাড়তে পারেন উমামা। তা ছাড়া জুলাই আন্দোলন ও একদা এনসিপির সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকায় তাদের একটা অংশের ভোট পেতে পারেন। ভিপি পদে নারীদের পিছিয়ে থাকার বিষয়টিও নারীর ক্ষমতায়নে বিশ্বাসী ভোটারদের মধ্যে তার ব্যাপারে ইতিবাচক প্রভাব রাখতে পারে।শিবির সমর্থিত সাদিক কায়েম বিশ^বিদ্যালয়ে খুবই পরিচিত। শিক্ষার্থীদের সঙ্গেও তার একটা যোগাযোগ আছে। যুক্ত ছিলেন জুলাই আন্দোনে; শিবির-সমর্থিত শিক্ষার্থীদের ভোট তিনি পেতে পারেন।বৈষম্যবিরোধী শিক্ষার্থী সংসদের ভিপি প্রার্থী আব্দুল কাদেরেরও ঢাবি ক্যাম্পাস এবং সামাজিক মাধ্যমে পরিচিতি আছে। এই পরিচিতি নির্বাচনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।আব্দুল কাদের বলেন, আমাদের প্যানেলের সদস্যরা সবাই পরীক্ষিত যোদ্ধা, যারা ফ্যাসিবাদী সময়সহ বিভিন্ন সময়ে শিক্ষার্থীদের পাশে থেকেছেন, হামলা-মামলা-নির্যাতন সয়েছেন। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো আমাদের প্যানেলের সবাই নিয়মিত শিক্ষার্থী। কেউ জাতীয় রাজনীতির মহড়া দিতে আসেনি, শিক্ষার্থীদের প্রকৃত প্রতিনিধি হয়ে কাজ করতে এসেছে। এই বিষয়গুলোই আমাদের অন্যদের থেকে আলাদা করে এগিয়ে রাখবে বলে আশা রাখছি।স্বতন্ত্র ভিপি প্রার্থী শামীম হোসেন সামাজিক মাধ্যমে বিশেষ পরিচিত। তার বাচনভঙ্গি ও সাহিত্য পর্যালোচনা সামাজিক মাধ্যমে
জনপ্রিয়। এখন পর্যন্ত তার রাজনৈতিক পরিচয় সেভাবে স্পষ্ট হয়নি। বিশ্বিবিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সামাজিক মাধ্যমের প্রভাব পড়লে তিনি বিজয়ী হতে পারেন বলে অনেকের ধারণা।এ ছাড়াও জয়ের ব্যাপারে ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট প্যানেলের এজিএস প্রার্থী মহিউদ্দিন খান বলেন, দলীয় লেজুড়বৃত্তির ঊর্ধ্বে উঠে শিক্ষার্থীদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েছি। ফলে আমরা বিশ্বাস করি, শিক্ষার্থীরা আমাদের এই দৃষ্টিভঙ্গি ও উদ্দেশ্য অনুধাবন করে আমাদের ভোট দেবেন।স্বতন্ত্র শিক্ষার্থী ঐক্য প্যানেলের জিএস প্রার্থী আল সাদী ভূঁইয়া বলেন, আমরা শিক্ষার্থীদের স্বার্থে কাজ করার ইচ্ছা, পরিকল্পনা ও এজেন্ডা নিয়ে আসছি। শেষ পর্যন্ত আমরা শিক্ষার্থীদের পাশে থাকব, শিক্ষার্থীদের জন্য কাজ করব, আর আমাদের বিজয় হবে শিক্ষার্থীদের বিজয়।প্রতিরোধ পর্ষদ প্যানেলের এজিএস প্রার্থী জাবির আহমেদ জুবেল বলেন, নারীর অধিকার, সংখ্যালঘুদের অধিকার এবং শ্রমজীবী মানুষের পক্ষে আমরা ধারাবাহিক লড়াই চালিয়ে যাচ্ছি। ১৯৭১, ১৯৯০ ও ২০২৪-এর চেতনাকে আমরা পূর্ণাঙ্গভাবে ধারণ করি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের দাবি ও অধিকার রক্ষার আন্দোলনের প্রকৃত মঞ্চ আমরাই। তাই শিক্ষার্থীরা আমাদের ভোটে নির্বাচিত করবেন।অপরাজেয় ৭১ ও অদম্য ২৪ প্যানেলের ভিপি প্রার্থী নাইম হাসান মনে করেন, চেতনাগত অবস্থান এবং ইতিবাচক চরিত্রে বিশ^বিদ্যালয় জুড়ে তাদের নীরব ভোট রয়েছে। বাইরে যেমন আলোচনাই থাকুক না কেন শিক্ষার্থীরা তাদের বিপক্ষে যাবে না।পক্ষপাত রাজনীতিতে নেতিবাচক বার্তা দেবে : ঢাবি প্রশাসন বিশেষ প্রার্থীর প্রতি পক্ষপাত দেখালে তা আগামী রাজনীতিতে নেতিবাচক বার্তা দেবে বলে কেউ কেউ মনে করছেন। ডাকসুর সাবেক নেতারা নির্বাচনে পক্ষপাতের ইঙ্গিত দিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন। ডাকসুর সাবেক ভিপি আমান উল্লাহ আমান মনে করেন, হাত-পা বেঁধে নির্বাচন করতে দেওয়া হয়েছে। এতে একটি পক্ষকে সুবিধা দেওয়ার জন্য ঢাবি প্রশাসন এই নিয়ম করেছে বলে মনে করেন তিনি।ডাকসুর সাবেক জিএস মুশতাক হোসেন আমাদের সময়কে বলেন, ঢাবি প্রশাসন যদি সবার অভিযোগের জায়গা খালি রাখে তাহলে তাদের প্রতি সন্দেহ থাকে না। এও সত্য যে, ঢাবি প্রশাসন চেষ্টা করছে সামাল দিতে; না হলে তারা এতদূর আসতে পারত না।
সুফী মাজহারুল ইসলাম মাসুম
[email protected] | ০১৭১১৬৬০৫৫৭
১৫২/২, এ-২ গ্রীন রোড, রওশন টাওয়ার (লিফটের-৫),
পান্থপথ সিগন্যাল, ঢাকা-১২০৫ । মোবাইলঃ ০১৭১৭৪৩৬১৩৯
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত